এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

সোমবার, ৬ এপ্রিল, ২০২৬

বাল্য বিবাহ নিষিদ্ধ নয়, বরং এর শরঈ হুকুম ও নিরাপদ পদ্ধতি সম্পর্কে সমাজে সচেতনতা তৈরি করা ইমানি দায়িত্ব EMAM UDDIN

 বাল্য বিবাহ নিষিদ্ধ নয়, বরং এর শরঈ হুকুম ও নিরাপদ পদ্ধতি সম্পর্কে সমাজে সচেতনতা তৈরি করা ইমানি দায়িত্ব


বাল্য বিবাহ বন্ধ করার নামে আইন করে বয়স নির্ধারণ করা গেলেও, এতে কখনোই যৌবনের অপব্যবহার বন্ধ করা সম্ভব না, জিনা বন্ধ করা সম্ভব না

কারণ সমস্যা বয়সে না, সমস্যা নিয়ন্ত্রণহীন সমাজ ব্যবস্থায়।


বাংলাদেশের আইন কী বলে?

বাংলাদেশে বিষয়টি নিয়ন্ত্রিত হয়েছে Child Marriage Restraint Act 2017 এর মাধ্যমে


এই আইনে বলা হয়েছে

মেয়েদের জন্য ন্যূনতম বয়স ১৮ বছর

ছেলেদের জন্য ন্যূনতম বয়স ২১ বছর

এই বয়সের আগে বিবাহ হলে তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে


তবে একই আইনে একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যতিক্রম রাখা হয়েছে


বিশেষ পরিস্থিতিতে, আদালতের অনুমতি এবং অভিভাবকের সম্মতিতে, এই বয়সের আগেও বিবাহ সম্পন্ন হতে পারে


অর্থাৎ—

আইন একদিকে একটি সাধারণ সীমা নির্ধারণ করেছে

অন্যদিকে বাস্তবতা ও বিশেষ প্রয়োজনের ক্ষেত্রে পথও খোলা রেখেছে


আর যদি কেউ এই বিধানকে অপব্যবহার করে, জোরপূর্বক বিবাহ করায়

প্রতারণা বা ক্ষতির উদ্দেশ্যে ব্যবহার করে—

তাহলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে


আমাদের দেশে “বাল্য বিবাহ” বলতে যা বোঝানো হয়, তা মূলত ১৮ বা ২১ বছরের নিচে বিবাহ

অর্থাৎ এই বয়সের আগে বিবাহ হলে সেটাকে অপরাধ হিসেবে ধরা হয়


কিন্তু শরীয়তের দৃষ্টিতে “বাল্যকাল” বলতে বোঝানো হয় সাবালক বা সাবালিকা হওয়ার আগ পর্যন্ত সময়কে


যেদিন থেকে একজন মানুষের উপর আমল ফরজ হয়

যেদিন থেকে তার নেকি ও গুনাহ লেখা শুরু হয়, সেদিন থেকেই সে আর শিশু নয়, সে দায়বদ্ধ


আল্লাহ তাআলা যদি ১৮ বা ২১ বছরকে সাবালক হওয়ার সীমা নির্ধারণ করতেন, তাহলে মানুষের শারীরিক ও প্রাকৃতিক পরিপক্বতাও সেই অনুযায়ী হতো


কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন, মানুষ তার আগেই বালেগ হয়, দায়িত্বশীলতার স্তরে প্রবেশ করে


আল্লাহ তাআলা বলেন—

وَابْتَلُوا الْيَتَامَىٰ حَتّىٰ إِذَا بَلَغُوا النِّكَاحَ

অর্থাৎ: তোমরা এতিমদের পরীক্ষা কর, যতক্ষণ না তারা বিবাহের উপযুক্ত বয়সে পৌঁছায়


এখানে “বালেগ হওয়া”কেই বিবাহযোগ্যতার মূল মানদণ্ড ধরা হয়েছে কোনো নির্দিষ্ট বয়সের সংখ্যা না


রাসূল ﷺ বলেন

يا معشر الشباب من استطاع منكم الباءة فليتزوج

হে যুবসমাজ, তোমাদের মধ্যে যার সামর্থ্য আছে, সে যেন বিবাহ করে


এখানে “কুওয়াতে বা'আ” বলা হয়েছে— ১৮ বা ২১ বলা হয়নি

কারণ ইসলাম প্রকৃতির সাথে সংগতিপূর্ণ, কৃত্রিম বয়স নির্ভর নয়


বাস্তবতা কী বলে?

আইন করে বিবাহ দেরি করানো গেলেও, যৌবনকে থামানো যায় না, চাহিদাকে বন্ধ করা যায় না


ফলে সমাজে যা দেখা যায়

অবাধ মেলামেশা, প্রেম, সম্পর্ক, এবং শেষ পর্যন্ত জিনা

অর্থাৎ

হালাল পথ বন্ধ, হারাম পথ উন্মুক্ত


তাহলে সমাধান কী?

সমাধান হলো

১. শরঈ মানদণ্ড পরিষ্কার করা

বালেগ হওয়া, বিবাহের প্রথম শর্ত


২. শারীরিক ও মানসিক প্রস্তুতি বিবেচনা করা

যদি কেউ বালেগ হওয়ার পরও শারীরিকভাবে দুর্বল, মানসিকভাবে অপরিপক্ব হয়, তাহলে প্রস্তুত হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করবে


৩. পারিবারিক সহায়তাকে “সামর্থ্য” হিসেবে ধরা

অনেক ক্ষেত্রে ছেলে নিজে উপার্জনক্ষম না হলেও যদি কেউ তার দায়িত্ব নেয়, সেটাই তার জন্য সামর্থ্য


৪. বিবাহের উদ্দেশ্য সঠিকভাবে বুঝানো


বিবাহের প্রথম উদ্দেশ্য

যৌবনের হেফাজত, জিনা থেকে বাঁচা

সন্তান নেওয়া, পূর্ণ সংসারের দায়িত্ব নেওয়া এগুলো ধীরে ধীরে আসবে


একটি বড় ভুল ধারণা:

সমাজে একটি কুসংস্কার চালু আছে

বিবাহের আগে নাকি দাম্পত্য জীবনের “অভিজ্ঞতা” থাকতে হবে

অথচ বাস্তবতা হলো

দাম্পত্য জীবনের প্রকৃত অভিজ্ঞতা শুরুই হয় বিবাহের পর

বিবাহ দেরি করলে

এই অভিজ্ঞতা মানুষ হারাম পথে অর্জন করতে শুরু করে


ইতিহাস কী বলে?

পৃথিবীর ইতিহাসে, লাখ কোটি মানুষ কম বয়সে বিবাহ করেছে

এবং তারা সফল পরিবার, সফল সমাজ গড়ে তুলেছে


সর্বশেষ কথা

সমস্যা “কম বয়সে বিবাহ” না

সমস্যা হলো শরীয়ত থেকে দূরে সরে যাওয়া

সমাজে ভুল প্রচার করা


আইন দিয়ে যৌবনকে নিয়ন্ত্রণ করা যায় না

কিন্তু সঠিক পথ দেখিয়ে একটি প্রজন্মকে রক্ষা করা যায়

কোন মন্তব্য নেই:

আমি নিজেও কখনাে এভাবে ভাবিনি. 😲 ফেইসবুক থেকে নেওয়া

 আমি নিজেও কখনাে এভাবে ভাবিনি. 😲 ফজর- ২ x ৩৬৫ দিন    = ৭৩০ রাকাআত যােহর- ৪ x ৩৬৫ দিন    = ১৪৬০ রাকাআত আসর- ৪x ৩৬৫ দিন     = ১৪৬০ রাকাআত মাগ...