গল্প অভিশপ্ত পরী
প " ১১
#লেখক__মোঃ__নিশাদ
এই বলে ওনি ওনার হাতটা আমার কপালে রাখতেই আমি ঘুমিয়ে যাই।
আমার যখন ঘুম ভেঙে যায় তখন আমি নিজেকে আমাদের গ্রামে দেখতে পাই। আমাকে হয়তো ঘুমের মাঝে পরী এসে রেখে গেছে।
রাত তখন আটটা নয়টা। আমি পরীর কথামত সোজা হুজুরের বাড়িতে চলে যাই।
আমি সেখানে যাবার পর হুজুর অবাক হয়ে বলে। নিশাদ আসছো, তুমিকি ঐ পানি নিয়ে আসছো নাকি আনতে পারোনি৷
ওনার কথায় আমি খুশি মনে বলি পেরেছি। আমি ঐ পানি নিয়ে আসছি।
এই বলে হুজুরকে পানি দেয়ায় ওনি খুশি হয়ে বললেন। আল্লাহর অশেষ রহমত, চলো চলো এখনি চলো এখনি তোমাদের গ্রামে যাবো আর এই পানিটা সবাইকে খাওয়াই দিবো। আর দেরি করা ঠিক হবেনা।
কথাটা বলে সেই রাতের বেলা ওনি আমার সাথে আমাদের গ্রামের দিকে আসতে লাগলেন।
আমরা আমাদের গ্রামে আসার সময় হঠাৎ আমাদের সামনে একটা কালো অবয়ব এসে দাঁড়ায়।
সেই অবয়বটাকে দেখে হুজুর বলেন নিশাদ দাঁড়াও। এখানেই দাঁড়াও আর ভয় পাবেনা।
কথাটা বলে হুজুর চোখ বন্ধ করে কি জানি বললেন আর সামনে থাকা অবয়বটাকে উদ্দেশ্য করে বললেন। কে তুই আমাদের পথে দাঁড়ালি কেনো সরে যা সামন থেকে।
কথাটা বলে হুজুর একমুঠো মাটি নিয়ে সেখানে কি কি জানি পড়ে ঐ অবয়বটার দিকে ছুঁড়ে মা*রতেই সেই অবয়বটা বাতাসে মিলে গেলেন।
ও চলে যাবার পর আমি ও হুজুর আবারো বাড়ির দিকে যেতে লাগলাম।
আমরা আরেকটু সামনে এগোতেই হঠাৎ করে আমাদের সামনে এসে দাঁড়ালো অভি*শপ্ত পরী।
ও সামনে আসায় হুজুর বললেন।।
পরী সামন থেকে চলে যা। একবার কিন্তু আমার হাত থেকে বেঁচে ফিরছিলি এখন বাঁচতে পারবিনা।
হুজুরের কথায় পরী বললো।
হুজুর " তোর কি মনে হয় আমি এত সহজে তোকে যেতে দিবো। তোকে এত সহজে গ্রামের মানুষকে সুস্থ করতে দিবো। তুই এই পানিটা কোনভাবে নিয়ে যেতে পারবিনা৷
পরীর কথায় হুজুর তাঁর সাথে থাকা জ্বীনদের সরণ করলেন।
হুজুরের সরণে তার সাথে থাকা দুজন জ্বীন আসায়। হুজুর বললো।
শেষবারের মত বলছি সামন থেকে সরে যা নইলে আজকেই হবে তোর শেষ দিন।
হুজুরের কথায় অভি*শপ্ত পরী বললেন কার শেষ দিন হয় সেটা দেখাই যাক।
কথাটা বলে সেই পরী হুজুরের হাতে থাকা পানিটার দিকে ছুঁটে আসায় হুজুরের সাথে থাকা জ্বীনেরা পরীকে ধরে ফেলে।
আবারো শুরু হয় দুই দলের মাঝে যুদ্ধ।
যুদ্ধর এক পর্যায়ে হঠাৎ সেখানে এসে উপস্থিত হন বিশাল একটা জ্বীন।
সেই জ্বীনের সাথে আরো কয়েকটা জ্বীন।
সেই জ্বীন এসে কোন কথা না বলে হুজুরের সাথে থাকা দুজন জ্বীনকে আঘাত করতে থাকে আর মহূর্তে হুজুরের সাথে থাকা জ্বীন আহত হয়ে বেহুশ হয়ে পড়ে যায়।
এদিকে এই দৃশ্য দেখে তো আমি ভয়ে শেষ৷ হুজুর ও অবাক হয়ে দাঁড়িয়ে রইলেন কি হলো এটা৷ এরা কোন জ্বীন।
অবস্থা খারাপ দেখে হুজুর ভাবলেন পরীর রাজ্য থেকে নিয়ে আসা পানি এঁদের শরীলে ছিটিয়ে দিলে এরা পালিয়ে যাবে৷
এই ভেবে হুজুর পানির বোতলের মুখ খুলতে যাবে তখনি এক সেকেন্ড সেই জ্বীন এসে হুজুরকে আঘাত করে মাটিতে ফেলে দিলেন।
জ্বীনের আঘাতে হুজুর বেহুশ হয়ে পড়লেন মাটিতে।
তখন হুজুরের হাতে থাকা পানিটা নিয়ে চলে গেলেন সেই জ্বীন ও অভি*শপ্ত পরী। 😢
এটা কি হলো। আমার এত কষ্ট করে নিয়ে আসা পানিটা পরী নিয়ে গেলো।
পরী ও তাঁর সাথে থাকা জ্বীনেরা চলে যাবার পর।
আমি দৌড়ে কাছাকাছি থাকা একটা বাড়িতে গিয়ে চিৎ*কার করতে থাকি।
আমার চিৎ*কারে ঐ বাড়ির লোকেরা উঠায় আমি ওদের সব ঘটনা খুলে বলি৷ সব শুনে ওরা আমার সাথে হুজুরের কাছে আসে আর হুজুরকে ধরাধরি করে সেই বাড়িতে নিয়ে আসা হয়৷
হুজুরকে সেই বাড়িতে নিয়ে আসার পর ওনার হুশ ফেরানো হয়।
ওনার হুশ ফেরায় ওনি আমাকে বলে নিশাদ পানি।
ওনার কথায় আমি মন খারাপ করে মাথা নিচু করায় ওনি বুঝতে পারে পানিটা পরী নিয়ে গেছে।
পরী পানিটা নিয়ে যাওয়ায় হুজুর বললেন।
নিশাদ, আমি এখন বাড়িতে চলে যাই আমার শরীলটা ভালো লাগছেনা। তুমি কাল আমার সাথে দেখা করো।
ওনার কথায় আমি বললাম, হুজুর আপনার শরীলতো খারাপ একা একা কিভাবে জাবেন। আমি আপনাকে এগিয়ে দেই। আপনাকে যদি পরী আবারো আক্র*মণ করে।
আমার কথায় ওনি বললেন। না পরী পানিটা পেয়ে গেছে আমার মনে হয়না ও আর আমার কাছে আসবে। আমি একাই যেতে পারবো তুমিও বাড়িতে চলে যাও।
কথাটা বলে হুজুর বাড়িতে যাওয়ায় আমিও মন খারাপ করে বাড়িতে চলে যাই৷
আমি দুদিন পরীর রাজ্যে ছিলাম। বাড়িতে গিয়ে যানতে পারি এই দুদিনে গ্রামের আরো দু তিনজন মা*রা গেছে।
বাড়িতে গিয়ে বিছানায় শুয়ে শুয়ে ভাবতে থাকি এখন গ্রামের সবার কি হবে। পানিটা যে নিয়ে গেলো।
এসব ভাবতে ভাবতে রাতটা কাটিয়ে দিলাম।
পরেরদিন সকালে গ্রামে কান্নার রোল পড়ে গেলো। কারণ সেদিন অসুস্থ হয়ে মা*রা গেছে বেশ কয়েকজন।
সবার মত সেদিন মা*রা গেছে আমার বন্ধু সাজিদ। 🥺
সাজিদ মা*রা গেছে শুনে এক দৌড়ে সাজিদের বাড়িতে গিয়ে ওর লা*শ দেখে কান্না করতে লাগলাম।
এ যেনো মৃ*ত্যুর খেলা। গ্রামে অনেক কয়জন একসাথে মা*রা যাওয়ায় কেউ কারো কান্না দেখছেনা।
যারা রোগে আ*ক্রান্ত তাঁরা তো ভয়ে শেষ। নিজের চোখের সামনে নিজের পরিবারের লোক মা*রা যাচ্ছে অথচ কেউ কিছু করতে পারছেনা।
সাজিদ আমার অনেক ভালো বন্ধু ছিলো। ওর এমন মৃ*ত্যুতে আমি অনেক ভেঙে পড়ি।
সেদিন সাজিদ ও গ্রামের সবার জানাযা শেষে আমি হুজুরের কাছে চলে যাই।
আমি হুজুরের বাড়িতে যাবার পর দেখি ঈমাম সাহেব ও ওখানে।
ওরা আমাকে দেখে বলে নিশাদ তুমি আসছো বসো। বসো এখানে।
ওনাদের কথায় আমি বসে হুজুরকে বলি। হুজুর এখন কি খবর। এখন কি হবে। আজকে গ্রামের অনেকেই মা*রা গেছে। আপনি কি কোন উপায় পেলেন।
আমার কথায় হুজুর মাথা নিচু করে বললেন।
না আর কোন উপায় নেই৷ আমার আর কিছুই করার নেই৷
সেই পানি দিয়ে গ্রামের সবাইকে সুস্থ করতে চাইলাম কিন্তু তা আর হলোনা৷ সেই অভি*শপ্ত পরী ও ওর মালিক জ্বীনকে দিয়ে সেটা ছিনিয়ে নিয়ে গেলো৷
এদিকে আমার সাথে থাকা জ্বীনেরাও অনেক অসুস্থ। আমাকে ক্ষমা করো নিশাদ আমি আর কিছুই করতে পারবোনা৷
হুজুরের কথায় ঈমাম সাহেব বললেন। নিশাদ আমি নিজেই এই রোগে আক্রা*ন্ত হয়ে পড়ছি জানিনা কি হবে। তুমি এখন বাড়িতে যাও ও যদি কোন উপায় পায় তো তোমাকে জানাবে।
ঈমাম সাহেবের কথায় আমি হুজুর ও ওনাকে সালাম জানিয়ে মন খারাপ করে সেখান থেকে গ্রামে ফিরে আসলাম।
যতটুকু আশা ছিলো, সেটাও শেষ হয়ে গেলো। এখন মনে হয় গ্রামের সবার মত আমার মা বাবার মৃ*ত্যু আমাকে দেখতে হবে।
অনেক মন খারাপ নিয়ে বাড়িতে চলে গেলাম।।
বাড়িতে মা বাবা অসুস্থ। ওঁদের এমন অবস্থা দেখে খুব খারাপ লাগে কষ্ট হয়। তাই সেদিন রাতে বাড়ি থেকে বেড়িয়ে একটু দূরে একটা ফাঁকা মাঠে গিয়ে বসে একমনে আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকি।
এমন সময় সেই অভি*শপ্ত পরী আসে আমার কাছে।
ও এসে আমার পিছনে দাঁড়াতেই আমি ওর দিকে ছুটে গিয়ে বলি কেন আসছো আমার কাছে আমাকে মে*রে ফেলতে। ফেলো আমাকে এখনি মে*রে ফেলো আমি আর সবার এমন কষ্ট দেখতে পাচ্ছিনা।
হয় আমাকে মেরে ফেলো নইলে নইলে আমার মাঝে ও সেই রোগ, ছড়িয়ে দাও।
আমার কথায় পরী আমাকে বললেন। তোর ম*রার এত সখ। জানিস আমি এখানে কেনো আসছি।
কেনো আসছিস, আমাকে মে*রে ফেলতে মা*র আমাকে।
তখন পরী বললো না৷ আমি তোর কাছে একটা প্রস্তাব নিয়ে আসছি। এটা ঠিক প্রস্তাব না। বলতে পারিস এটাই হবে। আমি তোকে বিয়ে করবো। তোর আর আমার বিয়ে হবে। 😲
কিহহ তোর সাথে আমার বিয়ে।
তারপর ______
Next______
পরের পর্বে জানতে পারবেন এই অভিশপ্ত পরী আমাকে বিয়ে করার কারণ৷ গল্প এখনো সামনে অনেক বাকি পড়তে থাকুন৷
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন