এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

রবিবার, ৫ মে, ২০২৪

কাঁচা আমের তেল-ঝাল আচার

 কাঁচা আমের তেল-ঝাল আচার😋


শেয়ার করছি খিচুড়ি কিংবা ভাতের সাথে খেতে আমের জিভে জল আনা আচারের রেসিপি। 


উপকরণঃ


আম ১ কেজি

সরিষার তেল ১ কাপ

সরিষা বাটা ১ টেবিল চামচ

হলুদ গুঁড়ো ১ চা চামচ

মরিচ গুঁড়ো দেড় টেবিল চামচ

গরমমসলা গুঁড়ো আধা চা চামচ 

রসুনবাটা দেড় টেবিল চামচ 

আদাবাটা দেড় চা চামচ

পাঁচফোড়ন দেড় টেবিল চামচ

সিরকা ১ কাপ

লবণ স্বাদমতো 

চিনি স্বাদমতো 


প্রণালীঃ

আম খোসাসহ ছোট কিউব  করে কেটে হলুদ ও লবণ মাখিয়ে ৫-৬ ঘন্টা রোদে দিয়ে শুকিয়ে নিন।পাত্রে তেল দিয়ে গরম হলে আস্ত পাঁচফোড়ন দিন।সুগন্ধ বের হলে আদা ও রসুনবাটা দিয়ে কিছুসময় ভেজে নিয়ে একে একে সরিষাবাটা,হলুদ গুঁড়ো,মরিচ গুঁড়ো লবণ ও সামান্য সিরকা দিয়ে ভালো করে কষিয়ে আম দিয়ে দিন।মসলার সাথে আম ভাল করে মিশিয়ে মাঝারি আঁচে রান্না করুন। আম কিছুটা নরম হয়ে আসলে গরম মসলা গুঁড়ো,চিনি ও বাকি সিরকা দিয়ে দিন। আম ভালভাবে সিদ্ধ হলে নামিয়ে নিন। আচার স্বাভাবিক তাপমাত্রায় আসলে কাচের বয়ামে সংরক্ষণ করুন।


টিপসঃ


১. আচার সংরক্ষণ করার জন্য সবসময় কাঁচের পাত্র ব্যবহার করুন। যে পাত্রে আচার রাখবেন তা অবশ্যই ভালোভাবে ধুয়ে পানি ঝরিয়ে রোদে শুকিয়ে নিন।  


২. আচার তৈরিতে সিরকা বা ভিনেগার ব্যবহার করলে আচার স্বাভাবিক তাপমাত্রায়ই বছরব্যাপী ভাল থাকে।


৩. আচার তৈরিতে পানি ব্যবহার করলে আচার তাড়াতাড়ি নষ্ট হয়।তাই আচারের মসলা বেটে নেয়া,কষানোর জন্য কোনভাবেই পানি ব্যবহার করা যাবে না।


৪. আচার নেয়ার জন্য আঙুল নয়, প্রতিবার শুকনো চামচ ব্যবহার করুন।।



স্বামী কেন আসামী??? 

 স্বামী কেন আসামী??? 


ভোরবেলা স্ত্রীকে জাগিয়ে স্বামী জিজ্ঞেস করলঃ 


স্বামীঃ হ্যাঁগো, তুমি কি আমার সাথে যোগ ব্যায়াম করবে?

স্ত্রীঃ ও, তুমি আমাকে খুব মোটা ভাবো তাইনা?


স্বামীঃ না..না, ব্যায়াম তো শরীরের জন্য ভালো...

স্ত্রীঃ ও তাহলে আমার শরীর বুঝি খারাপ...


স্বামীঃ না...না! আচ্ছা তুমি যখন উঠতে চাওনা তবে থাক...

স্ত্রীঃ ও, এবার তুমি বলছো আমি কুঁড়ে?


স্বামীঃ ওহো...তুমি আমায় বুঝতে পারছো না!

স্ত্রীঃ ও, আমি তো অবুঝ?


স্বামীঃ আমি তা বলিনি!

স্ত্রীঃ তাহলে কি আমি মিথ্যুক?


স্বামীঃ সাজ সকালে ঝগড়া কোরো না প্লীজ...

স্ত্রীঃ হ্যাঁ, আমি তো ঝগড়ুটে। সকাল থেকেই ঝগড়া করি...


স্বামীঃ ঠিক আছে, তাহলে আমিই যাবনা যোগ ব্যায়াম করতে...

স্ত্রীঃ দেখছো, ইচ্ছে তোমার নেই, আমার ওপর দোষ চাপাচ্ছো...


স্বামীঃ ঠিক আছে বাবা ঘুমাও তুমি, আমি একাই চললাম...

স্ত্রীঃ তুমি তো সব সময় একা একাই ঘুরো আর ফুর্তি কর...


স্বামীঃ উফফ, থাক এবার। আমার শরীর খারাপ লাগছে...

স্ত্রীঃ দেখেছো, কি স্বার্থপর তুমি । খালি নিজের চিন্তা করো, 

আমার শরীর স্বাস্থ্যের কথা কখনো ভাবো? 


স্বামী বেচারা আজ তিনদিন বসে বসে ভাবছে ;কোথায় কি ভুল বললাম?

এভাবে বসে আছে দেখে স্ত্রী স্বামীকে জিজ্ঞাসা করেঃ

স্ত্রীঃ তিনদিন ধরে দেখছি ঝিম মেরে আছ।

কাকে নিয়ে চিন্তা কর? কার রঙ ধরছে মনে? 


