এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

বুধবার, ৩০ জুলাই, ২০২৫

মহাবিশ্বের সবচেয়ে শীতলতম স্থানের খোঁজে জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা!

 # মহাবিশ্বের সবচেয়ে শীতলতম স্থানের খোঁজে জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা!


 


 


 


লেখক: সিরাজুর রহমান


 


আমাদের পৃথিবীর বুকে লুকিয়ে থাকা সবচেয়ে ঠাণ্ডা বা শীতলতম স্থান হচ্ছে দক্ষিণ মেরুর অ্যান্টার্কটিকার পূর্ব মালভূমি অঞ্চল। এই শীতল স্থানের গড় তাপমাত্রা হচ্ছে প্রায় –৯৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা গত ২০২৩ সালে বিজ্ঞানীদের এক পর্যবেক্ষণে তা –৯৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে গিয়েছিল। এই তীব্র মাত্রার শীতল পরিবেশে প্রাণী ও উদ্ভিদের অস্তিত্ব টিকে থাকার কোন সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। তবে বিজ্ঞানীদের মতে এটিই কিন্তু আমাদের সোলার সিস্টেমের একমাত্র সবচেয়ে ঠান্ডা স্থান নয়।


 


 


অনেকে মনে করেন যে, সূর্য বা অন্য কোন নক্ষত্র থেকে সবচেয়ে দূরের বস্তু বা গ্রহেই হয়ত সর্বনিম্ন তাপমাত্রা বিরাজ করে। যেমন, আমাদের সোলার সিস্টেমের শেষের অংশ কুইপার বেল্টে অবস্থিত বামন গ্রহ প্লুটোর (A dwarf planet) পৃষ্ঠতলের গড় তাপমাত্রা হচ্ছে কিনা প্রায় (~৪১ কেলভিন) বা –২৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তবে আশ্চর্যজনক হলেও সত্য যে, দূরবর্তী প্লুটোর থেকেও বেশি ঠান্ডা অঞ্চল বা স্থান কিনা আমাদের অনেক কাছেই চাঁদের বুকে লুকিয়ে রয়েছে।


 


 


গত ২০০৯ সালে NASA-এর Lunar Reconnaissance Orbiter মিশনের মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা আবিষ্কার করেন যে, চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে অবস্থিত কিছু চির-অন্ধকার গর্ত, যেমন হারমাইট ক্র্যাটার (Hermite Crater)-এ সূর্যের আলো কখনোই পৌঁছাতে পারেনি। এই গর্তগুলোর অভ্যন্তরে রেকর্ড করা তাপমাত্রা হতে পারে প্রায় –২৪৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা (~২৬ কেলভিন)। যা কিনা নিশ্চিতভাবেই প্লুটোর থেকেও অনেক বেশি শীতল স্থান বলা চলে।


 


 


বিজ্ঞানীদের দীর্ঘ মেয়াদি গবেষণা অনুযায়ী আমাদের সোলার সিস্টেমের সবচেয়ে শীতল ও রহস্যময় অঞ্চল হচ্ছে ওর্ট ক্লাউড (Oort Cloud)। এটি সূর্য থেকে হয়ত প্রায় ২,০০০–১,০০,০০০ অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল ইউনিট (AU) পর্যন্ত বিস্তৃত হয়ে থাকতে পারে। এখানে গড় তাপমাত্রা হতে পারে প্রায় (~৪.১৫ কেলভিন) বা –২৬৮.১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা মহাবিশ্বের কসমিক ব্যাকগ্রাউন্ড বিকিরণের (~২.৭ কেলভিন) নিচে বা হাইড্রোজেনের ফ্রিজিং পয়েন্টের প্রায় কাছাকাছি।


 


 


তবে সবচেয়ে চমকপ্রদ তথ্য হলো যে, সৌরজগতের বাহিরে আমাদের চীরচেনা আকাশগঙ্গা ছায়াপথের ভেতরই এমন এক অতি রহস্যময় স্থান রয়েছে, যাকে এখন পর্যন্ত প্রাকৃতিকভাবে বিদ্যমান সবচেয়ে শীতল বা তীব্র মাত্রায় ঠান্ডা অঞ্চল হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা এর নাম দিয়েছেন বুমেরাং নীহারিকা (Boomerang Nebula)। এটি পৃথিবী থেকে প্রায় ৫,০০০ আলোকবর্ষ দূরে, Centaurus নক্ষত্রপুঞ্জে অবস্থিত।


 


 


এটি একটি proto-planetary nebula এবং যার কেন্দ্রে একটি মৃতপ্রায় তারা তার বাইরের গ্যাস স্তর বিপুল বেগে ছুঁড়ে ফেলছে। ফলে নীহারিকাটির অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা পৌঁছে গেছে প্রায় –২৭২.১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। মূলত ১৯৯৫ সালে NASA-এর হাবল টেলিস্কোপ ও মাইক্রোওয়েভ ডেটা বিশ্লেষণের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পারেন বিজ্ঞানীরা এবং পরবর্তীতের ALMA (Atacama Large Millimeter/submillimeter Array) থেকেও এটি নিশ্চিত করেন তাঁরা।


 


 


বুমেরাং নীহারিকা (Boomerang Nebula) প্রথম আবিষ্কৃত হয় ১৯৮০ সালে। দুইজন অস্ট্রেলিয়ান জ্যোতির্বিজ্ঞানী Keith Taylor ও Mike Scarrott চিলির লাস ক্যাম্পানাস অবজারভেটরি থেকে আকাশ পর্যবেক্ষণের সময় এই বিশেষ আকৃতির অতিশীতল নীহারিকাটি শনাক্ত করেন। তবে এটিকে প্রথমে এর অদ্ভুত, বুমেরাং-এর মতো গঠন দেখে এমন নাম দেওয়া হয়েছিল বুমেরাং নেবুলা। 


 


 


পরিসরে বলা যায়, প্রায় ৯৩ বিলিয়ন লাইট ইয়ারের অধিক দুরুত্বব্যাপী বিস্তৃত এই সুবিশাল মহাবিশ্বে আমাদের আকাশগঙ্গা ছায়াপথের বাহিরে অন্য কোন আজানা স্থানে হয়ত লুকিয়ে রয়েছে বুমেরাং নীহারিকার চেয়েও আল্ট্রা সুপার এক্সট্রিম কোল্ড বা অতিশীতল স্থান। যা বর্তমানে প্রচলিত থাকা উচ্চ প্রযুক্তি স্পেস টেলিস্কোপ দ্বারা খুঁজে পাওয়া সম্ভব নাও হতে পারে বা এতটা উচ্চ পর্যায়ের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা মানবজাতি এখনো পর্যন্ত হয়ত অর্জন করেনি।


 


 

## তথ্যসূত্র / References:


 


NASA - Lunar Reconnaissance Orbiter, NASA Goddard (Boomerang Nebula), ALMA Observatory Data, ESO (European Southern Observatory), The Planetary Society, BBC Science Focus and Wikipedia

##  

##  

## লেখক পরিচিতি:


সিরাজুর রহমান

শিক্ষক ও লেখক

সিংড়া, নাটোর, বাংলাদেশ

[sherazbd@gmail.com](mailto:sherazbd@gmail.com)

কোন মন্তব্য নেই:

রাত ৮ টা ৩০ মিনিটের সংবাদ। তারিখ: ২০-০৩-২০২৬ খ্রি:।

 রাত ৮ টা ৩০ মিনিটের সংবাদ। তারিখ: ২০-০৩-২০২৬ খ্রি:। আজকের শিরোনাম: এক মাস সিয়াম সাধনা শেষে যথাযথ ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও ব্যাপক উৎসাহ, উদ্দী...