![]() |
যেইভাবে সারা বছর মরিচ খেতে পারবেন।
ছাদ বাগানে মরিচ চাষে আমার অভিজ্ঞতাঃ
ছবি দেওয়াঃ জাত বিজলী
আপনি যদি ১০ টা মরিচ গাছ থাকে তাহলে কখনো মরিচ আর বাজার থেকে ক্রয় করতে হবে না।
জাত নির্বাচনঃ
প্রথমে ভালো মানের বিশেষ করে হাইব্রিড জাতের বীজ কিনি। কারণ ছাদে চাষ করার জন্য হাইব্রিড জাত সবচেয়ে উত্তম। সারাবছর মরিচ পাওয়া যায়, গাছ বেশ ঝোপালো হয় আর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি।
চারা তৈরিঃ
প্যাকেট খুলে বীজগুলো ১৫/২০ মিনিট রোদে শুকিয়ে নেই।বিকেল বেলায় বীজগুলো বীজতলায় ফেলে উপরে হালকা ঝুরঝুরে মাটি দিয়ে ঢেকে দেই। স্প্রে করে পানি দিয়ে মাটি ভিজিয়ে দেই। ১০/১২ দিন পরে চারা গজাতে শুরু করবে। চারা ৬/৮ পাতা হলেই তুলে টবে লাগিয়ে দেই।
মাটি তৈরিঃ
আমি গ্রামে কোকোপিট, ভার্মিকম্পোস্ট, শিং কুচি, হাড়ের গুরা, নিম খৈল ইত্যাদি ইত্যাদি পাই না। তাই এগুলো ছাড়াই আমি যেভাবে মাটি তৈরি করি- ৪০ ভাগ পুরনো গোবর সার, ৬০ ভাগ মাটির সাথে সামান্য ডিএপি সার, সামান্য পটাশ সার ও কিছু সরিষার খৈল গুড়া মাটিতে ভালোভাবে মিশিয়ে বস্তাবন্দি করে রাখি। এক সপ্তাহ পরে বস্তা হতে খুলে রোদে শুকিয়ে টবে বা ড্রামে ভরে রাখি। প্রতি দিন বিকেলে পানি ছিটিয়ে দেই। ৮/১০ দিন পরে মাটিতে জো এলে চারা লাগিয়ে দেই।
পরিচর্যাঃ
চারার শেকড় মাটিতে এডজাস্ট হলে গাছ দ্রুত বাড়তে থাকে।চারা অবস্থায় টবে বেশি পানি দেই না। গাছ ডাল-পালা মেলা শুরু করলে কিছুটা গোবর সার দিয়ে দেই।১৫/২০ দিন পরপর সরিষার খৈল পচা পানি দেই। প্রায় ১০ দিন পরপর এবামেকটিন ও ইমিডাক্লোপিড গ্রুপের ঔষধ মিশিয়ে বিকেলে ভালোভাবে গাছে স্প্রে করি।
মোটামুটি আমি এই পদ্ধতিতেই আল্লাহর রহমতে মরিচের ভালো ফলন পেয়ে থাকি। অনেকে জানতে চাওয়ায় পদ্ধতিটি সবার সাথে শেয়ার করলাম। সবাই ভালো থাকবেন। সবার জন্য শুভকামনা।



কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন