এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

শনিবার, ১৭ মে, ২০২৫

রহস্যে মোড়ানো প্রাচীন শহর: মোহেঞ্জোদাড়ো ও হরপ্পা

 “যেখানে প্রাচীনতা আর আধুনিকতার অবিশ্বাস্য মিশ্রণ—আর সেখানেই লুকিয়ে আছে ইতিহাসের এক নিখোঁজ অধ্যায়!”


রহস্যে মোড়ানো প্রাচীন শহর: মোহেঞ্জোদাড়ো ও হরপ্পা


প্রায় ৪ হাজার বছর আগের কথা। তখনকার পৃথিবীতে যখন অনেক জায়গাই ছিল অজানা, অন্ধকারে ঢাকা, তখন সিন্ধু নদীর তীরে গড়ে উঠেছিল এক বিস্ময়কর নগরসভ্যতা—সিন্ধু উপত্যকা সভ্যতা।

এই সভ্যতার দুটি প্রধান শহর—মোহেঞ্জোদাড়ো ও হরপ্পা—আজও ইতিহাস গবেষকদের কাছে এক রহস্যের নাম। উন্নত নগর ব্যবস্থাপনা, অপরিচিত লিপি আর হঠাৎ পতন—সবকিছুই যেন ইতিহাসে লেখা এক রহস্য-রোমাঞ্চ উপন্যাস!


সভ্যতার অগ্রগতি

 • পরিকল্পিত নগর: সোজা রাস্তা, ইটের তৈরি বহুতল ঘর, রীতিমতো সুগঠিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা।

 • The Great Bath: বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন স্নানাগার—ধর্মীয় বা সামাজিক আচার পালনের স্থান হতে পারে।

 • চিত্রলিপি: হরপ্পার লিপি এখনো সম্পূর্ণ পাঠোদ্ধার হয়নি—এটি সভ্যতাটিকে আরও রহস্যময় করে তুলেছে।

 • আন্তর্জাতিক বাণিজ্য: মেসোপটেমিয়া পর্যন্ত তাদের ব্যবসা প্রসারিত ছিল, পাওয়া গেছে সে সময়ের সিল।


হঠাৎ পতনের রহস্য


এই মহাসভ্যতা হঠাৎ করেই নিঃশেষ হয়ে যায়—কেন?

বিভিন্ন গবেষণা থেকে উঠে আসে বেশ কিছু সম্ভাব্য কারণ:

 1. ভূমিকম্প ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ: অনেক স্থাপনার ধ্বংসাবশেষে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের চিহ্ন পাওয়া গেছে।

 2. নদীর পথ পরিবর্তন: সিন্ধু ও তার উপনদীগুলোর পথ বদলালে পানি সংকটে সভ্যতা টিকতে পারেনি।

 3. আক্রমণ নাকি অভ্যন্তরীণ দুর্বলতা?

কেউ বলেন, আর্যদের আক্রমণ সভ্যতা ধ্বংস করেছিল, আবার অনেকে বলেন—নিজস্ব দুর্বলতাই ছিল কারণ।


অজানা ভাষা ও ধর্ম


সভ্যতার এক অন্যতম রহস্য—তাদের লিপি।

আজও কেউ তা পুরোপুরি পাঠোদ্ধার করতে পারেনি।

তাদের ধর্মীয় বিশ্বাস নিয়েও গবেষণায় মিলছে নানা দৃষ্টিভঙ্গি—প্রকৃতি পূজা, মাতৃদেবী, পশুপূজার চিহ্ন সবই রহস্যে ঘেরা।


মোহেঞ্জোদাড়ো ও হরপ্পা যেন অতীতের নিঃশব্দ প্রহরী, যাদের দেয়ালে লেখা আছে ইতিহাসের হারিয়ে যাওয়া কাহিনি।

আমরা শুধু অনুমান করতে পারি, কিন্তু নিশ্চিতভাবে বলতে পারি না—এই সভ্যতার পতনের সঠিক কারণ কী ছিল!


#MohenjoDaro #AncientDiscoveries #history

মোহাম্মদপুরে ফটোগ্রাফারকে কুপিয়ে হত্যা

 মোহাম্মদপুরে ফটোগ্রাফারকে কুপিয়ে হত্যা


রাজধানীর মোহাম্মদপুরে দুর্বৃত্তের ধারাল অস্ত্রের আঘাতে নুর ইসলাম (২৬) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। তিনি পেশায় ফটোগ্রাফার ছিলেন। তার সঙ্গে থাকা দুটি ক্যামেরা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।


শুক্রবার (১৬ মে) রাত আটটার দিকে মোহাম্মদপুর পুলপাড় দূর্গা মন্দিরের গলিতে এই ঘটনা ঘটে।


নিহতের বড় ভাই ওসমান গনি জানান, তাদের বরিসাল জেলার আগৈলঝড়া থানার সুজনকাঠি গ্রামে। বাবার নাম আবুল ফকির। বর্তমানে ধানমন্ডি শংকর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় থাকেন তারা। নুর ইসলাম ডে ইভেন্টের ফটোগ্রাফার ছিলেন। রাতে ফোন কলে তিনি খবর পান, তার ছোট ভাইকে মোহাম্মদপুর এলাকায় দুর্বৃত্তরা কুপিয়েছে। পরে তিনি ঢাকা মেডিকেলে এসে ভাইয়ের লাশ দেখতে পান।


তিনি বলেন, ঘটনা সম্পর্কে বিস্তারিত আমি এখনো জানি না। তবে যতটুকু শুনেছি, নুর ইসলাম এবং তার বন্ধু ইমনকে নিয়ে রিকশায় করে মোহাম্মদপুর দূর্গা মন্দির গলি দিয়ে যাচ্ছিলেন। এ সময় কয়েকজন দুর্বৃত্ত তাদের পথরোধ করে তার ক্যামেরা এবং মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। বাধা দিলে নুর ইসলাম কুপিয়ে আহত করে। একপর্যায়ে তার সঙ্গে থাকা দুটি ফোন এবং মোবাইল ছিনিয়ে নিয়ে চলে যায়। এরপর তার বন্ধু এবং স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে বাংলাদেশ মেডিকেলে নিয়ে যায়।


ঢাকা মেডিকেল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ মো. ফারুক মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে স্বজনরা ওই যুবককে হাসপাতালে নিয়ে আসলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। ওই যুবকের মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাত রয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে রাখা হয়েছে।

 রাত ৮ টা ৩০ মিনিটের সংবাদ তারিখ: ১৬-০৫-২০২৪ খ্রি:

 রাত ৮ টা ৩০ মিনিটের সংবাদ

তারিখ: ১৬-০৫-২০২৪ খ্রি:


আজকের শিরোনাম:


আগামী বছরগুলোতে বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশি কর্মী নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মালয়েশিয়া - জানালেন উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া।


ঈদ-উল আযহাকে সামনে রেখে দূরপাল্লার বাসের আগাম টিকিট বিক্রি শুরু - নির্ধারিত ভাড়া অনুসরণের নির্দেশনা।


ঈদকে সামনে রেখে এবারে রাজধানীতে বসবে ২১টি পশুরহাট - কোরবানির পশুরহাটে থাকবে মোবাইল ভেটেরিনারি ক্লিনিক - বললেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা।


বিএসএফ এর ফের পুশইনের চেষ্টা স্থানীয়দের সহায়তায় রুখে দিয়েছে বিজিবি।


ইস্তাম্বুলে প্রথমবারের মতো রাশিয়া ও ইউক্রেনের কর্মকর্তাদের মুখোমুখি বৈঠক।


ইসরাইলের ত্রিমুখী হামলায় গাজায় নিহত আরও একশো ফিলিস্তিনি ।


ভারতের অরুণাচলে সাফ অনুর্ধ্ব-১৯ ফুটবল চ্যাম্পিয়নশীপে নেপালকে হারিয়ে ফাইনালে বাংলাদেশ।

শুক্রবার, ১৬ মে, ২০২৫

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে হুমায়ুন ফরীদি প্রচুর বাকী খেতেন

 🍁জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে হুমায়ুন ফরীদি প্রচুর বাকী খেতেন। তার সময়কার দোকানদাররা এখনো ওইসব বাকী নিয়ে অভিযোগ নয়, বরং তারা গর্ব করেন! কথিত আছে যে, ফরীদিকে একবার জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি অনুষ্ঠানে সুমন নামে একজন ঠাট্টাচ্ছলে বলেছিলেন আপনি আলবেরুনীর ক্যান্টিনে ৩১৯ টাকা বাকী রেখেছেন, শোধ করে যাবেন! জবাবে তিনি উত্তর দেন, ‘আমি এইটা শোধ করব না।’ সবাই বলে উঠল, "কেন কেন?" উনি তখন উত্তরে বলেন, "আমি এই ক্যান্টিন, হল, ক্যাম্পাস, এই বিশ্ববিদ্যালয়ের মানুষগুলোর কাছে


আজীবন ঋণী থাকতে চাই। "


অভিনেতা হুমায়ুন ফরিদী তখন হুতাপাড়ায় ছিলেন। পরিবার থেকে জরুরী কল পেয়ে রাত দুইটার পর ঢাকায় রওনা হন। নিজেই চালাচ্ছিলেন গাড়ি। সারাপথে অঝোরে বৃষ্টি। তার মাঝেই রওনা হয়েছিলেন ফরিদী।


বহুদূর চলে আসার পর খেয়াল হলো প্রোডাকশন বয় ইসমাইলকে কিছু টিপস দেয়ার কথা ছিলো। অপেক্ষা করতে বলেছিলেন। ছেলেটা টাকার আশায় বসে থাকবে।


হুমায়ুন ফরিদী সেই বৃষ্টির রাতেই গাড়ি ব্যাক করিয়ে ফিরে এলেন হুতাপাড়া। ইসমাইলকে টিপস দিয়ে তারপর আবার গাড়ি চালিয়ে ফিরেছিলেন ঢাকা। সেই ঝুম বৃষ্টির মাঝেই..


কথা খেলাপ করার মানুষ ফরিদী ছিলেননা...!


লেখক হুমায়ুন আহমেদ তার এক লেখায় একবার লিখেছিলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে বহু লোক একজনকে ঘিরে আছে, সবাই তার কথা মন্ত্রমুগ্ধের মতো শুনছে, হাসছে, হাত তালি দিচ্ছে... দেখে মনে হলো শব্দের জাদুকর! কাছে গিয়ে দেখি ঝাকড়া চুলের এক তাগড়া যুবক! কথা বলার মাঝেই একটা আর্ট ছিলো! অন্য যেকোনো দশটা মানুষ থেকে সহজেই তাকে আলাদা চেনা যেতো! মানুষ টা হুমায়ুন ফরীদি!


তিনি ছিলেন একাধারে শিল্পী, কবি, অভিনেতা, নাট্যশিল্পী, আবৃত্তিকার এবং মুক্তিযোদ্ধা।


🍁এখান থেকে কি শিক্ষা পেয়েছেন বলে যান! 

#lifestyle #actor

সকাল ৭টার সংবাদ  তারিখ : ১৬-০৫-২০২৫ খ্রি:

 সকাল ৭টার সংবাদ 

তারিখ : ১৬-০৫-২০২৫ খ্রি:


আজকের সংবাদ শিরোনাম:


জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (সংশোধন) অধ্যাদেশ-২০২৫ এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানে  শহীদ পরিবার ও আহত শিক্ষার্থীদের কল্যাণ ও পুনর্বাসন অধ্যাদেশ-২০২৫ এর খসড়া উপদেষ্টা পরিষদে অনুমোদন।


মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাবে বাংলাদেশ- জানালেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান উপদেষ্টা।


গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী বেশ কিছু সংস্কার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে - সাংবাদিকদের দায়িত্ব ও সুরক্ষা সংক্রান্ত অধ্যাদেশ প্রণয়নের চিন্তা ভাবনা করছে সরকার - জানালেন তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা।


দেশের জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাতে রাজনৈতিক দলগুলোকে এগিয়ে আসতে হবে - বললেন অধ্যাপক ডক্টর আলী রিয়াজ।


টোকিওতে বাংলাদেশ-জাপান পররাষ্ট্র দপ্তর পর্যায়ের ষষ্ঠ পরামর্শ সভা অনুষ্ঠিত - বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে জাপানের অব্যাহত সহযোগিতার আশ্বাস।


গাজায় ইসরাইলী বিমান হামলায় একদিনে ১২৭ জনের মৃত্যু।


আজ ভারতের অরুণাচলে সাফ অনূর্ধ্ব-১৯ ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপের প্রথম সেমিফাইনালে নেপালের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ।

মাঝি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

 মাঝি

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর


আমার যেতে ইচ্ছে করে

নদীটির ওই পারে

যেথায় ধারে ধারে 

বাঁশের খোঁটায় ডিঙি নৌকো

বাঁধা সারে সারে।

কৃষাণেরা পার হয়ে যায়

লাঙল কাঁধে ফেলে,

জাল টেনে নেয় জেলে,

গরু মহিষ সাঁতরে নিয়ে

যায় রাখালের ছেলে।

সন্ধ্যে হলে যেখান থেকে

সবাই ফেরে ঘরে,

শুধু রাত দুপুরে

শেয়ালগুলো ডেকে ওঠে

ঝাউ ডাঙাটার পরে।

মা, যদি হও রাজি,

বড় হলে আমি হব

খেয়াঘাটের মাঝি।

তার মৃত্যুর পর আল্লাহর আরশ কেঁপে উঠেছিলো।

 ইসলাম গ্রহণ করার পর হায়াত পেয়েছেন মাত্র ছয় বছর। ৩৭ বছর বয়সে পরপারে পাড়ি জমান। বিখ্যাত সাহাবি হজরত সা’দ ইবনে মুআজ (রা:)। জীবনটা কেমন ছিল তার যে, তার মৃত্যুর পর আল্লাহর আরশ কেঁপে উঠেছিলো।

সা'দ (রা:) হচ্ছেন সেই সেনানায়ক যিনি গোটা আরব, তৎকালীন দুই সুপার পাওয়ার রোম ও পারস্যসহ পুরো পৃথিবীর বিরুদ্ধে গিয়ে ইসলামের পক্ষে মদিনার সামরিক শক্তিকে নিয়ে বায়আত দিয়েছিলেন। যে বায়'আতের আগে রাসুল (সাঃ) প্রায় ৫৪ টির মতো গোত্র প্রধানদের কাছে গিয়ে ব্যর্থ হয়েছিলেন।

সা'আদ ইবনে মুয়াজ (রাঃ) সেইসব আনসারদের একজন যিনি রাসুল (সাঃ) - এর জন্য মদিনার দরজা খুলে দিয়েছিলেন এবং মৃত্যুর আগ পর্যন্ত রাসুলুল্লাহর প্রতিরক্ষার কাজে নিয়োজিত ছিলেন।

তিনি ৩১ বছর বয়সে মদিনায় ইসলাম গ্রহণ করেন। তার অসিলায় ইসলাম গ্রহণ করেন বনু আবদুল আশহাল গোত্রের সব নারী-পুরুষ। অংশ নিয়েছেন বদর, উহুদ ও খন্দক যুদ্ধে। পঞ্চম হিজরিতে সংঘটিত খন্দকের যুদ্ধে শত্রুদলের হিব্বান ইবনে আরিক্বাহর নিক্ষিপ্ত একটি তীর তার দেহে বিদ্ধ হয়।

আহত অবস্থায় তিনি মহান আল্লাহর কাছে এই মর্মে দোয়া করেন যে, তিনি যেন তাকে বনু কুরাইজার বিচার পর্যন্ত হায়াত দান করেন। কারণ বনু কুরাইজা খন্দকের যুদ্ধে মুসলমানদের সঙ্গে চরম গাদ্দারি করে। মুসলমানদের সঙ্গে সম্পাদিত মৈত্রী চুক্তি ভঙ্গ করে মক্কার মুশরিকদের গোপনে সহায়তা করে। মহান আল্লাহ তার দোয়া কবুল করেন।

দীর্ঘ এক মাস তার ক্ষত ভালো হয়নি। খন্দক যুদ্ধের পরপরই রাসুল (সাঃ) বনু কুরাইজার বিরুদ্ধে অভিযান চালান। তাদের দুর্গ অবরোধ করে রাখেন। অবশেষে তারা সাদ ইবনে মুয়াজ রাদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুর ফয়সালার ওপর রাজি হয়ে দুর্গ থেকে বেরিয়ে আসে।

তাদের ধারণা ছিল সাদ (রা:) তাদের পক্ষ নেবেন। কেননা তিনি ছিলেন আউস গোত্রের নেতা। তার গোত্রের সঙ্গে বনু কুরাইজার ছিল মৈত্রী সম্পর্ক। কিন্তু ইসলামের স্বার্থে এক চুল পরিমাণও ছাড় দিতে রাজি ছিলেন না সাদ (রা:)।

অসুস্থ অবস্থায় তিনি মসজিদ-ই-নববীর অন্দরে একটি তাঁবুতে অবস্থান করছিলেন। রাসুল (সাঃ) তাকে ময়দানে নিয়ে আসতে বলেন। বিশেষ ব্যবস্থাপনায় একটি ঘোড়ায় উঠিয়ে তাকে রাসুল এর কাছে আনা হয়। তার বাহন রাসুলের তাঁবুর কাছাকাছি এলে তিনি আনসারদের বলেন, ‘তোমাদের নেতার সাহায্যের জন্য উঠো। তাকে বাহন থেকে সযত্নে নামিয়ে নাও।’ অতঃপর রাসুল (সাঃ) তাকে বলেন, এই ই*হুদিরা তোমার ফয়সালার ওপর রাজি হয়ে আত্মসমর্পণ করেছে।

অতঃপর তিনি বনু কুরাইজার বিশ্বাসঘাতকদের যোদ্ধাদের হ*ত্যার ফয়সালা করেন। নারী ও শিশুদের দাস-দাসী বানানো এবং তাদের সম্পদ গনিমত হিসেবে জব্দ করার ফয়সালা দেন। রাসুল (সাঃ) বলেন, ‘তুমি আল্লাহর হুকুম অনুযায়ী ফয়সালা করেছ।’ ফয়সালার পরপরই তাঁর জখম থেকে র*ক্তক্ষরণ শুরু হয়। অল্প সময়ের মধ্যে তিনি শাহাদাতের অমিয় সুধা পান করেন।

মদিনার ‘জান্নাতুল বাকি’ কবরস্থানে ইসলামের জন্য নিবেদিত এই সাহাবিকে সমাহিত করা হয়। ইন্তেকালের সময় তার বয়স ছিল মাত্র ৩৭ বছর। বুখারি ও মুসলিম শরিফের হাদিস- তার ইন্তেকালের পর জিবরাঈল (আ:) রেশমি পাগড়ি পরিধান করে রাসুল (সাঃ) - এর দরবারে উপস্থিত হয়ে বলেন, কে মৃত্যুবরণ করেছে, যার জন্য আসমানের দরজাগুলো খুলে দেওয়া হয়েছে এবং যার কারণে আরশে কম্পন সৃষ্টি হয়েছে? রাসুল (সাঃ) দৌড়ে যান সাদ (রাঃ)- র কাছে। গিয়ে দেখেন তিনি আর বেঁচে নেই।

রাসুল বললেন, 'নিশ্চয়ই এই সা'আদ অতি নেক্কার বান্দা। তার জন্য আল্লাহর আরশ কেপে উঠেছে ,আসমানের দরজাসমূহ খুলে গেছে এবং তার জানাযায় এমন ৭০ হাজার ফেরেশতা যোগদান করেছে যারা এর আগে আর কখনোও পৃথিবীতে আসেনি।'

কতইনা পবিত্র ও মহান হৃদয়ের মানুষ ছিলেন সাহাবিরা। আল্লাহ আমাদেরকে মৃত্যুর পর তাদের সান্নিধ্য অর্জনের জন্য কবুল করুন।

হায়যের ইতিকথা।

 وَقَوْلُ اللهِ تَعَالَى }وَيَسْأَلُونَكَ عَنِ الْمَحِيضِ قُلْ هُوَ أَذًى فَاعْتَزِلُوا النِّسَاءَ فِي الْمَحِيضِ{ إِلَى قَوْلِهِ }وَيُحِبُّ الْمُتَطَهِّرِينَ. {

আর আল্লাহর বাণীঃ ‘‘তারা আপনার কাছে জিজ্ঞেস করে রক্তস্রাব সম্বন্ধে। আপনি বলুনঃ তা অশুচি। কাজেই রক্তস্রাব অবস্থায় তোমরা স্ত্রীগমন থেকে বিরত থাকবে এবং পবিত্র না হওয়া পর্যন্ত তাদের নিকটবর্তী হবে না। সুতরাং যখন তারা উত্তমরূপে পরিশুদ্ধ হবে তখন তোমরা তাদের কাছে ঠিক সেভাবে গমন করবে যেভাবে আল্লাহ্ তোমাদের আদেশ দিয়েছেন। আল্লাহ তাওবাহকারীদের ভালবাসেন এবং যারা পবিত্র থাকে তাদেরও ভালবাসেন।’’ (সূরাহ্ আল-বাক্বারাহ্ ২/২২২)

 

6/1.  بَاب كَيْفَ كَانَ بَدْءُ الْحَيْضِ.

৬/১.  হায়যের ইতিকথা।

وَقَوْلُ النَّبِيِّ  صلى الله عليه وسلم  هَذَا شَيْءٌ كَتَبَهُ اللهُ عَلَى بَنَاتِ آدَمَ وَقَالَ بَعْضُهُمْ كَانَ أَوَّلُ مَا أُرْسِلَ الْحَيْضُ عَلَى بَنِي إِسْرَائِيلَ قَالَ أَبُو عَبْد اللهِ وَحَدِيثُ النَّبِيِّ  صلى الله عليه وسلم  أَكْثَرُ.

নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ এটি এমন একটি বিষয় যা আল্লাহ্ তা‘আলা আদম-কন্যাদের জন্য নির্ধারণ করে দিয়েছেন। কারো কারো মতে সর্বপ্রথম হায়য শুরু হয় বানী ইসরাঈলী মহিলাদের। আবূ ‘আবদুল্লাহ বুখারী (রহ.) বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদীসই গ্রহণযোগ্য।

 

২৯৪. ‘আয়িশাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমরা হাজ্জের উদ্দেশেই (মদিনা হতে) বের হলাম। ‘সারিফ’ নামক স্থানে পৌঁছার পর আমার হায়য আসলো। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এসে আমাকে কাঁদতে দেখলেন এবং বললেনঃ কী হলো তোমার? তোমার হায়য এসেছে? আমি বললাম, হাঁ। তিনি বললেনঃ এ তো আল্লাহ্ তা‘আলাই আদম-কন্যাদের জন্য নির্ধারণ করে দিয়েছেন। সুতরাং তুমি বাইতুল্লাহর ত্বওয়াফ ছাড়া হাজ্জের বাকী সব কাজ করে যাও। ‘আয়িশাহ (রাযি.) বলেনঃ আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর স্ত্রীদের পক্ষ হতে গাভী কুরবানী করলেন। (৩০৫, ৩১৬, ৩১৭, ৩১৯, ৩২৮, ১৫১৬, ১৫১৮, ১৫৫৬, ১৫৬০, ১৫৬১, ১৫৬২, ১২৩৮, ১৬৫০, ১৭০৯, ১৭২০, ১৭৩৩, ১৭৫৭, ১৭৬২, ১৭৭১, ১৭৭২, ১৭৮৩, ১৭৮৬, ১৭৮৭, ১৭৮৮, ২৯৫২, ২৯৮৪, ৪৩৯৫, ৪৪০১, ৪৪০৮, ৫৩২৯, ৫৫৪৮, ৫৫৫৯, ৬১৫৭,৭২২৯; মুসলিম ১৫/১৭, হাঃ ১২১১)

 ১০ টাকার বীজ থেকে লাখপতি হোন — মাইক্রোগ্রিন চাষে শহর কিংবা গ্রামে ঘরে বসেই!

