এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

মঙ্গলবার, ১৪ জানুয়ারি, ২০২৫

বাস ভাড়া বাঁচাতে সাইকেল ব্যবহার করতেন।  নিজের সাইকেলটি দূরে নিয়ে যেতে পারতেন না বলে বাধ্য হয়ে অন্য দোকান থেকে সাইকেল ভাড়া নিতেন

 বাস ভাড়া বাঁচাতে সাইকেল ব্যবহার করতেন। 

নিজের সাইকেলটি দূরে নিয়ে যেতে পারতেন না বলে বাধ্য হয়ে অন্য দোকান থেকে সাইকেল ভাড়া নিতেন। দূরের লোক তাঁকে চিনতেন না অগত্যা কখনও, কখনও নিজের ঘড়ি থেকে ব্যক্তিগত জিনিসপত্রও বাঁধা দিতে হত। রোগা পাতলা, সুদর্শন চেহারার এই সাহেব মন্দিরের টানে হাসিমুখে মাইলের পর মাইল মেঠো পথ পাড়ি দিতেন ,তথ্য জানতে গভীর আগ্রহে শুনতেন গ্রামের সাধারণ মানুষ থেকে বিদগ্ধ মহলের কথা। সাহেবের নাম ডেভিড ম্যাক্কাচিন তিনি বাঙালির প্রিয় টেরাকোটা সাহেব। সত্যজিৎ রায়ের ঘনিষ্ঠ,যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে কমপ্যারেটিভ লিটারেচার পড়তেন। সত্যজিৎ রায়ের ছবির ইংরেজি সাবটাইটল করেছেন।

ধ্রুবতারাদের খোঁজে


পেটের রোগে আক্রান্ত হওয়ার পর শান্তিনিকেতনে লীলা রায় নিজের হাতে রেঁধে খাইয়ে ডেভিড ম্যাক্কাচিনকে

 সুস্থ করে তুলেছিলেন। শরীর শেষ পর্যন্ত সব কিছু সহ্য করলেও মন টিকল না শান্তিনিকেতনে। এর আগে মধ্যবিত্ত ব্রিটিশ পরিবারের সন্তান ডেভিড বাধ্যতামূলক সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়েছিলেন। স্নাতক হয়েছেন ইংরেজি, জার্মান ও ফরাসি ভাষাসাহিত্যে। তারপর স্নাতকোত্তর। ফ্রান্সে শিক্ষকতার কাজে যোগ দিয়েছিলেন, কিন্তু সেখানে তাঁর ভাল লাগল না। ইংল্যান্ডে আবার ফিরে আসার পরে এবার সোজা রবীন্দ্রনাথের শান্তিনিকেতনে। তবে সেখানে তিনি থাকতে পারলেন না। পোড়ামাটির মন্দির নিয়ে ডেভিডের মুগ্ধতার রেশ কখনও শেষ হত না। সত্যজিৎ রায়ের সঙ্গে আলাপ হয়েছে। মানিকবাবু ও তাঁকে খোঁজ দিতেন বিভিন্ন মন্দিরের। দৈনন্দিন খরচ চালিয়ে অবশিষ্ট টাকা ডেভিড জমিয়ে রাখতেন টেরাকোটা মন্দির অভিযানের জন্য খরচ হিসেবে। কখনও সময় পেলে সত্যজিৎ রায়ের ছবির শুটিং দেখতে যেতেন মানিববাবুর বাড়িতে ফিরে চলত গল্প, আলোচনা। বিলিতি ক্ল্যাসিক্যাল মিউজিকের পোকা ছিলেন ডেভিড ম্যাক্কাচিন। 

 ধ্রুবতারাদের খোঁজে 


অখণ্ড বাংলার মন্দিরের প্রায় ২০ হাজার ছবি তুলেছিলেন ডেভিড, লন্ডনের ভিক্টোরিয়া অ্যান্ড অ্যালবার্ট মিউজ়িয়মে সংরক্ষিত। লিখেছেন নানা পত্রপত্রিকায়, বাংলার মন্দিরের স্থাপত্যশৈলী ও টেরাকোটা ভাস্কর্য নিয়ে। নিজের বই 'লেট মিডিভ্যাল টেম্পলস অব বেঙ্গল’ বই হিসেবে দেখে যেতে পারেননি ডেভিড। আক্ষেপ ছিল দ্রুততর যানবাহনের অভাবে, সীমিত সময়ের মধ্যে তিনি উত্তরকালের জন্য সর্বাধিক সংখ্যক মন্দিরের বিশদ তথ্য সংগ্রহ করতে পারেন নি,এই তথ্য জানা যায় ডেভিডের ঘনিষ্ঠ অমিয়কুমার বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখায়। সেদিন সত্যজিৎ রায়ের সাথে দেখা করতে  ডেডিড এসেছিলেন তাদের বাড়িতে। গুরুত্বপূর্ণ একটি বই লেখা শেষ করে ফেলেছেন( লেট মিডিভ্যাল টেম্পলস অব বেঙ্গল)। যেদিন মানিকবাবুর সাথে ডেভিড দেখা করতে আসেন সেদিন তাঁর গায়ে অল্প জ্বর। বলেছিলেন শরীরটা ভাল নেই। সত্যজিৎ রায় একটু বকুনি দিয়ে বললেন বেশ ভাল জ্বর এসেছে,আমি তো কাল আবার চলে যাচ্ছি। তাড়াতাড়ি বাড়ি গিয়ে শুয়ে পড়ো। এরপর আর গ্ৰামে গ্ৰামে ঘুরে বেড়িয়ো না। অনেক হয়েছে। মানিকবাবুর গাড়ি ডেভিড কে পৌঁছে দিল ইনিস্টিটিউট অফ কালচারে। ১২ জানুয়ারি সত্যজিৎ জায়া বিজয়া রায় কে প্রফেসর পি লালের স্ত্রী ফোন করে জানালেন " মঙ্কুদি ডেভিড মারা গেছে"।  ডেভিড ম্যাক্কাচিন ছিলেন মানিকবাবুর অন্তরঙ্গ বন্ধু । মানিক বাবুর ছবি বাংলা থেকে ইংরেজি সাবটাইটেল করতে সাহায্য করতেন।


১৯৭২ সালের ১২ই জানুয়ারি হঠাৎই তিনি গেলেন না ফেরার দেশে। প্রিয় শহর কলকাতার বুকে ভবানীপুর সিমেট্রিতে তাঁকে চির নিদ্রায় সমাহিত করা হয়।

 সত্যজিৎ রায় শান্তিনিকেতন থেকে ফিরলেন, লোয়ার সার্কুলার রোডের জোড়া গীর্জায় প্রার্থনা হল। ভবানীপুর সিমেট্রিতে ডেভিড ম্যাক্কাচিন কে সমাহিত করা হয়। টেরাকাটা সাহেবের প্রয়াণের পর ৫০-এর বেশি বছর হয়ে গেল। আমরা কতজন মনে রেখেছি ভারতপ্রেমী টেরাকোটা সাহেবকে! আজ ডেভিড ম্যাক্কাচিন। তাঁর প্রয়াণ দিবসে আমাদের শ্রদ্ধাঞ্জলি।।

© ধ্রুবতারাদের খোঁজে 


#DavidMcCutchion

#DeathAnniversary 

#Researcher

#BritishMan

#BengaliTemple

#SatyajitRay 

#dhrubotaraderkhonje 


পুস্তক ঋণ ও কৃতজ্ঞতা স্বীকার, আমাদের কথা বিজয়া রায়, আনন্দবাজার অনলাইনে প্রকাশিত প্রতিবেদন বাংলার মন্দিরে এক ইংরেজ গবেষক,

দীপঙ্কর ভট্টাচার্য


কোন মন্তব্য নেই:

নড়াইল জেলার  লোহাগড়ার ইতনার পরীর খাটের ইতিহাস ---

 নড়াইল জেলার  লোহাগড়ার ইতনার পরীর খাটের ইতিহাস --- পরীর খাটটি বাংলাদেশের জাদুঘরে দেখে থাকলেও ইতিহাস আমরা অনেকেই জানি না। নাটোরের মহারানী ভব...