# **কিয়ামতের ছোট আলামত**
# **পর্বঃ ৫৬**
# **কুরআন সুন্নাহ’র গভীর জ্ঞানী ওলামা হবে কম, আর ইলমে অপরিপক্ক বক্তা হবে বেশিঃ**
# আবু হুরায়রাহ রা. থেকে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এরশাদ করেনঃ ‘নিশ্চই তোমরা (আজ এমন এক) জামানায় রয়েছো, (তোমাদেরকে আল্লাহ’র তরফ থেকে) যে হুকুম দেয়া হয়েছে, (তা থেকে) তোমাদের যে কেউ এক-দশমাংশ ছেড়ে দিবে, সে (আখেরাতে) ধ্বংস হয়ে যাবে। এরপর (এমন এক) জামানা আসবে, (যে জামানায় তোমাদের মুসলমানদের অবস্থা এত নাজুক হবে যে, তোমাদেরকে আল্লাহ’র তরফ থেকে) যে হুকুম দেয়া হয়েছে, তোমাদের যে ব্যাক্তি (তার) এক-দশমাংশর উপর আমল করবে, সে নাজাত পাবে’। [সুনানে তিরমিযীঃ ৩/৫৩০ হাদিস ২২৬৭; আল-মু’জামুস সাগীর, ত্বাবরাণীঃ ১১৫৬; আল-কামেল, ইবনু আদীঃ ৭/১৮; ফাইযুল কাদীর, মুনাভীঃ ২/৬৯০ হাদিস ২৫৪২; কানজুল উম্মালঃ ১৪/২৫৪ হাদিস ৩৮৬২৬]
# আবু যর রা. থেকে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এরশাদ করেনঃ ‘তোমরা (আজ এমন এক) জামানায় রয়েছো, (যখন তোমাদের মাঝে কুরআন সুন্নাহ’র গভীর জ্ঞানী) ওলামা রয়েছে অনেক, আর বক্তা রয়েছে কম। (এমতাবস্থায় তোমাদের মধ্যে) যে ব্যাক্তি তাতে জেনেশুনে (তার উপরে আদিষ্ট হুকুমের) এক-দশমাংশ ছেড়ে দিবে, সে কুপ্রবৃত্তিগ্রস্থ হয়ে যাবে’, অথবা বলেছেনঃ ‘সে ধ্বংস হয়ে যাবে’। অচিরেই (এমন এক) জামানা আসবে, (যখন কুরআন সুন্নাহ’র গভীর জ্ঞানী) ওলামা হবে কম, আর (ইলমে অপরিপক্ক) বক্তা হবে বেশি। (সে জামানায় অবস্থা এত সোচনীয় হবে যে,) যে (মুমিন) ব্যাক্তি জানা জিনিসের এক-দশমাংশ আকড়িয়ে ধরবে, সে নাজাত পাবে’। [মুসনাদে আহমদঃ ৫/১৫৫; কানজুল উম্মালঃ ১৪/২৫৫ হাদিস ৩৮৬২৯]
# শেষ জামানায় পৃথিবী জুড়ে কা*ফে*র ও মু*না*ফে*ক শাসকরা তাদের অনুসারীদেরকে সহ প্রবল হয়ে উঠবে এবং তারা সমাজে মুমিনদেরকে একেবারে কোণঠাসা করে দিবে, শরীয়তের অত্যাবশ্যক অনেক কিছুই জোর করে মানতে দিবে না বা মানতে বাঁধার সৃষ্টি করবে, বিভিন্ন ভাবে হেনস্ত করবে, অন্যায় অবিচার করবে, জুলুম অত্যাচার চালাবে, এমনকি বিভিন্ন অযুহাতে হত্যাও করে ফেলবে। এমতাবস্থায় কোনো মুনিনের জন্য যদি এক-দশমাংশেষ বেশি শরীয়ত মানা দূঃসাধ্য হয়ে যায়, তাহলে সে ততটুকু মেনেই আল্লাহ কাছে ইস্তেগফার করতে থাকবে। উদাহরণ স্বরূপ, আজ চী*নে লক্ষাধিক মুসলমানকে বন্দি-শিবিরে আটক করে রাখা হয়েছে এবং তাদেরকে জোর করে দ্বীন-ইসলাম ত্যাগ করানোর জন্য মানসিক ও শারীরীক অত্যাচার চালানো হচ্ছে, কেউ রোযা রাখতে চাইলে তাকে পুলিশ ধরে জোর করে রোযা ভাঙ্গাচ্ছে। বিভিন্ন দেশে মুসলীম নারী মাথা কাপড়ে ঢেকে বাড়ি থেকে বেড় হলে পু*লি*শ ধরে নিয়ে যাচ্ছে, জোর করে মাথার স্কার্প খোলানো হচ্ছে, স্কার্প পরিহিত অবস্থায় বিচারক তার সাথে কথা পর্যন্ত বলছে না, আইন করে ছেলে মেয়ে একসাথে সাতার ও গোসল করানো হচ্ছে ইত্যাদি। আমর বিল মা’রুফ ও নাহি আনিল মুনকার পালন-তো আরো দূরের কথা; এটা করতে গেলেইতো ‘সন্ত্রাসী’ লেভেল লাগিয়ে জীবনের বোরোটা বাজিয়ে দেয়া হচ্ছে। উপরোক্ত হাদিসটি বোঝার ক্ষেত্রে এসব পরিস্থিতি সামনে রাখতে হবে। পাইকারী হারে সকল মুমিনের জন্য এই হাদিসের মর্মার্থ প্রযোজ্য হবে না। স্থান কাল পাত্র ভেদে প্রযোজ্য হবে।
# **সংকলকঃ মোঃ আব্দুল গফুর**
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন