# সত্য_ঘটনা
ঘটনাটি যে স্বামী-স্ত্রীর সাথে ঘটে। গোপনীয়তার স্বার্থে কিছু তথ্য পরিবর্তন করা হলো।
সদ্য বিবাহ করে তারা নতুন বাসায় উঠেন, দুজনেই খুব খুশি কারন দুজনেই তাদের মনের মানুষ কে পেয়েছেন, প্রেমের বিয়ে ছিল, সবুজ আর মিতু তাদের সম্পর্ককে বিয়ে তে রুপ দেন কিন্তু এটা এতটা সহজ ছিল না, কারন মিতুর পরিবার সবুজ কে পছন্দ করতো না। তাই তারা পরিবারের সঙ্গ ত্যাগ করে নিজেরা একাই বিয়ে করে ঢাকায় একটা ছোট্ট বাসায় তাদের নতুন জীবন শুরু করেন।
মিতু তার পড়াশুনা চালিয়ে যায়, কিন্তু গ্রামের থেকে চলে আসায় তার ভার্সিটি ট্রান্সফারে অনেক ঝামেলা পোহাতে হয়, ফাইনাল সেমিস্টার না হলে মিতু পড়াশোনা ছেড়েই দিতো, এদিকে সবুজ চাকুরি খুজে, এবং একটা কাপড়ের দোকানে সে আপাতত কাজ করতে থাকে, একদিনের ঘটনা ,
মিতু সকল কাজ শেষ করে সবুজের জন্য অপেক্ষা করছিল। রাত তখন ১২-১টার কাছাকাছি, মিতু সিড়ি দিয়ে কারো উঠার শব্দ পেয়ে দৌড়ে দরজার সামনে যায়, এবং উকি দিয়ে দেখে দরজার ওপারে কেউ নেই, মিতু ফিরে আসার সময় কারো হাটার শব্দ অনুভব করলো, এবার মিতু আবার লুকিং গ্লাস দিয়ে দেখে , কাউকে না পেয়ে মিতু একটু ভয় পেয়ে সবুজ কে কল করে, সবুজ বলে সে রাস্তায় আসতেছে, মিতু এবার তার রুমে গিয়ে বসে, একটু পর সবুজ আসে, মিতু সারাটাদিন বাসায় একা থাকে ,গল্প করার মত কেউ নেই, পড়াশোনা কতক্ষন করা যায়, আর যেহেতু সবুজ সেলসম্যানে আছে, তো কথা বলাও এতটা সহজ না,
মিতু সবুজ কে বললো আমার এই বাসায় একা থাকতে ভয় করে, আমিও কি একটা চাকুরি খুজবো?
সবুজ এক কথায় না করে, সবুজ বলে তোমার ফাইনাল সেমিস্টার চলছে, এটা শেষ করো ভাল মতো , তারপর দেখা যাবে, আর আমি দেখি একটা বুয়া পাই কিনা, আপাতত কয়েকটা দিন কষ্ট করো, সবুজ বুয়ার কথা বলেছেতো সহজেই, কিন্তু আপাতত খরচের চাপ টা সবুজের একটু বেশিই।
সারাদিনের পরিশ্রম শেষে সবুজ মিতু একসাথে ঘুমাতে যায়, মিতু টুকটাক বুঝতে পারে যে সবুজের খরচ উঠাতে একটু কষ্ট হচ্ছে, এরপর মিতু বিনয়ের সাথে বলে, একটা কথা বলতাম, যদি বকা না দাও তো, সবুজ বলে তাহলে থাক বইলো না।
মিতু চট করে বলে ফেললো একলাইনে। “পড়াশোনার বাইরে আমার সময় কা*টে না তুমি থাকো সারাক্ষন কাজে, আমাকে একটা সেলাই মেশিন কিনে দাও আমি সেলাই এর কাজ শিখেছি, আমি সেলাই করতে চাই আমার সময় কাটবে।” এই বলে মিতু চুপ হয়ে গেল, আর সবুজ হা হয়ে তাকিয়ে রইল। সবুজ একটু গম্ভীর গলায় বলে ঘুমাও।
পরদিন সবুজ চাকুরি তে চলে যায় আর সাথে মিতু কে নিয়ে তার ভার্সিটিতে নামিয়ে দেয়, ভার্সিটিতে সবাই তার অপরিচিত।
এরপর মিতু ক্লাস শেষ করে বাসায় ফিরে, ফেরার পথে মিতু কিছু সবজি ফুটপাত থেকে কিনে নেয়। বাসায় ডুকার পর মিতু অনেকটা ক্লান্ত হয়ে পরে, সে বিছানায় গিয়ে একটু বিশ্রাম নিয়ে তারপর কাজ শুরু করবে এই ভাবতে ভাবতে কখন যে তার চোখ লেগে যায় বুঝে উঠতে পারেনি।
সেদিন মিতুর ফোনে কয়েকটা নাম্বার থেকে কল আসে এর মাঝে একটা মিতুর ছোট ভাইয়ের, ঘুম থেকে উঠে মিতু কল লিস্ট চেক করে সবার আগে ছোট ভাইকে কল ব্যাক করে, ছোট ভাই মিতুর খোজ খবর নেয় এবং সে ঢাকায় আসবে, মিতুর ঠিকানা চায়।
