শচীন দেব বর্মণ সেই সময় অর্থাৎ ১৯৫০ সালে সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়কে নিয়ে গেলেন বম্বেতে। তখন হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ও রয়েছেন বম্বেতে। যোগ দিয়েছেন ফিল্মিস্তানে। শচীন কত্তার সঙ্গেই এভারগ্রিন হোটেলে ওপরে সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায় থাকতেন। তখনই তাঁর সঙ্গে হেমন্তবাবুর সঙ্গে আলাপ, পরিচয় বাড়তে থাকে। তখন থেকেই ভগ্নীসমা 'সন্ধ্যা'কে কখনও 'তুমি' বা কখনও 'তুই' করে ডাকতে শুরু করেন তাঁর হেমন্তদা। তখন বোম্বেতে পাকাপাকি থাকতে শুরু করেছেন হেমন্ত। ঐ সময়েই '৫১তে এস.ডি. বর্মনের সুরে 'সাজা' ছবিতে হেমন্ত-সন্ধ্যা জুটির প্রথম গান আমরা শুনতে পাই হিন্দিতে রাজিন্দর কিষণের কথায়— 'আ গুপচুপ গুপচুপ পেয়ার করে'। ছবিতে নায়ক দেব আনন্দ ও নায়িকা নিম্মির লিপে ছিল এই গানটি। '৫৪ সালে হিন্দি ছবি 'মনোহর'-এও আমরা হেমন্ত-সন্ধ্যা জুটির গাওয়া 'রাত হ্যায় সুহানী রাত' গানটা পেয়েছি। মিউজিক ডিরেক্টর ছিলেন এস. ভি. ভেঙ্কটরমণ এবং গানটি লিখেছিলেন বি. আদিল।
দুজনেই গান গাইছিলেন সেইসময় হিন্দি ফিল্মে। 'তরানা' ছবিতে লতাজির সঙ্গে ডুয়েট গাইলেন সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়; পরে আরও কয়েকটি ফিল্মে গাইলেন তিনি। এদিকে ১৯৫২তে 'আনন্দমঠ'-এর মিউজিক ডাইরেক্টর ছিলেন হেমন্ত। ফিল্মেও গাইছিলেন, কাজ করছিলেন ফিল্মিস্তানেও। কিন্তু দুজনের কারুরই ঠিক মন বসছিল না বোম্বেতে। এ নিয়ে দুই পরিবারের আলোচনাও হত। গীতশ্রীর দাদা রবীন মুখোপাধ্যায় একবার বললেন হেমন্তকে, পরিবারকে নিয়ে চলে আসুন না, তাহলে মন বসবে। পরে সেরকমই করলেন হেমন্ত। কয়েকবছরের মধ্যেই পরিবারের সকলকে নিয়ে এলেন। কিন্তু এই কয়েকবছরের মধ্যেই ছিল ১৯৫৪ সাল। 'নাগিন' দেশজোড়া খ্যাতি এনে দিল হেমন্তকে। কিন্তু সন্ধ্যা সেখানে রইলেন না।
কলকাতায় আসার পর সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায় ফিল্মে আর রেকর্ডে গান গাইতে লাগলেন। ১৯৫৪ সালে 'অগ্নিপরীক্ষা' ছবিতে মহানায়িকার লিপে সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়ের গাওয়া গান বেশ জনপ্রিয় হয়। তারপরের বছরই মুক্তি পেল 'উত্তম-সুচিত্রা' জুটির 'শাপমোচন'। উত্তমকুমারের লিপে হেমন্তকুমারের গান যেন মিলেমিশে একাকার হয়ে গেল। প্রতিষ্ঠা পেলেন উত্তমকুমার। অবশ্য এর আগেই 'সহযাত্রী' ছবিতে হেমন্ত উত্তমকুমারের লিপে গেয়েছিলেন, কিন্তু তা তেমন জনপ্রিয় হয়নি। '৫৫তেই একদিন হেমন্ত সন্ধ্যাকে ডেকে বললেন, 'বিকাশবাবু (রায়) 'সূর্যমুখী' নামের একটি ছবি করছেন। আমি মিউজিক করছি। তুই তো এখন খুব ভালো গাইছিস, তো তুই আমার সুরে গাইবি?' রাজি হয়ে গেলেন সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়। গৌরীপ্রসন্ন মজুমদারের কথায় এই ছায়াছবির 'আকাশের অস্তরাগে' গানটা শোনেননি হেন বাঙালি বোধহয় নেই। ইতিহাস হয়ে গেল গানটি, খুবই জনপ্রিয় হয়েছিল সেসময়। এছাড়াও ঐ ছবিতে সন্ধ্যা গেয়েছিলেন 'আমি আর যে পারি না সহিতে' এবং ফিল্মের টাইটেল সংটিও— 'আমি সূর্যমুখী তোমার মুখের পানে'। বর্তমানে এই দুটি গানই বেশ দুষ্প্রাপ্য।
এরপর বেশ কয়েকটি ছবিতে হেমন্ত মুখোপাধ্যায় নিজের সুরে গাওয়ালেন সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়কে। গানগুলোর কথাও বলে রাখি। 'শিকার' (১৯৫৮) ছবিতে 'শরমে জড়ানো আঁখি'্ এবং 'না জানি কোন ছন্দে', 'সূর্যতোরণ' (১৯৫৮) ছবিতে 'ওগো অকরুণ' ও 'দুয়ারখানি বাতাস এসে', 'সোনার হরিণ' (১৯৫৯) ছবিতে 'এই যে চাঁদের আলো' এবং 'অগ্নি সংস্কার' ছবিতে 'এই সুন্দর রাত্রি', 'একটি সুখে নীড়' ও 'আমার দুয়ারখানি' গাইলেন সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়। প্রত্যেকটি গানেরই গীতিকার গৌরীপ্রসন্ন।
এরপর এল সেই ঐতিহাসিক ছায়াছবি 'সপ্তপদী'।
সৌজন্যে - রাজেশ কবিরাজ
#highlights2024 #photochallenge @highlight
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন