এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

সোমবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২৫

আজ থেকে ৬ বছর আগে আমার বিয়ে হয়।

 আজ থেকে ৬ বছর আগে আমার বিয়ে হয়। বিয়ের পর সব ভালো চললেও আমি সহবাসে অক্ষম ছিলাম। ওরকম টাইমিং আমার ছিল না। তাই আমার স্ত্রীও আমার উপর সন্তুষ্ট ছিল না। সন্তুষ্ট না থাকলেও ভালোবাসার কোনো কমতি রাখে নি। সে যা চাইতে তাই তাকে দিতাম। যেখানে নিয়ে যেতে বলতো সেখানেই নিয়ে যেতাম। বলতে গেলে তার প্রতি আমি আসক্ত হয়ে গিয়েছিলাম। আমার পরিবারও তাকে খুব পছন্দ করতো। ১ বছর পর আমাদের একটি সন্তান হয়।  কিন্তু শারীরিক চাহিদা পূরন না হওয়ার কারনে সে  অনেক খিট খিটে মেজাজের হয়ে গিয়েছিল। সে প্রতিদনই আমাকে এই বিষয় নিয়ে খোটা দিত। আমার তখন অনেক খারাপ লাগলেও তাকে কিছু বলতাম না। এভাবে চলার পর।  সে তার পরিবার আর আমার পরিবারকে এ বিষয়ে জানায় এবং আমাকে ডিভোর্স এর জন্য জোরাজোরি করে। কারণ সে আর পারছিলোনা। কিন্তু পরিবার ডিভোর্স না দিয়ে ধৈর্য ধরতে বলে ও চিকিৎসা করাতে বলে। পরবর্তীতে অনেক চিকিৎসা করার পরেও কোনো লাভ হয়নি। তারপর সে অনিচ্ছা সত্ত্বেও আরেকজনের সাথে পরকীয়ায় জরিয়ে পরে। প্রায় ১.৫ বছর এ সম্পর্কের পর সে সরাসরি আমাকে ডিভোর্স দেয়। এবং এতে তার পরিবারে সম্মতিও ছিল। আমিও তাকে আর জোর করিনি।  কারণ আমি একজন মেয়ের হোক নষ্ট করতে পারবো না। সে সন্তানকে আমার কাছে রেখে চলে যায়। কিন্তু খারাপ লাগার বিষয় হচ্ছে সে একবারের জন্যেও তার সন্তামকে দেখতে আসেনি। তার কিছুদিন পর সে তার পরকীয়া বিয়ে করে। বিয়ে করার পর জানতে পারে তার ২য় স্বামীর আরেকজন স্ত্রী আছে। সে তখন এই বিষয়ে রাগারাগি করলে নাকি তারা তার উপর হাত তুলে। তারপর থেকেই সে অনিচ্ছা সত্ত্বেও তার সাথে সংসার করে যায়। সংসার এর বেশিরভাগ কাজই তাকে দিয়ে নাকি করাতো। কিছু এদিক ওদিক হলেই নাকি গালি গালাজ করতো। এমন কি তাকে নাকি ডিভোর্সি বলে গালি গালাজ ও করতো। এভাবে ২ বছর সংসার করার পর তার আবারও ডিভোর্স হয়। ২য় ডিভোর্স হবার সে নাকি মানসিক ভাবে খুবই ভেঙে পরে। তার কিছু মাস পর সে আবারও আমার সাথে যোগাযোগ করে।  এবং আমার সাথে সংসার করতে চায়। সে খুব কান্নাকাটি করে আর আমার কাছে ক্ষমা চায়।  সে বলে এত ভালো সংসার থাকার সত্ত্বেও শুধুমাত্র শারীরিক চাহিদার লোভে আমাকে ফেলে চলে যায়। তাই সে সে আবার আমার কাছে আসতে চায়। সে তার সন্তানকে দেখতে চায়।  কিন্তু আমি তাকে নিষেধ করে দেই।  আমি বলি এই তিন বছরে তো একবারো আমার সন্তানকে দেখতে আসনি। তাহলে এখন আসতে আ

চাইছো কেনো। তার পরিবারও আমাদের সাথে যোগাযোগ করে। কিন্তু আমরা তাদেরকে না বলে দেই। আচ্ছা আমরা কি ঠিক কাজ করেছি??? আমাদের কি তাকে আবার নিয়ে আসা উচিত হবে???? আমি তাকে আর সয্য করে পারি না। আর আমরা সামনে মাসে পুরো পরিবার আমি আমার সন্তান আমার বাবা মা ছোট ভাই সিঙ্গাপুর চলে যাচ্ছি একেবারের জন্য। আমার কি উচিত হবে তাকে আবার নিজের কাছে নিয়ে আসা??? সে তার সন্তানকে আবার দেখতে চাইছে। এখন আমার কি করা উচিত।

কনক্রিট সিলিন্ডার প্রস্তুতি ও বুয়েটে টেস্ট গাইড(শেয়ার করে রাখুন) 

 কনক্রিট সিলিন্ডার প্রস্তুতি ও বুয়েটে টেস্ট গাইড(শেয়ার করে রাখুন) 


১. সিলিন্ডার সাইজঃ

সাধারণত কনক্রিটের কমপ্রেসিভ স্ট্রেংথ পরীক্ষার জন্য আমরা ৬” x ১২” সিলিন্ডার ব্যবহার করি। তবে ৪” x ৮” সিলিন্ডারও ASTM C31/C31M-03 স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী স্বীকৃত।


৪” x ৮” সিলিন্ডারের সুবিধাসমূহঃ

✔️ একই পরিমাণ কনক্রিট দিয়ে ৩টিরও বেশি স্যাম্পল তৈরি সম্ভব

✔️ ৭০% পর্যন্ত কনক্রিট অপচয় রোধ

✔️ বহনে সহজ

✔️ BUET-এ টেস্ট খরচ তুলনামূলকভাবে কম

✔️ স্ট্রেংথে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য নেই


২. কনস্ট্রাকশন সাইটে প্রস্তুতির পূর্বশর্তঃ

⚠️ সাইটেই সিলিন্ডার কাস্ট করতে হবে

⚠️ ড্রাম মিক্সার থেকে প্রয়োজনীয় পানি মিশিয়ে তারপর স্যাম্পল নিতে হবে

⚠️ ৬” x ১২” এর জন্য কোর্স এগ্রিগেট ≤ ৫০mm & ৪” x ৮” এর জন্য ≤ ৩১mm হওয়া উচিত


৩. কাস্টিং প্রসেসঃ

🔸 কম্প্যাকশনঃ রড/ভাইব্রেটর যেকোনো পদ্ধতি (স্ল্যাম্প < ২৫mm হলে ভাইব্রেটর)

🔸 ট্যাম্পিং রড গোল প্রান্তবিশিষ্ট হওয়া বাঞ্ছনীয়

🔸 ভাইব্রেটর ব্যবহারঃ প্রতি লেয়ারে ধীরে ধীরে ১০ সেকেন্ডের মতো

🔸 স্যাম্পল ভরার পর বাইরে ১০–১৫ বার টোকা দিন


৪. কিউরিং ও সংরক্ষণঃ

⏱️ ৪৮ ঘণ্টা ছায়াযুক্ত স্থানে সংরক্ষণ

🧪 চুনমিশ্রিত পানিতে ডুবিয়ে রাখুন

✍️ কাস্টিং ডেট, লোকেশন ইত্যাদি খোদাই করে বা মার্কার দিয়ে লিখে রাখুন


৫. বুয়েটে পরীক্ষার জন্য প্রেরণঃ

📦 টেস্টিং ডেটের ১–২ দিন আগে BUET-এ পৌঁছে দিতে হবে

📄 ফরোয়ার্ডিং চিঠি, সিল-গালা করা থাকতে হবে

📝 আবেদনে থাকতে হবেঃ

(১) কাস্টিং ডেট

(২) লোকেশন (বীম, কলাম, পাইল ক্যাপ)

(৩) গ্রীড নম্বর (যদি থাকে)

(৪) মিক্স অনুপাত

(৫) এগ্রিগেট টাইপ (ব্রিক/স্টোন/সিঙ্গেলস)

(৬) দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলীর নাম ও মোবাইল

(৭) সিলিন্ডারের সাইজ ও সংখ্যা


#ConcreteCylinder #CivilEngineering #BUETTest #ConstructionBD #naeemcivilnote #SitePractice #ASTMStandard #EngineeringGuide #BDProject #FieldToLab #SmartConstruction

এক টাকার লাল কয়েন

 ২০১০ সালের নভেম্বর মাসে হঠাৎ করেই এক টাকার লাল কয়েন নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়ে যায়। অজানা ও অদ্ভুত কারণেই হু হু করে বাড়তে শুরু করে এক টাকার সোনালি কয়েনের দাম। অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি, এ ধাতব মুদ্রাটি বিক্রি হতে শুরু করে ৫০-২০০ টাকায়। সারা দেশে বহু সংঘবদ্ধ চক্র এক টাকার সোনালি কয়েন কিনতে হুমড়ি খেয়ে পড়ে। ফলে স্থানীয় দোকান ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোতে এক টাকার সোনালি কয়েনের চরম সঙ্কট দেখা দেয়। যে যেভাবে সম্ভব এক টাকার লাল কয়েন সংগ্রহ করতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। বিভিন্ন মসজিদ, মন্দির, মাদ্রাসা ও মাজারের দানবাক্স খুলে সংগ্রহ করা হয় এ কয়েন। মাটির ব্যাংক ভেঙে খুঁজতে শুরু করে কোথায় আছে লাল কয়েন। স্কুলপড়ুয়া থেকে শুরু করে বয়োবৃদ্ধ সবাই যে যার মতো ফোনে ও ব্যক্তিগত যোগাযোগের মাধ্যমে সোনালি কয়েন সংগ্রহ করার প্রতিযোগিতায় নেমে পড়ে। রিকশাওয়ালা ও দোকানিরা ২০-৩০ টাকার ভাড়া কিংবা সওদার পরিবর্তে দাবি করেন এক টাকার লালচে কয়েন। কে বা কারা কী কারণে এ কয়েন সংগ্রহ করছে তা বলতে পারছে না কেউ। তবুও দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে লাল কয়েনের কারিশমা। প্রশাসনও লাল কয়েন দৌরাত্ম্য রুখতে অসহায়! রহস্যের জট খোলার আগেই হাট-বাজার থেকে এক টাকার লাল কয়েন গায়েব। যারা লাল কয়েন বিক্রি করছেন তারাও জানেন না লাল কায়েনের মূল্য কত। লাল কয়েনের ক্রেতারাও জানেন না এ কয়েন সংগ্রহ করে তারা কোথায় বিক্রি করবেন। কয়েন নিয়ে কাড়াকাড়ি শুরু হওয়ার আগে চিলে কান নেয়ার গল্পের মতো করে রটে যায় সারা দেশে। কানাঘুষা চলতে থাকে, লাল কয়েন দিয়ে স্বর্ণে ভেজাল দেয়া হয়। ফলে স্বর্ণের খাদ হিসেবে লাল কয়েনের চাহিদা তুঙ্গে। তাই মুনাফার লোভে লোকজন যে যেভাবে পারে লাল কয়েন সংগ্রহ করতে শুরু করে দেয়। আর এভাবেই লাল কয়েন সারা দেশে আলোচিত বিষয়ে পরিণত হয়। কিন্তু পুরো ব্যাপারটি ছিল মিথ্যা এবং যারা উচ্চমূল্যে লাল কয়েন সংগ্রহ করেছেন তাদের কেউই তা অন্যত্র বিক্রি করতে পারেননি।


-সংগৃহিত

আসল শত্রু বাইরের না—আমরা নিজেরাই শত্রু নিজেদের।

 ৪৪টা যুদ্ধবিমান!

তাও পুরোনো, জং ধরা, আধুনিকতার ধারে কাছে না!

আর আমরা লজ্জা না পেয়ে গর্ব করি—"স্বাধীন দেশ!"


ভারত ৫০০টা নিয়ে একসাথে ৫টা ফ্রন্ট সামলাতে পারে,

পাকিস্তান ৪৪৫টা নিয়ে যুদ্ধের জন্য রেডি।

আর আমরা?

দলবাজিতে মাস্টার!

টকশোতে জেনারেল, ফেসবুকে কৌশলী, আর মাঠে? শুনশান শূন্যতা।


আমাদের একটাই স্পেশাল স্কোয়াড—

“Keyboard Battalion”!

পোস্ট দিবে, শেয়ার করবে, “দেশপ্রেম” জাহির করবে—

আর বাস্তবে, একটা গোলা উড়লে পাত্তা নাই!


আসল শত্রু বাইরের না—আমরা নিজেরাই শত্রু নিজেদের।

কারণ আমরা যুদ্ধের জন্য না,

তর্কের জন্য জন্মেছি।


বাচ্চা জন্মের পর স্কুলে ভর্তি হয় না, আগে দল চিনে!

ডাক্তার জীবন বাঁচায় না, দল বাঁচায়!

ইঞ্জিনিয়ার বিল্ডিং বানায় না, বরাদ্দ চিবায়!

আর্মি অফিসারও রাজনীতির ব্যানারে ঝুঁকে পড়ে!


এই তো আমরা—মেধাহীন, পরিকল্পনাহীন, দায়িত্বহীন!

নেতারা গাড়িতে বুলেটপ্রুফ, আর দেশের সীমানা?

একটা ড্রোন আসলেও ধরার কেউ নাই!


একদিন হুট করে আকাশ কালো হবে,

বোমা পড়বে মাথার উপর—

তখন আর পোস্ট দেওয়ার সময় থাকবে না,

তখন বুঝব—"দেশটা ফেসবুক দিয়ে রক্ষা হয় না!"


তখন বুঝব—“বন্ধুদেশ” বলে কিছু নেই,

যার অস্ত্র আছে, তারই দাপট চলে!


এই ঘুম, এই ঢোল-বাজানো দেশপ্রেম,

সব পুড়ে ছাই হয়ে যাবে একটুখানি আগুনে।


আর তখন?

আমরা কাঁদব... কিন্তু কেউ শুনবে না।🙂


© Collected

বাচ্চাদের চুমু দেওয়া ঠিক না।

 বাচ্চাদের চুমু দেওয়া ঠিক না।

সকল শিশুর বাবা-মায়ের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। যেহেতু শিশু আপনার। তাই শিশুর লালন-পালনের দায়িত্ব আপনাদেরই।তাই এই বিষয়ে সচেতন থাকার জন্য সকল শিশুর বাবা-মায়ের প্রতি অনুরোধ জানাচ্ছি। 


আপনি কি জানেন, কিছু ভাইরাস শিশুর জন্য মারাত্মক হতে পারে, এমনকি প্রাণঘাতীও হতে পারে? সম্প্রতি (ছবিতে দেখানো )ছোট্ট রিভার্স নামে শিশুর জীবনে ঘটেছে এক ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতা, যা আমাদের সবাইকে সচেতন হওয়ার বার্তা দেয়।


গত সপ্তাহে রিভার্সকে তার চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল একজিমা ও ঠোঁটে একটি ছোট লাল দাগের জন্য। প্রথমে চিকিৎসক এটি হ্যান্ড-ফুট-মাউথ ডিজিজ (HFMD) বলে মনে করেছিলেন। কিন্তু কিছু ঘণ্টার মধ্যেই তার শরীরে দাগগুলো দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।


পরবর্তী কয়েকদিন রিভার্স প্রচণ্ড অসুস্থ হয়ে পড়ে, অসহ্য যন্ত্রণায় কাঁদতে থাকে। অবশেষে, তাকে জরুরি ভিত্তিতে হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানকার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর জানালেন, এটি HFMD নয়, বরং এক বিরল এবং ভয়ানক ভাইরাস “একজিমা হারপেটিকাম (Eczema Herpeticum)”।


⚠️ এই ভাইরাস মূলত চুমুর মাধ্যমে ছড়ায়। একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ, যিনি নিজেও হয়তো জানেন না যে তার শরীরে হারপেস ভাইরাস রয়েছে, তার চুমু থেকেই শিশুর মধ্যে এ ভয়ংকর সংক্রমণ ছড়াতে পারে।


🔴 একজিমা হারপেটিকাম কেন ভয়ানক?

✅ এটি শিশুর মস্তিষ্ক, চোখ, গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গের ক্ষতি করতে পারে।

✅ যদি দ্রুত চিকিৎসা না করা হয়, এটি প্রাণঘাতীও হতে পারে।

✅ শিশুকে বাঁচাতে তাকে IV অ্যান্টিবায়োটিক ও অ্যান্টিভাইরাল চিকিৎসা দিতে হয়।


শিশুদের দেখলে আদর করতে ইচ্ছা করবে এটা স্বাভাবিক, কিন্তু অনুরোধ রইলো— অন্যের শিশুকে চুমু দেবেন না! কারণ আপনার শরীরে লুকিয়ে থাকা ভাইরাস তার জীবনের জন্য হুমকি হতে পারে।


শিশুর সুস্থতার জন্য আমাদের সবাইকে আরও সতর্ক হতে হবে। ছবিতে দেয়া শিশুটির মতো যেন আর কোনো শিশু এই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার শিকার না হয়। সবাই সচেতন হোন, শিশুদের নিরাপদ রাখুন!


শেয়ার করুন, যেন সবাই এই গুরুত্বপূর্ণ বার্তাটি জানতে পারে!

কপি পোস্ট

#copied #collected #viralpost2025シ

ছায়া হাঁটে নুপূরের ছন্দে,,,,ভুতের গল্প ফেইসবুক থেকে নেওয়া

 ⛔ ছায়া হাঁটে নুপূরের ছন্দে⛔

 (✍️ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে নিজের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনাটি  পাঠিয়েছেন  মাহিয়া আক্তার ✍️) 


রাতের নীরবতা কখনও কখনও এতটাই গভীর হয় যে, সেখানে অজানা কিছু উপস্থিতি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। এমন এক নিঃস্তব্ধ, অন্ধকার রাত ছিল সেটি—যেখানে বাতাস থেমে গিয়েছিল, চারদিক নিথর হয়ে পড়েছিল, আর কেবলই শোনা যাচ্ছিল এক অদ্ভুত, ঠান্ডা কাঁপিয়ে দেওয়া নুপূরের শব্দ।


ঘটনাটি ২০০৮-২০০৯ সালের দিকে। আমার বয়স তখন মাত্র ৩ বা ৪। মা আমাকে নিয়ে নানাবাড়ি গিয়েছিলেন, রায়পুরা, নরসিংদীর এক প্রত্যন্ত গ্রামে। নানুর ঘর তখনো ঠিক আগেকার মতই ছিল—দোচালা টিনের ছাদ, কুয়োর পানি, আর রান্নাঘরটা ছিল ঘর থেকে আলাদা, একটু দূরে। সেদিন রাতে আমরা সবাই ঘুমিয়ে পড়েছিলাম। হঠাৎ রাত আনুমানিক ২টা বা ৩টা নাগাদ আমার ঘুম ভেঙে যায়। আমি মা-কে পানি খাওয়ার জন্য বায়না শুরু করি। মা প্রথমে আমাদের ঘরে, পরে পাশের ঘরে খুঁজে কোনো পানির সন্ধান পাননি। অবশেষে রান্নাঘরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন—যেখানে অন্ধকার, নীরবতা, আর অজানা কিছু অপেক্ষা করছিল।


রান্নাঘরের লাইটটা জ্বালানো ছিল। মা সেখানে গিয়ে জগ থেকে গ্লাসে পানি ঢেলে আমাকে পানি খাওয়াচ্ছিলেন। হঠাৎ করেই পাশের জঙ্গল থেকে এক অস্বাভাবিক শব্দ ভেসে আসে—নুপূরের টুংটুং আওয়াজ। প্রথমে মা ভেবেছিলেন, ওটা হয়তো মামাতো বোন মুক্তা, কিন্তু এরপরই চমকে ওঠেন—এই গভীর রাতে মুক্তা কেন জঙ্গলে যাবে? সেদিন চাঁদ ছিল না, চারদিক অন্ধকারে ঢাকা, আর জঙ্গল থেকে আসা সেই আওয়াজ যেন প্রতিধ্বনি হয়ে পুরো রান্নাঘর ঘিরে ধরছিল।


মা তখন একটুও দেরি না করে আমাকে কোলে নিয়ে দৌঁড়ে চলে আসেন ঘরের ভেতর। দরজা বন্ধ করে, গলা শুকিয়ে গিয়ে হাপাতে হাপাতে খাটে এসে শুয়ে পড়েন। ঘুমোতে চেষ্টা করছিলেন, কিন্তু... নুপূরের সেই টুংটুং আওয়াজ আবারো ভেসে এল। এবার তা যেন আরও কাছে, আরও জোরালো, আরও রহস্যময়। মা অনুভব করতে পারলেন—জঙ্গল থেকে সেই আওয়াজ বেরিয়ে এসেছে, আর এখন ঘরের পেছনের রাস্তা দিয়ে ধীরে ধীরে হেঁটে যাচ্ছে। ঠিক খাটের পাশে দিয়েই—আর প্রতিটি ধাপ যেন মায়ের বুকের ভিতর কাঁপন ধরিয়ে দিচ্ছিল।


মা জানান, সেই আওয়াজে কোনো মানুষের মতো ছিল না। ছিল না কোনো দৌড়, না কোনো হালকা পায়ের শব্দ—ছিল কেবল এক অশরীরী গতির ছায়া, যেটা মাটি ছুঁয়ে নয়, যেন বাতাস ছুঁয়ে হেঁটে যাচ্ছিল। সেই মুহূর্তে মা চোখ বন্ধ করে শুধু আল্লাহকে ডাকতে থাকেন। তিনি জানতেন, একটুও ভুল করলে কিংবা যদি একটু সাহস কম পেতেন, সেদিন হয়তো আমার বা তার জীবনে ঘটে যেতে পারতো চরম কোনো অঘটন।


আজও মা বলেন—সেদিন রান্নাঘরের লাইটটা না জ্বললে হয়তো সেই অলৌকিক উপস্থিতি তাকে দেখতে পেত না। আর অন্ধকারে কোনো ছায়ার আবরণে না গিয়ে সামনে চলে এলে, হয়তো কেউ ফিরতে পারতো না ঘরে।


এই ঘটনা শুধু একটি স্মৃতি নয়, আমাদের পরিবারের জন্য একটি চিরস্থায়ী অভিজ্ঞতা। নুপূরের সেই রাত, এখনও ঘুমের মাঝে কাঁপিয়ে তোলে মায়ের বুক। আর আমি, যাকে পানি খাওয়াতে গিয়ে ঘটে গিয়েছিল এমন এক অতিপ্রাকৃত রাত—আমিও বড় হয়ে এই গল্প শুনে ভাবি, রাত যত গভীর হয়, অজানার দ্বার তত বেশি খুলে যায়।


শেষে বলতে চাই, এই ঘটনাটি সত্য এবং একটি বাস্তব অভিজ্ঞতার নিঃশ্বাস গলিয়ে লেখা হয়েছে। যারা ভাবেন সবকিছু বিজ্ঞানে ব্যাখ্যা করা যায়, তাদের উচিত এমন কিছু মুহূর্তের সাক্ষী হওয়া—যেখানে নুপূরের একেকটি শব্দ মানেই মৃত্যুর খুব কাছাকাছি যাওয়া।

হাতে তৈরি জুয়েলারি বানানোর সম্পূর্ণ গাইড: শুরু থেকে আয় পর্যন্ত!**  

 # **📿 হাতে তৈরি জুয়েলারি বানানোর সম্পূর্ণ গাইড: শুরু থেকে আয় পর্যন্ত!**  


হাতে তৈরি গয়না শুধু সৌন্দর্য বর্ধনই নয়, এটি একটি লাভজনক শিল্পও হতে পারে! আপনি যদি **জুয়েলারি মেকিং** শুরু করতে চান বা ইতিমধ্যে করছেন কিন্তু আরও উন্নত করতে চান, এই গাইডটি আপনার জন্য।  


## **🎨 ১. জুয়েলারি মেকিং শুরু করার আগে যা জানা জরুরি**  


### **কেন হ্যান্ডমেড জুয়েলারি?**  

- **ইউনিক ডিজাইন:** আপনার নিজস্ব স্টাইল ফুটিয়ে তুলতে পারবেন।  

- **কম বিনিয়োগে শুরু করা যায়।**  

- **অনলাইন/অফলাইন মার্কেটে চাহিদা বেশি।**  


### **কী ধরনের জুয়েলারি বানাবেন?**  

- **বিডস জুয়েলারি** (মাটির, ক্রিস্টাল, গ্লাস, মার্বেল বিডস)  

- **ওয়্যার র্যাপিং** (প্রাকৃতিক পাথর দিয়ে)  

- ** ক্লে জুয়েলারি**  

- **ম্যাক্রামে বা থ্রেড জুয়েলারি**  

- **মেটাল জুয়েলারি**  


---  


## **🛠️ ২. জুয়েলারি মেকিংয়ের জন্য প্রয়োজনীয় টুলস ও ম্যাটেরিয়াল**  


### **বেসিক টুলস:**  

✔ **প্লায়ারস** (রাউন্ড নোজ, ফ্ল্যাট নোজ, কাটিং প্লায়ার)  

✔ **জুয়েলারি আঠা** (B6000 , fabric glur )  

✔ **নাইলন থ্রেড/জুয়েলারি ওয়্যার** 

✔ **স্কেল/মাপার ফিতা**  

✔ **কাঁচি ও কাটিং বোর্ড**  


### **ম্যাটেরিয়ালস:**  

- **বিডস** (কাচ, মেটালিক, উডেন, সেমি-প্রিসিয়াস স্টোন)  

- **চেইন & ফাস্টেনার্স** (লবস্টার ক্ল্যাপ, হুক, ইয়ারিং পোস্ট)  

- **পাথর & চার্মস** (কোয়ার্টজ, অ্যামেথিস্ট, মুক্তা)  

- **ক্লে বা রেসিন** (যদি মোল্ডেড জুয়েলারি বানান)  


**💰 বাজেট টিপস:**  

- প্রথমে সস্তা ম্যাটেরিয়াল দিয়ে প্র্যাকটিস করুন।  

- ঢাকার নিউ মার্কেট বা অনলাইনে (Magic Crafts Bd) থেকে কিনুন।  


---  


## **✂️ ৩. ধাপে ধাপে জুয়েলারি বানানোর পদ্ধতি**  


### **সাধারণ বিডস নেকলেস বানানোর স্টেপস:**  

1. **ডিজাইন ঠিক করুন** – স্কেচ করুন বা Pinterest , Instagram থেকে আইডিয়া নিন।  

2. **থ্রেড কাটুন** – গলার সাইজ + ২ ইঞ্চি অতিরিক্ত রাখুন।  

3. **নিডল বা থ্রেডে বিডস গাঁথুন** – প্যাটার্ন মেনে চলুন।  

4. **ক্ল্যাপ বা হুক লাগান** – প্লায়ার দিয়ে সুরক্ষিত করুন।  

5. **এক্সট্রা থ্রেড কেটে ফেলুন** – আঠা দিয়ে শক্ত করুন।  


## **💡 ৪. ক্রিয়েটিভ ডিজাইন আইডিয়াস**  

- **থিম বেসড** (সী-শেল, ফ্লোরাল, জ্যামিতিক)  

- **মিনিমালিস্ট** (সিম্পল, হালকা গয়না)  

- **বোহো-স্টাইল** (ম্যাক্রামে, ফ্রিঞ্জ, লেয়ার্ড)  

- **কাস্টমাইজড** (নাম বা ইনিশিয়াল যুক্ত করা)  


**🎨 রঙের কম্বিনেশন:**  

- **মনোহারী:** নীল + সিলভার  

- **ট্রাডিশনাল:** লাল + সোনালি  

- **মডার্ন:** ব্ল্যাক + গোল্ড  


---  


## **📸 ৫. ফটোগ্রাফি ও মার্কেটিং টিপস**  


### **কিভাবে ভালো ছবি তুলবেন?**  

✔ **প্রাকৃতিক আলো** ব্যবহার করুন (সকালের আলো ভালো)।  

✔ **সাদা বা নিউট্রাল ব্যাকগ্রাউন্ড** রাখুন।  

✔ **ক্লোজ-আপ & ডিটেইল শট** নিন।  


### **সোশ্যাল মিডিয়ায় কিভাবে বিক্রি করবেন?**  

- **ফেসবুক পেজ/ইনস্টাগ্রাম** খুলুন।  

- **স্টোরি & রিলস** বানান (মেকিং ভিডিও ভালো কাজ করে)।  

- **হ্যাশট্যাগ** ব্যবহার করুন (#হ্যান্ডমেডজুয়েলারি #ক্রাফটিংবাংলাদেশ)।  

- **কাস্টমার রিভিউ** শেয়ার করুন।  


---  


## **🚀 ৬. জুয়েলারি বিজনেস থেকে আয়**  


### **কোথায় বিক্রি করবেন?**  

- **ফেসবুক মার্কেটপ্লেস**  ফেসবুক পেইজ

- **Daraz, বা নিজস্ব ওয়েবসাইট**  

- **লোকাল ক্রাফট ফেয়ার/বুটিক শপ**  


### **প্রাইসিং স্ট্র্যাটেজি:**  

- **কস্ট x ৩** = বিক্রয় মূল্য (উদা: খরচ ১০০ টাকা → বিক্রি ৩০০ টাকা)।  

- **ডিসকাউন্ট অফার** করুন (ব্যান্ডেল ডিল, ফেস্টিভ্যাল সেল)।  


---  


## **🎉 শেষ কথাঃ আপনার শিল্পকে বিশ্ব দেখুক!**  

জুয়েলারি মেকিং ধৈর্য্য ও ক্রিয়েটিভিটির কাজ। প্রতিদিন কিছু না কিছু বানান, নতুন টেকনিক শিখুন। আপনার তৈরি গয়না শেয়ার করতে **কমেন্টে ছবি দিন!** 📸  


**#হ্যান্ডমেডজুয়েলারি #জুয়েলারি_টিপস #ক্রাফটিং #সাইড_আয়** 

 Page 

https://www.facebook.com/MagicCraftbd

দাউদ হায়দার দেশের প্রথম কবি যাকে কবিতা লেখার জন্য দেশ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল

 বিদায় দাউদ হায়দার! ভর্তি পরীক্ষায় যাকে প্রশ্ন করা হয়েছিল 'জন্মই আমার আজন্ম পাপ' কবিতাটি কার লেখা?


১.

১৯৬০-এর দশকের শেষদিকে দাউদ হায়দার নামক এক যুবক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা বিভাগে ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে যান। ভাইভা বোর্ডে তাঁকে প্রশ্ন করা হয়:

— বল তো, 'জন্মই আমার আজন্ম পাপ' — এটা কার কবিতা? 

তিনি হাসিমুখে উত্তর দিয়েছিলেন:

— আমারই লেখা।

বোর্ডের শিক্ষকরা প্রথমে অবাক হয়েছিলেন, কারণ এমন একটি কবিতা এর রকম কোনো যুবক লিখতে পারেন তা তাদের ধারণায় ছিল না। কিন্তু পরে যখন তারা তার আগের কিছু লেখা দেখেন এবং তার প্রতিভা বুঝতে পারেন, তখন দাউদ হায়দারকে মেধার জন্য বিশেষভাবে মূল্যায়ন করেন। নথিপত্র অনুসারে ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি জন্ম নেওয়া কবির বয়স তখন ছিল মাত্র ১৭ বছর!

আলোচিত কবিতাটির ক’টি লাইন: 

'জন্মই আমার আজন্ম পাপ, মাতৃজরায়ু থেকে নেমেই জেনেছি আমি

সন্ত্রাসের ঝাঁঝালো দিনে বিবর্ণ পত্রের মত হঠাৎ ফুৎকারে উড়ে যাই

পালাই পালাই সুদূরে।

...

আমার জন্যই তোমাদের এত দুঃখ

আহা দুঃখ

দুঃখরে!

আমিই পাপী, বুঝি তাই এ জন্মই আমার আজন্ম পাপ।’


২. 

দাউদ হায়দার দেশের প্রথম কবি যাকে কবিতা লেখার জন্য দেশ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। দৈনিক সংবাদ এর সাহিত্য পাতায় 'কালো সূর্যের কালো জ্যোৎসায় কালো বন্যায়' নামে একটি কবিতা লিখেছিলেন। ওই কবিতায় হযরত মোহাম্মদ [স.], যিশুখ্রিস্ট এবং গৌতম বুদ্ধ সম্পর্কিত অবমাননাকর উক্তি রয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। [সংস্‌ অব ডেস্পায়ার বইতে এই কবিতাটি সঙ্কলিত থাকতে পারে।] প্রতিবাদ-বিক্ষোভ শুরু হয়। ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার অভিযোগ এনে ঢাকার এক কলেজ-শিক্ষক আদালতে এই ঘটনায় দাউদ হায়দারের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। 

১৯৭৩ সালে তৎকালীন বঙ্গবন্ধুর সরকার কবিকে নিরাপত্তামূলক কাস্টডিতে নেয়। ১৯৭৪ এর ২০ মে সন্ধ্যায় তাঁকে জেল থেকে মুক্তি দিয়ে ২১ মে সকালে বাংলাদেশ বিমানের একটা রেগুলার ফ্লাইটে ভারতের কলকাতায় পাঠানো হয়। ওই ফ্লাইটে তিনি ছাড়া আর কোনো যাত্রী ছিল না। তাঁর স্মৃতিচারণ থেকে জানা যায়, তার কাছে সে সময় ছিল মাত্র ৬০ পয়সা এবং কাঁধে ঝোলানো একটা ছোট ব্যাগ (ব্যাগে ছিল কবিতার বই, দু'জোড়া শার্ট, প্যান্ট, স্লিপার আর টুথব্রাশ)। কবির ভাষায়, ‘আমার কোন উপায় ছিল না। মৌলবাদীরা আমাকে মেরেই ফেলত। সরকারও হয়ত আমার মৃত্যু কামনা করছিল।’

কবি দাউদ হায়দারের 'কালো সূর্যের কালো জ্যোৎস্নায় কালো বন্যায়’ কবিতায় ‘কিছু বিতর্কিত বক্তব্য’ থাকলেও অসাধারণ কিছু লাইনও আছে: 

‘আদমের সন্তান আমি; আমার পাশে আমি?

আমি আমার জন্ম জানি না। কীভাবে জন্ম? আতুরের ঘরে কথিত

জননী ছাড়া আর কে ছিল? আমায় বলে নি কেউ।

আমার মা শিখালো এই তোর পিতা, আমি তোর মাতা।

আমি তাই শিখেছি। যদি বলতো, মা তোর দাসী, পিতা তোর দাস;

আমি তাই মেনে নিতুম। কিংবা অন্য কিছু বললেও অস্বীকারের

উপায় ছিল না।

আমি আজ মধ্য যৌবনে পিতা মাতার ফারাক বুঝেছি। বুঝেছি সবই মিথ্যা

বুঝেছি কেউ কারও নয়; কেউ নয় বলেই তো বলি

একদিন সবকিছুই যাবে চলে (চলে যাবে)।’


৩.

কলকাতা ছিল দাউদ হায়দারের কাছে একদম অচেনা বিদেশ, যেখানে কাউকেই চিনতেন না। এর আগে তিনি বিদেশ যাননি। দমদম এয়ারপোর্টে নেমে প্রথমে একা কাঁদছিলেন। সাংবাদিক-সাহিত্যিক গৌরকিশোর ঘোষ এর কাছে প্রথম আশ্রয় পান। একমাসের মতো ছিলেন। এরপর বিখ্যাত সাহিত্যিক অন্নদাশঙ্কর রায় তাঁকে নিজ বাড়ীতে আশ্রয় দেন। লেখালেখি শুরু করেন দ্য স্টেটসম্যান পত্রিকায়। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে 'আন্তর্জাতিক তুলনামূলক সাহিত্যে' ভর্তি হন।


৪. 

বাংলাদেশের কোনো সরকারই তাঁর প্রতি সহানুভূতি দেখায়নি। নির্বাসিত অবস্থায় ১৯৭৯ সালে তিনি ভারতে বাংলাদেশ দূতাবাসে নবায়নের জন্য পাসপোর্ট জমা দিলে তা বাজেয়াপ্ত করা হয়। তখন ছিল জিয়াউর রহমানের শাসনামল। এরপর ভারত সরকারও তাঁকে ভারত ত্যাগের ফাইনাল নোটিশ দেয়- “… য়্যু হ্যাভ নো কেইস ফর গ্রান্ট অব লংটার্ম ষ্টে ফ্যাসিলিটিজ ইন ইন্ডিয়া এন্ড য়্যু আর দেয়ারফর রিকোয়েষ্টেড টু লীভ ইন্ডিয়া ইম্মিডিয়েটলি উইদাউট ফেইল।” 

নোবেল লরিয়েট জার্মান সাহিত্যিক গুন্টার গ্রাস ভারত সফরে এলে পুরো ঘটনা শুনেন। তিনি ফিরে গিয়ে সরকারের উচ্চপর্যায়ে কথা বলে নির্বাসিত কবিকে জার্মানিতে রাজনৈতিক আশ্রয় দেয়ার ব্যবস্থা করেন। ২২ জুলাই ১৯৮৭ থেকে তিনি জার্মানির বার্লিন শহরে অবস্থান করেন। হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ক্ষমতায় এলে আটক পাসপোর্ট ফেরত চেয়ে আবেদন করেও বিফল হন। বার্লিন যাত্রায় তিনি পাসপোর্টের পরিবর্তে জাতিসংঘের বিশেষ ট্র্যাভেল পাস ব্যবহার করেন। পরে এই ট্র্যাভেল পাস ব্যবহার করে বহু দেশ ঘুরেছেন। ১৯৮৯ সালে তিনি জার্মানীতে সাংবাদিক হিসেবে চাকুরী নেন। 


৫.

দাউদ হায়দার প্রায় ৩০টির মতো বই লিখেছেন জার্মান, হিন্দি, ইংরেজি, ফ্রেঞ্চ, জাপানি ও স্প্যানিশ ভাষায়। দাউদ হায়দারের কবিতায় ব্যক্তিগত বেদনা, নির্বাসনের কষ্ট,  মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি, স্বাধীনতা-চেতনা, দ্রোহ এবং মানবতাবাদী চেতনা প্রবলভাবে ফুটে ওঠে। তিনি দীর্ঘ সময় বাংলাদেশের পত্র  পত্রিকায় সাহসী উচ্চারণে কলাম লিখেও জনপ্রিয়তা পেয়েছেন। 


৬. 

দাউদ হায়দার ছিলেন এক রত্নগর্ভা মায়ের সন্তান। তাঁর সব ভাই-ই বিখ্যাত, লেখালেখির সঙ্গে যুক্ত। বড় ভাই জিয়া হায়দার নাটকের লোক। রশীদ হায়দার কথাসাহিত্যিক, গবেষক। বাংলা একাডেমিতে কর্মরত অবস্থায় মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক অসাধারণসব বই প্রকাশ করেছেন। আমার ব্যক্তিগত কিছু স্মৃতিও আছে উনার সঙ্গে।  মাকিদ হায়দার কবি। খুবই সজ্জন লোক ছিলেন। তাঁরা সবাই প্রয়াত। আছেন কবি জাহিদ ও আরিফ। কনিষ্ঠ আরিফ হায়দার Arif Haider আমাদের সিনিয়র বন্ধু। নাটকের মানুষ। ভারতের বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নাটকের উপর পড়াশুনা করেছেন। ঢাকায় শংকর সাওজালের কারক নাট্যসম্প্রদায়ের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। বর্তমানে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলার অধ্যাপক। আমাদের ইউনিভার্সেল থিয়েটারের নাট্যগুরু মাজহারুল হক পিন্টুর Mazhar Pintu  ঘনিষ্ঠ বন্ধু। সেই সূত্রে আমাদেরও ঘনিষ্ঠতা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে অসংখ্য দিন রাত আমাদের কেটেছে আড্ডায়। মাঝে মধ্যে দেখা হয়। কিন্তু বিখ্যাত হায়দার পরিবারের একেকজন তারকা নক্ষত্রের খসে পড়ার সংবাদ এলে তাকে ফোন দেই। বেদনাকে শেয়ার করি। সংস্কৃতি বিট কভার করার কারণে বাড়তি তথ্য সংগ্রহের জন্যও নির্দয়ভাবে নানা প্রশ্ন করতে হয়। 

আজ ঘুম ভাঙতেই শুনলাম। দাউদ হায়দার আর নেই। শনিবার (২৭ এপ্রিল ২০২৫) রাতে জার্মানির রাজধানী বার্লিনের একটি বয়স্ক নিরাময় কেন্দ্রে মারা গেছেন। হাসপাতালে দীর্ঘদিন কোমায় ছিলেন। লাইভসাপোর্ট তুলে নিলে তিনি অনন্তের পথে যাত্রা করেন। চিরমুক্তি ঘটে নির্বাসিত জীবনের।

ইসলাম ধর্মের বিশ্বাস অনুসারে, শেষ বিচারের মালিক আল্লাহ। তিনিই তাঁর বান্দার ভাগ্য নির্ধারণ করবেন। 

এবার আর আরিফ ভাইকে ফোন দিতে ইচ্ছে করেনি। জানতাম তিনি কলকাতায়। তারপরও ফেসবুকে সমবেদনা জানাই। কিছুক্ষণ আগে দেখলাম আরিফ ভাই লিখেছেন, ‘খোকন ভাই (নির্বাসিত কবি দাউদ হায়দার) আমাদের ছেড়ে চলে গেলেন না ফেরার দেশে...।’ এরপর ভাইয়ের সঙ্গে কিছু ছবি শেয়ার দিয়েছেন, যেগুলো ২০২৩ সালের, কলকতার।


৭.

দেশে ফেরার প্রবল আকুতি ছিল দাউদ হায়দারের। অপেক্ষার প্রহর গুণেছেন, স্বপ্ন দেখেছেন একদিন সময় হবে পদ্মা ইচ্ছামতি গাঙ্গ শালিকের দেশে ফেরার। সময় কি আর হবে? হলেও তো মাতৃভূমিতে শায়িত হওয়ার বাসনা তার পূরণ হবে না। 

১৯৮৩ সালে কলকাতায় অবস্থানকালে কবি দেশান্তরী হওয়ার গভীর বেদনার কথা লিখেছেন ‘তোমার কথা’ কবিতায়। 

'মাঝে মাঝে মনে হয়

অসীম শূন্যের ভিতরে উড়ে যাই। 

মেঘের মতন ভেসে ভেসে, একবার

বাংলাদেশ ঘুরে আসি। 


মনে হয়, মনুমেন্টের চুড়োয় উঠে 

চিৎকার করে

আকাশ ফাটিয়ে বলি:

দ্যাখো, সীমান্তের ওইপারে আমার ঘর

এইখানে আমি একা, ভিনদেশী। '


আসলেই মানুষ সব সময়ই একা।

বিদায় কবি দাউদ হায়দার।

রবিবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২৫

গরমে শীতল হাওয়ার ছোঁয়া পেতে অনেকেই শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র বা এসি ব্যবহার করেন। তবে গরমের তীব্রতা দিন দিন বাড়তে থাকলেও অনেকের এসি কেনার সক্ষমতা নে

 গরমে শীতল হাওয়ার ছোঁয়া পেতে অনেকেই শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র বা এসি ব্যবহার করেন। তবে গরমের তীব্রতা দিন দিন বাড়তে থাকলেও অনেকের এসি কেনার সক্ষমতা নেই। অনেকেই আবার বিদ্যুৎ বিল, দুর্ঘটনার ঝুঁকি এমনকি পরিবেশের ক্ষতির বিষয়টি মাথায় রেখেও এসি ব্যবহার করেন না।


এসি ছাড়াই ঘর শীতল রাখার কয়েকটি উপায় সম্পর্কে জানা যাবে এই আলোচনায়।


প্রাচীন মিশরীয় পদ্ধতি


প্রাচীন মিশরীয়দের মধ্যে সাধারণ একটি নিয়ম ছিল শীতল জলাবদ্ধতা তৈরি করা। তারা জানালা-দরজায় বা রোদ প্রবেশের স্থানে ভেজা চট বা মাদুর রেখে দিত। রোদের তাপ ভেজা মাদুর বা ভেজা চটের পানি শুকিয়ে ঘরের ভেতরের তাপমাত্রা তেমন একটা বাড়ানোর সুযোগ পেতো না।


সিলিং ফ্যানের ঘূর্ণন


সিলিং ফ্যানের সঙ্গে গ্রীষ্মকাল এবং শীতকালের একটি সম্পর্ক আছে। গ্রীষ্মকালে এমন ভাবে ফ্যান সেট করতে হবে যাতে সেটি ঘড়ির কাটার বিপরীত দিকে ঘুরে। আবার শীতকালে ফ্যান থাকা উচিত এমন ভাবে যাতে ফ্যানের পাখাগুলো ঘড়ির কাটার দিকে ঘুরতে পারে। গরমের সময় এমন ঘূর্ণনের ফলে ফ্যান গরম বাতাস দ্রুত অপসারণ করতে পারে।


ডাবল গ্লাসযুক্ত জানালার ব্যবহার


কাঁচের ২ স্তর বিশিষ্ট প্যানেলকেই সাধারণত ডাবল গ্লাসযুক্ত জানালা বলা হয়। ডাবল গ্লাসযুক্ত জানালার কাঁচের স্তর ৩ থেকে ১০ মিলিমিটার পুরু হয়ে থাকে। এসব কাঁচের মধ্যকার জায়গা গ্যাস দিয়ে পূর্ণ করা হয় এবং গ্যাস যেন বেড়িয়ে যেতে না পারে তাই সিল করে দেওয়া হয়।


কাঁচের ২ স্তরের মধ্যে শূন্যস্থান সিল করা থাকে বলে ডাবল গ্লাসযুক্ত জানালা সাধারণ জানালার থেকে অনেক ভাল তাপ নিরোধক হিসেবে কাজ করে। গ্রীষ্ম ও শীতকালের চরম তাপমাত্রাও নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। গ্রীষ্মের গরম দিনে, ডাবল গ্লাসযুক্ত জানালা আপনাকে রক্ষা করবে প্রচণ্ড তাপ থেকে। শীতকালে এই জানালা বাইরে থেকে শীতকে ঘরের ভেতর ঢুকতে বাধা দেবে। আবহাওয়া যাই হোক না কেন, বাড়ি বা অফিসে ডাবল গ্লাসযুক্ত জানালা ঘরের ভেতরে আরামদায়ক পরিস্থিতি নিশ্চিত করে।


জানালার পাল্লা কাঁচের হলে গরম বেশি অনুভূত হয়। কারণ কাঁচের মধ্যে দিয়ে সূর্যের তাপ দ্রুত শোষণ হয় এবং ঘরের তাপমাত্রা বাড়িয়ে দেয়।


এক্ষেত্রে যেসব জানালায় সরাসরি সূর্যের আলো পড়ে সেসব জানালায় হিট প্রটেক্টিং উইন্ডো ফিল্ম লাগানো যেতে পারে। যার ফলে জানালার ভেতর দিয়ে সূর্যের তাপ শোষণ ৬০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যায় এবং ঘর ঠাণ্ডা থাকে। এছাড়াও সাদা কাগজ, সাদা হার্ডবোর্ড, জানলার পাল্লার বাহিরের দিকে লাগালে সাদা রং প্রায় সব শক্তিই বিকিরণ করবে বাইরের দিকে। ঘরে খুব কম তাপ প্রবেশ করবে।


মোটা এবং গাঢ় রঙের পর্দা ব্যবহার


বাজারে বাহারি ধরনের পর্দা থাকলেও গরম কমাতে চাইলে মোটা কাপড়ের এবং গাঢ় রঙ যেমন কালো, বেগুনী, নীল, খয়েরী এমন রঙগুলো বাছাই করতে পারেন। কারণ এগুলোর তাপ শোষণ ক্ষমতা বেশি, তাপ বিকিরণ ক্ষমতা কম থাকে৷


তাপ প্রবেশ রোধ করা


জানালার মাধ্যমে প্রায় ২৫ শতাংশ তাপ ঘরে প্রবেশ করতে পারে। ঘর ঠাণ্ডা রাখতে দিনের বেলা বা দিনের যে সময় সবচেয়ে বেশি রোদ্রৌজ্জ্বল থাকে তখন তাপ প্রবেশ করার পথ বন্ধ করে দিলে উত্তাপ কম থাকবে।


রাতে ঘরে বাতাস প্রবেশ করতে দেওয়া


রাতে ঘুমাবার আগে জানালা খুলে শীতল বাতাস প্রবেশ করতে দিতে হবে। এতে করে ভেতরের গরম বাতাস বাইরে বের হয়ে ঘরকে শীতল করবে। দিনের বেলা নতুন ভাবে রোদ না ঢুকলে এই শীতল বাতাস প্রশান্তি দেবে।


অপ্রয়োজনে বৈদ্যুতিক যন্ত্র বন্ধ রাখা


যেকোনো সক্রিয় ডিভাইস চালু থাকলে তা নির্দিষ্ট কাজের পাশাপাশি কিছু শক্তি তাপ উৎপাদনে ব্যয় করে। এতে ঘর গরম হয়। তাই অব্যবহৃত যে কোনো কিছু বন্ধ করা উচিত। কম্পিউটার, টেলিভিশন, ওভেন, কিংবা এমন ডিভাইস যা প্রচুর তাপ উৎপন্ন করে তা বন্ধ রাখতে হবে। ঘরে ব্যবহৃত বাল্বগুলোও তাপের উৎস। তাই সব লাইট বন্ধ করা সবসময় সম্ভব না হলেও আলো যতটা সম্ভব কম রাখতে পারেন।


বরফ পদ্ধতি


এটি ঘর ঠাণ্ডা রাখার জনপ্রিয় এবং প্রচলিত পদ্ধতি। ফ্যানের নিচে বাটিতে বরফের টুকরা রাখলে এটি গরম তাপ শুষে নিয়ে গলতে শুরু করবে। এতে ঘর ঠাণ্ডা রাখা যায়।


উত্তাপ কমাতে গাছ রাখা


বেশ কিছু গাছ আছে যা তাপমাত্রা ঠাণ্ডা রাখতে সক্ষম। যেমন, অ্যালোভেরা, অ্যারিকা পাম, গোল্ডেন পোথোস বা সাদা-সবুজ মিশেলের মানি প্ল্যান্ট, স্নেক প্ল্যান্ট বা ফণিমনসা, ফার্ন ইত্যাদি। এছাড়াও আইভি, দ্রুত বর্ধনশীল লতা এবং আলংকারিক গৃহস্থালির উদ্ভিদ দেয়াল বা জানালায় ব্যবহার করা যেতে পারে। সৌন্দর্য বর্ধনের পাশাপাশি তাপ আর রোদ প্রবেশ নিরোধক হিসেবেও এটি কাজ করবে।


বেড়েই চলছে বৈশ্বিক তাপমাত্রা, যার প্রভাব কোনো দেশই এড়াতে সক্ষম নয়। আমাদের দেশও এর ব্যতিক্রম নয়। গরমের এই দুর্বিষহ জীবনযাত্রায় পুরোপুরি শান্তি না মিললেও স্বস্তি পেতে উপরের যে কোনো পদ্ধতি প্রয়োগে ঘরের কিংবা কাজের পরিবেশ ঠাণ্ডা রাখতে পারেন।

বুদ্ধিমান চাকর উপেন্দ্রকিশোর রায়চৗধুরী

 বুদ্ধিমান চাকর

উপেন্দ্রকিশোর রায়চৗধুরী


এক বাবুর একটি বড় বুদ্ধিমান চাকর ছিল, তার নাম ভজহরি। একদিন ভজহরি পথ দিয়ে যেতে যেতে দেখল তার বাবু ব্যস্ত হয়ে বাড়ির দিকে ছুটে চলেছেন। ভজহরি জিজ্ঞাসা করল, 'বাবু, কোথায় যাচ্ছেন?' বাবু বললেন, 'শিগগির এস ভজহরি, সর্বনাশ হয়েছে—আমাদের ঘরে আগুন লেগেছে।' তাতে ভজহরি বলল, 'আপনার কোনও ভয় নেই বাবু, ও মিছে কথা। আগুন কি করে লাগবে? আমার কাছে যে ঘরের চাবি রয়েছে!'


ভজহরি গেল কলুর দোকানে, এক সের তেল কিনতে। কলু তাকে এক সের তেল মেপে দিল, তাতেই তার বাটিটা ভরে গেল। তখন ভজহরি বলল, 'ফাউ দেবে না?' কলু বলল, 'হ্যাঁ দেব বইকি! কিসে করে নেবে?' ভজহরি ভাবল, 'তাই তো কিসে করে নিই? কিন্তু ফাউ না নিয়ে গেলে যে বাবু আমাকে বোকা ভাববেন।' তখন তার মনে হলো যে বাটির তলায় একটু গর্ত আছে। অমনি সে বাটিটা উল্টিয়ে নিয়ে সেই গর্তটা দেখিয়ে কলুকে বলল, 'এতে ফাউ দাও।' কলু হাসতে হাসতে সেই গর্তে ফাউ ঢেলে দিল, ভজহরি মহাখুশি হয়ে তাই নিয়ে বাড়ি এল।


ভজহরি তার বাবুর সঙ্গে নৌকায় চড়ে নদী পার হচ্ছে। নৌকায় ঢের লোক, ভজহরি ভাবল নৌকা বড্ড বোঝাই হয়েছে, যদি ডুবে যায়। এই ভেবে, সে তাদের পুঁটলি মাথায় করে বসে রইল। বাবু বললেন, 'ভজহরি পুটলিটা নামিয়ে রাখ না, মাথায় করে কেন কষ্ট পাচ্ছ? ভজহরি বললে, 'আজ্ঞে না, নৌকা বড্ড বোঝাই হয়েছে, পুঁটলিটা তাতে রাখলে আরও বোঝাই হয়ে যাবে।'


বাড়িতে চোর এসেছে, ভজহরি তা টের পেয়েছে। সে ভাবল, বেটাকে ধরতে হবে। তখন সে মাথায় শিং বেঁধে লেজ পরে উঠানের কোণে গিয়ে দাঁড়িয়ে রইল। মতলবখানা এই যে, চোর নিশ্চয় তাকে দেখে ছাগল মনে করে তাকে চুরি করতে আসবে, তখন সে তাকে জড়িয়ে ধরবে। চোর এল, ঘরে গিয়ে ঢুকল, ভজহরি উঠানের কোণ থেকে বলল, 'ম্যা-আ-আ-আ!' চোর ঘরের সব জিনিসপত্র বাইরে এনে একটি পুঁটলি বাঁধল, ভজহরি তাকে বলল, 'ম্যা-আ-আ-আ'। তা চোর তাড়াতাড়ি সেই পুঁটলি নিয়ে আঁস্তাকুড়ের উপর দিয়ে ছুট দিল। তখন ভজহরি হেসে গড়াগড়ি দিয়ে বলল, 'ব্যাটা কি বোকা, আঁস্তাকুড় মাড়িয়ে গেল, এখন বাড়ি গিয়ে স্নান করতে হবে!'


রামধন লোকটি বেশ সাদাসিধে, কিন্তু একটু রাগী। সে গিয়েছে চোরেদের বাড়ি চাকরি করতে। রাত্রে চোরেরা এক জায়গায় চুরি করতে গেল, রামধনকেও সঙ্গে নিল। সেখানে রামধনকে একটা কচুবনে বসিয়ে দিয়ে বলল, 'তুই এইখানে চুপ করে বসে থাক্, আমরা চুরি করে জিনিস নিয়ে এলে সেগুলো বয়ে নিয়ে যাবি।' রামধন বলল, 'আচ্ছা।'


চোরেরা সিঁদ কাটছে, রামধন কচুবনে বসে আছে। সেখানে বেজায় রকমের মশা, রামধনকে কামড়িয়ে পাগল করে তুলল। বেচারা অনেকক্ষণ সয়ে চুপ করে ছিল, তারপর চটাস্ চটাস্ করে দু'-একটা মারতে লাগল। শেষে রেগে গিয়ে লাঠি দিয়ে মেরে কচুবন তোলপাড় করে তুলল। সেই বাড়ির লোক সব জেগে গিয়ে বলল, 'কেরে তুই এত গোলমাল করছিস?" রামধন বলল, 'আমি রামধন গো।' বাড়ির লোকেরা বলল, 'ওখানে কি করছিস?' রামধন বলল, 'আপনাদের ঘরে যে সিঁদ হচ্ছে।'


তখন তো আর ছুটোছুটি হাঁকাহাঁকির সীমাই রইল না। চোরেরা আর চুরি করবে কি, তাদের প্রাণ নিয়ে পালিয়ে আসাই ভার হলো। ঘরে এসে তারা তারপর অবিশ্যি রামধনের উপর খুবই চোটপাট লাগাল। সে বলল, 'কি করি ভাই, আমার রাগ হয়ে গেল; যে ভয়ানক মশা!' চোরেরা বলল, আচ্ছা, খবরদার! আর কখনো এমন করিস নে।'


পরদিন চোরেরা আবার রামধনকে নিয়ে চুরি করতে গিয়েছে। এবারে রামধন ঠিক করে এসেছে যে, মশায় তাকে খেয়ে ফেললেও আর টু শব্দটি করবে না। আর চোরেরাও বেশ বুঝে নিয়েছে যে, রামধনকে বাইরে রেখে ঢুকলে বড়ই বিপদ হতে পারে। তাই তারা ভেবেছে ওকে ঘরে ঢুকিয়ে দিয়ে তারা বাইরে দাঁড়িয়ে থাকবে।


একটা বাড়ির কাছে এসে চোরেরা বাইরে থেকেই কেমন করে তার একটা দরজার ছিটকানি খুলে ফেলল, তারপর রামধনকে বলল, 'এখন তুই চুপি চুপি ঘরে ঢুকে জিনিসপত্র বার করে আন্। দেখিস কোনও শব্দ করিস না যেন।' রামধন দরজা খুলে ঘরে ঢুকতে গেল। দরজার কব্জায় ছিল মরচে ধরা, তাই দরজা ঠেলতেই সেটা বলল, 'ক্যাঁচ।' রামধন থতমত খেয়ে অমনি থেমে গেল। তারপর আবার যেই ঠেলতে যাবে, অমনি দরজা আবার বলল, 'ক্যাঁচ্!' রামধন তাতে দাঁত খিঁচিয়ে 'আঃ;!' বলে আবার থেমে গেল। তারপর রামধন কিছুতেই আর রাগ সামলাতে পারল না। তখন সে পাগলের মতো হয়ে প্রাণপণে সেই দরজা নাড়তে নাড়তে চেঁচিয়ে বলতে লাগল, 'ক্যাঁচ্! ক্যাঁচ!! কাঁচ্!!!' তারপর —কি হলো বুঝতেই পার!


এ-সব তো শুধু গল্প, এবার একটি সত্যিকারের চাকরের কথা বলি। তার নাম, ধরে নাও যে কেনারাম। কেনারাম সেজেগুজে একটা বোটের ছাতে উঠে বসে আছে—তার বাবুর সঙ্গে এক জায়গায় তামাশা দেখতে যাবে। খানিক বাদেই বোটের ভিতর থেকে জুতোর শব্দ এল! কেনারাম বুঝল বাবু বেরুচ্ছেন, এইবেলা যেতে হবে। সে অমনি তাড়াতাড়ি বোটের ছাত থেকে লাফিয়ে পড়ল—আর ঠিক তার বাবুর ঘাড়ে।


প্রথমে যখন কেনারাম আসে তখন একজন পুরানো চাকর বলেছিল, 'বাবু কাছারি থেকে এলে রোজ তাঁকে পান খেতে দিও।' সেদিন বাবু কাছারি থেকে এসেই পায়খানায় গেলেন, কেনারামও তাড়াতাড়ি সেইখানেই গিয়ে তাঁকে বলল, 'বাবু পান এনেছি।'

বিপদের সময় এই দোয়াটি পড়ুন,অলৈকিক সাহায্য আসবেই,,,,,, ফেইসবুক থেকে নেওয়া

 🌊 তিন অন্ধকারের বুক চিরে অলৌকিক মুক্তির মহাকাব্য: ইউনুস (আ.)-এর গল্প ​আপনি কি কখনো এমন ঘোর অন্ধকারে পড়েছেন, যেখানে পালানোর কোনো পথ নেই? যে...