এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

শনিবার, ২৬ এপ্রিল, ২০২৫

ঘরে বসে শুরু করুন বিশুদ্ধ পানির ব্যবসা – মাসে আয় ১ থেকে ২ লাখ টাকা

 অবশ্যই! নিচে "ঘরে বসে শুরু করুন বিশুদ্ধ পানির ব্যবসা – মাসে আয় ১ থেকে ২ লাখ টাকা" শিরোনামে একটি পূর্ণাঙ্গ আর্টিকেল দিলাম:


---


ঘরে বসে শুরু করুন বিশুদ্ধ পানির ব্যবসা – মাসে আয় ১ থেকে ২ লাখ টাকা


বর্তমান যুগে বিশুদ্ধ পানির চাহিদা প্রতিনিয়ত বাড়ছে। শহর হোক কিংবা গ্রাম – সবাই এখন নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত পানি চায়। আর এই চাহিদার সুযোগ নিয়ে আপনি ঘরে বসেই শুরু করতে পারেন একটি লাভজনক ব্যবসা – বিশুদ্ধ পানির ব্যবসা। ছোট পরিসরে শুরু করেও আপনি মাসে ১ থেকে ২ লাখ টাকা আয় করতে পারেন।


---


কেন এই ব্যবসা লাভজনক?


পানি জীবনের অপরিহার্য উপাদান – প্রতিদিনকার চাহিদা


নগর ও গ্রাম দুই জায়গাতেই বিশুদ্ধ পানির সংকট


স্কুল, অফিস, দোকান, বাসাবাড়ি – সবাই পানির ক্রেতা


প্রাথমিক বিনিয়োগ তুলনামূলকভাবে কম


একবার ব্যবসা দাঁড় করাতে পারলে নিয়মিত ইনকাম নিশ্চিত


---


কীভাবে শুরু করবেন বিশুদ্ধ পানির ব্যবসা?


১. ব্যবসার ধরণ নির্ধারণ করুন:


জার পানি সাপ্লাই ব্যবসা (20 লিটার বোতল)


ঘরের ফিল্টার পানি বিক্রি (Jar Filling Station)


পাউচ বা ছোট বোতল পানি সরবরাহ (ব্যবসা-বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান লক্ষ্য করে)


---


২. প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও ইনভেস্টমেন্ট:


মোট আনুমানিক প্রাথমিক খরচ: ১.৫ – ৩ লাখ টাকা


---


৩. লাইসেন্স ও অনুমোদন:


ট্রেড লাইসেন্স (স্থানীয় পৌরসভা/ইউনিয়ন পরিষদ থেকে)


BSTI অনুমোদন (বড় পরিসরে গেলে)


স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অনুমোদন (কিছু এলাকায় প্রয়োজন হতে পারে)


---


ব্যবসার পরিচালনা কৌশল:


১. পানি বিশুদ্ধকরণ ও প্যাকেজিং:


দিনে ২০০–৫০০ লিটার পানি বিশুদ্ধ করে জারে ভর্তি করুন


স্টিকার ও ব্র্যান্ডিং করে বিক্রি করুন


২. হোম ডেলিভারি ও অর্ডার সিস্টেম:


বাসা, দোকান, অফিসে হোম ডেলিভারি


ফোন/হোয়াটসঅ্যাপ/ফেসবুক পেজে অর্ডার নিন


৩. বিক্রয় মূল্য ও লাভ:


দিনে ৫০–১০০ জার বিক্রি করলেই মাসে ১–২ লাখ টাকা পর্যন্ত আয় সম্ভব।


---


মার্কেটিং ও প্রসার:


ফেসবুক পেজ/লোকাল মার্কেটিং


হোম ডেলিভারির সুবিধা দিন


রেফারেল ও ডিসকাউন্ট অফার চালু করুন


প্যাকেজ সাবস্ক্রিপশন চালু করুন (মাসিক পানি ডেলিভারি)


---


কিছু বাস্তবিক পরামর্শ:


পানি বিশুদ্ধ করার গুণমান বজায় রাখুন


পানির টেস্ট রিপোর্ট রাখলে গ্রাহকের আস্থা বাড়বে


নিয়মিত জার ধোয়া ও পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করুন


গ্রাহকের প্রতিক্রিয়া গুরুত্ব সহকারে নিন


---


শেষ কথা:


স্বল্প বিনিয়োগে লাভজনক এবং সমাজে উপকার করা এমন একটি ব্যবসা শুরু করতে চাইলে, বিশুদ্ধ পানির ব্যবসা আপনার জন্য সেরা একটি সুযোগ হতে পারে। এটি শুধু আয়ের মাধ্যম নয়, বরং জনসেবাও বটে। এখনই শুরু করুন এবং গড়ে তুলুন আপনার সফলতা ও আস্থার একটি ব্র্যান্ড।


---


আপনি চাইলে এই আর্টিকেলটি পিডিএফ, ফেসবুক পোস্ট, বা YouTube ভিডিও স্ক্রিপ্ট আকারে তৈরি করে দিতে পারি। প্রয়োজন হলে জানাবেন!


#uttararealestate #property #Uttarkhan #flats #realestate #househunting #BMW #Dhaka #house #land forsake land forsake land 

দেশেই তৈরি হচ্ছে ন্যানো সার

 এক বিঘা জমি চাষে ৪২০০ টাকার ইউরিয়া দরকার হয়। ৯০ টাকা প্রতি বস্তা দরে তা বিদেশ থেকে আমদানি করে সরকার। সেখানে ন্যানো ইউরিয়া ব্যবহারে খরচ হবে মাত্র ২৩০ টাকা। তৈরি হবে দেশেই।


কোনো বস্তুকে ক্ষুদ্র আকারে তৈরি করাকে বলে ন্যানো প্রযুক্তি। ইউরিয়া সারের অণুগুলোকে অতি ক্ষুদ্র আকারে তৈরি করলে সেটি হয় ন্যানো ইউরিয়া। গাছের পাতার ছোট ছোট ছিদ্রকে বলে স্টোমাটা। এই ছিদ্র দিয়ে ন্যানো ইউরিয়া দ্রুত ঢুকতে পারে। পরিমাণ কম, কাজ বেশি।


সাধারণ ইউরিয়ার ৩০-৭০% বৃষ্টির পানিতে ধুয়ে যায়। বাষ্পীভূত হয়েও নষ্ট হয় ব্যপক। কিন্তু ন্যানো ইউরিয়ায় এই সমস্যাটি নেই। গাছে দ্রুত নাইট্রোজেন সরবরাহেও ন্যানো ইউরিয়া এগিয়ে।


ন্যানো ইউরিয়া নিয়ে এর আগেও বহু কাজ হয়েছে। কিন্তু প্রচলিত হয়নি তেমন। সম্প্রতি বাংলাদেশি প্রযুক্তি ব্যবহার করে দেশে বসেই ন্যানো ইউরিয়া তৈরি করেছেন যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. জাভেদ হোসেন খান। সাত বছর গবেষণার ফল এই সার। উল্লেখ্য, তিনি ন্যানো ইউরিয়ার উদ্ভাবক নন।


ইতোমধ্যেই ড. জাভেদের প্রশংসায় পঞ্চমুখ যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন জৈব সার কোম্পানি। একসাথে কাজ করতে চান তারা। 'কোলা বায়ো' নামের একটা প্রতিষ্ঠানের সাথে চুক্তিও সাক্ষর করেছেন ড. জাভেদ। আগামী পাঁচ বছর যৌথভাবে রিসার্চ ও ডেভলপমেন্ট (R&D) চালাবেন তাঁরা। ব্যাখ্যা: বিজ্ঞানপ্রিয়।


#nanotechnology 

©bigyanpriyo

বানী চিরন্তনী ফেইসবুক থেকে নেওয়া

 কাজ শেষে একদিন একজন শ্রমিক পাহাড়ি রাস্তা ধরে সাইকেলে বাড়ি ফিরছিলেন। হঠাৎ দূরে একটি লাল রঙের গাড়িকে থেমে থাকতে দেখে তিনি এগিয়ে গেলেন। সেখানে একজন বৃদ্ধা ভদ্রমহিলা দাঁড়িয়ে আছেন—হতাশ চোখে চারপাশের গাড়িগুলোর দিকে তাকাচ্ছেন। কেউ থামে না, কেউ সাহায্যের হাত বাড়ায় না।😥


লোকটি সাইকেল থেকে নেমে বিনয়ের সাথে জিজ্ঞেস করলেন, “ম্যাডাম, আমি কি আপনাকে কোনোভাবে সাহায্য করতে পারি?”

ময়লা পোশাক আর পরিশ্রমে জীর্ণ শরীর দেখে মহিলার চোখে একধরনের শঙ্কা ফুটে উঠল। কিন্তু লোকটি বুঝতে পেরে বললেন, “আপনি গাড়ির ভেতরে গিয়ে বসুন, বাইরে অনেক ঠান্ডা। আমি চেষ্টা করি টায়ারটা ঠিক করতে।”


ভদ্রমহিলা গাড়ির ভেতরে গিয়ে অপেক্ষা করতে থাকলেন আর জানালার ফাঁক দিয়ে দেখলেন কী নিঃস্বার্থভাবে লোকটা কাজ করছে।

এরপর লোকটি অনেক পরিশ্রম করে টায়ারটি সারাতে সক্ষম হয়। ইতিমধ্যে ভদ্রমহিলা টের পেলেন লোকটি ভালো একজন মানুষ। বুঝতে পারলেন, তিনি যদি না থাকতো তবে পাহাড়ি এই অন্ধকার রাস্তায় তিনি হয়তো বড় কোনো বিপদের সম্মুখীন হতো।


তাই কাজ শেষ হওয়ার পর তিনি লোকটিকে ১০০০ টাকার একটি নোট হাতে দিয়ে বললেন, তুমি আজ আমার জন্য যা করলে তার কোনো মূল্য হয় না তবুও রাখো এটা তোমার ন্যায্য পাওনা। তখন লোকটি মৃদু হেসে ভদ্রমহিলাকে বললেন আমি কাউকে সাহায্য করার বিনিময়ে টাকা নিতে পারব না ম্যাডাম।


আপনি যদি সত্যিই আমাকে সাহায্য করতে চান তবে পরের বার কাউকে সাহায্য করার সময় আমার নামটা মনে করবেন। এই বলে সাইকেল চালিয়ে বিদায় নিলেন। ভদ্রমহিলা ও গাড়ি নিয়ে রওনা দিলেন। খানিকবাদে একটি রেস্তোরাঁয় খাবেন বলে থামলেন।


সেখানে দেখতে পেলেন এক গর্ভবতী মেয়ে সবাইকে খাবার পরিবেশন করছে, আচমকা সেই মেয়েটির হাত থেকে একটি কাঁচের পাত্র পড়ে গেল। ম্যানেজার দৌড়ে এসে ভীষণ বকাবকি করল মেয়েটিকে, এবং জানালো এ টাকা তার মাইনে থেকে কেটে নেওয়া হবে। তখন বয়স্ক ভদ্রমহিলা মনে মনে ভাবলেন….


কতটা টাকার দরকার হলে এই গর্ভবতী মহিলাকে এই অবস্থাতেও রেস্টুরেন্টে চাকরি করতে হয়। তাই তিনি যখন খাবার খেয়ে বিদায় নিলেন, তখন যাওয়ার আগে মেয়েটিকে ডেকে 5 হাজার টাকা গুজে দিলেন, আর মনে মনে লোকটির বলা কথাটি ভাবলেন…..


এতগুলো টাকা টিপস হিসেবে পেয়ে মেয়েটি তড়িঘড়ি করে বাড়িতে ফিরলো ও দেখলো তার স্বামী তখন রাতের খাবার তৈরি করতে ব্যস্ত। মেয়েটি ঢুকেই স্বামীর হাতে ৫০০০ টাকা দিয়ে সমস্ত ঘটনা তাকে জানানোর পর হঠাৎ তার স্বামী বলে উঠলো, আচ্ছা ভদ্রমহিলার গাড়ির রংটা কি লাল ছিল? স্বামীর প্রশ্নে মেয়েটি অবাক হয়ে জিজ্ঞাসা করল হ্যাঁ কিন্তু তুমি কি করে জানলে?


লোকটি তখন মৃদু হেসে উপরের দিকে তাকিয়ে সৃষ্টিকর্তাকে একটা ধন্যবাদ দিয়ে তার স্ত্রীকে বলল.. আসলে কি জানো! কে ভালো কাজ করছে, আর কে খারাপ কাজ করছে, সৃষ্টিকর্তা সব দেখেন।

