গাজী রাকায়েত সাহেবের আরেকটি মিথ্যাচার ছিলো কাবা নিয়ে। তিনি কাবার সব মাপের যোগফল ১১৪ মিটার বলে যে ‘মিরাকেল’ প্রচার করছেন, তা স্রেফ গাণিতিক ভেল্কি আর ভুল তথ্যের মিশ্রণ।
আধুনিক পরিমাপ অনুযায়ী কাবার চারদিকের দৈর্ঘ্যের যোগফল (Perimeter) মাত্র ৪৮.২৬ মিটার
(প্রায়)। আর যদি উচ্চতা (১৩.১ মিটার) সহ ১২টি ধারের দৈর্ঘ্য যোগ করেন, তবে তা দাঁড়ায় প্রায় ১৪৯ মিটারের কাছাকাছি। ১১৪ সংখ্যাটা কোনোভাবেই এখানে ফিট করে না।
কাবার আকার যদি মিরাকেল হিসেবে ১১৪-ই হতো, তবে তা ইতিহাসে বারবার পরিবর্তন হলো কেন?
৬০৫ খ্রিষ্টাব্দ (কুরাইশদের আমল): কাবা পুন:নির্মাণের সময় তারা উচ্চতা ৯ হাত থেকে বাড়িয়ে ১৮ হাত করে এবং আয়তন কমায়।
৬৮৩ খ্রিষ্টাব্দ (আবদুল্লাহ ইবনে যুবায়ের রা.): তিনি কাবার আয়তন বাড়িয়ে নবী ইব্রাহিম (আ.)-এর মূল ভিত্তি অনুযায়ী বড় করেন এবং উচ্চতা আরও ১০ হাত বাড়িয়ে দেন।
৬৯৩ খ্রিষ্টাব্দ (আবদুল মালিক বিন মারওয়ান): তিনি আবার আয়তন কমিয়ে কুরাইশদের আমলের আকারে নিয়ে যান।
যদি ১১৪ সংখ্যাটাই মিরাকেল হতো, তবে কোন সময়ের মাপকে আপনি মিরাকেল বলবেন? ইবনে যুবায়েরের আমলের বড় কাবাকে, নাকি বর্তমানের ছোট কাবাকে? মাপ পরিবর্তন হলে তো মিরাকেলও হাওয়া হয়ে যাওয়ার কথা!
সহীহ বুখারী ও মুসলিম: কাবার আয়তন কমানো ও হাতিম অংশটি বাদ দেওয়ার ঐতিহাসিক বিবরণ এখানে স্পষ্টভাবে আছে।
ইবনে কাসীরের ‘আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া’: এখানে ইবনে যুবায়ের এবং হাজ্জাজ বিন ইউসুফের সময় কাবার মাপ পরিবর্তনের বিস্তারিত ইতিহাস পাবেন।
ইমাম আজরাকীর ‘আখবার মক্কা’: এটি মক্কার ইতিহাসের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য প্রাচীন দলিল, যেখানে কাবার আদি মাপ ও পরিবর্তনের তথ্য দেওয়া আছে।
((নীহারিকা ফেরদৌসী ফেইসবুক থেকে নেওয়া)

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন