চাঁদে প্রায় এক মিলিয়ন টন হিলিয়াম-৩ আইসোটোপ পাওয়া গেছে যা দিয়ে পৃথিবীর শক্তির চাহিদা ১ হাজার বছর পর্যন্ত চালানো যাবে!
চাঁদ নিয়ে বিজ্ঞানীদের আগ্রহ কখনই কমেনি। সম্প্রতি চাঁদের মাটিতে এক বিরল পদার্থ খুঁজে পাওয়া গেছে যার নাম হিলিয়াম-৩। এই পদার্থটি পৃথিবীতে খুব কম পরিমাণে থাকলেও চাঁদে রয়েছে এর বিশাল মজুদ। হিলিয়াম-৩ পারমাণবিক ফিউশন পদ্ধতিতে শক্তি উৎপাদনে ব্যবহার করা যাবে। কোনো প্রকার কার্বন ডাই-অক্সাইড তৈরি ছাড়াই এ শক্তি উৎপাদন সম্ভব হবে এবং কোনো দীর্ঘমেয়াদি রেডিওঅ্যাকটিভ বর্জ্যও থাকবে না।
চাঁদে প্রায় এক মিলিয়ন টন হিলিয়াম-৩ থাকতে পারে, যা পৃথিবীর শক্তির চাহিদা হাজার বছর পর্যন্ত চালিয়ে নিতে সক্ষম। এই বিশাল পরিমাণ শক্তির সম্ভাবনা দেখে চীন চাঁদ থেকে হিলিয়াম-৩ সংগ্রহের জন্য একটি বড় পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে। তারা চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে একটি গবেষণা কেন্দ্র স্থাপন করতে চায় যেখানে তারা এই শক্তি উৎস সংগ্রহ করতে পারবে।
চীন ২০৩৫ সালের মধ্যে রাশিয়ার সঙ্গে যৌথভাবে এই গবেষণা কেন্দ্র তৈরি করার পরিকল্পনা করেছে, যা প্রায় ১৮ বিলিয়ন ডলার খরচে বাস্তবায়িত হতে পারে। তবে বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, এক বছরেই এই প্রকল্প হতে লাভ আসতে পারে। তবে এই খনিজ সংগ্রহের জন্য অনেক চ্যালেঞ্জ রয়েছে যেমন চাঁদের ধূলিকণা, রেডিয়েশন এবং খনির যন্ত্রপাতির স্থিতিশীলতা। তবে, চাঁদের সম্পদ নিয়ে আন্তর্জাতিক চুক্তি এবং নৈতিক প্রশ্ন রয়েছে। চাঁদ আন্তর্জাতিক সম্পদ- এর মালিকানা, ব্যবহার এবং এর উপকারের বণ্টন নিয়ে বৈশ্বিক আলোচনা প্রয়োজন।
চীন চাঁদ থেকে হিলিয়াম-৩ পৃথিবীতে নিয়ে আসার পরিকল্পনা করছে আর এই প্রকল্প সফল হলে, চীন শক্তির বিশ্ব বাজারে একটি বড় অবস্থান প্রতিষ্ঠা করতে পারবে।
![]() |

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন