এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

বুধবার, ৫ মার্চ, ২০২৫

লজিক্যাল ফ্যালাসি

 || লজিক্যাল ফ্যালাসি ||


আপনি যখন কারোর সাথে বিজ্ঞান বা সমসাময়িক কোনো বিষয়ে তর্ক করছেন৷ তখন তর্কের ভেতর আপনি যেসব যুক্তি দিচ্ছেন, তাতে স্বচ্ছতা থাকা জরুরী। এতে করে আলোচনাটার মাধ্যমে কোনো সঠিক সিদ্ধান্তে যাওয়া যাবে কিংবা আপনার তর্কে জিততে পারাটা সহজ হবে৷ 


অনেকেই আছে যে তর্কের ভেতর যুক্তির অপপ্রয়োগ বা Fault reasoning  করে।  কোনো দাবিকে সঠিক প্রমাণ করার জন্য অসঙ্গত বা অপ্রাসঙ্গিক যুক্তি ব্যবহার করা করে। এটাই Logical fallacy বা কুযুক্তি। 


আজকের লেখায় ওসব কুযুক্তি নিয়েই আলোচনা করব। 


১. Ad Hominem 


এক কথায় বললে  ব্যক্তিগত আক্রমণ। যুক্তি প্রমাণের জোর না থাকলে অনেকেই গা|লি দেয় , কটুক্তি করে কিংবা খোঁচা মারে । এটাই Ad hominem fallacy। 


উদাহরণ ১ : সে যেই নতুন আইনটির প্রস্তাব করলো, সেটা হাস্যকর৷ কারন সে নিজেই একটা     গ|দর্ভ। 


উদাহরণ ২: তোমার যুক্তি ভুল, কারণ তুমি নিজেই জীবনে কোনো সফলতা অর্জন করতে পারোনি। 


[ এখানে ব্যক্তিকে আক্রমণ করে মূল প্রসঙ্গটিকে ভুল প্রমাণ করার চেষ্টা  হচ্ছে । ]


২. Straw Man 


এই কুযুক্তিটা হয় , যখন মূল প্রসঙ্গটি এড়িয়ে গিয়ে সেই প্রসঙ্গের সাথে অনেকটা সাথে মিল রেখে ভিন্ন প্রসঙ্গ টানা হয়।  মূল বক্তব্যকে বিকৃত করে আরেকভাবে উপস্থাপন করা হয় , এতে করে যুক্তিতে বিরোধী পক্ষ নিজের মতন করে জিতে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। 


উদাহরণ ১: সে বলছে,  আমাদের পরিবেশ রক্ষা করা উচিত।  মানে সে মনে করে মানুষকে শিল্পায়নের থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকতে হবে।"


উদাহরণ ২: যে ব্যক্তি স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের পক্ষে, তার মতে - আমাদের সবাইকে পুরোপুরি নিরামিষ ভোজী হতে হবে। 


৩. Appeal to Ignorance


এই কুযুক্তিটির দুটি অংশ। যথা - একটা বিষয় সত্য, কারন সেটা কেউ মিথ্যা প্রমাণ করতে পারেনি। একটা বিষয় মিথ্যা, কারন কেউ সেটা সত্য প্রমাণ করতে পারেনি। 

তবে সাধারণত প্রথম অংশটাই বেশি ব্যবহার করা হয়। কারন জগতের সবকিছুর অস্তিত্ব প্রথমে দাবি করা, পরে প্রমাণ করার চেষ্টা হয়। কিন্তু ধার্মিকরা কোনো কিছুর অস্তিত্বের দাবি করার পর অনস্তিত্বের প্রমাণ করতে বলে।  এতে করে নাকি তাদের অস্তিত্বের দাবিটা প্রমাণিত হবে, যেটা হাস্যকর। 


উদাহরণ ১: কোনো প্রমাণ নেই যে জ্বীন নেই , তাই অবশ্যই জ্বীন  আছে।


উদাহরণ ২: আমি প্রমাণ করতে পারবো না যে উড়ন্ত ঘোড়ার অস্তিত্ব আছে। কিন্তু আপনি কি প্রমাণ করতে পারবেন যে উড়ন্ত ঘোড়ার অস্তিত্ব নেই?


[ এখানে দাবিটা আপনার, সুতরাং সেটা প্রমাণ করার দায়িত্বটাও আপনার। ]


৪. False Dilemma 


যেকোনো বিষয়ে দুটি বিকল্প দেখানো হয়, অথচ সেখানে অনেকগুলো বিকল্প থাকতে পারে। 


উদাহরণ ১: আপনি হয় আমাদের দলের সমর্থক , নয়তো আমার শত্রু।


[ এখানে আপনি চাইলে ওই দলের শত্রু বা সমর্থক কোনোটাই না হয়ে বিকল্প হিসেবে নিশ্চুপ থাকতে পারেন। অথচ আপনাকে  কেবল দুইটা বিকল্প দেখানো হচ্ছে, যেন আর কোনো বিকল্প নেই। ] 


৫. Slippery Slope 


এটা অনেকটা বাস্তবে পিছলে পড়ার মতনই কুযুক্তি। একটা সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর কি কি ঘটতে পারে, সেসব বলতে বলতে একটা চূড়ান্ত  ফলাফলে পৌঁছে যাওয়া। অথচ সেসব ঘটার পিছনে ভালো কোনো প্রমাণ দেখাতে পারেনা। 


উদাহরণ ১: যদি ছেলে-মেয়েদের একসাথে মেলামেশা বা বন্ধুত্ব করার অনুমতি দেই।  তবে তারা স|ঙ্গম করবে। একসাথে জুয়া খেলবে, মদ খেয়ে পার্টি করবে। 


উদাহরণ ২: শিক্ষার্থীদের একদিন ছুটি দিলে, পরবর্তীতে পুরো বছর ছুটির দাবি উঠাবে। 


৬. Circular Reasoning / Begging to the question 


বক্তার বক্তব্য ঘুরেফিরে একই কথাতে চলে আসে, কিন্তু উপসংহারে পৌছাতে পারেনা। এটা করা হয়, যখন বক্তার কাছে যুক্তি প্রমাণের অভাব থাকে। 


উদাহরণ:


-ধর্মগ্রন্থের প্রতিটা কথা সত্য। 

-ধর্মগ্রন্থের কথাগুলো যে সত্য, এটার প্রমাণ কি?

- এসব কথা ইশ্বর নিজে বলেছেন, তাই সত্য। 

-ইশ্বরের  কথা সত্য, এটার প্রমাণ কি?

-কারন ধর্মগ্রন্থে বলা হয়েছে যে ইশ্বরের কথা সত্য। তাই সত্য। 


৭. Hasty Generalization 


ছোট একটা ঘটনার উপর ভিত্তি করে বড় সিদ্ধান্তে আসা। 


উদাহরণ ১: আমি দুজন নারীকে বিশ্ববিদ্যালয়ে সিগারেট পান করতে দেখেছি। সুতরাং দুনিয়ার সব বিশ্ববিদ্যালয়ের নারীগণ সিগারেট পান করে। 


উদাহরণ ২: আজ একজন রিক্সাওয়ালা আমার সাথে খারাপ ব্যবহার করলো। সুতরাং, দুনিয়ার সব রিক্সাওয়ালা খারাপ। 


৮. Red Herring 


মূল প্রসঙ্গ থেকে সরে গিয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রসঙ্গ টেনে আনা, যেখানে দুটো প্রসঙ্গের কোনো মিল নেই। 


উদাহরণ ১: আপনি কেন সবসময়ই অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিয়ে কথা বলেন, যেখানে সবচেয়ে বড় সমস্যা গংগীবাদ। 


উদাহরণ ২: পরিবেশ সংরক্ষণ নিয়ে আলোচনা চলছে, কিন্তু আসলে আমাদের সুশাসন নিয়ে চিন্তা করা উচিত।


এই কুযুক্তিটির সাথে অনেকেই Straw man fallacy এর সাথে গুলিয়ে ফেলতে পারেন। তাই পার্থক্যটা বলে দেওয়া ভালো। Red herring কুযুক্তিতে দুটো প্রসঙ্গের কোনো মিল থাকেনা। একদম সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রসঙ্গ টেনে আনা হয়। 

কিন্তু Straw man কুযুক্তিতে দুটো বিষয়ে সামান্য মিল থাকে। বক্তা মূলত মূল বক্তব্যকে বিকৃত করে নিজের মনমত। তখন বিকৃত করা প্রসঙ্গের সাথে মূল প্রসঙ্গের সামান্য মিল রয়ে যায়৷ 


আরেকটু উদাহরণ দিয়ে বলি। 


রেড হেরিং ফ্যালাসী - 


একজন ছাত্র বলেন, আমি বাড়ির কাজ করতে করতে ক্লান্ত হয়ে পড়েছি। 

এর উত্তরে  শিক্ষক বলেন, তুমি কি জানো বিশ্বে হাজার হাজার শিশু ক্ষুধার্ত আছে?


[ এখানে ছাত্র বললেন, বাড়ির কাজের কথা। কিন্তু শিক্ষক হাজার হাজার ক্ষুধার্ত শিশুর কথা বলে সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রসঙ্গ টেনে আনলেন। এখানে দুটি প্রসঙ্গের কোনো মিল নেই। ]


স্ট্রম্যান ফ্যালাসী - 


এক পক্ষ বলেন, আমাদের স্বাস্থ্যসেবায় সুলভ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে।


অপর পক্ষ তার যুক্তিকে বিকৃত করে বলে , তার মানে, তুমি চাইছো যে সরকার পুরোপুরি চিকিৎসা ব্যবস্থা জাতীয়করণ করে সব ব্যক্তিগত হাসপাতাল বন্ধ করে দিক। 


[ এখানে বক্তার হাসপাতালের প্রসঙ্গের সাথে মিল রেখে আরেকটা প্রসঙ্গ টানা হয়েছে। প্রথম প্রসঙ্গটা বিকৃত করে একটা ভিন্ন রূপের প্রসঙ্গ তৈরি করা হয়েছে। প্রথম প্রসঙ্গের মূল বক্তব্যকে এড়িয়ে গেছে, যাতে করে মূল প্রসঙ্গের কথাটাকে ভুল প্রমাণ করার চেষ্টা করা যায়। ] 


৯. Appeal to Authority 


একটা বিষয় সত্য৷ কারন অমুক লোক বলেছে, এটা সত্য। 


এখানে একটা বিষয় পরিষ্কার হওয়া জরুরী। অমুক লোকটি মূল প্রসঙ্গের সাথে প্রাসঙ্গিক কিনা! যেমন একজন বিজ্ঞানী একটা কথা বললে , সেটার একরকম জোর থাকে। বিজ্ঞানী অবশ্যই নানান গবেষণার ভিত্তিতেই বলেন উনার কথাগুলো। কিন্তু একই কথা যদি আপনার বড় ভাই ইলিয়াস  বলে এবং আপনি সেই বলার ভিত্তিতে বিষয়টাকে সত্য বলে ভেবে নেন, তখন সেটা হবে Appeal to authority fallacy । কেবল বলেছে বলেই সেটা সত্য হবেনা, সেটার জন্য  প্রমাণ দেখাতে হবে।  এখানে বিজ্ঞানীর কথাটা চাইলেই প্রমাণ করা যাবে। কিন্তু আপনার বড় ভাইয়ের কথাটা প্রমাণ করার কোনো উপায় নেই। তবে যদি প্রমাণসহ কথাটা বলে, তাহলে আর ফ্যালাসী হবেনা। 


উদাহরণটা আলাদা করে আর দিচ্ছি না, যেহেতু লেখার ভেতরেই দিলাম। 


১০. Appeal to Emotion 


আবেগের আশ্রয় করে যুক্তিতে জিততে চাওয়া। 


উদাহরণ ১: আপনি যদি গরীব মানুষদের দান না করেন, তার মানে দাড়ায় আপনি একজন স্বার্থপর মানুষ। 


[ একজন মানুষের দান না করার পিছনে অনেক কারন থাকতে পারে। ]


১১. Non Sequitur 


বক্তা  কথা বললো একরকম , কিন্তু উপসংহার দিলো আরেক রকম। 


উদাহরণ ১: সে অনেক বই পড়েছে, তাই সে ভালো দৌড়াতে পারে। 


[ এখানে বই পড়ার সাথে ভালো দৌড়ানোর কোনো সম্পর্ক নাই। ] 


১২. Tu Quoque 


বক্তার ব্যক্তিগত আচরণ বা অভ্যাসকে তুলে ধরে তার যুক্তির প্রতি আক্রমণ করা হয়। 


উদাহরণ -  তুমি সিগারেট খাও, তাই তোমার বক্তব্য যে সিগারেট খাওয়া ভালো নয় —এটা গ্রহণযোগ্য নয়।


১৩. Bandwagon 


কেবল জনপ্রিয়তার ভিত্তিতে কোনো বিষয়কে সঠিক ভাবা। 


উদাহরণ ১: ইসলাম ধর্মের জনপ্রিয়তা অনেক বাড়ছে, সুতরাং এটাই সঠিক ও সহনশীল ধর্ম। 


উদাহরণ ২: ওই সিনেমাটা ভালো।  কারন সিনেমাটা প্রচুর মানুষ দেখেছে। 


[ নোংরা জিনিসেরও অনেক জনপ্রিয়তা থাকে। তাই বলে সেটা ভালো জিনিস হয়ে যায়না। ] 


১৪. False Analogy 


দুটি বিষয়ের মধ্যে তুলনা করে উপসংহার টানা , যেখানে ওই দুটি বিষয়ের মধ্যে আদতে  সমতুল্য কোনো বৈশিষ্ট্য নেই। 


উদাহরণ ১: গাছের পাতা ঝরে গেলে গাছ মারা যায়, তাই মানুষের যদি কোনো অভ্যাস পরিবর্তন না হয় তবে জীবনে সফলতা অর্জন করা যাবে না।


উদাহরণ ২: একজন চিত্রশিল্পী ও একজন সংগীতজ্ঞের কাজ তুলনা করা যায়।  একজন ভালো চিত্রশিল্পীর কদর না করলে একজন সংগীতজ্ঞের সুরও সঠিক হবে না।


১৫. Appeal to Nature 


প্রকৃতিতে আছে বলেই একটা কাজ সঠিক, এমনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া। 


উদাহরণ ১: এই ঔষধটি ১০০% প্রাকৃতিক উপাদানে তৈরি, তাই এটি অবশ্যই নিরাপদ এবং কার্যকর।


পরিশেষে, 

তর্ক করার সময় খেয়াল করে প্রতিটা কথা বলবেন। যাতে করে আপনার কথাবার্তায় কোনোরকম কুযুক্তি না চলে আসে ।  উল্লেখিত কুযুক্তিগুলো মাথায় ভালোমত গেঁথে নিন। ভবিষ্যতে কাজে আসবে।

কাজী নজরুল সম্পর্কে যে ২০টি তথ্য আপনি না-ও জেনে থাকতে পারেন।

 কাজী নজরুল সম্পর্কে যে ২০টি তথ্য আপনি না-ও জেনে থাকতে পারেন।


কাজী নজরুল ইসলামের জীবন ছিল বিচিত্র আর বহুবর্ণিল। তাঁর সেই জীবনের কতটুকুই-বা আমরা জানি? আজ নজরুলজয়ন্তীতে নজরুল-গবেষকদের লেখা বিভিন্ন বই ও পত্রিকা ঘেঁটে এখানে বিদ্রোহী কবি-সম্পর্কিত এমন ২০টি তথ্য তুলে ধরা হলো, যেগুলো আপনি না-ও জেনে থাকতে পারেন!


🌹১. নজরুলের জীবন কোনো নিয়মের জালে আটকা ছিল না। যখন যা ভালো লাগত, তিনি তা-ই করতেন। দিন নেই, রাত নেই হই হই রব তুলে উঠে পড়তেন কোনো বন্ধুর বাড়িতে। তারপর চলত অবিরাম আড্ডা আর গান!


🌹২. নজরুলের লেখার জন্য কোনো বিশেষ পরিবেশ লাগত না। গাছতলায় বসে যেমন তিনি লিখতে পারতেন, তেমনি ঘরোয়া বৈঠকেও তাঁর ভেতর থেকে লেখা বের হয়ে আসত।


🌹৩. নজরুল ইসলাম কোনো অনুষ্ঠানে গেলে ঝলমলে রঙিন পোশাক পরতেন। কেউ তাঁকে রঙিন পোশাক পরার কারণ জিজ্ঞাসা করলে বলতেন, রঙিন পোশাক পরি অনেক মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্য। অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত তথ্য দিয়েছেন, নজরুল তাঁর ঝলমলে পোশাকের ব্যাপারে বলতেন, ‘আমার সম্ভ্রান্ত হওয়ার দরকার নেই। আমার তো মানুষকে বিভ্রান্ত করবার কথা!’


🌹৪. নজরুলের পাঠাভ্যাস ছিল বহুমুখী। তিনি পবিত্র কোরআন, গীতা, বাইবেল, বেদ, ত্রিপিটক, মহাভারত, রামায়ণ যেমন পড়তেন, তেমন পড়তেন শেলি, কিটস, কার্ল মার্ক্স, ম্যাক্সিম গোর্কিসহ বিশ্বখ্যাত লেখকদের লেখা। রবীন্দ্রনাথের ‘গীতবিতান’-এর সব কটি গান মুখস্থ করে ফেলেছিলেন তিনি!


🌹৫. বাংলা গানে নজরুলই একমাত্র ব‌্যক্তি, যিনি সব ধরনের বিষয় নিয়ে গান লিখেছেন। তাঁর গানের সংখ্যা অনেকে চার হাজার বললেও আসলে তিনি গান লিখেছিলেন প্রায় আট হাজারের মতো, যার অধিকাংশই সংরক্ষণ করা যায়নি।


🌹৬. বাঙালি কবিদের মধ্যে নজরুলই ছিলেন সবচেয়ে বেশি রসিক। তাঁর কথায় হাসির ঢেউ উঠত। হিরণ্ময় ভট্টাচার্য ‘রসিক নজরুল’ নামে একটি বই লিখেছেন। যাঁরা বইটি পড়েননি, তাঁদের পক্ষে বোঝা কষ্টকর নজরুল কী পরিমাণ রসিক ছিলেন! একটা উদাহরণ দেওয়া যাক, একবার এক ভদ্রমহিলা নজরুলকে খুব স্মার্টলি জিজ্ঞাসা করলেন, ‘আপনি কি পানাসক্ত?’ নজরুল বললেন, ‘না, বেশ্যাসক্ত!’ কবির কথায় ভদ্রমহিলার মুখ কালো হয়ে গেল। আর তক্ষুনি ব্যাখ্যা করলেন নজরুল, ‘পান একটু বেশি খাই। তাই বেশ্যাসক্ত, অর্থাৎ বেশি+আসক্ত = বেশ্যাসক্ত!’


🌹৭. নজরুলের প্রেমে পড়েননি, এমন পুরুষ কিংবা নারী খুঁজে পাওয়া ভার। তাঁর চরম শত্রুরাও তাঁর ভালোবাসার শক্তির কাছে হার মেনেছেন। কবি বুদ্ধদেব বসু নজরুলকে প্রথম দেখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলে। তিনি লিখেছেন, ‘সেই প্রথম আমি দেখলাম নজরুলকে। এবং অন্য অনেকের মতো যথারীতি তাঁর প্রেমে পড়ে গেলাম!’ শুধু বুদ্ধদেব বসু নন, তাঁর স্ত্রী প্রতিভা বসুও নজরুলের প্রেমে পড়েছিলেন। সেই কাহিনি নিয়ে তিনি লিখেছেন ‘আয়না’ নামে একটি গল্প। কী অবাক কাণ্ড! স্বামী-স্ত্রী দুজনেই একই লেখকের প্রেমে হাবুডুবু খেয়েছেন!


🌹৮. কাজী নজরুল ইসলাম প্রচুর পান ও চা খেতেন। লিখতে বসার আগে পর্যাপ্ত পরিমাণ চা আর এক থালা পান নিয়ে বসতেন তিনি। পান শেষ করে চা, এরপর আবার চা শেষ করে পান খেতেন। তিনি বলতেন, ‘লেখক যদি হতে চান/ লাখ পেয়ালা চা খান!’


🌹৯. নজরুল ছিলেন সত্যিকারের হস্তরেখা বিশারদ। তিনি অনেকের হাত দেখে যা বলতেন, তা-ই ঘটতে দেখা গেছে। একবার এক লোককে বললেন, আপনার বিদেশযাত্রা আছে, লোকটি সত্যিই কয়েক দিনের মধ‌্যে বিদেশ চলে গেল! আরেকজনকে বললেন, ‘আপনি পৃথিবীর বাইরে চলে যেতে পারেন।’ পরে ওই লোকটির মৃত্যু ঘটেছিল!


🌹১০. মাঝেমধ্যে রাগান্বিত হলে নজরুল তাঁর সামনে যদি কোনো বই-খাতা পেতেন বা কাগজ পেতেন, তা ছিঁড়ে কুচি কুচি করে ফেলতেন।


🌹১১. অর্থের ব্যাপারে নজরুল ছিলেন ভয়াবহ বেহিসাবি। হাতে টাকা এলেই তা বন্ধুবান্ধব নিয়ে আমোদ-ফুর্তি করে শেষ করে দিতেন। আর বলতেন, ‘আমি আমার হাতের টাকা বন্ধুদের জন্য খরচ করছি। আর যখন ওদের টাকা হবে ওরাও আমার জন্য খরচ করবে, চিন্তার কোনো কারণ নেই।’


🌹১২. নজরুল তাঁর দুই পুত্রের ডাকনাম সানি (কাজী সব্যসাচী) আর নিনি (কাজী অনিরুদ্ধ) রেখেছিলেন তাঁর দুই প্রিয় মানুষ সান ইয়াত-সেন ও লেনিনের নামানুসারে।


🌹১৩. নজরুল তাঁর সন্তানদের খুবই ভালোবাসতেন। এমনকি তিনি তাঁদের নিজ হাতে খাওয়াতেন আর ছড়া কাটতেন, ‘সানি-নিনি দুই ভাই/ ব্যাঙ মারে ঠুই ঠাই।’ কিংবা ‘তোমার সানি যুদ্ধে যাবে মুখটি করে চাঁদপানা/ কোল-ন্যাওটা তোমার নিনি বোমার ভয়ে আধখানা।’


🌹১৪. নজরুল ছিলেন সত্যিকারের জনদরদি মানুষ। একটি ঘটনা দিয়ে তার প্রমাণ দেওয়া যেতে পারে। দক্ষিণ কলকাতার এক দরিদ্র হিন্দু মেয়ের বিবাহ। কোনোরকমে কন্যা বিদায়ের আয়োজন চলছে। নজরুল খবরটি পেলেন। তিনি দ্রুত বাজারে গেলেন। এক হিন্দু বন্ধুকে নিয়ে বিয়ের বাজার করলেন। তারপর ধুমধাম করে মেয়েটির বিয়ে হলো। মেয়ের বাবা নজরুলকে প্রণাম করে কাঁদতে কাঁদতে বললেন, ‘আমরা আপনাকে ভুলব না কোনো দিন।’ এমনই ছিলেন কবি। তাঁর বাড়িতে সাঁওতাল, গারো, কোল—সবাই দল বেঁধে আসতেন। আপ্যায়িত হতেন উৎসবসহকারে।


🌹১৫. নজরুল কবিতা ও গানের স্বত্ব বিক্রি করে উন্নত মানের একটি ক্রাইসলার গাড়ি কিনতে পেরেছিলেন। এই গাড়ি ছিল সেই সময়ের সবচেয়ে বিলাসবহুল ও দামি।


🌹১৬. নজরুল ট্রেনের প্রথম শ্রেণির কামরা ভাড়া করে মাঝেমধ্যে প্রমোদভ্রমণে যেতেন।


🌹১৭. নজরুলের দৃষ্টিশক্তি ছিল অসামান্য। তিনি গভীর অন্ধকারেও বহুদূরের কোনো জিনিস স্পষ্ট দেখতে পেতেন।


🌹১৮. নজরুল ছিলেন অসম্ভব রকমের ক্রীড়াপ্রেমী। সময় পেলেই তিনি ফুটবল খেলা দেখতে স্টেডিয়ামে ছুটতেন বন্ধুবান্ধব নিয়ে। যেদিন বাড়ি থেকে সোজা খেলা দেখতে যেতেন, সেদিন দুই পুত্র সানি আর নিনিকে সঙ্গে নিতেন। একবার খেলা দেখতে গেছেন। স্টেডিয়ামে পাশে বসে আছেন হুমায়ূন কবির। খেলা ভাঙার পর ভিড়ের মধ্যে দুই পুত্র খানিকটা আড়ালে চলে গেল। হঠাৎ পেছন থেকে নজরুলের হাঁকডাক শোনা গেল, ‘সানি কোথায়? নিনি কোথায়?’ মাঠসুদ্ধ লোক হাঁ হয়ে নজরুলকে দেখছে। এরই মধ্যে দুই পুত্রকে ঠেসে ধরে ট্যাক্সি করে বাড়ি নিয়ে এসে তিনি স্বস্তির নিশ্বাস ফেললেন।


🌹১৯. নজরুল বেশ দক্ষ দাবাড়ু ছিলেন। যেদিন বিশেষ কোনো কাজ থাকত না, সেদিন তিনি দাবা খেলতেন। খেলায় এমন মগ্ন হতেন যে খাওয়া-নাওয়ার খেয়ালও থাকত না। মাঝেমধ্যে নজরুলের বাড়িতে দাবার আসর বসাতে আসতেন কাজী মোহাতার হোসেন ও হেম সোম।


🌹২০. কলকাতায় নজরুলের তিনতলা বাড়ির সামনে ছিল একটা ন্যাড়া মাঠ। খেলা নিয়ে বহু কাণ্ড ঘটেছে ওই মাঠে। একবার জোর ক্রিকেট খেলা চলছে। নজরুল গ্যালারি অর্থাৎ বারান্দায় দাঁড়িয়ে খেলারত তাঁর দুই পুত্রকে জোর উৎসাহ দিয়ে যাচ্ছেন। এর মধ্যে বড় পুত্র সানি এল ব্যাট করতে। প্রথম বলেই ছয়! নজরুলের সে কি দাপাদাপি! ঠিক পরের বল আসার আগে তিনি চিৎকার করে বলে উঠলেন, ‘সানি, ওই রকম আরেকটা মার।’ ব্যস বাবার কথায় উত্তেজিত হয়ে দিগ্‌বিদিক জ্ঞানশূন্য হয়ে ব্যাট চালাল পুত্র। ব্যাট অবশ্য বলে লাগল না। লাগল উইকেটকিপারের চোয়ালে! বেশ রক্তারক্তি অবস্থা! অবশেষে খেলা বন্ধ করা হলো।


এমনই নানা রঙের মানুষ ছিলেন নজরুল। যাঁর জীবনে দুঃখ-কষ্টের অভাব ছিল না, আবার রং-রূপেরও অভাব ছিল না। পৃথিবীর খুব কম মানুষই বোধ হয় এমন  মহাজীবনের অধিকারী হন। বুদ্ধদেব বসু যথার্থই বলেছিলেন, ‘কণ্ঠে তাঁর হাসি, কণ্ঠে তাঁর গান, প্রাণে তাঁর অফুরান আনন্দ—সব মিলিয়ে মনোলুণ্ঠনকারী এক মানুষ।’


___ নজরুল অঞ্জলি

ইলিশ মাছ শুরুতে পুরুষ, শেষে স্ত্রী!

 ইলিশ মাছ শুরুতে পুরুষ, শেষে স্ত্রী!


"ইলিশ মাছ জীবনের প্রথম বছর পুরুষ হিসেবে প্রজনন সম্পন্ন করে খাদ্যের সন্ধানে সমুদ্রে অভিপ্রয়াণ করে। 


সেখানে অবস্থানকালে উক্ত ইলিশ ধীরে ধীরে স্ত্রীতে রূপান্তরিত হয় এবং দ্বিতীয় বছর প্রজননের উদ্দেশ্যে পুনরায় নদীতে ফিরে আসে।"


জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগ ও চীনের সাংহাই ওশান ইউনিভার্সিটি ডিপার্টমেন্ট অব হাইড্রো-বায়োলজির একদল গবেষক যৌথভাবে বাংলাদেশের জাতীয় মাছ ইলিশ সম্পর্কিত তিনটি গবেষণাকর্ম সম্পাদন করেছেন। গবেষণা তিনটি হলো- ইলিশের সেক্স রিভার্সাল, কমপ্লিট জিনোম এবং পপুলেশন জিনোমিক্স।


এই গবেষণার ফল উপস্থাপনে বলা হয়, বাংলাদেশের পদ্মা, মেঘনা এবং বঙ্গোপসাগরের ছয়টি অঞ্চল থেকে বিভিন্ন আকার ও বয়সের মোট ২০৩টি ইলিশ মাছ সংগ্রহ করা হয়। সংগৃহীত সাতটি ইলিশের জনন টিস্যুতে একসাথে শুক্রাণু ডিম্বাণুর সহাবস্থান দেখা যায় যা লিঙ্গ পরিবর্তনের প্রমাণ বহন করে। গবেষণার সামগ্রিক ফলাফল থেকে অনুমান করা যায়, ইলিশ মাছ জীবনের প্রথম বছর পুরুষ হিসেবে প্রজনন সম্পন্ন করে খাদ্যের সন্ধানে সমুদ্রে অভিপ্রয়াণ করে। সেখানে অবস্থানকালে উক্ত ইলিশ ধীরে ধীরে স্ত্রীতে রূপান্তরিত হয় এবং দ্বিতীয় বছর প্রজননের উদ্দেশ্যে পুনরায় নদীতে ফিরে আসে। এ গবেষণা ইলিশের পূর্ণাঙ্গ জীবনচক্র, প্রজনন কৌশল এবং লিঙ্গ পরিবর্তনের রহস্য উন্মোচনে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে বলে আশা করেন বিজ্ঞানীরা।


এখন আসি আসল প্রশ্নে।

আমাদের সমাজে রূপান্তরকামী তথা ট্রান্সজেন্ডার নিয়ে যাদের খুবই সমস্যা, ব্যথায় মাথা ছিঁড়ে যাওয়ার অবস্থা তারা এই ইলিশ মাছ মুখে দেবে কেমনে?


মোদ্দাকথা হলো, ট্রান্সজেন্ডার ইস্যু প্রকৃতির খুব সহজাত ক্রিয়া। অধিকাংশ উদ্ভিদই bi-sexual  কিংবা transgender. প্রাণিকূল বা মানুষেও এমনটা হবে এটা খুবই স্বাভাবিক। কারণ মানুষও অন্যান্য প্রাণির মতো আমাদের চেনা প্রকৃতিরই সন্তান। আপনি মানতে পারেন না -এটা একান্তই আপনার সমস্যা।🫵

গাছের জগতের একটা অমীমাংসিত রহস্য এই "ক্রাউন সাইনেস"।

 কোনোদিন ঘন জঙ্গলের মধ্যে ঘুরতে ঘুরতে এরকম জিনিস দেখতে পেলে একবারের জন্য হলেও একটু থমকে দাঁড়াবেন।গাছের জগতের একটা অমীমাংসিত রহস্য এই "ক্রাউন সাইনেস"।


এই ক্ষেত্রে জঙ্গলের একটা গাছ অন্য গাছকে স্পর্শ করতে চায় না। তাই একজনের ক্যানোপি অন্যজনের থেকে একটু দূরে থাকে। নিচে থেকে দেখলে মনে হয় যেন কেউ নিপুণভাবে  প্রুনিং করে একটা গাছ থেকে পাশের গাছটি থেকে আলাদা করে রেখেছে।


এই জিনিসটির জগতের কাছে তুলে ধরেন একজন অস্ট্রেলিয়ান বনবিদ নাম M.R.Jacobs, সালটা ১৯৫৫। বেশ কিছু গাছ এইরকম বিহেভিয়ার দেখায় যেমন ইউক্যালিপটাস, পাইন... কোনোদিন লাভা বেড়াতে গেলে পাইনের জঙ্গলে খুঁজে দেখবেন ।


কতোদিন বেড়াতে যাইনি... জঙ্গল আমার খুব প্রিয় জায়গা। গভীর জঙ্গলে এক সুগভীর শান্তি আছে। জানি না আপনাদেরও এরকম মনে হয় কিনা ...তবে খুব গভীর জঙ্গলে ঢুকলে হঠাৎ করেই কেমন যেন মনটা শান্ত হয়ে আসে ...


কোনো একটা গিরগিটির শুকনো পাতার ওপর দিয়ে সরসর করে চলে যাওয়া...নাম না জানা পাখির হঠাৎ করে ডেকে ওঠা....সে এক অন্য দুনিয়া।


কদিন ধরেই মনটা অশান্ত হয়ে আছে।মন খারাপ এর দিনে খুব জঙ্গলে যেতে ইচ্ছা করে ।


ঠিক সন্ধ্যা নামার মুখে কোনোদিন যদি গভীর জঙ্গলে যান দেখবেন পৃথিবীটা কী সুন্দর । অনেকে বলবেন যদি বাঘে খেয়ে নেয় বা যদি সাপে কামড় দেয়....কিন্তু সন্ধ্যে নামার মুখে জঙ্গল এতো সুন্দর হয়ে যায় যে মনে হয় একদিন তো মরতেই হবে.. বাঘে খেলে খাক না..ক্ষতি নেই।


প্রতিটা মানুষেরও কোনো না কোনোদিন এই ক্রাউন সিকনেস আসে... সেই দিনগুলো কাউকে স্পর্শ করতে ইচ্ছা হয় না।


যাইহোক যেটা বলছিলাম ... গাছের এই ক্রাউন সাইনেস এর রহস্য আজও অমীমাংসিত। অনেক বলেন গাছ গুলো যাতে সবাই ভালো করে আলো পায় তাই এরকম বিহেভিয়ার দেখায়...কেউ বলে যাতে পোকামাকড় কম হয় তাই এরকম হয়। কিন্তু কীভাবে একটা গাছ পাশের গাছটার সাথে কমিউনিকেট করে সেটার রহস্য আজও আছে।


অনেকে বলেন গাছ পাতার সাহায্যে কেমিকাল সিগন্যাল পাঠায়। কিন্তু কীভাবে পাঠায় সেটা অজানা । সব মিলিয়ে এটা একটা রহস্য....


একটা জঙ্গলের আনাচে কানাচে এরকম হাজারো রহস্য থাকে। কতো রকমের গাছ...আমার আবার বুনো গাছের ওপর ছোটবেলা থেকেই টান... নরমাল গাছের থেকে বোধহয় বুনো গাছ বেশি ভালো চিনি।


কোনোদিন যদি আমার সাথে জঙ্গলে যান, হয় অতিষ্ঠ হয়ে যাবেন নয়তো আমাকে খুব ভালবেসে ফেলবেন। জঙ্গলে গেলেই আমি বিশাল বড়ো একটা গাছ হয়ে যাই....

আপনি জানেন কী হাট্টিমাটিম’ আসলে ৫২ লাইনের একটি ছড়া, চার লাইনের নয় l

 আপনি জানেন কী হাট্টিমাটিম’ আসলে ৫২ লাইনের একটি ছড়া, চার লাইনের নয় l


বাঙালিমাত্রই ছোটবেলায় পড়া এই ছড়াটি কোনওদিনই ভুলবেন না কেউ। 

কিন্তু ছড়াটি মোটেই মাত্র চার লাইনের নয়।

মোটামুটি কথা ফুটলেই বাঙালি শিশুদের যে কয়েকটি ছড়া কণ্ঠস্থ করানো হয়, তার মধ্যে একটি অবশ্যই

 ‘হাট্টিমাটিম টিম’। 

তারা মাঠে পাড়ে ডিম, 

তাদের খাড়া দুটো শিং, 

তারা হাট্টিমাটিম টিম। 

এর চেয়ে বেশি তথ্য শতকরা ৮০ শতাংশ বাঙালির কাছে রয়েছে কি না সন্দেহ। 

আদতে ছড়াটি মোটেই ৪ লাইনের নয়। রোকনুজ্জামান খানের লেখা একটি ৫২ লাইনের সম্পূর্ণ ছড়া। 

রোকনুজ্জামান খান জন্মেছিলেন ১৯২৫ সালের ৯ এপ্রিল অবিভক্ত বঙ্গের ফরিদপুর জেলায়। বাংলাদেশে তিনি ‘দাদাভাই’ নামে পরিচিত ছিলেন। সেদেশের জনপ্রিয় সংবাদপত্রের শিশু-কিশোরদের বিভাগের দায়িত্বে ছিলেন তিনি বহু বছর।   

তাঁর রচনার বেশিরভাগই শিশু-কিশোরদের জন্য। হাট্টিমাটিম সম্ভবত তাঁর রচনাগুলির মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয়। 

১৯৬২ সালে রচিত হয় ছড়াটি। ১৯৬৮ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কারে ভূষিত করা হয় তাঁকে। ১৯৯৯ সালে মারা যান রোকনুজ্জামান।

সেই ৫২ লাইনের আসল  ছড়াটা এইরকম -


টাট্টুকে আজ আনতে দিলাম 

বাজার থেকে শিম

মনের ভুলে আনল কিনে 

মস্ত একটা ডিম। 

বলল এটা ফ্রি পেয়েছে

নেয়নি কোনো দাম

ফুটলে বাঘের ছা বেরোবে

করবে ঘরের কাম।

সন্ধ্যা সকাল যখন দেখো 

দিচ্ছে ডিমে তা 

ডিম ফুটে আজ বের হয়েছে

লম্বা দুটো পা। 

উল্টে দিয়ে পানির কলস

উল্টে দিয়ে হাড়ি 

আজব দু'পা বেড়ায় ঘুরে 

গাঁয়ের যত বাড়ি। 

সপ্তা বাদে ডিমের থেকে

বের হল দুই হাত 

কুপি জ্বালায় দিনের শেষে 

যখন নামে রাত। 

উঠোন ঝাড়ে বাসন মাজে 

করে ঘরের কাম 

দেখলে সবাই রেগে মরে

বলে এবার থাম।

চোখ না থাকায় এ দুর্গতি 

ডিমের কি দোষ ভাই

উঠোন ঝেড়ে ময়লা ধুলায়

ঘর করে বোঝাই। 

বাসন মেজে সামলে রাখে 

ময়লা ফেলার ভাঁড়ে 

কাণ্ড দেখে টাট্টু বাড়ি

নিজের মাথায় মারে। 

শিঙের দেখা মিলল ডিমে 

মাস খানিকের মাঝে 

কেমনতর ডিম তা নিয়ে

বসলো বিচার সাঁঝে। 

গাঁয়ের মোড়ল পান চিবিয়ে 

বলল বিচার শেষ 

এই গাঁয়ে ডিম আর রবে না 

তবেই হবে বেশ। 

মনের দুখে ঘর ছেড়ে ডিম

চলল একা হেঁটে 

গাছের সাথে ধাক্কা খেয়ে

ডিম গেলো হায় ফেটে। 

গাঁয়ের মানুষ একসাথে সব; 

সবাই ভয়ে হিম 

ডিম ফেটে যা বের হল তা

হাট্টিমাটিম টিম। 

হাট্টিমাটিম টিম- 

তারা মাঠে পারে ডিম

তাদের খাড়া দুটো শিং

তারা হাট্টিমাটিম টিম।


#everyoneシ゚ 

#nonfollowers

কুমড়ো ও পাখির কথা [আমার বাংলা বই (পঞ্চম শ্রেণি), শিক্ষাবর্ষ:২০২৫

 কুমড়ো ও পাখির কথা


[আমার বাংলা বই (পঞ্চম শ্রেণি), শিক্ষাবর্ষ:২০২৫]




গ্রাম থেকে দূরে বনের ধারে, নির্জন জায়গায় ছিল এক মিষ্টিকুমড়োর লতা। লতায় ছিল একটি মাত্র মিষ্টিকুমড়ো। দেখতে বেশ গোলগাল। ছোট একটি কুল গাছে জড়ানো লতায় মিষ্টিকুমড়োটা ঝুলছিল। সকাল হলো। শিশির জমে আছে ঘাস ও লতাপাতায়।


[মিষ্টিকুমড়ো ও শিশির কথা বলছে।]


শিশির: ও কুমড়ো ভাই, ভালো আছ তো?


কুমড়ো : হ্যাঁ, ভালো। তুমি?


শিশির: আমিও ভালো।


কুমড়ো : তুমি খুব ভালো। রোজ তুমি আমার গা ধুইয়ে দাও। মনে কী যে ফুর্তি লাগে।


শিশির: বৃষ্টি না আসা পর্যন্ত ওটাই আমার কাজ। আমি গাছপালা ঘাস লতাপাতার গা ধুইয়ে দিই। ওরা কেমন সুন্দর হয়ে ওঠে। (এমন সময় চারদিকে আলো ফুটল, রোদ উঠল।)


রোদ: ও কুমড়ো, তুমি কেমন আছ?


কুমড়ো: তোমার দয়ায় ভালো আছি ভাই। ভোররাতে শিশির গা ধুয়ে দিয়ে গেছে। এখনও গায়ে তোমার আঁচ লাগছে। মনটা খুশিতে ভরে উঠেছে।


শিশির: আমি এখন যাই মিষ্টিকুমড়ো, কেমন? রোদ উঠেছে, এখন আমার যাওয়ার পালা। চলি তা হলে।


কুমড়ো: যাও ভাই, রাতে আবার দেখা হবে। (এমন সময় দোয়েল পাখি এল। পোকা খেতে খেতে দোয়েল বলে।)


দোয়েল: কী চমৎকার পোকা! তুমি খাবে কুমড়ো ভাই?


কুমড়ো: না ভাই, ওসব আমার খাদ্য নয়, বরং ওরা আমাদের দুশমন। ওদের জ্বালায় একটা ফুলও ফল হতে পারে না। পোকাগুলো সব খেয়ে সাবাড় করে।


দোয়েল: রোজ তোমার লতায় বসি, পাতায় বসি। তুমি রাগ কর না তো আবার?


কুমড়ো: রাগ করব কেন? তুমি আমাদের উপকারী বন্ধু। তুমি পোকা খাও বলেই তো আমরা বেঁচে থাকি। তোমার গান আমার খুব ভালো লাগে।


দোয়েল: তুমি বললে আর কী হবে। মানুষেরা যে আমাদের বাঁচতে দিচ্ছে না।


কুমড়ো: সে কী কথা! মানুষেরাই তো সবার বন্ধু। এই দেখ না, আমাকে একটা পাখি এখানে নিয়ে এসেছে বলে এখানে চারা থেকে গাছ হয়েছি। মানুষের বাড়িতে থাকলে আমাকে মাচা করে দিত।


দোয়েল: তা দিত ঠিক। কিন্তু মানুষ তো বনের গাছপালা কেটে সাফ করছে। মানুষ পাখি আর জীবজন্তুও খায়। ধরে ধরে খাঁচায় ভরে রাখে।


কুমড়ো: তাহলে তো খুব খারাপ বলতে হয়। তবে একদিন মানুষের নিশ্চয়ই সুবুদ্ধি হবে।


দোয়েল: কবে আর হবে! মানুষ মানুষকে মারার জন্য কত রকম অস্ত্র বানাচ্ছে, বোমা মারছে।


কুমড়ো: আজকাল শুনছি মানুষ গাছপালা বাড়াবার কথা বলছে। যুদ্ধের বিরুদ্ধে অনেকে কথা বলছে। মানুষেরা আমাদের মতো হলে ভালো হতো। দেখ, পাতায় পড়েছে রোদ। শেকড় এনে দিচ্ছে পানি। পাতার মধ্যে আমার রান্নাবান্না হচ্ছে। ওই খেয়ে আমি দিনে দিনে বাড়ছি।


দোয়েল: তোমাদের তো ভারি সুবিধে। আমাদের দেখ সারাদিন ডালে ডালে পোকা খুঁজতে হয়। যাই তাহলে ওই দিকটায় খুঁজে দেখি। পরে আবার আসব। (এই বলে দোয়েল ফুডুৎ করে উড়ে গেল।)


রোদ: তুমি তো খুব সুন্দর কথা বল। এতক্ষণে ধরে আমি তোমাদের কথা শুনছিলাম। আমার প্রশংসাও করছিলে বেশ।


কুমড়ো: উপকারীর উপকার স্বীকার করাই তো উচিত। তুমি হচ্ছ সবার উপকারী বন্ধু। তোমাকে ছাড়া দুনিয়া অচল।


রোদ: আমিও আসি ওই সূর্য থেকে। সূর্য না থাকলে আমাকে পেতে না। সূর্য না থাকলে পৃথিবী নামের এই গ্রহটাও থাকতো না। (এমন সময় বাতাস বইল। দোল খেল কুমড়ো। বাতাস কথা বলল।)


বাতাস: শুধু গ্রহ নয়, তাদের উপগ্রহরাও সূর্যের জন্য বেঁচে আছে।


কুমড়ো: চাঁদের আলো আমার খুব ভালো লাগে।


বাতাস: আমাকে তোমার কেমন লাগে? আমি যখন তোমাকে ছুঁয়ে যাই তখন-


কুমড়ো: তোমার জন্যই তো ফুল থেকে ফুলে পরাগ যায়। তাতে ফুল থেকে ফল হয়। ভোমরা আর মৌমাছিও এ কাজে সাহায্য করে। টুনটুনি পাখিও ফুল থেকে ফুলে পরাগ নিয়ে যায়। আমরা এভাবে একে অপরের সাহায্যে বড় হই, বেঁচে থাকি।


(এমন সময় বনের ফিঙে, টিয়ে ও বানরের চেঁচামেচি শুরু হয়ে গেল। বাতাসও কিছু না বলে সে দিকে ছুটল। কুমড়ো একা হয়ে গেল। হঠাৎ একটা টুনটুনি উড়ে এসে বলতে লাগল-)


টুনটুনি: মানুষের কথা আর বোলো না। গাছ মানুষকে ফুল, ফল, ছায়া দেয়। অথচ তারা গাছ কেটে উজাড় করে।


কুমড়ো: কী হয়েছে ভাই? গাছ কাটার কথা শুনে আমার খুব ভয় করছে।


টুনটুনি: বনের ভেতর কে যেন চাষ করার জন্য গাছপালা কেটে জমি করেছে। তারপর সেই ডালপালা পোড়ানোর জন্য আগুন দিয়েছে, আর সেই আগুন চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে। সে এক ভীষণ কাণ্ড।


কুমড়ো: তারপর?


টুনটুনি: এখন বৈশাখ মাস। পাতা, ডালপালা সব শুকিয়ে গেছে। কোথা থেকে হাওয়াও এসে জুটেছে। দাউ দাউ করে জ্বলছে সব কিছু।


কুমড়ো: এখন উপায়। আগুন এখানে আসবে না তো?


টুনটুনি: ওই দেখ- টিয়ে, ফিঙে, দাঁড়কাক, বানর, ভালুক সবাই মিলে ছোটাছুটি চেঁচামেচি করে বন তোলপাড় করে তুলেছে। চেঁচামেচিতে মানুষ ছুটে এসেছে। আগুন নেভাচ্ছে।


কুমড়ো: মানুষই আগুন দিয়েছে, আবার মানুষই ছুটে এসেছে আগুন নেভাতে? আমি বুঝি না মানুষ কেন এমন করে। তা হলে তো অনেক পশুপাখি পুড়ে মরেছে। অনেক জ্যান্ত গাছপালা পুড়ে গেছে। তোমার টোনা কোথায়?


টুনটুনি: আমি সেখানে একটুখানি উঁকি মারতে গিয়েছিলাম। টোনা বলল, এদিকে এসে সকলকে সতর্ক করে দিতে। টোনা দোয়েলের সেবা করছে। দোয়েলের গায়ে নাকি একটু আঁচ লেগেছে।


কুমড়ো: তোমরা ভাই খুব ভালো। একজনের বিপদে আরেকজনকে খবর দাও, খোঁজখবর নিতে পার। আর আমাদের গাছের সঙ্গে ঝুলে থেকে সব করতে হয়।


টুনটুনি: আমি যাই। কাঠবিড়ালি বন্ধুদের খবর নিয়ে আসি।


(এই বলে টুনটুনি ফুডুৎ করে উড়ে গেল। কুমড়ো আবার একা। এদিকে রোদের সঙ্গে, মাটির সঙ্গে, কুলগাছের সঙ্গে কথা বলতে বলতে কুমড়ো দিনে দিনে বাড়তে লাগল। বর্ষা এল, চলেও গেল। শরতে মিষ্টিকুমড়ো পেকে মাটিতে ঝরে পড়ল। তারপর একদিন দোয়েলকে দেখা গেল সেই কুল গাছে।)


দোয়েল: ও কুমড়ো ভাই, তুমি কোথায়? তোমাকে দেখছি না কেন? (মাটিতে কয়েকটি চারা উঠেছে। ওরা মিষ্টিকুমড়োর চারা। ওরা বলল)


চারা: তুমি কে ভাই? কাকে খুঁজছ?


দোয়েল: এখানে একটা মিষ্টিকুমড়ো গাছ ছিল। আর ছিল একটা সুন্দর কুমড়ো।


রোদ: ও, আমাদের মায়ের কথা বলছ? আমরা তারই চারা। মাত্র কয়েক দিন হলো আমরা দাঁড়াতে শিখেছি। মা আমাদের সব কথা বলেছে। তোমার কথাও বলেছে।


দোয়েল: কী বলেছে?


চারা: বলেছে তোমাকে মায়ের খবর দিতে। বনের পশুপাখিরা সেই আগুনের হাত থেকে বেঁচে গেছে কি না জানার খুব ইচ্ছা ছিল তার।


দোয়েল: সেই ভয়ানক আগুনের কথা আর মনে করতে চাই না। দুঃখ কষ্টের কথা যত ভুলে থাকা যায় ততই ভালো। তার চেয়ে আমি তোমাদের গান শোনাই। হাওয়ায় হাওয়ায় তোমরা নাচতে শুরু করো, আর আমি গানের সুর তুলি।


[১৯৯৬ সালের পঞ্চম শ্রেণির 'আমার বই' থেকে গৃহীত]


#আইডিয়্যাল এক্সারসাইজ শিক্ষা পরিবার!!!

#IDEAl EXERCISE EDUCATION FAMILY!!!

সকাল ৭টার সংবাদ  তারিখ ০৫-০৩-২০২৫ খ্রি:। 

 সকাল ৭টার সংবাদ 

তারিখ ০৫-০৩-২০২৫ খ্রি:। 


আজকের শিরোনাম


উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক অনুষ্ঠিত - পিএসসির মাধ্যমে আরো দুই হাজার বাড়িয়ে পাঁচ হাজার চারশো ৯৩ চিকিৎসক নিয়োগ দেয়ার সিদ্ধান্ত।


বাংলাদেশে সস্তামূল্যে জ্বালানি তেল সরবরাহ করবে সৌদি আরব - জানালেন পরিবেশ উপদেষ্টা।


নতুন উপদেষ্টা হিসেবে আজ শপথ নেবেন অধ্যাপক সি আর আবরার।


সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন নবগঠিত জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতৃবৃন্দের - পুরো সাংবিধানিক পরিবর্তনের মাধ্যমে নতুন বাংলাদেশের যাত্রা শুরু করার অঙ্গীকার।


গুমের শিকার তিনশো ৩০ জনের বেঁচে থাকার সম্ভাবনা ক্ষীণ - জানিয়েছে গুম সংক্রান্ত কমিশন।


গাজা পুনঃনির্মাণের জন্য ৫৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সর্বসম্মত পরিকল্পনা গ্রহণ আরব নেতৃবৃন্দের।


অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনালে ভারত। আজ দ্বিতীয় সেমিফাইনালে মুখোমুখি হবে নিউজিল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকা।

রাত ৮ টা ৩০ মিনিটের সংবাদ। তারিখ: ০৪-০৩-২০২৫ খ্রি:।

 রাত ৮ টা ৩০ মিনিটের সংবাদ।

তারিখ: ০৪-০৩-২০২৫ খ্রি:।

আজকের শিরোনাম:


উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক অনুষ্ঠিত --- পিএসসির মাধ্যমে চলমান নিয়োগ প্রক্রিয়ায় আরো দুই হাজার বাড়িয়ে পাঁচ হাজার চারশো ৯৩ চিকিৎসক নিয়োগ দেয়ার সিদ্ধান্ত।


বাংলাদেশে সস্তামূল্যে জ্বালানি তেল সরবরাহ করবে সৌদি আরব --- জানালেন উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।


নতুন উপদেষ্টা হিসেবে আগামীকাল শপথ নেবেন অধ্যাপক সি আর আবরার --- বললেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব।


সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন নবগঠিত জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতৃবৃন্দ --- পুরনো শাসন কাঠামোসহ পুরো সাংবিধানিক পরিবর্তনের মাধ্যমে নতুন বাংলাদেশের যাত্রা শুরু করতে চান তারা।


গুমের শিকার তিনশো ৩০ জনের বেঁচে থাকার সম্ভাবনা ক্ষীণ --- জানিয়েছে গুম সংক্রান্ত কমিশন।


ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে গত সপ্তাহের বিব্রতকর বৈঠকের পর কিয়েভের জন্য সব ধরনের সামরিক সহায়তা বন্ধ করে দিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।


এবং দুবাইয়ে আইসিসি চ্যাম্পিয়ন ট্রফির প্রথম সেমিফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার বেঁধে দেয়া ২৬৫ রানের জয়ের লক্ষ্যে এখন ব্যাট করছে ভারত।

মঙ্গলবার, ৪ মার্চ, ২০২৫

মাত্র দুইশো টাকায় চিকিৎসা করান, রোগ না সারলে পাঁচশো টাকা ক্যাশ ব্যাক!

 #ফানি পোষ্ট, 🎇এক ডাক্তার তার ক্লিনিকের সামনে সাইনবোর্ড টাঙিয়ে দিল : মাত্র দুইশো টাকায় চিকিৎসা করান, রোগ না সারলে পাঁচশো টাকা ক্যাশ ব্যাক!


বিজ্ঞাপন দেখে একজন ভাবল, পাঁচশো টাকা কামানোর এই এক সুবর্ণ সুযোগ! সে সটান ডাক্তারের সামনে হাজির হয়ে বলল, "আমি কোনো জিনিসের স্বাদ পাই না।"


ডাক্তার সাহেব লোকটিকে পরীক্ষা করে নার্সের উদ্দেশ্যে বললেন, "বাক্স থেকে ২২ নম্বর ওষুধ বের করো আর ৩ ফোঁটা খাইয়ে দাও।"

নার্স তাই করলো।


গালে দিয়েই লোকটি চেঁচিয়ে উঠল, "কি ওষুধ দিলেন আপনি, এটা তো কেরোসিন!"


সঙ্গে সঙ্গে ডাক্তার বললেন, "আপনি স্বাদ অনুভব করছেন! তার মানে আপনি সুস্থ হয়ে গেছেন! বের করুন দুইশো টাকা।"


লোকটির রাগ হলো। পরদিন সে আবার গেল ওই চেম্বারে আগের টাকা উশুল করতে।


এবার সে ডাক্তারকে বলল, "আমার স্মৃতিশক্তি কমজোরি হয়ে গেছে।"


ডাক্তার আগের মতোই নার্সকে নির্দেশ দিলেন, "বাক্স থেকে ২২ নম্বর ওষুধ বের করো আর ৩ ফোঁটা খাইয়ে দাও।"


লোকটি বলে উঠল, "কিন্তু ওই ওষুধ তো জিহ্বার স্বাদ ফেরাবার জন্য!"


ডাক্তার আনন্দে হাততালি দিয়ে বলে উঠলেন, "এই দেখুন আপনার স্মৃতিশক্তি ফিরে এসেছে! বের করুন দুইশো টাকা।"


পরপর দুইবার অপদস্থ হয়ে লোকটি ফন্দি আঁটলো, যে করেই হোক ডাক্তারের থেকে পাঁচশো টাকা আদায় করতেই হবে। সে ক্লিনিকে উপস্থিত হয়ে বলল, "আমার দৃষ্টিশক্তি কমে গেছে।"


ডাক্তার মুখ গোমড়া করে বললেন, "এর ওষুধ আমার কাছে নেই। এই নিন পাঁচশো টাকা।"


লোকটি ভ্রু কুঁচকালো, "কিন্তু এখানে তো একশো টাকা আছে।"


ডাক্তার সাথে সাথে বলে উঠলেন, "এই তো আপনার দৃষ্টিশক্তি আবার ফিরে এসেছে। বের করুন দুইশো টাকা!"

বিধবা সূচনা পর্ব

 মায়ের জোড়াজুড়িতে বিয়ে করতে হলো এক বি*ধবা মহিলাকে।

 মহিলা না, মেয়েই বটে। বয়স বেশি না, আমার চেয়ে এক দু বছরের ছোট হবে,

 তবে বা*চ্চা মেয়ে আছে একটা। আমার একদম ইচ্ছা ছিলনা বিয়েতে

যেচে এরকম পূর্ব বিবাহিত মেয়েকে বিয়ে করে আমার জীবন ন'*ষ্ট করার মানে নেই

কিন্তু মায়ের বান্ধবীর মেয়ে হওয়ায় জোর করেই বিয়ের পিড়িতে বসতে হলো। 

আজ আমার বা*সর রাত। মনে একপ্রকার ঘৃ*'ণা নিয়েই ঘরে ঢুকলাম

 সুন্দর করে ফুল দিয়ে সাজানো বিছা'*নায় একটা লাল শাড়ি পরিহিত মেয়ে মাথা নিচু করে বসে আছে

মেয়ে মাশাল্লাহ খুব সুন্দরী। কিন্তু আমার প্রবলেম তার মেয়ে নিয়ে

আমি ভেতরে গিয়ে মাথার পাগড়ি ছু'*ড়ে মা*রলাম বিছানায়। চ*মকে উঠল মেয়েটা,

" দেখুন, আমি আপনাকে আমার স্ত্রী হিসেবে মানতে পারবনা

 মায়ের ইচ্ছাতে বিয়েটা করেছি। ব্য*স, এ প*র্যন্তই। আমার কাছে আর ঘে*ষতে আসবেন না

আর আপনার মেয়েকেও আমার কাছ থেকে দূরে রাখবেন

স্ত্রীর অধিকার আমার উপর ফ*'লাবেন না, প্লিজ। "

ধরাম করে দরজা স*জোরে লাগিয়ে বেরিয়ে এলাম ঘর থেকে

 মেয়েট ফোঁ*পাতে ফোঁ*পাতে কাঁ*দতে লাগল৷ আমি ছাদে গিয়ে দাঁড়ালাম

 আকাশে এতো মধুর রূপোর থালার মত চকচকে চাঁদ থাকা স*ত্ত্বেও আমার সেটা ভাল লাগছেনা। আমার জীবনটাই যে ব'*রবাদ হয়ে গেল

 শেষে কিনা এক বি*ধ*বার সাথেই বিয়ে করতে হলো

মায়ের উপর খুব রা*গ হচ্ছে

 কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে ঠান্ডা বাতাসে মন ফুরফুরে করে, আরেক রুমে গিয়ে ঘুমিয়ে পড়লাম। 

পরদিন থেকে আমি ইগ*নোর করতে লাগলাম তাদের

 মেয়েটা মাথা নিচু করে কাজের লোকের মত বাড়ির সব কাজ করে, কিন্তু আমি সারাদিন বাইরে বাইরে থাকি

 তার এক বছরের মেয়েটা হামাগুড়ি দিতে দিতে, আর মুখে অ*স্পষ্ট কিছু উচ্চারণ করতে করতে সারা বাড়ি ঘুরে বেড়ায়

বাড়িতে শুধু আমরা তিনজনই থাকি। সারাদিন কাজ শেষে যখন বাড়ি ফিরি,

 তখন দেখি বা*চ্চা মেয়েটা হামাগুড়ি দিতে দিতে আমার সামনে আসে

আমার দিকে তার মায়াবী চোখ দিয়ে তাকায়। বির*ক্ত লাগে আমার তাকে দেখলে

আমি পাশ কা*টিয়ে নিজের রুমে চলে যাই। ওর মা চুপচাপ আমায় খাবার

দিয়ে যায়,

একটা বারও মাথা উঁচু করে তাকায় না

আমিও কিছু না বলে চুপচাপ

 খেয়ে নেই

 আর নিজের কাজ নিজে করে যাই। ওরা আলাদা রুমে ঘুমায়

 আর আমি আলাদা রুমে ঘুমাই। 

একদিন বাড়ি ফিরে এসে নিজের রুমে গিয়ে দেখি সব ল*ন্ড ভ*ন্ড হয়ে আছে

নি*শ্চয়ই ওই বা*চ্চা মেয়েটা করেছে এইরকম। আমি চ*টে গেলাম

 আমার মাথায় র*ক্ত উঠে গেল। আমি রা*গে ফো*সাতে ফোসাতে

 চিৎ*কার দিয়ে উঠলাম, 

" আয়েশা....."

আমার বি*ধবা বউটা দৌড়াতে দৌড়াতে আসল রুমে

মাথা নিচু করে কাঁ*দো কাঁ*দো গলায় *জিজ্ঞেস করল, 

" জি…জি, কি হয়েছে? "

" এই কি হাল হয়েছে আমার রুমের। কে করেছে এমন

 নি*শ্চয়ই আপনার মেয়েটা। কতবার বলবো ওকে আমার থেকে দূরে রাখবেন৷ একটা কথা একবার বললে কানে যায়না? "

আয়েশা কাঁ*দতে কাঁ*দতে আমার পা*'য়ে প*'ড়ে গেল,

" এই…এই কি করছেন? "

" প্লিজ…প্লিজ ওকে ক্ষ*মা করে দিন

 অনেক বড় ভুল হয়ে গেছে। আর কোনোদিন হবেনা। প্লিজ। "

আয়েশার অ*শ্রুজল টপ টপ করে আমার পায়ে পড়ছে। য*তসব আ*দিখ্যে*তা

 আমি ঘর থেকে বেরিয়ে চলে গেলাম বাইরে। আবার ফিরে

 এলাম গভীর রাতের দিকে। আমি সোজা চলে গেলাম আমার ঘরে

 রুমে ঢুকেই আমি চ*মকে গেলাম। খুব সুন্দর করে পরিপাটি ভাবে গোছানো ঘর

 এমনকি আগের চেয়েও সুন্দর ভাবে। সেটা দেখে আমার মনটা একটু ভাল হলো

ক্লা*ন্ত শ*'রীরটা এ'লিয়ে দিলাম বি'*ছানায়। লাইট, ফ্যান অফ করে শুয়ে পড়লাম

খুব ঠান্ডা পড়েছে। পিনপতন নীরবতার মাঝে হ*ঠাৎ আমার কানে ভেসে আসল করুণ ফোঁ*পানির আওয়াজ

 বুঝতে পারলাম আয়েশা পাশের রুমে ফুঁ*পিয়ে ফুঁ*পিয়ে কাঁদছে। আমি তো*য়াক্কা না করে শুয়ে পড়লাম


চলবে

সুচনা_পর্ব

#বিধবা

বিপদের সময় এই দোয়াটি পড়ুন,অলৈকিক সাহায্য আসবেই,,,,,, ফেইসবুক থেকে নেওয়া

 🌊 তিন অন্ধকারের বুক চিরে অলৌকিক মুক্তির মহাকাব্য: ইউনুস (আ.)-এর গল্প ​আপনি কি কখনো এমন ঘোর অন্ধকারে পড়েছেন, যেখানে পালানোর কোনো পথ নেই? যে...