আমাদের সকলের প্রানের বিদ্যাপীঠ আলহাজ্ব কাজী আব্দুল ওয়াহেদ মাধ্যমিক বিদ্যালয় নিয়ে অনেক দিন ধরে কিছু লিখবো লিখবো বলে আর লেখা হয় না। আজ সময় পেলাম তাই সকলের সাথে একটা গল্প শেয়ার করি। সাল টা ছিল ২০১৭ আমি দশম শ্রেণীর ছাত্র। সেই সময় আমি যে মাপের ছাত্র তাতে টেনেটুনে পাশ করার ক্ষমতা রাখতাম। সেইসময় আমার সমস্যা ছিল একটা মাত্র সাবজেক্ট ইংরেজি ২য় পত্র। কোনো ভাবেই কোনো কাজ হচ্ছিল না। আমার চরম ব্যর্থতা দেখে আমার বাড়ি থেকে বার বার বলতো প্রাইভেট পড় প্রাইভেট পড় মূলত আমার সমস্যা ছিল বিকালে প্রাইভেট কারণ সেই সময় একটু বেশি খেলা প্রেমিক ছিলাম। এমন সময় গেছে স্কুল ছুটির পর খেলা শেষ করে সন্ধ্যার সময় বাড়িতে ফিরেছি। সময় যাচ্ছে আর সামনে এস এস সি পরীক্ষার টেনশন মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে। এর মাঝে নান্নু স্যারের কাছে পড়া শুরু করলাম তিনাকে অনেক বুঝিয়ে। স্যারের সাথে আমার এমন ডিল হলো আমি একদিন প্রাইভেটে না আসলে পরের দিন থেকে আমি বাদ। ভালোই যাচ্ছিল আমার দিন।
আর একটা কথা বলতে ভুলে গেছি তখন আমি ছিলাম দশম শ্রেণীর ক্লাস ক্যাপ্টেন। আমাদের ক্লাস শিক্ষক ছিলেন আহসান হাবীব স্যার। তিনি নিতেন মূলত ইংরেজি ২য় পত্র। ২/৩ তিন মাস হয়ে গেছে আমি নিয়মিত প্রাইভেট পড়ছি নান্নু স্যারের কাছে। হাবীব স্যার আমার ভালো মূলত দেখতে পারছিলেন না। ক্লাসে এসে নাম ডাকা শেষ হলে আল্লাহ ৩০ টা দিন এই ক্যাপ্টেন পড়া বল। আমি যেদিন পড়া না করে যেতাম সেই দিনই মারতো না হয় কান ধরে দাড় করিয়ে রাখতো। একদিন কি হয়েছে ক্লাস শেষ আমাকে বলছে টিফিনের সময় আমি যেনো তিনার সাথে দেখা করি। আমি ভাবছি ক্লাস সম্পর্কে হয়তো কিছু বলবে। আমি ওই দিন খেলাধুলা বাদ দিয়ে স্যারের সাথে বাবলা তলা দেখা করি। আমাকে যাওয়ার সাথেই তিনার প্রথম কথা লেখাপড়া কেমন চলছে। আমি তার উত্তর দিলাম আলহামদুলিল্লাহ। কিছু সময় কি যেনো চিন্তা ভাবনা করলেন। পরে আমাকে বলছে তোকে দেখছি এদিক ওদিক প্রাইভেট পড়ছিস টেস্ট পরীক্ষার কিন্তু আর ২ মাস আছে পরীক্ষার প্রশ্ন ও আমি করবো খাতা ও আমি দেখবো বিষয় টা মাথায় রাখিস। তুই কতো ভালো লিখবি।এই কথা শোনার পর আমার মাথায় মনে হলো আকাশ ভেঙে পড়লো। আমি সেই সময় কি বলবো বুঝতে পারছিলাম না। উনিই ওনার মতো করে বলছে। সর্বশেষ আমাকে বললেন সকালে ৮ টাই আকাশ দের সাথে যেনো তোকে দেখি আমার ব্যাচে। ওই সময় আমি কি করবো কিছুই বুঝতে পারছি না বাড়ি থেকে নান্নু স্যারের প্রাইভেট টাকা নিয়ে খাওয়া শেষ স্যার কে একটা বুঝ দিছি সামনে মাসে একবারে দিবো এখন ওনার থেকে পড়া বাদ দিলে ওনার টাকা দিতে হবে সব মিলিয়ে মহাবিপদে আমি। রাতে ঘুম হয় না কি করবো পাশ তো আমার করতেই হবে যেভাবেই হোক। লজ্জা আমার এখনও নাই আগেও ছিল না সব বাদ দিয়ে গেলাম আমার পরম শ্রদ্ধা ভাজন স্যারের কাছে পড়তে। এদিকে নান্নু স্যারে আমার দিকে তাকিয়ে আছে পলক পড়ছে না। ওই সময় আমার এই গান টা গাইতে ইচ্ছা করছে বিধী তুমি বলে দাও আমি কার🤭 পরে নান্নু আমার কাছে একটাই কথা বলছে আমার কাছে পড়বি না আমার কোনো সমস্যা নাই কিন্তু না বলে চলে যাওয়া কেমন হয়ে গেলো না আমি স্যার কে একটাই কথা বলছিলাম সরি স্যার। পরে আল্লাহ রহমত আর স্যারের কল্যাণে টেস্ট পরীক্ষায় যত মার্কের উওর দিয়েছিলাম আলহামদুলিল্লাহ ৩/৪ বেশি পেয়েছিলাম।
Jewel Zaman https://www.facebook.com/Jewelpagly
ভাই স্কুলের কি খবর এখনও কি এমন চলে নাকি পরিবর্তন করতে পেরেছেন। আশা করি আমার মতো এরকম বিপদে আমার কোনো ছোট ভাই/বোন না পড়ুক। আপনার হাত ধরেই পরিবর্তন হবে।,,,,
কাজী নির্জন ফেইসবুক থেকে নেওয়া
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন