এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

রবিবার, ৪ মে, ২০২৫

গল্প- ডেথ_থেরাপি (১ম পর্ব) লিখা- নিশান_হাসিব_শান্ত।

 সোহরাওয়ার্দীর এক কোণে একা বসে আছি। পাশেই একটা ছেলে আর একটা মেয়ে ভীষণ ঝগড়া করতেছিলো। ছেলেটা কাঁদছিলো আর চিল্লাচ্ছিলো এটা বলে যে, "অন্য কোথাও বিয়ে বসবি তো আমায় ভালোবাসছিলি কেনো? এতো কথা  দিয়ে প্রতিশ্রুতি দিয়ে ঠকাচ্ছিস কেনো এখন"। 

মেয়েটা উত্তরে বললো, "এটা পরিস্থিতি, আমার কিছু করার নেই"। 

ছেলেটা রিপ্লে দিলো, " আগে তো কসম করতি পরিস্থিতির দোহাই দিবি না"! 


আমি সবটা শুনে তাদের কাছে গেলাম। 

জিগ্যেস করলাম, "নাম কি"? 

একজন বললো পূর্ণ আরেজন বললো আমি সমুদ্র। 

আমি বললাম, "সমুদ্র শূন্য থাকলে মানায় না, পূর্ণতাতেই থাকুক"। 

তারপর পকেট থেকে একটা এক হাজার টাকার নোট বের করে তাদের সামনে রাখলাম। দুইজনই খুব মনোযোগ দিয়ে তাকিয়ে আছে। মেয়েটাকে জিগ্যেস করলাম, এটার মূল্য কতো? মেয়েটা উত্তর দিলো, "পাগল-টাগল হইছেন নাকি? দেখাই তো যাচ্ছে, এক হাজার টাকা"।

আমি বললাম, এই একটা নোট আপনি যদি ওরে দিন, তাহলে এই টাকাটার মূল্য কতো? 

মেয়েটা বললো, এক হাজার। 

এবার প্রশ্ন করলাম, "এই টাকাটা দুজনকে দিলে এটার মূল্য কতো"? 

এবার মেয়েটা বললো, পাঁচশো টাকা। 

জিজ্ঞেস করলাম, তিনজনকে দিলে?

বললো, তিনশো তেত্রিশ টাকা।

তারপর বললাম, নিজেকে এমন করে ভাগ করবেন না, এক স্থানে রাখুন তাহলেই সঠিক মূল্যটা পাবেন। 

তারপর মেয়েটা বললো, ভাইয়া ও তো আমার যোগ্য না। 

উত্তর দিলাম, যোগ্যতাকে ভালোবাসলে আপনি ওর সাথে সম্পর্ক জড়িয়েছিলেন কেনো? আপনি হোয়াইট হাউজের চেয়ারটাকে আই লাভ ইউ বললেই পারতেন! আচ্ছা বাদ দিন। এবার পকেট থেকে এক টাকার একটা কয়েন বের করলাম। এবার বললাম, এটা কতো? 

মেয়েটা বললো, এক টাকা। 

আমি হাজার টাকার নোটটা আর এক টাকার কয়েনটা মেয়েটার সামনে রেখে বললাম, এখানে থেকে আপনি একটা নিবেন আর আমি একটা। মেয়েটা বললো, আমি তো চাইবো হাজার টাকাটা নিতে। 

আমি হাসলাম, বললাম নিয়ে যান। 

মেয়েটা বললো, আপনি হাসছেন! আপনার আফসোস হচ্ছে না? দুটোতে কতো তফাৎ জেনেও আপনি কয়েনটা নিবেন! 

আমি বললাম, এই নোটটার সাথে এরকম আরও চারটা থাকলেও আমি এক টাকার কয়েনটাই নিতাম। 

জিজ্ঞেস করলো, "কেনো"?

বললাম যে, এটা আমার লাকি কয়েন, আর স্পেশাল কিছুর মূল্য অন্য কোনোভাবেই হয় না। এখন আমি যদি ভাবতাম এই কয়েনটা আমার কাছে কিছুই না তাহলে আমিও হাজার টাকাটাই নিতাম আর বলতাম কয়েনটা আমার যোগ্য না, আমিও তফাৎ বলতাম। কিন্তু ওটাই আমার কাছে স্পেশাল। আর ওটার চাইতে এটাই কাছে রাখা সহজ, কারণ হাজার টাকার জন্য কেউ আমার গলায় ছুরিও ধরতে পারে কিন্তু এক টাকার জন্য, নো চান্স! খুব দামী কিছুর কাছে যেতে গেলে দেখবেন সেটা সাঁই করে অন্যের হাতে চলে গেছে।

মেয়েটা বললো, ভাইয়া বুঝে গেছি।

জিজ্ঞেস করলাম,"কী বুঝে গেলেন"? 

স্পেশাল কিছুর যোগ্যতা লাগে না, আর কোনোভাবে মূল্যও হয় না। 

এবার মেয়েটা যে ছেলেটার সাথে ঝগড়া করতেছিলো সে ছেলেটার দিকে তাকিয়ে বললো, " চলো পালাবো, দূরে কোথাও চলে যাবো, দুনিয়ার আর কিছু লাগবো না আমার, মরণেও দিনও তুমি পাশে থাকবা, হ্যাঁ"?

এতোক্ষণ ছেলেটা চুপ করে দাঁড়িয়ে আমার কথা শুনতেছিলো, এবার সে আমায় জড়িয়ে ধরে বললো, ধন্যবাদ ভাই, আজীবন কৃতজ্ঞতা। 

ওরা চলে যাচ্ছিলো, ডাক দিলাম। 

জিজ্ঞেস করলাম, পালাবেন? 

মেয়েটা বললো, হ্যাঁ। 

বললাম যে, আমি কিন্তু বলেছি এই এক টাকার ওই কয়েনটার বিপরীতে আরও হাজার টাকার চারটা থাকলেও আমি ওটাই নিতাম। এই নিন আরও চারটা পাবেন, শোধ করে দিলাম। 

বললো যে, ভাইয়া লাগবেনা, এমনিতে আপনার প্রতি কৃতজ্ঞ আজীবন। 

বললাম রেখে দে বইন, দূরে যাচ্ছিস, কাজে লাগবে। 

ওরা দুজনেই শব্দহীন কেঁদে দিলো।

যাওয়ার সময় মুচকি হেসে পিছনে তাকিয়ে শেষবার জিজ্ঞেস করলো, ভাইয়া বলেছিলে আরও চারটা থাকলে এটাই নিতা, তবে যদি নয়টা বা নিরান্নবইটা কিংবা নয়শো নিরানব্বইটা থাকতো? 

উত্তর দিলাম, সেটা নেই আমার আপাতত আমার কাছে তাহলে সেগুলোর বিপরীতেও আমি আমার স্পেশাল লাকি কয়েনটাই চাইবো। 

মেয়েটা বললো, ভাইয়া আমাদের কিন্তু আবার দেখা হবে একদিন, সেদিন তোমার কাছে নয়শো নিরানব্বইটা থাকবে তোমার বোন সে দোয়া রেখে যাচ্ছে, আর তোমার বোন কিন্তু তোমার কাছে লাকি কয়েনটা রেখে গেছে, মনে রাইখো। 

মুচকি হাসলাম, ভালোবাসা সুন্দর, আমৃত্যু পাশে থাকাটা সুন্দর, আমার স্পেশাল কয়েনটার চেয়েও আরও অনেক অনেক বেশি দামী, সবচেয়ে দামী।

সমুদ্র আমায় জিজ্ঞেস করলো 'ভাইয়া আপনার নামটা'?

-মাহতাব। 

তারপর পূর্ণ মেয়েটা আমায় জিগ্যেস করলো মাহতাব ভাইয়া আপনার কি কেউ আছে খুব স্পেশাল? 

-আছে, ভীষণ স্পেশাল। 

-নাম কি? 

-অনিন্দিতা। (গম্ভীর স্বরে)

-সুন্দর নাম তো, নামের মতোই নিশ্চয় সে অনেক সুন্দর। 

-কতোটা সুন্দর বর্ণনা করা মুশকিল, তবে প্রচন্ড মায়াবী যার চোখে তাকালে স্বয়ং সময় থেমে যায়। যার ললাটে তাকালে আকাশের নীলও ফ্যাকাসে লাগে। যার ঠোঁটে তাকালে পাহাড়ের সবুজ রঙ হারায়। যার চুলে তাকালে আকাশের মেঘ হাওয়া হয়ে যায়। আর যার পুরো মুখে দেখলে মনে হয় এই বুঝি চাঁদ জ্যোৎস্না ছড়ানো ছেড়ে দিয়ে অনিন্দিতাকে নিয়ে আকাশে বসিয়ে দিবে। 

-বাহ অপরূপা। 


এরপর যাওয়ার সময় সমুদ্র বললো ভাইয়া আপনার নাম্বারটা দিবেন? কখনও আবার সমস্যা হলে ডাকতে পারবো কি? 

-অবশ্যই, নাও তাহলে। 

সমুদ্র আর পূর্ণ চলে গেলো। পূর্ণতা বহাল থাকুক অনন্তকাল। ভালোবাসা দেখতেও সুন্দর। 

ঠিক পরেরদিন সমুদ্র ফোন করলো। জানালো, 'ভাইয়া আমরা বিয়ে করেছি'। 

-ভালো খবর। তা কোনো অসুবিধা? 

-জ্বি ভাইয়া একটা অসুবিধা আছে। 

-কি? 

-বাসা খুঁজে পাচ্ছিনা। আর পূর্ণর বাবা আর ভাইয়েরা ওর ফোনে ম্যাসেজ দিছে। আমাদের পেলে টুকরো করে ফেলবে। 

-এক্ষুণি সিম সব অফ করো, আমার ফেসবুক একাউন্ট দিচ্ছি, কারও থেকে কোনো একটা ওয়াইফাই নিয়ে কানেক্ট করে ওখানে নক করো আমায়। 

-আচ্ছা ঠিকাছে ভাইয়া। 


তারপর আমার একাউন্ট নিয়ে কিছুক্ষণ পর সমুদ্র আমায় ম্যাসেঞ্জারে নক করলো। আমি লোকেশনে গিয়ে দেখা করলাম। ওখান থেকে ওদের নিয়ে চলে গেলাম কুমিল্লার বুড়িচংয়ের ছয়গ্রাম এলাকায়। ভারতের বর্ডার ঘেষা গ্রাম। বাংলাদেশের শেষ সীমানার একটি স্থান। ওখানে আমার খুব পরিচিত একজন আছে বিডি ফুড কোম্পানির ডিস্ট্রিবিউটর। উনার কাছে গিয়ে সমুদ্রর জন্য মার্কেটিং এসআরের একটা চাকরি নিয়ে দিলাম। উনি বাসা ঠিক করে দিলো। চারদিক পাকা দালানের বর্ডারের ভেতরে উনার বড় ভাইয়ের একটা পাকা ভবন, বাইরে থেকে দেখতে পরিত্যক্ত ভূতের বাড়ির মতো হলেও ভেতরে মোটামুটি আভিজাত্যপূর্ণ। উনার বড় ভাইয়েরা এখানে থাকেনা, আসেও না, শহরে থাকে বহুবছর ধরে। তারপর ওদের সংসারের টুকিটাকি গুছানোর জন্য আমি আরও কিছু টাকা সমুদ্রের হাতে দিয়ে চলে আসি। আসার সময় দেখলাম ছেলেটা কৃতজ্ঞচিত্তে ছলছল চোখ নিয়ে আমার দিকে তাকিয়ে আছে। 


দুদিন পর থানা থেকে আমায় ফোন করে থানায় যেতে বলে। আমি যাই সেখানে। তারপর সমুদ্রের ব্যাপারে জিগ্যেস করে বলে ওদের ফোন সুইসড অফ হবার পূর্বে আপনার সাথে কথা হয়েছিলো, আপনি কিছু জানেন? 

আমি না জানার ভঙ্গিমা করে বললাম, 'নাম্বারটা দেখি তো'। 

নাম্বার দেখানোর পর আমি বললাম, "ও হ্যাঁ স্যার ওইদিন এই নাম্বারটা থেকে আমার ফোনে কল আসছিলো কিন্তু রং নাম্বার ছিলো, আমি চিনিনা পরে গালাগালি করে ফোন কেটে দিছিলাম"। 

তারপর তারা আমায় জোরাজোরি করেনি, ছেড়ে দিয়েছিলো। কিন্তু পাশে দাঁড়ানো পূর্ণর বাবা আর ভাইয়েরা খুব জোর সন্দেহ করতে থাকে। থানা এরিয়া থেকে আমি বের হয়ে তিনটে মোড় ঘুরতেই দেখি পূর্ণর বাবা আর ভাইয়েরা আমার পথ আটকে দাঁড়ালো। আমি কিছু বলতে যাবো আগেই আমার মুখ বন্ধ করে বেঁধে পূর্ণর মেজো আংকেলের গাড়িতে তুলে আমায় নিয়ে গেলো একটা ভাঙ্গা বাড়িতে। ওখানে বেধে আমায় সিনেমাটিক স্টাইলে মারতে লাগলো আর বারবার জিগ্যেস করতেছিলো, 'যা জানিস বল'। আমি প্রতিবারই বলতে লাগলাম, "আমি কিছুই জানিনা"।

লাস্ট আমায় বাঁধা থেকে ছেড়ে দিলো। পরে আমি বললাম, "দেখেন আমি যা কিছু বুঝেছি, আপনারা মেয়ের জন্য অন্য কোনো ছেলে পছন্দ করলে সে যে ভালো হতো তার কোনো গ্যারান্টি আছে কি? মানুষ বাঁচেই বা কদিন আপনাদের মেয়ে যার সাথেই গেছে আপনাদের পছন্দ না হলেও মানুষটা তো তার নিজের পছন্দের, অপছন্দের কাউকে সাথে নিয়ে একটা জীবন জোর করে কাটাই দেওয়া পৃথিবীর সবচেয়ে বড় জুলুম নয় কি?" 

একথা শুনার পর পূর্ণর বড় ভাই বললো, "আমার বোন আর বোন জামাইকে তো আমরা ঠিকই মেনে নেবো, কিন্তু যদি কখনও জানতে পারি তুই কোনোভাবে জড়িত ছিলি তাহলে সেদিন তোর খবর করে ছাড়বো"। 

এটা বলে ওরা চলে যায়, আমি রক্তাক্ত মুখ নিয়ে মুচকি হাসতে থাকি। 


হঠাৎ ইশরাক থামিয়ে দিয়ে বললো মাহতাব ভাই আপনি কাহিনীতে আগে চলে গেছেন!

-কতো আগে?

-দুই বছর আগে। আপনি দুই হাজার বিশ সালে চলে গেছেন। 

-আমার কোথায় থাকার কথা? 

-ভাই অনিন্দিতায়, শুরু থেকে, আঠারো সালে। 


চলবে...


গল্প- ডেথ_থেরাপি (১ম পর্ব)


লিখা- নিশান_হাসিব_শান্ত।


#লিখালিখি

গল্প: "শেষ পর্যন্ত আপন"

 গল্প: "শেষ পর্যন্ত আপন"


বনের পাশে একটা ছোট্ট গ্রামে থাকত এক গরিব কিশোর, নাম তার মিরাজ। তার পরিবারে কেউ ছিল না, শুধু এক পোষা গাধা — নাম ছিল মিঠু। মিঠু তার একমাত্র সাথী ছিল। ছোটবেলা থেকে মিরাজ আর মিঠু একসঙ্গে বড় হয়েছে, একসঙ্গে দুঃখ-সুখ ভাগ করে নিয়েছে।


মিরাজ বাজারে মালামাল পৌঁছে দিত, আর বিনিময়ে যা পেত, তাই দিয়ে চলত। মিঠু ক্লান্ত হলেও কখনো অভিযোগ করত না। মিরাজও মিঠুকে নিজের ভাইয়ের মতো ভালোবাসত।


কিন্তু সময় বদলে গেল। মানুষ বাজারে ঘোড়া আর ভ্যান ব্যবহার করতে শুরু করল। গাধাকে কেউ আর গুরুত্ব দিত না। মিরাজের কাজ কমে গেল। গ্রামের লোকেরা তাকে হাসাহাসি করত — "এখনো পুরনো গাধা নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে!" মিরাজের মন ভেঙে যাচ্ছিল।


একদিন, অভিমানে মিরাজ ঠিক করল — মিঠুকে ছেড়ে দেবে। জঙ্গলের দিকে হাঁটল। মিঠু কিছু বুঝতে না পেরে তার পেছনে পেছনে হাঁটছিল।


একটা নির্জন জায়গায় এসে মিরাজ বলল, "তুই মুক্ত, মিঠু! এবার তুই যা, আমাকে আর ফিরে দেখিস না!" বলে চোখের জল লুকিয়ে দ্রুত পেছন ফিরে হাঁটতে লাগল।


কিন্তু মিঠু তার পেছনে পেছনে দৌঁড়ে এল। সে মিরাজকে ছাড়তে চায়নি। তখন মিরাজ রাগ করে একখানা লাঠি তুলে ফেলল, যেন ভয় দেখায়। মিঠু ভয়ে একটু পিছিয়ে গেল, কিন্তু পুরোপুরি ফিরে গেল না।


মিরাজ জঙ্গলের পাশের এক খাদের কাছে এল। হঠাৎ পা পিছলে সে নিচে পড়ে যেতে লাগল। ঠিক সেই মুহূর্তে মিঠু ঝাঁপ দিয়ে তার জামার ভাজ কামড়ে ধরল! নিজের সব শক্তি দিয়ে টেনে মিরাজকে খাদের কিনারা থেকে বাঁচিয়ে আনল।


মিরাজ মাটিতে পড়ে কাঁপতে লাগল। চোখের পানি থামছিল না। জড়িয়ে ধরল মিঠুকে। কাঁদতে কাঁদতে বলল,

"ক্ষমা করে দে বন্ধু... আমি তোর উপকারের বদলে তোর সাথে অন্যায় করেছিলাম। আজ তুই আমাকে আবার জীবন দিলি।"


সেদিন মিরাজ বুঝল, প্রকৃত ভালোবাসা কখনো পুরনো হয় না, যেমন পুরনো সাথী কখনো মূল্যহীন হয় না।


তারপর থেকে মিরাজ আর মিঠু একসঙ্গে থাকল। লোকের হাসাহাসির পরোয়া না করে মিরাজ মিঠুকে সাথে নিয়ে নতুনভাবে জীবন শুরু করল।


মিঠু আর মিরাজ — তারা ছিল একে অপরের কাছে সবচেয়ে বড় শক্তি।


গল্পের শিক্ষা:


যারা আমাদের সত্যিকারের সঙ্গী, তারা চিরকাল পাশে থাকে। দুঃসময়ে তাদের চেনা যায়, আর তাদের ছাড়া জীবন অসম্পূর্ণ।

শুধুমাত্র "ক" বর্ণ ব্যবহার করে একটি দীর্ঘ অনুচ্ছেদ:

 শুধুমাত্র "ক" বর্ণ ব্যবহার করে একটি দীর্ঘ অনুচ্ছেদ:


কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী কলেজের কনিষ্ঠ কেরানি কৃশকায় কার্তিক কুমার কর্মকারের কোকিল কন্ঠী কন্যা কপিলা কর্মকার কাশিতে কাশিতে করুণ কন্ঠে কমল কাকাকে কহিল, "কাকা, কড়িকাঠের কেদারা কিংবা কারখানার কাপড় কেনাকাটায় কৃষাণীরা কিছুটা কৃচ্ছতা করিলেও কলকাতার কিশোরী কন্যাদের কাছে কুষ্টিয়ার কুচকুচে কালো কাতান কাপড়ের কদর কল্পনাতীত। কীর্তিমান কতিপয় কলাকুশলী কিংবা কিশোর কবিরাও কালি‌কলমের কল্যাণে, কদরের কিছু কার্যকর কথা কৌশলে, কখনো কবিতার কিতাবে, কখনো 'কালের কন্ঠ' কাগজের কলামে কহিয়াছেন। কিন্তু কাকা, কস্মিনকালেও কেহ কি কখনো কহিয়াছেন কী কারণে, কিসের কারসাজিতে, কেমন করিয়া কোথাকার কোন কাশ্মীরি কম্বল কিংবা কর্ণাটকের কমলা কাতানের কাছে কালক্রমে কুলীন কূলের কায়িক কৃষাণীদের কাঙ্ক্ষিত কালজয়ী কারুকার্যময় কাতান কাপড়ের কদর কমিল?


কাজে কর্মে কুশীলব কিন্তু কেবলই কৌতূহলী কপিলা কর্মকারের কঠিন কথায় কিঞ্চিৎ কর্ণপাত করিয়া ক্লান্ত কৃশকায় কাকা কুষ্টিয়ার কিংবদন্তি কালো কাতানের ক্রমেই কদর কমার কয়েকটি কারণ কোমল কন্ঠে কপিলার কানে কানে কহিলেন। 


কৃষ্ণকায় কাকাকে কাপড়ের কষ্টের কিচ্ছা কাহিনী কহিয়া কপিলা কর্দমাক্ত কলস কাঙ্খে করিয়া কালোকেশী কাকিকে কহিল, কাবেরী কোলের কেয়া-কুঞ্জে কোয়েলের কলকাকলি কিংবা কেতকী কদম কুসুম কাননে কোকিলের কন্ঠে কুহু কুহু কুজনের কতই কারিশমা! কিন্তু কাকি, কদর্য কাক কী কারণে কর্কশ কন্ঠে কানের কাছে কেবল কা কা করে?


কাঁচের কঙ্কন করিয়া কিংকর্তব্যবিমূঢ় কাকি কিলানো কাঁঠালের কদলি কচলাইতে কচলাইতে কহিলেন, কুৎসিত কেতাদুরস্ত কাকের কাজই কা কা কলরবে কোলাহল করিয়া কেরামতির কৃতিত্ব কুড়ানো।

(Slightly modified from the original by Asit Baran Sarkar)

সাতক্ষীরার তালা উপজেলায় আগুনে পুড়ে সানজিদা আক্তার তুলি (১৮) নামের এক কলেজছাত্রীর মারা যাওয়ার ঘটনায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা হয়েছে। এ মামলায় আমিনুর রহমান (২৪) নামের এক ইমামকে পাটকেলঘাটা এলাকা থেকে গ্রেফতারের পর আদালতে পাঠানো হয়েছে।

 সাতক্ষীরার তালা উপজেলায় আগুনে পুড়ে সানজিদা আক্তার তুলি (১৮) নামের এক কলেজছাত্রীর মারা যাওয়ার ঘটনায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা হয়েছে। এ মামলায় আমিনুর রহমান (২৪) নামের এক ইমামকে পাটকেলঘাটা এলাকা থেকে গ্রেফতারের পর আদালতে পাঠানো হয়েছে।


২ মে শুক্রবার তালা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মো. শাহীনুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এর আগে ১ মে বৃহস্পতিবার রাতে তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। এদিনই পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। আমিনুর রহমান খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার কাঞ্চননগর গ্রামের রবিউল ইসলাম গাজীর ছেলে।


নিহত সানজিদা আক্তার তুলি তালা উপজেলার ঘোনা গ্রামের কামরুল মোড়লের মেয়ে এবং তালা মহিলা ডিগ্রি কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী।


স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নিজবাড়ির উঠানে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয় তুলি। তখন সে একাই বাড়িতে ছিল। তার বাবা খুলনায় রিকশা চালান। আর তার মা ছিলেন অন্যের বাড়িতে কাজে।


প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শরীরে আগুন লাগানোর আগে তুলির হাতে কলম দিয়ে ‘আমিনুর’ নাম লেখা ছিল। এলাকাবাসীর দাবি, তুলির বাড়ির পাশের মসজিদে তিন মাস আগে ইমাম হিসেবে কর্মরত ছিলেন আমিনুর রহমান। তুলি তাকে বিয়ের প্রস্তাব দিলে তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন এবং এলাকা ছেড়ে চলে যান।


মামলায় উল্লেখ করা হয়, আমিনুর রহমান কয়েক বছর ধরে তালা উপজেলার ঘোনা জামে মসজিদের পেশ ইমাম হিসেবে কাজ করতেন। সম্প্রতি মসজিদের পাশের কলেজ ছাত্রী সানজিদা আক্তার তুলির সঙ্গে তার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তুলি তাকে বিয়ের প্রস্তাব দেয়। একপর্যায়ে প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে মসজিদের দায়িত্ব ছেড়ে চলে যান। এ ঘটনায় হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়ে তুলি। একপর্যায়ে সে বাড়িতে কেউ না থাকায় বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে নিজের গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন লাগিয়ে দেয়। পরে স্থানীয় বাসিন্দারা তাকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে ঢাকায় নেয়ার পথে তুলির মৃত্যু হয়।


তালা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মো. শাহীনুর রহমান বলেন, সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্ত শেষে তুলির মরদেহ শুক্রবার বিকেলে তার স্বজনদের হাতে তুলে দেয়া হয়েছে। তুলিকে আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে তার বাবা বাদী হয়ে আমিনুরের নাম উল্লেখ করে ঘটনার দিন রাতেই থানায় মামলা করেন। আমিনুরকে বৃহস্পতিবার রাতেই পাটকেলঘাটা থেকে গ্রেফতার করা হয়।

ইপসম সল্ট (ম্যাগনেসিয়াম সালফেট)

 ♦️ইপসম সল্ট (ম্যাগনেসিয়াম সালফেট)♦️

গাছের পুষ্টি ও সতেজতার নির্ভরযোগ্য সহকারী!


ইপসম সল্ট একটি প্রাকৃতিক মিনারেল, যেখানে রয়েছে ম্যাগনেসিয়াম, সালফার ও অক্সিজেন। এটি গাছের জন্য অত্যন্ত উপকারী – সঠিকভাবে ব্যবহার করলে গাছের অনেক সমস্যা সহজেই সমাধান করা সম্ভব।


গাছে ম্যাগনেসিয়ামের অভাবের লক্ষণ:


পুরোনো গাছ ঝিমিয়ে পড়া


টবের নতুন চারা দুর্বল হয়ে যাওয়া


পাতার রং ফ্যাকাশে বা হলুদ হওয়া


পাতা কুঁকড়ে যাওয়া


বৃদ্ধি থেমে যাওয়া


ফুল ও ফল কম হওয়া বা ছোট হওয়া


ব্যবহার পদ্ধতি (৩টি উপায়ে):


১. স্প্রে করে পাতায় ব্যবহার:

১ লিটার পানিতে ১ টেবিল চামচ এপসম সল্ট মিশিয়ে পাতায় স্প্রে করুন।


মাসে ১ বার


শুধুমাত্র ভোর বা সন্ধ্যায় স্প্রে করুন (রোদে নয়)


স্প্রের ৩ দিন আগে ও পরে অন্য সার/কীটনাশক প্রয়োগ করবেন না


২. টবের মাটিতে ব্যবহার:

১ লিটার পানিতে ২ টেবিল চামচ এপসম সল্ট মিশিয়ে মাটিতে দিন

অথবা


সরাসরি টবের উপরিভাগে ব্যবহার করুন


১০-১২ ইঞ্চি টবে ১ চা চামচ, ছোট টবে হাফ চা চামচ


মাটির সাথে মিশিয়ে পানি দিন


মাসে ১ বার


৩. রিপটিং-এর সময়:


নতুন চারা বসানো বা পুরোনো গাছ বড় টবে বসানোর সময়


প্রতি টবে ১/২ চামচ এপসম সল্ট মাটির সাথে মিশিয়ে ব্যবহার করুন


সতর্কতা:

যেসব সবজি রান্না করে বা কাঁচা খাওয়া হয় (যেমন শাক, ধনিয়া, শশা ইত্যাদি), সেগুলিতে স্প্রে না করে শুধুমাত্র মাটিতে ব্যবহার করুন।


উপকারিতা:


সালোক সংশ্লেষণ বাড়ায়


ফুল-ফলের রং উজ্জ্বল করে


মিষ্টতা ও গঠন উন্নত করে


নাইট্রোজেন ও ফসফরাস শোষণে সহায়তা করে


আগাছা ও পোকামাকড় প্রতিরোধ করে


গাছকে সতেজ ও সবল রাখে


শিম জাতীয় গাছের পচন রোধ করে


➤ মোটা দানার এপসম সল্ট আমাদের কাছেই পাবেন!

সারা বাংলাদেশে হোম ডেলিভারি দেওয়া হয়।


✅📩অর্ডার করতে ইনবক্স করুন এখনই!


#ইপসমসল্ট #ম্যাগনেসিয়াম #সালফেট #লবনসার #সার

বজ্রপাত থেকে বাঁচতে বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদফতর ২০টি জরুরি নির্দেশনা দিয়েছে। নির্দেশনাগুলো হলো-

 বজ্রপাত থেকে বাঁচতে বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদফতর ২০টি জরুরি নির্দেশনা দিয়েছে।

নির্দেশনাগুলো হলো-

১. বজ্রপাতের ও ঝড়ের সময় বাড়ির ধাতব কল, সিঁড়ির ধাতব রেলিং, পাইপ ইত্যাদি স্পর্শ করবেন না।

২. প্রতিটি বিল্ডিংয়ে বজ্র নিরোধক দণ্ড স্থাপন নিশ্চিত করুন।

৩. খোলাস্থানে অনেকে একত্রে থাকাকালীন বজ্রপাত শুরু হলে প্রত্যেকে ৫০ থেকে ১০০ ফুট দূরে দূরে সরে যান।

৪. কোনো বাড়িতে যদি পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকে তাহলে সবাই এক কক্ষে না থেকে আলাদা আলাদা কক্ষে যান।

৫. খোলা জায়গায় কোনো বড় গাছের নিচে আশ্রয় নেয়া যাবে না। গাছ থেকে চার মিটার দূরে থাকতে হবে।

৬. ছেঁড়া বৈদ্যুতিক তার থেকে দূরে থাকতে হবে। বৈদ্যুতিক তারের নিচ থেকে নিরাপদ দূতত্বে থাকতে হবে।

৭. ক্ষয়ক্ষতি কমানোর জন্য বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতির প্লাগগুলো লাইন থেকে বিচ্ছিন্ন রাখতে হবে।

৮. বজ্রপাতে আহতদের বৈদ্যুতিক শকে মতো করেই চিকিৎসা দিতে হবে।

৯. এপ্রিল-জুন মাসে বজ্রপাত বেশি হয়। এই সময়ে আকাশে মেঘ দেখা গেলে ঘরে অবস্থান করুন।

১০. যত দ্রুত সম্ভব দালান বা কংক্রিটের ছাউনির নিচে আশ্রয় নিন।

১১. বজ্রপাতের সময় বাড়িতে থাকলে জানালার কাছাকাছি বা বারান্দায় থাকবেন না এবং ঘরের ভেতরে বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম থেকে দূরে থাকুন।

১২. ঘন-কালো মেঘ দেখা গেলে অতি জরুরি প্রয়োজনে রাবারের জুতা পরে বাইরে বের হতে পারেন।

১৩. উঁচু গাছপালা, বৈদ্যুতিক খুঁটি, তার, ধাতব খুঁটি ও মোবাইল টাওয়ার ইত্যাদি থেকে দূরে থাকুন।

১৪. বজ্রপাতের সময় জরুরি প্রয়োজনে প্লাস্টিক বা কাঠের হাতলযুক্ত ছাতা ব্যবহার করুন।

১৫. বজ্রপাতের সময় খোলা জায়গা, মাঠ বা উঁচু স্থানে থাকবেন না।

১৬. কালো মেঘ দেখা দিলে নদী, পুকুর, ডোবা, জলাশয় থেকে দূরে থাকুন।

১৭. বজ্রপাতের সময় শিশুদের খোলা মাঠে খেলাধুলা থেকে বিরত রাখুন এবং নিজেরাও বিরত থাকুন।

১৮. বজ্রপাতের সময় খোলা মাঠে থাকলে পায়ের আঙুলের ওপর ভর দিয়ে এবং কানে আঙুল দিয়ে মাথা নিচু করে বসে পড়ুন।

১৯. বজ্রপাতের সময় গাড়ির মধ্যে অবস্থান করলে, গাড়ির থাতব অংশের সঙ্গে শরীরের সংযোগ ঘটাবেন না। সম্ভব হলে গাড়িটিকে নিয়ে কোনো কংক্রিটের ছাউনির নিচে আশ্রয় নিন।

২০. বজ্রপাতের সময় মাছ ধরা বন্ধ রেখে নৌকার ছাউনির নিচে অবস্থান করুন।


পোষ্টটি শেয়ার করে সকলকে সতর্ক করি এবং নিজে সতর্ক থাকি।

#GWET_OFFICIAL

মেট্রোরেলে কোন স্টেশনে নামলে, কোথায় কোথায় যেতে পারবেন.. টাইম লাইনে রেখে দিতে পারেন.........

 কোন স্টেশনে নামলে, কোথায় কোথায় যেতে পারবেন..

টাইম লাইনে রেখে দিতে পারেন.........


★১) #উত্তরা_উত্তর (Uttara North): দিয়াবাড়ি, খালপাড়, রূপায়ণ সিটি, উত্তরা পশ্চিম থানা, জমজম টাওয়ার, সেক্টর-৭, ১০, ১২, ১৪,১৫,১৬, কামারপাড়া, সুইচগেইট, রানাভোলা, হাউজবিল্ডিং, রাজলক্ষী, জসীমউদ্দীন, এয়ারপোর্ট,  টঙ্গী, কলেজ গেইট, টঙ্গী হয়ে বোর্ড বাজার, গাজীপুর, জয়দেবপুর। উত্তরা উত্তর থেকে মতিঝিলের ভাড়া ১০০ টাকা।


★২) #উত্তরা_সেন্টার (Uttara Center): সেক্টর ১৮, রাজউক উত্তরা মডেল টাউন, বউ বাজার, পঞ্চবটি, বোটক্লাব,  বীরুলিয়া ব্রীজ, বীরুলিয়া ব্রীজ থেকে সাভার, আশুলিয়া। উত্তরা উত্তর থেকে সর্বনিম্ন ভাড়া: ২০ টাকা। মতিঝিল থেকে: ৯০ টাকা।


★৩) #উত্তরা_দক্ষিণ (Uttara South): ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি, শান্তা-মারিয়াম ইউনিভার্সিটি, বিজিএমইএ ভবন, বৃন্দাবন বাজার, এয়ারপোর্ট, । উত্তরা উত্তর থেকে ভাড়া: ২০ টাকা। মতিঝিল থেকে: ৯০ টাকা।


★৪) #পল্লবী (Pallabi): মিরপুর ১২, মিরপুর ডিওএইচএস, মিরপুর সেনানিবাস, ইষ্টার্ন হাউজিং, আফতাব নগর হাউজিং, বিইউপি, কালসী মোড়,মুসলিম বাজার, ইসিবি চত্বর,রুপনগর,আবাসিক,দুয়ারিপাড়া,আরিফাবাদ। 

উত্তরা উত্তর থেকে ভাড়া: ৩০ টাকা।

 মতিঝিল থেকে: ৮০ টাকা।


★৫) #মিরপুর ১১ (Mirpur 11): পূরবী সিনেমা হল, কালসী মোড়, আধুনিক,ইসিবি চত্বর, মিরপুর ১১, মিল্কভিটা,চলন্তিকা মোড়,শিয়াল বাড়ি,প্রশিকা, মিরপুর-১,৬,৭, চিড়িয়াখানা। 

উত্তরা উত্তর থেকে ভাড়া: ৩০ টাকা। 

মতিঝিল থেকে: ৭০ টাকা।


★৬) #মিরপুর_১০ (Mirpur- 10):  মিরপুর গোল চক্কর, সেনপাড়া, মিরপুর-১,২,BRTA, হোপ মার্কেট,শাহ আলী মার্কেট,চিড়িয়াখানা , হার্ট ফাউন্ডেশন, পাকা মসজিদ, টেকনিক্যাল, শ্যামলী, কল্যাণপুর, গাবতলী, আমীনবাজার, সাভার, মিরপুর-১৩, ১৪, পুলিশ ব্যাটালিয়ন, ভাষাণটেক, কচুক্ষেত, বনানী, বনানী থেকে উত্তরা বা মহাখালী অভিমূখের যেকোনো জায়গা। উত্তরা উত্তর থেকে ভাড়া: ৪০ টাকা। মতিঝিল থেকে: ৬০ টাকা।


★৭) #কাজীপাড়া (Kazipara): কাজীপাড়া, বেগম রোকেয়া সরণী, ইটাখোলা বাজার, পূর্ব মনিপুর, বৌবাজার, সাততারা মসজিদ রোড এবং এর আশেপাশে। উত্তরা দিয়া বাড়ি থেকে ভাড়া: ৪০ টাকা। মতিঝিল থেকে: ৬০ টাকা।


★৮) #শেওড়াপাড়া (Shewrapara): শেওড়াপাড়া, কাজীপাড়া, আগারগাঁও, তালতলা,  এবং এর আশেপাশে। ভাড়া: ৫০ টাকা। উত্তরা উত্তর থেকে মতিঝিল থেকে: ৫০ টাকা।


★৯) #আগারগাঁও (Agergaon) : আগারগাঁও পাসপোর্ট অফিস, বিসিএস কম্পিউটার সিটি, চক্ষু হাসপাতাল, নিউরোসায়েন্স হাসপাতাল, শ্যামলী, জাপান গার্ডেন সিটি, টেকনিক্যাল , গাবতলী, শিশু হাসপাতাল, শিশু মেলা, তালতলা এবং এর আশেপাশে। উত্তরা উত্তর থেকে ভাড়া: ৬০ টাকা। মতিঝিল থেকে: ৫০ টাকা।


★(১০) #বিজয়_সরণী (Bijoy Sarani): বিজয় সরণী, জাতীয় সংসদ,নব থিয়েটার, ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট, শাহীন স্কুল ও কলেজ, তেজগাঁও এয়ার পোর্ট, শাহীন বাগ, নাখালপাড়া এবং এর আশেপাশে। উওরা উত্তর থেকে ভাড়া: ৬০ টাকা। মতিঝিল থেকে: ৪০ টাকা।


★(১১) #ফার্মগেট (Farmgate) : ফার্মগেট, আসাদগেট, মোহাম্মদপুর, ধানমন্ডি -২৭, ২৮, লালমাটিয়া, তেজগাঁও কলেজ, বিজ্ঞান কলেজ, হলিক্রস কলেজ এবং এর আশেপাশে । উত্তরা উত্তর থেকে ভাড়া: ৭০ টাকা। মতিঝিল থেকে: ৩০ টাকা।


★(১২) #কাওরান_বাজার ( Kawran Bazar) : কাওরান বাজার, হাতিরঝিল, রামপুরা, মালিবাগ, বসুন্ধরা সিটি, পান্থপথ, স্কয়ার হাসপাতাল, বিআরবি হাসপাতাল, ধানমন্ডি -৩২, কলাবাগান এবং এর আশেপাশে। উওরা উত্তর থেকে ভাড়া: ৮০ টাকা। মতিঝিল থেকে: ৩০ টাকা।


★(১৩) #শাহবাগ (Shahbagh) : শাহবাগ জাদুঘর, পিজি হাসপাতাল, বারডেম হাসপাতাল, রমনা পার্ক, সাইন্স ল্যাব, সিটি কলেজ, ঢাকা কলেজ, ল্যাবএইড হাসপাতাল এবং এর আশেপাশে। উওরা উত্তর থেকে ভাড়া: ৮০ টাকা। মতিঝিল থেকে: ২০ টাকা।


★(১৪) #ঢাকা_বিশ্ববিদ্যালয় (Dhaka University) : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, টিএসসি, ঢাকা মেডিকেল, বুয়েট, শহিদ মিনার, শিশু একাডেমী, আজিমপুর, ইডেন কলেজ, ঢাকা কলেজ, নিউ মার্কেট, চক বাজার। উত্তরা উত্তর থেকে ভাড়া: ৯০ টাকা। মতিঝিল থেকে: ২০ টাকা।


★(১৫) #বাংলাদেশ_সচিবালয় ( Bangladesh Secretariat) : সচিবালয়, প্রেস ক্লাব, সেগুনবাগিচা, শান্তিনগর, হাইকোর্ট, সুপ্রিম কোর্ট, পল্টন, বিজয়নগর, মিন্টু রোড, বেইলী রোড, ভিকারুননিসা স্কুল, গুলিস্তান, বায়তুল মোকাররম এবং এর আশেপাশে । উত্তরা উত্তর থেকে ভাড়া : ৯০ টাকা। মতিঝিল থেকে: ২০ টাকা।


★(১৬) #মতিঝিল ( Motijheel) : মতিঝিল, দিলকুশা, কমলাপুর , বঙ্গভবন , বাংলাদেশ ব্যাংক, নটরডেম কলেজ, আরামবাগ, ফকিরাপুল এবং এর আশেপাশে। উত্তরা উত্তর থেকে ভাড়া: ১০০/- টাকা।

বিঃদ্রঃ ২০০ টাকা বিনিময়ে কার্ড করলে, যাতায়াতে সবসময় ১০% ডিসকাউন্ট পাওয়া যায়।

উত্তরা উত্তর থেকে প্রথম ট্রেন: সকাল ৭:১০ মিঃ

      এবং সর্ব শেষ ট্রেন: রাত ৯:০০ ঘটিকায়।

মতিঝিল থেকে প্রথম ট্রেন: সকাল ৭:৩০ মিঃ

      এবং সর্ব শেষ ট্রেন: রাত ৯:৪০ মিঃ।

প্রতি শুক্রবার উত্তরা উত্তর থেকে: ৩:৩০ মিঃ শুরু হয়ে সর্ব শেষ ট্রেন ৯:০০ মিঃ। 

এবং মতিঝিল থেকে বিকাল ৩:৫০ মিঃ শুরু হয়ে সর্ব শেষ ট্রেন ৯:৪০ মিঃ।

প্রতি ৮/১০ মিনিট পরপর উত্তরা ও মতিঝিল থেকে মেট্রো রেল ছাড়ে। 


★★★পোস্টটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাই শেয়ার করে সবাইকে জানিয়ে দিন এবং নিজের টাইম লাইনে রেখে দিন★★★


...মেট্রোরেল!! 🏵️

#মেট্রোরেল_সংবাদ #মেট্রোরেল #ঢাকারগনপরিবহন


সৌজন্যেঃ  H M Yeasin Mizi

অনুষ্ঠান সূচী ৪ঠা মে, ২০২৫, রবিবার,,,,, আকাশবাণী কলকাতা

 অনুষ্ঠান সূচী


৪ঠা মে, ২০২৫, রবিবার 


প্রথম অধিবেশন


সকাল


৬.০০ সুভাষিত – বাইবেল থেকে পাঠ 


৬.০৫ সঙ্গীতাঞ্জলি 


৬.২০ বাংলা সংবাদ


৬.৩০ আজকের চাষবাস – কথিকা ‘পাট চাষে অধিক মুনাফা পেতে করণীয়’, বলবেন ডঃ অশেষ কুমার ঘোড়ই


৬.৪০ আপনার স্বাস্থ্য – কথিকা ‘ব্যায়ামের অপকারিতা’ বলবেন ডাঃ তীর্থঙ্কর ভট্টাচার্য ।


৬.৪৫ প্রাত্যহিকী - উপস্থাপনা – শুচিস্মিতা গুপ্ত ও দেবদুলাল দে


৭.২৫ বাংলা সংবাদ  


৭.৩৫ স্থানীয় সংবাদ


৭.৪৫ রবীন্দ্রসঙ্গীত - শিল্পী মানস ভুল  


৮.০০ বিজ্ঞান ধারাবাহিক - ‘অঙ্কের আকাশ’ প্রযোজনা ডঃ মানস প্রতিম দাস (তৃতীয় পর্ব) 


৮.৩০ শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের অনুষ্ঠান - খেয়াল পরিবেশন করবেন পণ্ডিত তুষার দত্ত, রাগ - বিলাসখানি টোড়ী


৯.০০ গানে গানে - বাংলা ছায়াছবির গান


৯.১৫ বাংলা সংবাদ


৯.২৫ বিচিত্র সংবাদ


৯.৩০ গানে গানে  (পরবর্তী অংশ)


১০.০০ শিশু মহল - উপস্থাপনায় শুচিস্মিতা গুপ্ত


১০.৩০ কৃষ ত্রিশ বাল্টিবয় (পর্ব –২২) , এরপর শুনবেন শিশু মহল (পরবর্তী অংশ) 


১১.০০ যুববাণী অনুষ্ঠান – ‘একুশে সাহিত্য’ উপস্থাপনায় স্বাগতা মুখোপাধ্যায় এবং ঐন্দ্রিলা কোনার   


দুপুর


১২.০০ সঙ্গীত শিক্ষার আসর – পরিচালনা - সুখবিলাস বর্মা, 


বিষয় - লোকগীতি


১২.১৫ পুরাতনী - শিল্পী ইন্দ্রানী বন্দোপাধ্যায়


১২.৩০ গ্রামীণ সংবাদ 


১২.৩৩ গল্প দাদুর আসর - উপস্থাপনায় কৌশিক সেন


১.৩০ বাংলা সংবাদ


১.৪০ স্থানীয় সংবাদ


১.৪৫ দ্বিজেন্দ্রগীতি ও অতুলপ্রসাদের গান


২.০০ বাংলা আধুনিক গান


২:২০ আবহাওয়ার বিজ্ঞপ্তি 


২.৩০ নাটক - বিষ, রচনা - জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী, বেতার নাট্যরূপ - অজিতেশ বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রযোজনা - অজিত মুখোপাধ্যায়।


৩.০০ প্রথম অধিবেশনের সমাপ্তি ঘোষণা 


৩.০০ ডিটিএইচ বাংলা পরিষেবা এবং এফ এম ১০৭ মেগাহার্টজের নাটক – ‘পালক’, রচনা - শ্যামাপ্রসাদ ঘোষ ও প্রযোজনা – পরিমল হেমব্রম  


দ্বিতীয় অধিবেশন 


বিকেল


৫.০০ ক্রীড়াঙ্গন – ‘এ সপ্তাহের খেলোয়াড়’, উপস্থাপনায় সৌম্যদেব বন্দ্যোপাধ্যায়


৫.৩০ যুববাণী অনুষ্ঠান – ‘সুরের ক্যানভাসে’, উপস্থাপনায় শুভব্রত চৌধুরী 


সন্ধ্যা


৬.০০ আবহাওয়ার বিজ্ঞপ্তি


৬.০৫ সাঁওতালী অনুষ্ঠান – ‘লোকগীতি’ পরিবেশনায় - বর্ষা সরেন ও সহশিল্পীবৃন্দ 


৬.১০ সাঁওতালী সংবাদ  


৬:১৫ সাঁওতালী অনুষ্ঠান – কথিকা- হোটেল মালিক অরূপ মুর্মুর সাক্ষাৎকার। এরপর শুনবেন লোকগীতি পরিবেশনায় নরেন্দ্রনাথ হেমব্রম।


৬.৩৫ গ্রামীণ সংবাদ  


৬.৩৮ কৃষকবন্ধুদের জন্য আবহাওয়ার বিজ্ঞপ্তি


৬.৪০ যাত্রানুষ্ঠান - যাত্রা – ‘লায়লা-মজনু’, রচনা - কেকা বল্লভ, পরিবেশনা - মা লক্ষ্মী যাত্রা সমাজ।  


৭.৩০ সমীক্ষা 


৭.৩৫ বাংলা সংবাদ 


৭.৫০ স্থানীয় সংবাদ


রাত 


৮.০০ সবিনয়ে নিবেদন - উপস্থাপনায় শর্মিষ্ঠা সরকার 


৮.৩০ পত্র পাঠ রোগ বিদায় 


৮.৫৫ এ মাসের গান – বিষয়- রবীন্দ্র সঙ্গীত, পরিবশনায় সমবেত শিল্পী গোষ্ঠী 


৯.০০ শিক্ষাঙ্গন থেকে – বরানগর মোহন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের থেকে অনুষ্ঠান রেকর্ড করে এনেছেন সম্পূর্ণা চক্রবর্তী 


৯.৩০  শ্যামাসঙ্গীত - শিল্পী দেবশ্রী মুখোপাধ্যায় 


৯.৪৫ নজরুলগীতি - শিল্পী ইন্দ্রানী বন্দ্যোপাধ্যায়


১০.০০ রবিবাসরীয় অখিল ভারতীয় সঙ্গীত সভা – সংগ্রহশালা থেকে, কন্ঠ সঙ্গীতে - পন্ডিত বসন্তরাও দেশপান্ডে


১১.০০ নির্বাচিত বাংলা ছায়াছবির গান এবং আধুনিক গান


১২.০০ দিল্লী কেন্দ্রের হিন্দী ও ইংরেজী সংবাদ।


১২.১০ অধিবেশনের সমাপ্তি ঘোষণা।


* প্রয়োজনে শেষমুহুর্তে অনুষ্ঠানের পরিবর্তন হতে পারে *


বেশি শ্রোতাদের কাছে পৌঁছে দিতে Share করুন।


আকাশবাণী কলকাতা সঞ্চয়িতা, (DTH বাংলা ও News on AIR Appও শোনা যাবে)


অনুষ্ঠান সূচী


৪ঠা মে, ২০২৫, রবিবার      


প্রথম অধিবেশন


সকাল 


৬.১৫ সুবদ্ধসঙ্গীত –  সরোদ বাজিয়ে শোনাবেন পণ্ডিত শ্যাম গঙ্গোপাধ্যায়,  রাগ- যোগিয়া কলিঙ্গরা এবং ভৈরবী


৬.২৫ রবীন্দ্র সঙ্গীত - শিল্পী মানস ভুল


৬.৩৫ রামচরিত মানস - পর্ব ১৪৩


৬.৪৫ ভক্তিগীতি - শিল্পী অজিত গোস্বামী


৭.১০ যুববানী অনুষ্ঠান - সুপ্রভাত - উপস্থাপনায় নীনা মোদক 


৮.৩০ বাংলায় হিন্দি শিক্ষার আসর - উপস্থাপনায় দেবযানী রায় চৌধুরী


৯.০০ লোকগীতি - শিল্পী সৌমিক দাস 


৯.২০ আধুনিক গান - শিল্পী দিলাসা চৌধুরী


৯.৪০ রসধারা - উপস্থাপনায় দেবযানী রায় চৌধুরী


১০.১৫ বাংলা আধুনিক গান


১০.৩০ বৃন্দগান - ‘ধনধান্যে পুষ্প ভরা’, গীতিকার ও সুরকার - দ্বিজেন্দ্রলাল রায় 


১১.০০ পাশ্চাত্য সঙ্গীত - উপস্থাপনায় দীপা চন্দ


দুপুর


১২.০০ সুরভী - উপস্থাপনায় দেবযানী রায় চৌধুরী


১২.২০ পাশ্চাত্য সঙ্গীত – কলিং অল চিলড্রেন – স্টুডিওর বাইরে থেকে রেকর্ড করে এনেছেন সিসিলিয়া বন্দ্যোপাধ্যায়, উপস্থাপনায় দীপা চন্দ


১.১০ পাশ্চাত্য সঙ্গীত - উপস্থাপনায়  দীপা চন্দ


২.৩০ শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের অনুষ্ঠান - বাঁশি বাজিয়ে শোনাবেন শিল্পী পরমানন্দ রায়, রাগ - পটদীপ


৩.০০ প্রথম অধিবেশনের সমাপ্তি ঘোষণা 


দ্বিতীয় অধিবেশন 


৫.১০ দ্বিজেন্দ্রগীতি - শিল্পী ইন্দ্রানী বন্দ্যোপাধ্যায়


৫.২০ উর্বশী – উপস্থাপনায় ওম প্রকাশ সিং


৬.১০ পাশ্চাত্য সঙ্গীত - উপস্থাপনায় অভিষেক মন্ডল।


৭.১০ শ্যামা সঙ্গীত - শিল্পী দেবশ্রী মুখোপাধ্যায়


৭.৩০ দর্পণ - উপস্থাপনায় ওম প্রকাশ সিং


৮.০০  বেতার প্রতিবেদন  - জিও ওয়ার্ল্ড কনভেনসন কেন্দ্র মুম্বাই থেকে ‘বিশ্ব অডিও ভিসুওয়াল অ্যান্ড এন্টারটেনমেণ্ট সামিট ২০২৫’ 


৮.৩০ স্পটলাইট (বাংলা রূপান্তর)


৯.১৬ স্পটলাইট


১০.১০ পাশ্চাত্য সঙ্গীত - উপস্থাপনায় অভিষেক মন্ডল


১১.১০ শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের অনুষ্ঠান – খেয়াল পরিবেশনায় অনিন্দিতা মুখোপাধ্যায়, রাগ - বাগেশ্রী এবং হিন্দোলি


১২.০০ দ্বিতীয় অধিবেশনের সমাপ্তি ঘোষণা

মজন্তালী সরকার উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী

 মজন্তালী সরকার

উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী


এক গ্রামে দুটো বিড়াল ছিল। তার একটা থাকত গোয়ালাদের বাড়িতে, সে খেত দই, দুধ, ছানা, মাখন আর সর। আর একটা থাকত জেলেদের বাড়িতে, সে খেত খালি ঠেঙার বাড়ি আর লাথি। গোয়ালাদের বিড়ালটা খুব মোটা ছিল, আর সে বুক ফুলিয়ে চলত। জেলেদের বিড়ালটার গায় খালি চামড়া আর হাড় কখানি ছিল। সে চলতে গেলে টলত আর ভাবত, কেমন করে গোয়ালাদের বিড়ালের মতো মোটা হব।

শেষে একদিন সে গোয়ালাদের বিড়ালকে বললে, 'ভাই, আজ আমার বাড়িতে তোমার নিমন্ত্রণ।'


সব কিছু মিছে কথা। নিজেই খেতে পায় না, সে আবার নিমন্ত্রণ খাওয়াবে কোথা থেকে? সে ভেবেছে, 'গোয়ালাদের বিড়াল আমাদের বাড়ি এলেই আমার মতন ঠেঙা খাবে আর মরে যাবে, তারপর আমি গোয়ালাদের বাড়িতে গিয়ে থাকব।'

যে কথা সেই কাজ। গোয়ালদের বিড়াল জেলেদের বাড়িতে আসতেই জেলেরা বললে, 'ঐ রে। গোয়ালাদের সেই দই-দুধ-খেকো চোর বিড়ালটা এসেছে, আমাদের মাছ খেয়ে শেশ করবে। মার বেটাকে!'

বলে তারা তাকে এমনি ঠেঙালে যে, বেচারা তাতে মরেই গেল। রোগা বিড়াল তো জানতই যে, এমনি হবে। সে তার আগেই গোয়ালাদের বাড়ি গিয়ে উপস্থিত হয়েছে। সেখানে খুব করে ক্ষীর-সর খেয়ে, দেখতে-দেখতে সে মোটা হয়ে গেল। তখন আর সে অন্য বিড়ালদের সঙ্গে কথা কয় না, আর নাম জিগগেস করলে বলে, 'মজন্তালী সরকার।'


একদিন মজন্তালী সরকার কাগজ কলম নিয়ে বেড়াতে বেরুল। বেড়াতে-বেড়াতে সে বনের ভিতরে গিয়ে দেখল যে তিনটি বাঘের ছানা খেলা করছে। সে তাদের তিন তাড়া লাগিয়ে বলল, 'এইয়ো! খাজনা দে!' বাঘের ছানাগুলো তার কাগজ কলম দেখে আর ধমক খেয়ে বড্ড ভয় পেল। তাই তারা তাড়াতাড়ি তাদের মায়ের কাছে গিয়ে বললে, 'ও মা, শিগগির এস! দেখ এটা কি এসেছে, আর কী বলছে!', বাঘিনী তাদের কথা শুনে এসে বললে, 'তুমি কে বাছা? কোথেকে এলে? কী চাও?' মজস্তালী বললে, 'আমি রাজার বাড়ির সরকার, আমার নাম মজন্তালী। তোরা যে আমাদের রাজার জায়গায় থাকিস, তার খাজনা কই? খাজনা দে।'

বাঘিনী বললে, 'খাজনা কাকে বলে তা তো আমি জানিনে। আমরা খালি বনে থাকি, আর কেউ এলে তাকে ধরে খাই। তুমি না হয় একটু বস, বাঘ আসুক।'

তখন মজন্তালী একটা উঁচু গাছের তলায় বসে, চারিদিকে উঁকি মেরে দেখতে লাগল। খানিক বাদেই সে দেখল ঐ বাঘ আসছে। তখন সে তাড়াতাড়ি কাগজ কলম রেখে, একেবারে গাছের আগায় গিয়ে উঠল।


বাঘ আসতেই তো তা বাঘিনী তার কাছে সব কথা বলে দিয়েছে, আর বাঘের যে কি রাগ হয়েছে কি বলব! সে ভয়ানক গর্জন করে বললে, 'কোথায় সে হতভাগা? এখুনি তার ঘাড় ভাঙছি!'

মজন্তালী গাছের আগা থেকে বললে, 'কী রে বাঘা, খাজনা দিবি না? আয়, আয়!'

শুনেই তো বাঘ দাঁত মুখ খিঁচিয়ে 'হালুম!' বলে দুই লাফে সেই গাছে গিয়ে উঠেছে। কিন্তু খালি উঠলে কি হয়? মজন্তালীকে ধরতে পারলে তো! সে একটুখানি হালকা জন্তু, সেই কোন্ সরু ডালে উঠে বসেছে, অত বড় ভারি বাঘ সেখানে যেতেই পারছে না। না পেরে রেগে-মেগে বেটা দিয়েছে এক লাফ, অমনি পা হড়কে গিয়েছে পড়ে। পড়তে গিয়ে, দুই ডালের মাঝখানে মাথা আটকে, তার ঘাড় ভেঙে প্রাণ বেরিয়ে গিয়েছে।

তা দেখে মজন্তালী ছুটে এসে তার নাকে তিন চারটে আঁচড় দিয়ে, বাঘিনীকে ডেকে বললে, 'এই দেখ, কী করেছি। আমার সামনে বেয়াদবি।'

এ সব দেখে শুনে তো ভয়ে বাঘিনী বেচারীর প্রাণ উড়ে গেল। সে হাত জোড় করে বললে, 'দোহাই মজন্তালী মশাই আমাদের প্রাণে মারবেন না। আমরা আপনার চাকর হয়ে থাকব।'

তাতে মজন্তালী বললে, 'আচ্ছা তবে থাক, ভালো করে কাজকর্ম করিস, আর আমাকে খুব ভালো খেতে দিস।'

সেই থেকে মজন্তালী বাঘিনীদের বাড়িতেই থাকে। খুব করে খায় আর বাঘিনীর ছানাগুলির ঘাড়ে চড়ে বেড়ায়। সে বেচারারা তার ভয়ে একেবারে জড়-সড় হয়ে থাকে, আর তাকে মনে করে, না জানি কত বড় লোক।


একদিন বাঘিনী তাকে হাত জোড় করে বললে, 'মজন্তালী মশাই, এ বনে খালি ছোট-ছোট জানোয়ার, এতে কিছু আপনার পেট ভরে না। নদীর ওপারে খুব ভারি বন আছে, তাতে খুব বড়-বড় জানোয়ারও থাকে। চলুন সেইখানেই।'

শুনে মজন্তালী বললে, 'ঠিক কথা। চল ওপারে যাই।' তখন বাঘিনী তার ছানাদের নিয়ে, দেখতে-দেখতে নদীর ওপারে চলে গেল। কিন্তু মজন্তালী কই? বাঘিনী আর তার ছানারা অনেক খুঁজে দেখল— ঐ মজন্তালী সরকার নদীর মাঝখানে পড়ে হাবু-ডুবু খাচ্ছে। স্রোতে তাকে ভাসিয়ে সেই কোথায় নিয়ে গিয়েছে, আর ঢেউয়ের তাড়ায় তার প্রাণ যায়-যায় হয়েছে।

মজন্তালী তো ঠিক বুঝতে পেরেছে যে, আর দুটো ঢেউ এলেই সে মারা যাবে। এমন সময় ভাগ্যিস বাঘিনীর একটা ছানা তাকে তাড়াতাড়ি ডাঙায় তুলে এনে বাঁচাল, নইলে সে মরেই যেত, তাতে আর ভুল কি?

কিন্তু মজন্তালী সরকার তাদের সে কথা জানতেই দিল না। সে ডাঙায় উঠে ভয়ানক চোখ রাঙিয়ে বাঘের ছানাকে চড় মারতে গেল, আর গাল যে দিল তার তো লেখাজোখাই নেই। শেষে বললে, 'হতভাগা মূর্খ, দেখ দেখি কী করলি! আমি অমন চমৎকার হিসাবটা করছিলুম, সেটা শেষ না হতেই তুই আমাকে টেনে তুলে আনলি— আর আমার সব হিসাব এলিয়ে গেল! আমি সবে গুণছিলুম, নদীতে কটা ঢেউ, কতগুলো মাছ আর কতখানি জল আছে। মূর্খ বেটা, তুই এর মধ্যে গিয়ে সব গোলমাল করে দিলি। এখন যদি আমি রাজামশাইয়ের কাছে গিয়ে এর হিসাব দিতে না পারি, তবে মজাটা টের পাবি।'


এসব কথা শুনে বাঘিনী তাড়াতাড়ি এসে হাত জোড় করে বললে, 'মজন্তালী মশাই, ঘাট হয়েছে, এবারে মাপ করুন। ওটা মূর্খ, লেখাপড়া জানে না তাই কি করতে কী করে ফেলেছে!'

মজন্তালী বললে, 'আচ্ছা, এবারে মাপ করলুম। খবরদার। আর যেন কখনো এমন হয় না।' এই বলে মজন্তালী তার ভিজে গা শুকাবার জন্যে রোদ খুঁজতে লাগল।

ভারি বনের ভিতরে সহজে রোদ ঢুকতে পায় না। সেখানে রোদ খুঁজতে গেলে উঁচু গাছের আগায় গিয়ে উঠতে হয়। মজন্তালী একটা গাছের আগায় উঠে দেখলে যে, এই বড় এক মরা মহিষ মাঠের মাঝখানে পড়ে আছে। তখন সে তাড়াতাড়ি গিয়ে সেই মহিষটার গায়ে কয়েকটা আঁচড় কামড় দিয়ে এসে বাঘিনীকে বললে, 'শিগগির যা, আমি একটা মোষ মেরে রেখে এসেছি।'

বাঘিনী আর তার ছানাগুলো ছুটে গিয়ে দেখলো, সত্যি মস্ত এক মোষ পড়ে আছে। তারা চারজনে মিলে অনেক কষ্টে সেটাকে টেনে আনলে, আর ভাবলে, 'ঈস! মজন্তালী মশায়ের গায়ে কি ভয়ানক জোর!'

আর একদিন মজন্তালীকে বললে, 'মজন্তালী মশাই, এ বনে বড়-বড় হাতি আর গণ্ডার আছে। চলুন একদিন সেইগুলো মারতে যাই।'

একথা শুনে মজন্তালী বললে, 'তাই তো হাতি গণ্ডার মারব না তো মারব কি? চল আজই যাই।'

বলে সে তখুনি সকলকে নিয়ে হাতি আর গণ্ডার মারতে চলল। যেতে-যেতে বাঘিনী তাকে জিগগেস করলে, 'মজন্তালী মশাই, আপনি খাপে থাকবেন না, ঝাঁপে থাকবেন?' খাপে থাকবার মানে কি? না-জন্তু এলে তাকে ধরে মারবার জন্যে চুপ করে গুড়ি মেরে বসে থাকা। আর ঝাঁপে থাকার মানে হচ্ছে, বনের ভিতরে গিয়ে ঝাঁপাঝাঁপি করে জন্তু তাড়িয়ে আনা। মজন্তালী ভাবলে, 'আমার তাড়ায় আর কোন জন্তু ভয় পাবে?' তাই সে বললে,

'আমি ঝাঁপিয়ে যে সব জন্তু পাঠাব, তা কি তোরা মারতে পারিস? তোরা ঝাঁপে যা, আমি খাপে থাকি।'

বাঘিনী বললে, 'তাই তো, সে সব ভয়ানক জন্তু কি আমরা মারতে পারব? চল বাছারা, আমরা ঝাঁপে যাই।'

এই বলে বাঘিনী তার ছানাগুলোকে নিয়ে বনের অন্য ধারে গিয়ে, ভয়ানক 'হালুম-হালুম' করে জানোয়ারদের তাড়াতে লাগল। মজন্তালী জানোয়ারদের ডাক শুনে, একটা গাছের তলায় বসে ভয়ে কাঁপতে লাগল।


খানিক বাদে একটা সজারু সড়-সড় করে সেই দিক পানে ছুটে এসেছে, আর মজন্তালী তাকে দেখে 'মাগো' বলে সেই গাছের একটা শিকড়ের তলায় গিয়ে লুকিয়েছে, এমন সময় একটা হাতি সেইখানে দিয়ে চলে গেল। সেই হাতির একটা পায়ের এক পাশ সেই শিকড়ের উপরে পড়েছিল, তাতেই মজন্তালীর পেট ফেটে গিয়ে, বেচারার প্রাণ যায় আর কি।

অনেকক্ষণ ঝাঁপাঝাঁপি করে বাঘেরা ভাবলে, 'মজন্তালী মশাই না জানি এতক্ষণে কত জন্তু মেরেছেন, চল একবার দেখে আসি।' তারা এসে মজন্তালীর দশা দেখে বললে, 'হায়-হায়! মজন্তালী মশায়ের এ কি হল?'

মজন্তালী বললে, 'আর কি হবে? তোরা যে সব ছোট-ছোট জানোয়ার পাঠিয়েছিলি। দেখে হাসতে-হাসতে আমার পেটই ফেটে গিয়েছে।' এই বলে মজন্তালী মরে গেল।

জলাতঙ্ক থেকে কি বেঁচে ফেরা সম্ভব? 

 জলাতঙ্ক থেকে কি বেঁচে ফেরা সম্ভব? 

জলাতঙ্ক শব্দটা শুনলেই আমাদের সর্বপ্রথম মাথায় আসে একজন মুমূর্ষু রোগীর ভয়াবহ অবস্থার প্রতিচ্ছবি — যিনি প্রচণ্ড আতঙ্কে ভুগছেন, প্রচণ্ড পিপাসায় তার গলা শুকিয়ে গেছে অথচ পানি দেখলে বা পান করতে গেলেই ছটফট করছেন, মুখ থেকে বেরোচ্ছে ফেনা, শরীর কাঁপছে, কখনো হিংস্র আচরণ করছেন আবার কখনো অচেতন হয়ে পড়ছেন। সময় যত এগোচ্ছে, তার স্নায়ুতন্ত্র ততই ভেঙে পড়ছে, শ্বাস-প্রশ্বাসে ব্যাঘাত ঘটছে, হৃদস্পন্দন দুর্বল হয়ে আসছে — এবং অবশেষে, একটি ভয়ানক এবং নির্মম পরিণতির মাধ্যমে শেষ হয় তার জীবনের অধ্যায়।


জলাতঙ্ক ভাইরাস, বা র‍্যাবিস, সাধারণত সংক্রমিত প্রাণীর কামড় বা আঁচড়ের মাধ্যমে মানুষের শরীরে প্রবেশ করে। যদি যথাসময়ে প্রতিষেধক (vaccine) দেওয়া না হয় তাহলে একবার উপসর্গ শুরু হলে এই অবস্থা থেকে কোনো মানুষের বেঁচে ফেরার সম্ভাবনা প্রায় শূন্যের কোটায় বলেই আমরা জানি। তাই চিকিৎসাবিজ্ঞানে জলাতঙ্ককে আজও মানব ইতিহাসের সবচেয়ে মারাত্মক রোগগুলোর একটি ধরা হয় যার বিরুদ্ধে উপসর্গ-পরবর্তী কার্যকর প্রতিকার আজও সুনিশ্চিত নয়।


তবে ২০০৪ সালে ঘটে এক অভাবনীয় ঘটনা। যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিন অঙ্গরাজ্যে ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরী (Jeanna Giese) বাদুড়ের কামড়ে জলাতঙ্কে আক্রান্ত হোন। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো উপসর্গ শুরু হওয়ার পরও তিনি বেঁচে যান। এটি ছিল চিকিৎসাবিজ্ঞানের ইতিহাসে এক যুগান্তকারী মুহূর্ত। এই অলৌকিক সাফল্যের পেছনে ছিল এক সাহসী চিকিৎসক ও পরীক্ষামূলক চিকিৎসাপদ্ধতি — Milwaukee Protocol।


ঘটনার শুরু হয় ২০০৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসের ১২ তারিখে। সেদিন জিয়ানা তার মায়ের সাথে গির্জায় প্রার্থনা করতে গেলে দেখা যায় গির্জায় অনুপ্রবেশকৃত একটি বাঁদুড় সবার প্রার্থনায় ব্যাঘাত ঘটাচ্ছিল বলে  গির্জার কর্মীরা সেটিকে আঘাতের মাধ্যমে মেঝেতে ফেলে দেয়। আর এই ঘটনা জিয়ানার দৃষ্টিগোচর হলে সে বাঁদুড়টিকে গির্জার বাইরে ছেড়ে দিয়ে আসার চেষ্টা করে এবং এমতাবস্থায় আচমকা বাদুড়টি তার আঙুলে কামড় দেয়। তবে সে এই ব্যাপারটিকে খুবই  হালকাভাবে নেয় এবং ভ্যাকসিন না নিয়ে কেবল এন্টিসেপটিক দিয়ে ক্ষত পরিষ্কার করে। আর তার এই সামান্য অসাবধানতাই ডেকে আনে এক ভয়াবহ পরিণতি। প্রায় ১ মাস পর অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ে সে জ্বরে ভুগতে শুরু করে। শুরু হয় ক্লান্তি, দৃষ্টিজনিত সমস্যা, বমি, অতিরিক্ত লালার প্রবাহ — এবং ধীরে ধীরে স্নায়ুবিক উপসর্গ।


শিশু সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ এবং চিকিৎসক রডনি উইলোবি রোগীর অবস্থা দেখে উপলব্ধি করেন এটি জলাতঙ্ক হতে পারে এবং পরবর্তীতে CDC (Centers for Disease Control and Prevention) থেকেও পরীক্ষার ফলাফল পজিটিভ আসে। এর পরপরই উইলোবি সিদ্ধান্ত নেন মৃত্যুকে স্বাভাবিকভাবে মেনে নেওয়ার বদলে একটি সাহসী ও নতুন পথ বেছে নেবেন।


Dr. Willoughby-এর ধারণা ছিল অনেকটা এমন যে, যেহেতু র‍্যাবিস মস্তিষ্কের কোষে আক্রমণ করে এবং কোষের কার্যকলাপ ধ্বংসের কারণেই রোগীর মৃত্যু ঘটে তাই যদি মস্তিষ্কের কার্যকলাপ সাময়িকভাবে “বন্ধ” করে রাখা যায় তাহলে ভাইরাসের ধ্বংসযজ্ঞ থেকে স্নায়ু কিছুটা রক্ষা পাবে এবং ফলশ্রুতিতে শরীর নিজেই ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়ার সময় পাবে। র‍্যাবিসে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া ব্যক্তিদের ওপর করা কেস রিপোর্টগুলো বিশ্লেষণ করে তিনি দেখতে পান যে, র‍্যাবিসে মৃতদের মস্তিষ্ক মৃত্যুর পর দেখা যায় না খুব বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং যদি রোগীদের মৃত্যুর আগে শ্বাস-প্রশ্বাস ও রক্তচাপ বজায় রাখতে সহায়তা করা যায়, তাহলে মৃত্যুর পর তাদের দেহে ভাইরাস খুঁজে পাওয়া যায় না।


আর এই ধারণার ওপর ভিত্তি করে তিনি তৈরি করলেন এক পরীক্ষামূলক চিকিৎসা — Milwaukee Protocol। 


জিয়ানা-কে ওষুধের মাধ্যমে কৃত্রিম কোমায় পাঠানো হয়। তাকে দেওয়া হয় sedatives (ketamine, midazolam), antiviral ও neuroprotectant ওষুধ (amantadine), এবং antiviral ribavirin। পরে অল্প ডোজে phenobarbital দেয়া হয় কোমা পরিপুর্ণভাবে নিশ্চিত করতে, যদিও এটি মূল পরিকল্পনার অংশ ছিল না। যাইহোক এসব ঔষধ প্রয়োগের উদ্দেশ্য মস্তিষ্কের কার্যক্রম হ্রাস করে ভাইরাসের আক্রমণ থেকে নিউরনগুলোকে রক্ষা করা এবং সেই সময়টায় শরীরের ইমিউন সিস্টেমকে ভাইরাসের বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া জানাতে সুযোগ দেওয়া।


মূলত চিকিৎসকেরা Jeanna-র শরীরকে একটি নিউরোলজিকাল শীতনিদ্রা/হাইবারনেশনে পাঠিয়েছিলেন। উইলোবি বলেছিলেন, এটা ছিল একেবারেই একটি "ধারণা", যার পেছনে কোনো পরীক্ষিত তথ্য ছিল না। কিন্তু জিয়ানা গিজের অভিভাবকরা সম্মতি দেন। শুরুতে জিয়ানা নির্দিষ্ট কিছুদিন কোমায় ছিলেন। এরপর ধীরে ধীরে তার স্নায়ুতন্ত্রের কার্যকলাপ  পুনরুদ্ধার হয় এবং দীর্ঘ পুনর্বাসনের মাধ্যমে তিনি স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসেন।


সপ্তাহখানেক পর ঔষধের ডোজ কমানোর ফলে কৃত্রিম কোমা থেকে ধীরে ধীরে জিয়ানা যখন জেগে ওঠেন তখন তিনি পুরোপুরি প্যারালাইজড — কিন্তু তিনি জীবিত ছিলেন, যা নিঃসন্দেহে একটি বড় অর্জন। দিনদিন ডাক্তাররা যখন অ্যানেস্থেসিয়ার পরিমাণ কমাচ্ছিল তখন জিয়ানার ধীরে ধীরে রিফ্লেকশন আসা শুরু করে। দুই সপ্তাহের মধ্যে তিনি উঠে বসতে এবং চারপাশে তাকাতে শুরু করলেন এবং তিনি একটি দীর্ঘ, কঠিন পুনর্বাসন প্রক্রিয়া শুরু করলেন। তার ব্যক্তিগত ওয়েবসাইটে লিখিত তথ্যমতে, “কথা বলা, হাঁটা, দাঁড়ানো, জিনিস তুলে ধরা, নির্দেশ করা, খাওয়া, পান করা, সবকিছু একটি শিশু যা শেখে” এই সবকিছু তাকে পুনরায় শিখতে হয়েছিল (যেহেতু সে প্যারালাইজড ছিল)। ২০০৫ সালের জানুয়ারিতে জিয়ানা হাসপাতাল ছাড়েন। রোগ নির্ণয়ের এক বছর পর তিনি রেবিস গবেষকদের একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বক্তৃতা দেন এবং ২০১১ সালে তিনি কলেজ থেকে স্নাতক হন, যেখানে তার চিকিৎসক উইলোবি উপস্থিত ছিলেন।


তবে ২০০৫ সালে জিয়ানা গিজ সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেলেও পরবর্তী দুই বছর স্বস্তির নিশ্বাস ফেলতে পারেননি ডাক্তার উইলোবি। কেননা যেহেতু এটাই সুস্থতার প্রথম রেকর্ড এবং জলাতঙ্ক থেকে আরোগ্যের বিষয়ে এর আগে তার কোনো ধারণা ছিল না তাই তাই গিজের পুনরায় জলাতঙ্কে আক্রান্ত হওয়া কিংবা ধীর্ঘ মেয়াদি অন্য কোনো সমস্যা দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা ছিল। তাছাড়া এরই মধ্যে তার মনে বেশকিছু প্রশ্নও ছিল। গিজ কেন বেঁচে গেল? সে কি র‍্যাবিস দ্বারা পরিপূর্ণভাবে সংক্রমিত ছিল নাকি তার সংক্রমণের ধরণ ছিল হালকা কিংবা অস্বাভাবিক? নাকি সত্যিই প্রটোকৌলই তাকে বাঁচিয়েছে? আর যদি তাই হয় সেক্ষেত্রে প্রটোকৌলের কোন উপাদানগুলো জীবন বাঁচানোর ক্ষেত্রে দায়ী? তার এই পদ্ধতি কি বাকিদের উপর কাজ করবে?


উইলোবি ও তার সহকর্মীরা জিয়ানা গিজের এই আরোগ্য লাভের ঘটনাটি CDC (Centers for Disease Control and Prevention) এর “রোগ ও মৃত্যু সাপ্তাহিক প্রতিবেদন”-এ এবং নিউ ইংল্যান্ড জার্নাল অব মেডিসিনে রিপোর্ট করেছিলেন। তাছাড়া উইসকনসিন মেডিকেল কলেজ বিস্তারিত চিকিৎসা পদ্ধতি সহ একটি ওয়েবসাইট তৈরি করেছিল (যা মিলওয়াকি প্রোটোকল নামে পরিচিত হয়েছিল) এবং একটি রেজিস্ট্রিও তৈরি করেছিল যেখানে চিকিৎসকরা প্রোটোকল ব্যবহার করে তাদের অভিজ্ঞতার বিবরণ রেকর্ড করতে পারতেন। উইলোবি আশা করেছিলেন যে বছরে হাজার হাজার জলাতঙ্কের মারাত্মক ঘটনা ঘটলে, অন্যান্য চিকিৎসকরা এটি ব্যবহার শুরু করবে এবং ছয় মাসের মধ্যে তার কাছে একটি উত্তর থাকবে সেই প্রশ্নগুলোর। 


যাইহোক, যে  Milwaukee Protocol ইতিহাসের প্রথমবারের মতো কোনো জলাতঙ্কের রোগীকে সুস্থ করে তোলার কর্তৃত্ব অর্জন করেছিল সে চিকিৎসা পদ্ধতিটি তেমন উল্লেখযোগ্য স্বীকৃতি তো পায়নি বরং অনেক জলাতঙ্ক গবেষক তার এই প্রটোকৌল এর তীব্র সমালোচনা করেছেন এই চিকিৎসাটিকে “অনৈতিক” অবহিত করে। বহু বিশেষজ্ঞ মনে করেন, এই পদ্ধতিটি আসলে কার্যকর নয়, বরং ঝুঁকিপূর্ণ। কেননা পদ্ধতিতে করা ৫১টি প্রচেষ্টাতে দেখা যায়, যার মধ্যে মাত্র ৭ জন বেঁচে আছেন, অর্থাৎ, সাফল্যের হার মাত্র ১০–১৫ শতাংশ। আবার বেঁচে যাওয়া এসব লোকেদের মধ্যে কারো কারো শারীরিক প্রতিবন্ধকতার রেকর্ডও রয়েছে। তবে উইলোবি মনে করেন, প্রায় অর্ধেক ক্ষেত্রে তার এই প্রটোকৌল কঠোরভাবে মানা হয়নি এবং এতদিনে এই পদ্ধতির সংশোধিত রূপ আরও নিরাপদ ও কার্যকর হতে পারে। 


যদিও উইলোবি মনে করেন তার উদ্ভাবিত এই চিকিৎসা পদ্ধতি অধ্যয়ন যোগ্য তবে সমালোচকরা তা মোটেও মনে করেন না। এরমধ্যে ম্যানিটোবা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যালান জ্যাকসন ২০১৩ সালে অ্যান্টিভাইরাল রিসার্চ জার্নালে প্রকাশিত একটি পর্যালোচনায় বলেছেন, “এই প্রোটোকলটির ব্যবহার বন্ধ করা উচিত।” আবার, অনেকে সমালোচকরা মনে করেন যারা জলাতঙ্ক থেকে বেঁচে গেছেন তারা হয়ত এমনিতেই বেঁচে যেতেন। জিয়ানার বেঁচে থাকা হয়ত তার শক্তিশালী ইম্যিউন সিস্টেমের ফলাফল — কোনো চিকিৎসার কারণে নয়। এই ধারণাকে সমর্থন করার জন্য প্রমাণ হিসেবে দাঁড় করানো হয় যে, র‍্যাবিস সংক্রমণ সবসময় মারাত্মক হয় না। তাছাড়া, সমস্ত আক্রান্ত প্রাণী এই রোগে মারা যায় না, এবং পেরুর প্রত্যন্ত অঞ্চলে যেখানে সংক্রামিত ভ্যাম্পায়ার বাদুড় খুবই কমন, সেখানে গবেষণায় দেখা গেছে যে কিছু লোকের জলাতঙ্কের বিরুদ্ধে অ্যান্টিবডি রয়েছে যদিও তারা কখনও টিকা গ্রহণ করেনি।


যাইহোক, চিকিৎসক উইলোবির উদ্ভাবিত এই Milwaukee Protocol সমস্ত সমালোচনাকে পাশ কাটিয়ে আদৌ কোনোদিন সর্বজনস্বীকৃত হতে পারবে কি না, নাকি চিকিৎসাবিজ্ঞানের কল্যাণে ভবিষ্যতে জলাতঙ্কে আক্রান্ত রোগীদের জীবন বাঁচাতে আরো কার্যকর কোনো পদ্ধতি উদ্ভাবিত হবে তার উত্তর হয়ত সময়ই বলে দিবে। তবে বর্তমানে উইলোবি এবং তার চিকিৎসা পদ্ধতির সমালোচকগণ, উভয় পক্ষ এই বিষয়ে একমত যে, প্রতিরোধই জলাতঙ্কের বিরুদ্ধে সবচেয়ে কার্যকর অস্ত্র। Milwaukee Protocol-এ একজন রোগীর চিকিৎসার খরচ যেখানে ৮ লক্ষ ডলার, সেখানে সেই খরচে হাজার হাজার শিশুদের ভ্যাকসিন দেওয়া সম্ভব। তাই বর্তমানে বিশ্বজুড়ে কুকুরের টিকাদান ও জনসচেতনতা বৃদ্ধি এই ভয়াবহ রোগ থেকে বাঁচার সবচেয়ে কার্যকর পথ।

কশাইদের প্রতারণার শিকার ভোক্তাগণ,,,,,,,,,, ফেইসবুক থেকে নেওয়া

 আমাদের দেশে মাংসের দোকানগুলোতে গেলে দেখবেন কসাই মাংস কাটছে আর সেই মাংস থরথর করে নড়ছে। সাধারণ ক্রেতারা মনে করে, মাংস নড়ছে মানেই এটা একদম টাট...