এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

বুধবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২৫

টেস্টিকুলার বা অন্ডকোষীয় ক্যান্সার

 #টেস্টিকুলার বা অন্ডকোষীয় ক্যান্সার


টেস্টিকুলার বা অণ্ডকোষীয় ক্যান্সার নিয়ে  অনেক রোগীই আমাদের চেম্বারে আসেন। সাধারণত ১৫-৩৫ বছরের পুরুষ এ ক্যান্সারে বেশি আক্রান্ত হয়ে থাকেন। তবে যে কোন বয়সেই এ রোগ হতে পারে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দেখা যায় লজ্জায় বা পারিপার্শ্বিক কারনে রোগী আমাদের কাছে দেরিতে আসেন ফলে চিকিৎসা বেশ জটিল হয়ে যায়। 


⭕ টেস্টিকুলার বা অণ্ডকোষীয় ক্যান্সার


টেস্টিকুলার ক্যান্সার হল অণ্ডকোষের (টেস্টিস) ক্যান্সার যা স্ক্রোটামের ভিতরে অবস্থিত। অণ্ডকোষের প্রধান কাজটি হল পুরুষ সেক্স হরমোন (টেস্টোস্টেরন) এবং শুক্রাণু উৎপাদন। টেস্টিকুলার ক্যান্সার এক বা উভয় অণ্ডকোষকে আক্রমণ করতে পারে এবং যদি চিকিৎসা না করা হয় তবে এটি শরীরের অন্যান্য অংশেও ছড়িয়ে যেতে পারে।


⭕টেস্টিকুলার ক্যান্সার হওয়ার কারণ


➡️ টেস্টিকুলার ক্যান্সারের পারিবারিক ইতিহাস।

➡️ একটি অব্যক্ত অণ্ডকোষ (অণ্ডকোষ স্ক্রোটামের ভিতরে স্থানান্তরিত হয় নি)।

➡️ বয়স ২৫-৩৫ বছর, তবে এটি যে কোনও বয়সে হতে পারে।

➡️ বিভিন্ন ধরনের সংক্রমণ 

➡️ অনেক সময় কোন কারণ খুঁজে পাওয়া যায়না। 


⭕টেস্টিকুলার ক্যান্সারের লক্ষণ


➡️বেদনাবিহীন এক লাম্প (পিণ্ড) অন্ডকোষে অনুভব করা যায়।

➡️অণ্ডকোষে ফোলাভাব ।

➡️ফোলা লিম্ফ নোড ।

➡️ক্লান্তি ।

➡️ওজন কমে যাওয়া।

➡️অণ্ডকোষ, স্ক্রোটাম বা কুঁচকিতে একটি নিস্তেজ ব্যথা।

➡️অণ্ডকোষের মধ্যে কিছু আছে বলে ভারী ভাবের অনুভূতি ।


⭕টেস্টিকুলার ক্যান্সারের ডায়াগনোসিস ( নির্ণয়)


শারীরিক পরীক্ষা- ডাক্তার রোগীর লাম্প এর উপস্থিতি ও ফোলাভাব খোঁজার জন্য পরীক্ষা করে থাকেন ।


রোগীর চিকিৎসার ইতিহাস- অনির্ধারিত অন্ডকোষের ইতিহাস সম্পর্কে পরীক্ষা করা।


রক্ত পরীক্ষা – রক্তে টিউমার মার্কারের উপস্থিতি পরীক্ষা করার জন্য রক্ত পরীক্ষা করা হয়।


সিটি স্ক্যান- সিটি স্ক্যান, ক্যান্সার ছড়িয়ে পড়েছে এমন লক্ষণ খোঁজার জন্য তল, বুক এবং শ্রোণীগুলির একসরে একাধিক এক্সের চিত্র নিয়ে থাকে।


⭕টেস্টিকুলার ক্যান্সারের জন্য চিকিৎসা


টেস্টিকুলার ক্যান্সারের চিকিৎসা ক্যান্সারের পর্যায় এবং গ্রেডের উপর নির্ভর করে। সমস্ত পর্যায় এবং ক্যান্সারের ধরণের জন্য, সাধারণত সার্জারি প্রয়োজন। তবে কেমোথেরাপি এবং রেডিয়েশন থেরাপির মতো অন্যান্য হস্তক্ষেপ সাধারণত প্রয়োজন হয়।


➡️সার্জারি


র‌্যাডিকাল ইনগুইনাল অর্কিএক্টোমি- মূলত ইনগুইনাল অর্কিএক্টোমি হল টেস্টিকুলার ক্যান্সারের সকল প্রকার এবং গ্রেডের প্রাথমিক হস্তক্ষেপ। এই শল্য চিকিৎসার মধ্যে, সার্জন আক্রান্ত অন্ডকোষ অপসারণ করে থাকেন।


কিছু রোগীর ক্ষেত্রে শল্য চিকিৎসা একমাত্র হস্তক্ষেপ, যার প্রয়োজন হতে পারে। অস্ত্রোপচারের পরে, অনকোলজিস্ট পর্যায়ক্রমিক ফলোআপগুলি, রক্ত পরীক্ষার পুনরাবৃত্তি এবং সিটি স্ক্যানগুলির নতুন কোনও উন্নতি পরীক্ষা করার জন্য সুপারিশ করতে পারেন।


⭕অন্যান্য হস্তক্ষেপ


তবে উচ্চ গ্রেড টেস্টিকুলার ক্যান্সার এবং উন্নত পর্যায়ের ক্যান্সারযুক্ত রোগীদের ক্যান্সার কোষগুলি মেরে ফেলার জন্য এবং আরও মেটাস্টেসিস প্রতিরোধের জন্য নিম্নলিখিত পদক্ষেপগুলি গ্রহণ করতে হয়ঃ


➡️রেডিয়েশন থেরাপি


➡️কেমোথেরাপি


#skincare #সোরিয়াসিস #testis #cancertreatment #cancercare #Cancer

মঙ্গলবার, ২৯ এপ্রিল, ২০২৫

গ্রাফাইটিস~যে কোন ধরনের চর্মরোগ এমনকী চোখের পাতায় একজিমা, চর্মোদ্ভেদ ভেজা ভেজা ও চামড়া ফাটা ফাটা, চোখের পাতা লাল ও কিনারাগুলো আঁস বা মামড়ী পড়ে ঢেকে থাকে,তাতে উপযোগী। 

 🎋গ্রাফাইটিস~যে কোন ধরনের চর্মরোগ এমনকী চোখের পাতায় একজিমা, চর্মোদ্ভেদ ভেজা ভেজা ও চামড়া ফাটা ফাটা, চোখের পাতা লাল ও কিনারাগুলো আঁস বা মামড়ী পড়ে ঢেকে থাকে,তাতে উপযোগী। 

📚Graphites 

♦গ্রাফাইটিস

♦ ডা.এইচ.সি.এলেন

~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~

♦#নিজস্বকথাঃ~

১। স্থুলতা ও কোষ্টবদ্ধতা।

২। ফাঁটা চর্ম ও চটচটে রস।

৩। শঙ্কা ও সতর্কতা।

৪। মাছ, মাংস, সঙ্গীত ও সঙ্গমে অনিচ্ছা।

#মূলকথাঃ

১। দ্বিধাগ্রস্ত, উৎকণ্ঠিত, বিমর্ষ, মনোযোগ দিতে কষ্ট, সকল বিষয়ে সতর্ক ও ভীত।

২। শরীর সর্বদা শীতল, মাথার তালুতে জ¦ালা।

৩। কানে কম শোনে, কিন্তু গোলমালের ভিতর ভাল শুনতে পায়।

৪। সর্দি লাগার প্রবণতা ও ঠান্ডায় রোগের বৃদ্ধি।

৫। মাছ মাংস ইত্যাদি আমিষ দ্রব্য, মিষ্টি ও লবণে অরুচি।

৬। বসে কোন কাজ করার সময় পা নাড়তে থাকে।

৭। শরীরের কোথাও একটু কেটে গেলে বা আঁচড় লাগলে তাতে পূঁজ জন্মে, পুরাতন ক্ষত চিহ্নে আবার ঘা হয়, চর্ম উদ্ভেদ হতে পাতলা আঠালো বা মধুর মত স্বচ্ছ রস ঝরে।

৮। চর্মরোগের উদ্ভেদ শক্ত মোটা, ফাটা রসানি যুক্ত।

৯। ইন্দ্রিয়গুলি অতিরিক্ত তী², সেজন্য গান শুনলে রোগীর কান্না পায়, ফুলের গন্ধ সহ্য হয় না।

# উপযোগিতাঃ

১। যে সব মহিলারা মোটা হতে থাকেন, যারা দিনের পর দিন কোষ্টকাঠিন্যে ভোগেন, যাদের ঋতুস্রাব দেরীতে হওয়ার ইতিহাস থাকে তাদের পক্ষে উপযোগী। বয়ঃসন্ধিকালের যেসব লক্ষণে পালসেটিলা ব্যবহৃত হয়, রজোনিবৃত্তিকালের সেই সেই লক্ষণে গ্রাফাইটিস কার্যকরী।

২। অত্যাধিক সর্তভাব, ভীরুস্বভাব, সব কিছুতেই ইতস্ততঃ করে, কোন বিষয়ের স্থির মীমাংসা করতে পারে না (পালস)। কোন কাজ করতে বসলে হাত-পা নাড়াতে থাকে (জিঙ্কাম)। বিষণ্ন, হতাশভাব, গান শুনলে কান্না আসে, শুধুমাত্র মৃত্যু সম্বন্ধেই চিন্তা করে (গান শোনা অসহ্য- নেট-কা, স্যাবাইনা)।খুব সকালে অসুস্থভাব।

৩। চোখের পাতায় একজিমা, চর্মোদ্ভেদ ভেজা ভেজা ও চামড়া ফাটা ফাটা, চোখের পাতা লাল ও কিনারাগুলো আঁস বা মামড়ী পড়ে ঢেকে থাকে। মাথার উপরে একটি গোলাকার স্থানে জ্বালাকর (ক্যাল্কে.কার্ব, সালফ), (ঐ স্থানটি ঠাণ্ডাভাব- সিপিয়া, ভিরেট্রাম)।

৪। ঋতুস্রাব পরিমাণ খুবই কম, রঙ ফ্যাকাসে, নির্দিষ্ট সময়ের দেরীতে হয়- সাথে ভয়ানক শূলবেদনা হয। ঋতুস্রাব অনিয়মিত- পানিতে কাজ করে বা পানিতে পা ভিজে স্রাব নির্দিষ্ট সময়ের পরে হয (পালস)। ঋতুস্রাবের সময় সকালে গা বমি বা বমিভাব ঐ সময় অত্যন্ত দূর্বল ও অবসণ্ন হয়ে পড়ে (এলুমি, কার্ব-এনি, ককুলাস)। রাতে ঋতুস্রাবের সময় ও পরে রোগ লক্ষণ বাড়ে।

৫। শ্বেতপ্রদর বা প্রদরস্রাবে জ্বালা হয়, হেজে যায়- ঝলকে ঝলকে রাত-দিন বের হতে থাকে। ঋতুর আগে বা পরে শ্বেতপ্রদর হতে থাকে (ঋতুর আগে- সিপিয়া, ঋতুর পরে- ক্রিয়োজোট)।

৬। স্তনের ফোঁড়া সেরে গিয়ে কঠিন ক্ষতচিহ্ন থেকে যায়। এতে দুগ্ধস্রাবে বাধা আসে- ঐ ক্ষতচিহ্ন বা বারে বারে ফোড়া হবার ফলে স্তনের ক্যান্সার হয।

৭। দেহের চামড়া অপরিষ্কার, কর্কশ, অসুস্থ; আঘাত লাগলেই পেকে ওঠে (হিপার), পুরাতন ক্ষতচিহ্নে নতুন করে পূজঁ হয়ে পেকে ওঠে। কানের উপর, হাত-পায়ের আঙুলের ফাঁকে ফাঁকে, শরীরের বিভিন্ন অংশে চর্মরোগ হয়, তা থেকে পানির মত স্বচ্ছ ও চটচটে রস ঝরতে থাকে।

৮। নখ ভঙ্গুর, ভেঙ্গে যায়, বিকৃত হয়ে যায় (এ-ক্রড), নখে ব্যথা যেন ঘা হয়েছে, নখ পুরু ও কুঁচকে যায়। আঙুলের মাথায়, স্তনের বোটায়, ঠোটে ও যোনির ওষ্ঠের সংযোগস্থলে, মলদ্বারে, পায়ের আঙুলের ফাঁকে ফেটে যায় বা ছিড়ে যায়।

৯। একটুতেই ঠান্ডা লেগে সর্দি হয়- প্রবল বাতাসে অত্যনুভূতি (বোরাক্স, ক্যাল্কে.কার্ব, হিপার, নাক্স)। পিড়িত অঙ্গ শুকিয়ে যায়। শিশু নির্লজ্জ, অবাধ্য, ভদ্রতা জানে না- বকলে হাসতে থাকে। অতিরিক্ত যৌনাচারিতা করে জননেন্দ্রিয়ের দুর্বলতা। স্ত্রী-পুরুষ উভয়েরই সঙ্গমে নিতান্ত অনিচ্ছা।

১০। মূর্চ্ছাগ্রস্থভাব- রোগীর জ্ঞান থাকে কিন্তু নড়াচড়া করার বা কথা বলার শক্তি থাকে না। গোলমালের মধ্যে বা গাড়ীতে চড়লে যখন শব্দ হতে থাকে তখন ভাল শুনতে পায় (এ-নাই)। কপালে যেন মাকড়সার জাল জড়িয়ে আছে, হাত দিয়ে ঝেড়ে ফেলতে চায়- এরূপ অনুভূতি (ব্যারাইটা, বোরাক্স, ব্রোমি, র‌্যানান)।

১১। উদরাময়ঃ ঘন বাদামি, তরল, অজীর্ণ দ্রব্য মেশানের ও অসহ্য দূর্গন্ধ থাকে- প্রায়ই উদ্ভেদ চাপা পড়ে উদরাময় হয় (সোরিন)।

১২। কোষ্ঠবদ্ধতাঃ বহুদিনের পুরাতন কোষ্ঠবদ্ধতা- মলত্যাগে কষ্ট, মল বড়, শক্ত, গিটগিট মত, দলাদলা মত, মলে সুতার মত সরু সরু শ্লেষ্মা জড়ানো থাকে। অত্যান্ত লম্বা মল (সালফ), মলত্যাগের পরে মলদ্বারে চিড়িকমারা, ঘায়ের মত ব্যথা বেদনা হয়।

১৩। ইরিসিপেলাসঃ কানেকটিভ টিস্যুতে প্রদাহ হয়ে ইপিসিপেলাস- তাতে জ্বালা ও হুলফোটানো ব্যথা থাকে, ডান দিকে শুরু হয়ে বাদিকে বিস্তৃত হয়। আয়োডিন লাগানোর পর ঔরূপ বিসর্প বা ইরিসিপেলাস হলে ব্যবহার্য।

১৪। অনুপূরক- কস্টি, হিপার, লাইকো। ঋতুসম্বন্ধীয় রোগে লাইকো ও পালসের সমগুণ। লাইকো, পালসের পর এ ঔষধ ভাল খাটে। অল্পবয়সী মহিলাদের মোটা হওয়া রোগে প্রচুর পরিমাণে অস্বাস্থ্যকর মেদযুক্ত তন্তু হতে থাকলে ক্যাল্কে.কার্ব এর পর এ ঔষধ ব্যবহার্য। চর্মরোগে সালফারের পর ও বেগে শ্বেতপ্রদর হতে থাকা লক্ষণে সিপিয়ার পর গ্রাফাইটিস ভাল ফল দেয়।

✒️হোমিওপ্যাথিক ঔষধ সেবনের নিয়ম: সাধারণত ১-২ ফোটা সামান্য পানির সাথে মিশিয়ে ৩ বেলা খাবার আগে সেব্য অথবা গ্লোবিউলস বা পিলে সিক্ত করে ৪ টি করে পিল ৩ বেলা খাবার আগে চুষে খেতে পরেন।


📑Compilation: Homoeopathic Tips

যে কোন হোমিওপ্যাথিক ঔষধ ব্যবহারের আগে অবশ্যই রেজিঃপ্রাপ্ত ফিজিশিয়ানের সাথে পরামর্শ করবেন।

 💫Dr.Md.Forhad Hossain

📑Homoeopathic physician 

 🦋ইউটিউব #Md.Forhad Hossain

☎For appointment 01955507911

ক্যালেন্ডার আবিষ্কারের সম্ভাব্য কারণ

 ক্যালেন্ডার


ক্যালেন্ডার বরাবরই মানুষের জীবনের জরুরি একটা জিনিস। সময় গুছিয়ে চলা, চাষের কাজ ঠিকমত করা আর ধর্মীয় উৎসবের দিন ঠিক রাখার জন্য এটা দারুণ কাজে লাগে।


এই ক্যালেন্ডারের ইতিহাস দেখলেই বোঝা যায়—মানুষ সময় মেপে চলার জন্য কতটা বুদ্ধি খাটিয়েছে, আর কতটা নিখুঁত হতে চেয়েছে।


পদ্ধতির দিক থেকে ক্যালেন্ডার অনেক রকম, অনেক জটিল। কিন্তু সবারই লক্ষ্য এক—সূর্য আর চাঁদের ছন্দের সাথে মিলিয়ে আমাদের কাজকর্ম ঠিক রাখা।

.


ক্যালেন্ডারের অর্থ


‘ক্যালেন্ডার’ শব্দটি এসেছে লাতিন শব্দ ‘ক্যালেন্ডে’ (kalendae) থেকে—যার অর্থ "মাসের প্রথম দিন।" 


প্রাচীন রোমে, মাসের প্রথম দিন, অর্থাৎ ক্যালেন্ডের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হত। আসলে, রোমান পুরোহিতরা নতুন চাঁদ পর্যবেক্ষণ করে মাসের শুরু নিশ্চিত করতেন। এরপর তারা জনসমক্ষে ঘোষণা করতেন যে নতুন মাস শুরু হয়েছে এবং এটিই হল মাসের প্রথম দিন বা 'ক্যালেন্ডে'। 


এই ঘোষণার মাধ্যমে কেবল মাসের শুরুই জানানো হত না, বরং সেই মাসের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ দিনগুলি, যেমন নোনাস (Nones), ইদুস (Ides) কবে পড়বে সেটাও ঠিক করা হত। আর সবচেয়ে জরুরি বিষয় হল, এই ঘোষণা তাদের ঋণ পরিশোধ করার নির্দিষ্ট দিনটি মনে করিয়ে দিত। এই ঋণ ও পরিশোধের হিসাব রাখা হত যে খাতায় রোমানরা সেই খাতাগুলিকে বলত ‘ক্যালেন্ডারিয়া’ (calendaria)। 


ক্যালেন্ডার শব্দটির উৎপত্তি আর পেছনের গল্প জানা গেল। কিন্তু সময়কে হিসাবের ফ্রেমে বাঁধার জন্য মানুষ কেবল এক ধরনের ক্যালেন্ডারই ব্যবহার করেনি। ইতিহাস জুড়ে, মানুষ বিভিন্ন ধরনের ক্যালেন্ডার তৈরি করেছে—কিছু সূর্য এবং চাঁদের গতিবিধির ওপর ভিত্তি করে, আবার কিছু সংখ্যাপদ্ধতির ওপর ভিত্তি করে। এখন, আমরা প্রধানত ৩ ধরনের ক্যালেন্ডার ব্যবহার করি—সৌর (Solar), চান্দ্র (Lunar) এবং চান্দ্রসৌর (Lunisolar)।

.


সৌর ক্যালেন্ডার—আমাদের চেনা ক্যালেন্ডার


সময় মাপার যত পুরোনো উপায় আছে, সৌর ক্যালেন্ডার তার মধ্যে অন্যতম। আর আজও কিন্তু পৃথিবীর নানা প্রান্তে এর ব্যবহার চলছে! এর মূল ব্যাপারটা হল, আমাদের পৃথিবী সূর্যের চারপাশে কীভাবে ঘুরপাক খাচ্ছে, সেই হিসাবের ওপর ভিত্তি করেই এই ক্যালেন্ডার তৈরি হয়েছে।


পৃথিবী যে সূর্যের চারপাশে একবার চক্কর দিয়ে আসে, সেটাই হল একটা সৌর বছর। এই বছরে থাকে ১২টি মাস বা ৩৬৫টি দিন। তবে হিসাব মেলানোর জন্য কখনও কখনও একটা বাড়তি দিন, মানে লিপ ডে (Leap Day), যোগ করা হয়। আমরা এখন যে গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার ব্যবহার করি, সেটাও কিন্তু আসলে এই সৌর ক্যালেন্ডারই।


তবে জানতেন কি, সৌর ক্যালেন্ডারেরও দুটি আলাদা ধরন আছে? একটা হল ট্রপিক্যাল সৌর ক্যালেন্ডার, আরেকটা সাইডেরিয়াল সৌর ক্যালেন্ডার। দুটিই পৃথিবীর সূর্য-প্রদক্ষিণের হিসাব রাখে, কিন্তু মাপার কৌশলটা একটু ভিন্ন। ট্রপিক্যাল ক্যালেন্ডার (Tropical Calendar) নজর রাখে ঋতু বদলের ওপর, আর সাইডেরিয়াল ক্যালেন্ডার (Sidereal Calendar) বছর মাপে দূরের স্থির তারাগুলির সাপেক্ষে।

.


ট্রপিক্যাল ক্যালেন্ডার—ঋতুর সাথে তাল মিলিয়ে


ট্রপিক্যাল ক্যালেন্ডার এক ধরনের সৌর ক্যালেন্ডার যা আমরা বর্তমানে ব্যবহার করি। এই ক্যালেন্ডার সূর্যের চারপাশে পৃথিবীর ঘূর্ণনের ওপর ভিত্তি করে তৈরি।


ক্যালেন্ডারটির নাম ‘ট্রপিক্যাল’ কেন হল?


কারণ এটি ঋতু পরিবর্তনের সাথে সরাসরি সম্পর্কিত। পৃথিবী সূর্যের চারপাশে ঘুরতে থাকলে, ঋতু পরিবর্তিত হয়। ট্রপিক্যাল ক্যালেন্ডার এই ঋতু পরিবর্তনের চক্র ট্র্যাক করে।


একটি ট্রপিক্যাল বছর হল পৃথিবীর সূর্যের চারপাশে একবার পূর্ণ ঘূর্ণন করতে যে সময় লাগে সেটুকু—যা প্রায় ৩৬৫ দিন। এই সময়ের মধ্যে আমরা গ্রীষ্ম, বর্ষা, শরৎ, হেমন্ত, শীত এবং বসন্ত এই ৬ ঋতু অনুভব করি। ট্রপিক্যাল ক্যালেন্ডার ঋতু পরিবর্তনের সাথে তাল মিলিয়ে চলার কারণে আমরা কৃষিকাজ, উৎসব এবং অন্যান্য কাজের জন্য সঠিক সময় নির্ধারণ করতে পারি।


যে গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার আমরা ব্যবহার করি তা আসলে ট্রপিক্যাল ক্যালেন্ডার। এটি বিশ্বের সবচেয়ে ব্যবহৃত ক্যালেন্ডার।


‘ট্রপিক্যাল’ শব্দটি এসেছে ‘ট্রপিক অফ ক্যান্সার’ এবং ‘ট্রপিক অফ ক্যাপ্রিকর্ন’ থেকে, যা পৃথিবীর দুটি গুরুত্বপূর্ণ অক্ষাংশ। বছরে দুবার এমন সময় আসে যখন সূর্য নিরক্ষরেখা থেকে সবচেয়ে দূরে অবস্থান করে। এই দিনগুলিকে অয়নান্ত বলে। 


একটি অয়নান্ত থেকে পরবর্তী অয়নান্ত পর্যন্ত সময়কে ধরা হয় এক বছর। বছরে দুবার এমন সময় আসে যখন দিন ও রাত সমান হয়। এই দিনগুলিকে বলে বিষুব। একটি বিষুব থেকে পরবর্তী বিষুব পর্যন্ত সময়কেও এক বছর ধরা হয়।


প্রাচীনকালে মানুষের কাছে জ্যোতির্বিদ্যার সরঞ্জাম ছিল না। তবুও তারা অয়নান্ত ও বিষুব চিহ্নিত করতে পারত। সূর্যের অবস্থান দেখে তারা বুঝতে পারত কখন ঋতু পরিবর্তন হচ্ছে। এইভাবে তারা কৃষিকাজের জন্য সঠিক সময় নির্ধারণ করত।

.


সাইডেরিয়াল ক্যালেন্ডার—একজন জ্যোতির্বিজ্ঞানীর ক্যালেন্ডার


একটি সাইডেরিয়াল সৌর ক্যালেন্ডার, অয়নান্ত ও বিষুব উপেক্ষা করে এবং বহুদিন ধরে রাতের আকাশে ১২টি রাশিচক্রের মধ্য দিয়ে সূর্যের যাত্রা পর্যবেক্ষণ করে সূর্যের চারপাশে পৃথিবীর কক্ষপথ পরিমাপ করে। সাইডেরিয়াল নামটি লঅতিন শব্দ ‘sideris’ (নক্ষত্রের) থেকে এসেছে।


যেখানে ট্রপিক্যাল ক্যালেন্ডার পৃথিবী এবং তার ঋতুগুলির ওপর মনোযোগ দেয়, সেখানে সাইডেরিয়াল ক্যালেন্ডার গুরুত্ব দেয় নক্ষত্র এবং সূর্যকে। কারণ সাইডেরিয়াল ক্যালেন্ডারের জন্য আকাশ, গ্রহ এবং নক্ষত্রের গতিবিধি দেখা প্রয়োজন—তাই এটি জ্যোতির্বিদ্যার সাথে সম্পর্কিত।

.


চন্দ্র ক্যালেন্ডার—অসম্পূর্ণ হলেও দরকারি


চান্দ্র ক্যালেন্ডার চাঁদের আবর্তনের ওপর ভিত্তি করে তৈরি। এই ক্যালেন্ডারে মাস শুরু হয় অমাবস্যায়, আর শেষ হয় পরের অমাবস্যায়।


একটা চান্দ্র মাস বা lunation প্রায় ২৯.৫৩ দিন ধরে চলে, যা সৌর ক্যালেন্ডারের মাস (৩০ বা ৩১ দিন) থেকে একটু কম। চান্দ্র ক্যালেন্ডার সাধারণত ১২ বা ১৩ মাসে ভাগ করা হয়—ব্যবহারকারী নিজস্ব সংস্কৃতির ওপর নির্ভর করে ঠিক করে থাকে মাসের সংখ্যা কত হবে।


চাঁদের কক্ষপথ একটু উপবৃত্তাকার হওয়ায়, চান্দ্র মাসের দৈর্ঘ্য প্রতি মাসে কিছুটা বদলায়। এর সঙ্গে ক্যালেন্ডারের দিনের সংখ্যা মিলিয়ে রাখা কঠিন হয়ে যায়, বিশেষত কৃষিকাজের মত ক্ষেত্রে যখন নির্ভুল হিসাবের দরকার পড়ে। তাই শুধু চাঁদকে কেন্দ্র করে একটা ঠিকঠাক ক্যালেন্ডার বানানো বেশ ঝামেলার।


এত সমস্যা সত্ত্বেও, চন্দ্র ক্যালেন্ডার হাজার বছর ধরে ব্যবহার হয়ে আসছে, আর এখনও অনেক কাজে লাগে। কীভাবে? কারণ সব ক্ষেত্রে যে খুব বেশি নিখুঁত হিসাব দরকার হয়, তা নয়। অনেক সময় প্রাকৃতিক চক্র আর প্রতিদিনের অভিজ্ঞতার সঙ্গে মিল রাখাটাই জরুরি।


ধর্মীয় উৎসব আর ঘটনাগুলি প্রায় সব সময় চাঁদের চক্রের সঙ্গে মিলে যায়। এজন্যই চান্দ্র ক্যালেন্ডার এখনও রমজান, দিওয়াল, ইস্টার, রোশ হাশানাহ, চীনা নববর্ষের মত উৎসবের তারিখ ঠিক করতে ব্যবহৃত হয়।

.


লুনিসোলার ক্যালেন্ডার 


লুনিসোলার ক্যালেন্ডার হল এমন ক্যালেন্ডার, যেটা চাঁদ (luni) আর সূর্য (solar) দুয়েরই গতিবিধির ওপর ভিত্তি করে তৈরি। এতে বছরে ১২ মাস থাকে, প্রতিটি ২৯ বা ৩০ দিনের, যা চাঁদের দশা অনুযায়ী নির্ধারিত হয়। তবে বছরের দৈর্ঘ্য ঠিক রাখা হয় সূর্যের হিসাব মেনে, সৌর ক্যালেন্ডারের মত।


সৌর আর চন্দ্র চক্রকে মিলিয়ে রাখতে লুনিসোলার ক্যালেন্ডারে মাঝে মাঝে অতিরিক্ত দিন বা মাস যোগ করা হয়। এই প্রক্রিয়াকে বলে intercalation। একে বলা যায় ‘লিপ বছর’—যখন বছরের শেষে এক মাস বা কয়েকটি দিন যোগ করা হয়।


কারণ চান্দ্র মাস সৌর মাসের চেয়ে ছোট, তাই ১২টা চন্দ্র মাস দিয়ে ৩৬৫ দিন পূর্ণ হয় না। যেমন, প্রাচীন রোমান ক্যালেন্ডারে বছরে মাত্র ৩৫৫ দিন ছিল, যা সৌর বছরের চেয়ে ১০ দিন কম। ফলে রোমানদের ‘ইন্টারকালারিস’ নামে একটা অতিরিক্ত মাস যোগ করে এই ঘাটতি পূরণ করতে হত।


আজও লুনিসোলার ক্যালেন্ডার অনেক জায়গায় ব্যবহৃত হয়, বিশেষ করে যেসব সংস্কৃতি ধর্মীয় উৎসব আর বিশেষ দিন ঠিক করার জন্য ক্যালেন্ডার ব্যবহার করে। চীনা ক্যালেন্ডার আর ইহুদি ক্যালেন্ডার লুনিসোলার ক্যালেন্ডারের ভাল উদাহরণ।

.


আজকের যুগে ব্যবহৃত ৩টি জনপ্রিয় ক্যালেন্ডার


১. গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার


বর্তমানের সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ক্যালেন্ডার হল গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার, যা একটি সৌর ক্যালেন্ডার। এটি খ্রীষ্টান ধর্মাবলম্বীদের অফিসিয়াল ক্যালেন্ডার হিসাবে তৈরি হলেও, সিভিল ক্যালেন্ডার হিসাবে‌ই সারা বিশ্বে ব্যবহার করা হয়।


২০২১ সালের হিসাবে, গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার ১৬৮টি দেশে অফিসিয়াল ক্যালেন্ডার হিসাবে গৃহীত হয়েছে। মাত্র ৪টি দেশ এখনও এটি গ্রহণ করেনি—আফগানিস্তান, ইরান, ইথিওপিয়া ও নেপাল।


এই ক্যালেন্ডার অনুযায়ী বর্তমান বছর—২০২৫ খ্রীষ্টাব্দ।


২. ইসলামিক ক্যালেন্ডার


ইসলামিক ক্যালেন্ডার বা হিজরি ক্যালেন্ডার একটি চান্দ্র ক্যালেন্ডার, যেখানে ১২টি চান্দ্র মাস এবং ৩৫৪ বা ৩৫৫ দিন রয়েছে। হিজরি ক্যালেন্ডার ইসলামী উৎসব এবং ধর্মীয় অনুষ্ঠান যেমন ঈদুল আজহা ও রমজানের তারিখ নির্ধারণে ব্যবহৃত হয়।


প্রায় সব ইসলামিক দেশ (যেখানে ইসলাম প্রধান ধর্ম) ধর্মীয় উদ্দেশ্যে হিজরি ক্যালেন্ডার ব্যবহার করে, তবে নাগরিক পরিকল্পনার জন্য গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার ব্যবহার করে। ব্যতিক্রম হল ইরান ও আফগানিস্তান, যারা নিজস্ব সিভিল ক্যালেন্ডার ব্যবহার করে থাকে।


এই ক্যালেন্ডার অনুসারে বর্তমান সাল: ১৪৪৬ হিজরি।


৩. চীনা ক্যালেন্ডার


চীনা ক্যালেন্ডার একটি লুনিসোলার ক্যালেন্ডার, যেখানে সাধারণ বছরে ১২ মাস (প্রায় ৩৫৪ দিন) এবং লিপ বছরে ১৩ মাস (প্রায় ৩৮৪ দিন) থাকে। এটি চীন এবং বিশ্বের বিভিন্ন চীনা কমিউনিটিতে ধর্মীয় ও ঐতিহ্যবাহী উৎসব যেমন লুনার নিউ ইয়ার নির্ধারণে ব্যবহৃত হয়। সিভিল উদ্দেশ্যে চীন গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার ব্যবহার করে।


চীনা ক্যালেন্ডারে বছর গণনা গ্রেগরিয়ান, ইহুদি এবং ইসলামিক ক্যালেন্ডারের মত অনন্ত সংখ্যা ধরে চলে না, এটি ৬০ বছরের চক্রে গণনা করা হয়। প্রতিটি বছরের নাম একটি উপাদান (যেমন গুই বা “স্থির পানি”) এবং একটি রাশিচক্র প্রাণীর (যেমন মাও বা “খরগোশ”) সংমিশ্রণে নির্ধারিত হয়।


বর্তমান বছর: চীনা নববর্ষ ২০২৫ সালের ২৯ জানুয়ারি শুরু হয়েছিল, এবং সেদিন থেকে সাপের বছর শুরু হয়েছে। চীনা রাশিচক্রে সাপকে জ্ঞানী, রহস্যময় এবং প্রজ্ঞাবান হিসাবে বিবেচনা করা হয়। ২০২৫ সাল কাঠের সাপের বছর হবে, যা প্রতি ৬০ বছরে একবার আসে। সর্বশেষ কাঠের সাপের বছর ছিল ১৯৬৫ সাল।

.


ক্যালেন্ডার আবিষ্কারের সম্ভাব্য কারণ


এই প্রশ্নের সহজ কোনো উত্তর নেই। অনেক ঐতিহাসিক, প্রত্নতত্ত্ববিদ এবং দার্শনিক এই বিষয়ে ভেবেছেন। মানুষের ক্যালেন্ডার আবিষ্কারের সম্ভাব্য কারণগুলি হতে পারে:


• কৃষিকাজ: মানুষ স্থায়ীভাবে কোনো অঞ্চলে বসবাস শুরু করার পর কৃষিকাজে জড়িয়ে পড়ে। তখন ফসল বোনা এবং ওঠানোর জন্য পরিকল্পনার প্রয়োজন হয়। এমন একটি ক্যালেন্ডার, যা সঠিকভাবে বলবে ঋতুর শুরু এবং শেষ কখন, ফসল উৎপাদন এবং জমির ফলন বাড়াতে সাহায্য করবে।


• ধর্ম: ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান এবং উৎসব নিয়মিতভাবে পালন করতে সময়ের নির্দিষ্ট পয়েন্ট দরকার। এক উপায় ছিল প্রাকৃতিক চক্রগুলি অনুসরণ করা, যেমন চাঁদের দশা বা একটি নদীর বদ্বীপে বার্ষিক বন্যা।


• ক্ষমতা: বন্যা, মৌসুমি বৃষ্টিপাত বা রাতের আকাশে সাইরিয়াস নক্ষত্রের অবস্থান পূর্বাভাস দিতে পারা একজন ব্যক্তি সমাজে প্রভাব বিস্তার করতে পারে। এমন ব্যক্তিকে প্রাকৃতিক নিয়ন্ত্রণকারী হিসাবে দেখা হত—সে হতে পারে জ্ঞানী, শামান বা সরাসরি একজন নেতা বা গোত্রপ্রধান।

.


জ্যোতির্বিদ্যা আর ক্যালেন্ডার—একসঙ্গেই শুরু


ক্যালেন্ডার দিয়ে মানুষ সময় গুনে রাখা আর ভবিষ্যতের প্ল্যান করার আগে, তাদের তারার গতিবিধি জানতে হয়েছিল। কিন্তু জ্যোতির্বিদ্যা আর ক্যালেন্ডার—কোনটা আগে এসেছে? 


জ্যোতির্বিজ্ঞানী, বিজ্ঞান লেখক আর জনপ্রিয় ব্লগার ড. ফিলিপ প্লাইট মনে করেন, এই দুইয়ের শুরুটা একসঙ্গেই হয়েছে। ড. প্লাইট তার ‘ব্যাড অ্যাস্ট্রোনমি’ (Bad Astronomy) বই আর ব্লগের জন্য বিখ্যাত। তিনি সহজ ভাষায় বিজ্ঞান ব্যাখ্যা করেন।


ড. প্লাইট বলেন, “আমাদের ব্রেন প্যাটার্ন ধরার ক্ষেত্রে খুব ভাল। আপনি যদি এমন জায়গায় থাকেন, যেখানে আকাশ অন্ধকার আর তারা স্পষ্ট দেখা যায়, তাহলে দেখবেন কিছু নির্দিষ্ট নক্ষত্রমণ্ডল সূর্যাস্তের পর আকাশে ওঠে—যেমন যখন ঋতু বদলায়।”


তিনি আরও বলেন, “উত্তর গোলার্ধে, বসন্ত আসার সময় ওরিয়ন নক্ষত্রমণ্ডল দক্ষিণ-পশ্চিম আকাশে উঁচুতে থাকে। এটা খুব সহজেই চোখে পড়ে। তখন মানুষ ওই প্যাটার্নগুলি খেয়াল করতে শুরু করে। আর কিছুদিন পর বোঝা যায় যে এই প্যাটার্ন প্রতি ৩৬৫ দিনে একবার করে আসে। তাই আমার মতে, ক্যালেন্ডার আর আকাশের দিকে তাকানোটা হাতধরাধরি করেই শুরু হয়েছিল।”


#ক্যালেন্ডার #সময় #গণনা

নিচে ৭টি গাছের তালিকা দেওয়া হলো, যেগুলো শুধুমাত্র পানিতে রেখে অনায়াসে বাড়ির রান্নাঘর বা বারান্দায় চাষ করা যায়। এসব গাছ শুধু শোভা বাড়ায় না, অনেকটা স্বাস্থ্য ও রান্নার জন্যও দারুণ উপকারী।

 নিচে ৭টি গাছের তালিকা দেওয়া হলো, যেগুলো শুধুমাত্র পানিতে রেখে অনায়াসে বাড়ির রান্নাঘর বা বারান্দায় চাষ করা যায়। এসব গাছ শুধু শোভা বাড়ায় না, অনেকটা স্বাস্থ্য ও রান্নার জন্যও দারুণ উপকারী।


---


🌿 ১. পুদিনা (Mint)


হালকা রোদে ভালো থাকে।


পাতা রিফ্রেশিং গন্ধ দেয় ও অনেক রান্নায় ব্যবহার হয়।


কাণ্ড কেটে পানিতে রাখলে সহজেই শিকড় গজায়।


---


🌿 ২. পার্সলে (Parsley)


সালাদ, স্যুপ, গার্নিশিংয়ে ব্যবহৃত হয়।


পানিতে রেখে ২–৩ সপ্তাহে শিকড় বের হয়।


---


🌿 ৩. রোজমেরি (Rosemary)


হালকা ঘ্রাণযুক্ত এই গাছ রান্নায় ও সুগন্ধির কাজে ব্যবহৃত হয়।


ডাল পানিতে রেখে আলোতে রাখলে কয়েক সপ্তাহে শিকড় ধরে।


---


🌿 ৪. ওরেগানো (Oregano)


জনপ্রিয় ইতালিয়ান হার্ব।


সহজেই পানিতে শিকড় গজায়। রান্নায় সুস্বাদু ফ্লেভার দেয়।


---


🌿 ৫. গ্রিন অনিয়ন / পেঁয়াজ পাতা (Green Onion)


পেঁয়াজের গোড়া কেটে পানিতে রাখলেই নতুন পাতা গজায়।


প্রতিদিন কেটে ব্যবহার করা যায়।


---


🌿 ৬. টাইম (Thyme)


খুবই সুগন্ধি হার্ব।


এর ডাল পানিতে রাখলেই নতুন শিকড় গজাতে শুরু করে।


রোস্টেড খাবারে ও চায়ে ব্যবহৃত হয়।

যারা শিশুকে ঘনঘন এ্যান্টিবায়োটিক দিচ্ছেন🤷‍♀️,পোস্ট টা তাদের জন্য। 

 যারা শিশুকে ঘনঘন এ্যান্টিবায়োটিক দিচ্ছেন🤷‍♀️,পোস্ট টা তাদের জন্য। 

এ্যান্টিবায়োটিক শিশুদের জন্য খুব ক্ষ*তিকর হতে পারে কিছু গুরুত্বপূর্ণ কারণে:

1. গাট ফ্লোরা নষ্ট করে😞: এ্যান্টিবায়োটিক শুধু খা*রাপ ব্যাকটেরিয়া নয়, উপকারী ব্যাকটেরিয়াও মেরে ফেলে। বাচ্চাদের অন্ত্রে থাকা উপকারী ব্যাকটেরিয়া তাদের হজম ও ইমিউন সিস্টেম গঠনে সাহায্য করে।


2. ইমিউন সিস্টেম দুর্বল করে😞: ঘন ঘন এ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ালে শিশুর শরীর নিজে থেকে জীবাণুর সঙ্গে লড়ার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। ফলে যেকোনো স্বাভাবিক অসুখ ও বাচ্চার সহজে ঠিক হয়না।

3. ড্রাগ রেজিস্ট্যান্স তৈরি হয়😞: অপ্রয়োজনে বা অসম্পূর্ণ ডোজে এ্যান্টিবায়োটিক দিলে ব্যাকটেরিয়া ধীরে ধীরে ওই ওষুধের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। পরবর্তীতে সিরিয়াস সংক্রমণ হলেও ওষুধ কাজ না-ও করতে পারে। ইদানিং অনেক শিশু পাওয়া গিয়েছে, যাদের শরীরে ৬-৭ ধরনের এ্যান্টিবায়োটিক এখন আর রেসপন্স করে না।যার ভয়া*বহতা আপনারা কিছুটা হলেও বুঝতে পারছেন।

4. পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে😞: যেমন ডায়রিয়া, বমি, অ্যালার্জি, স্কিন র‍্যাশ ইত্যাদি। কিছু শিশুদের ক্ষেত্রে মারাত্মক রিঅ্যাকশনও দেখা যায়।

5. ব্রেইন ডেভেলপমেন্টে প্রভাব😞: গবেষণায় দেখা গেছে, জীবনের শুরুতে অপ্রয়োজনীয় এ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারে নিউরোডেভেলপমেন্টাল ইস্যু (যেমন মনোযোগের ঘাটতি, আচরণগত সমস্যা) বাড়ার সম্ভাবনা থাকে।


তাই কী করণীয়?💁‍♀️


👶শুধুমাত্র যখন ডাক্তার পরামর্শ দেন তখনই এ্যান্টিবায়োটিক দিন।( ডাক্তারদের কাছে অনুরোধ হুটহাট এ্যান্টিবায়োটিক ধরিয়ে দেবেন না, আপনারা সচেতন হলে সমস্যা সমাধান খুব ভালো ভাবে সম্ভব)


👶ভাইরাল ইনফেকশনে (যেমন সর্দি, কাশি, জ্বর) সাধারণত এ্যান্টিবায়োটিক দরকার হয় না।


👶পুরো কোর্স শেষ করুন – মাঝপথে বন্ধ করলে সমস্যা। 

দয়াকরে সচেতন হবেন।

আপনার সচেতনতা, আপনার সন্তানের জন্য আশীর্বাদ।

#ShebikAmit 

ধন্যবাদ 🙏

ইসলাম ধর্মমত অনুযায়ী, ইবলিশ শয়তানদের নেতা। 

 ইসলাম ধর্মমত অনুযায়ী, ইবলিশ শয়তানদের নেতা।


এই শব্দের অর্থ চরম হতাশ।কুরআন অনুসারে, যখন ইবলিস আদমকে সেজদা করার আদেশ অমান্য করেছিল তখন তাকে জান্নাতের বাহিরে নিক্ষেপ করা হয়েছিল। ইসলামি ধর্মতত্ত্বে ইবলিসকে এমন বৈশিষ্ট্য এবং কর্মের উদাহরণ হিসাবে বিবেচনা করা হয় যাকে আল্লাহ জাহান্নামে শাস্তি দিবেন। ইবলিসের উৎপত্তি ও প্রকৃতি সম্পর্কে দুটি ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে। কুরআনের ব্যাখ্যা (তাফসির) এবং নবীদের গল্প (কিসাস আল-আম্বিয়া) ইবলিসের মূল কাহিনীকে আরও বিশদভাবে বর্ণনা করে।

ইবলিশ হলো আকৃতি বিহীন আগুন। তবে তার যেকোন রুপ ধারন করার ক্ষমতা আছে। এবং যে কোন মানুষের চিন্তা শক্তি ও নফসের উপরে বর করার ক্ষমতা আছে।


ইসলাম ধর্মে ইবলিসকে দুষ্ট জিন বলা হয়েছে। পবিত্র কুরআন এ উল্লেখ করা হয়েছে, যে যখন আল্লাহ আদম (আলাইহিস সালাম) কে সৃষ্টি করলেন এবং তিনি সকল ফেরেশতাদের বললেন আদমকে সিজদাহ্ করতে, তখন সকল ফেরেশতা সিজদাহ্ করলো। অথচ ইবলিস (শয়তান) সিজদাহ্ করলো না। ফলে সে অবিশ্বাসীদের অন্তর্ভুক্ত হলো এবং আল্লাহ তাকে অভিশপ্ত করলেন।


কুরআনে বর্ণিত ইবলিশ শয়তানের কাহিনী- 


সুরা আল আরাফ (১১—৩৭):


আমি তো তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছি, অতঃপর তোমাদের আকৃতি দিয়েছি, অতঃপর ফেরেশতাদের নির্দেশ দিলাম আদমকে সাজদাহ করার জন্য। তখন ইবলিস ছাড়া সবাই সিজদা করল। সে সিজদাকারীদের অন্তর্ভুক্ত হল না।

তিনি বললেন, “আমি যখন তোমাকে আদেশ দিলাম তখন কি তোমাকে নিবৃত্ত করল যে, তুমি সিজদা করলে না?” সে বলল, “আমি তার চেয়ে শ্ৰেষ্ঠ; আপনি আমাকে আগুন দিয়ে সৃষ্টি করেছেন এবং তাকে কাদামাটি দিয়ে সৃষ্টি করেছেন।”

তিনি বললেন, “তাহলে তুমি এখান থেকে নেমে যাও, এখানে থেকে অহংকার করবে, এটা হতে পারে না। সুতরাং তুমি বের হয়ে যাও, নিশ্চয় তুমি অধমদের অন্তর্ভুক্ত।”

সে বলল, “আমাকে সেদিন পর্যন্ত অবকাশ দিন ,যেদিন তারা পুনরুত্থিত হবে।”

তিনি বললেন, “নিশ্চয় তুমি অবকাশপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত।”

সে বলল, “আপনি যে আমাকে পথভ্রষ্ট করলেন, সে কারণে অবশ্যই অবশ্যই আমি আপনার সরল পথে মানুষের জন্য বসে থাকব।”

তারপর অবশ্যই আমি তাদের কাছে আসব তাদের সামনে থেকে ও তাদের পিছন থেকে, “তাদের ডানদিক থেকে ও তাদের বাম দিক থেকে এবং আপনি তাদের অধিকাংশকে কৃতজ্ঞ পাবেন না।”

তিনি বললেন, “এখান থেকে বের হয়ে যাও ধিকৃত,বিতাড়িত অবস্থায়। মানুষের মধ্যে যারাই তোমার অনুসরণ করবে, অবশ্যই অবশ্যই  আমি তোমাদের সবাইকে দিয়ে জাহান্নাম পূর্ণ করব।”

“আর হে আদম! আপনি ও আপনার স্ত্রী জান্নাতে বসবাস করুন, অতঃপর যেথা হতে ইচ্ছা খান, কিন্তু এ গাছের ধারে –কাছেও যাবেন না, তাহলে আপনারা যালেমদের অন্তর্ভুক্ত হবেন।”

তারপর তাদের লজ্জাস্থান, যা তাদের কাছে গোপন রাখা হয়েছিল তা তাদের কাছে প্রকাশ  করার জন্য শয়তান তাদেরকে কুমন্ত্রণা দিল এবং বলল, “পাছে তোমরা উভয় ফেরেশতা হয়ে যাও কিংবা তোমরা স্থায়ীদের অন্তর্ভুক্ত হও, এ জন্যেই তোমাদের রব এ গাছ থেকে তোমাদেরকে নিষেধ করেছেন।”

আর সে তাদের উভয়ের কাছে শপথ করে বলল , “নিশ্চয় আমি তোমাদের শুভাকাংখীদের একজন।'

অতঃপর সে তাদেরকে প্রবঞ্চনার দ্বারা অধঃপতিত করল। এরপর যখন তারা সে গাছের ফল খেল, তখন তাদের লজ্জাস্থান তাদের কাছে প্রকাশ হয়ে পড়ল এবং তারা জান্নাতের পাতা দিয়ে  নিজেদেরকে আবৃত করতে লাগল। তখন তাদের রব তাদেরকে ডেকে বললেন, “আমি কি তোমাদেরকে এ গাছ থেকে নিষেধ করিনি এবং আমি কি তোমাদেরকে বলিনি যে, নিশ্চয় শয়তান তোমাদের উভয়ের প্রকাশ্য শত্রু ?”

তারা বলল, “হে আমাদের রব আমরা নিজেদের প্রতি যুলুম করছি। আর যদি আপনি আমাদেরকে ক্ষমা না করেন এবং দয়া না করেন, তবে অবশ্যই আমরা ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হব।“

তিনি বললেন, “তোমরা নেমে যাও, তোমরা একে অন্যের শক্র এবং যমীনে কিছুদিনের জন্য তোমাদের বসবাস ও জীবিকা রইল।”

তিনি বললেন, “সেখানেই তোমারা যাপন করবে এবং সেখানেই তোমরা মারা যাবে। আর সেখান থেকেই তোমাদেরকে বের করা হবে।”

আর স্মরণ করুন, যখন আমরা ফেরেশতাদের বললাম, আমাকে সিজদা করো, তখন ইবলিশ ছাড়া সকলেই সিজদা করলো ; সে অস্বীকার করলো ও অহংকার করলো। আর সে কাফেরদের অন্তর্ভুক্ত হলো।

আর আমারা বললাম, “হে আদম ! আপনি ও আপনার স্ত্রী  জান্নাতে বসবাস করুন এবং যেখান থেকে স্বাচ্ছন্দ্যে আহার করুন, কিন্তু এই গাছটির কাছে যাবেন না ; তাহলে আপনারা হবেন যালিমদের অন্তর্ভুক্ত।”

অতঃপর শয়তান সেখান থেকে তাদের পদস্থলন ঘটালো এবং তারা যেখানে ছিলো সেখান থেকে তাদের কে বের করলো। আর আমরা বললাম, ‘তোমরা একে অন্যের শত্রু রুপে নেমে যাও; এবং কিছু দিনের জন্য তোমাদের  ও জীবিকা রইল জমিনে।”

তারপর আদম তার রবের কাছ থেকে কিছু বাণী পেলেন। অতঃপর আল্লাহ্‌ তার তাওবা কবুল করলেন।নিশ্চয় তিনিই তাওবা কবুলকারী,পরম দয়ালু।


তথ্য সংগৃহীত ইন্টারনেট থেকে।

কৃষি ও যৌনতা,,,,,,,,,

 ।। কৃষি ও যৌনতা ।।


প্রত্নতাত্ত্বিক প্রমাণ ও নিদর্শন অনুযায়ী কৃষিকাজের উদ্ভব হয়েছিল প্রায় ১২,০০০ বছর পূর্বে। তার পূর্বে প্রায় ২০ লক্ষ বছর মানুষ ছিল মূলত শিকারী ও সংগ্রাহক, যা জনপ্রিয় ভাবে “হান্টার-গ্যাদারার সোসাইটি” নামে পরিচিত। এই হান্টার-গ্যাদারার সমাজের মানুষের কাজ ছিল মূলত বিভিন্ন ভক্ষণযোগ্য উদ্ভিদ, ফল, কীটপতঙ্গ, পাখির ডিম ইত্যাদি সংগ্রহ করা এবং বিভিন্ন পশু, পাখি ও মাছ শিকার করা।


এই হান্টার-গ্যাদারারদের কিন্তু কিছু নিজস্ব রিচুয়ালিস্টিক প্র্যাকটিস বা আধ্যাত্মিক চর্চাও ছিল। মোটা দাগে একে “ধর্ম” বলছি না, কারণ বর্তমান সময়ে আমরা যে সকল অর্গানাইজড রিলিজিয়ন দেখতে পাই, মানব ইতিহাসে তার আবির্ভাব ঘটতে তখনও ঢের বাকি। কিন্তু কেন? কারণ তখনও অর্গানাইজড রিলিজিয়নের প্রয়োজন হয়ে ওঠেনি মানুষের। বরং প্রকৃতির উপর নির্ভরশীল মানুষের তখন প্রকৃতিকেন্দ্রিক কিছু বিশ্বাস গড়ে ওঠে, যাকে সহজ ভাষায় আমরা এ্যানিমিজম বা সর্বপ্রাণবাদ বলে থাকি।


সর্বপ্রাণবাদ। অর্থাৎ সব কিছুরই প্রাণ বা স্পিরিট আছে। যেমন ধরুন সুউচ্চ কোন পাহাড় কিংবা সুবিশাল কোন সমুদ্র। এদের কৃপা প্রাপ্তির প্রয়োজন হলে এদেরকেই সম্মান জানাতে হবে। আবার এই সর্বপ্রাণবাদের অংশ হিসেবেই উদ্ভব হয় জাদুবিশ্বাসের, যাকে বর্তমান অর্গানাইজড রিলিজিয়নের আদিমতম রূপও বলা যায়। এই জাদুবিশ্বাসের সাথে কিন্তু জাদুটোনার কোন সম্পর্ক নেই। বরং প্রাকৃতিক যেকোনো বিষয়, যার উপর মানুষের নিয়ন্ত্রণ নেই, তাকে নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা থেকেই জাদুবিশ্বাসের উদ্ভব। যেমন ধরুন স্পেনের আলতামিরার কোন গুহাবাসী শিকারে যাওয়ার পূর্বে গুহার দেয়ালে একটি বাইসনের ছবি আঁকলেন এই বিশ্বাস থেকে যে এর মাধ্যমে তিনি বাইসনটির স্পিরিটের উপর নিয়ন্ত্রণ পেয়েছেন। ফলস্বরূপ আজ রাতে তিনি সহজেই এর শিকার করতে পারবেন।


জাদুবিশ্বাসকে অর্গানাইজড রিলিজিয়নের আদিমতম রূপ বলার অনেক গুলো কারণের মাঝে একটি হলো- এতে রিচুয়াল থাকলেও তা জটিল নয়। বাইসন চাই, তাই বাইসনের ছবি আঁকবো। আবার কিছু কিছু ক্ষেত্রে আরেকটি খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো প্রকৃতির বিভিন্ন উপাদান বা বিষয়ের আন্তঃসম্পর্ক। যেমন আকাশ, বৃষ্টি ও জলের সম্পর্ক। অনেক সংস্কৃতিতে আজও বৃষ্টির প্রার্থনা স্বরূপ আকাশের দিকে জল ছুঁড়ে দেওয়ার চর্চা দেখা যায়। অর্থাৎ নিচে থেকে জল ছুঁড়ে দিলে জলের স্পিরিট আকাশের স্পিরিটকে প্রভাবিত করবে। এর ফলে আকাশও জল স্বরূপ বৃষ্টি দান করবে। মনে রাখতে হবে, এই আন্তঃসম্পর্কই কৃষির সাথে যৌনতাকে জুড়ে দিয়েছে পুরো পৃথিবী জুড়ে বিভিন্ন সংস্কৃতিতে।


কৃষির উদ্ভাবন মানব সভ্যতার বেড়ে ওঠার ইতিহাসের যে সুউচ্চ পর্যায়ে আছে, খুব কম বিষয়ই সেই উচ্চতাকে অতিক্রম করতে পেরেছে বোধহয়। হয়তো আগুন আবিষ্কারের পর এটিই ছিল মানব ইতিহাসের সর্বোচ্চ মাইলফলক। কিন্তু একই সাথে ফসল উৎপাদনের প্রক্রিয়াটি বুঝতে মানুষের বেশ মুশকিলও হয়েছে। “শুধু বীজ বুনলেই কি ফসল হয়?” – হয়তো এমন প্রশ্ন মানুষকে ভাবিয়েছে দীর্ঘ সময়। অর্থাৎ সে যে বীজ বুনছে, তা থেকে ফসল ফলছে কীভাবে? কোন অতিপ্রাকৃতিক স্পিরিট কি এটি নিয়ন্ত্রণ করছে?


২০ লক্ষ বছর ধরে হান্টার-গ্যাদারার সোসাইটিতে বাস করে আসা মানুষ শিকার ও সংগ্রহ সম্পর্কে প্রায় সবকিছু জেনে থাকলেও কৃষি সম্পর্কে তার ধারণা শূন্য। শিকার যোগ্য প্রাণী চোখের সামনেই ঘুরে বেড়াচ্ছে, চোখের সামনেই গাছে ঝুলছে ফল। কিন্তু ফসলটা ফলছে চোখের আড়ালে, অনেকটা অদৃশ্য থেকেই। আবার ফল কিংবা প্রাণীর যোগান সহজেই চাহিদা মোতাবেক নিশ্চিত করা সম্ভব হলেও, ফসলের ফলনের পরিমাণ নিশ্চিত করার কোন উপায় ছিল না। তাই ঠিক কী ধরণের জাদুচর্চার মাধ্যমে ফসলের ফলন বৃদ্ধি কিংবা নিশ্চিত করা যায়, তার সম্পর্কেও সে জ্ঞানশূন্য।


আর এখানেই ঘটে অদ্ভুত এক বিষয়। মানুষের সৃজনশীল মস্তিষ্ক কৃষির সাথে এমন একটি বিষয়ের আন্তঃসম্পর্ক স্থাপন করে যার সাথে এর সরাসরি কোন সম্পর্ক না থাকলেও বৈশিষ্ট্যগত কিছু মিল ছিল। আর তা হলো নারীর প্রজনন।


প্রথমত, কৃষির মতো প্রজননের পুরো বিষয়টিও মানুষের কাছে অদৃশ্য ছিল। দ্বিতীয়ত, একটি অদৃশ্য প্রক্রিয়া থেকে ফসলের জন্ম এবং একই রকম অদৃশ্য প্রক্রিয়া থেকে শিশুর জন্মের মাঝে সে খুঁজে পেয়েছিল অদ্ভুত রকম সাদৃশ্য। এই দুই অদৃশ্যের মাঝে যে সাদৃশ্য, তা থেকে আরও কিছু সম্পর্ক স্থাপিত হয়। যেমন ফসলী জমি বা ভূমির সাথে যোনী ও মাতৃত্বের সাদৃশ্য। অপরদিকে হলকর্ষণের সাথে পুরুষত্বের সম্পর্ক। অর্থাৎ পুরুষের লিঙ্গ ও নারীর যোনীর মিলন বা যৌনক্রিয়ার ফলস্বরূপ যেমন শিশুর জন্ম হয়, তেমনি কৃষি জমিতে হলকর্ষণের ফলে ফসলের ফলন হয়।


এই বিষয়ে আলোকপাত করে লোকসংস্কৃতি বিশেষজ্ঞ সুধীর চক্রবর্তী তাঁর “নির্বাচিত প্রবন্ধে” লিখেছেন-- “কৃষিভিত্তিক সমাজে জমিতে শস্য উৎপাদন আর নারী গর্ভে সন্তান আগমন একই জাদুবিশ্বাসে গৃহীত হয়।”


এভাবেই উদ্ভব ঘটে যৌনতা ভিত্তিক বিভিন্ন জাদুবিশ্বাসের। এমন ধারণারও জন্ম হয় যে, নারী পুরুষের যৌনক্রিয়া যত বেশি হবে, ভূমিও ততই যৌনসক্রিয় ও উর্বর হয়ে উঠবে। প্রাচীনকালে ইন্দোনেশিয়ার জাভা সহ পৃথিবীর আরও বিভিন্ন অঞ্চলে এই ধারণা এতটাই তীব্র ছিল যে অনেক সময় কৃষির জমিতেই নারী-পুরুষ যৌনক্রিয়ায় অংশ নিতেন। আবার মধ্য আমেরিকার পিপাইল জাতির কৃষকেরা জমিতে বীজ বোনার প্রায় চার দিন আগে থেকেই সঙ্গম থেকে বিরত থাকতেন। কারণ তারা বিশ্বাস করতেন, বীজ বপনের ঠিক আগের রাতে তীব্র যৌনক্রিয়া করতে পারলে জমির উর্বরতা তার দ্বারা প্রভাবিত হবে।


এখানে আরেকটি বিষয় উল্লেখযোগ্য। হান্টার-গ্যাদারার সমাজের প্রাথমিক পর্যায়ে লিঙ্গভিত্তিক শ্রেণীবিভাজনের বিষয়টি তুলনামূলক কম ছিল। শিকার হোক অথবা ফলমূল সংগ্রহ, নারী পুরুষ উভয়ই সে কাজে অংশগ্রহণ করতেন। কিন্তু এই দৃশ্যপট আবার বদলে যায় বল্লম আবিষ্কারের পর। বল্লম নিক্ষেপের দক্ষতা পুরুষদের শিকারে পারদর্শী করলে তারা ফলমূল সংগ্রহের কাজ ধীরে ধীরে ছেড়ে দেন। অর্থাৎ নারীরা একাই সংগ্রহের কাজটি অব্যহত রাখেন। আর এই ফল সংগ্রহের কাজ করতে করতেই কিন্তু তার বীজ থেকে নারীরাই প্রথম কৃষির উদ্ভাবন করেন। এর প্রমাণস্বরূপ পৃথিবী জুড়ে অসংখ্য লোকগল্পের দেখা মেলে। যেমন আমেরিকার চেরোকি আদিবাসীরা এখনও বিশ্বাস করেন, শস্য আবিষ্কার করেছিলেন পৃথিবীর প্রথম নারী, ঘন জঙ্গলের ভেতরে। গবেষক রবার্ট ব্রিফল্ট এই বিষয়টিকেই গুরুত্ব দিয়ে মন্তব্য করেন— "The art of cultivation has developed exclusively in the hands of women."


তাই নারীদের হাতে কৃষিকাজের সূচনা হওয়া কিন্তু কৃষির সাথে নারী ও মাতৃত্বের সম্পর্ক জোরদার হওয়ার আরেকটি বড় কারণ। এর ফলে পরবর্তীতে কৃষিভিত্তিক যত গুলো রিচুয়ালের উদ্ভব ঘটে, তার সাথে নারী ও মাতৃত্বের বিশেষ সম্পর্ক দেখা যায়। বিশেষত এমন ধারণা করা হয় যে, যেসব বিষয় বা পূর্বশর্ত নারীকে প্রজননক্ষম বা উর্বর করে, তা ভূমিকেও উর্বর করে।


এখানে উদাহরণ হিসেবে ঋতুস্রাবের কথা উল্লেখ করা যায়। নারীরা যেমন একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ঋতুমতী হন, একই ভাবে ভূমি বা ধরণীরও ঋতুপর্ব চলে। গ্রীষ্মের তাপদাহের পর তপ্ত পৃথিবীর বুকে যখন আষাঢ়ের প্রথম বৃষ্টি নামে, তখন আমাদের উপমহাদেশের বিভিন্ন স্থানে পালিত হয় অম্বুবাচীর পারণ। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, এ কয়দিন ধরণীর ঋতুপর্ব চলে। এ সময় একজন ঋতুমতী নারীর মতোই ধরণীর প্রতিও অধিক যত্নবান হতে হবে। তাই এই নির্দিষ্ট সময়কালে জমিতে হলকর্ষণ এবং চাষাবাদ তো নিষিদ্ধই, এমনকি অন্য কোন কারণেও মাটি খোঁড়া যাবেনা।


আবার সন্তানসম্ভবা নারীকে যেমন সাধ খাওয়ানোর রীতি আছে, তেমনি কৃষি জমিকেও সাধ খাওয়ানোর রীতি দেখা যায় আমাদের উপমহাদেশে। শিবায়ন কাব্যে এর উল্লেখ পাওয়া যায়। সেখানে বলা হয়েছে, ভোর রাতে কৃষক স্নান করে ভিজে কাপড়ে জমিতে সাধভক্ষণের অনুষ্ঠান করে থাকেন। এখানে সাধের উপকরণ হলো– আতপ চালের গুড়ো, কাঁচা তেঁতুল, কাঁচা হলুদ, ডাবের জল, কাঁচা দুধ, গঙ্গা জল, খেজুরের নতুন গুড়।


কিছু নেটিভ আমেরিকান জাতিগোষ্ঠীর বিশ্বাস অনুযায়ী, নারীরা যেহেতু সন্তানের জন্ম দিতে পারেন, তাই তারা ফসলের জন্মও দিতে পারবেন। নারীর উর্বরতাশক্তি কোন এক অতিপ্রাকৃতিক শক্তির বলে বীজের ভেতর ঢুকে যায়। তাই সেখানে নারীরাই সর্বদা ফসলের বীজ বুনতেন। তারা ধারণা করতেন, নারীরা ভুট্টা বুনলে প্রতি বৃন্তে তিনটি করে ভুট্টা ফলবে।


ধীরে ধীরে অর্গানাইজড রিলিজিয়ন এবং বিভিন্ন দেবদেবীর উত্থান হতে শুরু করলে দেখা যায়, কৃষি ও প্রজনন উভয়ের জন্য একই মাতৃকা শ্রেণীর দেবীর ধারণা সৃষ্টি হচ্ছে। তবে জানা যায়, প্রাচীন সর্বপ্রাণবাদী সমাজে এই দেবীদের উত্থান শুরু হলে প্রাথমিক পর্যায়ে তাদের প্রতিকৃতি তৈরি হতো জমির ফসল দিয়েই। কারণ মানুষের বিশ্বাস ছিল ফসল কাটা শুরু হলে তার ভেতরের স্পিরিটটি দ্রুত ফসলের গোড়ার দিকে চলে যায়। তাই একবার ফসল কর্তন শেষ হলে সেই গোড়ার অংশ গুলো দিয়েই তৈরী হতো প্রতিকৃতি। অতঃপর তাকে সন্তুষ্ট করার উদ্দেশ্যেই আয়োজিত হতো নানা উৎসব-পার্বণ। কালের বিবর্তনে পৃথিবীর নানা প্রান্তে উদযাপিত এই উৎসব গুলোই ধীরে ধীরে “নতুন ফসলের উৎসব” হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে।


সময়ের সাথে সাথে মাতৃকা শ্রেণীর এই দেবীরা আরও স্বতন্ত্র রূপ এবং গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। হরপ্পা সভ্যতা থেকে অজস্র নগ্ন মাতৃমূর্তি পাওয়া গিয়েছে। গবেষকদের ধারণা, এর সাথে কৃষিভিত্তিক জাদুবিশ্বাসের সম্পর্ক রয়েছে। আবার একটি শিলে দেখা যায়, এক নারী ভূমিতে মাথা ঠেকিয়ে দু’ পা প্রসারিত করে রেখেছেন এবং তাঁর যোনী থেকে বেরিয়ে আসছে শাক-লতা-পাতা। 


প্রাচীন সুমেরীয় অঞ্চলের উর্বরতা ও প্রজননের দেবী ইশতার। জানা যায়, প্রায় ছয় হাজার বছরের প্রাচীন এই দেবীর মন্দিরে গণিকারা অবস্থান করতেন। তাদের মনে করা হতো উর্বরতার এই দেবীর প্রতিনিধি। সেখানকার গম চাষিরা ব্রোঞ্জের মুদ্রার বিনিময়ে মন্দিরে থাকা গণিকাদের সাথে সঙ্গম করতে পারতেন। তবে এই সঙ্গম কেবল মনোরঞ্জনের কারণেই নয়, বরং তখনকার বিশ্বাস অনুযায়ী এটি ছিল ফসল উৎপাদনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্ববহ। আবার অনেক গবেষক দাবী করেন, আদিতে দেবী দুর্গাও ছিলেন শস্যদেবী। দুর্গাপূজার সাথে জড়িত নবপত্রিকা সে বিষয়টিই হয়তো নির্দেশ করে। এমনকি দেবী ইশতারের মতো দেবী দুর্গার পূজা উৎসবেও গণিকাদের উপস্থিতি ছিল বলে মনে করেন গবেষক নরেন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য। এর উল্লেখ পাওয়া যায় কালিকাপুরাণেও। মূলত শবর জাতিগোষ্ঠী একসময় দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করে দশমীর রাতে ‘শাবরোৎসব’ আয়োজন করতেন, যেখানে নর্তকী ও গণিকারা উপস্থিত থেকে সকলের মনোরঞ্জন করতেন।


একই ভাবে প্রাচীন ভারতের ভূমি দেবী বা বসুন্ধরাও কিন্তু একাধারে কৃষিজমির উর্বরতা এবং প্রজননের জন্য পূজিত। বসুন্ধরা দেবীর সমকক্ষ গ্রীক দেবী হলেন গাইয়া। গাইয়াও একই ভাবে জমির উর্বরতা এবং সন্তান সন্ততি লাভের জন্য পূজিত হতেন।


তবে এখানে আরও চমকপ্রদ একটি বিষয় আছে। আমাদের এই উপমহাদেশের দেবদেবীরা বিভিন্ন সময় বিভিন্ন রূপে বর্ণিত হয়েছেন। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়, তাঁরা তাঁদের মূল থেকে অনেকটাই সরে গিয়ে অন্য কোন রূপ ধারণ করেছেন। ঠিক তেমনটাই দেখা যায় রামায়ণের অন্যতম মূল চরিত্র “সীতা”র ক্ষেত্রে।


প্রাচীন ভারতে সীতা একসময় স্বয়ং কৃষিদেবী হিসেবেই পূজিত হয়েছেন। ঋগ্বেদে কৃষিদেবী হিসেবে উল্লেখিত আছে সীতার নাম। আবার অথর্ববেদে আছে সীতার স্তবক মন্ত্র–

"সীতা বন্দামহে ত্বাবর্চীসুভগে ভব

যথাঃ নঃ সুমনা অসো যথাঃ নঃ সুফলা ভব"


মৌর্য যুগে সীতা ছিলেন রাষ্ট্রীয় কৃষিদেবী। কৌটিল্যের অর্থশাস্ত্রের একটি অধ্যায়ের নাম 'সীতাধ্যক্ষ'। এই শব্দের অর্থ হলো– উচ্চপদস্থ কৃষি কর্মচারী।


তবে যদি রামায়ণের সীতার জন্মকথাকে একটু ভেঙে দেখি, তবে দেখবেন সেখানেও কৃষি ও যৌনতার অভাবনীয় একটি সম্পর্কের অস্তিত্ব আছে। 


বলা হয়, মিথিলার রাজা জনক সন্তান লাভের আশায় আচার-প্রথা হিসেবে জমিতে লাঙ্গল দিলে জমি থেকে সীতার আবির্ভাব হয়। “সীতা” শব্দের অর্থই হলো জমিতে লাঙ্গল দেওয়ার ফলে সৃষ্ট দাগ। অর্থাৎ জমি আর লাঙ্গলের মিলনের চিহ্ন, ঠিক যেমন নারী পুরুষের মিলনের চিহ্ন হলো তাদের সন্তান। শাস্ত্র অনুযায়ী সীতা কিন্তু ভূমি দেবীরই কন্যা, আর রাজা জনক তাকে পেয়েছিলেন লাঙ্গল দিয়ে জমি কর্ষণ করতে গিয়েই।


আবার লাঙ্গল শব্দটির ধাতু হলো 'লঙ্গ'। লিঙ্গ শব্দের ধাতুও কিন্তু তা-ই। অর্থাৎ পুরুষের লিঙ্গ আর কৃষির লাঙ্গলকে সমতুল্য হিসেবে দেখা হয়েছে। তাই ভূমি যদি যোনী হয়, তবে লাঙ্গল হলো পুরুষাঙ্গ। লাঙ্গল দিয়ে হলকর্ষণের ফলে ভূমি যেমন উর্বর হয়, নরের সাথে মিলনে তেমনি নারীও হয় সন্তানসম্ভবা। সীতার জন্মকাহিনীতেও হয়তো এই বিষয়টিই প্রতিকীরূপে দেখা যায়।


শেষ করছি বাংলায় এসে। এখানেও ঘটেছে চমকপ্রদ আরেকটি ঘটনা। বাংলার কোচ সম্প্রদায় থেকে শুরু করে আরও অসংখ্য সম্প্রদায়, অঞ্চল ও সেখানকার লোক আচারে শিব ঠাকুরকে তাঁর বৈদিক ও পৌরাণিক রূপ থেকে সরিয়ে লৌকিক কৃষক হিসেবে দেখা হয়। ধর্মমঙ্গল কাব্যে শিবের এই কৃষক রূপ আরও উদ্ভাসিত হয়। শূন্য পুরাণে এই আলাপ আরও বিস্তর। শিব সেখানে আরও সাধারণ, একজন ভিক্ষুক। সংসার যখন অভাবে আর চলছে না, তখন তাঁর স্ত্রী গৌরী তাঁকে চাষাবাদ করার পরামর্শ দিলেন। 


চাষের জন্য তিনি বলদ, লাঙ্গল, মই, দড়ি সবই সৃষ্টি করলেন। কিন্তু বীজ পাবেন কোথায়? সেই নিয়ে আকুল হয়ে ভাবতে ভাবতে একদিন গৌরীর প্রতি শিবের কামভাব জাগ্রত হলো। আর সেই কামভাব থেকেই জন্ম নিলো পৃথিবীর প্রথম ধান “কামোদ”, যার থেকে ধীরে ধীরে পৃথিবীর সকল ধানের সৃজন হলো–


“কৌতুক করিতে শিবে উপজিত কাম।

কামে উপজিল ধান কামোদ বলি নাম।।

একধানে হইবাক সহস্রেক নাম।

ইহাতে আসিয়া লক্ষ্মী করিবে বিরাম।।”


— মুহাইমিনুল নীলয়


তথ্যসূত্র:

১। উপমা অধিকারী, “মাতৃকাশক্তির উপাসনা - পর্ব ১”, ফোকলোর এক্সপেডিশন বাংলাদেশ (২৬ ডিসেম্বর, ২০২৩)

২। স্বপনকুমার ঠাকুর, “বাংলার কৃষিকাজ ও কৃষিদেবতা”, খড়ি প্রকাশনী (২০২০)

৩। Sir James Frazer, “The Golden Bough”, Macmillan Publishers (1890)

৪। নরেন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য, “ভারতীয় ধর্মের ইতিহাস”, জেনারেল প্রিন্টার্স (১৯৭৭)

৫। দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়, “লোকায়ত দর্শন”, নবশক্তি প্রেস (১৯৫৯)

৬। “আত্মা, শস্য, যৌনতা ও দেবত্ব”, ক্যানভাস (১ অক্টোবর, ২০২১)

ননস্টিক প্যানে একটি সামান্য স্ক্র্যাচ থেকে ৯ হাজার বিষাক্ত মাইক্রো-প্লাস্টিক উন্মুক্ত হয়ো

 ননস্টিক প্যানে একটি সামান্য স্ক্র্যাচ থেকে ৯ হাজার বিষাক্ত মাইক্রো-প্লাস্টিক উন্মুক্ত হয়। আর প্রলেপ উঠে গেলে সে সংখ্যা পৌঁছাতে পারে ২০ লাখে! যা প্রতিবার রান্নায় মেশে খাবারের সাথে।


ননস্টিক প্যান, খুন্তি— এসবে টেফলনের প্রলেপ দেওয়া হয়। টেফলন প্লাস্টিক জাতীয় পলিমার। সাধারণ প্লাস্টিক নয়, বরং এটি একটি 'ফরেভার কেমিক্যাল', যা কখনও নষ্ট করা যায় না। একে 'চিরস্থায়ী বিষ' বললেও ভুল হবে না।


এসব সরঞ্জাম একটু পুরনো হলেই খাবারের সাথে মিশতে থাকে এসব কেমিক্যাল, যা দীর্ঘ সময় ব্যবহারে নারী ও পুরুষ উভয়েরই বন্ধ্যাত্ব দেখা দিতে পারে! এমনকি শিশুর বিকাশ ও ক্যানসারের কারণও এসব কণা। হরমোনের ভারসাম্যহীনতারও সূত্রপাত এখান থেকেই। ৯৯% আমেরিকানের রক্তে বিভিন্ন মাত্রায় এই রাসায়নিক পাওয়া গেছে। 


Dr.Abu Musa Khan ডিএইচএমএস ( হোমিওপ্যাথি), মাদার তেরেসা ও মহাত্মা গান্ধী স্বর্ণ পদকপ্রাপ্ত, সুদীর্ঘ ৫০ বছরের অভিজ্ঞতা।

প্রভাষক (অব.) কাজী সিরাজুল ইসলাম হোমিওপ্যাথি কলেজ ও ট্রাস্ট বোর্ডের মেম্বার ডা. দিলীপ রায় হোমিওপ্যাথি কলেজ।


ঠিকানা::::

বিলাসী শপিং কম্পেলেক্স,  বোয়ালমারী উপজেলা সদর, ফরিদপুর।

সকাল ৭টার সংবাদ  তারিখ : ২৮-০৪-২০২৫ খ্রি:

 সকাল ৭টার সংবাদ 

তারিখ : ২৮-০৪-২০২৫ খ্রি:


আজকের সংবাদ শিরোনাম:


পোপ ফ্রান্সিসের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় যোগদান শেষে রোম থেকে দেশে ফিরেছেন প্রধান উপদেষ্টা।


সেপ্টেম্বরে আন্ত:ধর্মীয় সংলাপ আয়োজন করবে বাংলাদেশ ক্যাথলিক চার্চ।


সংলাপের মাধ্যমে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা নিরসনের আহ্বান ঢাকার।


বিদ্যুৎ, মেট্রোরেল, সড়ক ও রেলপথে গ্রাহক কিংবা যাত্রীসেবা বিঘ্নিত হলে টেলিভিশন স্ক্রলের মাধ্যমে জানানোর নির্দেশনা।


রফতানি প্রক্রিয়া উন্নয়নে সিলেট থেকে কার্গো ফ্লাইট চালু।


কাশ্মির উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে নিজেদের শক্তি প্রদর্শন করতে জাহাজ বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালালো ভারত। 


আজ চট্টগ্রাম স্টেডিয়ামে শুরু হচ্ছে বাংলাদেশ ও সফররত জিম্বাবুয়ের মধ্যে দ্বিতীয় ও শেষ ক্রিকেট টেস্ট।

সোমবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২৫

আঁকড়ে ধরা বোঝো,,,,,

 আঁকড়ে ধরা বোঝ,,,? 

যেমন করে আঁকড়ে থাকে ঝিনুক তার মুক্তোকে। যেমন করে আকাশের বুকে আঁকড়ে থাকে মেঘ। ঐ যে অল্প অল্প করে ধরছি আর ছাড়ছি। ছাড়ছিও না আবার শক্ত করে ধরছিও না ; এমনটা নয়। 


অনাদর বোঝ,,,,? 

হৃদয়ে প্রেম আর আদরে টইটম্বুর, অথচ দেখার কেউ নেই। ঐ যে যেমন করে অবুঝ শিশু আদর পেলে মিশে থাকে বুকের সাথে। যেমন করে ছোট্ট পাখি পোষ মানে আদর পেলে। কেউ পাশে থাকার পরও বুকে শূন্যতা নিয়ে বেড়ানোই অনাদর। 


দূরত্ব বোঝ,,,,,? 

এই যে তুমি আছো, আমি আছি, শুধু আমাদের কোন কথা নেই। তুমি তোমার মতো আর আমি আমার মতো। দূরত্ব কি বলে কয়ে আসে? আমরাই ডেকে নিয়ে আসি। 


অভিমান বোঝ,,,,,? 

কথা বলার তীব্র আকুতি, কথা গলায় আটকে যাওয়াই হলো অভিমান। যেমন করে নিঃস্বঙ্গ পাখিটি উড়ে বেড়ায় আকাশের বুকে। 


অবহেলা বোঝ,,,,,? 

এই যে দিনের পর দিন অপেক্ষায় উপেক্ষা নিয়ে বসে থাকা। আসবে না, ভালোবাসবেনা জেনেও কি নিদারুণ আকুতি। এতো ভালোবাসা পেয়েও দিব্যি ভুলে থাকো, দূরে থাকো----এটিই অবহেলা। 


তুমি এতো কিছু বোঝ শুধু মন বোঝ না। মনের আকুতি বোঝ না। বেখেয়ালি মনে পৃথিবী দেখো, নিজের মতো করে সব ভাবো। 

শুধু আমার মতো করে আমায় বোঝ না 🖤🖤🖤


নিজেকে বুঝতে আমাদের সাথে ট্রাভেল করুন আমাদের ট্রাভেল পেজ Gangchil Travellers BD - GTB

বিপদের সময় এই দোয়াটি পড়ুন,অলৈকিক সাহায্য আসবেই,,,,,, ফেইসবুক থেকে নেওয়া

 🌊 তিন অন্ধকারের বুক চিরে অলৌকিক মুক্তির মহাকাব্য: ইউনুস (আ.)-এর গল্প ​আপনি কি কখনো এমন ঘোর অন্ধকারে পড়েছেন, যেখানে পালানোর কোনো পথ নেই? যে...