এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

মঙ্গলবার, ১০ জুন, ২০২৫

পৃথিবী ছেড়ে মহাকাশে যেতে হলে রকেটকে ঘণ্টায় প্রায় ৪০ হাজার কিলোমিটার বেগে ছুটতে হয়। এত জোরে ছুটে যাওয়ার একটাই কারণ—মহাকর্ষ বল।

 পৃথিবী ছেড়ে মহাকাশে যেতে হলে রকেটকে ঘণ্টায় প্রায় ৪০ হাজার কিলোমিটার বেগে ছুটতে হয়। এত জোরে ছুটে যাওয়ার একটাই কারণ—মহাকর্ষ বল।


মহাকর্ষ এমন এক শক্তি, যা আমাদের মাটির দিকে টেনে ধরে রাখে। আমাদের হাঁটা-চলা, বসে থাকা, এমনকি দাঁড়িয়ে থাকার পেছনেও এই বলের অবদান আছে। ধরুন, আপনি একটা ফুটবলকে ওপরের দিকে কিক মারলেন। বলটা ওপরে গিয়ে কিন্তু আবার আপনার কাছেই, মানে মাটিতে ফিরে আসবে। বলটা আপনার টানে যে পৃথিবীতে ফিরে আসে, তা তো নয়! আসলে ওই বল ফিরে আসার কারণও সেই মহাকর্ষ বল। এই বল সব কিছুকে বস্তুর কেন্দ্রের দিকে টানে। আর বস্তুর ভরের ওপর নির্ভর করে মহাকর্ষ কত শক্তিশালী হবে। তাহলে, পৃথিবীতে সবকিছু ভূপৃষ্ঠে, অর্থাৎ মাটিতে ফিরে আসে কেন? কারণ, আমরা থাকি পৃথিবীর ওপরে, ভূপৃষ্ঠে। ওপরের দিকে একটা ফুটবলকে ছুড়ে দিলে সেটা তো আর মাটি (বা ভূপৃষ্ঠ) ফুঁড়ে পৃথিবীর কেন্দ্রে চলে যেতে পারে না! তাই সবকিছু ভূপৃষ্ঠে ফিরে আসে। একইভাবে আমরা লাফ দিলে আকাশে উড়ে না গিয়ে আবার ভূপৃষ্ঠে, মানে মাটিতে ফিরে আসি।


তবে চাইলে এই বলের হাত থেকেও মুক্তি পাওয়া যায়। মানে আপনার যদি সুপারম্যানের মতো শক্তি থাকত এবং আপনি ঘণ্টায় ৪০ হাজার কিলোমিটার বেগে ওপরের দিকে লাফ দিতে পারতেন, তাহলে আর ভূপৃষ্ঠে ফিরে আসতে হতো না। পৃথিবীর মহাকর্ষ বল কাটিয়ে চলে যেতেন মহাকাশে। একই কাজ করে রকেট। সহজ কথায়, পৃথিবী আপনাকে একটা বলে ভূপৃষ্ঠে আটকে রাখছে। আপনি যদি সেই বলের চেয়ে বেশি জোরে চলতে পারেন, তাহলে আর পৃথিবী আপনাকে আটকে রাখতে পারবে না। এ বলটাই হলো ঘণ্টায় ৪০ হাজার কিলোমিটার বা সেকেন্ডে ১১.২ কিলোমিটার। একে বলে মুক্তিবেগ। মানে পৃথিবীর মহাকর্ষ থেকে মুক্ত হওয়ার বেগ। কিন্তু প্রশ্ন হলো, রকেটকে কেন ঘণ্টায় ৪০ হাজার কিলোমিটার বেগে ছুটতে হয়?


রকেট কীভাবে এই টান কাটিয়ে মহাকাশে চলে যায়, তা বুঝতে হলে রকেটের চলাচল সম্পর্কে একটু জানতে হবে। একটা উদাহরণ দিলে বিষয়টা ভালোভাবে বোঝা যাবে। বেলুন ফুলিয়ে মুখ না বেঁধে কখনো আকাশে ছেড়েছেন? ফোলানো বেলুন এভাবে ছেড়ে দিলে ফুড়ুৎ করে সামনে চলে যায় অনেকটা। কেন বেলুন সামনে চলে যায়? কারণ, বেলুনের ভেতরে যে বাতাস ছিল, ওই বাতাস বেরিয়ে গেছে। বাতাস বেরিয়ে যাওয়া মানে ওই বাতাস বেলুনকে পেছন থেকে ধাক্কা দিয়ে সামনে পাঠিয়ে দেয়। তাই বেলুন ফুড়ুৎ করে সামনের দিকে চলে যায়। রকেটও ঠিক এই কাজটাই করে। রকেটে ‘বিশেষ ধরনের’ জ্বালানি পোড়ানো হয়। ফলে তৈরি হয় গরম গ্যাস। এই গ্যাস রকেটের পেছন দিয়ে বেরিয়ে গেলে রকেট সামনের দিকে ছুটে যায়।


‘বিশেষ ধরনের’ এই জ্বালানি কী? ইংরেজিতে বলা হয় ‘প্রোপেল্যান্ট’। জিনিসটা আসলে জ্বালানি এবং অক্সিডাইজার বা জারকের মিশ্রণ। জ্বালানি হিসেবে সাধারণত হাইড্রোজেন, মিথেন বা কেরোসিনের মতো দাহ্য পদার্থ ব্যবহৃত হয়। আর অক্সিডাইজার বা জারক হিসেবে ব্যবহৃত হয় তরল অক্সিজেন। এখানে একটা মজার কথা বলি। এই যে জারক হিসেবে তরল অক্সিজেন ব্যবহৃত হচ্ছে, এর কারণটা কিন্তু খুব সহজ। অক্সিজেন ছাড়া কোনোকিছু ‘পোড়ে’ না। অর্থাৎ ‘পোড়া’ মানেই অক্সিজেনের সঙ্গে বিক্রিয়া। চাইলে একটা বোতলের ভেতরে মোমবাতি জ্বালিয়ে মুখ বন্ধ করে দিয়ে দেখতে পারেন। দেখবেন, ভেতরের অক্সিজেন ফুরিয়ে গেলেই নিভে যাবে আগুন, অর্থাৎ মোমবাতি। যাহোক, প্রসঙ্গে ফিরি।


রকেটকে যখন মহাকাশে যেতে হয়, তখন প্রচুর শক্তি লাগে। সেই শক্তি অর্জন করতে প্রয়োজন প্রচুর প্রোপেল্যান্ট। কিন্তু সমস্যা হলো, রকেট যদি অত বেশি প্রোপেল্যান্ট বহন করে, তাহলে তার ওজন এত বেড়ে যায় যে সেটা আর উড়তেই পারে না। মানে আপনার পিঠে যদি ১০ কেজির বস্তা দিয়ে দৌড়াতে বলা হয়, তাহলে হয়তো কষ্ট করে হলেও পারবেন। কিন্তু ৫০০ কেজির বস্তা দিয়ে দৌড়াতে বললে তো উঠে দাঁড়াতেই পারবেন না! রকেটকে ঘণ্টায় ৪০ হাজার কিলোমিটার বেগ অর্জন করতে হলে যে পরিমাণ প্রোপেল্যান্ট পোড়াতে হবে, তা যদি রকেটের সঙ্গে দিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে মহাকাশে যাওয়া একটু কঠিনই হয়ে যাবে।


তাহলে উপায়? উপায় একটাই, রকেটের প্রোপেল্যান্ট কমানো। ভাবছেন, তাহলে রকেট উড়বে কীভাবে? সেই সমস্যার সমাধান বিজ্ঞানীরা করেছেন। রকেট সাধারণত সরাসরি মহাকাশে যায় না। আগে একটানা জোরে কিছুক্ষণ ছুটে এক পর্যায়ে এসে ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে যায়। মানে ততক্ষণে সঙ্গে নিয়ে যাওয়া প্রোপেল্যান্ট শেষ হয়ে যায়। কিন্তু শেষ হওয়ার আগে রকেটটা এমন জায়গায় পৌঁছে যায় যে সেটা আর পৃথিবীতে ফিরে আসে না—পৃথিবীর মহাকর্ষ বলের কঠিন বাঁধন পেরিয়ে যায়। এ জন্য বিজ্ঞানীরা রকেটকে একটু আড়াআড়ি ভাবে পাঠান, যাতে সেটা আর পৃথিবীতে ফিরে না আসে। এই কাজটা আধুনিক রকেটে করা হয় ধাপে ধাপে। একেবারে রকেটকে পুরো মুক্তিবেগে ছোটানোর বদলে ধাপে ধাপে গতিবেগ বাড়ানো হয়। এতে কাজটা অনেক সহজ হয়ে যায়।


বলে রাখি, সব রকেট কিন্তু পৃথিবী ছেড়ে চিরতরে মহাকাশে চলে যায় না। অনেক রকেট শুধু কক্ষপথেই থাকে। বর্তমানে হাজার হাজার স্যাটেলাইট বা কৃত্রিম উপগ্রহ পৃথিবীর চারপাশে ঘুরছে। সেগুলোর কারণে আমরা মোবাইলে কথা বলতে পারি, টিভি দেখতে পারি, আবহাওয়ার খবর জানতে পারি, এমনকি দোকানে কার্ড দিয়ে পেমেন্ট করতেও পারি। রাতে আকাশের দিকে তাকিয়ে অনেক সময় এসব স্যাটেলাইট দেখা যায়। এই যে রকেটগুলো কক্ষপথে থাকে, তাদের কিন্তু ঘণ্টায় ৪০ হাজার কিলোমিটার, অর্থাৎ সেকেন্ডে ১১.২ কিলোমিটার বেগে ছুটতে হয় না। সেকেন্ডে ৭.৯ কিলোমিটার বেগে ছুটলেই হয়। অর্থাৎ ঘণ্টায় প্রায় ২৯ হাজার কিলোমিটার বেগে ছুটলেই রকেট পৃথিবীর চারপাশে নির্দিষ্ট কক্ষপথে থাকতে পারে। এই বেগকে বলা হয় অরবিটাল ভেলোসিটি বা ন্যূনতম কক্ষীয় বেগ।


সাইকেলে জোরে প্যাডেল দিয়ে অনেকক্ষণ আর প্যাডেল না দিলেও সাইকেল চলতে থাকে। রকেটের ক্ষেত্রেও সহজে বোঝার জন্য ভাবতে পারেন, একবার জোরে ধাক্কা দিয়ে পৃথিবীর বাইরে যাওয়ার পর তা চলতে থাকবে।

কিন্তু শুধু নির্দিষ্ট কক্ষপথে গেলেই তো চলবে না। দূর মহাকাশেও তো যেতে হয় বিভিন্ন কাজে। সেখানেই কাজে আসে মুক্তিবেগ, ঘণ্টায় ৪০ হাজার কিলোমিটার। আর এ জন্য এখন আরও একটু আধুনিক একধরনের কৌশল ব্যবহার করা হয়। একে বলে স্টেজিং। মানে মূল রকেটের সঙ্গে আরও কিছু বাড়তি রকেট যোগ করে দেওয়া হয়। তাতে থাকে বাড়তি জ্বালানি। সেই বাড়তি রকেট দিয়ে ধাক্কা দেওয়ার পর, পৃথিবীর মহাকর্ষ পেরিয়ে যাওয়ার পর, তা মূল রকেট থেকে আলাদা হয়ে যায়। এতে মূল রকেট হালকা হয়ে যায় এবং বাকি পথ অল্প জ্বালানিতে চলতে পারে। এর কারণটা মজার। পৃথিবীর মহাকর্ষীয় সীমা পেরোলে রকেটকে তো খুব বেশি জোরে আর কেউ টানবে না। আবার মহাকাশে বাতাসের বাধাও নেই। তাই রকেট ইতিমধ্যে অর্জিত বেগে ছুটে চলতে পারে। এই কথাটা নিউটনের প্রথম সূত্রে আছে—বাইরে থেকে কোনো বলপ্রয়োগ না করলে (অর্থাৎ বাধা না দিলে) গতিশীল বস্তু সুষম বেগে ছুটতে থাকবে। এ কারণেই রকেট মহাকাশে ছুটে যেতে পারে বাড়তি জ্বালানি না পুড়িয়ে।


বিষয়টা এরকম—সাইকেলে জোরে প্যাডেল দিয়ে অনেকক্ষণ আর প্যাডেল না দিলেও সাইকেল চলতে থাকে। রকেটের ক্ষেত্রেও সহজে বোঝার জন্য ভাবতে পারেন, একবার জোরে ধাক্কা দিয়ে পৃথিবীর বাইরে যাওয়ার পর তা চলতে থাকবে। বোঝানোর জন্য বলা, যদিও উদাহরণটা পুরো এক নয়।


সব গ্রহের বেলায় এই মুক্তিবেগ কিন্তু ঘণ্টায় ৪০ হাজার কিলোমিটার হবে না। বৃহস্পতির মতো বড় গ্রহ থেকে বেরিয়ে যেতে চাইলে ঘণ্টায় আরও অনেক বেশি বেগে ছোটাতে হবে রকেট। যত বড় গ্রহ, তত বেশি মহাকর্ষ বল। আর মহাকর্ষ বল যত বেশি, রকেটকে তত জোরে ছুটতে হয়। বৃহস্পতি গ্রহ আমাদের সৌরজগতের সবচেয়ে বড় গ্রহ। এত বড় যে এক হাজারটা পৃথিবী একসঙ্গে এর মধ্যে ঢুকে যাবে। তাই সেখানে থেকে বেরিয়ে যেতে হলে রকেটকে ছুটতে হবে ঘণ্টায় প্রায় ২ লাখ ১৪ হাজার কিলোমিটার বেগে! এই বেগ পৃথিবীর তুলনায় পাঁচ গুণ বেশি।


SOURCE : দ্য কনভার্সেশন, নাসা, দ্য ন্যাশনাল অ্যাকাডেমিস প্রেস

অমুক মাছ কেটে দিনে দশ হাজার কামাচ্ছে" "লাউয়ের বাগান করে কোটিপতি"

 "অমুক মাছ কেটে দিনে দশ হাজার কামাচ্ছে"

"লাউয়ের বাগান করে কোটিপতি"

"চাকরি ছেড়ে গোবর আর কেঁচো নাড়াচাড়া"

এসব গল্প এখন অনেকেই শোনায়। 


তরুণদের জন্য, এই ফাঁদে পড়বেন না। একদম নিজের চোখে দেখা অভিজ্ঞতা। আমাদের বয়সী একজন, ওয়েল পেইড জব ছেড়ে এইসব কুইক ক্যাশের নেশায় পড়ে গেলো। এখন হাউমাউ করে ম*রছে। 


১। আপনি যা-ই করেন, সেটার এক্সপান্ডিবিলিটি থাকতে হবে। ধরুন, একজন রিকশাওয়ালা, সে ডিসেন্ট আয় করে, এন্ট্রি লেভেল চাকরিজীবীর চেয়ে বেশী। রিকশাওয়ালা ৩০ হাজার কামায় আর জবে নতুন হলে ১৫ হাজার বেতন - সবাই আপনাকে এটুকুই বলবে। 


এবার পরের হিসাবটা, ধরুন ওই রিকশাওয়ালা তার ইনকাম ডাবল করতে চায়, বা ইভেন বাড়াতে চায়। তার জন্য একমাত্র অপশন রিকশা চালানোর সময় বাড়িয়ে দেওয়া। ডাবল করতে চাইলে তাকে ১০ ঘন্টার জায়গায় ২০ ঘণ্টা রিকশা চালাতে হবে। এটা কী ফিজিকালি পসিবল? সাথে বৃষ্টি, রোদ, ছুটির দিনে কাজে না গেলে আয় নেই। 

বা যে মাছ কাটছে তাকে ডাবল মাছ কাটতে হবে।


কিন্তু এন্ট্রি লেভেলের জবে ৪/৫ বছরে বেতন ডাবল হয়ে যাওয়া খুবই স্বাভাবিক, কোনো অতিরিক্ত ঘন্টা না বাড়িয়েই। 


২। আপনি যে কাজটা করতে চান সেটা তো ভালো লাগতে হবে। ফেসবুকের এক লাইকখোরের লেখা পড়ে আপনি সিদ্ধান্ত নিলেন বাজারে বসে মাছ কাটবেন, চাকরীর ডাবল ইনকাম। ভেবে দেখুন, আগামী ত্রিশ বছর আপনি বটি ঘাড়ে করে মাছবাজারে গিয়ে নোংরা জলের মধ্যে বসে মাছ নাড়াচাড়া করতে রাজি আছেন কিনা। 


৩। লাইফস্টাইলের ব্যপার রয়েছে। আপনার যখন তেমন ইনকাম ছিলো না আপনি বাইক চালাতেন। সামনে টাকা হবে, গাড়ী কিনবেন। কিন্তু এসব কাজে তার কাজ কী? গাড়ী চালিয়ে কি আপনি ঝালমুড়ি বেচতে যাবেন? 


৪। চাকরিজীবি বা ডিসেন্ট লেভেলের উদ্যোক্তা হলে আপনি তার সাথে একটা লাইফস্টাইল আর নেটওয়ার্ক বাই ডিফল্ট পাবেন। এটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। ধরুণ, আপনি একটা স্টেশনারি কোম্পানির মার্কেটিংয়ে জব করেন। আপনি আজ এই ভার্সিটিতে, কাল ওই ঝকঝকে অফিসে বিটুবি ডিল করতে যাবেন। কত হাই স্কিল লোকের সাথে পরিচিতি হবে, কন্টাক্ট বিনিময় হবে। 


কিন্তু আপনি টাকা দেখে রাস্তায় ঝুড়ি নিয়ে দাড়ালেন। আপনার নেটওয়ার্ক হবে পাশের বাদামওয়ালা, গান গাওয়া ভিক্ষুক। ওই বাদামওয়ালার এই মুহুর্তের সবচেয়ে বড় চিন্তা সে কতক্ষণে সব বিক্রি করে ঘরে যাবে। আগামীকালও সে একই কাজ করবে। আপনার মত তার অ্যাম্বিশন নেই, বড় কিছু করার ইচ্ছে নেই, দেশ-মানুষের উপকারে আসার খায়েশ নেই। 


মনে রাখবেন, Your network is your net-worth


৫। আর এইসব পেশায় যে খুব বেশী ইনকাম হয় তাও কিন্তু না। শিরোনামে লেখা 'চাকরি ছেড়ে লাউ চাষে লাখপতি'। ভিতরে লিখেছে এক বছরে তার আয় তিন লাখ টাকা। মানে ওই লোক মাসে ২৫,০০০ টাকা কামায়, সেটা আবার নিউজ! 


তাই এইসব ভুয়া মোটিভেশনের ফাঁদে পড়বেন না। প্রতিবছর নিউজ মিডিয়াগুলো নিজেদের স্বার্থেই এরকম নিউজ করে। গত পাঁচ বছরে তো নিউজ কম দেখেন নি, আইফোন হাতে বাদামওয়ালা, ডিএসএলআর হাতে খিচুড়ি বিক্রেতা। প্রশ্ন হলো তারা এখন কোথায়? তারা এখনো কেন সেই রাস্তায় বসছে না আর ওরকম আয় করছে না? তাহলে এগুলো রিলায়েবল পেশা হয় কিভাবে? 


 কোন কাজই ছোট নয়। কিন্তু সব কাজই যে আপনার ফিল্ড, তা-ও নয়। 

আপনার কাছে খুব ভালো একটা প্লান আছে, কিন্তু পঞ্চাশ হাজার টাকার জন্য আপনি এগোতে পারছেন না। এখন আপনি যদি মাছ কুটে, বাদাম বেঁচে ওই পঞ্চাশ হাজার টাকা জোগাড় করে ফেলতে পারেন, তাহলে সেটা ঠিক আছে। কিন্তু যেভাবে এসব পেশাকে সরাসরি একটা ওয়েল পেইড জবের বিকল্প হিসেবে দেখানো হচ্ছে, তা মোটেও রিয়েলিস্টিক নয়।


✅পোস্টটা ক পি করা।কিন্তু খুবই গুরুত্বপূর্ণ মনে হয় আমার কাছে তাই শেয়ার করা ।।।চাকরি কিংবা ব্যবসা এটা কোনো বিষয় নয়। আপনার কোনটা ভাল লাগে কোনটা করলে আপনি সামাল দিতে পারবেন কিংবা সামাজিকতা রক্ষা করতে পারেন তা নিয়ে ভাবুন। কাজ করুন।টাকা আয় করুন।


#আয় #কাজ

গল্প_বেহালার_সুর #পর্ব- ১ লেখিকা:শারমিন আঁচল নিপা

 আমার স্বামীর দ্বিতীয় স্ত্রী আমি। একটা দূর্ঘটনার  কবলে পরে আমার স্বামী আমাকে বিয়ে করে। আমার স্বামী একজন বড়ো ব্যবসায়ী। ব্যবসায়ের কাজেই গিয়েছিল আমাদের গ্রামে। আমার ছোটোখাটো পরিবার। আমার বাবা একজন ইমানদার মানুষ। মসজিদের ইমাম। মা মারা যায় ছোটোবেলায়।  এরপর আর বাবা আমার দিকে তাকিয়ে বিয়ে করেনি৷ আমি পড়াশোনায় ভালো ছিলাম। নিজের পুরো সময়টা পড়ায় মন দেওয়ার চেষ্টা করতাম। আমার জীবনটাও বেশ রঙিন কাটছিল। টাকা ছিল না তবে সুখের কমতি ছিল না। শান্তির কমতি ছিল। বড়ো কোনো আশা ছিল না। তবে বাবার জন্য কিছু একটা করার ইচ্ছা সবসময় ছিল৷ 


আমার স্বামীর নাম আরাব চৌধুরি বয়স ৪৩ বছর। তিনি যখন আমাদের গ্রামে আসেন তখন আমার বয়স ছিল সতেরো বছর। আমাদের গ্রামে বিশাল বড়ো বাঙলো উনার। উনি  যতবারেই গ্রামে আসতেন আমার বাবা খাবার দিয়ে আসতেন। এতে অবশ্য তিনি আমার বাবাকে টাকা দিতেন। যে কয়বার উনি গ্রামে এসেছেন সে কয়বার আমি উনাকে কখনও মুখোমুখি দেখিনি।যেদিন আমার সাথে তার মুখোমুখি দেখা হয় সেদিনেই উনার সাথে আমার বিয়ে হয়। 


ঘটনা আরও তিনমাস আগের। উনি গ্রামে এসেছিলেন ব্যবসায়ের কাজে। বরাবরেই গ্রামে আসলে রান্নার ভারটা আমার উপরেই পড়ে। যেদিন দেখি বাড়িতে অনেক ভালোমন্দ রান্না হচ্ছে সেদিন বুঝতে পারি উনি এসেছেন। শেষবার যখন উনি এসেছিলেন সেদিন রান্না করে বাবাকে ডাকতে গিয়ে দেখি তিনি শুয়ে আছেন।  অবেলায় শুয়ে থাকতে দেখে বাবার কাছে গিয়ে লক্ষ্য করলাম বাবা ভীষণ জ্বরে  কাঁতরাচ্ছে। আমার উপস্থিতি টের পেয়ে বাবা আমাকে বললেন


"আয়েশা মা, তুমি খাবারটা চৌধুরি সাহেবের জন্য নিয়ে যাও। আজকে আমার শরীর ভীষণ খারাপ লাগছে। বাইরেও বৃষ্টি। গতরে একদম শক্তি নেই যে উঠে খাবার নিয়ে যাব।"


বাবার শারিরীক কষ্ট বুঝতে পেরে আমিই এ বাদল বৃষ্টি ভেদ করে কচু পাতা মাথায় দিয়ে উনার বাড়িতে যাই। বেলা তখন দুপুর দুটো। আমি যেতেই আরাব চৌধুরি আমার দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস  করলেন


"কী চাই? এখানে কেন এসেছো?"


আমি কিছুটা ভয়ে কাঁপতে কাঁপতে উত্তর দিলাম


"আপনার জন্য খাবার নিয়ে এসেছি। বাবা ভীষণ অসুস্থ । তাই আসতে পারে নি।"


সেদিন এতটাই ভয়ার্ত ছিলাম যে উনার মুখের দিকে তাকিয়ে কথা বলার সাহস পাচ্ছিলাম না। শরীরটাও থরোথরো করে কাঁপছিল। আমাকে কাঁপতে দেখে তিনি হালকায় গলায় জিজ্ঞেস  করলেন


"কাঁপছো কেন? সামনে তো বাঘ ভাল্লুক বসে নেই। খাবার কী সবসময় তুমি রান্না করো?"


আমার ভয়ার্ত গলায় উত্তর আসলো


"জ্বি স্যার আমিই রান্না করি।"


তিনি বেশ স্বাভাবিক  গলায় আমাকে বললেন


"খাবারটা টেবিলের উপর রেখে চলে যাও। আর রাতে রান্নার প্যারা নিতে হবে না। রাতে আমি খাব না।"


"জ্বি স্যার"


আমি খাবারটা রেখে বাড়ি থেকে বের হলাম।  কথোপকথনের সময় একটাবারও আমার উনার চোখের দিকে তাকনোর সাহস হলো না। এমনকি দেখতে কেমন সেটাও আমি বলতে পারব না। আমি বাড়ির গেইটের সামনে আসতেই চারপাশ অন্ধকারে মেঘের গর্জন দিয়ে ছেয়ে যাচ্ছিল। ভয়ে আমি জড়োসড়ো হয়ে গেইটের কোণে দাঁড়িয়ে আছি। আকাশের দিকে তাকিয়ে লক্ষ্য করলাম চারপাশে মেঘেরা খেলা করছে।  যখনই বাড়ি যাবার জন্য পা বাড়ালাম তখনই বৃষ্টির ঢল আকাশ থেকে নামতে শুরু করলো। 


আমি তাড়াহুড়ো করে গেইট থেকে বের হয়ে রাস্তায় আসলাম। পুরো শরীর বৃষ্টির পানিতে ভিজে গেছে। আমি বের হতেই পাড়ার মহসীনের সাথে আমার দেখা। মহসীন এ পাড়ার সবচেয়ে ইতর লোক। বাবার কাছ থেকে কয়েকটা টাকা ধার পায় সে।।সে ধারের টাকা বাবার পরিশোধ করতে বিলম্ব হচ্ছে বলে আমাকে বিয়ে করার প্রস্তাব দেয় বাবাকে। বাবা অবশ্য এতে একদম নারাজ। কারণ একজন বাবা তো জেনে শুনে একটা লম্পটের সাথে নিজের মেয়েকে তুলে দিতে পারে না। তাই সবসময় সুযোগ খুঁজে আমার ক্ষতি করার। 


 আমাকে ভেজা অবস্থায় দেখে তার লালসার চোখ আমার উপর পড়ল। আমার হাতটা ধরে নোংরা ভাষায় বলতে লাগল


"কী রে মা**গি আমারে বিয়ে করতে পারিস না। অথচ ভেজা শরীর নিয়ে বুইড়া বেডার সাথে শুইতে আসছিস। চরিত্রহীন মেয়ে। খালি বাড়ি থেকে এমনে বের হইছস। বুঝি না কী করে আইছস। তোরে আজকে হয় আমার সাথে বিয়ে দিবে নাহয় তোর নামে কলঙ্ক রটাব।"


মহসীন এ কথাগুলো বলেই আমাকে টানতে টানতে বাড়ির দিকে নিয়ে যাচ্ছে আর লোক জড়ো করছিল।।সব লোক সমাগম আমার বাড়ির সামনে।  সবার হৈ হুল্লোরে বাবা জ্বর শরীর নিয়ে বের হলো। মহসীন বাবাকে দেখেই বলে উঠল


"মাইয়া বিয়ে দিতে সমস্যা। ভাড়া খাটাইতে সমস্যা নাই? তাই না? বুইড়া বেডার কাছে মাইয়া পাঠায়ছেন খুশি করে টাকা আনার জন্য। "


এরপর গ্রামের কিছু মানুষকে উদ্দেশ্য করে বলল


"এই আয়েশার বাপ একটা ভন্ড হুজুর। নিজে ইমামতি করে মাইয়ারে ভাড়া খাটায়। এ বাদলা দিনে এ মাইয়া বাঙলো থেকে বের হয়ছে। বাঙলোতে একা শুধু আরাব চৌধুরি থাকে এটা সবার জানা। ভেজা শরীর নিয়ে লুকিয়ে বের হতে গিয়েই আমার হাতে ধরা পড়ছে।।এটা তো সমাজের জন্য ক্ষতি। এই নষ্টা মেয়ের জন্য আর ভন্ড হুজুরের জন্য তো সমাজ নষ্ট হইব। যদিও মাইয়া খারাপ। তবুও এতদিন আয়েশার বাপ আমাদের নামাজ পড়ায়ছে সে সুবাদে একটা সুযোগ দেওয়া যায়। আমি চাই আয়েশারে বিয়ে করতে। এত দূর্নাম জেনেও বিয়ে করতে চাই কারণ মাইয়ার মা নাই। অসহায় মাইয়া বিয়ে করলে সওয়াব আছে। আর বিয়ের পর ঠিকমতো টাইট দিলে চরিত্রও ঠিক হয়ে যাইব। এহন আপনারা যা সিদ্ধান্ত  নেন।"


গ্রামবাসী সবাই মহসীনের কথায় তাল মিলিয়ে বাবাকে ছিঃ ছিঃ করতে লাগল। বাবার চোখ বেয়ে কান্না জড়ছে। ছোটো একটা বিষয় এত বড়ো হয়ে যাবে কে জানত। কান্না গলায় বাবা বলল


"দরকার হয় সমাজ ছাইড়া চইলা যামু। তবুও আমার মেয়েরে এ লম্পটের হাতে তুলে দিমু না। চৌধুরি সাহেব অনেক ভালো মানুষ। আমি উনাকে কাছ থেকে চিনি।  সে ভরসায় নিজের শরীর খারাপ ছিল তাই আয়েশাকে দিয়ে খাবার পাঠায়ছি।।আমার মেয়ে নষ্টা না। একটা লম্পট ছেলের কথায় আমার মেয়েকে দয়াকরে এ অপবাদ দিবেন না। "


মহসীনকে লম্পট বলায় মহসীন রেগে আমার বাবার কাছে তেড়ে গিয়ে  বাবার গালে থাপ্পড় কষিয়ে দিয়ে বলল


"নষ্টা মেয়ে জন্ম দিয়ে নষ্টামি করে আমাকে লম্পট বলা।"


গ্রামবাসীও বাবাকে মারার জন্য তেড়ে আসতে লাগল।।সত্যি বলতে সেখানে যারা উপস্থিত ছিল সবাই মহসীনের কথায় উঠছিল বসছিল। আমি বুঝতে পারছিলাম তাদের মহসীন আগেই টাকা দিয়ে কিনে এ নাটক সাজিয়ে ফেলেছে। সুযোগের অপেক্ষায় থাকা মহসীন হুট করে সুযোগ পেয়ে আজকে ঝোপ বুঝে কোপ মারল। গ্রামবাসীকে এভাবে তেড়ে আসতে দেখে বাবা ভীষণ ভেঙে পড়ে। দাঁড়ানো থেকে মাথায় হাত দিয়ে বসে পড়ে।


আমি গ্রামবাসীকে চিৎকার করে বুঝানোর চেষ্টা করেও পারছিলাম না। পাশের বাড়ির মালতি চাচী আমার চুল ধরে বলতে লাগল


"নষ্টা একটা। তোর জন্য তো আমাদের মেয়েরা নষ্ট হবে। মহসীন যে তোকে বিয়ে করতে চায়ছে শুকরিয়া করে বিয়ে কর। নাহয় বাপ বেটিকে চুল ন্যাড়া করে গ্রাম ছাড়া করব।"


পরিস্থিতি খারাপের দিকে মোড় নিল। বাবা বসে আর কোনো কথা বলতে পারছিল না। আমি নিজেও মাটিতে বসে চিৎকার করে কাঁদতে লাগলাম। 


হুট করেই একটা কণ্ঠ সব কিছু নিস্তব করে দিল। পেছন থেকে আরাব চৌধুরি বজ্র কণ্ঠে বলে উঠলেন


"সমস্যা আমাকে নিয়ে। মেয়েটা আমার বিছানায় গিয়েছে তাহলে মহসীন কেন বিয়ে করবে? এত উদার মানুষ হলে তো সমস্যা।  সমস্যা যেহেতু আমাকে নিয়ে এ মেয়েকে বিয়ে আমিই করব। মেয়ের বাবা একজন সম্মানিত লোক। তার পেছনে আপনারা নামাজ পড়েন। সে মানুষটাকেই আপনারা অসম্মান করছেন। বিবেক কী বিকিয়ে দিয়েছেন? আয়েশার বাবাকে সবাই চিনেন কতটা সৎ তিনি। তারপরও আপনারা যা নয় তা বলছেন। আর মেয়ের দোষের শাস্তি বাবাকে কেন দিচ্ছেন? দোষ যেহেতু মেয়ে করেছে আর আমি এতে জড়িত৷ আয়েশাকে বিয়ে আমিই করব। "


আরাব চৌধুরির কথা শুনে সবার মুখ বন্ধ হয়ে গেলেও মহসীন বলে উঠল


"এসব মুখে বলায় সম্ভব। বিয়ে করলে এখন এ মুহুর্তে  করেন। আমি কাজী ডাকি। বড়োলোকের মুখের কথার দাম নাই।"


আরাব চৌধুরী মহসীনের কলার ধরে বলে উঠল


"যাকে ডাকার ডাক। আমি এ মুহুর্তে আয়েশাকে বিয়ে করব৷ আমি এক কথার মানুষ। আমার জবান শক্ত।"


এরপর গ্রামবাসীর তোপে পড়ে আমার বিয়েটা হলো। কীভাবে সবটা পাল্টে গেল নিজেও বুঝলাম না। বাবা সেই যে মাথায় হাত দিয়ে মাটিতে বসেছিল আর কথা বলেনি। বিয়ের পরদিন বাবা কষ্ট সহ্য করতে না পেরে হার্ট এটাক করে মারা যায়। সবার অপমান এতসব কথা, নিজের মেয়ের এমন করে বিয়ে এসব বাবা সইতে পারেনি। বাবার মৃত্যুটা আমাকে একদম হতাশ করে দেয়। এ গ্রাম গ্রামের মানুষ আমার কাছে বিষের মতো লাগতে শুরু করে। আমি বাবার কবরের মাটি হাতে নিয়ে শুধু বলেছিলাম তোমার এ অপমানের প্রতিদান যেন প্রতিটা মানুষকে আল্লাহ দেয়। বাবা আমি চেষ্টা করব মাথা উঁচু হয়ে বাঁচতে। যত কষ্ট হোক যত সমস্যা হোক, আমার মাথা নোয়াব না। সবসময় নিজের আত্মসম্মান বাজায় রেখে উঁচু হয়ে বাঁচব।


বাবাকে করব দেওয়ার পরদিন আমি ঢাকায় আসি।  এর মধ্যে আমার স্বামীর সাথে আমার কোনো কথায় হয়নি। ঢাকায় আসার পর জানতে পারি আমি তার দ্বিতীয় স্ত্রী আর সেখান থেকে আমার জীবনের গল্পের নতুন মোড় নিল।


গল্প_বেহালার_সুর

#পর্ব- ১

লেখিকা:শারমিন আঁচল নিপা


নেক্সট পার্ট গুলো সবার আগে নতুন পেজে দেয়া হবে নীল লেখায় চাপ দিয়ে নতুন পেজে ফলো করুন 👉 কাব্য-𝐄𝐱𝐭𝐫𝐚

বিপদ-আপদ বলে কয়ে আসে না! কোনো কারণে যদি আপনার বাচ্চা বিপদে পড়ে বা তাকে হঠাৎ করেই একা পথ চলতে হয়, তখন সে কি করবে

 বিপদ-আপদ বলে কয়ে আসে না! কোনো কারণে যদি আপনার বাচ্চা বিপদে পড়ে বা তাকে হঠাৎ করেই একা পথ চলতে হয়, তখন সে কি করবে? তাই খুব বেশি দেরি হওয়ার আগেই তাকে শিখিয়ে রাখুন কিছু জীবনদক্ষতা। শিশুকে এখন থেকেই ট্রেনিং দিন জীবনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার জন্য।


এই দক্ষতাগুলো তার জীবনকে যেমন সহজ করবে, তেমনি আপনাকেও করবে নিশ্চিন্ত। এগুলো সাধারণত প্রথাগত কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দেওয়া হয় না। তাই শিশুর জীবনমুখী শিক্ষার শিক্ষক হয়ে উঠতে হবে বাবা মাকেই।


আত্মরক্ষার প্রথম পাঠ:

আত্মরক্ষার কৌশল শেখানোর আগে শিশুকে আত্মবিশ্বাসী করে গড়ে তুলতে হবে। শিশুকে জানাতে হবে, কোনো পরিস্থিতিতেই মনোবল হারানো চলবে না, নিজের প্রতি বিশ্বাস হারানো যাবে না। শারীরিকভাবেও সুস্থ থাকা এবং দৌড়ঝাঁপের অভ্যাস জরুরি। আত্মরক্ষার প্রাথমিক পাঠ হলো কোথায় আঘাত করতে হবে, সেটা জানা। শিশুর জন্য সহজ হলো আক্রমণকারীর হাঁটুতে আঘাত করে দৌড়ে পালিয়ে যাওয়া। এ ছাড়া আক্রমণকারীর ঘাড়, চোখ, কান ও নাকও সহজ লক্ষ্যবস্তু হতে পারে; যেখানে আঘাত করলে সহজেই কিছু সময়ের জন্য হামলাকারীকে বিভ্রান্ত করা যায় ও ব্যস্ত রাখা যায়।


মানচিত্র শেখানো এবং দিক চেনানো:

এটা বেশ ছোট বয়স থেকেই শেখানো যায়। শিশুর হাতে একটি গ্লোব দিয়ে দিন এবং ঘরের দেয়ালে টানিয়ে দিন নিজের দেশের বড় একটি মানচিত্র। শিশু নিজেই অনেক কিছু শিখে যাবে। ছুটির দিনে বা সময় পেলে তাকে নিয়ে বসে দিক চেনান, বাড়ির আশপাশের এলাকাগুলো চিনিয়ে রাখুন। এতে কোনো দিন পথ হারালে বা ভুল করেও যদি কখনো বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায়, তাহলে সে নিজেই বাড়ি চিনে ফিরে আসতে পারবে।


বাড়ির ঠিকানা ও টেলিফোন নম্বর শেখানো:

যখনই শিশু কথা বলতে শিখবে, তাকে বাড়ির ঠিকানা ও মা বাবার ফোন নম্বর শিখিয়ে ফেলুন। যেন কখনো বিপদে পড়লে সে মা বাবার নাম, ঠিকানা বা টেলিফোন নম্বর বলতে পারে।


বিপদের বন্ধু চেনান:

শিশুকে চেনান বিপদে কে বন্ধু হতে পারে। পুলিশ ও সেনাবাহিনীর পোশাক চেনান। কখনো ভিড়ের মধ্যে আপনাকে খুঁজে না পেলে যেন সে পোশাক দেখে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের কাছে যেতে পারে এবং তাকে বিপদের কথা বুঝিয়ে বলতে পারে।


"না" বলতে শেখান:

আপনার শিশুকে "না" বলতে শেখান। যেন মনের বিরুদ্ধে গিয়ে কেবল সমাজের চাপে তাকে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে না হয়। ছোটবেলা থেকেই এই অভ্যাস গড়ে তুললে বড় হয়েও সে স্বাধীনভাবে নিজের সিদ্ধান্ত নিতে পারবে। মেয়ে শিশুকে আলাদাভাবে নিজেকে রক্ষা করার কৌশল রপ্ত করান। সে যেন অপরিচিত পুরুষের সাথে একা কোথাও না যায় বা হুট করে কাউকে বিশ্বাস করে না  ফেলে এই শিক্ষা তাকে দিন।


প্রাথমিক চিকিৎসা:

খেলতে গিয়ে কেটে-ছিঁড়ে গেলে কিংবা বন্ধুর হাত-পা কেটে গেলে শিশু যেন আতঙ্কিত না হয়ে প্রাথমিক চিকিৎসাটুকু দিতে পারে, তাকে সে জ্ঞান দিন। স্যাভলন বা অ্যান্টিসেপটিক দিয়ে ক্ষতস্থান পরিষ্কার, ব্যান্ডেজ বাঁধার মতো সহজ কাজগুলো শিখিয়ে দিন। ঠিক কতটুকু কেটে গেলে দ্রুত বড়দের সাহায্য নিতে হবে, তাও বুঝিয়ে বলুন।


অর্থ ব্যবস্থাপনা:

শিশুকে অর্থের মূল্য শেখান। তার হাতখরচ যেন সে কোনো ভালো কাজে ব্যয় করতে পারে, সেটা শেখান। অযথা খেলনা বা খাবারে অর্থ খরচ না করে কীভাবে অর্থের সর্বোত্তম ব্যবহার করা যায়, টাকা জমিয়ে শখের জিনিস বা প্রয়োজনীয় জিনিস কেনা যায়, সে শিক্ষা তাকে দিন।


রান্নাঘরের ছোটখাটো কাজ:

আজকাল বাজারে শিশুদের ব্যবহারের জন্য প্লাস্টিকের ছুরি পাওয়া যায়। সেসব ব্যবহার করে টুকটাক সবজি কাটা, খাবার বানানো, সাত বছর বয়সের পর গ্যাসের চুলার ব্যবহার শেখান। কোনো দিন মা–বাবা বাড়িতে না থাকলে সে যেন ফ্রিজ থেকে খাবার বের করে গরম করে খেতে পারে বা নিজেই বড় পাত্র থেকে ছোট পাত্রে খাবার নিয়ে খেতে পারে, সেটুকু তাকে শিখিয়ে দিন। তাছাড়া বাড়িতে যখন আপনারা রান্না করবেন, তাকে সহায়তা করতে উৎসাহ দিন। ছোটখাটো কাজ, যেমন পেঁয়াজ-রসুনের খোসা ছাড়ানো, ফ্রিজ থেকে সবজি বের করে আনা, সিংক থেকে প্লেট চামচ নিয়ে যথাস্থানে রাখা, খাবার টেবিলে প্রত্যেকের গ্লাসে পানি ঢেলে দেওয়ার মতো কাজের দায়িত্ব শিশুকে দিন।


এভাবে ছোটখাটো কাজের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিলে আপনার শিশু যেমন আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠবে, তেমনি ভবিষ্যৎ জীবনের জন্যও তৈরি হতে শুরু করবে। বাড়ি থেকে কখনো দূরে পড়তে গেলে বা নতুন পরিবেশে গেলে খুব সহজেই সে মানিয়ে নিতে পারবে, নিজের যত্নও নিতে পারবে ঠিকভাবে। সবচেয়ে বড় কথা, তাকে নিয়ে আপনাকে আর দুশ্চিন্তা করতে হবে না।

অপরাজিতা ফুল (Clitoria ternatea) একটি বহুবর্ষজীবী লতা জাতীয় গাছের ফুল, যা তার সৌন্দর্য, ঔষধি গুণ, ও নীল বর্ণের জন্য

 অপরাজিতা ফুল (Clitoria ternatea) একটি বহুবর্ষজীবী লতা জাতীয় গাছের ফুল, যা তার সৌন্দর্য, ঔষধি গুণ, ও নীল বর্ণের জন্য বিশেষভাবে পরিচিত। নিচে অপরাজিতা ফুলের কিছু গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য তুলে ধরা হলো:


🌸 সাধারণ বৈশিষ্ট্য ও ওষধি গুন নিচে দেওয়া হলো👇


বৈজ্ঞানিক নাম: Clitoria ternatea


গোত্র: Fabaceae (ডাল জাতীয় গাছের গোত্র)


স্থানীয় নাম: অপরাজিতা, বাটকমলতা, অশ্বত্থ, শঙ্খপুষ্পী (ভাষাভেদে ভিন্ন)


আদি উৎপত্তিস্থান: দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া


🌿 গাছের বৈশিষ্ট্য:


একটি নরম কাণ্ডযুক্ত, সরু, বহুবর্ষজীবী লতা।

পাতাগুলো যৌগিক (compound) ধরনের, অর্থাৎ একটি পাতা অনেকগুলো ছোট পাতার সমন্বয়ে গঠিত।


সাধারণত মাচা বা বেড়ার সাহায্যে ছড়িয়ে পড়ে।


🌼 ফুলের বৈশিষ্ট্য:

রঙ: সাধারণত গাঢ় নীল, তবে সাদা, হালকা নীল ও বেগুনি রঙের জাতও দেখা যায়।


আকৃতি: 

প্রজাপতির মতো দেখতে, একটি বড় পাপড়ি এবং তার মাঝে হালকা হলুদ বা সাদা দাগ থাকে।


গন্ধ: হালকা বা প্রায় গন্ধহীন


বিকাশ সময়: গ্রীষ্ম ও বর্ষায় বেশি ফুল ফোটে


🌱 ঔষধি গুণাগুণ:

আয়ুর্বেদ ও ইউনানী চিকিৎসায় অপরাজিতা বহুল ব্যবহৃত:


স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি করে (ব্রাহ্মী ও শঙ্খপুষ্পীর মত ব্যবহার)


দুশ্চিন্তা ও উদ্বেগ কমাতে সাহায্য করে

প্রদাহনাশক, জীবাণুনাশক ও মস্তিষ্ক উত্তেজক হিসেবে কাজ করে

গায়ের দাগ দূর করতে ও চুলের যত্নে ব্যবহৃত হয়


🍵 ব্যবহার:


অপরাজিতা ফুল দিয়ে “বাটারফ্লাই পি টি (Butterfly Pea Tea)” বানানো হয়, যা একটি জনপ্রিয় ভেষজ চা।


লেবু দিলে চায়ের রং নীল থেকে বেগুনি হয়ে যায় — এটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ।


🌍 পরিবেশগত উপকারিতা:


মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি করে (ডাল জাতীয় গাছ হওয়ায় নাইট্রোজেন ফিক্সেশন করে)


সহজে বেড়ে ওঠে, কীটপতঙ্গ তেমন আক্রমণ করে না


অপরাজিতা ফুল শুধুমাত্র তার সৌন্দর্যের জন্য নয়, বরং তার ঔষধি গুণ, পরিবেশবান্ধব বৈশিষ্ট্য এবং চা বা প্রসাধনীতে ব্যবহারের জন্যও অত্যন্ত জনপ্রিয়। 


প্রতিষ্টাতা ও পরিচালক 

হেকিমি দাওয়াখানা 

রবিউল করিম রুবেল

কতটুকু জমি দরকার,,,,?

 কতটুকু জমি দরকার,,,,?

গল্পটি রাশিয়ার এক লোভী লোক পাহমকে নিয়ে। যার জমি কেনার দিকে ঝোঁক বেশি। কারো কাছে জমির কথা শুনলেই তার চোখ চকচক করে উঠে। কম দামে জমি বিক্রি হলে তিনি তা কিনতে মরিয়া হয়ে পড়েন। জমির জন্য ছুটে যান এখানে সেখানে। সস্তায় যেখানে জমি পাওয়া যায় সেখানেই গিয়ে পরিবারসহ হাজির হন পাহম। জীবনযাপন শুরু করেন।


এভাবে এক এলাকা থেকে আরেক এলাকা ঘুরতে ঘুরতে পাহম এমন এক এলাকার সন্ধান পান যেখানকার মানুষ খুবই সহজ-সরল। তাদের থেকে খুবই কম দামে জমি কেনা যায়। তারাও খুব আন্তরিক। পাহম তার পরিবার নিয়ে সেখানেই থাকতে শুরু করেন। সেখানকার উর্বর জমি থেকে তার আয় দিন দিন বাড়তেই থাকে। কিন্তু জমি নিজের করে নেয়ার যে লোভ, তা থেকে তিনি বেড়িয়ে আসতেই পারেন না। ক্রমেই চক্রে পড়ে যান। আরও জমি লাগবে তার। জমির চিন্তা তাকে রাতে ঘুমাতে দেয় না।


এমনই চিন্তার সময় তার কাছে খবর আসে অনেক দূরে উর্বর এক এলাকা রয়েছে। সেখানে জমির দাম এখানকার থেকেও অনেক অনেক সস্তা। ফসলও বেশ ভালোই ফলবে। এতে করে আরও আরামে থাকতে পারবে পাহম। জমি নিয়ে তার এত দুশ্চিন্তাও থাকবে না। অনেক চিন্তাভাবনা করে পাহম সিদ্ধান্ত নেন সেখানে পাড়ি জমাবেন। জমি তার দরকার।


সেখানে গিয়ে কথা হয় কর্তৃপক্ষের সাথে। জমির দাম একদিনে মাত্র এক হাজার রুবল। কিন্তু হিসাবটা বুঝে উঠতে পারে না পাহম। দিনের হিসাবে কী করে জমি বিক্রি করা হয় তা তার জানা নেই। তখন তিনি জানতে পারেন, একদিনে তিনি যতদূর জমি ঘুরে আসতে পারবেন ততদূর জমিই তার হবে! এর জন্য তাকে দিতে হবে মাত্র এক হাজার রুবল। তবে যেখান থেকে শুরু করেছে সেখানে এসেই শেষ করতে হবে যাত্রা। এবং তা সূর্য ডুবে যাবার আগেই।


আনন্দে আত্মহারা হয় পাহমের মন। এতদিনে তিনি মনের মত কম দামে জমি পাচ্ছেন। রাতে ঘুমাতে পারেন না তিনি। প্রফুল্ল মন শুধু আনন্দ করতে চায়। জমি পাওয়ার সময়ের জন্য তার তর সইছে না। ভোরে তন্দ্রার মতো আসে। সেখানে স্বপ্নে তিনি নিজের মরদেহই নিজের চোখের সামনে দেখতে পান। ভড়কে যান পাহম। কিন্তু এসব ভেবে এখন কোনো লাভ নেই। সকাল শুরু হয়ে যাচ্ছে।


পাহম পাহাড়ে থাকা লোকদের কাছে গিয়ে হাজির হন। তার মাথায় থাকা টুপিতে এক হাজার রুবল রেখে যাত্রা শুরু করেন তিনি। যাত্রার শুরু থেকেই বেছে বেছে ফসলের জন্য উপযোগী জমিগুলোতে চিহ্ন দেন। মাঝে কিছুটা বিশ্রাম নিলেও তখন বসে পড়েন না তিনি। বসে পড়লে যদি ঘুম পায় তখন সব শেষ হয়ে যাবে। জমির লোভে এগোতেই থাকেন পাহম। একটার পর একটা জায়গা তার নিজের জন্য চাই।


কিন্তু হায়! সূর্য তো অস্ত যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। এখন তাকে ফিরতেই হবে। কিন্তু দৌড়েও টুপিটার কাছে ফিরতে পারবেন না বলে মনে হয় তার। তাই কষ্ট করে হলেও জোরে পা চালান পাহম। এতে তার প্রচুর কষ্ট হচ্ছিলো। কিন্তু কিছুই করার ছিলো না তার। অবশেষে সবার উৎসাহ পেয়ে শুরুর জায়গায় এসে পড়ে যান পাহম। সবাই বাহবা দিতে থাকে তাকে। অনেক জমি পেয়েছে সে। যা অনেকটাই কল্পনাতীত।


কিন্তু তার মুখ তুলে দেখা যায় মুখ থেকে রক্ত বের হচ্ছে। মারা গেছে পাহম। এত জমি আর তার কাছে গেলো না। তার তখন জায়গা হলো পা থেকে মাথা পর্যন্ত মাটির জায়গা অর্থাৎ মাত্র ছয় ফুট। 

                                          

 -লিও তলস্তয়(রুশ সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ লেখক)

সকল মা দের প্রতি রইলো ভালোবাসা❤️ সংগৃহীত পোস্ট। 

 মা দের হাতে এক জোড়া সিটিগোল্ডের চুড়ি থাকে সবসময়। বছরের পর বছর তারা সেই চুড়ি পরে থাকে হাতে। সবচেয়ে বিশ্বস্ত দোকান থেকে তারা রঙ না উঠার গ্যারান্টি নিয়ে সেই চুড়ি কিনে আনে।


একসময় ঢাকা সহ সারাদেশে আড়াইশো টাকা দামে ইন্ডিয়ান সূতি শাড়ি বাড়ি বাড়ি এনে বিক্রি করতো ফেরিওয়ালারা। মায়েরা, মায়ের বয়সী সবাই সেখানে ভীড় করে শাড়ি কিনতো। দামী কোন কাপড়ের দিকে তারা ফিরেও তাকাতো না। ইভেন এখনো, জোর করে কিনে না দিলে কোনো মা ই কখনো দামী কিচ্ছু কেনে না।


মা দের কখনো কোন পছন্দের খাবার খেতে ইচ্ছা করে না। মা দের কখনো কোন প্রিয় রঙ থাকে না। মা দের কোন শখ থাকে না । এই পৃথিবীতে তারা যেন শুধুই দিতে এসেছে।

মা কে কখনো যদি জিজ্ঞাসা করি,মা তোমার কি খেতে ভাল্লাগে সবথেকে?

মা হাসে! শুধুই হাসে! কোন স্পেসিফিক খাবারের নাম বলে না।


সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখি মা কাজ করছে, বাইরে থেকে যখনি বাসায় আসি দেখি মা কাজ করছে। দুপুরে কোনোদিন ঘুমালেও ঘুম থেকে উঠে দেখি মা কাজ করছে। রাতের ঘুমানোর সময়টা বাদ দিয়ে মায়েরা ননস্টপ মেশিনের মত কাজ করতে পারে।


একটানা ফ্যামলির কাজ করার যে শক্তিটা মায়ের হাতে আছে সেটা এই পৃথিবীতে আর কারও নেই। এত বড় ছেলে হয়েও একটা জিন্স প্যান্ট ধুতে আমাদের প্রচুর কষ্ট হয়। আর সারামাসের জমানো চার পাঁচটা জিন্স প্যান্ট সব মায়েরা হাসতে হাসতে যেন ধুয়ে ফেলে।


ছোটবেলায় ছোট করে চুল কাটতে বললে, বিকেলে খেলতে না গিয়ে পড়তে বসতে বললে, অতিরিক্ত শাসন করলে মায়ের উপর খুব রাগ হত। আর এখন, মায়ের একটা শাসন করা কথা, একটা ঝাড়ি শোনার জন্য ওয়েট করে থাকি। মা বকা দিলেও মনের মধ্যে কেমন একটা শান্তি শান্তি ভাব হয়।


পেঁয়াজ কাটতে গেলে তাদেরও চোখ ভেজে, কিছু একটা ভাজতে গেলে তেল ছিটে। মাছ কাটতে গেলে মা দেরও আঙুল কাটে। তবে তাদের এই গল্পগুলো আমাদের অজানা থাকে সবসময়। হয়ত তারাই জানতে দেন না।


মায়েদের সবথেকে কষ্টের মাস হল রোজার মাস। আমাদের স্কুল-কলেজ-অফিসের টাইম কমানো হয় রোজার মাসে। কিন্তু মায়েদের রুটিন আরও টাফ হয়। আজানের বিশ মিনিট আগে উঠে ভাত খেতেই আমাদের খুব কষ্ট হয়ে যায় অথচ মায়েরা দুই ঘন্টা আগে উঠে রান্না শুরু করে। রোজা রেখেও সারাদিন একটার পর একটা কাজ লেগেই থাকে তাদের।


এই পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশি ভালোবাসা, সবচেয়ে বেশি মায়া। উইথআউট এনি বেনিফিটে সব কাজ করার মানুষটা হল একমাত্র মা।


সকল মা দের প্রতি রইলো ভালোবাসা❤️

সংগৃহীত পোস্ট। 


#ছবি Sole Partner [Dev's Creation]

#স্বপ্নকুটির_A_House_of_Love

একটা সময়ের পর, অধিকাংশ নারী স্বামীর সাথে সংসার করে না। স্বামীর ঘরে সংসার করে। 

 একটা সময়ের পর, অধিকাংশ নারী স্বামীর সাথে সংসার করে না। স্বামীর ঘরে সংসার করে। 


কথাটা শুনে হাসি এলেও এইটা কি পরিমাণ সত্য আর নিত্য তা আমরা নিজেরাও জানি না। খুব বেশি নিত্যতায় মিশে আছে বলে আলাদা করে চোখেও পড়ে না৷ 


উচ্চবিত্ত, মধ্যবিত্ত বা নিম্মবিত্ত, সদ্য বিবাহিত, মধ্যবয়স্ক বা শেষ বয়স ব্যাপার না। এইটা ছড়িয়ে আছে সব খানে। 


সংসার টা একটা সময়ের পর সেই নারীর হয়ে যায়, যে নড়বড়ে কাপাঁ পায়ে আসে সে ঘরে।  

জা, দেবর, ননদ, শ্বশুর, শাশুড়ী, আত্মীয়, সন্তান সবার সাথে মাখামাখি সর্ম্পক থাকলেও থাকে না সে একটা মানুষের সাথে। 

অমুকের বউ, তমুকের বউ হয়েই রয়ে যায় শুধু। 

এই নামটার সাথেই পার হয়ে যায় গোটা একটা জীবন। গোটা একটা শতাব্দীর সংসার। 

 

দায়িত্ব সমানে পালন করে দুজনেই। 

কিন্তু নেই কারো কোন টানে আর অস্তিত্ব থাকে না অনুভূতি তে। পুরো দিনে প্রয়োজন ছাড়া, অপ্রয়োজনে তাদের কথা বলতে দেখা যায় না। দেখা যায় না পাশে বসে নতুন পুরানো কথা বলতে। তাদের আলাদা কোন কথা থাকে না। আলাদা কোন সময় থাকে না। কেউ কারো প্রশংসা করে না। তাকানো হয় না। যেন এমনটায় তো স্বাভাবিক। 


অনেকের তো বিছানা আলাদা হয়ে যায় অনেক বছর। 


আমাদের দাদু -ঠাকুমা, কাকা-কাকী, মামা-মামী, হয়ত মা-বাবাও, এমন অনেকেই দেখি আমরা। জানি। তবে এই নিয়ে আলাদা কোন চিন্তা ভাবনা নেই কারো সময় নেই ভাবার। আলাদা কোন অনুভূতি ও হওয়ার কথা মাথায় আসে সে নারী বা পুরুষ টার জন্য।

অনেকের জন্য কেমন যেন স্বস্তির ব্যাপার হয়ে যায় এইটা।

সন্তানদের আলাদা কোন অভিব্যক্তি থাকে না এই নিয়ে। যেন চিরচায়িত স্বাভাবিক সর্ম্পক মা বাবার এইটা৷ 


একটা সময়ের পর অধিকাংশ নারী স্বামীর সাথে সংসার করে না। স্বামীর ঘরে সংসার পাতে। 


সব দায়িত্ব, কি সুনিপুণ হয়, তার কথা ছাড়া নড়ে না একটা চামচ ও। অধিকার বোধ তীব্র হয় প্রতিটা কাজে তার। 

কিন্তু সে কোন আগ্রহ বোধ দেখায় না তার উপর অধিকার ফলানো, যে অমুকের আর তমুকের বউ বলে সে স্বীকৃত। 


ব্যাপার টা আপনি চোখ মেলে দেখলে প্রতিটি পরিবারে একটা দুটো পেয়ে যাবেন। সত্যিই পাবেন। 


আচ্ছা এই ব্যাপার টা কি একদিনে হয়েছে? এমন নিস্পৃহ আর নিষ্প্রাণ অনুভূতি কি কেউ শখ করে মেখে নেয়? 

আজ না সে মধ্যবয়স্ক। ছেলে মেয়ে বড় হওয়া সে তকমা নিজেই টেনে নিয়েছে। 

তবে  বিয়ের দুই তিন বছর পর ও অনেকে এমন নিষ্প্রাণ হয়, কেউ দশ বছর পর,কেউ বিশ বছর। 

 কিন্তু কাউকে ভালোবাসতে পারার আগ্রহ বা ইচ্ছে তো মানুষ একদিনে হারায় না।


কি নিদারুন অবহেলা, অভিযোগের শব্দ হারানোর আকুতি ধীরে ধীরে এমন অনুভূতি হীন হয়ে পড়ে কোন নারী তা শুধু সেই জানে। 

আজ যার ইস্পাতের মতো দৃঢ় ব্যক্তিত্ব,  কি মলিন নেতানো তিক্ত অনুভূতি সে পুরানো জিনিসের মতো ধুলো জমা তাকে জমিয়ে রেখেছে তা শুধু সেই জানে, যেমন গোপনে জমানো তার কোন ব্যাংক জমার রশিদ।


এই নিষ্প্রাণ অনুভূতি টা সাড়ানো কোন তাড়া এক সময় তারা আর অনুভব করে না৷ 

সংসার সংসার খেলায় দিব্যি দিন কেটে যায়। চলে যায় সে মানুষ টাও। 

কিন্তু এরা একা হয় না। ভেঙে পড়ে না। কারণ অনেক শতাব্দী অবধি সে একাই এই সংসারে একা সংসার করে যাচ্ছে।


একটা সময়ের পর অধিকাংশ নারী স্বামীর সাথে সংসার করে না। স্বামীর সংসারে একটা নামের সাথে সংসার করে। 

কি নিদারুন অদ্ভুত সত্য! একটা দীর্ঘশ্বাস ও থাকে না সে নামের সংসারে এতটাই অনুভূতি হীন,এই সংসারের সংসার। 


একটা সময়ের পর অধিকাংশ নারীই নামের সাথে সংসার করে ব্যক্তির সাথে নয়।


সংগৃহীত

আজও ভাবি— বড় ভাইয়েরা এমন হয়, নাকি এমন যাঁরা হন, তারাই বড় ভাই হয়ে ওঠেন?

 আপনি বিয়ে করেন নি? না স্যার। কেন?"


একটু থেমে বলেন— বাবা যখন মা /রা যান, আমার তখন সাত ছোট ভাইবোন। ওদের তো তখন কেউ ছিল না। কাজ কাম করে ওদের মানুষ করেছি... ওদের বড় করতে করতে নিজের জীবনের টাইমটাই চলে গেল, স্যার।


দীর্ঘ /শ্বা /স ফেললাম। নিচু গলায় জিজ্ঞেস করলাম,

আপনি একা কেন? কেউ আসে না?


মেঝ বোনডা আইছিল স্যার। চলে গেছে। একটুখানি চুপ করে বললেন।


আসলে তার মেঝো বোনটাই এসেছিল। কিছুটা সময় পাশে ছিল। তারপর অনেক কিছু ফেলে, অনেক দায়িত্ব ঝুলিয়ে, চুপচাপ চলে গেছে।


পেটের য /ন্ত্র /ণা এখনও কমেনি। আপাতত ওয়ার্ড থেকে ওষুধ দিয়েছি। কাল সমাজকল্যাণে পাঠানোর ব্যবস্থা করব।


আমি আর কিছু বলিনি। শুধু দেখলাম— কেউ না এলে, কেউ খোঁজ না নিলে কীভাবে চোখ পা 'থ 'র হয়ে যায়। প্রথমে কঠিন সেই চোখ জ্ব /লে উঠল লা 'ল হয়ে, তারপর নিঃশব্দে ভিজে গেল।


পুরুষ মানুষের কান্না বড় দু, /ষ্প্রা /প্য। আর এই মানুষটি? জীবনের কতগুলো অসম যু /দ্ধ একা লড়ে শেষ প্রান্তে এসে এভাবে ভেঙে পড়বে, ভাবা যায় না, মানায়ও না।


মনে হয়, বড় ভাই যেন একটা "পদ"। যেখানে ভালোবাসা না থাকলেও দায়িত্ব থাকে। স্নেহ না থাকলেও ত্যা 'গ থাকে। যার চরিত্রে নায়ক হয়ে ওঠে একটা জীবন— কিন্তু সেই গল্পের দর্শক থাকেনা কেউ।


আজও ভাবি— বড় ভাইয়েরা এমন হয়, নাকি এমন যাঁরা হন, তারাই বড় ভাই হয়ে ওঠেন? হয়তো কেউ কেউ জীবনের চিত্রনাট্যে এমন এক স্ক্রিপ্ট পান, যেটা শুধু কর্তব্যে ভরা, ভালোবাসাহীন। যেখানে শেষ দৃশ্যটা লেখা থাকে— নিঃ 'স 'ঙ্গ 'তা আর নি 'র্ম 'ম 'তা 'য়।

#তারকাঁটা

Ruhul Amin

সোমবার, ৯ জুন, ২০২৫

সময় কি সত্যিই আছে? নাকি সবই আমাদের মস্তিষ্কের তৈরি?

 সময় কি সত্যিই আছে? নাকি সবই আমাদের মস্তিষ্কের তৈরি?

🛑 সবচেয়ে দীর্ঘ পাঁচ মিনিটের গল্প

রাস্তার একপাশে দাঁড়িয়ে থাকা রাকিব হঠাৎই বুঝে উঠতে পারলো না—ঠিক কী ঘটলো।

হঠাৎ এক বিশাল ট্রাক বাঁক ঘুরে তার দিকেই আসছে, আর ব্রেক কাজ করছে না।

সবকিছু যেন স্লো মোশনে চলতে লাগল।

চাকা ঘর্ষণের শব্দ, মানুষের চিৎকার, তার নিজের হাত দুটো উপরে উঠে নিজেকে বাঁচানোর চেষ্টা—সবকিছু যেন বহুক্ষণ ধরে ঘটছিল। অথচ পুরো ঘটনাটি মাত্র ৫ সেকেন্ড ছিল।

রাকিব পরে বলে, “আমার মনে হচ্ছিল, যেন মিনিটের পর মিনিট পার হয়ে যাচ্ছে। মাথায় হাজারটা চিন্তা ঘুরছিল। কিন্তু বাস্তবে সবাই বললো, মাত্র কয়েক সেকেন্ডে সব শেষ হয়ে গিয়েছিল!”

এই ঘটনা আমাদের একটা গভীর প্রশ্নের মুখে দাঁড় করায়—

👉 সময় কি আসলেই বাইরের কোনো বাস্তব বিষয়? নাকি আমাদের মস্তিষ্কই সময় তৈরি করে নেয়, পরিস্থিতি অনুযায়ী?

🧠 সময়: অনুভব, না বাস্তবতা?

আমরা সবাই “সময়”-কে চিনি। ঘড়ি দেখে সময় বলি, “৫টা বাজে”, “কাল ছিল রবিবার”, “আগামীকাল পরীক্ষা”।

কিন্তু আপনি কখনো সময়কে ছুঁয়েছেন? দেখা গেছে?

না। সময় অনুভব করা যায়, কিন্তু ধরা যায় না।

আর এখানেই রহস্যটা জমে।

🔬 নিউটনের চোখে সময়:

স্যার আইজ্যাক নিউটন বলতেন—

“সময় একটা বাস্তব জিনিস। এটা সবকিছুর বাইরে, সবকিছুর আগে থেকেই ছিল এবং থাকবে।”

নিউটনের মতে সময় হলো একটা বিশ্বজনীন ঘড়ি, যা সবার জন্য একভাবে চলে।

যেমন—

• আপনি দৌড়াচ্ছেন, বা

• আমি ঘুমাচ্ছি, অথবা

• কেউ একজন চাঁদে হাঁটছে...

সবার সময় একই হারে টিকছে। এক সেকেন্ড মানেই এক সেকেন্ড—সবার জন্য।

এটাই ছিল ক্লাসিক্যাল ভাবনা। আমরা স্কুলে এরকমটাই শিখি।

⌛ আইনস্টাইন এলেন, আর সময় ভেঙে পড়ল!

আলবার্ট আইনস্টাইন বললেন, “না, সময় কারও জন্যও সমান নয়।”

তিনি দেখালেন,

"সময় আর জায়গা একে অপরের সঙ্গে মিশে আছে — যাকে বলা হয় স্পেসটাইম।"

🎢 উদাহরণ:

একটা রকেট যদি আলোর গতির খুব কাছাকাছি গতিতে চলে,

তাহলে সেই রকেটের ভেতরের মানুষের জন্য সময় ধীরে চলবে।

আপনি যদি পৃথিবীতে থাকেন আর আপনার ভাই সেই রকেটে উঠে যায়—

১০ বছর পর ফিরে এলে দেখবেন সে কম বয়স্ক আর আপনি অনেক বেশি বুড়ো!

এটাই টাইম ডাইলেশন।

অর্থাৎ সময় স্থির কিছু নয়—

এর গতি আমাদের গতি ও মাধ্যাকর্ষণের ওপর নির্ভর করে।

🌀 কোয়ান্টাম জগতে সময় কই?

এখন আসি ক্ষুদ্রতম জগতে—কোয়ান্টাম মেকানিক্সে।

এই জগতে ইলেকট্রন, কণিকা, ফোটনরা থাকে। এখানে আবার সময় আরও অদ্ভুত!

🔹 কোয়ান্টাম সিস্টেমে অনেক সময় ঘটনাগুলোর মধ্যে ক্রম ঠিক থাকে না।

🔹 কোনো কিছু ঘটার আগে আরেকটা ঘটে যেতে পারে, বা একই সঙ্গে ঘটে যেতে পারে।

🔹 "কার আগে কে ঘটলো"—এই প্রশ্নটাই এখানে অর্থহীন হয়ে যায়।

অনেক কোয়ান্টাম গবেষক বলেন—

“সময় আমাদের তৈরি করা একটা মানসিক গঠন — nature-এ সময় বলে কিছু নেই।”

🧠 মস্তিষ্ক কী করে সময় তৈরি করে?

আমাদের ব্রেন টাইমকিপার নয়।

বরং ব্রেন “অনুভব করে” কতটা সময় গেল—সেটাও ঘটনার গুরুত্ব অনুযায়ী।

যেমন:

• বিপদের সময়: ব্রেন ‘স্লো মোশন’ চালায় যেন বেশি তথ্য সংগ্রহ করা যায়।

• আনন্দের সময়: সময় মনে হয় দ্রুত চলে যাচ্ছে।

• বোরিং সময়: সময় মনে হয় থেমে আছে।

🕰️ আমরা যেমন ঘড়ির কাঁটা দেখি, আমাদের ব্রেন “ঘটনা” ধরে ধরে সময় বোঝে।

যদি অনেক ঘটনা ঘটে, ব্রেন ভাবে অনেক সময় পেরিয়ে গেছে।

আর যদি কিছুই না ঘটে, মনে হয় সময় দাঁড়িয়ে আছে।

🔚 শেষ প্রশ্ন: আমরা কি সময়ের মধ্যে আছি, নাকি সময়ই আমাদের মধ্যে?

এই লেখাটা পড়ার সময় আপনার হয়তো ৩ মিনিট কেটেছে।

কিন্তু প্রশ্নটা আপনাকে সময়ের বাইরেও নিয়ে যেতে পারে—

👉 সময় কি প্রকৃতিরই অন্তর্গত কিছু?

👉 নাকি আমরা, মানুষরাই, মস্তিষ্কের ম্যাজিক দিয়ে “সময়” তৈরি করেছি—ঠিক যেভাবে আমরা গল্প, ভাষা, স্বপ্ন তৈরি করি?

"আমরা কি সময়ের ভিতর বেঁচে আছি? নাকি সময়ই আমাদের মস্তিষ্কের ভিতরেই বেঁচে আছে?"

এই প্রশ্নের উত্তর হয়তো আপনি নিজেই খুঁজে বের করবেন—পরবর্তী কোনো এক ৩ মিনিটে।

ফলো দিয়ে পাশে থাকুন । ধন্যবাদ

কশাইদের প্রতারণার শিকার ভোক্তাগণ,,,,,,,,,, ফেইসবুক থেকে নেওয়া

 আমাদের দেশে মাংসের দোকানগুলোতে গেলে দেখবেন কসাই মাংস কাটছে আর সেই মাংস থরথর করে নড়ছে। সাধারণ ক্রেতারা মনে করে, মাংস নড়ছে মানেই এটা একদম টাট...