 মানুষ তার ভালো কাজের ফল ঠিক, কোন না কোন ভাবে এই পৃথিবীতেই ফেরত পেয়ে যায়।🙂

⛔তিস্তার চর⛔ (✍️গল্পটি পাঠিয়েছেন রংপুরের, গঙ্গাচড়া উপজেলা থেকে মোঃ রাগিব হাসান তাছিন✍️) সময়টা ২০১৭ সাল। আমার বয়স তখন ১৬। আমরা থাকি মহিপুরে, তিস্তা ব্রিজের পাশেই। সেসময় ব্রিজের নির্মাণ শেষ, কিন্তু উদ্বোধন হয়নি। নদী তখন একেবারে শুকনো—নিচে পানি নেই, কেবল বিস্তীর্ণ ধূসর চর আর চরজমি। শুষ্ক মৌসুমে সেই চড়ে রসুন, পেঁয়াজ আর আলুর চাষ করি আমরা—আমি আর আমার পরিবার। আমি একজন কৃষক পরিবারের সন্তান, মাটির ঘ্রাণ আমার রক্তে। রসুন তুলার পর কয়দিন তা রোদে শুকানোর দরকার হয়, আর তাই আমরা নদীর চড়ে ধাপরি বানিয়ে রাতে পাহারা দিই। প্রথম রাতে চাচা একা ছিলেন সেখানে। পরদিন সকালে তার চোখ লাল, মুখ থমথমে—কিছু একটা যেন গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে তাকে। কিন্তু তখনও কিছু বলেননি আমাকে। আমি বুঝিনি, আমি কোন বিভীষিকার দিকে এগিয়ে যাচ্ছি। চাচা পরদিন জানালেন যা হয়েছিল—রাত দেড়টার দিকে, চারদিক যখন নিঃশব্দ আর কুয়াশায় মোড়া, তখন হঠাৎ ধাপরির চারপাশে ঠাণ্ডা বাতাস বয়ে যেতে থাকে। তারপর... কানে আসে একটি শিশুর কান্না। না, দূর থেকে নয়—ঠিক যেন ধাপরির ভেতরেই কেউ কাঁদছে! সেই কান্না করুণ, গলা ধরে আসে এমনভাবে বিলাপ করে। বুকের ভেতর হিমস্রোত বইয়ে দেয় সে আওয়াজ। চাচা মাথার নিচে রাখা লাইট জ্বালাতে গিয়ে দেখেন—বাতি চলে গেছে। চারদিক অন্ধকার। এমন সময়—ধুপ! ধুপ! ধুপ! করে লোহার পেটানোর শব্দ আসে—প্রচণ্ড জোরে, যেন কেউ কামারশালায় হাতুড়ি চালাচ্ছে! শব্দটা আসে ধাপরির একেবারে মাথার উপর থেকে! চাচা কোনোদিকে না তাকিয়ে শুধু ফিসফিস করে আয়াতুল কুরসি পড়তে থাকেন—জীবন নিয়ে বাঁচার শেষ চেষ্টায়। আমার কিছু না জানিয়ে চাচা আমাকে সাথে করে নিয়ে গেলেন। আমি ভাবলাম, মজা করতে যাচ্ছি। কে জানতো, সেই রাতে আমার বিশ্বাসটাই পাল্টে যাবে। রাত বাড়তে থাকে। প্রথমে চারপাশ নিঃস্তব্ধ। আমরা ঘুমিয়ে পড়ি। হঠাৎ আমার ঘুম ভাঙে—একটি শিশু কাঁদছে! এবার আমি নিজে শুনি। আমার পুরো শরীর হিম হয়ে যায়। চোখ খুলতেই দেখি চাচা উঠে বসে আছেন, ঠোঁটে আয়াত চালু, চোখ স্থির। “এইটা কি...?” আমি জিজ্ঞেস করতেই, চাচা হাত দিয়ে চুপ করালেন। তারপর—ধুপ! ধুপ! ধুপ! করে সেই লোহার শব্দ আবার! এবার এতটা জোরে যে ধাপরির বাঁশ কেঁপে ওঠে। বাইরে বের হয়ে দেখি—চারদিক অন্ধকার, কিন্তু সেই শব্দ ঠিক আমাদের ধাপরির উপরেই এক শুকনো বাঁশের মাথা থেকে আসছে! আমি আকাশের দিকে তাকাই—কিছুই দেখা যায় না, কিন্তু শব্দটা মাথার উপর! ঠিক তখনই চাচার চোখ বড় হয়ে ওঠে। আমি তার দৃষ্টির দিকে তাকাই—ব্রিজের নিচে কিছু একটা নড়ছে। একটা লোক। সাদা জামা পরে। তার হাতে একটা শিশু। গলা চেপে ধরেছে শিশুটার। সে কাঁদছে, চিৎকার করছে। কিন্তু লোকটার মুখ স্পষ্ট নয়—মাথা সামান্য নিচু, চোখ একেবারে অন্ধকার। শরীর নিঃস্তব্ধ, কিন্তু তার হাতের চাপ শিশুটার গলায় বাড়তে থাকে! আমার চিৎকার করে ওঠার কথা—কিন্তু গলা শুকিয়ে যায়। তারপর হঠাৎ নদীর শুকনো মাঝখান থেকে এক অদ্ভুত আলো—সোনালী রঙের, ধীরে ধীরে ভেসে উঠছে যেন একটা নৌকা! কিন্তু নদী তো শুকনো! সেখানে পানি নেই! তবুও আলো কাঁপে, যেন নৌকাটা ধীরে ধীরে ভেসে যাচ্ছে। চাচা আমাকে টেনে ধাপরির ভেতরে নেন। দরজা আটকে দোয়া পড়তে থাকি দুজনে। তবুও ধুপ! ধুপ! শব্দটা যেন ধাপরির ভেতরেই ঢুকে আসে। শিশুর কান্না এবার স্পষ্টতর—ঠিক কানের পাশে। আমরা হাঁপাতে হাঁপাতে তিলাওয়াত পড়ছি, তবুও সেই শব্দ থামে না। ঠিক ৩টা ৩০ মিনিটের সময়—এক ঝটকায় চারপাশ কেঁপে উঠে এক প্রবল ঝড়ো হাওয়া বয়ে যায়, আর তারপর—সব কিছু নিস্তব্ধ। কোনো শব্দ নেই। বাতাস নেই। শুধু বুকের ভেতরে ধড়ফড়। আমি আর কখনো চড়ে রাত কাটাইনি। এখনও চোখ বন্ধ করলে সেই শিশুর কান্না শুনি, সেই সাদা ছায়ার মুখ মনে পড়ে—যার চোখ ছিল না, কিন্তু তাকিয়ে ছিল যেন আমার আত্মার গভীরে। ওটা কে ছিল? আমি জানি না। জানার সাহসও আর কখনো হয় না। শুধু জানি—তিস্তার চরের রাত এখনো জেগে থাকে, কারও অপেক্ষায়।

 ⛔তিস্তার চর⛔

(✍️গল্পটি পাঠিয়েছেন রংপুরের, গঙ্গাচড়া উপজেলা থেকে  মোঃ রাগিব হাসান তাছিন✍️)


সময়টা ২০১৭ সাল। আমার বয়স তখন ১৬। আমরা থাকি মহিপুরে, তিস্তা ব্রিজের পাশেই। সেসময় ব্রিজের নির্মাণ শেষ, কিন্তু উদ্বোধন হয়নি। নদী তখন একেবারে শুকনো—নিচে পানি নেই, কেবল বিস্তীর্ণ ধূসর চর আর চরজমি। শুষ্ক মৌসুমে সেই চড়ে রসুন, পেঁয়াজ আর আলুর চাষ করি আমরা—আমি আর আমার পরিবার। আমি একজন কৃষক পরিবারের সন্তান, মাটির ঘ্রাণ আমার রক্তে।


রসুন তুলার পর কয়দিন তা রোদে শুকানোর দরকার হয়, আর তাই আমরা নদীর চড়ে ধাপরি বানিয়ে রাতে পাহারা দিই। প্রথম রাতে চাচা একা ছিলেন সেখানে। পরদিন সকালে তার চোখ লাল, মুখ থমথমে—কিছু একটা যেন গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে তাকে। কিন্তু তখনও কিছু বলেননি আমাকে।


আমি বুঝিনি, আমি কোন বিভীষিকার দিকে এগিয়ে যাচ্ছি।


চাচা পরদিন জানালেন যা হয়েছিল—রাত দেড়টার দিকে, চারদিক যখন নিঃশব্দ আর কুয়াশায় মোড়া, তখন হঠাৎ ধাপরির চারপাশে ঠাণ্ডা বাতাস বয়ে যেতে থাকে। তারপর... কানে আসে একটি শিশুর কান্না। না, দূর থেকে নয়—ঠিক যেন ধাপরির ভেতরেই কেউ কাঁদছে! সেই কান্না করুণ, গলা ধরে আসে এমনভাবে বিলাপ করে। বুকের ভেতর হিমস্রোত বইয়ে দেয় সে আওয়াজ।


চাচা মাথার নিচে রাখা লাইট জ্বালাতে গিয়ে দেখেন—বাতি চলে গেছে। চারদিক অন্ধকার। এমন সময়—ধুপ! ধুপ! ধুপ! করে লোহার পেটানোর শব্দ আসে—প্রচণ্ড জোরে, যেন কেউ কামারশালায় হাতুড়ি চালাচ্ছে! শব্দটা আসে ধাপরির একেবারে মাথার উপর থেকে!


চাচা কোনোদিকে না তাকিয়ে শুধু ফিসফিস করে আয়াতুল কুরসি পড়তে থাকেন—জীবন নিয়ে বাঁচার শেষ চেষ্টায়।


আমার কিছু না জানিয়ে চাচা আমাকে সাথে করে নিয়ে গেলেন। আমি ভাবলাম, মজা করতে যাচ্ছি। কে জানতো, সেই রাতে আমার বিশ্বাসটাই পাল্টে যাবে।


রাত বাড়তে থাকে। প্রথমে চারপাশ নিঃস্তব্ধ। আমরা ঘুমিয়ে পড়ি। হঠাৎ আমার ঘুম ভাঙে—একটি শিশু কাঁদছে! এবার আমি নিজে শুনি। আমার পুরো শরীর হিম হয়ে যায়। চোখ খুলতেই দেখি চাচা উঠে বসে আছেন, ঠোঁটে আয়াত চালু, চোখ স্থির।


“এইটা কি...?” আমি জিজ্ঞেস করতেই, চাচা হাত দিয়ে চুপ করালেন।


তারপর—ধুপ! ধুপ! ধুপ! করে সেই লোহার শব্দ আবার! এবার এতটা জোরে যে ধাপরির বাঁশ কেঁপে ওঠে। বাইরে বের হয়ে দেখি—চারদিক অন্ধকার, কিন্তু সেই শব্দ ঠিক আমাদের ধাপরির উপরেই এক শুকনো বাঁশের মাথা থেকে আসছে!

আমি আকাশের দিকে তাকাই—কিছুই দেখা যায় না, কিন্তু শব্দটা মাথার উপর!


ঠিক তখনই চাচার চোখ বড় হয়ে ওঠে। আমি তার দৃষ্টির দিকে তাকাই—ব্রিজের নিচে কিছু একটা নড়ছে।


একটা লোক। সাদা জামা পরে। তার হাতে একটা শিশু। গলা চেপে ধরেছে শিশুটার। সে কাঁদছে, চিৎকার করছে। কিন্তু লোকটার মুখ স্পষ্ট নয়—মাথা সামান্য নিচু, চোখ একেবারে অন্ধকার। শরীর নিঃস্তব্ধ, কিন্তু তার হাতের চাপ শিশুটার গলায় বাড়তে থাকে!


আমার চিৎকার করে ওঠার কথা—কিন্তু গলা শুকিয়ে যায়।


তারপর হঠাৎ নদীর শুকনো মাঝখান থেকে এক অদ্ভুত আলো—সোনালী রঙের, ধীরে ধীরে ভেসে উঠছে যেন একটা নৌকা! কিন্তু নদী তো শুকনো! সেখানে পানি নেই! তবুও আলো কাঁপে, যেন নৌকাটা ধীরে ধীরে ভেসে যাচ্ছে।


চাচা আমাকে টেনে ধাপরির ভেতরে নেন। দরজা আটকে দোয়া পড়তে থাকি দুজনে। তবুও ধুপ! ধুপ! শব্দটা যেন ধাপরির ভেতরেই ঢুকে আসে। শিশুর কান্না এবার স্পষ্টতর—ঠিক কানের পাশে।


আমরা হাঁপাতে হাঁপাতে তিলাওয়াত পড়ছি, তবুও সেই শব্দ থামে না।


ঠিক ৩টা ৩০ মিনিটের সময়—এক ঝটকায় চারপাশ কেঁপে উঠে এক প্রবল ঝড়ো হাওয়া বয়ে যায়, আর তারপর—সব কিছু নিস্তব্ধ।


কোনো শব্দ নেই। বাতাস নেই। শুধু বুকের ভেতরে ধড়ফড়।


আমি আর কখনো চড়ে রাত কাটাইনি।


এখনও চোখ বন্ধ করলে সেই শিশুর কান্না শুনি, সেই সাদা ছায়ার মুখ মনে পড়ে—যার চোখ ছিল না, কিন্তু তাকিয়ে ছিল যেন আমার আত্মার গভীরে।


ওটা কে ছিল?


আমি জানি না। জানার সাহসও আর কখনো হয় না।


শুধু জানি—তিস্তার চরের রাত এখনো জেগে থাকে, কারও অপেক্ষায়।

ছবি ও লেখা দ্যা ওয়াল নিউজ থেকে সংগৃহীত

 কল্পনা পেশায় ছিলেন পরিচালক। ভূপেনের গান মুগ্ধ করেছিল তাঁকে। সেখান থেকেই প্রেমে পড়া। গায়কের বয়স তখন ৮৩। চূড়ান্ত অসুস্থ হয়ে এলেন মুম্বইয়ে।


যদি পাওয়া যায় সেই সম্পর্কের নামকরণ কী হয়? ভূপেন হাজারিকা আর কল্পনা লাজমির সম্পর্ক হয়তো অনেকটা সেরকম। কল্পনা জীবিত থাকলে ২৫-এ তাঁর বয়স হত ৭১। ভূপেন হাজারিকার সঙ্গে তাঁর ছিল প্রায় ৩০ বছরের ফারাক। অথচ প্রথম দিন থেকেই মানুষটির প্রতি অনুরক্ত ছিলেন কল্পনা!


কল্পনা পেশায় ছিলেন পরিচালক। ভূপেনের গান মুগ্ধ করেছিল তাঁকে। সেখান থেকেই প্রেমে পড়া। গায়কের বয়স তখন ৮৩। চূড়ান্ত অসুস্থ হয়ে এলেন মুম্বইয়ে। স্ত্রী প্রিয়ম্বদা পটেলের সঙ্গে ভূপেনের সম্পর্কের অবনতি ততদিনে ঘটেছে। নিজের সব সঞ্চয় বাজি রেখে গায়ককে মুম্বইয়ের হাসপাতালে ভর্তি করান কল্পনা। তিলতিল করে জমানো সব কিছু খরচ করতে একটুও ভাবেননি তিনি। অথচ ভাগ্যের কী পরিহাস! ভূপেনকে ফেরাতে পারেননি কল্পনা। কিছু বছর পর তিনি যখন অসুস্থ হন, হাতে নেই কানাকড়িও। প্রথম দিকে কিছু বন্ধু এগিয়ে আসে। পরে হাত ছাড়ে তাঁরাও। হাসপাতালে কষ্টে-যন্ত্রণায় মাত্র ৬৪ বছরেই মারা যান কল্পনা।


মাত্র ১৭ বছর বয়সে গায়কের সঙ্গে দেখা হয় কল্পনার। সে সময় গায়কের বয়স ৪৬ বছর। প্রথম দেখাতেই ভালবাসা। ফোনে চলত কথা। ঠিক দুই বছর ডকু ছবি বানানোর অজুহাতে কলকাতায় চলে আসেন কল্পনা। একসঙ্গে থাকতে শুরু করেন গায়কের সঙ্গে। গায়কের মা যদিও এই সম্পর্কের কথা মেনে নেননি। বোঝানোর চেষ্টা করেছিলেন একাধিকবার। মেয়ে শোনেননি।ি


কল্পনার মা ললিতাদেবী একবার সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, "আমরা খুব অবাক হয়েছিলাম। ওর বাবা ওকে মিস করত। কল্পনা কলকাতায়। আমরা ওকে আনতে যাই। ও তখন মাত্র ১৯। ও আসেনি। ভূপেনদা ওর বাবার বয়সী ছিলেন।"


কী ছিল তাঁদের মধ্যে? শারীরিক কামনা? উত্তর, না! যা ছিল তা হয়তো নিজেও জানতেন না কল্পনা! প্রেম, ভালবাসার ঊর্ধ্বে উঠে এ সম্পর্ক দাঁড়িয়ে ছিল আস্থা ও বিশ্বাসের উপর। একবার এক সাক্ষাৎকারে কল্পনা বলেছিলেন, "জানি না আমাদের মধ্যে কী আছে, তবে ভূপেন আমার জীবনটা কেমন যেন বদলে দিয়েছে। আমি জানি কোনও সম্পর্কেই এভাবে নিজেকে উজাড় করে দেওয়া ঠিক নয়। কিন্তু ও আমার জন্ম-জন্মান্তের সঙ্গী।" কল্পনা জানতেন, ভূপেনের হাতে বেশি সময় নেই। বিয়ে-সন্তান-সম্পত্তির প্রত্যাশী ছিলেন না তিনি। আক্ষেপ ছিল একটাই, 'ইশ যদি আরও কিছু বছর মানুষটাকে পেতাম'।


নিজের কথা না ভেবে যখন কার্যত বাড়ি-ঘর বেচে ভূপেনের চিকিৎসা করাচ্ছেন কল্পনা তাঁকে সাবধান করেন শুভান্যুধায়ীরা। তিনি বলেছিলেন, "কী হয়েছে পয়সা নেই তো? মরে যাব... আবার ওর সঙ্গে দেখা হবে আমার।"


লতা মঙ্গেশকর ও ভূপেন হাজারিকার বন্ধুত্ব নিয়ে একসময় প্রবল চর্চা হয়েছে। এমনকি প্রিয়ম্বদাও এ নিয়ে মন্তব্য করতে ছাড়েননি। লতাকে নিয়ে তাঁর ও প্রিয়ম্বদার মধ্যে টানাপড়েনের ছবি ফুটে উঠেছিল ভূপেন হাজারিকার আত্মজীবনী 'আমি এক যাযাবর'-এ। ২০১২ সালে ভূপেনবাবুর মৃত্যুর বর্ষপূর্তিতে প্রিয়ম্বদা সরাসরি দাবি করেন, লতাজি কলকাতায় এলে ভূপেনবাবুকে আর কাছে পাওয়া যেত না। না, হিংসে-রাগ নয়। বরং সেই সময়ও কল্পনা দাঁড়িয়েছিলেন ভূপেনের পাশেই।


যাযাবরের সঙ্গে দিনযাপনের ইচ্ছে ছিল কল্পনার। প্রতি মুহূর্তে তাঁকে পাশে চেয়েছিলেন তিনি। অন্যদিকে ভূপেন হাজারিকা কোনওদিনই বিয়ে করতে চাননি কল্পনাকে। লিভ-ইন সঙ্গী তকমাতেই সন্তুষ্ট ছিলেন কল্পনা। ২০১১ সালে মারা যান 'ব্রহ্মপুত্রের পাখি'। পাখির অমোঘ আকর্ষণে তাঁর মৃত্যুর মাত্র ৭ বছরের মাথায় প্রয়াত হন কল্পনাও! কিডনি ক্যানসারে কার্যত বিনা চিকিৎসায় চলে যান তিনি।


ছবি ও লেখা দ্যা ওয়াল নিউজ থেকে সংগৃহীত 🙏 

#highlight #photochallenge @highlight

ডিলিটেড কল — পর্ব ৫ (শেষ পর্ব): 

 ডিলিটেড কল — পর্ব ৫ (শেষ পর্ব): 

শিরোনাম : “The Unlock”

QR কোডটা স্ক্যান করার পর, রাফির ফোনে ভেসে আসে অদ্ভুত লাইন:


“binding user_identity…”


সে যতই ফোন রিস্টার্ট করুক, লাইনটা আবার ফিরে আসে।

একটা নতুন অ্যাপ—Unknown App Installed—যেটা না ইনস্টল করা যায়, না ফোর্স স্টপ।


অ্যাপ খুলতেই দেখা যায়:

একটা টাইমার…

“Unlocking in: 7 Days 00:00:00”


প্রথম দিন ক্যামেরা নিজে চালু হয়। ভিডিওতে সে দেখে—

নিজেকে একটা আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে… কিন্তু তার চোখ নেই, শুধু গভীর অন্ধকার।

দ্বিতীয় দিন: তার গলার স্বর বদলে যায়। মাঝে মাঝে ফিসফিস করে এমন সব ভাষায়, যা সে জানে না।


তৃতীয় দিন: ফোনের সামনে দাঁড়িয়ে সে বলে:


"I am not just backing up data... I am backing up souls."


চতুর্থ দিনে ফোনের গ্যালারিতে একগাদা QR কোডের স্ক্রিনশট—

সবগুলো আলাদা ডিজাইন, আর মাঝখানে শুধু একটি চোখ।

সে যেটা ডিলিট করছিল, সে আবার ফিরে আসছে।


পঞ্চম দিনে সে রুমে একা বসে থাকার সময়, হঠাৎ দরজা খুলে যায়।

কেউ নেই।

কিন্তু সে ভিডিওতে দেখে—কেউ তার পেছনে দাঁড়িয়ে ছিল।


ষষ্ঠ দিনে একটা নতুন ফোল্ডার তৈরি হয়—“/mirror_self/”

তার ভিতর একটাই ফাইল: "goodbye_real_rafi.mp4"


সে নিজে ভিডিওটা খোলে—

ভিডিওতে রাফি নিজে কাঁদছে, বলছে:


“আমি যদি থাকিও, আমি আর আমি নেই। এটা যদি কেউ দেখে—ডিলিট করিস না… কারণ এটা তোকেও খুঁজে নেবে।”


সপ্তম দিন…

অ্যাপের টাইমার শূন্যে নামল।


হঠাৎ করে ফোন বন্ধ হয়ে যায়।

আবার চালু হতেই স্ক্রিনে একটা লাইন:


“Transferring user shell… 87%”


স্ক্রিন সাদা হয়ে যায়।

তারপর অন্ধকার।

তার ফোনে আবার সব কিছু স্বাভাবিক।


না QR কোড আছে, না ফোল্ডার, না ভিডিও।

সব মুছে গেছে।


শুধু একটা পরিবর্তন—

রাফির গলার স্বর বদলে গেছে।

সে বারবার একই কথা বলে:


“I’m still online… aren’t you?”


শেষ দৃশ্যে তার বন্ধু জাহিদ QR কোডে মোবাইল তাক করতেই, ফোন হ্যাং করে।

স্ক্রিনে লেখা ওঠে:


“New binding request detected… user: j.zahid”


শেষ নয়, এ এক নতুন শুরু।

“ভবিষ্যৎ সব সময় ডাউনলোডযোগ্য নয়—কখনো কখনো সেটা নিজে থেকেই ইনস্টল হয়ে যায়।”

রেকর্ড এবং এচিভমেন্টঃ

 লেখাটা যিনি লিখেছেন তাকে ধন্যবাদ এত সুন্দরভাবে ব্যাপার‍টা ব্যাখা করার জন্য। আমরা কবে যে আমাদের ভালটা বুঝবো!!


✅ রেকর্ড এবং এচিভমেন্টঃ

----------------------------------

রেকর্ড কাকে বলি আমরা?

যখন এমন কিছু করি যা আগে কেউ করে নি, তাঁকেই রেকর্ড বলা হয়। কিন্তু রেকর্ড মানেই কি শ্রেষ্ঠত্ব?

মেসি এক পঞ্জিকা বর্ষে ৯১ গোল করেছে, এটা রেকর্ড।

আবার কুষ্টিয়ার এক লোক ৯১ মিটার লম্বা আর্জেনটিনার পতাকা বানিয়েছে, এটাও রেকর্ড।

দুটো রেকর্ড কি এক?


রেকর্ড যদি কোন এচিভমেন্ট না দেয়, তাহলে সে রেকর্ডের মূল্য কি?

লক্ষ কিংবা কোটি লোক এক সাথে জাতীয় সংগীত গাইল, এটা কি এচিভমেন্ট?

সিংগাপুর বর্তমান পৃথিবীতে প্রথম ধনী পাঁচ দেশের একটি।

এর মানে কি?

এর মানে ওরা স্বচ্ছল।

এর মানে ওদেরকে কুমড়া দিয়ে পিয়াজু বানাতে হয় না।

এর মানে ওরা কাঁঠাল খায় এবং বীফ বার্গার খায়, কিন্তু কাঁঠালের বিফ বার্গার খায় না।


ওদের দেশে ৬০০ টাকা গরুর মাংস বিক্রি করলে লাইন পরে না, এবং ওদের দেশে টিসিবির ট্রাক নেই।


কিন্তু সিংগাপুর দেশটির কোন খনি নেই, চাষ যোগ্য জমিও নেই। তারপরেও ওরা ধনী দেশের তালিকায় ১-৫ এর মধ্যে থাকে।

কিন্তু ওরা কিন্তু আমাদের থেকে পিছিয়ে।


কেনো? কারণ ওদের কোটি লোক এক সাথে জাতীয় সংগীত গায়নি।


কেনো? কারণ ওদের এত জনসংখ্যা নেই। চীন ইচ্ছা করলে ১০ কোটি লোক দিয়ে জাতীয় সংগীত এক সাথে গাওয়াতে পারে।


তাহলে করে না কেনো?

কারণ চীনে এত ছাগল নেই যাঁদের বুঝানো সম্ভব যে জাতীয় সংগীত এক সাথে গেয়ে রেকর্ড করা একটা এচিভমেন্ট।


আজকেই বিশ্বের সেরা ১০০০ বিশ্ববিদ্যালয়ের কিউএস এর একটি রেংকিং বের হয়েছে। এতে ভারতের ৪৯ টি বিশ্ববিদ্যালয় স্থান পেয়েছে। বিশ্বের সবচেয়ে ব্যর্থ রাষ্ট্র পাকিস্তানের ১৪ টি বিশ্ববিদ্যালয় স্থান পেয়েছে আর উন্নয়নের রোল মডেল বাংলাদেশের মাত্র ৩ টি বিশ্ববিদ্যালয় স্থান পেয়েছে।


আবার আমরা আরেকটি রেকর্ড করেছি। মিঠামইনে নববর্ষ উপলক্ষ্যে ১৪ কিমি দীর্ঘ আলপনা তৈরী করেছি। এর উদ্বোধনে ছিলেন আইসিটি মন্ত্রী। কারণ এটি একটি এচিভমেন্ট। একই মন্ত্রী ইভ্যালির উদ্বোধনীতে বলেছিলেন যে ইভ্যালি হবে আমাজন।


যা হোক, এখন একটা কথা ভাবুন। কোনটা বেশী সম্মানজনক?

১০০০ বিশ্ববিদ্যালয়ে মাত্র তিনটির স্থান পাওয়া? নাকি ১৪ কিমি আলপনা?


আমাদের টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া হলো সর্বোচ্চ দুরত্ব, এবং তা ৯০০ কিমি। চীন, অস্ট্রেলিয়া এমনকি ভারতে কয়েক হাজার কিলোমিটার লম্বা হাইওয়ে রয়েছে। ওরা ইচ্ছা করলেই তা এক রাতে পেইন্ট করে গিনেজ ওয়ার্ল্ড বুকে রেকর্ড করতে পারে।


তবে তারা তা করে না কেনো?

কারণ ওদের দেশে গাধা জনগণের সংখ্যা কম। ওদের সরকার পয়সা খরচ করে তাদের বুঝাতে পারবে না যে এটা এচিভমেন্ট। যেমন ওরা কখনোই তিন হাজার কোটি টাকা মহাশূন্যে উড়িয়ে দিবেনা শুধু রেকর্ড স্যাটেলাইট পাঠানোর জন্য।


আমদের দেশের সত্যিকারের উন্নয়ন কোটি কোটি বিদেশী কামলা আর দেশী গার্মেন্টস কামলাদের জন্য। এসব কামলাদের বাইরে আমাদের কিছু নেই।


এসব কামলাদের টাকা খরচ করেই আমরা ১৪ কিলোমিটারের গিনেজ রেকর্ড করি, কোটি কন্ঠে জাতীয় সংগীত গাই। কিন্তু ১৮ কোটি জনসংখ্যার রোল মডেল দেশের মাত্র তিনটা বিশ্ববিদ্যালয় জায়গা করে নিতে পারে।


রেকর্ড আর এচিভমেন্টের পার্থক্য বুঝতে না পারলে আমরা শুধুই মধ্যপ্রাচ্যে গিয়ে ঝাড়ু দিতে পারব আর দেশে দর্জির কাজ করতে পারব। কখনোই সুন্দর পিচাই সৃষ্টি করতে পারব না।


(সংগৃহীত পোস্ট)০

এমন স্থান কিন্তু বাংলাদেশে একটাই! 

 এমন স্থান কিন্তু বাংলাদেশে একটাই! 


এতোদিন বরিশাল বিভাগের ৩ জেলা (বরগুনা, পিরোজপুর ও ঝালকাঠি) মিলনস্থল দেখে অবাক হয়েছেন, তাইতো! কিন্তু বাংলাদেশে এমন একটি জায়গা আছে যেখানে ৩ বিভাগের, ৩ জেলা, ৩ উপজেলা এবং ৩ নদী মিশেছে। অথচ এটা অনেকটা অজানা, তেমন রিপোর্ট হয়নি,  তাই  ভাইরালও হয়নি। 

হ্যাঁ ঢাকা বিভাগের গোপালগঞ্জ জেলা, খুলনা বিভাগের বাগেরহাট জেলা ও বরিশাল বিভাগের পিরোজপুর জেলা মিশেছে এখানে! সাথে মধুমতি নদী, কালিগঙ্গা নদী আর ভারানি খাল/নদী মিশেছে এখানে। মিশেছে ৩ উপজেলাও। এটাই আমাদের ত্রিমোহোনা! এখানেই রয়েছে একসময়ের নদীবন্দর/স্টিমার ঘাট গোপালগঞ্জের বাঁশবাড়িয়া বন্দর, বাগেরহাটের  শৈলদাহ বাজার/বন্দর আর পিরোজপুরের ঝনঝনিয়া ঘাট। ট্রলারে চেপে মাত্র ৫ মিনিটে ঘুরে আসতে পারবেন এই ৩ বিভাগের ৩ জেলা, ৩ নদী আর ৩ বিভাগের, ৩ জেলার ৩ বাজার ও নৌ-বন্দর!

এখানেই কেটেছে আমার শৈশব, কৈশোর, প্রাইমারি আর হাইস্কুল।

সকাল ৭টার সংবাদ  তারিখ : ২৬-০৪-২০২৫ খ্রি:

 সকাল ৭টার সংবাদ 

তারিখ : ২৬-০৪-২০২৫ খ্রি:


আজকের সংবাদ শিরোনাম:


রোমান ক্যাথলিক ধর্মগুরু পোপ ফ্রান্সিসের শেষকৃত্যানুষ্ঠান আজ - ভ্যাটিকানে পৌঁছে মরদেহের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করলেন প্রধান উপদেষ্টা।


সকল সম্প্রদায়ের অধিকার রক্ষাসহ অসাম্প্রদায়িক দেশ গড়ে তোলাই অন্তর্বর্তী সরকারের লক্ষ্য - রাঙ্গামাটিতে বললেন পার্বত্য উপদেষ্টা।


জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে স্থানীয় সরকার নির্বাচন দেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমিরের আহ্বান।


বর্ষা মৌসুমে ডেঙ্গুর প্রকোপ মোকাবেলায় আগেভাগেই অভিযান শুরু করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন।


আইপি এবং সঙ্গীত: আইপির তাল অনুভব করুন -এই প্রতিপাদ্যে নানা কর্মসূচীর মধ্যদিয়ে দেশে পালিত হচ্ছে বিশ্ব মেধাসম্পদ দিবস।


মার্কিন রাষ্ট্রদূত স্টিভ উইটকফ এবং রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত - রাশিয়া-ইউক্রেন দ্রুতই শান্তি চুক্তিতে পৌঁছাবে - আশাবাদ ডোনাল্ড ট্রাম্পের।


অনূর্ধ্ব-১৯ একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সিরিজের প্রথমটিতে আজ স্বাগতিক শ্রীলংকার মুখোমুখি হচ্ছে বাংলাদেশ।

শুক্রবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২৫

আমার স্ত্রীর গলায় যেদিন স্বর্ণের চকচকে সীতা হারটা দেখি সেদিনই আমার কেমন যেন সন্দেহ হয়।আমি তাকে জিজ্ঞেস করি।বলি,' এই হার তুমি কোথায় পেলে তনু?'

 আমার স্ত্রীর গলায় যেদিন স্বর্ণের চকচকে সীতা হারটা দেখি সেদিনই আমার কেমন যেন সন্দেহ হয়।আমি তাকে জিজ্ঞেস করি।বলি,' এই হার তুমি কোথায় পেলে তনু?'

তনু বললো , সে কিনেছে।

আমি একেবারে চমকে উঠি।এতো টাকা সে কোথায় পাবে? এরকম একটা হারের মূল্য অনেক টাকা। তার তো এটা কেনার সামর্থ্য নাই।

ও আমার দিকে তাকিয়ে শব্দ করে হেসে উঠলো। তারপর বললো,' একেবারে আসল গোল্ডের মতো দেখা যায় তাই না?'

আমি বললাম,' আসলই তো এটা।'

তনু আগের চেয়ে আরো জোরে হাসে। তারপর বলে,' এটা ইমিটেশনের। কিন্তু তুমি চিনলে না। এই জগতে আসল নকল চেনা অতো সহজ না বুঝলে!'

তারপর আমি আর কথা বাড়াইনি। বুঝতে পেরেছি এটা আসলের মতোই দেখতে চকচকে।রং দেয়া। আমি চিনতে পারিনি। কিন্তু তনুর বলা ওই কথাটা বার বার আমার কানে বাজতে লাগলো।

এই জগতে আসল নকল চেনা অতো সহজ না!

'

কিন্তু এর কদিন পরেই যখন আমার স্ত্রীর কাছে  ভালো দামের একটা ফোন দেখি তখন আরো বেশি খটকা লাগে।আমি জিজ্ঞেস করি, 'এতো দামের ফোন কোথায় পেলে তুমি?'

তনু হাসে। তারপর বলে, তার এক বান্ধবী অস্ট্রেলিয়ায় থাকে। ওখান থেকে এটা পাঠিয়েছে।

আমি বলি, ' ভালো। এমন বান্ধবী থাকা দরকার।আমার যদি এমন ধনী একটা বন্ধু বান্ধব থাকতো!'

তনু বলে,' এমন ভাবে বলছো কেন? বান্ধবী যদি একটা ফোন গিফট করে তবে কী এটা অন্যায় হয়ে যায়? এতে মহা ভারত অশুদ্ধ হয়ে যায়? ' 

আমি বললাম,' আমি কী এই কথা বলেছি তনু?'

তনু আরো তেলেবেগুনে জ্বলে ওঠে।গলা বাড়িয়ে বলে ,' সবাই কী তোমার মতো ছোটলোক নাকি? তোমার মতো ফকির মিসকিন সবাই? দু' টাকার চাকরি করো। স্ত্রীকে ঠিকমতো কাপড় চোপড় টা দিতে পারো না। ভালো একটা রেস্টুরেন্টে নিয়ে খাওয়াতে পারো না।কেউ কিছু উপহার দিলে এটা নিয়ে আবার সন্দেহ করো।'

আমি অবাক হলাম।এটা আবার কোন ধরনের আচরণ?

আমি ইচ্ছে করেই আর কথা বাড়ালাম না।চুপ করে রইলাম। সে তার যা ইচ্ছে তাই বকে গেল। এরপর দু তিনদিন আমার সঙ্গে কোন রকম কথাই বললো না। আলাদা বিছানায় শুইলো।

কথা বললো আরো চারদিন পর। তখন অবশ্য সরি বললো। তার এমন উদ্ধত আচরণের জন্য সে দুঃখ প্রকাশ করলো। বললো, আর এরকম হবে না। সেদিন রাগ উঠে গিয়েছিল তার।

এভাবেই সময় বয়ে যেতে লাগলো।তনুকে আমি একটুও বুঝতে পারি না। মাঝেমধ্যে সে খুব আনন্দিত থাকে। আবার মাঝেমধ্যে তার ভীষণ মন ভার। আমার সঙ্গে ঝগড়া করে যে মন খারাপ হয় বিষয়টা এরকম না। আবার আমার কোন ভালো আচরণের জন্য যে তার মন খুব আনন্দিত হয়ে যায় বিষয় এটাও না। তাহলে কি এমন বিষয় আছে যে কারণে তার এই পরিবর্তন ঘটে? আমি ধরতে পারি না।

আমি এরমধ্যে কয়েকবার চেষ্টা করেছি কনসিভ করবার জন্য ওকে রাজি করাতে। বিয়ের তো কম দিন হয়নি। পাঁচ বছর চলছে। কিন্তু সে শুনতেই পারে না এসব। রাগ দেখায়।বলে,' আমাকে খাওয়াতে পরাতে পারো না ঠিকমতো তাহলে সন্তান এলে কী খাওয়াবে? তোমার মাথা?'

আমি অবাক হই।আমি খুব সাধারণ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছি। মোটামুটি চাকরি করছি একটা।এটা দিয়ে পরিবার নিয়ে মোটামুটি ভাবে চলে যাওয়া যাবে। জাঁকজমকপূর্ণ হবে না আর কি। কিন্তু আর দশটা সাধারণ পরিবারের মতই চলা যাবে। কিন্তু তনুর সন্তুষ্টি নেই। কেন নেই বুঝি না! অথচ তার বাবা মাও কিন্তু আহামরি ধনী ঘরের কেউ না। আমাদের মতোই। তাহলে তার এতো চাহিদা কেন? এভাবে কী একটা সংসার চলবে?

'

এর মাস দুয়েক পরেই হুট করে একদিন তনু বললো,' আগামীকাল আমি বাবা বাড়ি যাবো। গিয়ে কদিন থাকবো।'

আমি বললাম,' আমার অফিস চলে। এখন চলে গেলে কিভাবে কি হবে? রান্নাবান্না করবে কে? তাছাড়া কদিন পর ঈদ।আর এক মাস। তখন ছুটি আছে। দুজন না হয় এক সাথেই যাবো।'

তনু বললো,' আমার যা বলার তা বলেছি।আমি কাল যাবো। অনুমতি দিলেও যাবো। না দিলেও যাবো। আমার বাড়ির জন্য খারাপ লাগছে। এখানে থাকতে ইচ্ছে করছেনা। সপ্তাহ খানেক থেকে আবার এসে পড়বো।'

আমি বললাম,' তোমার যা ভালো লাগে তাই করো। আমার কথা কোনদিন আবার তুমি শুনলে?'

তনু আর একটা কথাও বলেনি। পরদিন অফিস গেলাম। ওখানে থেকে সন্ধ্যায় ফিরে এসে দেখি ও নাই। ফোন দিলে বললো, বাবার বাড়ি চলে এসেছি।

আমার রাগ লাগলেও সহ্য করে নিলাম। আমি কেমন যেন।রাগ দেখাতে পারি না। তনুর প্রতি ভীষণ দূর্বল আমি।তাই এবারেও রাগ দেখালাম না।হজম করে নিলাম।

কিন্তু এর দুদিন পর যখন একটা অচেনা মেয়ে লোক কল করলো আমায় তখন আমার কান খাড়া হয়ে উঠলো একেবারে।

মেয়ে লোকটি বললো,' আপনি তনুর স্বামী আনিস সাহেব না?'

আমি বললাম,' জ্বি।। আমি আনিস। আপনি?'

মহিলা খানিকটা সময় চুপ করে রইলো। তারপর  বললো,' আপনি কেমন পুরুষ শুনি? স্ত্রীকে দিয়ে কী দেহ ব্যবসা করান নাকি? '

কথাটা শুনে আমার মাথা কেমন যেন চক্কর দিয়ে উঠলো।এসব কি ধরনের কথা বলছে এই মেয়ে ! 

আমি বললাম,' কি বলছেন এসব আপনি?'

মহিলা বললো,' এখন দেখছি ভাজা মাছটাও উলটে খেতে জানেন না আনিস সাহেব! আপনার স্ত্রী তনু আমার স্বামীর সঙ্গে চট্রগ্রাম গিয়েছে। ওখানে কোনো হোটেলে উঠেছে গিয়ে। একসাথে থাকছে ওখানে।স্বামী স্ত্রীর মতো। আপনাকে না জানিয়ে আপনার স্ত্রী যায়নি নিশ্চই ? আপনি নিজেই পাঠিয়েছেন স্ত্রীকে। ওহ্, আপনি তো আবার আমার স্বামীর কোম্পানিতেই জব করেন। প্রমোশনের লোভে এটা করেছেন তাই না!'

'

'

বিপদের সময় এই দোয়াটি পড়ুন,অলৈকিক সাহায্য আসবেই,,,,,, ফেইসবুক থেকে নেওয়া

 🌊 তিন অন্ধকারের বুক চিরে অলৌকিক মুক্তির মহাকাব্য: ইউনুস (আ.)-এর গল্প ​আপনি কি কখনো এমন ঘোর অন্ধকারে পড়েছেন, যেখানে পালানোর কোনো পথ নেই? যে...