॥ সুরের ধ্রুবতারা: জানা-অজানা আর.ডি. ॥
হিন্দি সিনেমার ইতিহাসে রাহুল দেব বর্মণের নাম চিরস্থায়ী হয়ে রয়েছে সেরা সুরকারদের মধ্যে। ভারতীয় সঙ্গীতের প্রতি তাঁর প্রজ্ঞা ছিল নিঃসন্দেহে অতুলনীয়। ১৯৬০ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ কেরিয়ারে তিনি আশা ভোঁসলে এবং কিশোর কুমারকে দিয়ে অজস্র কালজয়ী গান গাইয়েছেন। লতা মঙ্গেশকরের সঙ্গেও এই সময় চুটিয়ে কাজ করেছিলেন তিনি।
বলিউডে রাহুল দেব বর্মণ বেশি পরিচিত ছিলেন তাঁর ডাকনাম ‘পঞ্চম’ নামে। তাঁর বাবা, বিখ্যাত সুরকার শচীন দেব বর্মণও ছিলেন সঙ্গীতের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। পঞ্চম মাঝে মাঝে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বৃষ্টির শব্দ রেকর্ড করতেন, শুধুমাত্র কোনো সিনেমার আবহসঙ্গীতে সেগুলো ব্যবহারের জন্য।
তবলা, ড্রাম, কঙ্গো কিংবা পারকাশনে তিনি ঝড় তুলতে পারতেন। অবসর সময় সাঁতারে মগ্ন হওয়ার পাশাপাশি তাঁকে প্রায়ই নিজের মনে মাউথ অর্গান বাজাতে শোনা যেত।
পঞ্চম প্রায় ৩৩১টি সিনেমায় সুর দিয়েছেন, যার মধ্যে বিভিন্ন ভাষার সিনেমাও অন্তর্ভুক্ত। সোডার ফাঁকা বোতল, খালি গ্লাস ইত্যাদির সাহায্যে তিনি সুর তৈরি করে ছবির উপযোগী মুহূর্তে সেগুলো ব্যবহার করতেন।
কিশোর কুমারের সঙ্গে তাঁর বন্ধুত্ব যেন এক কিংবদন্তি। “মেহবুবা” ছবির বিখ্যাত গান ‘মেরে নয়না শাওন ভাদো’ প্রথমে কিশোর গাইতে রাজি হননি। পঞ্চমের জোরাজুরিতেই তিনি রাজি হন, আর বাকিটা তো ইতিহাস।
দুঃখ, আবেগ, কিংবা মন কেমন করা গানের সঙ্গে প্রেম করতে শিখিয়েছিলেন তিনিই। মানুষকে আবেগে ডুবিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা ছিল পঞ্চমের সুরে। শুধু সুরকার হিসেবেই নয়, তিনি নিজেও গেয়েছেন বহু সুপারহিট গান, যেমন ‘মেহবুবা মেহবুবা,’ ‘দম মারো দম,’ ‘পিয়া তু আব তো আ যা’।
একদিন সকালে শচীনকর্তা হাঁটতে বেরিয়েছিলেন। ফিরে এসে তিনি রাহুলকে জড়িয়ে ধরেন। অবাক রাহুল পরে জানতে পারেন, রাস্তায় অনেক মানুষ তাঁকে রাহুল দেব বর্মণের বাবা বলে চেনায় শচীন দেব বর্মণ অত্যন্ত গর্বিত।
রাহুল দেব বর্মণ ছিলেন সঙ্গীতের আকাশে এক ধ্রুবতারা। আজও তাঁর সুর সারা দেশের গানে উচ্ছ্বাস জাগায়। কিন্তু তাঁর প্রতি আমাদের শ্রদ্ধা এবং ভালোবাসা কি যথেষ্ট? আজ তাঁর প্রয়াণের দিনে এই প্রশ্ন থেকেই যায়।
____________________________
©️ কিছু কথা ॥ কিছু সুর
কৃতজ্ঞতা: Hindustan Times Bangla, Anandabazar Patrika
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন