ছাগলের ভাত কেন খাওয়ানো উচিত নয়
আমি কখনো ভাত খেতে দেই না কারণ অতিরিক্ত ভাত খাওয়ানো হলে বিভিন্ন সমস্যা দেখা দেয়।
আল্লাহ পাক গবাদিপশুকে ঘাস খাওয়ার জন্যই সৃষ্টি করেছেন, ভাত খাওয়ার জন্য নয়। আর ভাত খাওয়ার মতো ব্যবস্থাও তাদের শারীরিক গঠন প্রক্রিয়ার মধ্যে আল্লাহপাক রাখেন নাই।
তারপরও আপনি চাইলে আপনার গরুকে ভাত কেন যা মন চায় তাই খাওয়াবেন। কিন্তু আপনি টিকে থাকতে পারবেন কিনা সেটা ভবিতব্যই বলতে পারবে
ডাঃ মোঃ নূরুল আমীন স্যার।
গবাদিপ্রাণির খাদ্য সবুজ ঘাস, লতাপাতা খড় এগুলো হলো গবাদিপ্রাণির স্বাভাবিক খাদ্য। গবাদিপ্রাণির খাদ্যের শতকরা ৮০ ভাগ হবে আঁশ জাতীয় খাদ্য এবং ২০ ভাগ হবে দানা জাতীয় খাদ্য। তা না হলে খাদ্য পরিপাক, পরিশোষণ,সর্বপরি গরুর দৈহিক পরিবৃদ্ধি ইত্যাদি ভালো হবে না।
গবাদিপশুর খাদ্যে আঁশ জাতীয় উপাদান রুমেন অণুজীবের নিরবচ্ছিন্ন কার্বোহাইড্রেড প্রাপ্তি ঠিক রাখে, ফলে খাদ্যের সদ্ব্যবহার হয়। ভুট্টা ভাংগা,গম ভাংগা,চালের ক্ষুদ, আটা,ময়দা ইত্যাদি দানাদার খাদ্য উপাদানে স্টার্চ বেশি থাকে। খড়, ঘাস, লতাপাতা ইত্যাদি আঁশ জাতীয় খাদ্যে থাকে সেলুলোজ,হেমিসেলুলোজ।
গবাদি পশুকে আঁশ জাতীয় খাদ্য খড়,ঘাস লতাপাতা ইত্যাদি খাওয়ানো হচ্ছে এমন অবস্থায় যদি হঠাৎ খাদ্য পরিবর্তন করে দানা জাতীয় খাদ্য সরবরাহ করা হয় বা আশঁ জাতীয় খাদ্যের চেয়ে বেশি পরিমান দানা জাতীয় খাদ্য খাওয়ানো হয সেক্ষেত্রে পরিপাকজনিত সমস্যা সৃষ্টি হয়।
দানা জাতীয় খাদ্যে স্টার্চ বেশি থাকে, যাকে বলা হয় readily fermentable carbohydrate, এই স্টার্চ খুব দ্রুত পরিপাক হয়। দ্রুত ফ্যাটি এসিড উৎপন্ন হওয়ার কারণে রুমেনের এসিডিটি বেড়ে যায়। আশঁজাতীয় খাদ্যের পরিবর্তে হঠাৎ দানা জাতীয় খাদ্য সরবরাহ করলে স্টার্চ পরিপাক করে এমন ব্যাকটেরিয়ার দ্রুত বৃদ্ধি পায়। এই ব্যাকটেরিয়া যে এসিড তৈরি করে তার ৮০ -৮৫ ভাগ হলো ল্যাকটিক এসিড। একই সময়ে রুমেনের পিএইচ কমে ৫ এ নেমে আসে। ল্যাকটিক এসিডের পরিমান যদি খুব বেশি হয় তাহলে তা রুমেনে পুঞ্জিভুত হয় এবং এর পরিপ্রেক্ষিতে তা রুমেন প্রাচীরের মাধ্যমে শোষিত হযে রক্ত প্রবাহে মিশে। রক্তে উচ্চ মাত্রার ল্যাকটিক এসিডের উপস্থিতির কারনে গবাদিপ্রাণি নিচের যে কোন একটি বা একাধিক সমস্যায় ভুগতে পারে।
১ – রুমেন নিশ্চল হয়ে যায় অর্থাৎ রুমেন কোন কাজ করবে না।
২ – খাদ্য গ্রহন কমে যায়।
৩ – এসিটিক এসিড উৎপাদনকারী ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যা কমে যায়। এই ব্যাকটেরিয়া দুধে ফ্যাট উৎপাদনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যা কমে গেলে দুধের ফ্যাটের মাত্রাও কমে যায়।
৪ – রুমেনের প্রাচীর ক্ষতিগ্রস্থ হয়।
৫ – গবাদিপশুর পেটে গ্যাস উৎপন্ন হয় অর্থাৎ এসিডোসিস হয়।
৬ – এমনকি পেট ফুলে,শ্বাস কষ্টে মারা যেতে পারে।
ভাত, খুদের ভাত, আটাঘাটি, আটাগুলা পানি, আলুসেদ্ধ সবগুলোই কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাদ্য। এগুলো খাওয়ানো হলে তা কোন চর্বণ সরাসরি ছাড়াই গবাদিপশুর পেটে চলে যায় এবং বদ হজম ও পেটে গ্যাস তৈরি করে। এগুলো দানাদার খাদ্য হতে পারে না
সুতরাং এগুলো খাওয়ানো উচিত নয়।
তথ্যসূত্র ইন্টারনেট
Shahin Goatfarm We Love Goat Farming.
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন