এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

বুধবার, ১১ জুন, ২০২৫

গোধূলির হাসি" - রুদ্র আজাদ,,,,,, লেখাটি প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য 👇)

 (লেখাটি প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য 👇)

আমি নিশ্চিত আমার স্ত্রীর সাথে অন্য পুরুষের সম্পর্ক আছে। এটা কী করে বুঝতে পারলাম জানেন? স্ত্রীর সাথে শারীরিক মিলন করতে গেলে সে খুবই অনাগ্রহ প্রকাশ করে। চুমু দিতে গেলে সে শক্ত করে মুখ বন্ধ করে রাখে এবং মুখ সরিয়ে ফেলে। শারীরিক মিলনের সময় তার দিক থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায় না। বরঞ্চ সে খুবই বিরক্ত হয়ে থাকে।


আমার স্ত্রীর কোনো শারীরিক সমস্যা নেই। ওর স্বাস্থ্য ভালো। স্বাস্থ্য ভালো থাকলে শারীরিক মিলনে অনাগ্রহী থাকার কথা নয়। তার মানে হলো, সে অন্য পুরুষের সাথে সম্পর্কে জড়িত। এর জন্যই আমার সাথে শারীরিক মিলনে সে অনাগ্রহী থাকে।


বিয়ের প্রথম দিন থেকেই স্ত্রীর মধ্যে এই ব্যাপারটা ছিলো। কিন্তু তখন সেটা বুঝতে পারি নি। বোঝার চেষ্টাও করি নি। কারণ তখন আচ্ছন্নের মতো নিজের শরীরের প্রয়োজন মিটিয়ে যেতাম। স্ত্রীর অনাগ্রহ, বিরক্তি এগুলোকে মনে করতাম মেয়েদের স্বাভাবিক আচরণ। কারণ যৌন ব্যাপারে মেয়েদের অনেক লজ্জা, দ্বিধা, ভয় থাকে। 


তখন মনে হতো, সময়ের সাথে সাথে স্ত্রীর এই লজ্জা, দ্বিধা, ভয় কেটে যাবে। এর মধ্যে আমাদের একটা ছেলেও হলো। কিন্তু আশ্চর্য হয়ে দেখলাম, অনাগ্রহ কমার বদলে বাড়তে থাকলো। বাড়তে বাড়তে সেটা এমন পর্যায়ে গেলো যে, সে তখন শারীরিক মিলনে বাধা দিতে লাগলো। অবশ্য ওর বাধা শুনতাম না। আমার প্রয়োজন ঠিকই মিটিয়ে নিতাম।


সারাদিনে স্ত্রীর সাথে খুব একটা কথা হয় না। চাকরি এবং আরো সব কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকি। আর সংসারে যা লাগে তার ব্যবস্থা করে দিই। 


স্ত্রীকে খাওয়া পরার অভাবে রাখি নি। ওর সাথে ঝগড়াও করতাম না। ঝগড়া করতাম না কারণ, মেয়ে মানুষ বোঝে কম। আর কম বোঝা মানুষের সাথে ঝগড়া করা অর্থহীন। 


সংসারের অন্যান্য ব্যাপারে ওর সাথে কথা না বললেও চলতো। এবং আমি সেটা বলতামও না।


কিন্তু শারীরিক সম্পর্কের ব্যাপারটা এমন পর্যায়ে গেলো যে, সেটাকে অগ্রাহ্য করার আর উপায় রইলো না। কারণ আমি এই ব্যাপারে নিশ্চিত হয়ে গেলাম যে, ওর সাথে অন্য পুরুষের সম্পর্ক আছে। আমার খাবে, আমার পরবে, আর শারীরিক মিলন করবে আরেক পুরুষের সাথে, তা তো হতে পারে না। 


তাই একদিন ওকে ডেকে সরাসরি জিজ্ঞেস করলাম,"সম্পর্ক কতোদিন থেকে? বিয়ের আগে থেকে?"


সে বললো,"কীসের সম্পর্ক?"


"অভিনয় করার দরকার নেই। সব বুঝি আমি। যদি আরেকজনের সাথে সম্পর্কই থেকে থাকে, তাহলে আমাকে বিয়ে করেছিলে কেনো?"


আশ্চর্য হয়ে বললো,"তোমার কথা কিছুই বুঝতে পারছি না। বিয়ের আগে কিংবা বিয়ের পরে কারো সাথেই আমার সম্পর্ক ছিলো না।"


"যদি সম্পর্ক না থাকে তাহলে আমার সাথে এমন বাজে আচরণ কেনো করছো? কেনো আমার সাথে শারীরিক মিলনে তোমার অনীহা?"


সে চুপ হয়ে থাকলো। কিছু বললো না। 


বললাম,"কিছু বলছো না কেনো? বিয়ের পর থেকে লক্ষ্য করে আসছি তোমার এই ব্যাপারটা। তোমাকে তো আমি অভাবে রাখি নি। তোমার সাথে ঝগড়াও করি না। তাহলে কেনো আমার সাথে এমন আচরণ করছো?"


আরো কিছু সময় চুপ থেকে স্ত্রী বললো,"শারীরিক ব্যাপারটা শুধুমাত্র শারীরিক নয়, এটা মানসিকও। শারীরিক এবং মানসিক দুটো দিক ঠিক থাকলে তখন শারীরিক মিলনে আগ্রহ থাকে। কিন্তু তোমার দুটো দিকেই সমস্যা রয়েছে। যে জন্য তোমার সাথে শারীরিক মিলনে আগ্রহ বোধ করি না।"


স্ত্রীর কথা মানতে পারলাম না। কারণ আমার শারীরিক কোনো সমস্যা নেই। দ্রুত পতন জাতীয় সমস্যাও নেই। তাহলে স্ত্রী কেনো বললো আমার শারীরিক সমস্যা আছে? আর মানসিক সমস্যা মানে কী? আমি কি পাগল?


ক্ষেপে গিয়ে বললাম,"মিথ্যা কেনো বলছো? তুমি ভালো করেই জানো, আমার কোনো শারীরিক সমস্যা নেই। আর মানসিক সমস্যা বলতে কী বোঝাচ্ছো?"


"তোমার শারীরিক সমস্যা আছে। কী কী সমস্যা আছে শোনো, তোমার মুখ দিয়ে বিশ্রী গন্ধ আসে, আর তোমার শরীর থেকে ঘামের উটকো গন্ধ আসে। যে কারণে তুমি কাছে এলে শারীরিক আকর্ষণের বদলে বমি আসে। আর তোমার মানসিক সমস্যা হলো, তুমি আমাকে মানুষই মনে করো না। আমাকে ভাবো শারীরিক প্রয়োজন মেটানো এবং সন্তান উৎপাদনের যন্ত্র মাত্র। সেই সাথে ঘরের কাজ করবো, সন্তান পালবো, এবং তোমার আর তোমার বাবা মা'র সেবা করবো। এছাড়া আমার আর প্রয়োজন নেই। যে কারণে তুমি সংসারের কোনো ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়ার সময় আমার সাথে কথা বলার প্রয়োজনই বোধ করো না। তোমার এই ভুল মানসিকতার জন্য তোমার প্রতি কোনো প্রকার শারীরিক টান বোধ করি না। শারীরিক এবং মানসিক উভয় দিকে যদি নিজেকে শোধরাতে পারো, তাহলে স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে তোমার প্রতি শারীরিক আকর্ষণ জেগে উঠবে। নইলে, আমাকে মেরে ফেললেও তোমার প্রতি শারীরিক আকর্ষণ জেগে উঠবে না।"


ধাক্কার মতো খেলাম স্ত্রীর কথাগুলো শুনে। শারীরিক মিলনের সাথে যে এতো কিছু জড়িত কল্পনা করি নি!


পরদিন দাঁতের ডাক্তারের কাছে গেলাম। কারণ আমি নিয়মিত দাঁত মাজি, তাহলে মুখে গন্ধ কেনো থাকবে? ডাক্তার দেখে বললেন, পানি কম খাওয়ার কারণে এই সমস্যা হয়েছে। পর্যাপ্ত পানি পান করার পাশাপাশি তিনি আরো কিছু পরামর্শ দিলেন। সেগুলো নিয়ম মেনে পালন করতে লাগলাম।


আর শরীর থেকে ঘামের দুর্গন্ধ দূর করার জন্য পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকতে লাগলাম। বডি স্প্রে ব্যবহার করতে লাগলাম। এতোকাল শরীরের পরিচ্ছন্নতাকে গুরুত্ব দিই নি। ভেবেছি এগুলো মেয়েদের ব্যাপার। কিন্তু এখন জানলাম, পরিচ্ছন্ন থাকা ছেলেদের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। 


শারীরিক সমস্যা দূর করার পাশাপাশি মনোযোগ দিলাম মানসিক সমস্যা দূর করার জন্য। মানসিক সমস্যা দূর করার জন্য প্রথম যে কাজটা করলাম তা হলো, 'মেয়েরা কম বোঝে' এই চিন্তা মাথা থেকে বের করে দিলাম। এবং সংসারের সব বিষয়ে স্ত্রীর সঙ্গে পরামর্শ করতে লাগলাম। মাঝে মাঝে স্ত্রীকে নিয়ে ঘুরতে যেতাম। ওর সাথে সিনেমা দেখতাম, হাসতাম।


স্ত্রীর সাথে সম্পর্কটা সহজ এবং আনন্দময় হয়ে উঠলে এক রাতে আবিষ্কার করলাম, স্ত্রীর চোখে নেমে এলো কামনার গোধূলির মেঘ। কী যে সুন্দর লাগছিলো তাকে তখন! সেদিন সে আমাকে এতো শক্ত করে জড়িয়ে ধরেছিলো যে, অবাক হয়ে গেলাম। নারীর কামনার তীব্রতা দেখে হতবাক হয়ে গিয়েছিলাম। ওর তীব্র আলিঙ্গনে ডুবে যেতে যেতে হঠাৎ দেখি আমার চোখের কোণে পানি জমে উঠলো। অলৌকিক আনন্দময় পানি।


ব্যাপারটা হয়ে যাওয়ার পরই পাশ ফিরে ঘুমিয়ে পড়ি নি। যা আমি আগে করতাম। এবার স্ত্রীর কানের কাছে মুখ এনে গভীর আবেগে বললাম,"ভালোবাসি ভালোবাসি।"


স্ত্রী চোখ বুজে শুয়ে থাকলো। মুখে তার গোধূলির হাসি।


"গোধূলির হাসি"

- রুদ্র আজাদ ✍️

#সংগৃহীত #স্বপ্নকুটির_A_House_of_Love

কোন মন্তব্য নেই:

কশাইদের প্রতারণার শিকার ভোক্তাগণ,,,,,,,,,, ফেইসবুক থেকে নেওয়া

 আমাদের দেশে মাংসের দোকানগুলোতে গেলে দেখবেন কসাই মাংস কাটছে আর সেই মাংস থরথর করে নড়ছে। সাধারণ ক্রেতারা মনে করে, মাংস নড়ছে মানেই এটা একদম টাট...