এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

বৃহস্পতিবার, ২৪ এপ্রিল, ২০২৫

এক_যে_ছিলো_নেতা

 জীবনে প্রথমবার আইসক্রীম খেয়ে দাঁত ভীষণ সিরসির করায় ছেলেটি বলেছিল ওই আইসক্রীমটা একটু গরম করে দিতে। প্রফুল্লচন্দ্র মহালনবীশ অর্থাৎ বুলাকাকার সঙ্গী হয়ে একদিন ছেলেটি উটরাম ঘাটের জলের ওপরে ভাসমান উটরাম রেস্টোরান্টে গিয়েছিল, সেখানে জীবনে প্রথমবার পরিচয় আইসক্রীমের সাথে।আর অভিজ্ঞতার কথা আমরা প্রথমেই জেনেছি, কিন্তু ছেলেটি কে? তিনি প্রখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালক , আমাদের দেশের গর্ব সত্যজিৎ রায়..💫🌻


এই বুলাকাকা কলকাতা রেডিও স্টেশন চালু হবার পরে সত্যজিৎ রায়ের জন্মদিনে তাঁকে একটা রেডিও উপহার দিয়েছিলেন,সেই রেডিও এখনকার রেডিওর তুলনায় আলাদা, তাকে বলা হত ক্রিস্ট্যাল সেট,কানে হেডফোন লাগিয়ে শুনতে হত। একসাথে একজনের বেশি মানুষ রেডিওর অনুষ্ঠান শুনতে পেতেন না।


ছোটবেলায় সত্যজিৎ রায়, মা ও ছোট মাসির সাথে একবার লখনৌতে গিয়েছিলেন, যাওয়ার বা আসবার সময়টা মানিকবাবু মনে করতে পারেন নি,মাসি,মা ইন্টারক্লাস লেডিস কামরায় উঠেছিলেন, মানিককে কোনওক্রমে তুলে দেওয়া হয় পাশের সেকেন্ড ক্লাসে।সেই কামরায় সাহেব আর মেমেরা ছিল।একটু ঘাবড়ে গিয়েছিলেন, মুখে শব্দ করছেন না, ওদিকে ট্রেন থেকে নামবেন সম্ভব নয় গাড়ি ছেড়ে দিয়েছে,কি আর করবেন কামরার এককোণে মেঝেতে সারারাত বসে থাকলেন। মানিকবাবুর কথায় সাহেবরা যদি তাঁকে বসতে দিতে চাইতেন কিন্তু তাদের ইংরেজি বোঝার সাধ্য তাঁর ছিল না,সম্ভবত সাহেবরা মানিককে গ্ৰাহ্য করেন নি।


ট্রেনে না হয় রাত কাটালেন কিন্তু প্রায় পড়ে যাচ্ছিলেন পরীক্ষার গেরোয়। সত্যজিৎ সেবার ম্যাট্রিক পরীক্ষা দেবেন বয়স পনেরোর নীচে হলে হবে না,সরকারি নিয়ম, ওদিকে ১৯৩৬সালের মার্চে সত্যজিৎ ১৪বছর দশ মাস।কি হবে তাহলে!নিয়মের গেরোয় কি ম্যাট্রিক পরীক্ষা সেবছর আর দেওয়া হবে না! বয়স বাড়ানোর কিছু পদ্ধতি ছিল, কিন্তু কোনও অনিয়ম সুপ্রভা দেবীর ঘোর অপছন্দ, তিনি ওসবে রাজী নন, খুব ইন্টারেস্টিং তথ্য হল পরীক্ষার কয়েক মাস আগে ১৫বছরের নিয়ম উঠে গেল, সত্যজিৎ রায়ের ম্যাট্রিক পরীক্ষা দেওয়ার ক্ষেত্রে আর কোনও বাধা থাকল না..🌿


সংকলনে ✒️ Arunava Sen (ধ্রুবতারাদের খোঁজে)


📸 ছবিটি সত্যজিৎ রায়ের চার বছরের


© এক যে ছিলো নেতা 


| #এক_যে_ছিলো_নেতা |


📌 Facebook এর পাশাপাশি আমরা পথচলা শুরু করেছি YouTube এও.. আমাদের কাজ ভালো লাগলে আমাদের channel টি Subscribe করে পাশে থাকবেন..

পোল্ট্রির পায়খানা ( লিটার)  থেকে উন্নত জৈব সার তৈরির ফারমেন্টেশন সিস্টেম।

 পোল্ট্রির পায়খানা ( লিটার)  থেকে উন্নত জৈব সার তৈরির ফারমেন্টেশন সিস্টেম। এতে আদ্রতা ২৫-৩০% এর মধ্যে থাকে।

🔘পরিবেশ বান্ধব

🔘গ্রীন বিজনেস আইডিয়া 

🔘ভ্যালু এডিশন করে পোল্ট্রি, ডেইরি ফার্মিং ওয়াস্ট ম্যানেজমেন্টের মাধ্যমে।


পোল্ট্রি লিটার বা মুরগির গোবর থেকে ফার্মেন্টেশন প্ল্যান্টের মাধ্যমে জৈব সার তৈরি করা একটি লাভজনক, পরিবেশবান্ধব ও টেকসই উদ্যোগ। নিচে এর বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হলো:


১. লাভজনকতা (Profitability):


কাঁচামাল সহজলভ্য: পোল্ট্রি খামার থেকেই মুরগির বিষ্ঠা, ডেইরি ফার্ম থেকে গোবর এবং কাঁচা বাজার থেকে বাতিল হওয়া সবজি  সহজে পাওয়া যায়, যা ফার্মারদের জন্য আলাদা খরচ ছাড়াই পাওয়া সম্ভব।


কম উৎপাদন খরচ: একবার ফার্মেন্টেশন প্ল্যান্ট স্থাপন করলে রক্ষণাবেক্ষণ খরচ তুলনামূলকভাবে কম।

এলাক ভিত্তিক সমবায় বিজনেস মডেলে এই উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে।


উচ্চ বাজারমূল্য: জৈব সার (কম্পোস্ট, ভার্মি কম্পোস্ট, বায়োফার্টিলাইজার ইত্যাদি) এর চাহিদা দিন দিন বাড়ছে, বিশেষ করে অর্গানিক ফার্মিং সেক্টরে ও নিরাপদ শাক সবজি উৎপাদনে।


বিকল্প পণ্য: গ্যাস (বায়োগ্যাস) এবং তরল সার (liquid fertilizer) ও পাওয়া যেতে পারে যা আলাদা করে বিক্রি করা যায়।

তবে বিভিন্ন সারের আইটেরমের জন্য প্রযুক্তি ভিন্ন ভিন্ন আছে।


২. ভ্যালু অ্যাডিশন (Value Addition):


মাল্টিপল প্রোডাক্ট: পোল্ট্রি লিটার গোবর ইত্যাদি থেকে কম্পোস্ট, বায়োগ্যাস, স্লারি (তরল সার) তৈরি করা যায়।


প্যাকেজিং ও ব্র্যান্ডিং: জৈব সারকে ব্র্যান্ডিং করে প্যাকেটজাত করে বাজারজাত করলে মুনাফা আরও বাড়ে।


লোকাল ফার্মারদের জন্য সাপোর্ট সার্ভিস: অন্য খামারিদের কাছ থেকেও গোবর কিনে নিয়ে সার উৎপাদন করে লাভ করা যায় (আশ পাশের সুনির্দিষ্ট এরিয়া থেকে)


৩. পরিবেশ সুরক্ষা (Environmental Benefits):


দূষণ হ্রাস: কাঁচা পোল্ট্রি লিটার জমা থাকলে পানি ও বায়ু দূষণ করে, বিশেষ করে অ্যামোনিয়া গ্যাস ও জীবাণু ছড়ায়। ফার্মেন্টেশনের মাধ্যমে এগুলো হ্রাস পায়।


মাটির স্বাস্থ্য উন্নয়ন: রাসায়নিক সারের বদলে জৈব সার ব্যবহারে মাটির জৈবগুণ ও পানি ধারণক্ষমতা বাড়ে।


গ্রিনহাউজ গ্যাস কমায়: সঠিকভাবে বায়োগ্যাস ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে মিথেন গ্যাস নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়, যা একটি গ্রিনহাউজ গ্যাস ও বৈশ্বিক উষ্ণতার জন্য দায়ী।


৪. সামাজিক ও কৃষি উন্নয়ন:


কৃষকের আয় বাড়ানো: কৃষক নিজের ফার্ম থেকে সার উৎপাদন করে বা বিক্রি করে আয় বাড়াতে পারে।


চাকরি সৃষ্টি: সার উৎপাদন, প্যাকেজিং, পরিবহনসহ বিভিন্ন পর্যায়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়।


সচেতনতা বৃদ্ধি: কৃষক ও সমাজে পরিবেশবান্ধব কৃষির প্রবণতা বাড়ে।


পোল্ট্রি লিটার থেকে জৈব সার উৎপাদন শুধুমাত্র একটি লাভজনক উদ্যোগ নয়, বরং এটি একটি পরিবেশ সচেতন ও সমাজ উন্নয়নমূলক উদ্যোগ।


📌  সরকার ও বেসরকারি পর্যায়ে প্রণোদনা, প্রশিক্ষণ এবং লোন সহায়তা থাকলে এই খাতটি আরও প্রসারিত হতে পারে।


লেখক

অঞ্জন মজুমদার 

পোল্ট্রি প্রোডাকশন এন্ড সাপ্লাই চেইন স্পেশালিষ্ট।।

জন্ডিসের যম পাথরকুচি পাতা – জেনে নিন কীভাবে ব্যবহার করবেন:

 ✅ জন্ডিসের যম পাথরকুচি পাতা – জেনে নিন কীভাবে ব্যবহার করবেন:


♦️কিডনির পাথর অপসারণে পাথরকুচি পাতা।


পাথরকুচি পাতা কিডনি এবং গলব্লাডারের পাথর অপসারণ করতে সাহায্য করে। দিনে দুই বার ২ থেকে ৩ টি পাতা চিবিয়ে অথবা রস করে খান।


♦️জন্ডিস নিরাময়ে


লিভারের যেকোনো সমস্যা থেকে রক্ষা করতে তাজা পাথরকুচি পাতা ও এর জুস অনেক উপকারী।


♦️সর্দি সারাতে


অনেক দিন ধরে যারা সর্দির সমস্যায় ভুগছেন তাদের জন্য পাথরকুচি পাতা অমৃতস্বরূপ। পাথরকুচি পাতার রস একটু গরম করে খেলে সর্দির হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।


♦️ক্ষত স্থান সারাতে


পাথরকুচি পাতা পানিতে ফুটিয়ে সেই পানি দিয়ে ক্ষতস্থান পরিষ্কার করলে ক্ষত তাড়াতাড়ি সেরে যায়। পাথরকুচি পাতা বেটেও কাটাস্থানে লাগাতে পারেন।


♦️এছাড়াও-


উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে এবং মুত্রথলির সমস্যা থেকে পাথরকুচি পাতা মুক্তি দেয়।


শরীরের জ্বালা-পোড়া বা আর্থ্রাইটিস থেকে রক্ষা করে।


পাথরকুচি পাতা বেটে কয়েক ফোঁটা রস কানের ভেতর দিলে কানের যন্ত্রণা কমে যায়।


কলেরা, ডাইরিয়া বা রক্ত আমাশয় রোগ সারাতে পাথরকুচি পাতার জুড়ি নেই। ৩ মি.লি. পাথরকুচি পাতার জুসের সাথে ৩ গ্রাম জিরা এবং ৬ গ্রাম ঘি মিশিয়ে কয়েক দিন পর্যন্ত খেলে এসব রোগ থেকে উপকার পাওয়া যায়।


পাথরকুচি পাতার রসের সাথে গোল মরিচ মিশিয়ে পান করলে পাইলস্‌ ও অর্শ রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।


♦️ ত্বকের যত্নে


পাথরকুচি পাতায় প্রচুর পরিমাণে পানি থাকে যা ত্বকের জন্য খুবই উপকারী। সাথে সাথেই এর মধ্যে জ্বালা-পোড়া কমানোর ক্ষমতা থাকে। যারা ত্বক সম্বন্ধে অনেক সচেতন তারা পাথরকুচি পাতা বেটে ত্বকে লাগাতে পারেন। ব্রণ ও ফুস্কুড়ি জাতীয় সমস্যা দূর হয়ে যাবে।

যশোরে পরিবেশবান্ধব ইকো ইঞ্জিনিয়ারিং প্রযুক্তিতে কীটনাশক ছাড়াই ধান চাষ করে সফলতা পেয়েছেন কৃষকরা

 যশোরে পরিবেশবান্ধব ইকো ইঞ্জিনিয়ারিং প্রযুক্তিতে কীটনাশক ছাড়াই ধান চাষ করে সফলতা পেয়েছেন কৃষকরা


। বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহায়তায় ব্রি ধান১০৫ জাতের ধান চাষ করা হয় যশোর ও নড়াইলের ১০বিঘা জমিতে। এর মধ্যে ৫ বিঘা জমিতে ব্যবহার করা হয় ইকো ইঞ্জিনিয়ারিং প্রযুক্তি, যেখানে ক্ষতিকর পোকার বিরুদ্ধে কাজ করে বন্ধু পোকা—যারা আশ্রয় নেয় কসমস, গাঁদা ও সূর্যমুখী গাছে। 

ফলাফল বিস্ময়কর—ইকো পদ্ধতিতে প্রতি বিঘায় ২৬ মন ধান, আর প্রচলিত পদ্ধতিতে ২৫ মন। শুধু তাই নয়, প্রতি বিঘায় খরচ কমেছে প্রায় দেড় হাজার টাকা! কৃষক জুলফিকার আলী জানান কীটনাশক ছাড়াই বেশি ধান পেয়েছি, খরচও কম। সত্যিই অভাবনীয় অভিজ্ঞতা।

গবেষকরা বলছেন, এই প্রযুক্তি শুধু খরচ কমাবে না, নিশ্চিত করবে নিরাপদ খাদ্য এবং পরিবেশ রক্ষা। চাষিদের প্রতি আহ্বান—কীটনাশক নির্ভরতা কমিয়ে পরিবেশবান্ধব ইকো প্রযুক্তি গ্রহণ করুন। ভবিষ্যতের কৃষি এখনই শুরু হোক—ইকো ইঞ্জিনিয়ারিং এর হাত ধরে!

ছায়াযুক্ত স্থানে চাষ করা যায়: 

 ছায়াযুক্ত স্থানে চাষ করা যায়: 



যেসব জায়গায় পূর্ণ দিন রোদ আসে না, যেমন- বড় গাছের নিচে, সবজির মাচার নিচে এসব জায়গায় চাষ উপযোগী কিছু ফসল রয়েছে। এ ফসল গুলো রোদের পাশাপাশি ছায়াতেও ফলন দিয়ে থাকে- 


•আদা 

•হলুদ 

•বারোমাসি মরিচ 

•বিভিন্ন কচু/মান কচু 

•বিলাতি ধনিয়া 

•পুদিনা পাতা 

•তুলসি 

•গাছ আলু/মেটে আলু 

•কলমি শাক 

•মিষ্টি আলু শাক 

•মিষ্টি পান 

•চুইঝাল 

•লটকন ফল 

•লেবু 

•আনারস 


#ছায়া_যুক্ত_স্থানের_ফসল #আদা #চুইঝাল  #gardenscience

গাইবান্ধা জেলার নাম করণের ইতিহাস:

 গাইবান্ধা জেলার নাম করণের ইতিহাস:

গাইবান্ধা জেলার নামকরণ নিয়ে কৌতুহলের শেষ নেই। জানা যায়, জেলাটির মূল ভূখন্ড ছিল নদীর তলদেশে, কালক্রমে যা নদীবাহিত পলিতে ভরাট হয়। এ অঞ্চলে সংঘটিত একটি শক্তিশালী ভূমিকম্পের ফলে নদী তলদেশের উত্থান ঘটে এবং স্থলভূমিতে পরিণত হয়। ব্রহ্মপুত্র নদসহ তিস্তা ও যমুনা নদীবাহিত পলি মাটি দিয়েই গড়ে উঠেছে আজকের গাইবান্ধা। এই গাইবান্ধা নামকরণ নিয়ে দু’টি ধারণা প্রচলিত আছে। 


গাইবান্ধা নামকরণ প্রসঙ্গে গাইবান্ধার ইতিহাস ও ঐতিহ্য গ্রন্থ থেকে জানা যায়, জেলা শহরের বর্তমান অবস্থানের গাইবান্ধা নামকরণ ঠিক কবে নাগাদ হয়েছে তার সঠিক তথ্য এখনও পাওয়া যায়নি। তবে রংপুরের কালেক্টর ইজি গ্লেজিয়ার ১৮৭৩ সালে যে রিপোর্ট প্রণয়ন করেছিলেন সেই রিপোর্টে গাইবান্ধা নামটি ইংরেজীতে লেখা হয়েছে জিওয়াইইবিএএনডিএ (GWEBANDA) এবং সেটির অবস্থান হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে ঘাঘট পাড়ের কথা। এই ঘাটট-ই যে ঘাঘট নদী সেটা বলা যায়। রংপুরে গ্লেজিয়ার সাহেবের পূর্বে কালেক্টর ছিলেন জেমস রেনেল। 


জেমস রেনেলের প্রণীত রেনেল জার্নালস থেকে জানা যায়, ঘাঘট নদী ১৭৯৩ সালেও সে সময়ের নদীগুলোর চাইতে ছোট আকৃতির ছিল বলেই ঘাঘটকে খাল হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। আবার এই তথ্য থেকে আরেকটা বিষয় বলা যায় যে, ১৭৯৩ সালেও মানস নদী ছিল। ঘাঘট নদীর মতই। অপর যে বিষয়টি এই দুটি তথ্য থেকে অবহিত হওয়া যায়, তা হলো ১৭৯৩ সালে গাইবান্ধা নামটি উল্লেখযোগ্য ছিল না। ১৮৭৩ সালে ইজি গ্লেজিয়ার তার রিপোর্টে গাইবান্ধা নামটি উল্লেখ করেন। সম্ভবত ১৭৯৩ সালের আগে ঘাঘট নদীর তীরবর্তী এই স্থানটি একটি পতিত ভূখভ এবং গোচারণ ভূমি হিসেবে ব্যবহৃত হতো। জনবসতি ছিল না বলেই রংপুরের কালেক্টরদের রিপোর্টে গাইবান্ধা নামটি ১৮৭৩ সালের আগে উল্লেখিত হয়নি। 


গাইবান্ধার নামকরণ সম্পর্কে প্রচলিত একটি কিংবদন্তীতে বলা হয়েছে, মহাভারত রচনার প্রায় পাঁচ হাজার বছর পূর্বে বর্তমান গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় এক হিন্দু রাজার প্রাসাদ ছিল। তার নাম ছিল রাজা বিরাট। মৎস্য দেশের এই বিরাট রাজার গো-ধনের কোন তুলনা ছিল না। তার গাভীর সংখ্যা ছিল ষাট হাজার। মাঝে মাঝে ডাকাতরা এসে বিরাট রাজার গাভী লুণ্ঠন করে নিয়ে যেতো। সে জন্য বিরাট রাজা একটি বিশাল পতিত প্রান্তরে গো-শালা স্থাপন করেন। গো-শালাটি সুরক্ষিত এবং গাভীর খাদ্য ও পানির সংস্থান নিশ্চিত করতে। নদী তীরবর্তী ঘেঁসে জমিতে স্থাপন করা হয়। সেই নির্দিষ্ট স্থানে গাভীগুলোকে বেঁধে রাখা হতো। প্রচলিত কিংবদন্তী অনুসারে এই গাভী বেঁধে রাখার স্থান থেকে এতদাঞ্চলের কথ্য ভাষা অনুসারে এলাকার নাম হয়েছে গাইবাঁধা এবং কালক্রমে তা গাইবান্ধা নামে পরিচিতি লাভ করে। 


আবার অনেকেই মনে করেন, গাইবান্ধা নামটি রাজা বিরাটের সময় প্রচলিত ছিল না। মোশারফ হোসেন প্রণীত দিনাজপুরের ইতিহাস গ্রন্থের ১০ পৃষ্ঠায় ঐতিহাসিক বুকাননের উদ্ধৃতি দিয়ে উল্লেখ করা হয়েছে যে, রাজা বিরাট কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধে পঞ্চ পাণ্ডবের পক্ষালম্বন করে সপুত্রক নিহত হন। কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল খ্রিষ্টপূর্ব ৩২০০ সালে (হিন্দু পঞ্জিকা)। অথচ ‘‘গাইবান্ধার ইতিহাস ও ঐতিহ্য শীর্ষক’’ গ্রন্থের ১০ পৃষ্ঠায় বলা হয়েছে যে, সম্রাট আকবরের শাসনামলে প্রণীত ‘‘আইন-ই আকবরী’’ গ্রন্থে তৎকালীন ঘোড়াঘাট সুবা’র আওতায় মোট ৮৪টি মহালের বর্ণনা পাওয়া যায়। এ সবের মাঝে বালকা (বেলকা), বালাশবাড়ী (পলাশবাড়ী), তুলশীঘাট, সা-ঘাট/সেঘাট (সাঘাটা), কাটাবাড়ী ইত্যাদি নাম থাকলেও গাইবান্ধা বলে কোন মহালের নাম উল্লেখ নেই। এ থেকে বোঝা যায় যায় যে, ষোড়শ শতাব্দীতেও গাইবান্ধা নামটির উদ্ভব ঘটেনি। সুতরাং, রাজা বিরাটের গো-চারণ ভূমি থেকে ‘‘গাইবান্ধা’’ নামটির উদ্ভব হয়েছে এরূপ ধারণা যথার্থ নয়। 


সুতরাং, সত্যিকার অর্থে গাইবান্ধা নামটি খুব প্রাচীন নয়। হয়তোবা এতদাঞ্চলের কোন ব্যক্তির গাই বাঁধার বিশেষ কোন ঘটনাকে কেন্দ্র করে লোকেরা এ অঞ্চলকে গাইবান্ধা বলে ডাকতে থাকে এবং এক পর্যায়ে তা এ অঞ্চলের নাম হিসেবে পরিগণিত হয়। যেমন— হাতীবান্ধা, মহিষবান্ধা, বগবান্ধা এ জাতীয় আরও স্থানের নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। 


১৮৭৫ সালের পূর্বে গাইবান্ধা নামে এতদাঞ্চলে তৎকালীন সরকারের কোন ইউনিট ছিল না। তবে, রংপুর জেলায় সাদুল্লাপুর ও ভবানীগঞ্জ থানা নিয়ে ১৮৫৮ সালের ২৭ আগষ্ট ভবানীগঞ্জ নামে একটি মহকুমা গঠিত হয়। ১৮৭৫ সালে ভবানীগঞ্জ মহকুমা নদীভাঙ্গনের কবলে পড়লে মহকুমা সদর ঘাঘট নদীর তীরবর্তী গাইবান্ধা নামক স্থানে স্থানান্তরিত করা হয়। পরে এর নাম পরিবর্তন করে গাইবান্ধা মহকুমা নামকরণ করা হয়। আশির দশকে মহকুমাগুলোকে জেলায় রূপান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে ১৯৮৪ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি গাইবান্ধা মহকুমা জেলায় রূপান্তরিত হয়। গাইবান্ধা সদর, সুন্দরগঞ্জ, পলাশবাড়ী, সাদুল্লাপুর, গোবিন্দগঞ্জ, ফুলছড়ি ও সাঘাটা উপজেলা নিয়ে গঠিত গাইবান্ধা জেলা। বর্তমানে পৌরসভা রয়েছে চারটি ও ইউনিয়ন ৮১টি। জনসংখ্যা রয়েছে ২৪ লাখ ৭১ হাজার ৬৮১ জন, মৌজা ১০৯২টি, গ্রাম ১৩৯২টি, রেলপথ ৫৬ কিলোমিটার ও মহাসড়ক রয়েছে ৩২.৮ কিলোমিটার। 


তথ্যসূত্র: অনলাইন, উইকিপিডিয়া।


#Gaibandha #History #গাইবান্ধা #ইতিহাস #ঐতিহ্য #নামকরণ

সকাল ৭টার সংবাদ  তারিখ : ২৪-০৪-২০২৫ খ্রি:

 সকাল ৭টার সংবাদ 

তারিখ : ২৪-০৪-২০২৫ খ্রি:


আজকের সংবাদ শিরোনাম:


রোহিঙ্গা প্রত্যাবর্তন শুরুর জন্য মিয়ানমারের ওপর চাপ সৃষ্টি এবং তাদের জন্য তহবিল সংগ্রহে ওআইসি দেশগুলোকে সক্রিয় করতে কাতারকে জোরালো ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা।


কাতারের বিনিয়োগকারীদের জন্য বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের প্রস্তাব করে ব্যাপক বিনিয়োগের আহ্বান অধ্যাপক ডক্টর মুহাম্মদ ইউনূসের।


ভারতের কাশ্মীরে সাম্প্রতিক সন্ত্রাসী হামলায় ২৬ জনের প্রাণহানির ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা।


বিএফডিসি’র সক্ষমতা বৃদ্ধিতে বহুমুখী উদ্যোগ নিয়েছে সরকার - বললেন তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা। 


বিএনপি ক্ষমতায় গেলে তিস্তা মেগা পরিকল্পনা বাস্তবায়নসহ মানুষের জীবন যাত্রার মান উন্নয়নে কাজ করবে - বললেন তারেক রহমান।


কুয়েটের ৩৭ জন শিক্ষার্থীর সাময়িক বহিস্কারাদেশ প্রত্যাহার - শিক্ষা কার্যক্রম শুরু চৌঠা মে।


গাজায় দুর্ভিক্ষের মারাত্মক ঝুঁকির হুশিয়ারী জার্মানি, ফ্রান্স ও বৃটেনের - মানবিক সহায়তা প্রবেশের প্রতিবন্ধক তুলে নিতে ইসরাইলের প্রতি আহ্বান।


এশিয়ান হকি ফেডারেশন কাপ টুর্ণামেন্টে সেমিফাইনালে উঠেছে বাংলাদেশ হকি দল।

ক্যামোমিলা✴ Chamomilla----🎋 ---🫒--- ৪র্থ কবিতা----🫒--- ছন্দে ছন্দে ক্যামোমিলার লক্ষন মনে রাখার সহজ কৌশল।

 🍁🍃ক্যামোমিলা✴ Chamomilla----🎋

---🫒--- ৪র্থ কবিতা----🫒---

ছন্দে ছন্দে ক্যামোমিলার লক্ষন মনে রাখার সহজ কৌশল।



অত্যান্ত বিরক্ত শিশু,কোলে নিলে বেশ

এক ডোজ ক্যামোমিলায়, সব সমস্যা শেষ,

রোগ যাই হোক সেটা জ্বর বা পেট ব্যথা

লক্ষণেতে কাজ করে সেটাই আসল কথা।


যখন তখন উত্তেজনা, যদি দেখা যায়

মানষিক নার্ভাসনেস চোখের পাতায়, 

মাদকের ইতিহাস কারো থাকে সাথে

শীতভাব ও জ্বরের দেখা প্রায় প্রতি রাতে।


সদ্যজাত শিশুদের দাঁত উঠতে ব্যথা

ক্ষনে ক্ষনে কেঁদে উঠে জ্বল ঝড়ে সদা

নোংরা ঘাটে হিংসুটে, বদমেজাজী হয়

ক্যামোমিলা কাজে লাগে এমন সময়।


কথা বলতে বিরক্ত, রেগে থাকে রোজ

কেউ তার কাছে থেকে নেয় যদি খোজ

এক গাল লাল আর অন্য গাল সাদা

মাঝ রাতের আগেই হয় ঘারে বেশ ব্যথা।


ঠান্ডা লেগে উদরাময়,জ্বলের মত মল

ভীষণ দুর্বল শরীরটা করে টলমল

উত্তাপে খোলা হাওয়ায় রোগের বৃদ্ধি হয়

এক ডোজ ক্যামোমিলা করে নিরাময়।


🎍 উৎসাহ পেলে আরো লিখতে চাই 👻 🪡


🍃 Dr.Md.Forhad Hossain 

D.H.M.S(B.H.😎,DHAKA

Pdt(Hom)

Consultant:Homoeopathic  Medicine 

🍎চেম্বার:জার্মান হোমিও কেয়ার

সময় গেলে সাধন হবেনা

 জীবনে যে-কোনো শখ বা আহ্লাদ পূরণের নির্দিষ্ট একটা সময় থাকে। সঠিক সময়টা একবার পেরিয়ে গেলে শখ হয়ত পূরণ হয় ঠিকই, তবে তৃপ্তিটা ঠিক পাওয়া যায় না।


১৭ বছর বয়সে যে বিরিয়ানিটা খেতে অমৃতের মতো লাগে, ৩২ বছর বয়সে এসে সেটা ভালো নাও লাগতে পারে।


১৮ বছর বয়সে সমবয়সী কারো সাথে পাঞ্জাবি বা শাড়ি পরে রিকশায় ঘুরতে ভীষণ রোমান্টিক লাগে, ৩৬ এ পা দিয়ে একই কাজ করতে রোমান্টিক লাগবেই তার কোনো গ্যারান্টি নাই। 


২১ বছর বয়সে ভার্সিটির বন্ধুবান্ধব নিয়ে সমুদ্র সৈকতে বেড়াতে গেলে যেই আনন্দ পাওয়া যাবে, ৪০ পার করে সেই আনন্দ পাওয়া নাও যেতে পারে। 


একদিন নিজের ছাদে বাগান করব, এই আশায় বসে থেকে যেই মানুষটা বারান্দার টবে কোনো গোলাপের চারা লাগাল না, ছাদ হওয়ার পর দেখা গেল সেই মানুষটার আর বাগান করার সময়ই নেই। 


একদিন চাকরি করে বাবা-মাকে দামী দামী জিনিস কিনে দেয়ার স্বপ্ন দেখা মানুষটা চাকরি করে টাকা কামাবে ঠিকই, কিন্তু ততদিনে মা-বাবা এই দুনিয়ায় নাও থাকতে পারে। 


জীবনের ছোটখাট সাধ আহ্লাদ খুব দামী জিনিস। এগুলোই একটা মানুষের হৃদয়কে জীবিত রাখে, সতেজ রাখে, প্রাণবন্ত রাখে। মানুষের হৃদয় একটু একটু করে মরে যায় ইচ্ছা পূরণের অভাবের নীরব হাহাকারে! এজন্য সময় থাকতেই এসব শখ পূর্ণ করে ফেলতে হয়। 


অনেক টাকা জমলে একদিন খাব, এই চিন্তা না করে অল্প কিছু টাকা জমিয়ে এখনি খেয়ে আসুন পছন্দের কাচ্চিটা। বিশ্বাস করুন, জীবনের শ্রেষ্ঠ স্বাদটা পাবেন।


দেরি না করে পছন্দের মানুষটাকে আজকেই রিকশা ডেটিংয়ের অফারটা দিয়ে দেখুন। রাজি হলে শাড়ি বা পাঞ্জাবি পরে হুডখোলা রিকশায় বৃষ্টিতে ভিজতে ভিজতে শহরময় ঘুরে বেড়ান। লিখে নিন, লাইফের সেরা রোমান্সটা পাবেন।


পকেটে কিছু টাকা হলেই বন্ধুর ঘাড়ে হাত রেখে বলে বসুন, চল ব্যাটা, সাজেক যাব। আজকেই যাব, এক্ষণি যাব। ব্যাগ গুছিয়ে নে, বাস ধরতে হবে।


নিজের ছাদে বাগান হবে, এই আশায় বসে না থেকে ভাড়া বাসার বারান্দার টবেই লাগিয়ে ফেলুন পছন্দের গোলাপের চারাটা। টিউশানির টাকায় কম দামেই কিনে ফেলুন বাবা-মায়ের জন্য শার্ট বা শাড়ি, হোক না সুতি, শখ পূরণটাই বড় কথা! 


মনে রাখবেন, একদিন সব হবে - এই আশায় যে নিজেকে বঞ্চিত করে, তার জীবনে কিছুই হয় না। তার জীবন কাটে বিষন্নতা আর অপেক্ষায়, শেষ হয় আফসোস আর হতাশা দিয়ে।

শিয়াল পণ্ডিত উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী 

 শিয়াল পণ্ডিত

উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী 



কুমির দেখলে, সে শিয়ালের সঙ্গে কিছুতেই পেরে উঠছে না। তখন সে ভাবলে, 'ও ঢের লেখাপড়া জানে, তাতেই খালি আমাকে ফাঁকি দেয়। আমি মূর্খ লোক, তাই তাকে আঁটতে পারি না।' অনেকক্ষণ ভেবে কুমির এই ঠিক করল যে, নিজের সাতটা ছেলেকে শিয়ালের কাছে দিয়ে খুব করে লেখাপড়া শেখাতে হবে। তার পরের দিনই সে ছানা সাতটাকে সঙ্গে করে শিয়ালের বাড়ি গিয়ে উপস্থিত হল। শিয়াল তখন তার গর্তের ভিতরে বসে কাঁকড়া খাচ্ছিল। কুমির এসে ডাকলে,


'শিয়াল পণ্ডিত, শিয়াল পণ্ডিত, বাড়ি আছ?' শিয়াল বাইরে এসে বললে, 'কী ভাই, কী মনে করে?'

কুমির বললে, 'ভাই, এই আমার ছেলে সাতটাকে তোমার কাছে এনেছি। মূর্খ হলে করে খেতে পারবে না। ভাই, তুমি যদি এদের একটু লেখাপড়া শিখিয়ে দাও।' শিয়াল বললে, 'সে আর বলতে? আমি সাতদিনে সাতজনকে পড়িয়ে পণ্ডিত করে দেব।' শুনে কুমির তো খুব খুশি হয়ে ছানা সাতটাকে রেখে চলে গেল।

তখন শিয়াল তাদের একটাকে আড়ালে নিয়ে বললে—

'পড় তো বাপু— কানা খানা গানা ঘানা,

কেমন লাগে কুমির ছানা?'


এই কথা বলে, সেটার ঘাড় ভেঙে, খেয়ে ফেললে।

পরদিন যখন কুমির তার ছানা দেখতে এল, তখন শিয়াল তাদের একেকটি করে গর্তের বাইরে এনে দেখাতে লাগল। ছয়টিকে ছয়বার দেখালে, শেষেরটা দেখালে দুবার। বোকা কুমির তা বুঝতে না পেরে ভাবলে, সাতটাই দেখানো হয়েছে। তখন সে চলে গেল, আর অমনি শিয়াল ছানাগুলোর একটাকে আড়ালে নিয়ে বললে—

'পড় তো বাপু— কানা খানা গানা ঘানা,

কেমন লাগে কুমির ছানা?'


এই কথা বলে, সেটার ঘাড় ভেঙে, খেয়ে ফেলল।

পরদিন কুমির তো ছানা দেখতে এল। শিয়াল একেকটি করে গর্তের বাইরে এনে, পাঁচবার পাঁচটাকে দেখাল, শেষেরটিকে দেখাল তিনবার। তাতেই কুমির খুশি হয়ে চলে গেল। তখন শিয়াল ঠিক আগের মতো করে আর একটা ছানাকে খেল।

এমনি করে সে রোজ একটি ছানা খায়, আর কুমির এলে তাকে ফাঁকি দিয়ে ভোলায়। শেষে যখন একটি ছানা বই আর রইল না, তখন সেই একটিকেই সাতবার দেখিয়ে সে কুমিরকে বোঝাল। তারপর কুমির চলে গেলে সেটিকেও খেয়ে ফেলল। তারপর আর একটিও রইল না।

তখন শিয়ালনী বললে, 'এখন উপায়? কুমির এলে দেখাবে কি? ছানা না দেখতে পেলে তো অমনি আমাদের ধরে খাবে!'

শিয়াল বললে, 'আমাদের পেলে তো ধরে খাবে। নদীর ওপারের বনটা খুব বড়, চল আমরা সেইখানে যাই। তা হলে কুমির আর আমাদের খুঁজে বার করতেই পারবে না।'

এই বলে শিয়াল শিয়ালনীকে নিয়ে তাদের পুরনো গর্ত ছেড়ে চলে গেল। এর খানিক বাদেই কুমির এসেছে। সে এসে 'শিয়াল পণ্ডিত, শিয়াল পণ্ডিত' বলে কত ডাকল, কেউ তার কথার উত্তর দিল না। তখন সে গর্তের ভিতর-বার খুঁজে দেখল—শিয়ালও নেই শিয়ালনীও নেই! খালি তার ছানাদের হাড়গুলো পড়ে আছে।

তখন তার খুব রাগ হল, আর সে চারদিকে ছুটাছুটি করে শিয়ালকে খুঁজতে লাগল। খুঁজতে-খুঁজতে নদীর ধারে গিয়ে দেখল, শিয়াল আর শিয়ালনী সাঁতরে নদী পার হচ্ছে।

অমনি 'দাঁড়া হতভাগা।' বলে সে জলে ঝাঁপ দিয়ে পড়ল। জলের নীচে ছুটতে কুমিরের মতো আর কেউ পারে না, দেখতে দেখতে সে গিয়ে শিয়ালের পিছনের একটা পা কামড়ে ধরল।

শিয়াল সবে তার সামনের দু-পা ডাঙায় তুলেছিল, শিয়ালনী তার আগেই উঠে গিয়েছিল। কুমির এসে শিয়ালের পা ধরতেই সে শিয়ালনীকে ডেকে বললে, 'শিয়ালনী, শিয়ালনী, আমার লাঠিগাছা ধরে কে টানাটানি করছে। লাঠিটা বা নিয়েই যায়।'

একথা শুনে কুমির ভাবলে, 'তাই তো, পা ধরতে গিয়ে লাঠি ধরে ফেলেছি। শিগগির লাঠি ছেড়ে পা ধরি।'

এই ভেবে যেই সে শিয়ালের পা ছেড়ে দিয়েছে, অমনি শিয়াল একলাফে ডাঙায় উঠে গিয়েছে। উঠেই বোঁ করে দে ছুট। তারপর বনের ভিতরে ঢুকে পড়লে আর কার সাধ্য তাকে ধরে।


তারপর থেকে কুমির কেবলই শিয়ালকে খুঁজে বেড়ায়। কিন্তু শিয়াল বড্ড চালাক,

তাই তাকে ধরতে পারে না। তখন সে অনেক ভেবে এক ফন্দি করল। কুমির একদিন চড়ায় গিয়ে হাত পা ছড়িয়ে মড়ার মতো পড়ে রইল। তারপর শিয়াল আর শিয়ালনী কচ্ছপ খেতে এসে দেখল, কুমির কেমন হয়ে পড়ে আছে। তখন শিয়ালনী বললে, 'মরে গেছে। চল খাইগে!' শিয়াল বললে, 'রোস, একটু দেখে নিই।' এই বলে সে কুমিরের আর-একটু কাছে গিয়ে বলতে লাগল, 'না। এটা দেখছি বড্ড বেশি মরে গেছে। অত বেশি মরাটা আমরা খাই না। যেগুলো একটু-একটু নড়ে-চড়ে, আমরা সেগুলো খাই।' তা শুনে কুমির ভাবলে, 'একটু নড়ি-চড়ি, নইলে খেতে আসবে না।' এই মনে করে কুমির তার লেজের আগাটুকু নাড়তে লাগল। তা দেখে শিয়াল হেসে বললে, ঐ দেখ, লেজ নাড়ছে! তুমি তো বলেছিলে মরে গেছে!' তারপর আর কি তারা সেখানে দাঁড়ায়! তখন কুমির বললে, 'বড্ড ফাঁকি দিলে তো! আচ্ছা এবারে দেখাব!'


একটা জায়গায় শিয়াল রোজ জল খেতে আসত। কুমির তা দেখতে পেয়ে সেখানে গিয়ে লুকিয়ে রইল। ভাবল শিয়াল জল খেতে এলেই ধরে খাবে। সেদিন শিয়াল এসে দেখল সেখানে একটাও মাছ নেই! অন্য দিন ঢের মাছ চলা-ফেরা করে। শিয়াল ভাবল, 'ভালো রে ভালো আজ সব মাছ গেল কোথায়? বুঝেছি, এখানে কুমির আছে!' তখন সে বললে, 'এখানকার জল বেজায় পরিষ্কার। একটু ঘোলা না হলে কি খাওয়া যায়? চল শিয়ালনী, আর-এক জায়গায় যাই।' এ কথা শুনেই কুমির তাড়াতাড়ি সেখানকার জল ঘোলা করতে আরম্ভ করলে। তা দেখে শিয়াল হাসতে-হাসতে ছুটে পালিয়েছে!


আর একদিন শিয়াল এসেছে কাঁকড়া খেতে। কুমির তার আগেই সেখানে চুপ করে বসে আছে। শিয়াল তা টের পেয়ে বললে, 'এখানে কাঁকড়া নেই, থাকলে দু-একটা ভাসত।'

অমনি কুমির তার লেজের আগাটুকু ভাসিয়ে দিল। কাজেই শিয়াল আর জলে নামল না। এমনি করে বারবার শিয়ালের কাছে ঠকে গিয়ে, শেষে কুমিরের ভারি লজ্জা হল। তখন সে আর কী করে মুখ দেখাবে? কাজেই সে তার ঘরের ভিতরে গিয়ে বসে রইল।

বিপদের সময় এই দোয়াটি পড়ুন,অলৈকিক সাহায্য আসবেই,,,,,, ফেইসবুক থেকে নেওয়া

 🌊 তিন অন্ধকারের বুক চিরে অলৌকিক মুক্তির মহাকাব্য: ইউনুস (আ.)-এর গল্প ​আপনি কি কখনো এমন ঘোর অন্ধকারে পড়েছেন, যেখানে পালানোর কোনো পথ নেই? যে...