ছোট ভাই আসবে, সরল মনে মিতু ঠিকানা দিয়ে দেয়, রাতে সবুজ আসলে তাকে সব বলে এবং সবুজ মিতুর খুশি দেখে সবুজের ভাল লাগে, এবং সবুজ মিতুর জন্য সেলাই মেশিন নিয়ে আসে এই দেখে মিতু খুশিতে কেদে দিবে অবস্থা। এক সাথে দুইটা খুশি।
কিছুদিন পর মিতুর ছোট ভাই মুন্না আসে , দুই ভাইবোন মিলে সেই আড্ডা, আজ মিতু অনেক খুশি বিয়ের পর প্রথম তার পরিবারের কেউ তাকে দেখতে আসলো।
সবুজ তার শেলক আসবে শুনে বাজার করে , রাতে সবুজ জলদি আসে এবং তারা একসাথে রাতের খাবার শেষ করে,
রাতে মিতু সবুজ কে বলে মুন্না কালই চলে যাবে বলে, ওর পড়াশোনা আছে, সবুজ বললো ওকে আবার অনেকদিন ছুটি নিয়ে আসতে বইলো।
পরদিন সকাল বেলা সবুজ এবং মুন্না সকালের নাস্তা করে, সবুজ অফিসে চলে যায়, এবং ভাইবোন কিছুক্ষন গল্প করে তারপর মুন্নাও বিদায় নেয়।
মিতু অনেক কান্না করে, আসলে মিতুরা এক ভাই এক বোন এবং মিতুর মা বাবা, মিতু অনেক আদুরে ছিল। মিতুর মা বাবার মিতুকে ভাল জায়গায় বিয়ে দেওয়ার ইচ্ছে ছিল, যেটা সম্ভব হয়ে উঠেনি।
ভাইকে বিদায় দিয়ে মনকে শক্ত করে মিতু ঘর গোছানো শুরু করে কারন একটু পরে তারও ক্লাস আছে।
কাজ করতে করতে মিতু যখন বাসন মাজতে নাস্তার টেবিল থেকে সব উঠাবে তখন সে লক্ষ্য করলো মিতুর এবং মুন্নার চায়ের কাপ থাকলেও সবুজের চায়ের কাপটি নেই। মিতু কিছুক্ষন খোজাখুজি করে না পেয়ে সে ব্যাপারটা স্বাভাবিকভাবে নিয়ে চলে গেল, কারন তার ক্লাসও আছে।
সেদিন মিতু আরেকটা জিনিস লক্ষ্য করলো আর তা হচ্ছে মিতু গোশল করে ভার্সিটি যাওয়ার জন্য তারাহুরো করে চুল আছড়াতে যাবে তখন সে লক্ষ্য করে তার চিরুনির মাঝে সব সময় চুল লেগে থাকে যা সচরাচর মিতু অনেক জমলে তারপর এগুলো খুলে ফেলে দেয়। কিন্তু আজ চিরুনি পরিস্কার দেখে বেশ অবাকই হলো।
অতটা না ভেবে সে ভার্সিটি চলে গেল।
সেদিন সন্ধানাগাদ সবুজ বাসায় ফেরে কেননা তাদের দোকানের মেরামত কাজ চলছিল। তাই সবুজ সুযোগ টা মিস দিল না।( - যারা গল্প পরতে ইচ্ছুক তারা , আমার আই*ডিতে ফ*লো দিন বা রি*কুয়েষ্ট পাঠিয়ে সাথে থাকুন। ) বাসায় আসার পর মিতু খুব খুশি হয়, এরপর তারা পুরো সময় এক সাথে কা*টায়, মিতুর সেলাই মেশিনের জন্য কিছু জিনিস কেনা প্রয়োজন ছিল , তারা দুজন গিয়ে শপিং করে আসে, খুব ভালই যাচ্ছিল তাদের সংসার জীবন।
এভাবে কিছুদিন যাওয়ার পর একদিন সবুজ অফিসের জন্য বের হয় এবং মিতু প্রতিদিনের মত কাজ করতে করতে হঠাৎ তার পেট ব্যাথা শুরু হয়, মিতু চিন্তা করলো অসময়ে পেট ব্যাথা করার তো কোন কথা না, পরে মিতু বিশ্রামে চলে যায় । হঠাৎ মিতু অনুভব করে তার শরীর ভার হয়ে উঠে। একটু পর সে ব্যাথায় চিৎকার দিয়ে কেঁদে উঠে……. তার কিছুক্ষন পরেই হঠাৎ……..সবুজ কল করে, সবুজ কে মিতু বাসায় আসতে বলে, কিনেতু ওপাশ থেকে অচেনা এক লোক বলে উঠলো আপনার এই লোক এ*ক্সিডেন্ট করেছে, আপনি যেখানেই আছেন …… এই হাসপাতালে চলে আসেন…..
চলবে...........
আদনান_তাওসিফ
পরিবার
পর্ব :১