 ১০ টাকার বীজ থেকে লাখপতি হোন — মাইক্রোগ্রিন চাষে শহর কিংবা গ্রামে ঘরে বসেই!


মাইক্রোগ্রিন হলো সবজির এক ধরনের ক্ষুদ্র চারাগাছ, যেগুলো সাধারণত বীজ বপনের ৭ থেকে ১৪ দিনের মধ্যেই সংগ্রহ করা হয়। এই গাছগুলি সম্পূর্ণভাবে পুষ্টিগুণে ঠাসা। গবেষণায় দেখা গেছে, মাইক্রোগ্রিনে থাকা ভিটামিন, মিনারেল ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সাধারণ সবজির তুলনায় গড়ে ৪০ গুণ বেশি! এটি খেতে সুস্বাদু, দেখতে আকর্ষণীয় এবং স্বাস্থ্যসচেতন মানুষের মধ্যে এর চাহিদা দিন দিন বেড়েই চলেছে।


কেন মাইক্রোগ্রিন চাষ লাভজনক?


১. কম খরচে চাষ: প্রতি ট্রেতে বীজের খরচ মাত্র ১০-২০ টাকা।

২. দ্রুত ফলন: ৭ থেকে ১৪ দিনের মধ্যেই ফসল তোলা যায়, অর্থাৎ মাসে ৪-৫ বার চাষ সম্ভব।

৩. অল্প জায়গায় চাষ: ছাদ, বারান্দা, এমনকি ঘরের কোণায়ও ট্রে বসিয়ে চাষ করা যায়।

৪. পানির প্রয়োজন খুবই কম: দিনে মাত্র ২-৩ বার হালকা পানি স্প্রে করলেই চলে।

৫. চাহিদা প্রচুর: হোটেল, রেস্টুরেন্ট, সুপারশপ, জিম, ডায়েট ফুড সাপ্লাইয়ার, অর্গানিক মার্কেট — সবখানেই মাইক্রোগ্রিনের উচ্চ চাহিদা।

৬. উচ্চ মূল্য: প্রতি ১০০ গ্রাম মাইক্রোগ্রিনের বাজার দর ১০০ থেকে ১৫০ টাকা, অর্থাৎ প্রতি কেজি ১,০০০ থেকে ১,৫০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়।



আপনি কিভাবে শুরু করবেন মাইক্রোগ্রিন চাষ? (ধাপে ধাপে গাইড)


প্রথম ধাপ:

ছোট ব্যবসার জন্য প্রথমেই ১০-২০টি ট্রে দিয়ে শুরু করুন। প্রতিটি ট্রে সাধারণত ১ ফুট বাই ১.৫ ফুট আকৃতির হয়ে থাকে। এসব ট্রে স্থানীয় বাজারে পাওয়া যায়, অথবা পুরনো প্লাস্টিক বাক্স দিয়েও তৈরি করা যায়।


দ্বিতীয় ধাপ:

মাটি ব্যবহার না করেও কোকোপিট, স্পঞ্জ বা নার্সারি টিস্যু দিয়ে ট্রে প্রস্তুত করুন। এই মাধ্যমে গাছের শিকড় ভালোভাবে গজায় এবং পরিচর্যাও সহজ হয়।


তৃতীয় ধাপ:

সঠিক বীজ নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ। মাইক্রোগ্রিনের জন্য জনপ্রিয় বীজগুলো হলো সূর্যমুখী, মেথি, ব্রকলি, রেড ক্যাবেজ, র‍্যাডিশ, সরিষা, বীটরুট, মটর ইত্যাদি। বীজ ভালো মানের ও অর্গানিক হওয়া উচিত।


চতুর্থ ধাপ:

বীজ ভিজিয়ে রাখুন ৮-১২ ঘণ্টা। এরপর কোকোপিটের ওপর ছিটিয়ে দিন এবং হালকা পানি স্প্রে করুন।


পঞ্চম ধাপ:

প্রথম ২-৩ দিন অন্ধকারে রাখুন (ব্ল্যাকআউট পিরিয়ড)। এতে চারা ভালোভাবে ওঠে।


ষষ্ঠ ধাপ:

এরপর ট্রে-গুলো আলোতে আনুন। দিনে অন্তত ৬ ঘণ্টা সূর্যের আলো বা গ্রো লাইটের আলোতে রাখুন। দিনে ২-৩ বার হালকা পানি স্প্রে করুন।


সপ্তম ধাপ:

৭ থেকে ১৪ দিনের মধ্যে মাইক্রোগ্রিন কাটার উপযোগী হবে। একটি ট্রে থেকে প্রায় ৪০০ থেকে ৬০০ গ্রাম ফসল পাওয়া সম্ভব।


অষ্টম ধাপ:

কাটার পর সেগুলো পরিষ্কার করে সুন্দরভাবে প্যাকেটজাত করুন। ফ্রেশ রাখার জন্য হিমায়িত (refrigerated) অবস্থায় সংরক্ষণ করুন।



এই চাষ কীভাবে ব্যবসায় রূপান্তর করা যায়?


১. ছোট স্কেল থেকে বড় স্কেল:

প্রথমে ২০ ট্রে দিয়ে শুরু করুন। প্রতি ট্রে যদি আপনি ৫০০ টাকা আয় করেন, তাহলে মাসে প্রায় ৪০,০০০ থেকে ৫০,000 টাকা পর্যন্ত আয় সম্ভব।


২. সরাসরি বিক্রয়:

আপনার শহরের রেস্টুরেন্ট, হোটেল, অর্গানিক ফুড শপ, ফার্মারস মার্কেট কিংবা ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের মাধ্যমে সরাসরি বিক্রি করতে পারেন। এই প্ল্যাটফর্মগুলোতে ‘হেলদি লাইফস্টাইল’ নিয়ে আগ্রহী গ্রাহকের সংখ্যা অনেক।


৩. সাবস্ক্রিপশন মডেল:

নিয়মিত ক্রেতাদের জন্য সপ্তাহিক বা মাসিক সাবস্ক্রিপশন চালু করুন। এতে আপনি আগাম অর্থও পেতে পারেন।


৪. শিক্ষাদান ও ওয়ার্কশপ:

যদি আপনি সফল হন, তাহলে মাইক্রোগ্রিন চাষ শেখানোর অনলাইন কোর্স, ওয়ার্কশপ বা বই বিক্রির মাধ্যমে অতিরিক্ত আয় করতে পারবেন।


৫. প্যাকেজ ও ব্র্যান্ডিং:

প্যাকেজিং ও লেবেলিং সুন্দর হলে পণ্যের মূল্য বাড়ে। “অর্গানিক”, “নন-জিএমও”, “ফ্রেশ হেলথ গ্রিনস” ইত্যাদি ট্যাগ ব্যবহার করলে পণ্য দ্রুত বিক্রি হয়।



আয়ের সম্ভাবনা ও ভবিষ্যৎ


আপনি যদি ১০০টি ট্রে পরিচালনা করেন, প্রতি ট্রে থেকে গড়ে ৫০০ টাকা লাভ করেন এবং মাসে ৪ বার কাটিং করেন — তাহলে মাসিক আয় হতে পারে ৫০,০০০ থেকে ৭০,০০০ টাকারও বেশি।


অতিরিক্ত বিকল্প:

 • ৫০০ ট্রে নিয়ে মিনি ফার্ম শুরু করা

 • বড় হোটেল ও ক্যাটারিং কোম্পানির সঙ্গে সরাসরি চুক্তি

 • হাই-এন্ড সুপারমার্কেটে সাপ্লাই দেওয়া

 • অনলাইন ডেলিভারি সার্ভিস চালু করা


মাইক্রোগ্রিন চাষ শুধু একটি চাষই নয়, এটি একটি সম্ভাবনাময় মিনি বিজনেস আইডিয়া যা আপনার জীবনের গতিপথ বদলে দিতে পারে। অল্প জায়গায়, অল্প পুঁজিতে শুরু করে আপনি হতে পারেন একজন সফল উদ্যোক্তা। শুধু উদ্যোগ নিন, ধৈর্য ধরুন আর নিয়মিত চর্চা করুন — সফলতা আপনার সঙ্গী হবেই।


পোস্ট ক্রেডিট: Ariful Islam Adil৫

ইতিহাসের পাতা উল্টালেই দেখা মেলে কত শত দুর্গ, প্রাসাদ আর গৌরবগাঁথা। 

 ইতিহাসের পাতা উল্টালেই দেখা মেলে কত শত দুর্গ, প্রাসাদ আর গৌরবগাঁথা। কিন্তু কিছু কিছু স্থাপনা কেবল ইতিহাসের নয়, হয়ে ওঠে এক জনপদের আত্মপরিচয়। তেমনই এক নীরব সাক্ষী মুন্সীগঞ্জের ইদ্রাকপুর কেল্লা, যা শুধুমাত্র ইট-কাঠের গাঁথুনি নয়, বরং মোঘল সাম্রাজ্যের কৌশলী প্রতিরক্ষা চিন্তার এক জীবন্ত নিদর্শন হিসেবে পরিচিত।


ইদ্রাকপুর দুর্গটি অবস্থিত মুন্সীগঞ্জ জেলার সদর শহরে, ইছামতি নদীর পশ্চিম তীরে। ধারণা করা হয়, মোঘল সুবাদার ইসলাম খান বা মীর জুমলা ষোড়শ শতকের দিকে জাহাঙ্গীরনগর (বর্তমান ঢাকা) কে জলদস্যুদের হাত থেকে রক্ষা করার লক্ষ্যে যে তিনটি জল দুর্গ নির্মাণ করেছিলেন, তার একটি হলো এই ইদ্রাকপুর কেল্লা। বাকি দুটি হল নারায়ণগঞ্জের হাজিগঞ্জ ও সোনাকান্দা দুর্গ। আয়তনে তুলনামূলকভাবে ছোট হলেও কৌশলগত গুরুত্বে ইদ্রাকপুর ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।


এই দুর্গের অন্যতম আকর্ষণ হলো এর সুউচ্চ প্রাচীর ও প্রতিটি কোনায় থাকা বৃত্তাকার বেষ্টনী। প্রতিরক্ষার দৃষ্টিকোণ থেকে নির্মিত ফোঁকরগুলো প্রাচীরে এমনভাবে বসানো যে, ভেতর থেকে শত্রুর দিকে গোলা ছোড়া যেত অনায়াসে। উত্তরের দিকে রয়েছে খিলানাকৃতির একমাত্র প্রবেশদ্বার। পূর্ব প্রাচীরের মাঝামাঝি একটি ৩৩ মিটার ব্যাসের গোলাকার উঁচু মঞ্চ রয়েছে, যা ব্যবহৃত হতো শত্রুর গতিবিধি পর্যবেক্ষণের জন্য। এই মঞ্চকে ঘিরে বাড়তি একটি প্রতিরক্ষা প্রাচীরও নির্মাণ করা হয়, যা মূল দেয়ালের সাথে যুক্ত ছিল। তিন কিলোমিটারের মধ্যেই ইছামতি, ধলেশ্বরী, মেঘনা ও শীতলক্ষা নদীর অবস্থান, যা এই দুর্গের প্রতিরক্ষার প্রয়োজনীয়তা আরো বাড়িয়ে তোলে।


একটি জনশ্রুতি অনুসারে, ইদ্রাকপুর দুর্গের সাথে ঢাকার লালবাগ দুর্গের সুরঙ্গপথে সংযোগ ছিল, যদিও এ তথ্যের প্রামাণ্যতা এখনও নিশ্চিত নয়। তবে এটুকু নিশ্চিতভাবেই বলা যায়, মোঘলদের প্রতিরক্ষা কৌশলে জলপথ সুরক্ষার বিষয়টি যে কতখানি গুরুত্ব পেয়েছিল, তা এই দুর্গটি চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়।


মোঘলরা যখন বাংলা দখল করে, তখন তারা বুঝতে পারে, এখানে সাম্রাজ্য কায়েম করতে হলে শুধু স্থলপথ নয়, নদীপথও নিরাপদ রাখতে হবে। কারণ বঙ্গোপসাগর থেকে মগ (আরাকানি), পর্তুগিজ ও ওলন্দাজ জলদস্যুরা মেঘনা দিয়ে উঠে এসে ভেতর দেশে লুটতরাজ চালাত। সে কারণে ইসলাম খান একজন নৌবাহিনীর প্রধান নিযুক্ত করে এবং নৌ প্রতিরক্ষা জোরদার করেন। এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই ইদ্রাকপুর দুর্গের মতো জল দুর্গগুলোর সৃষ্টি।


১৯০৯ সালে এই দুর্গকে সংরক্ষিত পুরাকীর্তি হিসেবে ঘোষণা করা হয়। আজও এই নিঃশব্দ প্রহরী ইতিহাসের ভার বহন করে দাঁড়িয়ে আছে এবং মনে করিয়ে দেয় এক সময়কার মোঘল বাংলার সুগভীর কৌশল আর প্রতিরোধের সংগ্রাম।


তথ্যসূত্র: উইকিপিডিয়া।

#ইদ্রাকপুর #কেল্লা #মোঘল #মুন্সীগঞ্জ #ইতিহাস

(অনুমতি ছাড়া রিপোস্ট করবেন না)

#বাংলার_তথ্যপট ('বাংলার তথ্যপট' সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন কমেন্টে।)

ন্যানো-স্কেলে কোয়ান্টাম সুপারপজিশন: সোডিয়াম কণার 'একই সঙ্গে দুই জায়গায়' থাকার নতুন প্রমাণ,,,মুস্তাকীম ফেইসবুক থেকে নেওয়া

 ন্যানো-স্কেলে কোয়ান্টাম সুপারপজিশন: সোডিয়াম কণার 'একই সঙ্গে দুই জায়গায়' থাকার নতুন প্রমাণ ~ কোয়ান্টাম জগতের সবচেয়ে বিস্ময়কর ধার...