এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

শুক্রবার, ১৬ মে, ২০২৫

তার মৃত্যুর পর আল্লাহর আরশ কেঁপে উঠেছিলো।

 ইসলাম গ্রহণ করার পর হায়াত পেয়েছেন মাত্র ছয় বছর। ৩৭ বছর বয়সে পরপারে পাড়ি জমান। বিখ্যাত সাহাবি হজরত সা’দ ইবনে মুআজ (রা:)। জীবনটা কেমন ছিল তার যে, তার মৃত্যুর পর আল্লাহর আরশ কেঁপে উঠেছিলো।

সা'দ (রা:) হচ্ছেন সেই সেনানায়ক যিনি গোটা আরব, তৎকালীন দুই সুপার পাওয়ার রোম ও পারস্যসহ পুরো পৃথিবীর বিরুদ্ধে গিয়ে ইসলামের পক্ষে মদিনার সামরিক শক্তিকে নিয়ে বায়আত দিয়েছিলেন। যে বায়'আতের আগে রাসুল (সাঃ) প্রায় ৫৪ টির মতো গোত্র প্রধানদের কাছে গিয়ে ব্যর্থ হয়েছিলেন।

সা'আদ ইবনে মুয়াজ (রাঃ) সেইসব আনসারদের একজন যিনি রাসুল (সাঃ) - এর জন্য মদিনার দরজা খুলে দিয়েছিলেন এবং মৃত্যুর আগ পর্যন্ত রাসুলুল্লাহর প্রতিরক্ষার কাজে নিয়োজিত ছিলেন।

তিনি ৩১ বছর বয়সে মদিনায় ইসলাম গ্রহণ করেন। তার অসিলায় ইসলাম গ্রহণ করেন বনু আবদুল আশহাল গোত্রের সব নারী-পুরুষ। অংশ নিয়েছেন বদর, উহুদ ও খন্দক যুদ্ধে। পঞ্চম হিজরিতে সংঘটিত খন্দকের যুদ্ধে শত্রুদলের হিব্বান ইবনে আরিক্বাহর নিক্ষিপ্ত একটি তীর তার দেহে বিদ্ধ হয়।

আহত অবস্থায় তিনি মহান আল্লাহর কাছে এই মর্মে দোয়া করেন যে, তিনি যেন তাকে বনু কুরাইজার বিচার পর্যন্ত হায়াত দান করেন। কারণ বনু কুরাইজা খন্দকের যুদ্ধে মুসলমানদের সঙ্গে চরম গাদ্দারি করে। মুসলমানদের সঙ্গে সম্পাদিত মৈত্রী চুক্তি ভঙ্গ করে মক্কার মুশরিকদের গোপনে সহায়তা করে। মহান আল্লাহ তার দোয়া কবুল করেন।

দীর্ঘ এক মাস তার ক্ষত ভালো হয়নি। খন্দক যুদ্ধের পরপরই রাসুল (সাঃ) বনু কুরাইজার বিরুদ্ধে অভিযান চালান। তাদের দুর্গ অবরোধ করে রাখেন। অবশেষে তারা সাদ ইবনে মুয়াজ রাদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুর ফয়সালার ওপর রাজি হয়ে দুর্গ থেকে বেরিয়ে আসে।

তাদের ধারণা ছিল সাদ (রা:) তাদের পক্ষ নেবেন। কেননা তিনি ছিলেন আউস গোত্রের নেতা। তার গোত্রের সঙ্গে বনু কুরাইজার ছিল মৈত্রী সম্পর্ক। কিন্তু ইসলামের স্বার্থে এক চুল পরিমাণও ছাড় দিতে রাজি ছিলেন না সাদ (রা:)।

অসুস্থ অবস্থায় তিনি মসজিদ-ই-নববীর অন্দরে একটি তাঁবুতে অবস্থান করছিলেন। রাসুল (সাঃ) তাকে ময়দানে নিয়ে আসতে বলেন। বিশেষ ব্যবস্থাপনায় একটি ঘোড়ায় উঠিয়ে তাকে রাসুল এর কাছে আনা হয়। তার বাহন রাসুলের তাঁবুর কাছাকাছি এলে তিনি আনসারদের বলেন, ‘তোমাদের নেতার সাহায্যের জন্য উঠো। তাকে বাহন থেকে সযত্নে নামিয়ে নাও।’ অতঃপর রাসুল (সাঃ) তাকে বলেন, এই ই*হুদিরা তোমার ফয়সালার ওপর রাজি হয়ে আত্মসমর্পণ করেছে।

অতঃপর তিনি বনু কুরাইজার বিশ্বাসঘাতকদের যোদ্ধাদের হ*ত্যার ফয়সালা করেন। নারী ও শিশুদের দাস-দাসী বানানো এবং তাদের সম্পদ গনিমত হিসেবে জব্দ করার ফয়সালা দেন। রাসুল (সাঃ) বলেন, ‘তুমি আল্লাহর হুকুম অনুযায়ী ফয়সালা করেছ।’ ফয়সালার পরপরই তাঁর জখম থেকে র*ক্তক্ষরণ শুরু হয়। অল্প সময়ের মধ্যে তিনি শাহাদাতের অমিয় সুধা পান করেন।

মদিনার ‘জান্নাতুল বাকি’ কবরস্থানে ইসলামের জন্য নিবেদিত এই সাহাবিকে সমাহিত করা হয়। ইন্তেকালের সময় তার বয়স ছিল মাত্র ৩৭ বছর। বুখারি ও মুসলিম শরিফের হাদিস- তার ইন্তেকালের পর জিবরাঈল (আ:) রেশমি পাগড়ি পরিধান করে রাসুল (সাঃ) - এর দরবারে উপস্থিত হয়ে বলেন, কে মৃত্যুবরণ করেছে, যার জন্য আসমানের দরজাগুলো খুলে দেওয়া হয়েছে এবং যার কারণে আরশে কম্পন সৃষ্টি হয়েছে? রাসুল (সাঃ) দৌড়ে যান সাদ (রাঃ)- র কাছে। গিয়ে দেখেন তিনি আর বেঁচে নেই।

রাসুল বললেন, 'নিশ্চয়ই এই সা'আদ অতি নেক্কার বান্দা। তার জন্য আল্লাহর আরশ কেপে উঠেছে ,আসমানের দরজাসমূহ খুলে গেছে এবং তার জানাযায় এমন ৭০ হাজার ফেরেশতা যোগদান করেছে যারা এর আগে আর কখনোও পৃথিবীতে আসেনি।'

কতইনা পবিত্র ও মহান হৃদয়ের মানুষ ছিলেন সাহাবিরা। আল্লাহ আমাদেরকে মৃত্যুর পর তাদের সান্নিধ্য অর্জনের জন্য কবুল করুন।

কোন মন্তব্য নেই:

বিপদের সময় এই দোয়াটি পড়ুন,অলৈকিক সাহায্য আসবেই,,,,,, ফেইসবুক থেকে নেওয়া

 🌊 তিন অন্ধকারের বুক চিরে অলৌকিক মুক্তির মহাকাব্য: ইউনুস (আ.)-এর গল্প ​আপনি কি কখনো এমন ঘোর অন্ধকারে পড়েছেন, যেখানে পালানোর কোনো পথ নেই? যে...