এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

সোমবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৫

Lightning Arrester কী?

 চিত্রটি হলো একটি Lightning Arrester বা বজ্রনিবারক যন্ত্রের। Lightning arrester বৈদ্যুতিক সিস্টেমকে উচ্চ ভোল্টেজের সার্জ থেকে রক্ষা করে দীর্ঘস্থায়ী নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। এটি বিদ্যুৎ বিভাগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষামূলক যন্ত্র।


নিচে এর বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হলো:


#Lightning Arrester কী?



Lightning arrester হলো এমন একটি সুরক্ষা যন্ত্র, যা বৈদ্যুতিক ব্যবস্থাকে বজ্রপাত বা অতিরিক্ত ভোল্টেজ (Surge Voltage) থেকে রক্ষা করে। এটি মূলত বিদ্যুৎ লাইনের সাথে সংযুক্ত থাকে এবং যখনই উচ্চ ভোল্টেজের সার্জ আসে, তখন এটি সেই অতিরিক্ত শক্তিকে মাটিতে নির্গত করে দেয়।


চিত্রের বাম পাশে ফিজিক্যাল গঠন:


1. End Fitting: এটি arrester-এর উপরের ও নিচের অংশ, যেখানে তার সংযুক্ত হয়।


2. Wrap: ভিতরে থাকা ধাতব অক্সাইড রেজিস্টরকে ঘিরে রাখে এবং বাহ্যিক পরিবেশ থেকে সুরক্ষা দেয়।


3. Metal Oxide Resistor: এটি arrester-এর মূল কার্যকর অংশ। স্বাভাবিক ভোল্টেজে এটি উচ্চ রেজিস্ট্যান্স প্রদান করে, কিন্তু হঠাৎ উচ্চ ভোল্টেজ এলে এটি কম রেজিস্ট্যান্স হয়ে বিদ্যুৎকে গ্রাউন্ডে পাঠায়।


4. Silicon Rubber Sheds: এগুলো হল ইনসুলেটিং ফিনস বা রেইন শেড। এগুলো বজ্রনিবারককে পরিবেশগত আর্দ্রতা, ধুলা এবং দূষণ থেকে সুরক্ষা দেয়।


5. Insulating Bracket: এটি arrester-কে বিদ্যুৎ লাইনের খুঁটির সাথে ইনসুলেট করে সংযুক্ত রাখতে সাহায্য করে।


6. Disconnector: যদি arrester-এর ভিতরে কোন ত্রুটি হয় বা এটি নষ্ট হয়ে যায়, তখন এটি লাইন থেকে arrester-কে বিচ্ছিন্ন করে ফেলে—যাতে মূল লাইনে সমস্যা না হয়।


চিত্রের ডান পাশে সার্কিট ডায়াগ্রাম:


1. Power Line Circuit: যেখানে lightning arrester সংযুক্ত থাকে।


2. Spark-Gap: এটি দুটি ইলেকট্রোডের মধ্যবর্তী একটি ফাঁকা জায়গা। স্বাভাবিক ভোল্টেজে এখানে আর্ক হয় না, কিন্তু উচ্চ ভোল্টেজ আসলে এখানে স্পার্ক তৈরি হয় ও বর্তমান প্রবাহিত হয়।


3. R - Non-Linear Resistor: এটি একটি ধাতব অক্সাইড রেজিস্টর (প্রায়শঃ ZnO)। এর রেজিস্ট্যান্স স্বাভাবিক ভোল্টেজে বেশি এবং অতিরিক্ত ভোল্টেজে কমে যায়। এর ফলে সার্জ গ্রাউন্ড হয়ে যায়।


4. Earth Connection: অতিরিক্ত ভোল্টেজ মাটিতে চলে যায় এবং বিদ্যুৎ ব্যবস্থাকে রক্ষা করে।


Lightning Arrester কিভাবে কাজ করে?


1. স্বাভাবিক অবস্থায়, lightning arrester কোনো কার্য সম্পাদন করে না। এটি ওপেন সার্কিটের মতো আচরণ করে।


2. যখন বজ্রপাত বা সার্জ ভোল্টেজ হয়, তখন arrester দ্রুত কাজ করে। Spark-gap এর মধ্যে আর্ক হয়। তখন Non-linear resistor এর রেজিস্ট্যান্স কমে যায়। ফলে অতিরিক্ত ভোল্টেজ মাটিতে চলে যায়। অন্যদিকে সার্জ চলে যাওয়ার পর arrester আবার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে।


ব্যবহারের স্থান: সাবস্টেশন, ট্রান্সমিশন লাইন, ট্রান্সফরমার ইত্যাদিতে।

ঢাকার প্রথম লাইব্রেরী হলো ‘রাজা রামমোহন রায়’ লাইব্রেরী যা প্রতিষ্ঠিত হয় পূর্ববঙ্গ ব্রাহ্মসমাজের হাত ধরে। ১৮৬৯ সালে

 ঢাকার প্রথম লাইব্রেরী হলো ‘রাজা রামমোহন রায়’ লাইব্রেরী যা প্রতিষ্ঠিত হয় পূর্ববঙ্গ ব্রাহ্মসমাজের হাত ধরে। ১৮৬৯ সালে ব্রাহ্মসমাজের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক অভয়চন্দ্র দাশ পূর্ববঙ্গ ব্রাহ্মসমাজের মন্দিরে লাইব্রেরীটি প্রতিষ্ঠা করেন। তবে ১৯১০ সাল থেকে নিজস্ব ভবনে যাত্রা শুরু হয় লাইব্রেরীটির।


বাংলা সাহিত্যের বরেণ্য কবি, সাহিত্যিক, বুদ্ধিজীবী ও লেখকদের পদধূলি পড়েছে এই লাইব্রেরীতে। ১৯২৬ সালে শ্রী সংঘের প্রতিষ্ঠাতা লীলা নাগের (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ছাত্রী) আমন্ত্রণে একটি নারী সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রথম এই লাইব্রেরীতে আসেন। এমনকি সেই সমাবেশে বক্তব্যও দেন তিনি। এছাড়াও বিজ্ঞানী জগদীশচন্দ্র বসু, প্রফুল্লচন্দ্র রায়, দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ, যতীন্দ্রমোহন সেনগুপ্ত, স্যার কৃষ্ণগোবিন্দ গুপ্ত, ভাই গিরিশচন্দ্র সেনের মত গুণীজনদের পদচারনায় সর্বদা মুখরিত থাকত লাইব্রেরীটি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করার সময় এই লাইব্রেরীতে নিয়মিত পড়তে আসতেন বহুভাষাবিদ ও পন্ডিত ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ। ১৯৩০ সালে এই লাইব্রেরীতেই বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন কবি জীবনানন্দ দাশ এবং লাবণ্য গুপ্ত। কবি জীবনানন্দ দাশের মা কবি কুসুমকুমারী দাশ, কবি বুদ্ধদেব বসু, মুহম্মদ আব্দুল হাই, কাজী মোতাহার হোসেন, জাতীয় অধ্যাপক কবীর চৌধুরীর মত মনীষীরা নিয়মিত যাতায়াত করতেন এখানে। এছাড়াও কবি সুফিয়া কামাল এবং শামসুর রাহমানও এই পাঠাগারের সঙ্গে বিশেষভাবে যুক্ত ছিলেন।


স্মৃতি বিজড়িত এই লাইব্রেরীতে এক সময় প্রায় ৩০ হাজারের বেশি বই সংরক্ষিত ছিল। রাজা রামমোহন রায়ের মুদ্রিত পুস্তকের প্রথম সংস্করণ, বেদান্ত দর্শন, পারসি ভাষায় লেখা তোফায়াতুল মোহাম্মাদিন, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, মাইকেল মধুসূদন দত্ত, বঙ্কিমচন্দ্রসহ সমকালীন সাহিত্যিকদের রচনাবলীর প্রথম সংস্করণ, গিরিশচন্দ্র সেন অনূদিত পবিত্র কোরআন শরীফের প্রথম বাংলা অনুবাদের সংস্করণ, ২৫০ বছর পূর্বে খ্রিস্টান মিশনারি কর্তৃক ধর্ম প্রচারের উদ্দেশ্যে বাংলায় ছাপানো বইয়ের কপি এই লাইব্রেরীতে সংরক্ষিত ছিল। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত মাসিক বঙ্গদর্শন পত্রিকার মূল কপি ও পরে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কর্তৃক পুনর্মুদ্রিত কপি, বাংলা ভাষায় প্রকাশিত দৈনিক, সাপ্তাহিক ও মাসিক পত্রিকা, ঢাকা নিউজ, বেঙ্গল টাইমস, তত্ত্ববোধিনী, তত্ত্বকোমুদি, শান্তিনিকেতন, প্রবাসী, ভারতবর্ষ, হিতবাদী, বসুমতি, বিচিত্রা ও ঢাকা প্রকাশ পত্রিকার প্রথম থেকে শেষ সংখ্যা পর্যন্ত পত্রিকাগুলোর কপি সংরক্ষিত ছিল এখানে। সরকারি গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্রের মধ্যে ছিল ১৯৭১ সালের পূর্ববর্তী ৫০ বছরের সকল সরকারি গেজেট।


শতবর্ষী এই লাইব্রেরীটি একাধারে বাংলার সাহিত্য-সংস্কৃতি ও ইতিহাসের এক অনন্য সাক্ষী হিসেবে পার করেছে প্রায় ১৫৫ বছর। বর্তমানে এই লাইব্রেরীর দুর্লভ বইগুলোর কোনটিরই অস্তিত্ব নেই। ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ রাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী হামলা করে নিজেদের ক্যাম্প বসিয়েছিল এখানে। এখানকার সমস্ত বই লুটপাট করে নিয়ে গিয়েছিল তারা। এমনকি কেজি দরে বিক্রি করে ঠোঙা বানানোর কাজেও ব্যবহৃত হয়েছিল বইগুলো! ১৯৭২ সালের ১০ই মে দৈনিক বাংলার প্রতিবেদনে বলা হয়, ২৫শে মার্চের এক রাতেই এখন থেকে লোপাট হয়েছিল প্রায় ২০ হাজারের বেশি দুষ্প্রাপ্য বই ও নথি। স্বাধীনতার পর কর্তৃপক্ষ লুট হওয়া বইগুলো ফেরাতে চড়ামূল্যে কেনার বিজ্ঞাপন করলেও কোন সাড়া মেলেনি। পুরান ঢাকার তিন নং লয়াল স্ট্রিট গলির ‘রাজা রামমোহন রায় পাঠাগার’ ভবনটির অবস্থা এখন সংকটাপন্ন। রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) কর্তৃক জরাজীর্ণ এই ভবনটি ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেয়ায় ২০০৪-২০১৪ সাল পর্যন্ত বন্ধ ছিল লাইব্রেরীটি। ২০১৪ সালে পুনরায় এর কার্যক্রম শুরু করা হয়। বর্তমানে এর জৌলুস একদম হারিয়ে গেছে। লাইব্রেরীটির সংগ্রহে রয়েছে মাত্র ৬০০টি বই; পাঠক প্রায় নেই বললেই চলে। দেয়ালে ধরেছে ফাটল, খসে পড়েছে পলেস্তারা, ছুটে যাচ্ছে বইয়ের বাঁধাই। আইনি জটিলতায় থেমে আছে মূল ভবনের সংস্কারের কাজ। ভবন সংস্কারের জন্য ব্রাহ্মসমাজের পক্ষ থেকে বার বার উদ্যোগ নেওয়া হলেও সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। এমন চলতে থাকলে হয়ত কালের পরিক্রমায় একসময় হারিয়ে যাবে লাইব্রেরীটি; ইতিহাসের পাতা থেকে মুছে যাবে কালের সাক্ষী ‘রাজা রামমোহন রায় পাঠাগার’-এর নাম!


Jobaida Rahman Mysha

Team Science Bee

রসগোল্লা সৈয়দ মুজতবা আলী

 রসগোল্লা

সৈয়দ মুজতবা আলী


আমার এক বন্ধু প্রায়ই ইউরোপ-আমেরিকায় যান। এতই বেশি যাওয়া আসা করেন যে তার সঙ্গে কোথাও দেখা হলে বলবার উপায় নেই, তিনি বিদেশে যাচ্ছেন না ফিরে আসছেন।


ঝান্ডুদা ব্যবসায়ী লোক। তিনি নেমেছেন ইতালির ভেনিস বন্দরে জাহাজ থেকে। চুঙ্গিঘরের যাবতীয় প্রশ্নের সদুত্তর দিয়ে শেষটায় লিখেছেন, এক টিন ভ্যাকুয়াম প্যান্ড মিষ্টান্ন। মূল্য দশ টাকা।


ঝান্ডুদার বাক্স-পেঁটরায় এত সব জাত-বেজাত হোটেলের লেবেল লাগানো থাকত যে, অগ ও বুঝতে পারত এগুলোর মালিক বাতুভিটার তোয়াক্কা করে না। তার জীবন কাটে হোটেলে হোটেলে। আন্ত লা কিন্তু সেগুলো খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখতে আরমভ করলে, প্রথম ভাগের ছেলে যে-রকম বানান ভুল করে করে বই পড়ে। লোকটার চেহারাও বদখত। টিঙটিঙে রোগা, গাল দুটো ভাঙা।


চুঙ্গিওলা শুধালে, ওই টিনটার ভেতর কী?

—সুইটস।

—ওটা খুলুন।

—সে কী করে হয়? ওটা আমি নিয়ে যাব লন্ডনে। খুললে বরবাদ হয়ে যাবে যে! চুঙ্গিওলা যেভাবে ঝান্ডুদার দিকে তাকালেন তাতে যা টিন খোলার হুকুম হল, পাঁচশ টেরা পিটিয়ে কোনো বাদশাও ওরকম দুকুমজারি করতে পারতেন না।


ঝান্ডুদা মরিয়া হয়ে কাতর নয়নে বললেন, ‘ব্রাদার, এ টিনটা আমি নিয়ে যাচ্ছি আমার এক বন্ধুর মেয়ের জন্য লন্ডনে, এটা খুললে সর্বনাশ হয়ে যাবে।


এবার চুঙ্গিওলা যেভাবে তাকালে, তাতে আমি হাজার স্ট্র্যাটরার শব্দ শুনতে পেলুম।


বিরাট-লাশ ঝান্ডুদা পিঁপড়ের মতো নয়ন করে সকাতরে বললেন, ‘তাহলে ওটা ডাকে করে লন্ডন পাঠিয়ে দাও, আমি ওটাকে সেখানেই খালাস করব।’


কিন্তু আশ্চর্য, চুঙ্গিওলা তাতেও রাজি হয় না। আমরা সবাই কাইটাকে বোঝাবার চেষ্টা করলুম, ঝান্ডুদার প্রস্তাবটি অতিশয় সমীচীন এবং আইনসঙ্গতও বটে। চুঙ্গিওলার ভাবখানা সে পৃথিবীর কোনো ভাষাই বোঝে না।


ঝান্ডুদা তখন চটেছেন। বিড়বিড় করে বললেন, ‘তবে খুলছি। কিন্তু ব্যাটা তোমাকে না খাইয়ে ছাড়ছি নে।’


তারপর ইংরেজিতে বললেন, ‘কিন্তু তোমাকে ওটা নিজে খেয়ে পরখ করে দেখতে হবে।’ ওটা সত্যি সুইটিস কিনা।


শয়তানটা চট করে কাউন্টারের নিচ থেকে টিন-কাটার বের করে দিল। ঝান্ডুদা টিন-কাটার হাতে নিয়ে ফের চুঙ্গিওলাকে বললেন, ‘তোমাকে কিন্তু ওই মিষ্টি পরখ করতে হবে নিজে, আবার বলছি।’


চুঙ্গিওলা একটু শুকনো হাসি হাসল। শীতে বেজায় ঠোঁট ফাটলে আমরা যেরকম হেসে থাকি।


ঝান্ডুদা টিন কাটলেন। 

কী আর বেরুবে? বেরুল রসগোল্লা। কাঁটাচামচের তোয়াক্কা না করে রসগোল্লা হাত দিয়ে তুলে প্রথমেই বিতরণ করলেন বাঙালিদের। তারপর যাবতীয় ভারতীয়দের, তারপর সবাইকে অর্থাৎ ফরাসি, জার্মান, ইতালীয়, এবং স্পাইনিয়ার্ডদের।


তামাম চুঙ্গিঘর তখন রসগোল্লা গিলছে। আকাশে বাতাসে রসগোল্লা। চুঙ্গিঘরের পুলিশ বরকন্দাজ চাপরাশি সকলেরই হাতে রসগোল্লা।


ওদিকে দেখি, ঝান্ডুদা আপন ভূঁড়িটি কাউন্টারের ওপর চেপে ধরে চুঙ্গিওলার দিকে ঝুঁকে পড়ে বলছেন বাংলাতে ‘একটা খেয়ে দেখ।’ হাতে তার একটি সরেস রসগোল্লা।


চুঙ্গিওলা ঘাড়টা একটু পেছনের দিকে হটিয়ে গভীর রূপ ধারণ করেছে। ঝান্ডুদা নাছোড়বান্দা। সামনের দিকে আর একটু এগিয়ে বললেন, “দেখছ তো, সবাই খাচ্ছে। চেখে দেখ, এ বস্তু কী?


চুঙ্গিওলা ঘাড়টা আরও পিছিয়ে নিল। লোকটা অতি পাষণ্ড। একবারের তরে ‘সরি-টরি’ও বলল না।


হঠাৎ বলা নেই কওয়া নেই, ঝান্ডুদা তামাম হুঁড়িখানা কাউন্টারের ওপর চেপে ধরে ক্যাঁক করে পাকড়ালেন চুঙ্গিওলার কলার বাঁ হাতে, আর ডান হাতে থেবড়ে দিলেন একটা রসগোল্লা ওর নাকের ওপর। আর সঙ্গে সঙ্গে মোটা গলায় বললেন, ‘তুমি খাবে না? তোমার গুষ্টি খাবে। ব্যাটা, তুমি মস্করা পেয়েছ? পইপই করে বললুম, রসগোল্লাগুলো নষ্ট হয়ে যাবে, তা তুমি শুনবে না!’


ততক্ষণে কিন্তু তাবৎ চুঙ্গিঘরে লেগে গেছে ধুধমার। আর চিৎকার চেঁচামেচি হবেই না কেন? এ যে রীতিমতো বেআইনী কর্ম। কর্মটির জন্য আকছারই জেলে যেতে হয়।


ঝান্ডুদার কোমর জাবড়ে ধরে আমরা জনাপাঁচেক তাকে কাউন্টার থেকে টেনে নামাবার চেষ্টা করছি। তিনি পর্দার পর পর্দা চড়াচ্ছেন, ‘খাবিনি, ও পরান আমার, খাবিনি ব্যাটা।’ চুঙ্গিওলা ক্ষীণকষ্ঠে পুলিশকে ডাকছে। কিন্তু কোথায় পুলিশ? চুঙ্গিঘরের পাইক, বরকন্দাজ, ডাণ্ডাবরদার, আসসরদার বেবাক চাকর-নফর বিলকুল বেমালুম গায়েব। এ কি ভানুমতী, এ কি ইন্দ্রজাল।।


ইতোমধ্যে ঝান্ডুদাকে বহুকষ্টে কাউন্টারের এদিকে নামানো হয়েছে। চুঙ্গিওলা রুমাল দিয়ে রসগোল্লার থ্যাবড়া মুছতে যাচ্ছে দেখে তিনি চেঁচিয়ে বললেন, ‘ওটা মুছিসনি, আদালতে সাক্ষী দেবে।’ 


কে একজন ঝান্ডুদাকে সদুপদেশ দিল, ‘পুলিশ ফের এসে যাবে। ততক্ষণে আপনি কেটে পড়ুন।’


তিনি বললেন, ‘না, ওই যে লোকটা ফোন করছে। আসুক না ওদের বড়কর্তা।’


তিন মিনিটের ভেতর বড়কর্তা ভিড় ঠেলে এগিয়ে এলেন। ঝান্ডুদা বড় সাহেবের সামনে গিয়ে বললেন, ‘সিন্নোর, বিফো ইউ প্রসিড, অর্থাৎ কিনা ময়না তদন্ত আরম্ভ হওয়ার পুর্বে আপনি একটি সুইটস চেখে দেখুন।’ বলে নিজে মুখে তুললেন একটি, আমাদের সবাইকে আরেক প্রস্থ বিতরণ করলেন। বড়কর্তা একটি মুখে তুলেই চোখ বন্ধ করে রইলেন আড়াই মিনিট। চোখ বন্ধ অবস্থায়ই আবার হাত বাড়িয়ে দিলেন। ফের আবার।

টিন তখন ভোঁ ভোঁ ।

চুঙ্গিওলা তার ফরিয়াদ জানাল।

কর্তা বললেন, ‘টিন খুলেছ তো বেশ করেছ, না হলে খাওয়া যেত কী করে?’ আমাদের দিকে তাকিয়ে বললেন, ‘এখানে দাড়িয়ে আছেন কী করতে? আরও রসগোল্লা নিয়ে আসুন।’ আমরা সুড়সুড় করে বেরিয়ে যাবার সময় শুনতে পেলুম। বড়কর্তা চুঙ্গিওলাকে বলছেন, ‘তুমিও তো একটা আস্ত গাড়ল। টিন খুললে আর এই সরেস মাল চেখে দেখলে না?’


আমি গাইলুম,


রসের গোলক, এত রস কেন তুমি ধরেছিলে হায়।

ইতালির দেশ ধর্ম ভুলিয়া লুটাইল তব পায়।

যষ্টিমধু । (Licorice)

 যষ্টিমধু । (Licorice)


আজ আলোচনা করবো যষ্টিমধু নিয়ে। কারণ এই যষ্টিমধু আমাদের কুলিনারিতে ব্যবহৃত হয়। যষ্টিমধু, যা লিকোরিস নামেও পরিচিত, এটি হচ্ছে গ্লাইসাইররিজা গ্লাবরা গাছের শিকড়। বাংলায় গাছটিকে আমরা যষ্টিমধু গাছ বলে থাকি। যষ্টিমধুর শিকড় থেকে মিষ্টি স্বাদ পাওয়া যায়। এটি লিগিউম জাতীয় বিরুৎ যা মধ্যপ্রাচ্য, দক্ষিণ ইউরোপ এবং এশিয়ার বিভিন্ন অংশে পাওয়া যায়। মধ্যপ্রাচ্য এবং ইউরোপের অনেক দেশে চকোলেট এবং মিষ্টিজাতীয় খাবার প্রস্তুতিতে যষ্টিমধু ব্যবহার করা হয়ে থাকে। আমাদের দক্ষিণ এশিয়ার দেশসমূহে যষ্টিমধু ঔষধি উদ্ভিদ নামে পরিচিত। এটি উদ্ভিদগতভাবে গোমৌরি, স্টার অ্যানিস বা মৌরির সাথে সম্পর্কিত নয়, যা অনুরূপ স্বাদযুক্ত মশলার উৎস। অনেক ক্ষেত্রে ভারতীয় গোপন রান্না মসলা মিশ্রণ (Secret Spice) হিসেবে এর ব্যবহার আছে।

