এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

শুক্রবার, ১০ জানুয়ারি, ২০২৫

লেখায় : শরণ্যা ছবি : সংগৃহীত  পুনর্জন্ম - Punarjanma,,,,, ফেইসবুক থেকে নেওয়া

 || দুপুরে খাওয়াদাওয়ার পর বিছানায় একটু গড়িয়েছেন সবে; এমন সময় হঠাৎ বেল বেজে উঠলো। বিরক্ত হলেন বিলাশবাবু, এই ভর দুপুরবেলা আবার কে এলো রে বাবা! সবে তো তিনটে বাজে, সবাই এখন খেয়েদেয়ে ভাতঘুম দেয়...এই সেলসম্যান গুলো যখন তখন এসে বেল দেয়। কোনো কান্ডজ্ঞান নেই এদের। ভাড়াটে গুলোও ঘুমাচ্ছে নিশ্চয়ই...ভীষণ বিরক্ত নিয়ে উঠলেন বিলাশবাবু। 

এই তিনতলা বাড়িটা বিলাশবাবুর পৈতৃক বাড়ি। বাবা মা মারা যাবার পর বলতে গেলে একা পরে যান। কারণ তিনি বিয়ে থা করেননি; আর তার কোনো ভাইবোনও নেই। সরকারি চাকরি করতেন, রিটায়ার্ড করার পর পেনশন পাচ্ছিলেন দিব্যি। কিন্তু এতবড় বাড়িতে একা থাকতে একটু ভয় ভয় ই করত তার, তাই দোতলা আর তিনতলা পুরোটাই ভাড়া দিয়ে দিয়েছিলেন। একটু উপরি উপার্জনও হয়। কিছুদিন আগে দোতলার একটা ভাড়াটে, দুটো ব্যাচেলর ছেলে; উঠে গেলো। চাকরি নিয়ে কলকাতায় এসেছিল ওরা, এখন চাকরি নিয়েই আবার দূর্গাপুরে চলে গেছে! ওই ঘরটা খালি পড়ে আছে...। বিলাশবাবু ওই ঘরটা ভাড়া দেওয়ার জন্যে বাইরে পোস্টারও টাঙিয়ে রেখেছেন... এখনও অবধি কেউ খোঁজ করতে আসেনি যদিও। 

তবে বাড়িওয়ালা হিসেবে বিলাশবাবুর নামডাক কিন্তু খুব একটা ভালো নয়। তিনি নাকি সকলের সাথে ভালো ব্যবহার করেন না... পাম্প দিনে একবারের বেশি চালাতে চান না! জল না আসলেও পাম্প চালান না! রাতে দেরি করে ফেরা যাবে না... পুজোর দিনগুলোতেও তার অন্যথা হয়নি! কিছুদিন আগেই দুর্গাপুজোর এক রাতে মেইন গেটে একদিন তালা দিয়ে দিয়েছিলেন; সেই কারণে তিনতলার ভাড়াটেরা বেচারা সেদিন মাঝরাতে ঠাকুর দেখে এসে আর ঢুকতে পারেনি বাড়িতে। তবে এসব নিয়ে বিলাশবাবুর খুব একটা মাথা ব্যাথা নেই! তিনি তার মতোই আছেন... 


আবার বেল বাজলো! একরাশ বিরক্ত নিয়ে দরজা খুললেন! 

– কে রে, তখন থেকে বেল বাজিয়ে বাজছে?

– কাকু, এখানে লক্ষ্মী পুজো অবদি ঘর ভাড়া পাওয়া যাবে? না মানে... আসলে এখন কৈলাস গেলে এত তাড়াতাড়ি ফিরতে পারব না।

বিলাশবাবু হাঁ হয়ে গেলেন, একি! একটা ছোট্ট বাচ্চা মেয়ে, মুখ খানা একেবারে দেবীর মত! হাতে ঘট নিয়ে, পরনে লাল শাড়ি; কপালে চন্দন, পায়ে আলতা! দরজার সামনে দাঁড়িয়ে... 

– কে তুমি? তোমার মা বাবা কোথায়?

– মা তো ভাইবোন দের নিয়ে কৈলাসে ফিরে গেছে কাকু। আমার তো সামনেই পুজো, আমাকে থাকতে হবে এখানে। এর মধ্যে কৈলাস গেলে আর ফিরে আসতে পারবনা। 

বিলাশবাবু কিছুক্ষণের জন্যে হতভম্ব হয়ে গেলেন; তারপর বুঝলেন কেউ তার সাথে হয়ত মজা করছে। দুর্গাপুজোর বিজয়া সম্মিলনী হবে পাড়ায়, সেখানে কোনো বাচ্চাকে নিশ্চয়ই লক্ষ্মী সাজিয়েছে; আর বলেছে গিয়ে হয়ত মজা করতে... 

– তুমি এসো ভিতরে।

মেয়েটা গুটি গুটি পায়ে ভিতরে ঢুকলো। বিলাশবাবু ঘরে গিয়ে টেলিফোনটা তুললেন, পাড়ার সেক্রেটারি কে ফোন করলেন।

– হ্যাঁ আকাশ? এই, পাড়ায় কি তোমরা কোনো প্রোগ্রাম বা নাটক করছ যেখানে কোনো বাচ্চা মেয়েকে লক্ষ্মী সাজতে হবে? হ্যাঁ...কি বললে?... ও এরকম কোনো নাটক হচ্ছে না?... আচ্ছা বিজয়ার অনুষ্ঠান এখন হচ্ছে না? পরে হবে? আচ্ছা, ঠিক আছে। না না এমনি... রাখলাম। 

বিলাশবাবু একটু অবাক হলেন, মেয়েটা কে তাহলে?! তাড়াতাড়ি বাইরের ঘরে এসে দেখেন মেয়েটা আর নেই! চারিদিকে খুঁজলেন, ঘরের ভিতরে, বাইরে। নাহ্, কোথাও নেই। চলে গেল নাকি? হ্যাঁ দরজাটা যদিও খোলা। সদর দরজাটা আটকাতে গিয়ে দেখেন এক অদ্ভুত ব্যাপার...ছোট ছোট পায়ের  আলতার ছাপ দরজাটার সামনে! একটু ঝুঁকে দেখলেন বিলাশবাবু; নিশ্চয়ই ওই বাচ্চা মেয়েটার পা থেকে এসেছে। যাই হোক, দরজা আটকে ঘরে ফিরলেন। রাতের বেলা রান্নাঘরে যেতেই টের পেলেন আগামীকাল লক্ষ্মীপুজোর জন্যে তিনি এক কৌটো নাড়ু নিয়ে এসেছিলেন; সেটা নেই! তন্নতন্ন করে সারা বাড়িতে খুঁজেও পেলেন না... কিন্তু তার স্পষ্ট মনে আছে তিনি ওটা রান্নাঘরের ই এক কোণায় রেখেছিলেন। 

পরেরদিন সকালে তিনতলার  ভাড়াটেরা এল ওনার ঘরে; লক্ষ্মীপুজোর নেমতন্ন করতে! বিলাশবাবু খুব অবাক হলেন, এই সেই ভাড়াটে যে রাত করে ফিরেছিল বলে তালা খোলেননি তিনি। তারা ওনাকে নেমতন্ন করতে এসেছে? ওরা সারারাত বাইরে দাঁড়িয়ে ছিল! তিনি ফিরেও তাকাননি...চোখে জল আসল বিলাশবাবুর হঠাৎ...তাহলে কি কাল মা লক্ষ্মী স্বয়ং তার বাড়িতে এসে নাড়ু নিয়ে গেলেন...? মনে মনে প্রতিজ্ঞা করলেন, এরপর থেকে আর কোনোদিনও এরকম আচরণ করবেন না কারোর সাথে; নিজেকে শুধরাবেন! সেদিনের পর থেকে বিলাশবাবু নিজে হাতে প্রতিবছর লক্ষ্মীপুজো করেন! ||


লেখায় : শরণ্যা

ছবি : সংগৃহীত 

© পুনর্জন্ম - Punarjanma

কোন মন্তব্য নেই:

রাসেল মাহমুদ স্যারের মেসেজ ১১/০৮/২০২৬

 সকলের অবগতির জন্য জানাচ্ছি যে সাম্প্রতিক সময়ে আমরা একটা বিষয় খুবই অনুধাবন করতেছি যে আমরা নতুন যেসব লোকজন নিয়োগ করতেছি এবং তাদেরকে ট্রেনি...