এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

শনিবার, ৮ মার্চ, ২০২৫

দর্জি মাস্টারজির শিক্ষা

 দর্জি মাস্টারজির শিক্ষা


গ্রামের এক কোণায় ছিল ছোট্ট দর্জির দোকান। নাম মাস্টারজি। কাপড় কাটতে, জামা সেলাই করতে তার জুড়ি নেই। কিন্তু একটাই সমস্যা ছিল— দামি কাপর দেখলেই লোভে তার চোখমুখ লাল  হয়ে উঠত ।  গ্রামবাসীর কাছ থেকে যত দামি কাপড় পায়, অর্ধেক চুরি করে ফেলতো ।এতে  গ্রামের লোকজন ক্ষুব্ধ হলেও মুখ ফুটে কিছু বলত না।


একদিন মনীষ নামে এক যুবক  এসে হাজির হল মাস্টারজির দোকানে। শহর থেকে আনা নীলাম্বরী কাপড়টা মাস্টারজির দিকে এগিয়ে দিয়ে বলল, “মাস্টারজি, একটা জামা বানিয়ে দেন তো!”


মাস্টারজি মাপ নিলেন, কিন্তু কাপড় দেখে চোখ চকচক করে উঠলো। ভেতরে ভেতরে লোভে কাঁপছেন। মুখে বললেন, “ভাই, এতে তো অর্ধেক জামাও হয় না! কে ঠকিয়েছে তোমায়!”


মনীষ বললেন, “ তা করে সম্ভব । কী বলছেন আপনি? এটা পুরো দাম দিয়ে কিনেছি তো!”


মাস্টারজি মিষ্টি সুরে বললেন, “চিন্তা কইরো না, আমার স্টক থেকে কাপড় জুড়ে দিই। ইউনিক ডিজাইন হবে, আর দামও নেব না বেশি!” মনীষ রাজি হয়ে গেল।


কিছুক্ষণ পরেই মাস্টারজি জামা বানিয়ে দিলেন—নীলাম্বরীর অর্ধেক চুরি, বাকিটা পুরনো কাপড়ের কোলাজ! মনীষ খুশি হয়ে জামা নিয়ে চলে গেল। অথচ মাস্টারজি বাকি কাপড়ে বাচ্চাদের জামা সেলাই করে দোকানে টাঙিয়ে দিলেন। বিক্রিও হয়ে গেল দু’দিনে!


ওদিকে মনীষ বাড়ি ফিরে নতুন জামা পরে বের হলো হাঁটতে। হঠাৎ রাস্তায় কয়েক যুবক হাসতে শুরু করল। একজন ইঙ্গিত করল, “দেখো ভাই, ‘ফ্যাশন’ এসেছে গাঁয়ে!” আরেকজন ঠাট্টা করে বলল, “ফ্যাশন না, বোকা বানানো! নিশ্চয় দর্জির কাজ?”


মনীষের গাল লাল হয়ে উঠল। “কী বলছো?”


“ওই দর্জি তো সবার কাপড় চুরি করে! অর্ধেক লুকিয়ে ফেলে, বাকিটা ঝুলি থেকে জোড়া লাগায়। বাকি কাপড়ে বাচ্চাদের জামা বানিয়ে বিক্রি করে। দেখো না, দু’দিন পরেই কোনো ছেলের গায়ে তোমার জামার ডিজাইন দেখতে পাবে!”


মনীষ আগুন হয়ে গেল! “দর্জিকে কেন কেউ কিছু বলে না?”


“কে শোনে? ও তো চালাকি করে চুরি, জোর করে ছিনতাই না। আমরা তো আর ওর দোকানে যাই না!”


মনীষ দাঁত কড়মড় করে বলল, “একে শিক্ষা দিতে হবে!”


পরদিনই মনীষ ফের দর্জির দোকানে গেল। চোখেমুখে আনন্দের ছাপ নিয়ে বলল , “মাস্টারজি, শহরে সবাই আপনার জামার পাগল! তিনশো জামা চাই—তিন সাইজে। আমি বিক্রি করে দেব। কমিশন আপনি রাখবেন!”


মাস্টারজির মুখে হাসি ফুটল। পুঁজি, সমস্ত সঞ্চয় ঢেলে তিনশো জামা সেলাই শুরু করলেন। রাত জেগে, দিন দিন জেগে। পনেরো দিনে সব শেষ করলেন!


কিন্তু মনীষ আর আসে না। তিনদিন পর দর্জি খুঁজতে বেরোলেন। গ্রামের মোড়ে ধরে ফেললেন মনীষকে। “জামা তৈরি, কই নিবেন?”


মনীষ ঠোঁট উল্টে বলল, “কোন জামা? আমি তো আপনাকে চিনি না!”


মাস্টারজির মাথা ঘুরে গেল। “সর্বনাশ! আমার সব টাকা ডুবে গেল!”


“চুরির টাকা ডুবলে ক্ষতি কী? আপনি তো সবার কাপড় চুরি করেছেন, এবার নিজের টাকাটাও ডুবল!”


মাস্টারজি হাত তোলামাত্রই লোকজন জড়ো হলো। পঞ্চায়েত ডাকা হলো।


পঞ্চায়েতের মুখ্য ব্যক্তি বললেন মাস্টারজিকে, “ আপনার কাছে কি প্রমাণ আছে মনিষ আপনাকে অর্ডার দিয়েছিল । ও তো আগে কোন টাকা দেয়নি ।”


মাস্টারজি কাঁদতে লাগলেন, “মিথ্যা বলিনি, সাহেব!”


“তোমার অসততার অভিযোগ অনেক। মনীষ নির্দোষ। যাও, পঞ্চায়েতের নির্দেশ তিনশো জামা অর্ধেক দামে দিতে হবে।”


মাস্টারজি মাটিতে বসে পড়লেন। চোখে জল, কণ্ঠে অনুনয়, “ক্ষমা করুন সকলে। আর কখনো...!”


গ্রামবাসীরা কিনে নিল জামা। মাস্টারজির দোকানে এখন সত্যিকারের সততা। মনীষের চোখেও একফোঁটা জল—শিক্ষা হয়ে রইল গোটা গ্রামে।


নীতিকথা: লোভ মানুষকে অন্ধ করে দেয়, আর সততা হারালে সমাজের বিশ্বাসও হারায়। ঠকানোর ফন্দি শেষ পর্যন্ত ঠকায় নিজেকেই।


#collected 


#everyonefollowers 


#followersreelsfypシ゚viralシfypシ゚viralシalシ 


#সংগৃহীত 

#niosnews #motivationalstory #inspirational #inspirationalstory #inspiration #motivationalquotes #motivational #motivation

কোন মন্তব্য নেই:

নড়াইল জেলার  লোহাগড়ার ইতনার পরীর খাটের ইতিহাস ---

 নড়াইল জেলার  লোহাগড়ার ইতনার পরীর খাটের ইতিহাস --- পরীর খাটটি বাংলাদেশের জাদুঘরে দেখে থাকলেও ইতিহাস আমরা অনেকেই জানি না। নাটোরের মহারানী ভব...