 

যষ্টিমধু সংস্কৃত শব্দ 'যষ্টি' থেকে এসেছে, যার অর্থ কাঠ এবং 'মধু', যার অর্থ মধু। মালয়ালম নাম - ইয়াতীমমধুরাম, হিন্দি- মূলেঠি, ইংরেজিতে - Licorice বলে। যষ্টিমধুর ইতিহাস বেশ প্রাচী, ভারতীয় আয়ুর্বেদ শাস্ত্রে যষ্টিমধুর ব্যবহার সুপ্রাচীন কাল থেকে হয়ে আসছে। আমাদের আয়ুর্বেদিক গ্রন্থগুলোতে এর ঔষধি গুণাবলি সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা রয়েছে। সপ্তম শতাব্দীর মাধবচিকিৎসার জ্বরচিকিৎসা অংশে জ্বর (jvara) নিরাময়ে এর ব্যবহার বর্ণিত আছে। দশম শতাব্দীতে পণ্ডিত বররুচি রচিত যোগশতক, যেখানে সহজ ভাষায় এবং অল্প সংখ্যক ভেষজ (যেমন, যষ্টিমধু) ব্যবহার করে সহজে প্রস্তুত করা যায় এমন ওষুধের ফর্মুলা বর্ণনা করেছেন। তাছাড়া এই ঔষধি উদ্ভিদ যা আমাদের ভারতীয় আয়ুর্বেদ শাস্ত্রে বহুকাল ধরে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। যা আমাদের বিভিন্ন রোগের চিকিৎসায় এবং স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বহুযুগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। 


এটি একটি ভেষজ বহুবর্ষজীবী উদ্ভিদ যা উচ্চতায় ১ মিটার (৩৯ ইঞ্চি) পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়। এর পাতাগুলি প্রায় ৭–১৫ সেমি (৩–৬ ইঞ্চি) দীর্ঘ। ফুলগুলি ০.৮–১.২ সেমি (১⁄৩–১⁄২ ইঞ্চি) লম্বা, বেগুনি থেকে ফ্যাকাশে নীল বর্ণের হয়। ফলটি হচ্ছে একটি বিভাজক পড, ২–৩ সেমি (৩⁄৪–১  +১⁄৮ ইঞ্চি) দীর্ঘ, বেশ কয়েকটি বীজ সমন্বিত । শিকড় স্টলোনিফেরাস হয়। 


যষ্টিমধুর মূলের সুগন্ধটি আছে একটি জটিল যৌগ থেকে যার উদ্বায়ী অংশের ৩% থাকে অ্যানথোল। যষ্টিমধুর বেশিরভাগ মিষ্টতা গ্লাইসারাইজিন থেকে আসে। যার মিষ্টি স্বাদ চিনির ৩০-৫০ গুণ বেশি। তবে এর মিষ্টি স্বাদ চিনি থেকে খুব আলাদা, তাৎক্ষণিক এর স্বাদ কম এবং দীর্ঘস্থায়ী হয়। যষ্টিমধু মূলে পাওয়া আইসোফ্লাভিন গ্লাব্রেন এবং আইসোফ্রাভিন গ্লাব্রিডিন হচ্ছে ফাইটোএস্ট্রোজেন। যষ্টিমধু সূর্যের আলো পায় এমন শুকনো উপত্যকায় ভালো জন্মে। রোপণের দুই থেকে তিন বছর পরে শরৎকালে ফসল কাটার উপযুক্ত সময়। যষ্টিমধু উৎপাদনকারী দেশগুলির মধ্যে রয়েছে ভারত, ইরান, ইরাক, আফগানিস্তান, চীন, পাকিস্তান, আজারবাইজান, উজবেকিস্তান, ইতালি, তুর্কমেনিস্তান এবং তুরস্ক। 


আয়ুর্বেদে যষ্টিমধু একটি গুরুত্বপূর্ণ ঔষধ হিসেবে বিবেচিত। এটি বিভিন্ন রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়, যেমন - সর্দি, কাশি, শ্বাসকষ্ট, পেটের সমস্যা, ত্বক ও চুলের সমস্যা ইত্যাদি। যষ্টিমধুর প্রদাহ-বিরোধী, অ্যান্টাসিড এবং ব্যথানাশক বৈশিষ্ট্য রয়েছে, যা বিভিন্ন রোগের উপশমে সাহায্য করে। যষ্টিমধু ত্বকের বিভিন্ন সমস্যা যেমন - অ্যাকজিমা, সোরিয়াসিস, প্রদাহ, সানবার্ন ইত্যাদি উপশম করতে সাহায্য করে। তবে অধিক পরিমাণে যষ্টিমধু একদিনে খেলে গ্লাইসাররিজিনিক অ্যাসিড রক্তচাপ বাড়িয়ে দেয় এবং মাংসপেশী দুর্বল করে দেয় ও হাইপোক্যালেমিয়া হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। 


আধুনিক বিজ্ঞানও যষ্টিমধুর নানা ঔষধি গুণাবলি প্রমাণ করেছে। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে যে, এটি নানা রোগের চিকিৎসায় সহায়ক। মধ্যপ্রাচ্য, দক্ষিণ ইউরোপ এবং এশিয়ার বিভিন্ন দেশে এই যষ্টিমধু ঔষধি এবং খাদ্যদ্রব্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়। আমেরিকান সিগারেট, আর্দ্র নস্যি, চাবানোর তামাক এবং পাইপ তামাক এর স্বাদ বাড়াতে এবং আর্দ্রতা বজায় রাখার জন্য বেশিরভাগ যষ্টিমধু তামাকের স্বাদের উপাদান হিসাবে ব্যবহৃত হয়।  লিকারিস বা যষ্টিমধু তামাকজাত পণ্যগুলিকে প্রাকৃতিক মিষ্টি স্বাদ এর জন্য ব্যবহার করা হয়। তবে ২০০৯ সালে, মার্কিন খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন সিগারেট থেকে মেনথল ব্যতীত অন্য কোনো স্বাদ নিষিদ্ধ করে।


খাবার ও পানীয়তে যষ্টিমধু মিষ্টি স্বাদ এবং সুগন্ধের জন্য চকোলেট, মিষ্টি এবং অন্যান্য খাবারে ব্যবহার করা হয়। বিভিন্ন ধরনের ক্যান্ডি বা মিষ্টিতে লিকুইরিস ব্যবহার করে ব্যতিক্রম স্বাদ প্রদান করা হয়। বেশিরভাগ ক্যান্ডিতে অ্যানিসিড তেল দ্বারা স্বাদ জোরদার করা হয় তাই যষ্টিমধুর উপাদান কম থাকে। লিকুইরিস কনফেকশনগুলি প্রাথমিকভাবে ইউরোপের গ্রাহকরা কিনে থাকে, তবে অস্ট্রেলিয়া এবং নিউজিল্যান্ডের মতো অন্যান্য দেশেও এটি জনপ্রিয়। ভারতে এর মূল্য ৯০০ থেকে ১২০০ টাকা প্রতি কেজি আনুমানিক। 

👇

By Chef Moonu

👇

#chefmoonuskitchen  #moonuandco  #travellermoonu  #thefoodietraveller  #kolkatablogger  #kolkatafood  #chefmoonu  #kolkata  #foodlovers  #foodblogger  #CulinaryJourney #bengalifood #foodculture #WestBengal @top fans

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পরিবেশবিদ ড. এলিস সিলভার তার একটি বইয়ে দাবি করেছিলেন, মানুষ আদতে পৃথিবীর প্রাণী নয় – বরং আমাদেরকে বহির্জাগতিক কেউ অনেক হাজার বছর আগে এই গ্রহে এনে ফেলেছে

 মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পরিবেশবিদ ড. এলিস সিলভার তার একটি বইয়ে দাবি করেছিলেন, মানুষ আদতে পৃথিবীর প্রাণী নয় – বরং আমাদেরকে বহির্জাগতিক কেউ অনেক হাজার বছর আগে এই গ্রহে এনে ফেলেছে। তার দাবি অনুযায়ী, মানুষের দেহে এমন কিছু শারীরিক বৈশিষ্ট্য আছে যা পৃথিবীতে জন্ম নেওয়া অন্য প্রাণীদের সঙ্গে মেলে না। উদাহরণস্বরূপ, মানুষের মেরুদণ্ডে অনেক সময় ব্যথা হয়, যা তার মতে পৃথিবীর তুলনায় কম মাধ্যাকর্ষণবিশিষ্ট কোনো গ্রহে আমাদের উৎপত্তির ইঙ্গিত দেয়। ড. সিলভার বলেন, মানুষেরা খুব সহজেই সূর্যের তাপে পুড়ে যায় – যা প্রমাণ করে আমরা সূর্যের এমন তীব্র আলোর জন্য তৈরি নই। অন্যদিকে, পৃথিবীর অনেক প্রাণী যেমন গিরগিটি প্রতিদিন সূর্যের নিচে থাকতে পারে, অথচ মানুষ যদি কয়েকদিন সূর্যের তাপ সহ্য করে, তাতেও সমস্যায় পড়ে। তিনি আরও বলেন, মানুষের শিশুদের মাথা অনেক বড় হয়, যার কারণে প্রসবকালীন সময়ে মায়েদের ঝুঁকি থাকে – যা পৃথিবীর অন্য কোনো প্রাণীর মধ্যে দেখা যায় না। আরও একটি অদ্ভুত বিষয় তিনি উল্লেখ করেছেন, তা হলো – আমাদের দেহঘড়ি ২৪ ঘণ্টা নয়, বরং ২৫ ঘণ্টার মতো দিনের জন্য অভ্যস্ত। ঘুম-বিশেষজ্ঞরা এই বিষয়টির প্রমাণও পেয়েছেন বলে তিনি দাবি করেন। ড. সিলভারের মতে, মানুষের দেহ সবসময় কোনো না কোনো রোগে আক্রান্ত থাকে। তিনি বলেন, সম্ভবত মানুষের দেহ পৃথিবীর পরিবেশের সঙ্গে পুরোপুরি খাপ খায়নি – কারণ আমরা এখানকার জন্য পুরোপুরি উপযোগী নই। তিনি ধারণা দেন যে, আদিম মানব হোমো ইরেক্টাসদের কোনো ভিনগ্রহের প্রাণীর সঙ্গে ক্রসব্রীড করা হয়েছিল। হতে পারে সেটি ছিল আলফা সেন্টোরি নামক নিকটবর্তী কোনো তারা-ব্যবস্থার প্রাণী – যা পৃথিবী থেকে প্রায় ৪.৩৭ আলোকবর্ষ দূরে। এমনকি তিনি আরও একধাপ এগিয়ে বলেন – হয়তো পৃথিবী একটি ‘কারাগার গ্রহ’, যেখানে আমাদের রাখা হয়েছে শাস্তিস্বরূপ। কারণ, আমরা একটি সহিংস প্রজাতি এবং আমাদেরকে এখানে রাখা হয়েছে যতক্ষণ না আমরা শিষ্ট হয়ে উঠি।


জীবনের উৎপত্তি অন্যত্র হয়েছিল – এমন ধারণা শুধু এলিস সিলভারই দেননি। ১৯৯৮ সালে টেক্সাস ও মরক্কোতে পড়া দুইটি উল্কাপিণ্ড পরীক্ষা করে দেখা যায়, সেগুলোর বয়স প্রায় ৪.৫ বিলিয়ন বছর এবং এর মধ্যে পানির অস্তিত্ব ও জৈব যৌগ পাওয়া গেছে। ধারণা করা হয়, এই উল্কাপিণ্ড দুটি বৃহস্পতি ও মঙ্গল গ্রহের মাঝামাঝি এক অ্যাস্টারয়েড বেল্ট থেকে এসেছিল।এইসব তথ্য ও যুক্তি সামনে এনে ড. এলিস সিলভার মনে করেন, মানুষ হয়তো সত্যিই পৃথিবীর প্রাণী নয়  বরং আমরা এখানে এসেছি অন্য কোনো জগত থেকে।


#collected

ছোট বেলায় টনসিলাইটিস হয়েছে এমন মানুষের সংখ্যা কিন্তু খুব একটা কম না। 

 ছোট বেলায় টনসিলাইটিস হয়েছে এমন মানুষের সংখ্যা কিন্তু খুব একটা কম না। 

টনসিলাইটিস অনেক গুলো কারনে হতে পারে তার মধ্যে অন্যতম কারন হচ্ছে

টনসিল গ্লান্ডে একটি ব্যাকটেরিয়ার সংক্রামক ,

ব্যাক্টেরিয়ার নাম হলো বিটা হিমোলাইটিক স্ট্রেপটকক্কাস,

খুব খারাপ একটি ব্যাকটেরিয়া ,

প্রথমে  টনসিল গ্লান্ডে আক্রমন করে পরে সুযোগ পেয়ে ফ্যারিংস এবং কানের দিকে ছড়িয়ে পড়ে Otitis media, ডেভেলপ করেই ক্ষান্ত হয় না।

সুযোগ পেয়ে ছড়িয়ে পড়ে আমাদের হাড়ের জয়েন্টের দিকে ,

জয়েন্টে প্রদাহ তৈরী করে যাকে আমরা রিউমেটিক আথ্রাইটিস নামে চিনি।

এর পাশাপাশি স্ট্রেপটকক্কাস, চেষ্টা করে হার্টে আক্রমন করার ,

এবং সুযোগ পেয়ে হার্টে আক্রমন করে বসে।

যাকে রিউম্যাটিক হার্ট ডিজিজ বলা হয়,

কন্ডিশন এত জটিল করে তুলে যে।

হার্টের ভাল্ব গুলোকে ডেমেজ করার জন্য উঠে পড়ে লাগে।

প্রথম হার্টের ভাল্বুলার ডিজিজ এবং এক পর্যায় ভাল্ব নষ্ট হয়ে যায়।

হার্টের ভাল্বুলার ডিজিজ হলে প্রথম

রিগার্জিয়েশন ডেভেলপ করে হলে ভাল্ব ঠিক মত ক্লোজ হতে পারে না।

রক্ত লিকেজ করে রিফ্লাক্স হয়ে পিছনে চলে যায়।


একটি কথা মনে রাখবেন যত বাতের রোগি পাবেন তাদের ৮০% এর হিস্ট্রিতে গলা ব্যথা বা টনসিলাইটিস এর লক্ষন পাবেন।

এলোপ্যাথিরা এই কন্ডিশনে ASO টাইটার নামক একটি পরীক্ষা করেন যদি ,

টাইটার বেশি থাকে অর্থাৎ স্ট্রেপটকক্কাস পজেটিভ থাকলে সেক্ষেত্রে পেনিসিলিন এন্টিবায়োটিক দ্বীর্ঘ দিনের জন্য ব্যবহার করেন।

ক্ষেত্র বিশেষ টনসিল অপারেশন করে কিছুটা রোগ প্যালিয়েশন দেওয়ার চেষ্টা করেন। 

কিন্তু খুব একটা কাজ হয় না,

রিউমেটিক এবং ভাল্বুলার হার্ট ডিজিজ যেনো নিয়তীর লিখা 🥲🥲🥲🥲

লক্ষন ভিত্তিক হোমিওপ্যাথি মেডিসিন এর পাশাপাশি স্ট্রেপটকক্কাস ২০০ ব্যবহারে আমি রিউম্যাটিক হার্ট ডিজিজে ভালো ফলাফল পেয়েছি অসং্খ্য কেসে।


আমার আরেকটি পছন্দের মেডিসিন হলো এব্রোটেনাম

ধন্যবাদ 

🥰🥰🥰🥰

আপনি জানেন কি? বর্তমানে যারা কন্টেন্ট করিয়েটর আছেন, তাদের এখন ভালই ইনকাম হচ্ছে। মানে যারা রিলস, শর্টস ভিডিও বা অন্যান্য কন্টেন্টের মাধ্যমে ফেসবুক বা ইউটিউব থেকে আয় করছেন তাদের ইনকাম এখন ভাল। 

 আপনি জানেন কি?


বর্তমানে যারা কন্টেন্ট করিয়েটর আছেন, তাদের এখন ভালই ইনকাম হচ্ছে। মানে যারা রিলস, শর্টস ভিডিও বা অন্যান্য কন্টেন্টের মাধ্যমে ফেসবুক বা ইউটিউব থেকে আয় করছেন তাদের ইনকাম এখন ভাল। অবশ্য কয়েক দিন পর এই ইনকাম অনেকটাই কমে যাবে। কথা হচ্ছে এখন ইনকাম বেশি, আবার কিছু দিন পরে ইনকাম কমে যাবে কারণটা কি? 


কারণ হচ্ছে এখন ইন্ডীয়ান IPL ক্রিকেট লীগ চলছে। জমজমাট এই T20 ক্রিকেট লীগ হচ্ছে অনলাইন জুয়া খেলার অন্যতম মাধ্যম। ফলে বেটিং সাইটগুলো গনহারে প্রচুর এড দিচ্ছে। এই জুয়ার এড দেখানোর কারণে, এসব কন্টেন্ট ক্রিয়েটরদের ইনকাম এখন বেশি হচ্ছে। IPL শেষ হয়ে গেলে জুয়ার এড কমে আসবে, তখন স্বাভাবিক ভাবেই ইনকাম কমে আসবে। আমার কথা বিশ্বাস না হলে, যারা সোশ্যাল মিডিয়া নিয়ে যারা অভিজ্ঞ তাদের সাথে আলাপ করে দেখতে পারেন। 


বাংলাদেশে অনলাইন বেটিং এখন ভয়াবহ আকারে বিস্তার করেছে। বিশেষ করে গ্রাম অঞ্চলে অশিক্ষিত বা অল্পশিক্ষিত মানুষদের হাতে স্মার্টফোন পৌঁছে যাওয়াত, এটা এখন মহামারি কারে বিস্তার লাভ করেছে। এদের কাছে হালাল হারাম মুখ্য বিষয় না, টাকা ইনকাম হলেই হল। এই জুয়ার ফাঁদে পড়ে কত পরিবার নিঃস্ব হয়ে গেছে, কত মায়ের বুক খালি হয়েছে, কত বোনের সংসার ধ্বংস হয়েছে সেটা বলে শেষ করা যাবে না। কিছু মানুষ অবশ্য এই অনলাইন বেটিং এর এজেন্ট হিসাবে ব্যবসা করে, রাতারাতি আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হয়ে গেছে। আমি গ্রামে থাকি, তাই এই ব্যাপারগুলো খুব ভাল করে জানি। যারা কন্টেন্ট ক্রিয়েটর আছেন তারা না চাইলেও পরোক্ষভাবে বেটিং এর প্রমোশন করেছেন। আর অনেক বড় বড় কন্টেন্ট ক্রিয়েটরেরাত, সরাসরি বেটিং সাইটের নাম দিয়ে সরাসরি প্রমোশন করেন।     


আমার পোষ্টের মুল বক্তব্য হচ্ছে, আলেম ওলামাগন অনেক আগেই ফতোয়া দিয়েছেন যে ইউটিউব ফেসবুক থেকে এডস দিয়ে ইনকাম মূলত হারাম। কারন আপনি চাইলেও হারাম এড বন্ধ করতে পারছেন না। কাজেই যারা ভিডিও কন্টেন্ট বানিয়ে শুধুমাত্র এডস থেকে ইনকামের আশা করছেন, তারা এই ব্যাপারে দয়া করে সতর্ক হন। আমি কন্টেন্ট বানানোর বিরোধী না। কারণ ভাল ভাল কন্টেন্ট আমাদের সবারই দরকার। সুস্থ ধারার ভাল ভাল কন্টেন্ট বানিয়ে, হালাল ভাবেই বিভিন্ন ভাবে ইনকাম করা সম্ভব। আপনারা সেদিকে ফোকাস করতে পারেন।


ধন্যবাদ!

পালসিটিলা✴---🔷-Pulsatilla🌷

 🌱পালসিটিলা✴---🔷-Pulsatilla🌷

-----🌳 ১১নং কবিতা--🪺---

🍂জটিল এবং কঠিন লক্ষনগুলো সহজে মনে রাখার অন্যতম একটি কৌশল হচ্ছে ছন্দে ছন্দে বা কবিতাগুচ্ছের মাধ্যমে। সে রকমই একটি প্রচেষ্টা এই লেখাটি📍


শান্তশিষ্ট,নম্র,ভদ্র,কোমলমতি মন

কতশত খেয়ালী সে আবেগপ্রবন।

রোগের কথা বলতে গেলেও,কান্না সারাক্ষণ 

অত্যান্ত ক্রন্দনশীল,অভিমানী মন।


বামপাশে শুইতে তাহার,করে বেশ ভয়

যত কস্ট বাড়ে তাহার এমন সময়

গরম কাতর রোগী তবে স্নানে কাদে মন

সব রোগ তার ধীরে ধীরে বাড়ে সারাক্ষণ। 


ক্রন্দনশীল, অভিমানী,শীতল, ঠান্ডা হয়

মুক্ত হাওয়ায় ঘুড়তে চায়,সময় সময় 

যত ব্যথা,তত শীত এই যদি কয়

পালসিটিলা সারাবে রোগ,যে কোন সময়।


একপাশে শুষ্ক,অন্যপাশে ঘাম

লক্ষনটি গুরুত্বপূর্ণ, মরে রাখলেই কাম

এই খারাপ, এই ভাল বহুরুপী মন

লোভী এবং হিংসুটে হয়,আরেকটি লক্ষন।


মাথা ব্যথার অনুভূতি, পেরেক মারার মত

আনমনে বর্ননা দেয়,রোগী অবিরত

শ্রবন শক্তি ক্ষীণ বটে কানে শুনে কম

গাড়ির শব্দ কান এড়াতে পাড়েনা একদম।


যে কোন বয়সে যদি, মাসিক বন্ধ হয়

পালসিটিলা প্রয়োগ করবেন,এমন সময়

গর্ভে শিশুর পজিশন উল্টা যদি হয়,

ঠিক করার অলৌকিক  ক্ষমতা  পালসিটিলাতেই রয়।


পালসিটিলা সারাতে পারে,হলে চিকেনপক্স

আরো একটি ঔষধ আছে নামটি রাসটক্স 

গর্ভধারনে রোগীর পেটে,ব্যথা যদি বাড়ে

পালসিটিলা এক ডোজ দিয়ে দিবেন তারে।


ফুসফুসের অসুখে রোগী হতাশ হয়

নিরাশায় কান্না করে সময় সময়

তৈলাক্ত খাদ্য কিংবা  গোস্ত খেয়ে গ্যাস

এক ডোজ পালসিটিলা সব সমস্যা শেষ।


🎍 উৎসাহ পেলে আরো লিখব 👻 🪡


🍃 Dr.Md.Forhad Hossain 

D.H.M.S(B.H.😎,DHAKA

Pdt(Hom)

Consultant:Homoeopathic  Medicine 

🍎চেম্বার:জার্মান হোমিও কেয়ার

১টা ডিম দিয়ে কিভাবে সহজে কেক তৈরি করবে

 🟢{১টা ডিম দিয়ে কিভাবে সহজে কেক তৈরি করবে}

আমি আজকে নতুন কি একবার আলহামদুলিল্লাহ প্রথমবারের সফল ✅


পারফেক্ট “সবর সুইট কেক” (মাটির চুলা ভার্সন)


উপকরণ (১ ডিমে)


---


প্রস্তুতি


1. ডিম + চিনি

ব্লেন্ডারে বা হাতে ৫–৭ মিনিট ফেটাও, যতক্ষণ না হালকা ফেনা হয়ে যায়।


2. তেল + পানি মেশাও

বিট করা ডিমে তেল ও গরম পানি (বা দুধ) মিশিয়ে ভালোভাবে মিশিয়ে নাও।


3. ময়দা ছাঁকো

ময়দা, বেকিং পাউডার, বেকিং সোডা একসাথে ছেঁকে ধীরে ধীরে মিশাও।


4. ভ্যানিলা এসেন্স দাও

একদম শেষে ভ্যানিলা এসেন্স মিশিয়ে নরম ব্যাটার তৈরি করো।


---


রান্নার পদ্ধতি (মাটির চুলা বা কড়াই)


1. কড়াইতে বালি বা লবণ দিয়ে ১০ মিনিট আগে গরম করো।


2. কেক পাত্রে হালকা তেল মাখিয়ে ময়দা ছিটিয়ে ব্যাটার ঢালো।


3. পাত্রের মুখ ঢেকে দাও + কড়াইয়ের ঢাকনাও ভালো করে দাও।


4. মাঝারি আঁচে ৩০–৪০ মিনিট রান্না করো।


5. কাঠি ঢুকিয়ে দেখে নাও—শুকনো বের হলে কেক রেডি!


---


টিপস


পাত্রের নিচে একটা পাতলা স্টিল স্ট্যান্ড রাখলে কেক পোড়ে না।


চুলার আঁচ বেশি হলে নিচে পুড়ে যেতে পারে—সতর্ক থেকো।


---

ডেন্নি, ৯০হাজার১৩ বৎসরের কিশোর

 ॥ডেন্নি, ৯০হাজার১৩ বৎসরের কিশোরি॥


11-04-2025©তুষারমুখার্জি


ডেন্নির বাসস্থান সাইবেরিয়ার আলতাই পর্বতের ডেনিসোভা গুহা। ৯০ হাজার বৎসর আগে ডেন্নি বাবা মা তার কি নাম রেখেছিল আমাদের সেটা জানার কোন উপায় নেই। এই ডেন্নি নাম রেখেছেন বিজ্ঞানীরা। তাঁরা অবশ্য তার আগে একটা কোড নাম রেখেছিলেন ডেনিসোভা-১১


সাইবেরিয়ার ডেনিসোভা গুহার ভেতরে সারা বছরই  শুন্য ডিগ্রীর তীব্র ঠান্ডা। ২৭০ বর্গ মিটারের এই গুহার ভেতরে নানা প্রাণী বাস করত বরাবর। তারমধ্যে যেমন আছে গুহাবাসী নেকড়ে, গুহাবাসী সিংহ, তেমনি নানা গবাদিপশু। তার সাথে থাকত মানবগণ।

  

মানবগণ বলতে নিয়েন্ডারথল ডেনিসোভান আর স্যাপিয়েন্স। তবে স্যাপিয়েন্সরা অন্যদের সাথে একই সময়ে থাকত কি না, সেটা এখনো পরিস্কার না।

 

এখানে প্রবল ঠান্ডায় দেহাস্থিতে ডিএনএ টিকে থাকত। ফলে এখানে পাওয়া দেহাস্থি থেকে নিয়েন্ডারথল আর স্যাপিয়েন্স ডিএনএ চেনা হয়ে গেল ঝটপট। তারপরেই একটি ছোট্ট হাড়ের টুকরো, কড়ে আঙুলের গিঁট, তার থেকে পাওয়া ডিএনএ থেকে প্রথম জানা গেল এই ডেনিসোভানদের কথা। আগে জানা ছিল না এদের কথা, তাই কোন নামও ছিল না। এখন এই ডেনিসোভা গুহাতে প্রথম পাওয়াতে নাম রাখা হল ডেনিসোভান।

  

ডেনিসোভান জিন এশিয়ার মানুষদের মধ্যে রয়েছে যেমন করে ইয়োরোপিয়ানদের মধ্যে আছে নিয়েন্ডারথলদের জিন। 

 

ইয়োরোপে নিয়েন্ডারথলদের বহু দেহাবশেষ পাওয়া গেছে, তাই তাদের দৈহিক গঠন নিয়ে আমাদের একটা মোটামুটি ধারনা তৈরী হয়ে গেছে। কিন্তু ডেনিসোভানদের কোন দেহাবশেষ পাওয়া যায় নি। যা সামান্য কয়েকটি হাড়ের দাঁতের টুকরো পাওয়া গেছে তা এক পকেটে এঁটে যাবে। তাদের সম্বন্ধে আমাদের যা কিছু জ্ঞান সবটাই তাদের জেনেটিক তথ্য থেকে।

 

ডেনিসোভা গুহায় হাড়ের ছড়াছড়ি। সবই মাংসাসী পশুদের খাওয়ার পরের টুকরোটাকরা হাড়। এই হাজার হাজার হাড়ের থেকে স্যাপিয়েন্স বা নিয়েন্ডারথল বা ডেনিসোভান হাড় চিনে বের করার একমাত্র উপায় হল তার ডিএনএ বিশ্লেষণ করা। যা সময় আর খরচের দিক থেকে ভাবলে প্রায় অসম্ভব একটা কাজ।

 

ম্যাঞ্চেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইক বাকলে একটা পদ্ধতি বের করলেন। হাড়ের কোলাজেন, যা লক্ষাধিক বৎসর টিকে থাকে, সেটা পরীক্ষা করে কোন প্রজাতির হাড় তা চিনে নেওয়ার পদ্ধতি।

ডেনিসোভা গুহায় কর্মরত বিজ্ঞানীদের নমুনা হাড় পাঠাতে বলা হল। তারা পুরো এক বস্তা হাড়ের টুকরো পাঠিয়ে দিলেন।কাজ শুরু হল অক্সফোর্ডে।

 

সেই হাড়ের থেকে ২০ মিগ্রা আকারের টুকরো কেটে নিয়ে, ট্যাগ লাগানো। তারপরে ম্যাঞ্চেস্টারে গিয়ে পরীক্ষা করা। তিনমাসে ১৫০টি হাড় পরীক্ষা হল। সবই গবাদিপশু। হতাশ হয়ে পড়লেন দুই বিজ্ঞানী। 

এবার তাঁরা বিভিন্ন বিভাগে ডক্টরেট করছে এমন ছাত্রদের ডাকলেন স্বেচ্ছাসেবক হিসাবে সাহায্যের জন্য। একজনও এলো না। হতাশ বিজ্ঞানী দুইজন যখন প্রকল্পটি বাতিল করবেন ভাবছেন এমন সময় একজন এলেন। অস্ট্রেলিয়ান মেয়ে সামান্থা ফক্স। তিনি কয়েক সপ্তাহ কাজ করে ৭০০ নমুনা পরীক্ষা করে ফেললেন। এবারও সব গবাদি পশু। 

ধুত্তোরি বলে ছেড়ে দেবারই কথা। কিন্তু সামান্থা ফক্স ছাড়লেন না। লেগে রইলেন। আরো ১৫০০ নমুনা রেডি করে ম্যাঞ্চেসাটারে আরেকবার বসলেন পরীক্ষা করতে। 

সাফল্য এল। নমুনা নং ১২২৭, মানবগণের হাড়। কিন্তু নিয়েন্ডারথল? না স্যাপিয়েন্স? না ডেনিসোভান? জানার জন্য ডিএনএ সংগ্রহ করতে হবে।

  

অস্থির টুকরো চলে গেল জার্মানির লিপজিগের ম্যাক্সপ্ল্যাঙ্ক ইনস্টিটিউটে।

সেখানে স্বান্তে পাবোর নেতৃত্বে ডিএনএ সংগ্রহ করে পরীক্ষার প্রথমেই বোঝা গেল এই ডিএনএ ৫০হাজার বৎসর আগের ১৩ বৎসর বয়সী কোন একজনের। 

 

এরপরে স্বান্তে পাবোর ছাত্রী ভিভিয়ান স্লন লেগে পড়লেন ভালো করে পরীক্ষার কাজে। স্লন যে ফল পেলেন তা শুনে স্বান্তে পাবো ঘাবড়েই গেলেন। ভাবলেন নিশ্চয়ই পরীক্ষা করার সময়ে কিছু গোলমাল ঘটিয়েছে। 

 

আবার নতুন করে পরীক্ষাপর্ব। এবার খুব সাবধানে। 

দুই বার না ছয়বার পরীক্ষা করা হল। না পরীক্ষায় ভুল নেই। 

তবে ৫০ হাজার না ওটা হবে ৯০ হাজার বৎসর আগের।

 

পরীক্ষার ফলের সারমর্মঃ

৯০ হাজার বৎসর আগের ডিএনএ-র অর্ধেক নিয়েন্ডারথল অর্ধেক ডেনিসোভান। সংকর। মা নিয়েন্ডারথল বাবা ডেনিসোভান। মাইটোকন্ড্রিয়ার ডিএনএ থেকে মায়ের পরিচয় জানা হয়ে গেল। আর নিউক্লিয়ার ডিএনএ থেকে বাকি তথ্য। যেমন এক্স ক্রমোজম থেকে জানা গেল এটি নারীদেহাস্থি, অটোজম থেকে তার বংশধারা।


এবার এই ৯০ হাজার বৎসর আগে জন্ম নেওয়া ১৩ বৎসর বয়সি অসাধারণ এই কিশোরির নাম রাখা হল ডেন্নি।


জানা গেল ডেন্নির মা নিয়েন্ডারথল। বাবা ডেনিসোভান। তা ছাড়া ডেন্নির ডেনিসোভান বাবারও কয়েক প্রজন্ম আগের পূর্বপুরুষ ছিল নিয়েন্ডারথল।

  

এই ডেন্নির বাবার তথ্য বলে ডেনিসোভান-নিয়েন্ডারথলদের বহুপ্রজন্ম ধরেই ঘণিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। ডেনিসোভান-নিয়েন্ডারথল সংকর সন্তান হিসাবে ডেন্নির জন্ম কোন আচমকা ঘটনা না, বরং স্বাভাবিক ঘটনা।

 

ডেন্নির নিয়েন্ডারথল মায়ের জিন থেকে জানা গেল তার পূর্বপুরষরা ছিল ক্রোয়েশিয়ার বাসিন্দা। এর অর্থ দাঁড়াল, সম্ভবত খুব বেশি বৎসর আগেও না, ক্রোয়েশিয়ার নিয়েন্ডারথলরা এই দিকে চলে আসে। সম্ভবত আবহাওয়া পরিবর্তনের জন্য। তার সাথে এটুকুও বোঝা গেল, কয়েক প্রজন্ম ধরেই পূর্ব ইয়োরোপের প্রান্তের নিয়েন্ডারথল আর সাইবেরিয়ার ডেনিসোভানদের প্রিয় মিলনকেন্দ্র ছিল এই হিম শীতলগুহাটি। 

 

কেমন করে ডেন্নির মৃত্যু হল সেটা জানা সম্ভব না, ছোট্ট হাড়ের টুকরো থেকে।

 

তবে হাড়ের টুকরোতে যে অ্যাসিড ছিল তা বলে এই হাড় নেকড়ের পেটে ছিল একসময়। তাহলে কি ডেন্নিকে গুহা-নেকড়েই কামড়ে খেয়েছিল? এমন একটা সম্ভবনা একেবারে অসম্ভব না হলেও খুব সম্ভবও না। ১৩ বৎসরের ডেন্নি আমাদের হিসাবে কিশোরি। কিন্তু নানা বিশদ জেনেটিক বিশ্লেষণ ও গবেষণায় অনুমান করা হয় নিয়েন্ডারথল ডেনিসোভান এরা আমাদের স্যাপিয়েন্সদের চেয়ে দ্রুত বড় হত, বা পরিণত হত। ফলে ১৩ বৎসরের ডেন্নিকে আমরা সমর্থ যুবতী বলেই ভাবতে পারি। সেক্ষেত্রে নেকড়ের আক্রমণ তার মৃত্যুর কারণ নাও হতে পারে। 

 

সেক্ষেত্রে ডেন্নির হাড়ে নেকড়ের অন্ত্রের অ্যাসিডের ব্যাখ্যা হিসাবে বলা যায়, নেকড়ে তো মৃতদেহ খুবলে খায়ই।


ডেনিসোভা গুহার পড়ে থাকা অসংখ্য হাড়ের টুকরোর মধ্যে থেকে ডেন্নির হাড়ের টুকরো খুঁজে পাওয়া একেবারে অসম্ভব সম্ভব হওয়া ঘটনা। 

বিজ্ঞানী স্বান্তে পাবো বলেনঃ এটা খড়ের গাদা থেকে সুঁচ বের করার মত, শুধু এখানে সুঁচ যে আছে সেটাও জানা ছিল না।


তথ্যসূচীঃ-

 1. Meet Denny, the ancient mixed heritage mystery girl. : The Observer Evolution: The Guardian.


2. The Genome of the offspring of a Neanderthal mother and a Denisovan mother.  : Viviane Slon, Fabrizio Mafessoni, Benjamin Venot, Cesare de Philippo, Stefi Grote, Bence Vola, Mateja Hajdinjak, Stephane Peryegne , [Sarah Nagel](https://www.nature.com/articles/s41586-018-0455-x#auth-Sarah-Nagel-Aff1), Samantha Brown, Katerina Douka, Tom Higham, Maxim B. Kozlikin, Michael V. Shunkov, Anatoly P. Derevianko, Janet Kelso, Matthias Meyer, Kay Prüfer  and Svante PääboPublished in : nature.


Picture Credit> An artist’s impression of the teenage Denny. Photograph: John Bavaro/early-man.com Via The Guardian.

ইন্টারনেট থেকে সংগৃহীত ছবিটির সবরকম বানিজ্যিক ব্যবহার নিষিদ্ধ

বিপদের সময় এই দোয়াটি পড়ুন,অলৈকিক সাহায্য আসবেই,,,,,, ফেইসবুক থেকে নেওয়া

 🌊 তিন অন্ধকারের বুক চিরে অলৌকিক মুক্তির মহাকাব্য: ইউনুস (আ.)-এর গল্প ​আপনি কি কখনো এমন ঘোর অন্ধকারে পড়েছেন, যেখানে পালানোর কোনো পথ নেই? যে...