বিকল্প নোবেল থেকে এবার আসল নোবেলের দৌড়ে চলে এল হোমিওপ্যাথি! হ্যাঁ, ঠিকই পড়ছেন। হোমিওপ্যাথি নিয়ে বহু বিতর্ক থাকলেও, অনেক বিজ্ঞানী একে সিউডোসায়েন্স বলে দাগিয়ে দিলেও, খোদ নোবেল কমিটি কিন্তু হোমিওপ্যাথিকে বিজ্ঞান বলেই মনে করছে। এ বছরের নোবেল মনোনয়নে নাম উঠে এসেছে বিশ্ববন্দিত গ্রীক হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক ড. জর্জ ভিথুলকাসের নাম, যিনি ১৯৯৬ সালে Right Livelihood Award (অর্থাৎ ‘বিকল্প নোবেল’) পেয়েছিলেন। বিকল্প নোবেল থেকে এবার সরাসরি ঢুকে পড়েছেন আসল নোবেলের অন্দরমহলে।ভিথুলকাসের কোয়ান্টাম তত্ত্বের আলোকে হোমিওপ্যাথি, পদার্থবিদ্যা আর চিকিৎসা দুই ক্ষেত্রেই আমূল পরিবর্তন এনেছে। তাঁর গবেষণা দেখিয়েছে, মানবদেহে রোগ দেখা দেয় যখন ইলেকট্রনের স্পিনে অস্থিরতা আসে। ঠিকঠাক হোমিওপ্যাথিক ওষুধ সেই স্পিনকে 'রিসেট' করতে পারে, কারণ তা কোয়ান্টাম-লেভেলে একধরনের ‘রেজোন্যান্ট ফোর্স’ তৈরি করে।
কিন্তু এক্ষেত্রে হোমিওপ্যাথির অসীম লঘুকরণ তত্ত্ব নিয়ে বিতর্ক আছে। অনেকেই বলেন, হোমিওপ্যাথিক ওষুধ এত লঘু করা হয় যে তাতে ওষুধের কোন অস্তিত্ব থাকেনা। কিন্তু ভিথুলকাসের কাজ দেখিয়েছে, প্রতিটি হোমিওপ্যাথিক ওষুধে থাকা জলের কণায় একধরনের Quantum Dot তৈরি হয়, যা ওই নির্দিষ্ট রোগতত্ত্বের সঙ্গে Quantum Entanglement তৈরি করে। তাই, রোগীর দেহে ঠিক জায়গায় ঠিক পরিমাণে ‘জলীয় স্মৃতি’ পৌঁছয়—এবং ইলেকট্রন স্পিন সঠিক অবস্থানে ফিরে যায়। এই তত্ত্ব এখন বিভিন্ন পরীক্ষায় সঠিক প্রমাণিত হচ্ছে। ফলে হোমিওপ্যাথিক ওষুধ শুধু এক ফোঁটা ওষুধ নয়, তা আসলে একধরনের Nano-entangled quantum device!
যদিও বহু পদার্থবিদ এই দাবিকে এখনো ‘ফ্যান্টাসি’ বলে উড়িয়ে দিচ্ছেন, কিন্তু অনেক পদার্থবিদ একে প্রমাণিত সত্য বলে মানছেন, আর সেজন্যেই ভিথুলকাসের এই যুগান্তকারী কাজকে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত করবার জন্য দাবী উঠেছে। যেমন, এই খবরে একজন উৎসাহী পার্টিকেল ফিজিক্স গবেষক তাঁর এক্স হ্যান্ডেলে (টুইটার) বলেছেন, নতুন পার্টিকেল খুঁজতে CERN-র আগে হয়তো আমাদের হোমিওপ্যাথিক ওষুধে মনোনিবেশ করা উচিৎ। উচ্ছ্বসিত শিল্প মহলও। "জল সব কথা মনে রাখে। আমরা শুধু তাকে কোয়ান্টাম ভাষায় কথা বলাই শিখিয়েছি। অনেকে অবিশ্বাস করত, কিন্তু ডা: ভিথুলকাসের স্বীকৃতি তাদের মুখ বন্ধ করে দিল।" বললেন তরুণ উদ্ভাবক এবং ‘Quantica 200C’ নামক স্টার্টআপের সহ-প্রতিষ্ঠাতা, অর্ক ল্যাজারিডিস। Quantica 200C এমন এক হাই-টেক হোমিওপ্যাথি কোম্পানি, যারা দাবি করছে তারা Quantum Dot প্রযুক্তির মাধ্যমে বানাচ্ছে হোমিওপ্যাথিক ‘ন্যানো-মেডিসিন’, যেটা শরীরের স্পেসিফিক রোগ-ফ্রিকোয়েন্সির সঙ্গে Quantum Entanglement তৈরি করে। অর্ক বললেন, "শরীর তো একটা ফ্রিকোয়েন্সি মেশিন, নয় কি? হোমিওপ্যাথি শুধু সেই ফ্রিকোয়েন্সিকে টিউন করে কোয়ান্টাম ডট দিয়ে। আর জলের স্মৃতির জন্য আমাদের দেহের বিভিন্ন কোয়ান্টাম প্যাটার্ণ সেভ হয়ে থাকে। রোগীর প্যাটার্ণের সঙ্গে যেটা মেলে, সেটা তখন কাজ করে, রোগীকে সুস্থ করে!
তবে এত বড় স্বীকৃতির মধ্যেও জন্ম নিয়েছে নতুন বিতর্ক। হোমিওপ্যাথি যাঁরা বিশ্বাস করেননা এরকম অনেকেই ব্যঙ্গে ভরিয়ে দিচ্ছেন সামাজিক মাধ্যমে। কেউ বলছেন, “নোবেল কমিটিও এবার dilute হয়ে গেল! আবার কেউ লিখেছেন, “কোয়ান্টাম স্পিন না ঘুরুক, এই মনোনয়নে আমার মাথাটা ঘুরছে ঠিকই।”
তবে এ বছরের পদার্থবিদ্যা বা মেডিসিনে কোন একটায় ড. জর্জ ভিথুলকাস নোবেল পান কিনা, সেটার দিকে তাকিয়ে এখন গোটা বিশ্ব!
(আনন্দবাজার থেকে কপি করা)

