এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

বুধবার, ১১ জুন, ২০২৫

গল্পে গল্পে ইংরেজি শিখুন -,,,,,,,,,

 গল্পে গল্পে ইংরেজি শিখুন - ❤️❤️Day - 003❤️❤️

একজন বৃদ্ধ মহিলার কষ্টের গল্প :


Her (তার) name (নাম) was (ছিল) Rawshan Ara (রওশন আরা)।

She (সে) was (ছিল) around (প্রায়) seventy (সত্তর) years (বছর) old (বয়স)।

Her (তার) husband (স্বামী) had (ছিলেন) died (মারা গেছেন) long (অনেক) ago (আগে)।

She (তিনি) had (ছিল) no (কোনো) children (সন্তান), no (না) relatives (আত্মীয়), nobody (কেউ না) to (কে) stand (দাঁড়ানো) by (পাশে) her (তার)।


She (তিনি) lived (বাস করতেন) in (একটি) a (একটি) small (ছোট) tin (টিনের) house (ঘরে) all (সম্পূর্ণ) alone (একা)।

Every (প্রতিদিন) morning (সকাল), she (তিনি) used (অভ্যাস ছিল) to (এই কাজটি) go (যেতেন) out (বাইরে) to (জন্য) collect (কুড়াতে) scraps (ভাঙারি)।

Old (পুরনো) bottles (বোতল), papers (কাগজ), pieces (টুকরো) of (এর) iron (লোহা) – whatever (যা কিছু) she (তিনি) could (পারতেন) find (পেতেন), she (তিনি) sold (বিক্রি করতেন) them (সেগুলো) to (জন্য) earn (উপার্জন করতে) a (একটি) living (জীবিকা)।


Rain (বৃষ্টি) or (অথবা) sun (রোদ), she (তিনি) never (কখনোই না) complained (অভিযোগ করতেন না)।

People (মানুষ) used (অভ্যস্ত ছিল) to (এইভাবে) see (দেখত) a (একটি) peaceful (শান্ত) smile (হাসি) on (উপর) her (তার) face (মুখে)।

If (যদি) someone (কেউ) asked (জিজ্ঞেস করত), she (তিনি) would (বলতেন) say (বলতেন):

"I (আমি) earn (উপার্জন করি) with (দিয়ে) honest (সত্‍) work (কাজ)।

I (আমি) do (করি) not (না) beg (ভিক্ষা করি না)।

This (এটাই) gives (দেয়) me (আমাকে) peace." (শান্তি)।


In (এই) the (টি) market (বাজারে), some (কিছু) shopkeepers (দোকানদার) knew (চিনত) her (তাকে)।

Someone (কেউ একজন) would (দিত) give (দিত) a (একটি) banana (কলা), another (আরেকজন) would (দিত) offer (দিত) tea (চা)।

But (কিন্তু) she (তিনি) never (কখনো) asked (চাইলেন না) for (জন্য) anything (কিছু) free (ফ্রিতে)।

She (তিনি) was (ছিলেন) proud (গর্বিত) of (এর জন্য) her (তার) honesty (সততা)।


Even (এমনকি) on (এই) cold (ঠাণ্ডা) nights (রাতে), if (যদি) she (তিনি) had (থাকত) only (শুধু) one (একটি) blanket (কম্বল),

she (তিনি) would (করতেন) share (ভাগ করে দিতেন) it (এটি) with (সঙ্গে) a (একটি) homeless (গৃহহীন) child (শিশু)।

She (তিনি) was (ছিলেন) poor (গরিব), but (কিন্তু) her (তার) heart (হৃদয়) was (ছিল) rich (সমৃদ্ধ)।


Today (আজ), people (মানুষ) still (এখনও) remember (মনে রাখে) Rawshan (রওশন) Dadi (দাদি) as (হিসেবে) a (একজন) symbol (প্রতীক) of (এর) dignity (মর্যাদা) and (এবং) kindness (দয়া)।


✅ Important Words:


১। Honest (অনেস্ট) - সৎ

২। Peace (পিস) - শান্তি

৩। Struggle (স্ট্রাগল) - সংগ্রাম

৪। Alone (এলোন) - একা

৫। Earn (আর্ন) - উপার্জন করা

৬। Scrap (স্ক্র্যাপ) - ভাঙারি জিনিস

৭। Blanket (ব্ল্যাঙ্কেট) - কম্বল

৮। Poor (পুওর) - গরিব

৯। Proud (প্রাউড) - গর্বিত

১০। Help (হেল্প) - সাহায্য করা

১১। Share (শেয়ার) - ভাগ করে দেওয়া

১২। Work (ওয়ার্ক) - কাজ

১৩। Smile (স্মাইল) - হাসি

১৪। Kindness (কাইন্ডনেস) - দয়া

১৫। Dignity (ডিগনিটি) - মর্যাদা


ভাল লাগলে শেয়ার ❤️করবে এবং পড়াশেষে Done ❤️ লিখতে ভুলবে না।


এই রকম ১০০ এর বেশি গল্পের PDF বই পেতে -ইনবক্সে যোগাযোগ করুন।🎯 মাত্র- ১২৯ টাকা।🎯

গুগল দিয়ে  আয় করার উপায় :,,,,,,,,,,,,

 গুগল দিয়ে  আয় করার উপায় :

1. AdSense দিয়ে আয়: তুমি যখন তোমার YouTube চ্যানেল অথবা ব্লগ চালাও, তখন Google AdSense এর মাধ্যমে বিজ্ঞাপন দেখিয়ে আয় করতে পারো।

2. YouTube Channel: নিজের চ্যানেল খুলো। ভালো Content তৈরি করো (যেমন: শিক্ষামূলক, ফান, টিউটোরিয়াল)। মনিটাইজেশনের জন্য ১ হাজার Subscribers এবং ৪ হাজার Watch Hour লাগবে।

3. Blogger/Blogspot: গুগলের ফ্রি ব্লগ সাইট ব্যবহার করে জানিয়ে কিছু লিখো (যেমন–ভ্রমণ, রেসিপি, শিক্ষা)। AdSense লাগিয়ে আয় হবে।

4. Google Play Console: নিজের অ্যাপ ডেভেলপ করে অথবা কাউসারদের অ্যাপ আপলোড করেই ইনকাম করতে পারো।

5. Google Opinion Rewards: এই অ্যাপে ছোট ছোট Survey দিয়ে মতামত দিলেই টাকা (Play Credit) পাও যায়।

6. Google Workspace Service: গুগলের প্রফেশনাল সার্ভিস (যেমন Docs, Sheets, Forms) ব্যবহার শিখে অন্যদের কাজ করে দিয়েও আয় হতে পারে।

7. SEO & Digital Marketing: Google Search Engine এর ব্যবহার শিখে SEO ও Digital Marketing এর কাজ শিখে Freelancing করতে পারো।

ডলার আয় করুন ঘরে বসেই: ১৫টি জনপ্রিয় রিমোট জব সাইট

.

বর্তমানে প্রযুক্তির অগ্রগতির ফলে ঘরে বসে কাজ করার সুযোগ বেড়েছে বহুগুণ। বিশ্বব্যাপী অনেক প্রতিষ্ঠান এখন রিমোট বা অনলাইনে কর্মীদের নিয়োগ দিচ্ছে। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো—এই কাজগুলো থেকে আপনি সরাসরি মার্কিন ডলারে আয় করতে পারেন। নিচে এমন ১৫টি নির্ভরযোগ্য ওয়েবসাইটের তালিকা দেওয়া হলো, যেগুলো আপনাকে রিমোট জব খুঁজে নিতে এবং ডলার আয়ের সুযোগ করে দেয়।

.

১. Freelancer (freelancer. com)

ফ্রিল্যান্সার ডট কম বিশ্বের সবচেয়ে বড় অনলাইন মার্কেটপ্লেসগুলোর একটি। এখানে আপনি বিভিন্ন প্রজেক্টে বিড করে কাজ করতে পারেন—যেমন: গ্রাফিক ডিজাইন, ওয়েব ডেভেলপমেন্ট, কনটেন্ট রাইটিং, ডাটা এন্ট্রি ইত্যাদি।

.

✅ পেমেন্ট: USD

✅ স্কিল লেভেল: বিগিনার থেকে এক্সপার্ট

.

২. Jobspresso (jobspresso. co)

.

Jobspresso হলো একটি রিমোট জব বোর্ড যেখানে বিভিন্ন টেক, মার্কেটিং, এবং কাস্টমার সাপোর্ট রিলেটেড চাকরির বিজ্ঞাপন পাওয়া যায়।

✅ পেমেন্ট: USD

✅ বিশেষত্ব: সম্পূর্ণ রিমোট জবগুলো

.

৩. Remote OK (remoteok. com)

.

এই সাইটটি ডেভেলপার, ডিজাইনার, কপি রাইটার এবং অন্যান্য রিমোট পজিশনের জন্য অনেক জনপ্রিয়।

✅ ফিচার: জব ফিল্টারিং অপশন

✅ পেমেন্ট: USD বা কোম্পানির নির্ধারিত কারেন্সি

.

৪. Remote4Me (remote4me. com)

.

প্রধানত টেকনোলজি ফোকাসড জব গুলো এখানে পাওয়া যায়। ডেভেলপারদের জন্য এটি একটি চমৎকার প্ল্যাটফর্ম।

✅ স্পেশালাইজেশন: টেক ও আইটি

✅ পেমেন্ট: USD

.

৫. SimplyHired (simplyhired. com)

.

এই সাইটে আপনি ফ্রিল্যান্স, পার্ট-টাইম ও ফুল-টাইম রিমোট কাজ খুঁজে পেতে পারেন। সাইটটি সারা বিশ্বের চাকরির তালিকা সংগ্রহ করে।

✅ ইন্ডাস্ট্রি: বহুমুখী

✅ পেমেন্ট: কোম্পানি নির্ধারিত মুদ্রায় (সাধারণত USD)

.

৬. Toptal (toptal. com)

Toptal মূলত উচ্চ-মানের ফ্রিল্যান্সারদের জন্য। এখানে কাজ পাওয়ার আগে আপনাকে একটি স্ক্রীনিং প্রসেসে উত্তীর্ণ হতে হয়।

✅ পেমেন্ট: উচ্চ রেট (USD)

✅ লেভেল: এক্সপার্ট

.

৭. AngelList (angel. co)

.

স্টার্টআপ কোম্পানিগুলোর জন্য অন্যতম জনপ্রিয় এই সাইটে আপনি রিমোট জব খুঁজে নিতে পারেন।

✅ সুবিধা: স্টার্টআপ পরিবেশ

✅ পেমেন্ট: Negotiable in USD

.

৮. NoDesk (nodesk. co)

.

এখানে কন্টেন্ট, কাস্টমার সার্ভিস, মার্কেটিং, এবং রিমোট টেকনোলজি জব লিস্টিং থাকে।

✅ ক্লিন UI

✅ পেমেন্ট: USD ভিত্তিক

.

৯. Upwork (upwork. com)

.

Upwork হলো সবচেয়ে জনপ্রিয় ফ্রিল্যান্স মার্কেটপ্লেসগুলোর একটি। এখানে আপনার প্রোফাইল তৈরি করে ক্লায়েন্টদের কাছে প্রপোজাল পাঠাতে পারেন।

✅ পেমেন্ট: USD (Direct to Bank / Payoneer / PayPal)

✅ বিগিনার ফ্রেন্ডলি

.

১০. LinkedIn (linkedin. com)

.

LinkedIn এখন শুধু নেটওয়ার্কিং নয়, জব খোঁজার অন্যতম বড় মাধ্যম। এখানে রিমোট ফিল্টার দিয়ে চাকরি খুঁজে নিতে পারেন।

✅ একাধিক কোম্পানির জব

✅ পেমেন্ট: USD বা কোম্পানির কারেন্সি

.

১১. Remote. co (remote. co)

.

Remote. co বিশেষভাবে রিমোট কাজের জন্যই বানানো হয়েছে। এখানে আপনি কাস্টমার সার্ভিস থেকে শুরু করে ডিজিটাল মার্কেটিং এর কাজ খুঁজে পেতে পারেন।

✅ ১০০% রিমোট কাজ

✅ পেমেন্ট: সাধারণত USD

.

১২. FlexJobs (flexjobs. com)

.

এই সাইটে স্ক্যাম বা ভুয়া জব ফিল্টার করে শুধুমাত্র যাচাইকৃত রিমোট জব পোস্ট করা হয়। তবে এটি পেইড সাবস্ক্রিপশন ভিত্তিক।

✅ ট্রাস্টেড জব

✅ পেমেন্ট: USD

✅ মেম্বারশিপ প্রয়োজন

.

১৩. Pangian (pangian. com)

.

Pangian মূলত গ্লোবাল রিমোট জব কানেক্টর। এখানে ফ্রিল্যান্স, পার্টটাইম এবং ফুলটাইম রিমোট কাজ খুঁজে নিতে পারবেন।

✅ পেমেন্ট: অধিকাংশ USD

✅ জব টাইপ: Remote & Flexible

.

১৪. Remotive (remotive. com)

.

এটি একটি রিমোট ওয়ার্ক কমিউনিটি এবং জব বোর্ড। এখানে প্রযুক্তি নির্ভর চাকরির চাহিদা বেশি।

✅ ফিচার: জব এলার্ট

✅ পেমেন্ট: USD

.

১৫. Remotees (remotees. com)

.

Remotees মূলত GitHub এবং অন্যান্য সোর্স থেকে রিমোট জব একত্র করে। টেক জবের জন্য ভালো একটি সাইট।

✅ সহজ ইন্টারফেস

✅ পেমেন্ট: কোম্পানির মুদ্রা, কিন্তু অধিকাংশ USD

.

ঘরে বসেই যদি আপনি ডলার ইনকাম করতে চান, তবে এই সাইটগুলো আপনার জন্য আদর্শ। শুরুতে নিজের দক্ষতাকে ঝালিয়ে নিন এবং একটি বা একাধিক সাইটে প্রোফাইল খুলে অ্যাকটিভ থাকুন।

লেখক :#Sarwar_jahan_Sujan

মঙ্গলবার, ১০ জুন, ২০২৫

 গল্প-“রুটির স্বাদ”p

 গল্প-“রুটির স্বাদ”p

সকাল সাড়ে সাতটা। আকাশটা আজ মেঘলা। খয়েরি রঙের ধুলা মিশে শহরের বাতাসটা আরও একটু ধূসর হয়ে আছে। মিরপুর ১০ নম্বর গোলচত্বরে Dutch-Bangla Bank-এর বুথের সামনে দাঁড়িয়ে আছে মোবারক হোসেন।

সিকিউরিটি গার্ড, বয়স পঁইত্রিশ ছুঁই ছুঁই। মাথায় নীল টুপি, হাতে লাঠি। চোখে ঘুম নেই। তবে চোখে আছে শুকনো অবসাদ।


মোবারক গত পাঁচ বছর ধরে এখানে চাকরি করছে। ঠিক এই বুথেই। প্রতিদিন একটা নির্দিষ্ট সময়ে আসে, একটা নির্দিষ্ট স্থানে দাঁড়িয়ে থাকে। অথচ এই সময়ের ভিতরেও তার শরীর বদলেছে। বদলেছে মনের ভিতরকার অনুভূতিও। এক সময় সে ছিল মিশুক, হাসিখুশি। এখন সে চুপচাপ।

সে কথা বলে না, প্রয়োজন না হলে কারো দিকে তাকায়ও না।


মুখ শুকিয়ে যায় প্রচণ্ড, গলা যেন আগুনে পুড়ে গেছে – এ রকম অনুভূতি নিয়ে সে দিনে অন্তত দশবার পানি খায়। এক একবারে পুরো বোতল শেষ করে ফেলে।

অথচ জ্বর নেই, ঠান্ডা নেই, তবুও তৃষ্ণা এত!


মোবারকের পরিবার গ্রামে। নেত্রকোনায়। একটা খুপরি ঘর, মা আর একমাত্র ছোট ভাই সুমন। সুমন স্কুলে পড়ে, ক্লাস নাইনে।

মোবারক অনেক আগেই বুঝেছে—এ শহর শুধু বেঁচে থাকার জন্য, ভালোবাসার জন্য নয়।


আজকে সকালবেলা খেয়েছে—একটা রুটি আর তিনটে খেজুর। ওর খুব প্রিয় খেজুর, শুকনো খাবার।

মোবারক দুধ খেতে পারে না। গন্ধেই গা গুলিয়ে ওঠে। বুথের পাশের চায়ের দোকান থেকে যতবার চা খেয়েছে, বলে দিয়েছে—"দুধ ছাড়া লাল চা দিও ভাই।"


আকাশ আরও ভারি হয়ে এসেছে। হালকা ঝিরঝির বৃষ্টি পড়ছে।

বৃষ্টির ফোঁটা পড়ে ব্যাংকের সামনে জমে থাকা ধুলার উপর। ঝাপসা হয়ে যাচ্ছে কাঁচ। কেউ একজন এসে বলে, “ভাই, বুথ খোলা?”

মোবারক মাথা নাড়ে। কথা বলে না। মুখে একটা পাতলা হাসি ফুটে ওঠে—যেটা ঠিক হাসি না, আবার দুঃখও না।


শরীরটা সকাল থেকে কেমন করছে। ঘাড়টা হালকা টান লাগা, মনে হচ্ছে পেছন থেকে কেউ টেনে ধরছে।

কিছুক্ষণ আগে চেয়ারটা একটু টেনে বসতে চেয়েছিল, ব্যাস! কোমরের ডানপাশে এমন ব্যথা উঠেছে—সে এখন আর নড়াচড়া করতে পারছে না।


মোবারকের ব্যথা শুধু তখনই বাড়ে, যখন সে নড়ে চড়ে। দাঁড়িয়ে থাকলে, শুয়ে থাকলে সহনীয়।

কিন্তু যদি মাথা ঘোরায়, হাত তুলতে যায়, বা চেয়ারটা সরিয়ে একটু হেলান দেয়—ব্যথা যেন ছুরি চালিয়ে দেয় শরীরে।


ব্যথার কথা সে কারো সাথে বলে না। বুথে এসে কাজ করে, পান খায়, গুনগুন করে গানের সুরে শব্দ করে। কেউ বোঝে না, ভিতরে সে কতটা কষ্টে আছে।

আর একটা সমস্যা আছে—কোষ্ঠকাঠিন্য।


সপ্তাহে দু’দিন মলত্যাগ করতে পারে না। খুব চাপ দিয়ে হলেও শক্ত মল নামে না সহজে।

ওষুধ কিনে খাওয়ার পয়সা কোথায়? দোকানে গিয়ে শুধু চায়ে বিস্কুট চুবিয়ে খেয়ে থাকে। মাঝে মাঝে হালকা গরম পানি খায়—এই যা।


বিকেলের দিকে বৃষ্টি থেমে যায়। আকাশটা স্বচ্ছ নীল হয়ে আসে। সাদা সাদা মেঘের ফালি ফালি ভেলা, গাছের পাতাগুলো বৃষ্টিতে ধুয়ে চকচক করছে।

মোবারক দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ভাবছে—গ্রামে এখন কেমন আবহাওয়া?


মা হয়তো পেছনের উঠোনে ধান শুকোচ্ছে। সুমন হয়তো বই নিয়ে বারান্দায় বসে আছে।

শহরের এই ধোঁয়াটে বিকেলে মোবারকের মনে হয়, কেউ যদি এসে বলে—“চলো বাড়ি যাই”, সে হয়তো এক মুহূর্তও দেরি করবে না।


কারণ, Bryonia-র মতো, মোবারক সবসময় “বাড়ি যেতে চায়”।

শহর, টাকা, বুথ, চাকরি—সব কেমন যান্ত্রিক লাগে তার কাছে। এক ফোঁটা সবুজ, এক টুকরো শান্তির জন্য মন ছটফট করে।


“ভাই, আপনি সব সময় এত চুপচাপ থাকেন কেন?” – এক নতুন ক্লায়েন্ট একদিন জিজ্ঞেস করল।

মোবারক তাকাল না। মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে থাকল।

সে জানে, নিজের যন্ত্রণার কথা কাউকে বললে কেউ বোঝে না।

বরং সে চুপ থাকলে — ব্যথাটাও চুপচাপ থাকে।


কিছুক্ষণ পর সে গেটের পাশে গিয়ে বসে। কাঁধটা একটু বাঁদিকে হেলিয়ে।

পকেট থেকে একটা পুরনো চেপ্টা রুটি বের করে খেতে থাকে। সাথে দুটো খেজুর।


মুখে পানি নেই, কিন্তু গলা শুকিয়ে কাঠ।

খাওয়ার মাঝেই একবারে আধা বোতল পানি শেষ করে দেয়।

ঠান্ডা পানি ছাড়া যেন প্রাণে শান্তি আসে না।


মাথা নিচু করে বসে আছে সে।

একটা চিল উড়ে যাচ্ছে আকাশে। রোদ এসে পড়েছে তার চোখে।


এমন সময় ফোনটা বেজে ওঠে। মা ফোন করেছে।

ওপাশ থেকে মা বলে,

– “কেমন আছো বাবা?”

– “ভালো।”

– “খেয়েছো?”

– “হ্যাঁ। খেজুর আর রুটি।”

– “বুকের ব্যথা কমেছে?”

– “একই আছে। চললেই বাড়ে।”

– “ওষুধ খাও না?”

– “টাকায় কুলায় মা?”


মা চুপ করে থাকে কিছুক্ষণ।

তারপর বলে, “এইবার ঈদের সময় বাড়ি চলে এসো। তোকে ছাড়া উঠোনটা কেমন ফাঁকা ফাঁকা লাগে।”


মোবারক ফোন কানে ধরে রাখে কিছুক্ষণ।

তারপর ধীরে ধীরে বলে,

“এইবারে আসব মা... হয়তো শেষবারের মতো।”


আকাশটা আবার মেঘে ঢেকে যায়।


**গল্পে ব্যবহৃত Bryonia লক্ষণ (Symptoms Covered):

লক্ষণ গল্পে কোথায় আছে


1. মুখ শুকিয়ে যায়, তৃষ্ণা অনেক বেশি বারবার পানি খায়, গলা শুকিয়ে কাঠ


2. শরীর নাড়াচাড়া করলে ব্যথা বেড়ে যায় চেয়ার টানতেই কোমরে ব্যথা উঠে, slightest motion aggravates


3. চুপচাপ একা থাকতে চায়-কারো সাথে কথা বলে না, শান্ত পরিবেশ চায়


4. কোষ্ঠকাঠিন্য, শক্ত মল-সপ্তাহে দু’দিন মলত্যাগ করতে পারে না


5. খেজুর, শুকনো খাবার, রুটি পছন্দ; দুধ অপছন্দ-সকালের খাবার খেজুর ও রুটি; দুধ ছাড়া চা খায়


6. Slightest motion aggravates মোবারক চেয়ার নাড়ালেই ব্যথা বাড়ে, স্থির থাকলে সহনীয়


⚠️ কপির জন্য নয়। 

অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা হলে রিপোর্ট করা হবে।


Dr. Md Nurul Afsar(D.H.M.S)

Support and stay with me

#homeopathy 

#homeopathytreatment 

#homeopathicmedicine

আপনি যদি ভাবেন পৃথিবীর সবচেয়ে ব্যস্ত জীবটা মানুষ—তাহলে আপনি এখনও উঁকুনকে বোধহয় গোনায় ধরেননি। হ্যাঁ, উঁকুন! সেই ক্ষুদ্র, মাথার চুলে লুকিয়ে থাকা এক প্রাণী, যার জীবন ছোট হলেও নাটকীয়তায় ভরপুর। আজ আমরা জানব তার জীবনচক্র, জন্ম থেকে পরিণত বয়স পর্যন্ত

 আপনি যদি ভাবেন পৃথিবীর সবচেয়ে ব্যস্ত জীবটা মানুষ—তাহলে আপনি এখনও উঁকুনকে বোধহয় গোনায় ধরেননি। হ্যাঁ, উঁকুন! সেই ক্ষুদ্র, মাথার চুলে লুকিয়ে থাকা এক প্রাণী, যার জীবন ছোট হলেও নাটকীয়তায় ভরপুর। আজ আমরা জানব তার জীবনচক্র, জন্ম থেকে পরিণত বয়স পর্যন্ত।


শুরুটা করছি উঁকুনের ডিম দিয়ে। তবে তার আগে লাগবে উঁকুন মা, যাকে আমরা মায়ের চেয়ে বেশি ‘চুলকানি রাণী’ বলতে পারি, চুলের গোড়ায় একটার পর একটা ডিম বসিয়ে দেন। বিজ্ঞানীরা একে বলেন “নিট” (nit)। আপনি বলতেই পারেন, "কি জ্বালা রে বাবা!" কিন্তু মা উঁকুনের জন্য এ এক গর্বের বিষয়। তিনি ভাবেন, “এই ডিমগুলো বড় হয়েই আমার রাজত্ব সামলে নেবে এরা।”


এই ডিম ফুটে বাচ্চা উঁকুন হতে সময় লাগে প্রায় ৭ থেকে ১০ দিন। তবে এটি আবহাওয়া, মাথার তাপমাত্রা, এবং চুলের জ্যামিতির উপর নির্ভর করে। গরম মাথা (মানে গরম আবহাওয়া) হলে দ্রুত ফোটে। ঠান্ডা মাথায় (মানে ঠান্ডা পরিবেশে) একটু সময় লাগে। অনেক নারীরা ভেজা মাথায় তোয়ালে মুড়িয়ে রাখেন তাদের মাথাতো উঁকুনের জন্য এক স্বর্গরাজ্য। একেতো ভ্যাপসা আবহাওয়া তার মধ্যে আবার স্নানের পানিতে মাথার ত্বকও নরম হয়ে থাকে। তাই কুটকুট করে র*ক্ত খেতে কি যে মজা লাগে!


ডিম ফুটে বের হবার সময় উঁকুন শিশুটি ভাবে, “ইয়াহু আমি আসছি পৃথিবী!” কিন্তু পৃথিবীটা আসলে একটা মাথা মাত্র। শিশুটি জানে না, সে এখন থেকে একটা চুলের জংগলে বাস করবে, যেটা মাঝে মাঝে শ্যাম্পু বৃষ্টিতে প্লাবিত হয়।


ডিম ফোটার পর উঁকুন হয়ে যায় "নিম্ফ"। অর্থাৎ প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার আগের কিশোর রূপ। আপনি যেমন ক্লাস ফাইভে উঠে ভাবেন, “আমি বড় হয়ে গেছি”—উঁকুন নিম্ফও তাই ভাবে। কিন্তু না, ওকে এখনো বড় হতে আরও তিন ধাপ পার করতে হবে।


নিম্ফ দশা সাধারণত ৭-১০ দিন ধরে চলে। এই সময়টায় ও প্রতিদিন খায় মানুষে মাথার স্ক্যাল্প থেকে টুকটুক করে রস চুষে খায়। শুনতে ভৌতিক মনে হলেও উঁকুনের কাছে এটা লোভনীয় খাবার। আপনি যে মাথা চুলকানিতে অস্থির হচ্ছেন, উঁকুন তখন নিজের “চায়নিজ বুফে” নিয়ে ব্যস্ত!


নিম্ফ তিনবার চামড়া পাল্টায়, যেন মোবাইল গেমের লেভেল আপ করছে। প্রতিবার একটা আপগ্রেড! আর শেষে এসে—ডিং ডিং ডিং! সে পরিণত উঁকুন।


একবার পূর্ণবয়স্ক হলে উঁকুনের জীবন অনেকটা বলিউড সিনেমার মতো। খুব অল্প সময়, কিন্তু পুরোটাই ড্রামাটিক। উঁকুনের গড় আয়ু ৩০ দিন। কিন্তু এই এক মাসে যা করে—অনেকেই করতে পারে না এক জীবনে।


একটি স্ত্রী উঁকুন দিনে প্রায় ৮-১০টি ডিম পাড়ে। গোটা জীবনে প্রায় ১০০টা ডিম! মানে, চুলের গোড়ায় সে যেন "চুলকানি হোস্টেল" চালু করে দেয়।


উঁকুনের ভালোবাসা জীবনও অসাধারণ। একবার জোড়া বাঁধলেই—“টাইট বন্ধন”, মাফ নেই! ওরা একসাথে ঘুরে বেড়ায়, খায়, বাচ্চা তৈরি করে, চুলকানি বাড়ায়—অর্থাৎ “সুখী পরিবার, উঁকুনের জীবনধারা।” মাঝে মাঝে এজন্যই নখের মাঝে জোড়া উঁকুন ধরা পড়ে।


উঁকুনের এই ছোট্ট জীবন অনেক উত্তেজনাপূর্ণ, ঠিকই। কিন্তু এই উত্তেজনায় হঠাৎই নেমে আসে দুঃসময়—যখন মাথায় পড়ে মেডিকেটেড শ্যাম্পু। তখন উঁকুন ভাবে, “ও মা! সুনামি!”

বৃষ্টির মতো পড়ে শ্যাম্পু, চুলের জঙ্গলে আসে কম্বিং বিপ্লব। একে একে মা*রা যায় ডিম, নিম্ফ আর পূর্ণ উঁকুন। কারও পেট ভরা ছিল র*ক্তে, কেউ আবার সদ্য প্রেমে পড়েছিল—সবই শেষ।


তবে কিছু উঁকুন “চুলের গুহায়” লুকিয়ে পড়ে, তারা চিরকাল “বেঁচে থাকার রাজনীতি” করে। এই গেরিলা উঁকুনদের জন্যই মাথায় আবার ফিরে আসে চুলকানি, এবং চুলকানির সঙ্গে ফিরে আসে আরও এক ব্যাচ “ডিমবাহিনী”। 🫡 

সংগ্রিহিত.....

পৃথিবী ছেড়ে মহাকাশে যেতে হলে রকেটকে ঘণ্টায় প্রায় ৪০ হাজার কিলোমিটার বেগে ছুটতে হয়। এত জোরে ছুটে যাওয়ার একটাই কারণ—মহাকর্ষ বল।

 পৃথিবী ছেড়ে মহাকাশে যেতে হলে রকেটকে ঘণ্টায় প্রায় ৪০ হাজার কিলোমিটার বেগে ছুটতে হয়। এত জোরে ছুটে যাওয়ার একটাই কারণ—মহাকর্ষ বল।


মহাকর্ষ এমন এক শক্তি, যা আমাদের মাটির দিকে টেনে ধরে রাখে। আমাদের হাঁটা-চলা, বসে থাকা, এমনকি দাঁড়িয়ে থাকার পেছনেও এই বলের অবদান আছে। ধরুন, আপনি একটা ফুটবলকে ওপরের দিকে কিক মারলেন। বলটা ওপরে গিয়ে কিন্তু আবার আপনার কাছেই, মানে মাটিতে ফিরে আসবে। বলটা আপনার টানে যে পৃথিবীতে ফিরে আসে, তা তো নয়! আসলে ওই বল ফিরে আসার কারণও সেই মহাকর্ষ বল। এই বল সব কিছুকে বস্তুর কেন্দ্রের দিকে টানে। আর বস্তুর ভরের ওপর নির্ভর করে মহাকর্ষ কত শক্তিশালী হবে। তাহলে, পৃথিবীতে সবকিছু ভূপৃষ্ঠে, অর্থাৎ মাটিতে ফিরে আসে কেন? কারণ, আমরা থাকি পৃথিবীর ওপরে, ভূপৃষ্ঠে। ওপরের দিকে একটা ফুটবলকে ছুড়ে দিলে সেটা তো আর মাটি (বা ভূপৃষ্ঠ) ফুঁড়ে পৃথিবীর কেন্দ্রে চলে যেতে পারে না! তাই সবকিছু ভূপৃষ্ঠে ফিরে আসে। একইভাবে আমরা লাফ দিলে আকাশে উড়ে না গিয়ে আবার ভূপৃষ্ঠে, মানে মাটিতে ফিরে আসি।


তবে চাইলে এই বলের হাত থেকেও মুক্তি পাওয়া যায়। মানে আপনার যদি সুপারম্যানের মতো শক্তি থাকত এবং আপনি ঘণ্টায় ৪০ হাজার কিলোমিটার বেগে ওপরের দিকে লাফ দিতে পারতেন, তাহলে আর ভূপৃষ্ঠে ফিরে আসতে হতো না। পৃথিবীর মহাকর্ষ বল কাটিয়ে চলে যেতেন মহাকাশে। একই কাজ করে রকেট। সহজ কথায়, পৃথিবী আপনাকে একটা বলে ভূপৃষ্ঠে আটকে রাখছে। আপনি যদি সেই বলের চেয়ে বেশি জোরে চলতে পারেন, তাহলে আর পৃথিবী আপনাকে আটকে রাখতে পারবে না। এ বলটাই হলো ঘণ্টায় ৪০ হাজার কিলোমিটার বা সেকেন্ডে ১১.২ কিলোমিটার। একে বলে মুক্তিবেগ। মানে পৃথিবীর মহাকর্ষ থেকে মুক্ত হওয়ার বেগ। কিন্তু প্রশ্ন হলো, রকেটকে কেন ঘণ্টায় ৪০ হাজার কিলোমিটার বেগে ছুটতে হয়?


রকেট কীভাবে এই টান কাটিয়ে মহাকাশে চলে যায়, তা বুঝতে হলে রকেটের চলাচল সম্পর্কে একটু জানতে হবে। একটা উদাহরণ দিলে বিষয়টা ভালোভাবে বোঝা যাবে। বেলুন ফুলিয়ে মুখ না বেঁধে কখনো আকাশে ছেড়েছেন? ফোলানো বেলুন এভাবে ছেড়ে দিলে ফুড়ুৎ করে সামনে চলে যায় অনেকটা। কেন বেলুন সামনে চলে যায়? কারণ, বেলুনের ভেতরে যে বাতাস ছিল, ওই বাতাস বেরিয়ে গেছে। বাতাস বেরিয়ে যাওয়া মানে ওই বাতাস বেলুনকে পেছন থেকে ধাক্কা দিয়ে সামনে পাঠিয়ে দেয়। তাই বেলুন ফুড়ুৎ করে সামনের দিকে চলে যায়। রকেটও ঠিক এই কাজটাই করে। রকেটে ‘বিশেষ ধরনের’ জ্বালানি পোড়ানো হয়। ফলে তৈরি হয় গরম গ্যাস। এই গ্যাস রকেটের পেছন দিয়ে বেরিয়ে গেলে রকেট সামনের দিকে ছুটে যায়।


‘বিশেষ ধরনের’ এই জ্বালানি কী? ইংরেজিতে বলা হয় ‘প্রোপেল্যান্ট’। জিনিসটা আসলে জ্বালানি এবং অক্সিডাইজার বা জারকের মিশ্রণ। জ্বালানি হিসেবে সাধারণত হাইড্রোজেন, মিথেন বা কেরোসিনের মতো দাহ্য পদার্থ ব্যবহৃত হয়। আর অক্সিডাইজার বা জারক হিসেবে ব্যবহৃত হয় তরল অক্সিজেন। এখানে একটা মজার কথা বলি। এই যে জারক হিসেবে তরল অক্সিজেন ব্যবহৃত হচ্ছে, এর কারণটা কিন্তু খুব সহজ। অক্সিজেন ছাড়া কোনোকিছু ‘পোড়ে’ না। অর্থাৎ ‘পোড়া’ মানেই অক্সিজেনের সঙ্গে বিক্রিয়া। চাইলে একটা বোতলের ভেতরে মোমবাতি জ্বালিয়ে মুখ বন্ধ করে দিয়ে দেখতে পারেন। দেখবেন, ভেতরের অক্সিজেন ফুরিয়ে গেলেই নিভে যাবে আগুন, অর্থাৎ মোমবাতি। যাহোক, প্রসঙ্গে ফিরি।


রকেটকে যখন মহাকাশে যেতে হয়, তখন প্রচুর শক্তি লাগে। সেই শক্তি অর্জন করতে প্রয়োজন প্রচুর প্রোপেল্যান্ট। কিন্তু সমস্যা হলো, রকেট যদি অত বেশি প্রোপেল্যান্ট বহন করে, তাহলে তার ওজন এত বেড়ে যায় যে সেটা আর উড়তেই পারে না। মানে আপনার পিঠে যদি ১০ কেজির বস্তা দিয়ে দৌড়াতে বলা হয়, তাহলে হয়তো কষ্ট করে হলেও পারবেন। কিন্তু ৫০০ কেজির বস্তা দিয়ে দৌড়াতে বললে তো উঠে দাঁড়াতেই পারবেন না! রকেটকে ঘণ্টায় ৪০ হাজার কিলোমিটার বেগ অর্জন করতে হলে যে পরিমাণ প্রোপেল্যান্ট পোড়াতে হবে, তা যদি রকেটের সঙ্গে দিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে মহাকাশে যাওয়া একটু কঠিনই হয়ে যাবে।


তাহলে উপায়? উপায় একটাই, রকেটের প্রোপেল্যান্ট কমানো। ভাবছেন, তাহলে রকেট উড়বে কীভাবে? সেই সমস্যার সমাধান বিজ্ঞানীরা করেছেন। রকেট সাধারণত সরাসরি মহাকাশে যায় না। আগে একটানা জোরে কিছুক্ষণ ছুটে এক পর্যায়ে এসে ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে যায়। মানে ততক্ষণে সঙ্গে নিয়ে যাওয়া প্রোপেল্যান্ট শেষ হয়ে যায়। কিন্তু শেষ হওয়ার আগে রকেটটা এমন জায়গায় পৌঁছে যায় যে সেটা আর পৃথিবীতে ফিরে আসে না—পৃথিবীর মহাকর্ষ বলের কঠিন বাঁধন পেরিয়ে যায়। এ জন্য বিজ্ঞানীরা রকেটকে একটু আড়াআড়ি ভাবে পাঠান, যাতে সেটা আর পৃথিবীতে ফিরে না আসে। এই কাজটা আধুনিক রকেটে করা হয় ধাপে ধাপে। একেবারে রকেটকে পুরো মুক্তিবেগে ছোটানোর বদলে ধাপে ধাপে গতিবেগ বাড়ানো হয়। এতে কাজটা অনেক সহজ হয়ে যায়।


বলে রাখি, সব রকেট কিন্তু পৃথিবী ছেড়ে চিরতরে মহাকাশে চলে যায় না। অনেক রকেট শুধু কক্ষপথেই থাকে। বর্তমানে হাজার হাজার স্যাটেলাইট বা কৃত্রিম উপগ্রহ পৃথিবীর চারপাশে ঘুরছে। সেগুলোর কারণে আমরা মোবাইলে কথা বলতে পারি, টিভি দেখতে পারি, আবহাওয়ার খবর জানতে পারি, এমনকি দোকানে কার্ড দিয়ে পেমেন্ট করতেও পারি। রাতে আকাশের দিকে তাকিয়ে অনেক সময় এসব স্যাটেলাইট দেখা যায়। এই যে রকেটগুলো কক্ষপথে থাকে, তাদের কিন্তু ঘণ্টায় ৪০ হাজার কিলোমিটার, অর্থাৎ সেকেন্ডে ১১.২ কিলোমিটার বেগে ছুটতে হয় না। সেকেন্ডে ৭.৯ কিলোমিটার বেগে ছুটলেই হয়। অর্থাৎ ঘণ্টায় প্রায় ২৯ হাজার কিলোমিটার বেগে ছুটলেই রকেট পৃথিবীর চারপাশে নির্দিষ্ট কক্ষপথে থাকতে পারে। এই বেগকে বলা হয় অরবিটাল ভেলোসিটি বা ন্যূনতম কক্ষীয় বেগ।


সাইকেলে জোরে প্যাডেল দিয়ে অনেকক্ষণ আর প্যাডেল না দিলেও সাইকেল চলতে থাকে। রকেটের ক্ষেত্রেও সহজে বোঝার জন্য ভাবতে পারেন, একবার জোরে ধাক্কা দিয়ে পৃথিবীর বাইরে যাওয়ার পর তা চলতে থাকবে।

কিন্তু শুধু নির্দিষ্ট কক্ষপথে গেলেই তো চলবে না। দূর মহাকাশেও তো যেতে হয় বিভিন্ন কাজে। সেখানেই কাজে আসে মুক্তিবেগ, ঘণ্টায় ৪০ হাজার কিলোমিটার। আর এ জন্য এখন আরও একটু আধুনিক একধরনের কৌশল ব্যবহার করা হয়। একে বলে স্টেজিং। মানে মূল রকেটের সঙ্গে আরও কিছু বাড়তি রকেট যোগ করে দেওয়া হয়। তাতে থাকে বাড়তি জ্বালানি। সেই বাড়তি রকেট দিয়ে ধাক্কা দেওয়ার পর, পৃথিবীর মহাকর্ষ পেরিয়ে যাওয়ার পর, তা মূল রকেট থেকে আলাদা হয়ে যায়। এতে মূল রকেট হালকা হয়ে যায় এবং বাকি পথ অল্প জ্বালানিতে চলতে পারে। এর কারণটা মজার। পৃথিবীর মহাকর্ষীয় সীমা পেরোলে রকেটকে তো খুব বেশি জোরে আর কেউ টানবে না। আবার মহাকাশে বাতাসের বাধাও নেই। তাই রকেট ইতিমধ্যে অর্জিত বেগে ছুটে চলতে পারে। এই কথাটা নিউটনের প্রথম সূত্রে আছে—বাইরে থেকে কোনো বলপ্রয়োগ না করলে (অর্থাৎ বাধা না দিলে) গতিশীল বস্তু সুষম বেগে ছুটতে থাকবে। এ কারণেই রকেট মহাকাশে ছুটে যেতে পারে বাড়তি জ্বালানি না পুড়িয়ে।


বিষয়টা এরকম—সাইকেলে জোরে প্যাডেল দিয়ে অনেকক্ষণ আর প্যাডেল না দিলেও সাইকেল চলতে থাকে। রকেটের ক্ষেত্রেও সহজে বোঝার জন্য ভাবতে পারেন, একবার জোরে ধাক্কা দিয়ে পৃথিবীর বাইরে যাওয়ার পর তা চলতে থাকবে। বোঝানোর জন্য বলা, যদিও উদাহরণটা পুরো এক নয়।


সব গ্রহের বেলায় এই মুক্তিবেগ কিন্তু ঘণ্টায় ৪০ হাজার কিলোমিটার হবে না। বৃহস্পতির মতো বড় গ্রহ থেকে বেরিয়ে যেতে চাইলে ঘণ্টায় আরও অনেক বেশি বেগে ছোটাতে হবে রকেট। যত বড় গ্রহ, তত বেশি মহাকর্ষ বল। আর মহাকর্ষ বল যত বেশি, রকেটকে তত জোরে ছুটতে হয়। বৃহস্পতি গ্রহ আমাদের সৌরজগতের সবচেয়ে বড় গ্রহ। এত বড় যে এক হাজারটা পৃথিবী একসঙ্গে এর মধ্যে ঢুকে যাবে। তাই সেখানে থেকে বেরিয়ে যেতে হলে রকেটকে ছুটতে হবে ঘণ্টায় প্রায় ২ লাখ ১৪ হাজার কিলোমিটার বেগে! এই বেগ পৃথিবীর তুলনায় পাঁচ গুণ বেশি।


SOURCE : দ্য কনভার্সেশন, নাসা, দ্য ন্যাশনাল অ্যাকাডেমিস প্রেস

অমুক মাছ কেটে দিনে দশ হাজার কামাচ্ছে" "লাউয়ের বাগান করে কোটিপতি"

 "অমুক মাছ কেটে দিনে দশ হাজার কামাচ্ছে"

"লাউয়ের বাগান করে কোটিপতি"

"চাকরি ছেড়ে গোবর আর কেঁচো নাড়াচাড়া"

এসব গল্প এখন অনেকেই শোনায়। 


তরুণদের জন্য, এই ফাঁদে পড়বেন না। একদম নিজের চোখে দেখা অভিজ্ঞতা। আমাদের বয়সী একজন, ওয়েল পেইড জব ছেড়ে এইসব কুইক ক্যাশের নেশায় পড়ে গেলো। এখন হাউমাউ করে ম*রছে। 


১। আপনি যা-ই করেন, সেটার এক্সপান্ডিবিলিটি থাকতে হবে। ধরুন, একজন রিকশাওয়ালা, সে ডিসেন্ট আয় করে, এন্ট্রি লেভেল চাকরিজীবীর চেয়ে বেশী। রিকশাওয়ালা ৩০ হাজার কামায় আর জবে নতুন হলে ১৫ হাজার বেতন - সবাই আপনাকে এটুকুই বলবে। 


এবার পরের হিসাবটা, ধরুন ওই রিকশাওয়ালা তার ইনকাম ডাবল করতে চায়, বা ইভেন বাড়াতে চায়। তার জন্য একমাত্র অপশন রিকশা চালানোর সময় বাড়িয়ে দেওয়া। ডাবল করতে চাইলে তাকে ১০ ঘন্টার জায়গায় ২০ ঘণ্টা রিকশা চালাতে হবে। এটা কী ফিজিকালি পসিবল? সাথে বৃষ্টি, রোদ, ছুটির দিনে কাজে না গেলে আয় নেই। 

বা যে মাছ কাটছে তাকে ডাবল মাছ কাটতে হবে।


কিন্তু এন্ট্রি লেভেলের জবে ৪/৫ বছরে বেতন ডাবল হয়ে যাওয়া খুবই স্বাভাবিক, কোনো অতিরিক্ত ঘন্টা না বাড়িয়েই। 


২। আপনি যে কাজটা করতে চান সেটা তো ভালো লাগতে হবে। ফেসবুকের এক লাইকখোরের লেখা পড়ে আপনি সিদ্ধান্ত নিলেন বাজারে বসে মাছ কাটবেন, চাকরীর ডাবল ইনকাম। ভেবে দেখুন, আগামী ত্রিশ বছর আপনি বটি ঘাড়ে করে মাছবাজারে গিয়ে নোংরা জলের মধ্যে বসে মাছ নাড়াচাড়া করতে রাজি আছেন কিনা। 


৩। লাইফস্টাইলের ব্যপার রয়েছে। আপনার যখন তেমন ইনকাম ছিলো না আপনি বাইক চালাতেন। সামনে টাকা হবে, গাড়ী কিনবেন। কিন্তু এসব কাজে তার কাজ কী? গাড়ী চালিয়ে কি আপনি ঝালমুড়ি বেচতে যাবেন? 


৪। চাকরিজীবি বা ডিসেন্ট লেভেলের উদ্যোক্তা হলে আপনি তার সাথে একটা লাইফস্টাইল আর নেটওয়ার্ক বাই ডিফল্ট পাবেন। এটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। ধরুণ, আপনি একটা স্টেশনারি কোম্পানির মার্কেটিংয়ে জব করেন। আপনি আজ এই ভার্সিটিতে, কাল ওই ঝকঝকে অফিসে বিটুবি ডিল করতে যাবেন। কত হাই স্কিল লোকের সাথে পরিচিতি হবে, কন্টাক্ট বিনিময় হবে। 


কিন্তু আপনি টাকা দেখে রাস্তায় ঝুড়ি নিয়ে দাড়ালেন। আপনার নেটওয়ার্ক হবে পাশের বাদামওয়ালা, গান গাওয়া ভিক্ষুক। ওই বাদামওয়ালার এই মুহুর্তের সবচেয়ে বড় চিন্তা সে কতক্ষণে সব বিক্রি করে ঘরে যাবে। আগামীকালও সে একই কাজ করবে। আপনার মত তার অ্যাম্বিশন নেই, বড় কিছু করার ইচ্ছে নেই, দেশ-মানুষের উপকারে আসার খায়েশ নেই। 


মনে রাখবেন, Your network is your net-worth


৫। আর এইসব পেশায় যে খুব বেশী ইনকাম হয় তাও কিন্তু না। শিরোনামে লেখা 'চাকরি ছেড়ে লাউ চাষে লাখপতি'। ভিতরে লিখেছে এক বছরে তার আয় তিন লাখ টাকা। মানে ওই লোক মাসে ২৫,০০০ টাকা কামায়, সেটা আবার নিউজ! 


তাই এইসব ভুয়া মোটিভেশনের ফাঁদে পড়বেন না। প্রতিবছর নিউজ মিডিয়াগুলো নিজেদের স্বার্থেই এরকম নিউজ করে। গত পাঁচ বছরে তো নিউজ কম দেখেন নি, আইফোন হাতে বাদামওয়ালা, ডিএসএলআর হাতে খিচুড়ি বিক্রেতা। প্রশ্ন হলো তারা এখন কোথায়? তারা এখনো কেন সেই রাস্তায় বসছে না আর ওরকম আয় করছে না? তাহলে এগুলো রিলায়েবল পেশা হয় কিভাবে? 


 কোন কাজই ছোট নয়। কিন্তু সব কাজই যে আপনার ফিল্ড, তা-ও নয়। 

আপনার কাছে খুব ভালো একটা প্লান আছে, কিন্তু পঞ্চাশ হাজার টাকার জন্য আপনি এগোতে পারছেন না। এখন আপনি যদি মাছ কুটে, বাদাম বেঁচে ওই পঞ্চাশ হাজার টাকা জোগাড় করে ফেলতে পারেন, তাহলে সেটা ঠিক আছে। কিন্তু যেভাবে এসব পেশাকে সরাসরি একটা ওয়েল পেইড জবের বিকল্প হিসেবে দেখানো হচ্ছে, তা মোটেও রিয়েলিস্টিক নয়।


✅পোস্টটা ক পি করা।কিন্তু খুবই গুরুত্বপূর্ণ মনে হয় আমার কাছে তাই শেয়ার করা ।।।চাকরি কিংবা ব্যবসা এটা কোনো বিষয় নয়। আপনার কোনটা ভাল লাগে কোনটা করলে আপনি সামাল দিতে পারবেন কিংবা সামাজিকতা রক্ষা করতে পারেন তা নিয়ে ভাবুন। কাজ করুন।টাকা আয় করুন।


#আয় #কাজ

গল্প_বেহালার_সুর #পর্ব- ১ লেখিকা:শারমিন আঁচল নিপা

 আমার স্বামীর দ্বিতীয় স্ত্রী আমি। একটা দূর্ঘটনার  কবলে পরে আমার স্বামী আমাকে বিয়ে করে। আমার স্বামী একজন বড়ো ব্যবসায়ী। ব্যবসায়ের কাজেই গিয়েছিল আমাদের গ্রামে। আমার ছোটোখাটো পরিবার। আমার বাবা একজন ইমানদার মানুষ। মসজিদের ইমাম। মা মারা যায় ছোটোবেলায়।  এরপর আর বাবা আমার দিকে তাকিয়ে বিয়ে করেনি৷ আমি পড়াশোনায় ভালো ছিলাম। নিজের পুরো সময়টা পড়ায় মন দেওয়ার চেষ্টা করতাম। আমার জীবনটাও বেশ রঙিন কাটছিল। টাকা ছিল না তবে সুখের কমতি ছিল না। শান্তির কমতি ছিল। বড়ো কোনো আশা ছিল না। তবে বাবার জন্য কিছু একটা করার ইচ্ছা সবসময় ছিল৷ 


আমার স্বামীর নাম আরাব চৌধুরি বয়স ৪৩ বছর। তিনি যখন আমাদের গ্রামে আসেন তখন আমার বয়স ছিল সতেরো বছর। আমাদের গ্রামে বিশাল বড়ো বাঙলো উনার। উনি  যতবারেই গ্রামে আসতেন আমার বাবা খাবার দিয়ে আসতেন। এতে অবশ্য তিনি আমার বাবাকে টাকা দিতেন। যে কয়বার উনি গ্রামে এসেছেন সে কয়বার আমি উনাকে কখনও মুখোমুখি দেখিনি।যেদিন আমার সাথে তার মুখোমুখি দেখা হয় সেদিনেই উনার সাথে আমার বিয়ে হয়। 


ঘটনা আরও তিনমাস আগের। উনি গ্রামে এসেছিলেন ব্যবসায়ের কাজে। বরাবরেই গ্রামে আসলে রান্নার ভারটা আমার উপরেই পড়ে। যেদিন দেখি বাড়িতে অনেক ভালোমন্দ রান্না হচ্ছে সেদিন বুঝতে পারি উনি এসেছেন। শেষবার যখন উনি এসেছিলেন সেদিন রান্না করে বাবাকে ডাকতে গিয়ে দেখি তিনি শুয়ে আছেন।  অবেলায় শুয়ে থাকতে দেখে বাবার কাছে গিয়ে লক্ষ্য করলাম বাবা ভীষণ জ্বরে  কাঁতরাচ্ছে। আমার উপস্থিতি টের পেয়ে বাবা আমাকে বললেন


"আয়েশা মা, তুমি খাবারটা চৌধুরি সাহেবের জন্য নিয়ে যাও। আজকে আমার শরীর ভীষণ খারাপ লাগছে। বাইরেও বৃষ্টি। গতরে একদম শক্তি নেই যে উঠে খাবার নিয়ে যাব।"


বাবার শারিরীক কষ্ট বুঝতে পেরে আমিই এ বাদল বৃষ্টি ভেদ করে কচু পাতা মাথায় দিয়ে উনার বাড়িতে যাই। বেলা তখন দুপুর দুটো। আমি যেতেই আরাব চৌধুরি আমার দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস  করলেন


"কী চাই? এখানে কেন এসেছো?"


আমি কিছুটা ভয়ে কাঁপতে কাঁপতে উত্তর দিলাম


"আপনার জন্য খাবার নিয়ে এসেছি। বাবা ভীষণ অসুস্থ । তাই আসতে পারে নি।"


সেদিন এতটাই ভয়ার্ত ছিলাম যে উনার মুখের দিকে তাকিয়ে কথা বলার সাহস পাচ্ছিলাম না। শরীরটাও থরোথরো করে কাঁপছিল। আমাকে কাঁপতে দেখে তিনি হালকায় গলায় জিজ্ঞেস  করলেন


"কাঁপছো কেন? সামনে তো বাঘ ভাল্লুক বসে নেই। খাবার কী সবসময় তুমি রান্না করো?"


আমার ভয়ার্ত গলায় উত্তর আসলো


"জ্বি স্যার আমিই রান্না করি।"


তিনি বেশ স্বাভাবিক  গলায় আমাকে বললেন


"খাবারটা টেবিলের উপর রেখে চলে যাও। আর রাতে রান্নার প্যারা নিতে হবে না। রাতে আমি খাব না।"


"জ্বি স্যার"


আমি খাবারটা রেখে বাড়ি থেকে বের হলাম।  কথোপকথনের সময় একটাবারও আমার উনার চোখের দিকে তাকনোর সাহস হলো না। এমনকি দেখতে কেমন সেটাও আমি বলতে পারব না। আমি বাড়ির গেইটের সামনে আসতেই চারপাশ অন্ধকারে মেঘের গর্জন দিয়ে ছেয়ে যাচ্ছিল। ভয়ে আমি জড়োসড়ো হয়ে গেইটের কোণে দাঁড়িয়ে আছি। আকাশের দিকে তাকিয়ে লক্ষ্য করলাম চারপাশে মেঘেরা খেলা করছে।  যখনই বাড়ি যাবার জন্য পা বাড়ালাম তখনই বৃষ্টির ঢল আকাশ থেকে নামতে শুরু করলো। 


আমি তাড়াহুড়ো করে গেইট থেকে বের হয়ে রাস্তায় আসলাম। পুরো শরীর বৃষ্টির পানিতে ভিজে গেছে। আমি বের হতেই পাড়ার মহসীনের সাথে আমার দেখা। মহসীন এ পাড়ার সবচেয়ে ইতর লোক। বাবার কাছ থেকে কয়েকটা টাকা ধার পায় সে।।সে ধারের টাকা বাবার পরিশোধ করতে বিলম্ব হচ্ছে বলে আমাকে বিয়ে করার প্রস্তাব দেয় বাবাকে। বাবা অবশ্য এতে একদম নারাজ। কারণ একজন বাবা তো জেনে শুনে একটা লম্পটের সাথে নিজের মেয়েকে তুলে দিতে পারে না। তাই সবসময় সুযোগ খুঁজে আমার ক্ষতি করার। 


 আমাকে ভেজা অবস্থায় দেখে তার লালসার চোখ আমার উপর পড়ল। আমার হাতটা ধরে নোংরা ভাষায় বলতে লাগল


"কী রে মা**গি আমারে বিয়ে করতে পারিস না। অথচ ভেজা শরীর নিয়ে বুইড়া বেডার সাথে শুইতে আসছিস। চরিত্রহীন মেয়ে। খালি বাড়ি থেকে এমনে বের হইছস। বুঝি না কী করে আইছস। তোরে আজকে হয় আমার সাথে বিয়ে দিবে নাহয় তোর নামে কলঙ্ক রটাব।"


মহসীন এ কথাগুলো বলেই আমাকে টানতে টানতে বাড়ির দিকে নিয়ে যাচ্ছে আর লোক জড়ো করছিল।।সব লোক সমাগম আমার বাড়ির সামনে।  সবার হৈ হুল্লোরে বাবা জ্বর শরীর নিয়ে বের হলো। মহসীন বাবাকে দেখেই বলে উঠল


"মাইয়া বিয়ে দিতে সমস্যা। ভাড়া খাটাইতে সমস্যা নাই? তাই না? বুইড়া বেডার কাছে মাইয়া পাঠায়ছেন খুশি করে টাকা আনার জন্য। "


এরপর গ্রামের কিছু মানুষকে উদ্দেশ্য করে বলল


"এই আয়েশার বাপ একটা ভন্ড হুজুর। নিজে ইমামতি করে মাইয়ারে ভাড়া খাটায়। এ বাদলা দিনে এ মাইয়া বাঙলো থেকে বের হয়ছে। বাঙলোতে একা শুধু আরাব চৌধুরি থাকে এটা সবার জানা। ভেজা শরীর নিয়ে লুকিয়ে বের হতে গিয়েই আমার হাতে ধরা পড়ছে।।এটা তো সমাজের জন্য ক্ষতি। এই নষ্টা মেয়ের জন্য আর ভন্ড হুজুরের জন্য তো সমাজ নষ্ট হইব। যদিও মাইয়া খারাপ। তবুও এতদিন আয়েশার বাপ আমাদের নামাজ পড়ায়ছে সে সুবাদে একটা সুযোগ দেওয়া যায়। আমি চাই আয়েশারে বিয়ে করতে। এত দূর্নাম জেনেও বিয়ে করতে চাই কারণ মাইয়ার মা নাই। অসহায় মাইয়া বিয়ে করলে সওয়াব আছে। আর বিয়ের পর ঠিকমতো টাইট দিলে চরিত্রও ঠিক হয়ে যাইব। এহন আপনারা যা সিদ্ধান্ত  নেন।"


গ্রামবাসী সবাই মহসীনের কথায় তাল মিলিয়ে বাবাকে ছিঃ ছিঃ করতে লাগল। বাবার চোখ বেয়ে কান্না জড়ছে। ছোটো একটা বিষয় এত বড়ো হয়ে যাবে কে জানত। কান্না গলায় বাবা বলল


"দরকার হয় সমাজ ছাইড়া চইলা যামু। তবুও আমার মেয়েরে এ লম্পটের হাতে তুলে দিমু না। চৌধুরি সাহেব অনেক ভালো মানুষ। আমি উনাকে কাছ থেকে চিনি।  সে ভরসায় নিজের শরীর খারাপ ছিল তাই আয়েশাকে দিয়ে খাবার পাঠায়ছি।।আমার মেয়ে নষ্টা না। একটা লম্পট ছেলের কথায় আমার মেয়েকে দয়াকরে এ অপবাদ দিবেন না। "


মহসীনকে লম্পট বলায় মহসীন রেগে আমার বাবার কাছে তেড়ে গিয়ে  বাবার গালে থাপ্পড় কষিয়ে দিয়ে বলল


"নষ্টা মেয়ে জন্ম দিয়ে নষ্টামি করে আমাকে লম্পট বলা।"


গ্রামবাসীও বাবাকে মারার জন্য তেড়ে আসতে লাগল।।সত্যি বলতে সেখানে যারা উপস্থিত ছিল সবাই মহসীনের কথায় উঠছিল বসছিল। আমি বুঝতে পারছিলাম তাদের মহসীন আগেই টাকা দিয়ে কিনে এ নাটক সাজিয়ে ফেলেছে। সুযোগের অপেক্ষায় থাকা মহসীন হুট করে সুযোগ পেয়ে আজকে ঝোপ বুঝে কোপ মারল। গ্রামবাসীকে এভাবে তেড়ে আসতে দেখে বাবা ভীষণ ভেঙে পড়ে। দাঁড়ানো থেকে মাথায় হাত দিয়ে বসে পড়ে।


আমি গ্রামবাসীকে চিৎকার করে বুঝানোর চেষ্টা করেও পারছিলাম না। পাশের বাড়ির মালতি চাচী আমার চুল ধরে বলতে লাগল


"নষ্টা একটা। তোর জন্য তো আমাদের মেয়েরা নষ্ট হবে। মহসীন যে তোকে বিয়ে করতে চায়ছে শুকরিয়া করে বিয়ে কর। নাহয় বাপ বেটিকে চুল ন্যাড়া করে গ্রাম ছাড়া করব।"


