এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

শুক্রবার, ১০ জানুয়ারি, ২০২৫

এ টি এম ভাইয়ের গল্প শুনিয়েছিলাম। সে গল্পে এক শ্রেনীর মানুষের অসভ্যতা উঠে এসেছিলো। এবারের লেখায় শোনাতে চাই অতি খ্যাতনামা শাহরুখ খানের গল্প, আর এক দেশেও একইরকমের মানুষ রয়েছে- সে গল্প।

 এ টি এম ভাইয়ের গল্প শুনিয়েছিলাম। সে গল্পে এক শ্রেনীর মানুষের অসভ্যতা উঠে এসেছিলো। এবারের লেখায় শোনাতে চাই অতি খ্যাতনামা শাহরুখ খানের গল্প, আর এক দেশেও একইরকমের মানুষ রয়েছে- সে গল্প।


বহু আগে শাহরুখ খান যখন নির্ভরযোগ্য তারকা হয়ে উঠেছেন, সেই সময়টায় একটা সাক্ষাৎকারের ঘটনা। সংবাদিকেরা এ প্রশ্ন সে প্রশ্নে তারকাকে খুবই ব্যস্ত রেখেছে। তারকা জানেন আরও বিখ্যাত হতে হলে মাথা ঠান্ডা রাখতে হবে, ধৈর্য হারালে চলবেনা আর হেসে হেসেই সকল প্রশ্নের উত্তর দিয়ে যেতে হবে। 


এক সাংবাদিক প্রশ্ন করে বসলেন, আপনি এখন বিখ্যাত তারকা, আপনার স্ত্রীকে দেখা যায় মিনি স্কার্ট পরে ঘোরাফেরা করেন- এটা কি ঠিক হচ্ছে বলে মনে করেন? সভ্যতা ভব্যতাহীন প্রশ্নে সামান্য বিরক্ত, বিব্রত হতে দেখা গেলোনা অত্যন্ত বুদ্ধিমান এ অভিনেতাকে। যেমন হেসে হেসে উত্তর করছিলেন, তেমন হেসেই বলেন, আমার স্ত্রী গৌরীকে ছোটবেলা থেকেই চিনি বলে কখন কি পোষাকে তাঁকে আপত্তিকর ঠেকছে খেয়াল করা হয়নি, দুঃখিত। 


একটু থেমে হাসিটায় অপরাধ হয়েছে এমন ভঙ্গী যোগ করে বলেন- কথা দিচ্ছি, আজকেই বাড়িতে ফিরে তাঁকে সাবধান করে দেবো। গিয়ে বলবো- দেখো, তোমার খোলা পা আমি মন দিয়ে কখনও দেখা দরকার বলে মনে করিনি কিন্তু অন্য লোকেরা মন দিয়ে দেখে, সে দেখায় তাদের বড্ড অসুবিধা হয়। তাদের ভালো থাকার জন্য তোমার খোলা পা ঢেকেঢুকে চলা উচিত।


দেখা বিষয়টা কি? চোখ আছে, দেখতে পাই- দেখি। সোজা বিচারে এটাকেই দেখা বলে। দেখা নিয়ে আমরা বিশেষ করে ভাবিইনা। অন্ধমানুষ চোখে না দেখতে পারুক, অনুভব করতে পারে। তার মানে অনুভবও দেখা। সে অনুভব মনে পয়দা হয়। চোখ দেখে, শুধুই দেখে। বাকি যা করার করে মন। একজন ভাবলো, আল্লাহকে তো চোখে দেখিনা। মন তখন বলে, তিনি আছেন। ব্যাস আছে, নেইয়ের সমস্যা মিটে যায়।


চোখ আর মনের দেখার ধরণ, অভ্যাস যেমনই থাকুক- ইচ্ছা করলে বদলানো যায়। আগের লেখায় বলেছিলাম আর্ট কলেজে এসে ছেলে মেয়েদের হাত ধরাধরি করে চলতে দেখে সেদিনের গ্রাম্য মনে কেমন প্রতিক্রিয়া হয়েছিলো, জানাবো।


প্রথমে মনে হয়েছিলো এসেছি গ্রাম থেকে, যা দেখছি তা বোধহয় শহরের রীতি। কয়েকদিন গেলো। ভর্তি হয়ে গেছি। একটু একটু করে বুঝতে পারি, এখানে বাইরের জগৎ ও ভাবনা নিয়ে ঢুকেছি। ঢুকেছি যে জ্ঞান আমার নেই, তা অর্জনের আশায়। সে জ্ঞান পেতে হলে নিজেকে তৈরি করে নেয়া লাগবে। 


প্রথম পাওয়া শিক্ষা হলো যেমন আছো, তেমনই থাকো- শুধু দেখার চোখ আর মনটাকে আরও বেশি দেখার উপযুক্ত করে তোলা দরকার। 

সহজভাবে শেখানো হয়, মন আর চোখ দুটোই তোমার- তুমি তাদের অধীন হতে পারো অথবা তাদেরকে তোমার অধীন করে নিতে পারো। 


উদাহরণ দিয়ে বোঝানো হলো- ঐ সামনের গাছটার পাতার রং কি, জিজ্ঞাসা করলে সবাই দেখে বলবে সবুজ। শিল্পীকে সেই সবুজ রঙের মধ্যে আরও অনেক রঙ লুকানো থাকে তা দেখা, বোঝা, অনুভব করার চেষ্টা করতে হবে- সেটাই মন আর চোখ দিয়ে নতুন করে দেখা, দেখার চেষ্টা। 


অন্য সকলে যে গাছটাকে বটগাছ বা নিমগাছ গাছ দেখবে, শিল্পী হওয়ার আকাঙ্ক্ষা নিয়ে যারা এসেছে তারা দেখবে আরও মনোযোগী হয়ে। দেখবে- গাছের গড়ন, শাখা প্রশাখার আকৃতি, পাতার ধরন। কিভাবে একটা গাছ মাটির উপর দাঁড়িয়ে থাকে ইত্যাদি।


জানা হলো, মানুষের হাত ছবি আঁকে কিন্তু হাত একা আঁকেনা- চোখ আর মন হাতকে দিয়ে আঁকায়। চোখ মন হাত- সবকিছুকে শিল্পীর করে তোলার জন্য বিশেষ যে প্রক্রিয়া, চেষ্টা- সেটাই আর্ট কলেজের শিক্ষা।


শিল্পী হতে চাওয়ার প্রথম ধাপেই নিজের সাথে একটা বোঝাপড়া হয়ে যায়- জগতে তাকিয়ে তাকিয়ে দেখার, মন দিয়ে বোঝার, ভাববার জন্য অগণিত বিষয় রয়েছে। সব ছেড়ে ছুঁড়ে এই বিদ্যাপীঠে ছেলেরা মেয়েরা পাশাপাশি কেনো বসে থাকে, হাত ধরাধরি করে কেনো চলে ফেরে- এই ভাবনাকে মনে লটর পটর করতে জায়গা দিলে নিজের বৃদ্ধি হওয়ার সুযোগ গোল্লায় চলে যাবে।


শাহরুখ খানকে তাঁর স্ত্রীর পা নিয়ে যে মানুষটা প্রশ্ন করেছিলো, সে কোনোদিনও ভেবে দেখবেনা, জগতে দেখার, মুগ্ধ হবার বা অপছন্দ করার মতো লক্ষ কোটি বিষয় আছে। সব ফেলে পা দেখা মানুষটা সম্পূর্ণ মনোযোগ দিয়ে পা ই দেখবে এবং দেখে ভাববে, পরস্ত্রীর পা ই জগতের সকল সর্বনাশের মূল কারণ।

কোন মন্তব্য নেই:

নড়াইল জেলার  লোহাগড়ার ইতনার পরীর খাটের ইতিহাস ---

 নড়াইল জেলার  লোহাগড়ার ইতনার পরীর খাটের ইতিহাস --- পরীর খাটটি বাংলাদেশের জাদুঘরে দেখে থাকলেও ইতিহাস আমরা অনেকেই জানি না। নাটোরের মহারানী ভব...