এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

সোমবার, ১২ মে, ২০২৫

বৃত্ত পরিচিতিঃ,,,,,,,

 বৃত্ত পরিচিতিঃ


◾ বৃত্তঃ একটি নির্দিষ্ট বিন্দুকে কেন্দ্র করে সর্বদা সমন দূরত্ব বজায় রেখে অন্য একটি বিন্দু তার চারদিকে একবার ঘুরে ওই বিন্দুতে মিলিত হয় এবং যে ক্ষেত্র তৈরি করে বা উৎপন্ন করে তাকে বলে বৃত্ত বলে। চিত্রে O কেন্দ্রবিশিষ্ট ACDBE একটি বৃত্ত। 


◾কেন্দ্রঃ যে বিন্দুকে কেন্দ্র করে একটি বৃত্ত আঁকা হয় তাকে ঐ বৃত্তের কেন্দ্র বলে। চিত্রে O হলো বৃত্তটির কেন্দ্র।


◾পরিধিঃ একটি বৃত্তের কেন্দ্র হতে সমান দূরত্ব বজায় রেখে কোন বিন্দুর চলার পথকে পরিধি বলে । চিত্রে ACDBE হলো বৃত্তের পরিধি।


   ▪️বৃত্তের পরিধি = 2πr একক।

   ▪️বৃত্তের ক্ষেত্রফল = πr² বর্গএকক। 


◾চাপঃ বৃত্তের পরিধির যে কোন অংশকে চাপ বলে। চিত্রে BE হলো বৃত্তের চাপ।


◾জ্যাঃ পরিধির যে কোন দুই বিন্দুর সংযোজক রেখাংশকে জ্যা বলে। চিত্রে CD হলো বৃত্তের জ্যা।


◾ব্যাসঃ বৃত্তের কেন্দ্রগামী সকল জ্যাকে ব্যাস বলে। চিত্রে AB হলো বৃত্তটির ব্যাস। 


   ▪️বৃত্তের ব্যাসই বৃহত্তম জ্যা।

   ▪️বৃত্তের ব্যাস ব্যাসার্ধের দ্বিগুণ। 

   ▪️ব্যাস= ( ২×ব্যাসার্ধ ) একক


◾ব্যাসার্ধঃ একটি বৃত্তের কেন্দ্র হতে পরিধি পর্যন্ত দূরত্বকে ব্যাসার্ধ বলে। চিত্রে OA = OB = OE হলো বৃত্তটির ব্যাসার্ধ।


    ▪️ব্যাসার্ধ ব্যাসের অর্ধেক। 

    ▪️একই বৃত্তের ব্যাসার্ধ গুলো পরস্পর সমান।

 

◾স্পর্শকঃ একটি বৃত্ত ও একটি সরল রেখা যদি একটি ও কেবল একটি ছেদ বিন্দু থাকে তবে রেখাটিকে বৃত্তটির একটি স্পর্শক বলে। চিত্রে FG হলো বৃত্তটির স্পর্শক।

তুলসি পাতার উপকারিতা ও অপকারিতা,,,,,

 তুলসি পাতার উপকারিতা ও অপকারিতা


তুলসি পাতা উপকারী একথা প্রায় সবারই জানা। কিন্তু তুলসিপাতা খেলে কোনো উপকারগুলো পাওয়া যায় সেকথা অনেকেরই অজানা। ওষুধ হিসেবে তুলসিপাতার ব্যবহার বেশ পুরোনো। এই পাতায় আছে অ্যান্টি ইনফ্লেমেটরি ও অ্যান্টি অক্সিডেন্ট উপাদান। এগুলো মারাত্মক সব রোগ যেমন ক্যান্সার, ডায়াবেটিস, হৃদরোগ ইত্যদির বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যেতে পারে। এটি নানা গুণে অনন্য বলেই হাজার বছর ধরে যোগ আছে ওষুধের তালিকায়। জেনে নিন তুলসি পাতার কিছু উপকারিতা সম্পর্কে-


সর্দি-কাশি কমিয়ে দেয়


এটি খুব পরিচিত চিত্র যে, ঠান্ডা লাগলে অর্থাৎ সর্দি-কাশি হলে তুলসি পাতা খাওয়া হয় ওষুধ হিসেবে। সর্দি ও কাশি সারাতে এটি খুব দ্রুত কাজ করে। কারও বুকে কফ বসে গেলে তাকে প্রতিদিন সকালে তুলসি পাতা, আদা ও চা পাতা ভালোভাবে ফুটিয়ে তাতে মধু ও লেবু মিশিয়ে খেতে দিন। এতে দ্রুতই উপশম মিলবে।


গলা ব্যথা দূর করে


গলা ব্যথার সমস্যায় ভুগলে আস্থা রাখুন তুলসি পাতায়। কারণ এই সমস্যা দূর করতে তুলসি পাতার জুড়ি মেলা ভার। শ্বাসকষ্টের সমস্যা কমাতেও তুলসি পাতা বেশ উপকারী। করোনা মহামারির এই সময়ে তাই নিয়মিত তুলসি পাতা খাওয়ার অভ্যাস করুন। কয়েকটি তুলসি পাতা ফুটিয়ে সেই পানি দিয়ে গার্গল করলে গলা ব্যথা দ্রুত সেরে যায়।


ক্যান্সার প্রতিরোধ করে


ক্যান্সার এক মরণঘাতি অসুখের নাম। এই অসুখ দূরে রাখতেও সাহায্য করে তুলসি পাতা। এই পাতায় আছে রেডিওপ্রটেকটিভ উপাদান যা টিউমারের কোষগুলোকে মেরে ফেলে। এতে আরও আছে ফাইটোকেমিক্যাল যেমন রোসমারিনিক এসিড, মাইরেটিনাল, লিউটিউলিন এবং এপিজেনিন। এসব উপাদান ক্যান্সারের বিরুদ্ধে কাজ করতে কার্যকরী। অগ্নাশয়ে যে টিউমার কোষ দেখা দেয় তা দূর করতেও তুলসী পাতা দারুণ উপকারী। পাশাপাশি দূরে রাখে ব্রেস্ট ক্যান্সারও। 


রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়


রোগ প্রতিরোধ করার ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে তুলসি পাতা। অ্যাজমা, ফুসফুসের সমস্যা, ব্রঙ্কাইটিস ইত্যাদি মোকাবিলায় কাজ করে এই পাতা। জ্বর সারাতেও তুলসি পাতা সমান উপকারী। তুলসি পাতা ও এলাচ পানিতে ফুটিয়ে সেই পানি পান করলে খুব সহজেই বিভিন্ন রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। ক্ষতস্থানে তুলসি পাতা বেটে লাগালে তা দ্রুত শুকায়।


ওজন কমায়


তুলসি পাতা খেলে তা রক্তে সুগারের মাত্রা ও কোলেস্টরল দুটোই রোধ করে। তাই খুব সহজেই ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে যে, তুলসি দিয়ে তৈরি ২৫০ মিলিগ্রামের একটি ক্যাপসুল প্রতিদিন খাওয়ার ফলে ওবেসিটি ও লিপিড প্রোফাইল নিয়ন্ত্রণ করা যায়। তবে যেকোনো ওষুধ খাওয়ার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।


ডায়াবেটিস দূরে রাখে


তুলসি পাতা ইনসুলিন উৎপাদনের কাজ করে। প্রতিদিন খাওয়ার আগে তুলসি পাতা খেলে রক্তে সুগারের মাত্রা কমে। তুলসি অ্যান্টি ডায়াবেটিক ওষুধের কাজ করে। তুলসিতে থাকা স্যাপোনিন, ত্রিতারপিনিন ও ফ্ল্যাবোনয়েড ডায়বেটিস রোধ করতে কার্যকরী।


তুলসি পাতা উপকারী। কিন্তু কিছু ক্ষেত্রে এটি এড়িয়ে যাওয়া বা না খাওয়াই উত্তম। চলুন জেনে নেওয়া যাক কোন কোন ক্ষেত্রে তুলসি পাতা এড়িয়ে চলবেন-


গর্ভাবস্থা বা স্তন্যপান করানোর সময়


সামান্য তুলসি পাতা খেলে তা ক্ষতিকর নয় তবে অতিরিক্ত তুলসি পাতা খেলে এসময় নানা রকম জটিলতা দেখা দিতে পারে। তাই এই সময়গুলোতে তুলসি এড়িয়ে চলাই উত্তম। এঅতিরিক্ত তুলসি পাতা খেলে তা নারীর ক্ষেত্রে হতে পারে বন্ধ্যাত্বের কারণ। তাই পরিমিত গ্রহণ করতে হবে।


রক্তপাতের সমস্যা দেখা দিতে পারে


তুলসি পাতা অতিরিক্ত খেলে তা শরীরে রক্তের প্রবাহ বাড়িয়ে দিতে পারে। ফলে শরীরের স্বাভাবিক রক্ত জমাট হওয়ার প্রবণতা নষ্ট হয়ে যায়। এ কারণে দেখা দিতে পারে অতিরিক্ত রক্তপাতের সমস্যা। যেকোনো সার্জারির দুই সপ্তাহ আগে থেকে তুলসি পাতা খাওয়া বন্ধ রাখুন। 


নিম্ন রক্তচাপ


তুলসি পাতায় থাকে অতিরিক্ত পটাশিয়াম। ফলে কমে যেতে পারে রক্তচাপ। তাই কারও নিম্ন রক্তচাপের সমস্যা থাকলে তুলসি পাতা না খাওয়াই ভালো। এই ক্ষেত্রগুলোতে সতর্ক থাকলেই তুলসি পাতা খাওয়া নিরাপদ। এর অনন্য সব উপকারিতার জন্য নিয়মিত খেতে পারেন।

রোমান সম্রাট ভ্যালেরিয়ান – ইতিহাসের সবচেয়ে অপমানজনক বন্দিত্ব!

 রোমান সম্রাট ভ্যালেরিয়ান – ইতিহাসের সবচেয়ে অপমানজনক বন্দিত্ব!

রোমান সাম্রাজ্যের ইতিহাসে বহু যুদ্ধে বহু সম্রাট অংশ নিয়েছেন। কেউ জিতেছেন, কেউ হেরেছেন। কিন্তু ইতিহাসে একমাত্র একজন রোমান সম্রাট যিনি যুদ্ধক্ষেত্রে জীবিত বন্দি হয়ে শত্রুর দাসে পরিণত হন—তিনি হলেন সম্রাট ভ্যালেরিয়ান (253 – 260 খ্রিস্টাব্দ)।

ভ্যালেরিয়ান ছিলেন রোমের একজন বয়স্ক ও অভিজ্ঞ সম্রাট, যিনি পারস্যের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে বের হন। তাঁর উদ্দেশ্য ছিল পার্থিয়ান সীমান্তে ক্রমবর্ধমান পারস্য সাম্রাজ্যকে দমন করা। ২৬০ সালে Battle of Edessa তে তিনি মুখোমুখি হন সাসানিদ সাম্রাজ্যের  শাসক, 'শাপুর প্রথম' এর। 

এই যুদ্ধে রোমান সেনাবাহিনীর এক লাখের বেশি সৈন্য নিহত বা বন্দি হন, আর সম্রাট ভ্যালেরিয়ান জীবিত অবস্থায় শত্রুর হাতে বন্দি হন — যা ছিল রোমান সাম্রাজ্যের ইতিহাসে অভূতপূর্ব ঘটনা। শাপুর তাঁর বিজয়ের গৌরব চিরস্মরণীয় করে রাখতে ভ্যালেরিয়ানকে ব্যক্তিগত দাস হিসেবে ব্যবহার করেন। তিনি ঘোড়ায় ওঠার সময় বন্দি সম্রাটের পিঠকে সিঁড়ি হিসেবে ব্যবহার করতেন — যা ছিল অপমানের চূড়ান্ত রূপ। এই ঘটনার বিবরণ শাপুরের বিজয়শীল শিলালিপিতে খোদাই করা হয়।

বিভিন্ন পারস্য ও রোমান ঐতিহাসিক সূত্র অনুযায়ী, শাপুর প্রথম তাঁকে দীর্ঘ সময় দাসের মতো ব্যবহার করার পর অবশেষে হত্যা করেন।কিন্তু তার মৃত্যুর পরও অপমান শেষ হয়নি। শোনা যায়, সম্রাটের শরীর থেকে চামড়া ছাড়িয়ে তা রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় সংরক্ষণ করে, ভিতরের হাড় ও অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বাদ দেওয়া হয় — আজকের ভাষায় যাকে বলা হয় "taxidermy"। এরপর সেই চামড়ার দেহ ভরে তোলা হয় খড় ও ফাইবারে, এবং একে পারস্যের রাজধানী গুন্দিশাপুর বা ক্টেসিফোনে একটি রাজপ্রাসাদে ট্রফির মতো প্রদর্শন করা হয়। এই প্রক্রিয়ায় মৃত প্রাণী বা মানুষের চামড়াকে সংরক্ষণ করে তাকে জীবিত অবস্থার মতো দেখানো হয়।

এই ঘটনাটি আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখায় যে — প্রাচীনকালের রাজনীতি ও যুদ্ধ কেবল তলোয়ার বা সৈন্য দিয়ে যুদ্ধ করাই ছিল না। বরং,

"মনস্তাত্ত্বিক বিজয়" বা শত্রুকে মানসিকভাবে ভেঙে ফেলা ছিল আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশল।সম্রাট ভ্যালেরিয়ান ছিলেন এক পরাক্রমশালী সাম্রাজ্যের মুখ। তাঁকে জীবন্ত বন্দি করা, দাসের মতো ব্যবহার করা, আর শেষে মানবজ্যন্তি বানিয়ে প্রদর্শন করা — এসব ছিল পারস্য সম্রাটের তরফ থেকে শুধু প্রতিশোধ নয়, একটি বার্তা: “আমরা রোমকেও নিচুতে নামাতে পারি।”


#collected

কমিউনিকেশন স্কিল বাড়ানোর নিনজা টেকনিক

 কমিউনিকেশন স্কিল বাড়ানোর নিনজা টেকনিক।


আমরা সবাই চাই, কেউ আমাদের শুনুক, বুঝুক। কিন্তু ক্যামেরার সামনে দাঁড়ালে মনে হয় যেন মনের মধ্যে এক বিচারসভা বসে গেছে। “ভুল করলে কি হবে?” “মানুষ হাসবে না তো?” এই ধরনের ভয়ের কণ্ঠগুলো মাথায় ঘুরতে থাকে। কিন্তু আসল নিনজা হয় সেই ব্যক্তি, যে ভয়কে শ'ত্রু না বানিয়ে সাথী বানিয়ে ফেলে। ক্যামেরার সামনে কথা বলার দক্ষতা আসলে একধরনের ‘মাইন্ড ট্রেনিং’। নিচে ৭টি সাইকোলজিক্যাল নিনজা কৌশল নিয়ে আলোচনা করা হলো, যা চুপিচুপি আপনার আত্মবিশ্বাসে আ'গুন ধরিয়ে দেবে।


১। নিজের ভাষা ও কণ্ঠের উপর নিয়ন্ত্রণ বাড়ানো।

কমিউনিকেশনের প্রথম ধাপ হলো স্পষ্ট এবং আকর্ষণীয়ভাবে কথা বলা। ক্যামেরার সামনে কথা বলার সময় আপনার কণ্ঠের স্বর, গতি এবং শব্দচয়ন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কীভাবে শুরু করবেন?

মিরর প্র্যাকটিস করুন, প্রতিদিন ৫-১০ মিনিট আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে কথা বলার অভ্যাস করুন। যেকোনো নির্দিষ্ট বিষয় নিয়ে কথা বলুন, যেমন আপনার দিন কেমন কাটলো। এটা আপনার মুখের ভাবভঙ্গি এবং কণ্ঠের উপর নিয়ন্ত্রণ বাড়াতে সাহায্য করবে।


২। ভয়কে বন্ধু বানান তাকে লুকাবেন না। 

নিজেকে জিজ্ঞেস করুন, “আমি ভয় পাচ্ছি কেন?” ধরুন, আপনি ক্যামেরার সামনে গিয়ে ঘামছেন কারণ ভেতরে ভয় “সবাই আমায় জাজ করবে!” ঠিক এই মুহূর্তেই ভয়কে চিনুন আর বলুন, “ভয়, আমি জানি তুমি এসেছো, কারণ এটা আমার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।” মনে রাখবেন, স্টিভ জবসও প্রতি প্রেসেন্টেশনের আগে নার্ভাস হতেন, কিন্তু তিনি ভয়কে স্বীকার করে নিয়েছিলেন আর এটাই তাঁকে মানুষের কাছে মানবিক করে তুলেছে।


৩। শ্বাসের মাধ্যমে মস্তিষ্ক হ্যাক করুন।

দ্রুত শ্বাস আমাদের ব্রেনকে সংকেত দেয় সামনে “বিপদ!” তাই ক্যামেরার সামনে আসার আগে চোখ বন্ধ করে ৪ সেকেন্ড ইনহেল, ৪ সেকেন্ড হোল্ড, ৪ সেকেন্ড এক্সহেল করুন। উদাহরণস্বরুপ TED Talk বক্তাদের মধ্যে অনেকেই এই “Box Breathing” ব্যবহার করে স্টেজে ওঠার আগে।


৪। আপনি যদি ক্যামেরার সামনে কী বলবেন তা না জানেন, তাহলে নার্ভাস হওয়াটাই স্বাভাবিক। তাই কথা বলার আগে পরিকল্পনা করা জরুরি।


স্ক্রিপ্ট তৈরি করুন, একটা সংক্ষিপ্ত স্ক্রিপ্ট লিখুন। যেমন, আপনি যদি একটা ট্রাভেল ভ্লগ বানাতে চান, তাহলে কোন জায়গার কী কী বিষয় তুলে ধরবেন তা আগে ঠিক করুন। বু'লেট পয়েন্ট, পুরো স্ক্রিপ্ট মুখস্থ না করে মূল পয়েন্টগুলো লিখে রাখুন। এটা আপনাকে স্বাভাবিকভাবে কথা বলতে সাহায্য করবে। রিহার্সাল, ক্যামেরা চালু করার আগে একবার রিহার্সাল দিন।


৫। শারীরিক ভাষা (Body Language) উন্নত করা। ক্যামেরার সামনে কথা বলার সময় আপনার শারীরিক ভাষা দর্শকদের উপর বড় প্রভাব ফেলে। আপনার হাতের অঙ্গভঙ্গি, মুখের হাসি এবং চোখের যোগাযোগ গুরুত্বপূর্ণ।


ক্যামেরার লেন্সকে দর্শকের চোখ ভেবে সরাসরি তাকান। এটা আপনার কথাকে আরও বিশ্বাসযোগ্য করে তুলবে। হাতের অঙ্গভঙ্গি, অতিরিক্ত হাত নাড়ানো এড়িয়ে চলুন। উদাহরণস্বরূপ, কোনো পয়েন্ট বোঝাতে হলে হাত দিয়ে সংক্ষিপ্তভাবে ইঙ্গিত করুন, যেমন একটা প্রোডাক্টের ফিচার দেখানোর সময়। ভঙ্গি, সোজা হয়ে দাঁড়ান বা বসুন। এতে আপনাকে আত্মবিশ্বাসী দেখাবে।


৬। পজিটিভ ম্যাজিক মন্ত্র। 

ভিডিও শুরু করার আগে বলুন “আমি পারি”, “আমি উপকার করতে এসেছি”, “আমার কণ্ঠ মানুষের কাজ দেবে” এই ধরণের বাক্যগুলো ব্রেনকে নতুন ন্যারেটিভ শেখায়। একজন নার্স প্রতিদিন এই বাক্য লিখতেন “আমি আলো ছড়াতে এসেছি” এটাই তার ভয়কে সাহসের রূপ দিত।


৭। রেকর্ডিং, নিজের কথা রেকর্ড করুন এবং শুনুন। লক্ষ্য করুন কোথায় আপনি দ্রুত কথা বলছেন বা কোথায় শব্দগুলো অস্পষ্ট হচ্ছে। উদাহরণস্বরূপ, ধরুন আপনি একটা প্রোডাক্ট রিভিউ ভিডিও বানাচ্ছেন। রেকর্ড করার পর দেখুন আপনার বর্ণনা কতটা স্পষ্ট এবং আকর্ষণীয় ছিল।


নিনজা হওয়া মানে পারফেক্ট হওয়া নয়, বরং ভয়কে দেখে যাওয়ার সাহস রাখা। ক্যামেরার সামনে ভয় পাওয়া মানে আপনি গুরুত্ব দিচ্ছেন, আপনি ভালো করতে চান। এই চেষ্টাটুকুই আপনাকে একদিন অন্যদের জন্য মডেল বানিয়ে তুলবে। তাই আজ থেকে আপনি আর একা নন আপনার ভয়, আপনার সাহস, আর এই নিনজা টেকনিক সব একসাথে চলবে। শুরু করুন, শান্তভাবে, সাহস নিয়ে।


Social Psychologist:

Jahid Hasan Scientist 👨‍🔬


#NinjaTechnique 

#communicationskills 

#jahidhasanscientist

সময় অপচয় করলেন মানে নিজের ভবিষ্যত ন'ষ্ট করলেন!

 সময় অপচয় করলেন মানে নিজের ভবিষ্যত ন'ষ্ট করলেন!

সময়—এই ছোট্ট শব্দটির গুরুত্ব বোঝা যায় তখন, যখন তা ফুরিয়ে যায়। সময় কারো জন্য অপেক্ষা করে না, তা প্রতিনিয়ত চলে চলে যায়, আর আমাদের ফেলে রেখে যায় চরম অনুশোচনার অতলে। সময়ের অপচয় আসলে জীবনের সর্বনাশ ডেকে আনে—যার প্রভাব পড়ে ভবিষ্যতের প্রতিটি পদক্ষেপে, প্রতিটি সিদ্ধান্তে, এমনকি জীবনের স্বপ্নগুলোতেও।

শৈশব ও কৈশোরকাল হলো স্বপ্ন গড়ার উপযুক্ত সময়। কিন্তু অনেকেই এই সময়টাকে হেলাফেলার চোখে দেখে। মোবাইল ফোন, সোশ্যাল মিডিয়া, অলসতা আর অসচেতনতার কারণে আমরা প্রতিদিন কিছু কিছু সময় হারাই—অথচ বুঝতে পারি না, এই হারানো মুহূর্তগুলোই একদিন আমাদের জন্য কান্নার কারণ হবে। পরীক্ষার আগের রাতে হঠাৎ করে বই খুলে দেখা, “আরেকটু পরে পড়ব” বলে সময় নষ্ট করা—এসব আমাদের অভ্যাসে পরিণত হয়। এর ফলশ্রুতিতে আমরা স্বপ্ন দেখা ভুলে যাই, লক্ষ্য হারিয়ে ফেলি, জীবনের প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ি।


যখন সবাই নিজের জীবনে প্রতিষ্ঠিত হয়ে যায়, তখন সময় নষ্টকারী ব্যক্তি একা দাঁড়িয়ে থাকে—কান্নাভেজা চোখে, অনুশোচনায় ভরা হৃদয়ে। কেউ তখন তার পাশে থাকে না, কারণ সমাজ ব্যর্থতাকে সহজে ক্ষমা করে না। অতীতে ফিরে যেতে চাইলেও আর কোনো পথ খোলা থাকে না। যে বন্ধু একদিন মোবাইলে গেম খেলত, আজ সে চাকরি করে বিদেশে। আর যে সময় নিয়ে গড়িমসি করেছিল, সে তখন বেকার, হতাশ, আত্মবিশ্বাসহীন একজন মানুষে পরিণত হয়।

সময় একবার চলে গেলে তা আর ফিরে আসে না—এটাই বাস্তবতা। তাই প্রতিটি মুহূর্তকে কাজে লাগানোই আমাদের দায়িত্ব। একটু একটু করে সময়কে কাজে লাগালে, একদিন তা হয়ে উঠবে সফলতার সিঁড়ি। অন্যথায়, এই অপচয় হবে ভবিষ্যতের কান্না, বঞ্চনা ও বেদনার কারণ।

আজ যদি আপনি সময়কে অপচয় করেন, কাল সময় আপনাকে অপমান করবে। মনে রাখবেন, সময়ের প্রতি অবহেলা মানেই নিজের ভবিষ্যতকে ধ্বং'সের দিকে ঠেলে দেওয়া। আর তখন অনুশোচনা করলেও তা শুধু বেদনার গল্প হয়ে থাকবে—যার কোনো সমাধান নেই, শুধু দীর্ঘশ্বাস আছে।

মাটির নিচে বিশাল সুরঙ্গ মানবসৃষ্ট নয়‼️,,,,

 "মাটির নিচে বিশাল সুরঙ্গ মানবসৃষ্ট নয়‼️"


ব্রাজিলে মাটির নিচে থাকা এই সুড়ঙ্গগুলি মানুষের তৈরি নয় জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা‼️

 

পাতালঘর’ কি শুধু মানুষ বানায়/ বানাতে পারে কিংবা তাদেরই বানানোর প্রয়োজন পড়ে⁉️


ব্রাজিলের ঘটনা অন্তত তা বলছে না।মাটির নীচে এক অজানা জগৎ রয়েছে সে দেশে। 

যার স্রষ্টা বা পরিকল্পক আর যে-ই হোক না কেন,  তা মানুষ নয়। 

অন্তত এমনটাই ধারণা বিজ্ঞানীদের।


অজস্র অদ্ভুত আকৃতির সব সুড়ঙ্গ রয়েছে ব্রাজিলের মাটির নীচে।

তবে এই পাতাল জগৎ আড়ালেই ছিল লক্ষাধিক বছর। 

প্রকাশ্যে আসে ২০০০ সালের পর। 

এক ভূবিজ্ঞানী তাঁর যাতায়াতের পথে হঠাৎই সন্ধান পান ওই সুড়ঙ্গের।

এক একটির দৈর্ঘ্য ২০০০ ফুট। 

উচ্চতা ৬ ফুটেরও বেশি। 

আকারে প্রশস্ত এই সুড়ঙ্গগুলিতে ঢোকা বা বেরনোর একাধিক রাস্তা রয়েছে। কোনও কোনও প্রবেশপথ ১৫ ফুটেরও বেশি প্রশস্ত।


রিও বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক হেইনরিখ ফ্র্যাঙ্ক সেই ভূবিজ্ঞানী যিনি প্রথম মাটির নীচে ওই সুড়ঙ্গপথ আবিষ্কার করেন। একটি নির্মীয়মাণ বাড়ির গর্ভে উদ্ধার হওয়া গর্তের আকৃতি প্রকৃতি দেখে ফ্র্যাঙ্কের কৌতূহল হয়। 

তিনি ঠিক করেন ওই গর্তের ভিতর প্রবেশ করবেন তিনি। 

তারপরই সুড়ঙ্গ-রহস্যের উদ্ঘাটন।

তবে এ কথা ঠিক যে ফ্র্যাঙ্কের আগে এই ধরনের সুড়ঙ্গ কেউ লক্ষ করেননি, তা নয়। 

তবে কেউ এগুলিকে গুরুত্ব দেননি। প্রাকৃতিক গুহা বলে ভেবে নেওয়া হয়েছিল সুড়ঙ্গগুলিকে।

ফ্র্যাঙ্কই প্রথম জানান, গুহার মতো দেখতে সুড়ঙ্গগুলি প্রাকৃতিক নয়। সেগুলিকে বানানো হয়েছে। 

তবে যারা বানিয়েছে, তারা মানুষ নয়।

ফ্র্যাঙ্ক বলেন, সুড়ঙ্গের ভিতর প্রবেশ করে তিনি দেখেছেন তার দেওয়াল জুড়ে রয়েছে শক্ত নখের আঁচরের দাগ, যা মানুষের হতে পারে না।

এরপর সুড়ঙ্গগুলি নিয়ে গবেষণা শুরু করেন ভূবিজ্ঞানী। 

জানতে পারেন ব্রাজিলের মাটির নীচে এমন অন্তত হাজার দেড়েক সুড়ঙ্গপথ রয়েছে। 

আর প্রত্যেকটিরই বৈশিষ্ট্য এক। প্রত্যেকটি সুড়ঙ্গই একাধিক প্রবেশ পথ বিশিষ্ট গুহার মতো।

ফ্র্যাঙ্ক তাঁর অভিজ্ঞতা দিয়ে জানান, এই সুড়ঙ্গ কোনও প্রাগৈতিহাসিক প্রাণীর তৈরি করা। 

সেই প্রাণী ডাইনোসর বা ম্যামথদের সমসাময়িকও হতে পারে।

ফ্র্যাঙ্কের ধারণা, এই প্রাগৈতিহাসিক প্রাণীটি গ্রাউন্ড শ্লথ হতে পারে, আবার আর্মাডিলো নামের পিপিলিকাভুকও হতে পারে।

বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ, প্রাগৈতিহাসিক যুগে ডাইনোসর বা ম্যামথের মতো প্রাণীরা খোলা আকাশের নীচে থাকত বলেই ধারণা ছিল এতদিন

এই প্রথম জানা গেল, এই সময়ের প্রাণীদের কেউ কেউ ‘ঘর’-এর ব্যবস্থাও করত।

ফ্র্যাঙ্কের মতে, বিষয়টি গবেষণা করার মতো। 

শুধু তাই নয়, এ বিষয়ে সতর্ক হলে এই প্রাগৈতিহাসিক প্রাণীদের তৈরি ঘর সংরক্ষণও করা যাবে। 

মানুষের তৈরি স্থাপত্যের পাশাপাশি প্রাগৈতিহাসিক প্রাণীর তৈরি ‘ঘর’ দেখার মতো বিষয় হবে বলেই মনে করেন ফ্র্যাঙ্ক।

একইসঙ্গে তিনি জানান সতর্ক না হলে নির্মাণ কাজের চাপে ওই সুড়ঙ্গগুলি নষ্ট হয়ে যাবে বলেও জানিয়েছেন ভূবিজ্ঞানী। 

নিজের উদ্যোগেই সংরক্ষণের কাজ শুরুও করেছেন তিনি।

তবে এই প্রক্রিয়ায় তাঁদের কাছে চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে সময়। 

ব্রাজিলের মাটির নীচে থাকা প্রায় দেড় হাজার সুড়ঙ্গের প্রত্যেকটির বৈশিষ্ট্য বিচার করা সহজ কাজ নয়। 

তবে ফ্র্যাঙ্ক জানিয়েছেন, তাঁরা চেষ্টা চালাচ্ছেন এবং আশা করছেন আরও অনেকে এ ব্যাপারে তাঁদের সাহায্য করতে পারবেন।

 ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বয়স আজ ১০০ বছর। আর রবীন্দ্রনাথ বেঁচে থাকলে আজ তাঁর বয়স হতো ঠিক ১৬০ বছর। 

 ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বয়স আজ ১০০ বছর। আর রবীন্দ্রনাথ বেঁচে থাকলে আজ তাঁর বয়স হতো ঠিক ১৬০ বছর। 


ঢাবির চেয়ে ৬০ বছরের বড় এই রবি ঠাকুর নাকি কোনওদিন চান নি যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা হোক। এখনও ঢাবির আকাশে বাতাসে প্রতিধ্বনিত হয় যে রবীন্দ্রনাথ নাকি বলেছিলেন, 'পূর্ববাংলার চাষা ভুষারা আবার পড়াশোনা কী করবে? তারা হালচাষ করুক।' যদিও এ নিয়ে কোন তথ্য প্রমাণ পাওয়া যায় না। 

তবে এ নিয়ে প্রমাণ পাওয়া যায় যে রবি ঠাকুর নওগাঁ আর কুষ্টিয়াতে পূর্ববঙ্গের মুসলমানদের পড়াশোনার জন্য অনেক চেষ্টা করেছেন, স্কুল প্রতিষ্ঠা করেছেন, নিজের ছেলেকে অন্য কিছু না পড়িয়ে আমেরিকাতে কৃষি পড়িয়ে কুষ্টিয়ার লোকজনের উন্নতি করাতে চেয়েছেন। সমবায় কৃষি আর পূর্ববঙ্গের শিক্ষার উদ্যোগ নিয়েছেন। 

যে মানুষটা নিজের বউ এর গহনা বিক্রি করে পূর্ব বাংলায় স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন তিনি আর যাই করুন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করবেন না।


কেউ কোনো প্রমাণ না দিয়েই বলে বেড়াচ্ছেন যে, ১৯১২ সালের ২৮ মার্চ কলকাতায় গড়ের মাঠে এক বিরাট জনসভা হয়। সেই জনসভায় সভাপতি হিসেবে রবি ঠাকুর নাকি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছেন।


এটা সত্য যে কলকাতায় ২৮ মার্চ এ রকম একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। কিন্তু তাতে রবীন্দ্রনাথ উপস্থিতই ছিলেন না। সেদিন তিনি কলকাতাতেই ছিলেন না। ১৯১২ সালের ১৯ মার্চ 'সিটি অব প্যারিস' জাহাজে করে রবীন্দ্রনাথের লন্ডন যাবার কথা ছিল। তাঁর সফরসঙ্গী ডাক্তার দ্বিজেন্দ্রনাথ জাহাজে উঠে পড়েছিলেন। কবির মালপত্রও তোলা হয়ে গিয়েছিল; কিন্তু হঠাৎ সেদিন সকালে রবীন্দ্রনাথ অসুস্থ হয়ে যান। পরে চেন্নাই থেকে তাঁর মালপত্র আবার কলকাতায় ফিরিয়ে আনা হয়। কলকাতায় কয়েক দিন বিশ্রাম করে ২৪ তারিখ কুষ্টিয়ার শিলাইদহে চলে আসেন। ২৮ মার্চ থেকে ১২ এপ্রিলের মধ্যে সেখানে বসে ১৮টি গান ও কবিতা রচনা করেন, যেগুলো পরে 'গীতিমাল্য' (১৯১৪) গ্রন্থে সংকলিত হয়। 


গীতিমাল্য-এর ৪ নম্বর কবিতা হচ্ছে ‘স্থিরনয়নে তাকিয়ে আছি’। এই কবিতার পান্ডুলিপিসহ সকল সংস্করণেই রচনাকাল আর রচনাস্থান দেওয়া আছে। শিলাইদহে ১৫ চৈত্র ১৩১৮ সাল তারিখে (২৮ মার্চ ১৯১২) এই কবিতা লেখা হয়।  (দলিল: https://www.tagoreweb.in/Verses/gitimalya-63/sthir-noyone-takiye-achhi-3369)


২৮ মার্চ তিনি এই কবিতা কুষ্টিয়ায় বসে লিখলে কলকাতায় বক্তৃতা করবেন কীভাবে! তাছাড়া ডেইলি স্টেটসম্যান পত্রিকা তখন কলকাতার দৈনিক প্রথম আলো। ১৯১২ সালের ২৯ মার্চ তারিখের স্টেটসম্যানে এই সভার কথা ছাপা হয়েছিল। স্টেটসম্যানের সাংবাদিকেরা গড়ের মাঠের এই জনসভার নিউজ করবেন আর সভাপতি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নাম লিখতে ভুলে যাবেন তা হতে পারে না।


রবীন্দ্রনাথ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরোধিতা করেছেন এমন কোন প্রমাণ পাওয়া যায় না। তবে রবীন্দ্রনাথের সাথে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেমের সম্পর্কের নানান প্রমাণ পাওয়া যায়।


১৯২৬ সালে রবীন্দ্রনাথ ঢাকা সফরে আসেন। আহসান মঞ্জিলে এসে উঠেন। মানে তখন উনি ঢাকার নবাবের মেহমান। সেবার উনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সংবর্ধনা গ্রহণ করেন। নবাব সলিমুল্লাহ সেই ১৯০৪ সাল থেকে সংগ্রাম করছেন ঢাবির প্রতিষ্ঠার জন্য। সেই সংগ্রামের বিরোধিতা যদি রবি ঠাকুর করেন, তবে মাত্র ৫ বছরের ব্যবধানে ঢাবি তাকে সংবর্ধনা দিতো না। আর ঢাকার নবাব হাবিবুল্লাহ নিজের বাবার সংগ্রাম ভুলে গিয়ে রবি বাবুকে সম্মান করে বাড়িতে আমন্ত্রণ জানাতেন না। আজ ১০০ বছর পরে যে বিষয় আমরা ভুলতে পারি না, মাত্র ৫ বছরের ব্যবধানে নবাব হাবিবুল্লাহ আর সমগ্র ঢাবি সেকথা ভুলে যাবে - এটা মানা কষ্টকর। 


রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ঢাকায় আসেন মোট দুইবার। ১৮৯৮ সালে প্রথমবার, আর দ্বিতীয়বার ১৯২৬ সালে। দ্বিতীয়বার ঢাকায় আসার পর রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ১৯২৬ সালে রবীন্দ্রনাথ ঢাকায় আসেন ঢাকার নবাব ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ আমন্ত্রণে। 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রবীন্দ্রনাথকে আনতে মূল ভূমিকা পালন করেন জগন্নাথ হলের প্রভোস্ট ডক্টর রমেশচন্দ্র মজুমদার। তবে রবীন্দ্রনাথ কার বাসায় উঠবেন — এ নিয়ে ঢাকার জনগণ ও রমেশচন্দ্র মজুমদারের মধ্যে ঝামেলা শুরু হয়। বিতর্ক এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে ঘটনা রবীন্দ্রনাথের কানেও গড়ায়। রবীন্দ্রনাথ খানিকটা বিব্রত হয়ে রমেশচন্দ্র মজুমদারকে চিঠি লেখেন -


কল্যাণীয়েষু,

ঢাকার জনসাধারণের পক্ষ থেকে আজ আমাকে নিমন্ত্রণ করার জন্য দূত এসেছিলেন। তাঁদের বিশেষ অনুরোধে নির্দিষ্ট সময়ের পূর্বেই যাত্রা করতে প্রস্তুত হয়েছি। ৬ই তারিখে রাত্রে রওনা হয়ে গোয়ালন্দ থেকে তাঁদেরই জলযানে ভেসে পড়ব। ১০ই তারিখ পর্যন্ত তাদের আতিথ্য ভোগ করে ওই কর্তব্য অন্তে তোমার আশ্রয়ে উঠে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিমন্ত্রণ পালন করব। নইলে আমাকে দীর্ঘকাল ঢাকায় থাকতে হয়। আমার সময় নেই। বিশ্ববিদ্যালয়ের বহিঃস্থিত ঢাকার লোকের নিমন্ত্রণ কোনো মতেই উপেক্ষা করা উচিত বোধ করি নে। তাই দুই নিমন্ত্রণ ক্ষেত্রে আমার সময়কে বিভক্ত করে দিলুম। যে কয়দিন তোমাদের দেব স্থির করেছিলুম, সে কয়দিন সম্পূর্ণই রইল।

ইতি 

শ্রী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

১৬ই মাঘ, ১৩৩২


শেষ পর্যন্ত রমেশচন্দ্র মজুমদারের মৃদু আপত্তি সত্ত্বেও রবীন্দ্রনাথের ইচ্ছানুযায়ী মুসলমান নবাব বাড়ি আহসান মঞ্জিলেই আতিথেয়তার ব্যবস্থা হয়। আহসান মঞ্জিল, নর্থব্রুক হল, সদরঘাটে নবাব হাবিবুল্লাহ ও ঢাকার জনগণের বিভিন্ন সংবর্ধনা শেষে রবীন্দ্রনাথ ১০ ফেব্রুয়ারি রমেশচন্দ্রের বাড়িতে এসে বিশ্ববিদ্যালয়ের আতিথ্য গ্রহণ করেন। এ সময় রবীন্দ্রনাথ কার্জন হলে দুটো বক্তৃতা দেন। ১০ তারিখ সন্ধ্যায় উপস্থাপন করেন প্রথম বক্তৃতা: ‘The Rule of the Giant’। আর ১৩ তারিখে আধুনিক সভ্যতা নিয়ে দ্বিতীয় বক্তৃতা করেন। 


কার্জন হলের এই সংবর্ধনা দেবার আগেই ১০ তারিখ বিকালে সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের ছাত্ররা রবীন্দ্রনাথকে সংবর্ধনা জানান। সংবর্ধনার উত্তরে রবি বলেন, ‘এই সভাগৃহে প্রবেশ করার পর থেকে এ পর্যন্ত আমার ওপর পুষ্পবৃষ্টি হচ্ছে। প্রাচীন শাস্ত্রে পড়েছি কৃতী ব্যক্তির উপর পুষ্পবৃষ্টি হয়। এ পুষ্পবৃষ্টি যদি তারই প্রমাণ করে তবে আমি আজ আনন্দিত।’ 


১৩ তারিখ সন্ধ্যায় জগন্নাথ হলের শিক্ষার্থীরা তাকে অভিনন্দন জানান। জগন্নাথ হলের ছাত্ররা তাদের হলের বার্ষিক পত্রিকার জন্য একটি কবিতার আবদারও করেন। ছাত্রদের অনুরোধে তাদের বাসন্তিকা পত্রিকার জন্য ‘বাসন্তিকা’ শিরোনামে রবীন্দ্রনাথ একটা গীতিকবিতা লিখে পাঠিয়ে দেন। এটা সেই কবিতা -


এই কথাটি মনে রেখো,

তোমাদের এই হাসি খেলায়

আমি যে গান গেয়েছিলেম

জীর্ণ পাতা ঝরার বেলায়।

শুকনো ঘাসে শূন্য বলে, আপন মনে.

আদরে অবহেলায়

আমি যে গান গেয়েছিলাম

জীর্ণ পাতা ঝরার বেলায়/...


১৯৩৬ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে সম্মানসূচক ডক্টর অব লিটারেচার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু অসুস্থতার কারণে রবীন্দ্রনাথ সমাবর্তনে আসতে পারেননি। তাঁর অনুপস্থিতিতেই এই উপাধি দেওয়া হয়। ওই সমাবর্তনেই স্যার জগদীশচন্দ্র বসু, স্যার প্রফুল্ল চন্দ্র রায়, শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কেও সম্মানসূচক ডি লিট দেওয়া হয়। 


দেশভাগের পর পাকিস্তান আমলের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রবীন্দ্রচর্চা নিষিদ্ধ হয়ে যায়। ধর্মকে ব্যবহার করে রবীন্দ্রনাথ এর বিরুদ্ধে কীভাবে আর কতভাবে এদেশের মুসলমান সমাজকে ক্ষ্যাপানো যায় তার অন্তহীন একটা চেষ্টা শুরু হয়। রবীন্দ্রসংগীত হারাম বলে আর ইসলামের বিরোধী বলে ফতোয়া দেওয়া হয় সরকারি মহল থেকে। সেই চেষ্টা যে আজও অনেকাংশেই সফল তা সহজেই অনুমেয়। সেসময়ই গুজব ছড়িয়ে দেওয়া হয় যে রবি ঠাকুর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে ঘৃণা করতেন। আর প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন। আজও যে কুসংস্কার নিয়ে আমরা বেঁচে আছি।


যাইহোক, আনন্দের ব্যাপার হচ্ছে ২০১৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ রবীন্দ্র ভবন নির্মাণ কাজে হাত দিয়েছে। কিন্তু এই আনন্দ মাটি হয়ে গেছে জগন্নাথ হলের কারণে। 


প্রথমত জগন্নাথ হলের সম্পূর্ণ ধারণাটাই বিচ্ছিরি। একটি প্রগতিশীল বিশ্ববিদ্যালয়ে ধর্মের ভিত্তিতে কেন ছাত্রদের আলাদা করে দেওয়া হয়েছে - তা বুঝতে পারি না। আগেকার দিনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছেলেরা মেয়েদের সাথে কথা বলতে পারতো না। এই কালা কানুন একসময় ছিল। সেসব বিলুপ্ত হয়ে গেছে। কিন্তু জগন্নাথ হলে মুসলিমরা থাকবে না; আর সলিমুল্লাহ হলে হিন্দুরা থাকবে না - এই কালা কানুনগুলো রয়েই গেছে।


দ্বিতীয়ত, জগন্নাথ হলে বরাবরই হিন্দু চরিত্রদের স্থান দেওয়া হয়েছে। যেমন: স্বামী বিবেকানন্দ, গোবিন্দ্র চন্দ্র দেব প্রমুখ। একটি হিন্দু ছাত্র হলে হিন্দু দার্শনিকের ভাস্কর্য স্থাপন সমস্যা না। কিন্তু যে মানুষটি হিন্দু না, তাকে ধরে এনে হিন্দুদের হলে বসিয়ে দিলে সমস্যার সৃষ্টি হয়। তার উপর হিন্দুয়ানির সিল পড়ে যায়। রবীন্দ্রভবন জগন্নাথ হলের ভিতরে প্রতিষ্ঠা করায় রবীন্দ্রনাথের গায়েও হিন্দুয়ানির সিল পড়ে যাবে। কোন মুসলিম ছাত্র এই হলে বসবাস করতে পারবে না। কেবলমাত্র তার ধর্মবিশ্বাসের কারণে রবীন্দ্রভবনে বাস করতে পারবে না। কেন? 

রবীন্দ্রনাথ কি শুধুই হিন্দুদের?


এদেশের শতকরা ৯৫ ভাগ মানুষের ধারণা যে রবি ঠাকুর হিন্দু ছিলেন। এমনকি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনা করছেন এমন অনেকেও জানেন না যে - উনি ব্রাহ্ম ছিলেন। আর ব্রাহ্মধর্ম আলাদা একটা ধর্ম।


রবীন্দ্রনাথের ১৬০ তম জন্মদিনের এই উজ্জ্বল দিনে আমাদের অনেকটা দায়িত্ব আছে রবীন্দ্রনাথ বিষয়ক ভুল ধারণাগুলো দূর করার। বিদ্বেষগুলো ভেঙে দেওয়ার। আর কেউ স্বীকার করি বা না করি - সারা বাঙলাদেশের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উপরই এই দায় সবচেয়ে বেশি।


[ছবিঃ নির্মানাধীন রবীন্দ্র ভবন, জগন্নাথ হল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়]

[ছবিঃ প্রথম কমেন্ট - চেয়ারে বসা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ। দাঁড়িয়ে আছেন, মথুরেন্দ্রনাথ নন্দী, মুহম্মদ আবদুল হাই। নিচে বসা আই এন চৌধুরী, আহমদ হোসেন, বিশ্বরঞ্জন ভাদুড়ী, কলকাতা, ১৯৩৮ সাল]


৭ই মে ২০২১ তারিখে লেখা 

(ঈষৎ পরিমার্জিত)

 বই কিনে কেউ দেউলিয়া হয় না

 বই কিনে কেউ দেউলিয়া হয় না। কারণ, বই পড়ে আপনি যে জ্ঞান অর্জন করবেন, তা আপনাকে জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে আরও সমৃদ্ধ করবে। এসব কথা সবারই জানা। তবে আরও খুশির খবর হচ্ছে, বর্তমান ডিজিটাল পৃথিবীতে বই পড়ে শুধু জ্ঞান অর্জনই নয়, অর্থ উপার্জনও সম্ভব। বই পড়া অনেকেরই প্রিয় নেশা। এই নেশাই যদি কারোর পেশা হয়ে যায়, তাহলে কী চমৎকার হবে ব্যাপারটা, তাই না? জেনে নেওয়া যাক বই পড়ে অর্থ উপার্জনের কয়েকটি উপায়।


১। বই-বিষয়ক ভিডিও কন্টেন্ট তৈরি:

ইউটিউব, ইনস্টাগ্রাম কিংবা টিকটক— যে মাধ্যমেই আপনি ভিডিও কন্টেন্ট তৈরি করতে চান না কেন, আপনাকে এক বা একাধিক ‘নিশ’, অর্থাৎ বিষয়বস্তু নির্বাচন করতে হবে। কন্টেন্ট নির্মাতা হিসেবে কাজ করতে গিয়ে শুরুতে অনেকে ভেবেই পান না, কী নিশ নির্বাচন করা যায়। আপনি বই পড়তে ভালোবাসেন? তাহলে আপনার ঝামেলা এখানে অর্ধেকই কমে গেল। নিশ হিসেবে আপনি বইপত্রকেই বেছে নিতে পারেন অনায়াসে। নিজের সংগ্রহে থাকা প্রিয় বইগুলো নিয়েই শুরু করুন ভিডিও তৈরি। নির্দিষ্ট কোনো একটি বই সম্পর্কে তথ্য দিন। যেমন বইটি কার লেখা, কবে, কোন প্রকাশনী থেকে বেরিয়েছে, দাম কত ইত্যাদি। এরপর বইটির বিষয়বস্তু সম্পর্কে আলোচনা করুন, বইটি সম্পর্কে আপনার ভালো লাগা, মন্দ লাগা নিয়ে কথা বলুন। এভাবেই বিভিন্ন বই নিয়ে আপনি বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মের উপযোগী ছোট-বড় কন্টেন্ট তৈরি করতে পারেন। শুধু যে ভিডিও মনিটাইজ করার মাধ্যমেই ভিডিও থেকে অর্থ উপার্জন করা যায়, তা নয়। পেইড প্রোমোশন, অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিংয়ের মাধ্যমেও ভিডিও থেকে অর্থ উপার্জন সম্ভব।


২। অ্যাফিলিয়েট লিংক শেয়ার করা:

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিংয়ের প্রচলিত পদ্ধতিগুলোর মধ্যে একটি হচ্ছে অ্যাফিলিয়েট লিংক শেয়ার করা। অ্যাফিলিয়েট লিংক শেয়ার করে আয় করার পদ্ধতিটি এ রকম—ধরুন, অনলাইনে কোনো একটি ওয়েবসাইটে একটি পণ্য বিক্রি হচ্ছে। আপনি সেই পণ্য নিয়ে ফেসবুকে কিছু লিখলেন এবং সেই পণ্যের একটি অ্যাফিলিয়েট লিংক জেনারেট করে আপনার লেখাটির নিচেই পেস্ট করে লেখাটি পোস্ট করলেন। আপনার পোস্ট করা লিংকে ক্লিক করে যতবার কেউ পণ্যটি কিনবে, ততবার আপনি কমিশন পাবেন। বর্তমানে দেশে-বিদেশে বই বিক্রির বিভিন্ন ওয়েবসাইটের অ্যাফিলিয়েট প্রোগ্রাম আছে। এসব ওয়েবসাইটে অ্যাফিলিয়েট অ্যাকাউন্ট খুলে আপনিও লিংক জেনারেট করা শুরু করতে পারেন। ফেসবুক তো ব্যবহার করা হয়ই। অ্যাফিলিয়েট লিংকগুলো আপনার ফেসবুকে পোস্ট করুন। বইগুলো সম্পর্কে গুছিয়ে লিখুন, যাতে বইটি কিনতে আপনার ফেসবুক ফ্রেন্ড-ফলোয়াররা আগ্রহী হন। শুধু ফেসবুক নয়, এক্স, ইনস্টাগ্রাম, টিকটক, ইউটিউব—সব প্ল্যাটফর্মের কন্টেন্টের সঙ্গেই অ্যাফিলিয়েট লিংক পোস্ট করা সম্ভব।


৩। ব্লগ লেখা:

ওয়ার্ডপ্রেস বা উইবলি ব্যবহার করে আপনি বিনা মূল্যেই আপনার ব্লগ সাইট তৈরি করতে পারেন এবং বই–বিষয়ক ব্লগ প্রকাশ করতে পারেন। বইয়ের অ্যাফিলিয়েট লিংক শেয়ার করে অর্থ আয়ের একটি ভালো মাধ্যম ব্লগ সাইটগুলো। যেসব বই সম্পর্কে লিখবেন, সেসবের অ্যাফিলিয়েট লিংকগুলোও ব্লগের নিচে পেস্ট করে দেবেন। এ ছাড়া ব্লগের পাঠকসংখ্যা বাড়লে সাইটে বিজ্ঞাপন প্রচারের মাধ্যমেও আয় করা সম্ভব। তবে সেটি ফ্রি ওয়েবসাইটের মাধ্যমে সম্ভব হবে না।


৪। পেইড রিভিউ লেখা:

আজকাল দেশ-বিদেশের লেখকেরা রিভিউ লেখার জন্য লেখক খোঁজেন। লেখকেরা ফ্রিল্যান্সিং প্ল্যাটফর্মগুলোতে অহরহ বুক রিভিউয়ার চেয়ে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেন। এ ছাড়া বিভিন্ন প্রকাশনা সংস্থাও তাদের প্রকাশিত বইয়ের রিভিউ লেখানোর জন্য রিভিউয়ার নিয়োগ দেয়। কাজেই আপনার যদি পড়ার অভ্যাস থাকে এবং লেখার হাতও ভালো হয়, তাহলে বুক রিভিউয়ার হিসেবে আপনি কাজ করে অর্থ উপার্জন করতে পারেন।


৫। প্রচ্ছদ ও অলংকরণ:

এ কাজ করতে হলে শুধু পড়ার অভ্যাস থাকলেই চলবে না, আপনার বই নকশার দক্ষতাও থাকতে হবে। বইয়ের প্রচ্ছদ আঁকতে বা ডিজাইন করতে হলে বইটি অবশ্যই ভালোভাবে আগে পড়া প্রয়োজন। আর অলংকরণের কাজ করতে হলে তো বইয়ের বিষয়বস্তুর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রতিটি পাতার জন্যই আলাদাভাবে ছবি আঁকতে হয়, অর্থাৎ এই পেশায় আসতে হলে ভালো আঁকতেও হবে, পড়তেও ভালোবাসতে হবে। তাই আপনার আঁকাআঁকিতে দক্ষতা থাকলে এবং বই পড়ার অভ্যাস থাকলে প্রচ্ছদ ও অলংকরণ শিল্পী হিসেবে কাজ করতে পারেন।


৬। পডকাস্ট:

আপনি যদি ভালোভাবে বই পড়তে ও বিশ্লেষণ করতে পারেন, তবে আপনার সেই বিশ্লেষণকে অডিও ফরম্যাটে রেকর্ড করে পডকাস্ট আকারে প্রকাশ করতে পারেন। এতে আপনি শুধুমাত্র শ্রোতাদের একটি নির্ভরযোগ্য বই-সারাংশ উপহার দেন না, বরং নিজেকে একজন বই বিশেষজ্ঞ হিসেবেও প্রতিষ্ঠিত করতে পারেন।


৭। অডিও বুক তৈরি:

আজকাল অডিও বুকেরও বেশ চাহিদা আছে। লেখকেরা অডিও বুক বিক্রি করেও অর্থ উপার্জন করেন। লেখকদের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়ে অডিও বুক তৈরি করে আপনি অর্থ উপার্জন করতে পারেন। এ কাজের জন্য অবশ্যই আপনার একটি ভালো মানের সাউন্ড সিস্টেম প্রয়োজন হবে। আপনাকে মাইক্রোফোনের সামনে সুন্দরভাবে বইগুলো পাঠ করতে করতে রেকর্ড করতে হবে। পড়তে গেলে ভুলভাল হতেই পারে। তাই অডিও বুক তৈরি করতে হলে অডিও এডিটিংয়েও আপনার দক্ষতা থাকা প্রয়োজন।


৮। বই অনুবাদ করা :

আপনি যদি একাধিক ভাষায় পারদর্শী হন, তাহলে বই অনুবাদ করে বিক্রি করেও আয় করতে পারেন। আপনাকে যে শুধু কোনো প্রকাশনী থেকেই বই বের করতে হবে, তা নয়। আজকাল অ্যামাজন কেডিপির মতো প্ল্যাটফর্মে লেখকেরা স্বাধীনভাবে, নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় ই–বুক প্রকাশ করেন এবং বই বিক্রি বাবদ অর্থ আয় করেন।


৯। প্রুফ রিডিং:

পড়ার অভ্যাস ও ভাষাগত দক্ষতা—দুটিই যদি আপনার থাকে, তাহলে প্রুফ রিডার হিসেবে কাজ করতে পারেন। প্রুফ রিডিং, অর্থাৎ পাণ্ডুলিপির ভুলত্রুটি সংশোধন করা হতে পারে আপনার ফুলটাইম পেশা কিংবা বাড়তি আয়ের একটি মাধ্যম। প্রুফ রিডার হিসেবে আপনি বিভিন্ন প্রকাশনা সংস্থায় চাকরি পেতে পারেন, ফ্রিল্যান্সার হিসেবেও কাজ করতে পারেন। আপওয়ার্ক, ফাইভারের মতো ফ্রিল্যান্সিং প্ল্যাটফর্মগুলোতে প্রুফ রিডারদের চাহিদা আছে। প্রুফ রিডিং শেখা খুব একটা কঠিন নয়, তবে এ ক্ষেত্রে আপনার ভাষাগত দক্ষতা খুবই জরুরি। শুদ্ধ বানান, বিরাম চিহ্নসহ ব্যাকরণগত দিকগুলো সম্পর্কে ভালো জ্ঞান থাকা প্রয়োজন।


©️Zishan vai

৩,০০০ বছরেরও বেশি সময় আগে, মরুভূমির কেন্দ্রস্থলে, পারস্যরা এক অলৌকিক ঘটনা ঘটিয়েছিল

 ৩,০০০ বছরেরও বেশি সময় আগে, মরুভূমির কেন্দ্রস্থলে, পারস্যরা এক অলৌকিক ঘটনা ঘটিয়েছিল


পৃথিবীর সবচেয়ে কঠোর, শুষ্কতম স্থানে, প্রাচীন পারস্য প্রকৌশলীরা জীবন-মৃত্যুর সমস্যার একটি উদ্ভাবনী সমাধান নিয়ে এসেছিলেন: মরুভূমিতে কীভাবে জল আনা যায়। উত্তর ছিল কানাত - ভূগর্ভস্থ টানেলের একটি অসাধারণ ব্যবস্থা যা কেবলমাত্র মাধ্যাকর্ষণ শক্তি ব্যবহার করে দূরবর্তী পাহাড়ি ঝর্ণা থেকে শুষ্ক ভূখণ্ড জুড়ে শহর, খামার এবং গ্রামে জল পরিবহন করত। কোনও পাম্প নেই, কোনও যন্ত্রপাতি নেই - কেবল চতুর প্রকৌশল, সহজ সরঞ্জাম এবং দৃঢ় সংকল্প।


এই মৃদু ঢালু টানেলগুলি, কিছু ৫০ কিলোমিটারেরও বেশি বিস্তৃত, নিঃশব্দে পোড়া মাটির নীচে মিষ্টি জল প্রবাহিত করত। ফলাফল? সবুজ মরূদ্যানগুলি জীবন্ত হয়ে ওঠে যেখানে একসময় কেবল অনুর্বর বালি ছিল।


ইয়াজদ, নিশাপুর এবং গোনাবাদের মতো শহরগুলি এই ভূগর্ভস্থ জীবনরেখার চারপাশে বেড়ে ওঠে, পারস্য সাম্রাজ্যে বাণিজ্য, সংস্কৃতি এবং দৈনন্দিন জীবনের প্রাণবন্ত কেন্দ্র হয়ে ওঠে।  কানাতগুলি বাগানে জল সরবরাহ করত, ফসল সেচ দিত, পাবলিক স্নানাগার সরবরাহ করত এবং এমনকি নগর নকশার প্রাচীনতম কিছু উদাহরণ গঠনে সহায়তা করত।


ইরানের গোনাবাদে এখনও প্রাচীনতম কার্যকর কানাতগুলির মধ্যে একটি বিদ্যমান। ২,৭০০ বছরেরও বেশি পুরানো, এটি ৩০০ মিটার গভীর একটি কূপ থেকে জল টেনে আনে - এবং এটি আজও প্রবাহিত হচ্ছে। এটি রোমের চেয়েও প্রাচীন এবং এখনও তার কাজ করছে।


ইউনেস্কো ইরানের কানাতগুলিকে বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে ঘোষণা করেছে, কেবল তাদের অবিশ্বাস্য ইতিহাসের জন্য নয়, বরং টেকসই জল ব্যবস্থাপনার একটি চিরন্তন উদাহরণ হিসেবে। ক্রমবর্ধমান জল ঘাটতির মুখোমুখি বিশ্বে, এই প্রাচীন ব্যবস্থাগুলি আমাদের ভবিষ্যতের জন্য মূল্যবান শিক্ষা নিতে পারে।


আরো বিস্তারিত জানতে নিচের লিংকের ক্লিক করে দেখতে পারেন সঠিক তথ্য পেয়ে যাবেন 

https://www.facebook.com/share/p/18fKwGMQEM/


History Hunters

রবিবার, ১১ মে, ২০২৫

তেলাপোকা দূর করার টিপস। 

 তেলাপোকা দূর করার টিপস। 


১)তেজপাতাঃ তেজপাতার গন্ধ তেলাপোকা সহ্য করতে পারে না। ফলে যেখানে তেজপাতা থাকে সেখানে তেলাপোকা থাকে না। তাই তেলাপোকার আনাগোনা যেখানে বেশি সেখানে তেজপাতা ছিঁড়ে ফেলে রাখুন। বাড়ি থেকে তেলাপোকা সদলবলে দূর হবে।


(২) পানি আর অ্যামোনিয়ার মিশ্রণঃ তেলাপোকা তাড়ানোয় অত্যন্ত উপযোগী। এক বালতি পানিতে ২ কাপ অ্যামোনিয়া গুলে নিন। এই পানি দিয়ে রান্নাঘর ধুয়ে নিন। অ্যামোনিয়ার গন্ধে তেলাপোকা পালাবে।


(৩) গায়ে মাখার সাবান ও পানি মিশিয়ে মিশ্রণঃ তৈরি করুন। ঘরের কোনায় কোনায় এই পানি স্প্রে করে দিন। ব্যস তেলাপোকা বধ।


(৪) ময়দা ও বোরিক অ্যাসিডঃ মেখে একটা ডো তৈরি করে নিন। এর ছোট ছোট লেচি কেটে ঘরের বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে রাখুন। এই লেচিতে মুখ দিলেই মরবে তেলাপোকা।


(৫) গোলমরিচ, পেঁয়াজ, রসুনঃ এই তিন উপকরণ একসঙ্গে পেস্ট বানিয়ে নিন। এবার এক লিটার পানিতে এই মিশ্রণটি দিয়ে ভালো করে গুলে নিন। ঘরের আনাচে কানাচেতে এই পানি স্প্রে করলেই নিশ্চিহ্ন হবে তেলাপোকার বংশ।


(৬)শশাঃ একটি টিনের কৌটায় কাটা শশা ভরে মুখ খুলে রেখে দিন। তেলাপোকা চলে যাবে। তবে দিনের পর দিন রাখবেন না। তাতে মাছির উপদ্রব শুরু হবে।


(৭)পানিঃ ঘরের কোণে কাঁচের জারে অর্ধেক পানি ভরে রেখে দিন। তেলাপোকা খালি ভেবে এর ভিতরে ঢুকলেই পানিতে আটকা পড়বে। আর উড়তে পারবে না।


#foryoupageシforyou #everyoneシ゚ #viralchallenge #viralphotochallenge #trend Proshanti A #collected

বিপদের সময় এই দোয়াটি পড়ুন,অলৈকিক সাহায্য আসবেই,,,,,, ফেইসবুক থেকে নেওয়া

 🌊 তিন অন্ধকারের বুক চিরে অলৌকিক মুক্তির মহাকাব্য: ইউনুস (আ.)-এর গল্প ​আপনি কি কখনো এমন ঘোর অন্ধকারে পড়েছেন, যেখানে পালানোর কোনো পথ নেই? যে...