এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

মঙ্গলবার, ১৪ জানুয়ারি, ২০২৫

রবি ঠাকুরের রসবোধ 

 ॥ রবি ঠাকুরের রসবোধ ॥


রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জীবন ছিল নানান ঘটনায় ভরা। তাঁর রসবোধ আর তীক্ষ্ণ বুদ্ধিমত্তা এমন সব মুহূর্ত তৈরি করেছে, যেগুলো যুগের পর যুগ ধরে আমাদের মুগ্ধ করে রেখেছে।


একদিন সন্ধ্যাবেলা রবীন্দ্রনাথ ‘হে মাধবী দ্বিধা কেন’ গানটি শেখাচ্ছিলেন। এমন সময় ভৃত্য বনমালী আইসক্রিমের প্লেট হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে পড়ে, আসবে কি আসবে না বুঝতে পারছিল না। রবীন্দ্রনাথ এক নজর দেখে গেয়ে উঠলেন, ‘হে মাধবী দ্বিধা কেন?’ উপস্থিত সবাই হেসে উঠলেন, আর বনমালী তখন লজ্জায় ভীষণ অপ্রস্তুত।


শান্তিনিকেতনের মশার অত্যাচারের কথা তো প্রায় সকলেরই জানা। কবি নিজেকে রক্ষা করতে হাতে-পায়ে তেল মাখতেন। একদিন এক অতিথি এই দৃশ্য দেখে জিজ্ঞেস করলেন, ‘এটা কি বাতের জন্য?’ কবি সঙ্গে সঙ্গেই হেসে উত্তর দিলেন, ‘ভেব না যে আমি বুড়ো মানুষ, বাত হয়েছে বলে পায়ে তেল মালিশ করছি। এ মশার ভয়ে। শান্তিনিকেতনের মশারা ভারী নম্র। তারা সারাক্ষণই পদসেবা করে।’


একবার কবি দিনেন্দ্রনাথ ঠাকুরকে বললেন, ‘বুঝলি দিনু, সেদিন অমুক লোকটা আমার কাছ থেকে দশ টাকা ধার নিয়ে গদগদ কণ্ঠে বললেন, "আপনার কাছে আমি চিরঋণী হয়ে রইলুম।"’ দিনেন্দ্রনাথ আতকে উঠে বললেন, ‘তুমি দিলে ওকে টাকাটা? ও তো একটা জোচ্চোর!’

কবি শান্তভাবে বললেন, ‘তা মানি, কিন্তু লোকটার শত দোষ থাকলেও একটা গুণ ওর ছিল। লোকটা সত্যভাষী। কথা রেখেছিল, চিরঋণী হয়েই রইল।’


মংপুতে একদিন মৈত্রেয়ী দেবী বেশ উৎসাহ নিয়ে কবিকে বললেন, ‘এটা একটু খাবেন? রোজ রোজ আপনাকে কি নিরামিষ খাওয়াব ভেবে পাই না।’

কবি জানতে চাইলেন, ‘ও পদার্থটা কি?’

মৈত্রেয়ী দেবী উত্তর দিলেন, ‘ব্রেইন।’

রবীন্দ্রনাথ সঙ্গে সঙ্গেই বললেন, ‘এই দেখ কাণ্ড, এ তো প্রায় অপমানের শামিল। কি করে ধরে নিলে যে, ওই পদার্থটার আমার প্রয়োজন আছে? আজকাল কি আর আমি ভালো লিখতে পারছিনে?’


একবার শান্তিনিকেতনে গানের আসর বসল। সুনয়নী তাঁর রবিকাকাকে নাতনি শিবানী ও নাতজামাই দেখাতে নিয়ে এসেছিলেন। শিবানী গান গাইলেন, আর কবি তাঁর গান শুনে খুশি হয়ে গেলেন। পরদিন শিবানী সাহস করে কবিকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘আচ্ছা দাদাভাই, আপনি কখনও প্রেমে পড়েছেন?’

রবীন্দ্রনাথ মৃদু হেসে বললেন, ‘হ্যাঁ গো নাতনি, তবে তা শুধু পড়াই হয়েছিল, ওঠা আর হয়ে ওঠেনি।’


শান্তিনিকেতনের অর্থসংকটে সবাই চিন্তিত হয়ে নানা প্রস্তাব দিচ্ছিলেন। হঠাৎ রবীন্দ্রনাথ বললেন, ‘তোমরা এত ভাবছ কেন? টাকা পাওয়ার একটা অতি সহজ উপায় আছে।’

সবাই কৌতূহল নিয়ে জানতে চাইলেন, ‘কী সেই উপায়?’

রবীন্দ্রনাথ রানী চন্দকে আড়চোখে একবার দেখে নিয়ে বললেন, ‘মাত্র সোয়া পাঁচ আনা খরচ।’

আসলে রানী চন্দ একবার মঙ্গলচণ্ডীর ব্রতের কথা বলেছিলেন, যার খরচ মাত্র সোয়া পাঁচ আনা। সেই ঘটনা থেকে কবি মজা করে কথাটা বলেছিলেন।

কোন মন্তব্য নেই:

নড়াইল জেলার  লোহাগড়ার ইতনার পরীর খাটের ইতিহাস ---

 নড়াইল জেলার  লোহাগড়ার ইতনার পরীর খাটের ইতিহাস --- পরীর খাটটি বাংলাদেশের জাদুঘরে দেখে থাকলেও ইতিহাস আমরা অনেকেই জানি না। নাটোরের মহারানী ভব...