পরিস্থিতি খারাপের দিকে মোড় নিল। বাবা বসে আর কোনো কথা বলতে পারছিল না। আমি নিজেও মাটিতে বসে চিৎকার করে কাঁদতে লাগলাম। 


হুট করেই একটা কণ্ঠ সব কিছু নিস্তব করে দিল। পেছন থেকে আরাব চৌধুরি বজ্র কণ্ঠে বলে উঠলেন


"সমস্যা আমাকে নিয়ে। মেয়েটা আমার বিছানায় গিয়েছে তাহলে মহসীন কেন বিয়ে করবে? এত উদার মানুষ হলে তো সমস্যা।  সমস্যা যেহেতু আমাকে নিয়ে এ মেয়েকে বিয়ে আমিই করব। মেয়ের বাবা একজন সম্মানিত লোক। তার পেছনে আপনারা নামাজ পড়েন। সে মানুষটাকেই আপনারা অসম্মান করছেন। বিবেক কী বিকিয়ে দিয়েছেন? আয়েশার বাবাকে সবাই চিনেন কতটা সৎ তিনি। তারপরও আপনারা যা নয় তা বলছেন। আর মেয়ের দোষের শাস্তি বাবাকে কেন দিচ্ছেন? দোষ যেহেতু মেয়ে করেছে আর আমি এতে জড়িত৷ আয়েশাকে বিয়ে আমিই করব। "


আরাব চৌধুরির কথা শুনে সবার মুখ বন্ধ হয়ে গেলেও মহসীন বলে উঠল


"এসব মুখে বলায় সম্ভব। বিয়ে করলে এখন এ মুহুর্তে  করেন। আমি কাজী ডাকি। বড়োলোকের মুখের কথার দাম নাই।"


আরাব চৌধুরী মহসীনের কলার ধরে বলে উঠল


"যাকে ডাকার ডাক। আমি এ মুহুর্তে আয়েশাকে বিয়ে করব৷ আমি এক কথার মানুষ। আমার জবান শক্ত।"


এরপর গ্রামবাসীর তোপে পড়ে আমার বিয়েটা হলো। কীভাবে সবটা পাল্টে গেল নিজেও বুঝলাম না। বাবা সেই যে মাথায় হাত দিয়ে মাটিতে বসেছিল আর কথা বলেনি। বিয়ের পরদিন বাবা কষ্ট সহ্য করতে না পেরে হার্ট এটাক করে মারা যায়। সবার অপমান এতসব কথা, নিজের মেয়ের এমন করে বিয়ে এসব বাবা সইতে পারেনি। বাবার মৃত্যুটা আমাকে একদম হতাশ করে দেয়। এ গ্রাম গ্রামের মানুষ আমার কাছে বিষের মতো লাগতে শুরু করে। আমি বাবার কবরের মাটি হাতে নিয়ে শুধু বলেছিলাম তোমার এ অপমানের প্রতিদান যেন প্রতিটা মানুষকে আল্লাহ দেয়। বাবা আমি চেষ্টা করব মাথা উঁচু হয়ে বাঁচতে। যত কষ্ট হোক যত সমস্যা হোক, আমার মাথা নোয়াব না। সবসময় নিজের আত্মসম্মান বাজায় রেখে উঁচু হয়ে বাঁচব।


বাবাকে করব দেওয়ার পরদিন আমি ঢাকায় আসি।  এর মধ্যে আমার স্বামীর সাথে আমার কোনো কথায় হয়নি। ঢাকায় আসার পর জানতে পারি আমি তার দ্বিতীয় স্ত্রী আর সেখান থেকে আমার জীবনের গল্পের নতুন মোড় নিল।


গল্প_বেহালার_সুর

#পর্ব- ১

লেখিকা:শারমিন আঁচল নিপা


নেক্সট পার্ট গুলো সবার আগে নতুন পেজে দেয়া হবে নীল লেখায় চাপ দিয়ে নতুন পেজে ফলো করুন 👉 কাব্য-𝐄𝐱𝐭𝐫𝐚

বিপদ-আপদ বলে কয়ে আসে না! কোনো কারণে যদি আপনার বাচ্চা বিপদে পড়ে বা তাকে হঠাৎ করেই একা পথ চলতে হয়, তখন সে কি করবে

 বিপদ-আপদ বলে কয়ে আসে না! কোনো কারণে যদি আপনার বাচ্চা বিপদে পড়ে বা তাকে হঠাৎ করেই একা পথ চলতে হয়, তখন সে কি করবে? তাই খুব বেশি দেরি হওয়ার আগেই তাকে শিখিয়ে রাখুন কিছু জীবনদক্ষতা। শিশুকে এখন থেকেই ট্রেনিং দিন জীবনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার জন্য।


এই দক্ষতাগুলো তার জীবনকে যেমন সহজ করবে, তেমনি আপনাকেও করবে নিশ্চিন্ত। এগুলো সাধারণত প্রথাগত কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দেওয়া হয় না। তাই শিশুর জীবনমুখী শিক্ষার শিক্ষক হয়ে উঠতে হবে বাবা মাকেই।


আত্মরক্ষার প্রথম পাঠ:

আত্মরক্ষার কৌশল শেখানোর আগে শিশুকে আত্মবিশ্বাসী করে গড়ে তুলতে হবে। শিশুকে জানাতে হবে, কোনো পরিস্থিতিতেই মনোবল হারানো চলবে না, নিজের প্রতি বিশ্বাস হারানো যাবে না। শারীরিকভাবেও সুস্থ থাকা এবং দৌড়ঝাঁপের অভ্যাস জরুরি। আত্মরক্ষার প্রাথমিক পাঠ হলো কোথায় আঘাত করতে হবে, সেটা জানা। শিশুর জন্য সহজ হলো আক্রমণকারীর হাঁটুতে আঘাত করে দৌড়ে পালিয়ে যাওয়া। এ ছাড়া আক্রমণকারীর ঘাড়, চোখ, কান ও নাকও সহজ লক্ষ্যবস্তু হতে পারে; যেখানে আঘাত করলে সহজেই কিছু সময়ের জন্য হামলাকারীকে বিভ্রান্ত করা যায় ও ব্যস্ত রাখা যায়।


মানচিত্র শেখানো এবং দিক চেনানো:

এটা বেশ ছোট বয়স থেকেই শেখানো যায়। শিশুর হাতে একটি গ্লোব দিয়ে দিন এবং ঘরের দেয়ালে টানিয়ে দিন নিজের দেশের বড় একটি মানচিত্র। শিশু নিজেই অনেক কিছু শিখে যাবে। ছুটির দিনে বা সময় পেলে তাকে নিয়ে বসে দিক চেনান, বাড়ির আশপাশের এলাকাগুলো চিনিয়ে রাখুন। এতে কোনো দিন পথ হারালে বা ভুল করেও যদি কখনো বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায়, তাহলে সে নিজেই বাড়ি চিনে ফিরে আসতে পারবে।


বাড়ির ঠিকানা ও টেলিফোন নম্বর শেখানো:

যখনই শিশু কথা বলতে শিখবে, তাকে বাড়ির ঠিকানা ও মা বাবার ফোন নম্বর শিখিয়ে ফেলুন। যেন কখনো বিপদে পড়লে সে মা বাবার নাম, ঠিকানা বা টেলিফোন নম্বর বলতে পারে।


বিপদের বন্ধু চেনান:

শিশুকে চেনান বিপদে কে বন্ধু হতে পারে। পুলিশ ও সেনাবাহিনীর পোশাক চেনান। কখনো ভিড়ের মধ্যে আপনাকে খুঁজে না পেলে যেন সে পোশাক দেখে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের কাছে যেতে পারে এবং তাকে বিপদের কথা বুঝিয়ে বলতে পারে।


"না" বলতে শেখান:

আপনার শিশুকে "না" বলতে শেখান। যেন মনের বিরুদ্ধে গিয়ে কেবল সমাজের চাপে তাকে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে না হয়। ছোটবেলা থেকেই এই অভ্যাস গড়ে তুললে বড় হয়েও সে স্বাধীনভাবে নিজের সিদ্ধান্ত নিতে পারবে। মেয়ে শিশুকে আলাদাভাবে নিজেকে রক্ষা করার কৌশল রপ্ত করান। সে যেন অপরিচিত পুরুষের সাথে একা কোথাও না যায় বা হুট করে কাউকে বিশ্বাস করে না  ফেলে এই শিক্ষা তাকে দিন।


প্রাথমিক চিকিৎসা:

খেলতে গিয়ে কেটে-ছিঁড়ে গেলে কিংবা বন্ধুর হাত-পা কেটে গেলে শিশু যেন আতঙ্কিত না হয়ে প্রাথমিক চিকিৎসাটুকু দিতে পারে, তাকে সে জ্ঞান দিন। স্যাভলন বা অ্যান্টিসেপটিক দিয়ে ক্ষতস্থান পরিষ্কার, ব্যান্ডেজ বাঁধার মতো সহজ কাজগুলো শিখিয়ে দিন। ঠিক কতটুকু কেটে গেলে দ্রুত বড়দের সাহায্য নিতে হবে, তাও বুঝিয়ে বলুন।


অর্থ ব্যবস্থাপনা:

শিশুকে অর্থের মূল্য শেখান। তার হাতখরচ যেন সে কোনো ভালো কাজে ব্যয় করতে পারে, সেটা শেখান। অযথা খেলনা বা খাবারে অর্থ খরচ না করে কীভাবে অর্থের সর্বোত্তম ব্যবহার করা যায়, টাকা জমিয়ে শখের জিনিস বা প্রয়োজনীয় জিনিস কেনা যায়, সে শিক্ষা তাকে দিন।


রান্নাঘরের ছোটখাটো কাজ:

আজকাল বাজারে শিশুদের ব্যবহারের জন্য প্লাস্টিকের ছুরি পাওয়া যায়। সেসব ব্যবহার করে টুকটাক সবজি কাটা, খাবার বানানো, সাত বছর বয়সের পর গ্যাসের চুলার ব্যবহার শেখান। কোনো দিন মা–বাবা বাড়িতে না থাকলে সে যেন ফ্রিজ থেকে খাবার বের করে গরম করে খেতে পারে বা নিজেই বড় পাত্র থেকে ছোট পাত্রে খাবার নিয়ে খেতে পারে, সেটুকু তাকে শিখিয়ে দিন। তাছাড়া বাড়িতে যখন আপনারা রান্না করবেন, তাকে সহায়তা করতে উৎসাহ দিন। ছোটখাটো কাজ, যেমন পেঁয়াজ-রসুনের খোসা ছাড়ানো, ফ্রিজ থেকে সবজি বের করে আনা, সিংক থেকে প্লেট চামচ নিয়ে যথাস্থানে রাখা, খাবার টেবিলে প্রত্যেকের গ্লাসে পানি ঢেলে দেওয়ার মতো কাজের দায়িত্ব শিশুকে দিন।


এভাবে ছোটখাটো কাজের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিলে আপনার শিশু যেমন আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠবে, তেমনি ভবিষ্যৎ জীবনের জন্যও তৈরি হতে শুরু করবে। বাড়ি থেকে কখনো দূরে পড়তে গেলে বা নতুন পরিবেশে গেলে খুব সহজেই সে মানিয়ে নিতে পারবে, নিজের যত্নও নিতে পারবে ঠিকভাবে। সবচেয়ে বড় কথা, তাকে নিয়ে আপনাকে আর দুশ্চিন্তা করতে হবে না।

অপরাজিতা ফুল (Clitoria ternatea) একটি বহুবর্ষজীবী লতা জাতীয় গাছের ফুল, যা তার সৌন্দর্য, ঔষধি গুণ, ও নীল বর্ণের জন্য

 অপরাজিতা ফুল (Clitoria ternatea) একটি বহুবর্ষজীবী লতা জাতীয় গাছের ফুল, যা তার সৌন্দর্য, ঔষধি গুণ, ও নীল বর্ণের জন্য বিশেষভাবে পরিচিত। নিচে অপরাজিতা ফুলের কিছু গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য তুলে ধরা হলো:


🌸 সাধারণ বৈশিষ্ট্য ও ওষধি গুন নিচে দেওয়া হলো👇


বৈজ্ঞানিক নাম: Clitoria ternatea


গোত্র: Fabaceae (ডাল জাতীয় গাছের গোত্র)


স্থানীয় নাম: অপরাজিতা, বাটকমলতা, অশ্বত্থ, শঙ্খপুষ্পী (ভাষাভেদে ভিন্ন)


আদি উৎপত্তিস্থান: দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া


🌿 গাছের বৈশিষ্ট্য:


একটি নরম কাণ্ডযুক্ত, সরু, বহুবর্ষজীবী লতা।

পাতাগুলো যৌগিক (compound) ধরনের, অর্থাৎ একটি পাতা অনেকগুলো ছোট পাতার সমন্বয়ে গঠিত।


সাধারণত মাচা বা বেড়ার সাহায্যে ছড়িয়ে পড়ে।


🌼 ফুলের বৈশিষ্ট্য:

রঙ: সাধারণত গাঢ় নীল, তবে সাদা, হালকা নীল ও বেগুনি রঙের জাতও দেখা যায়।


আকৃতি: 

প্রজাপতির মতো দেখতে, একটি বড় পাপড়ি এবং তার মাঝে হালকা হলুদ বা সাদা দাগ থাকে।


গন্ধ: হালকা বা প্রায় গন্ধহীন


বিকাশ সময়: গ্রীষ্ম ও বর্ষায় বেশি ফুল ফোটে


🌱 ঔষধি গুণাগুণ:

আয়ুর্বেদ ও ইউনানী চিকিৎসায় অপরাজিতা বহুল ব্যবহৃত:


স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি করে (ব্রাহ্মী ও শঙ্খপুষ্পীর মত ব্যবহার)


দুশ্চিন্তা ও উদ্বেগ কমাতে সাহায্য করে

প্রদাহনাশক, জীবাণুনাশক ও মস্তিষ্ক উত্তেজক হিসেবে কাজ করে

গায়ের দাগ দূর করতে ও চুলের যত্নে ব্যবহৃত হয়


🍵 ব্যবহার:


অপরাজিতা ফুল দিয়ে “বাটারফ্লাই পি টি (Butterfly Pea Tea)” বানানো হয়, যা একটি জনপ্রিয় ভেষজ চা।


লেবু দিলে চায়ের রং নীল থেকে বেগুনি হয়ে যায় — এটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ।


🌍 পরিবেশগত উপকারিতা:


মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি করে (ডাল জাতীয় গাছ হওয়ায় নাইট্রোজেন ফিক্সেশন করে)


সহজে বেড়ে ওঠে, কীটপতঙ্গ তেমন আক্রমণ করে না


অপরাজিতা ফুল শুধুমাত্র তার সৌন্দর্যের জন্য নয়, বরং তার ঔষধি গুণ, পরিবেশবান্ধব বৈশিষ্ট্য এবং চা বা প্রসাধনীতে ব্যবহারের জন্যও অত্যন্ত জনপ্রিয়। 


প্রতিষ্টাতা ও পরিচালক 

হেকিমি দাওয়াখানা 

রবিউল করিম রুবেল

কতটুকু জমি দরকার,,,,?

 কতটুকু জমি দরকার,,,,?

গল্পটি রাশিয়ার এক লোভী লোক পাহমকে নিয়ে। যার জমি কেনার দিকে ঝোঁক বেশি। কারো কাছে জমির কথা শুনলেই তার চোখ চকচক করে উঠে। কম দামে জমি বিক্রি হলে তিনি তা কিনতে মরিয়া হয়ে পড়েন। জমির জন্য ছুটে যান এখানে সেখানে। সস্তায় যেখানে জমি পাওয়া যায় সেখানেই গিয়ে পরিবারসহ হাজির হন পাহম। জীবনযাপন শুরু করেন।


এভাবে এক এলাকা থেকে আরেক এলাকা ঘুরতে ঘুরতে পাহম এমন এক এলাকার সন্ধান পান যেখানকার মানুষ খুবই সহজ-সরল। তাদের থেকে খুবই কম দামে জমি কেনা যায়। তারাও খুব আন্তরিক। পাহম তার পরিবার নিয়ে সেখানেই থাকতে শুরু করেন। সেখানকার উর্বর জমি থেকে তার আয় দিন দিন বাড়তেই থাকে। কিন্তু জমি নিজের করে নেয়ার যে লোভ, তা থেকে তিনি বেড়িয়ে আসতেই পারেন না। ক্রমেই চক্রে পড়ে যান। আরও জমি লাগবে তার। জমির চিন্তা তাকে রাতে ঘুমাতে দেয় না।


এমনই চিন্তার সময় তার কাছে খবর আসে অনেক দূরে উর্বর এক এলাকা রয়েছে। সেখানে জমির দাম এখানকার থেকেও অনেক অনেক সস্তা। ফসলও বেশ ভালোই ফলবে। এতে করে আরও আরামে থাকতে পারবে পাহম। জমি নিয়ে তার এত দুশ্চিন্তাও থাকবে না। অনেক চিন্তাভাবনা করে পাহম সিদ্ধান্ত নেন সেখানে পাড়ি জমাবেন। জমি তার দরকার।


সেখানে গিয়ে কথা হয় কর্তৃপক্ষের সাথে। জমির দাম একদিনে মাত্র এক হাজার রুবল। কিন্তু হিসাবটা বুঝে উঠতে পারে না পাহম। দিনের হিসাবে কী করে জমি বিক্রি করা হয় তা তার জানা নেই। তখন তিনি জানতে পারেন, একদিনে তিনি যতদূর জমি ঘুরে আসতে পারবেন ততদূর জমিই তার হবে! এর জন্য তাকে দিতে হবে মাত্র এক হাজার রুবল। তবে যেখান থেকে শুরু করেছে সেখানে এসেই শেষ করতে হবে যাত্রা। এবং তা সূর্য ডুবে যাবার আগেই।


আনন্দে আত্মহারা হয় পাহমের মন। এতদিনে তিনি মনের মত কম দামে জমি পাচ্ছেন। রাতে ঘুমাতে পারেন না তিনি। প্রফুল্ল মন শুধু আনন্দ করতে চায়। জমি পাওয়ার সময়ের জন্য তার তর সইছে না। ভোরে তন্দ্রার মতো আসে। সেখানে স্বপ্নে তিনি নিজের মরদেহই নিজের চোখের সামনে দেখতে পান। ভড়কে যান পাহম। কিন্তু এসব ভেবে এখন কোনো লাভ নেই। সকাল শুরু হয়ে যাচ্ছে।


পাহম পাহাড়ে থাকা লোকদের কাছে গিয়ে হাজির হন। তার মাথায় থাকা টুপিতে এক হাজার রুবল রেখে যাত্রা শুরু করেন তিনি। যাত্রার শুরু থেকেই বেছে বেছে ফসলের জন্য উপযোগী জমিগুলোতে চিহ্ন দেন। মাঝে কিছুটা বিশ্রাম নিলেও তখন বসে পড়েন না তিনি। বসে পড়লে যদি ঘুম পায় তখন সব শেষ হয়ে যাবে। জমির লোভে এগোতেই থাকেন পাহম। একটার পর একটা জায়গা তার নিজের জন্য চাই।


কিন্তু হায়! সূর্য তো অস্ত যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। এখন তাকে ফিরতেই হবে। কিন্তু দৌড়েও টুপিটার কাছে ফিরতে পারবেন না বলে মনে হয় তার। তাই কষ্ট করে হলেও জোরে পা চালান পাহম। এতে তার প্রচুর কষ্ট হচ্ছিলো। কিন্তু কিছুই করার ছিলো না তার। অবশেষে সবার উৎসাহ পেয়ে শুরুর জায়গায় এসে পড়ে যান পাহম। সবাই বাহবা দিতে থাকে তাকে। অনেক জমি পেয়েছে সে। যা অনেকটাই কল্পনাতীত।


কিন্তু তার মুখ তুলে দেখা যায় মুখ থেকে রক্ত বের হচ্ছে। মারা গেছে পাহম। এত জমি আর তার কাছে গেলো না। তার তখন জায়গা হলো পা থেকে মাথা পর্যন্ত মাটির জায়গা অর্থাৎ মাত্র ছয় ফুট। 

                                          

 -লিও তলস্তয়(রুশ সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ লেখক)

কশাইদের প্রতারণার শিকার ভোক্তাগণ,,,,,,,,,, ফেইসবুক থেকে নেওয়া

 আমাদের দেশে মাংসের দোকানগুলোতে গেলে দেখবেন কসাই মাংস কাটছে আর সেই মাংস থরথর করে নড়ছে। সাধারণ ক্রেতারা মনে করে, মাংস নড়ছে মানেই এটা একদম টাট...