য়ত দোষ, স্বামী ঘোষ???

এক কাল্পনিক কাহিনী

 * এক কাল্পনিক কাহিনী*


ধার্মিক হওয়ার আশায় বাড়িতে একটা বই কিনে নিয়ে এসে পড়ছি, যখনই সময় পাচ্ছি বইটির বাণীতে একবার চোখ বুলিয়ে নিচ্ছি!


এদিকে হয়েছে কি বউয়ের মেজাজ সপ্তমে, প্রচণ্ড বৃষ্টির জন্য রান্নার মাসি আর কাপড় কাঁচার মাসি ডুব মেরেছে, বৌ রান্না ঘরে নিজে মনে মনে গজগজ করছে আর পাশের ড্রইং রুমে বসে এদিকে আমি তখন বইটির সারমর্ম পড়ছিলাম!


আমি সবে প্রথম লাইন বলেছি

*যা হয়েছে তা ভালই হয়েছে...*


বৌ -- ঝাঁজিয়ে উত্তর দিল, হ্যাঁ সে তো বলবে, মুখের সামনে সব কিছু সময়মত যোগান দিই কিনা, আমার খাটনি বেড়েছে ভালো তো হবেই.!


*দ্বিতীয় লাইন*

আমি - *যা হচ্ছে তা ভালই হচ্ছে...*


বৌ -- তা আর বলবে না, আমার হাড় মাস কালি হয়ে গেল তোমার তো ভালোই লাগবে, বেহায়া লোক -- কোথাকার.!


*তৃতীয় লাইন*

আমি - *যা হবে তাও ভালই হবে...*


বৌ -- কি..!? কি বললে শুনি, কালকে এরা দুজন কাজে না এলে ভালো হবে...??? পারবো না আর কাজ করতে, হোটেল থেকে খেয়ে আসবে যখন, দু দিনে ঠেলা বুঝা যাবে, বুঝবে কত ধানে কত চাল.!


আমি - *তোমার কি হারিয়েছে, যে তুমি কাঁদছ..?


বৌ -- আমার শান্তি হারিয়েছে, তোমার সাথে বিয়ে হবার পর আমার সব কিছু হারিয়েছে, সুখ স্বাচ্ছন্দ্য, সব.!


আমি - *তুমি কি নিয়ে এসেছিলে, যা তুমি হারিয়েছ.?


বৌ -- তোমার ঘরে এতো ফার্নিচার, আমার গয়না, তোমার গলায় যে দশ ভরি সোনার চেন ঝুলছে কে দিয়েছে, অ্যাঁ...??? এসব কে এনেছে...??? আবার জিজ্ঞাসা করছ কি নিয়ে এসেছিলে..!? শুধু কি তাই.! আমি এক বুক আশা নিয়ে এসেছিলাম, এখন তোমার স্বরূপ বুঝতে পারছি সব হারিয়েছি.!


আমি - *তুমি কি সৃষ্টি করেছ, যা নষ্ট হয়ে গেছে.?


বৌ -- হুঁ একথা বলতে পারলে..!? বিয়ের আগে তো ছন্নছাড়া ছিলে, এই গোছানো সংসার তো আমারই সৃষ্টি..!


আমি - *তুমি যা নিয়েছ, এখান থেকেই নিয়েছ...*


বউ -- একদম বাজে কথা বলবে না, যা মাইনে পাও, ঠিক ঠাক হাত খরচের টাকাটাও হয়না, কি সেভিংস আছে তোমার যে ওখান থেকে নেবো...???


আমি - *যা দিয়েছ এখানেই দিয়েছ...*


বৌ -- এই একটা কথা সঠিক বললে, যাক স্বীকার করলে, তোমার সংসারে সব কিছু দিয়েছি.!


আমি - *তোমার আজ যা আছে, কাল তা অন্যকারো ছিল...*


বৌ -- ব্যাস ব্যাস, আর ঠেস দিয়ে কথা বলতে হবে না, জানি গয়নাগুলো তোমার মা এর ছিল, আমি তো চাইনি, উনি নিজে থেকে দিয়েছেন, আর ওই তো কয়েকটা পাতলা চুড়ি আর কানের দুল, এতো কথা শোনাবার কি আছে..!


আমি - *পরশু সেটা অন্যকারো হয়ে যাবে...*


বউ -- তা আর জানিনা, আমি চোখ বুজলেই হল, আর একটা বিয়ে করবে, আমার সব জিনিস তাকে দেবে, পুরুষ মানুষ তো...!!! কত আর ভালো হবে...!!! আমার ছেলে মেয়ের যে কি হবে,

( তারপর আকাশে মুখ তুলে ) মাগো মা, দেখো তুমি কতো বড় পাষন্ডর হাতে আমাকে তুলে দিয়েছো..!


আমি - *পরিবর্তনই সংসার এর নিয়ম...*


বৌ -- সে তো হাড়ে হাড়ে মজ্জায় মজ্জায় উপলব্ধি করছি, বিয়ের আগে কত মন ভোলানো কথা আর এখন দেখি পুরো উল্টো, পরিবর্তনই বটে...!!.! 😂🤔🙂😇😳😁


দীঘিনালা উপজেলা পরিচিতি

 দীঘিনালা উপজেলা পরিচিতি। (((শেয়ার প্লীজ)))

খাগড়াছড়ি জেলার একটি উপজেলা


দীঘিনালা বাংলাদেশের খাগড়াছড়ি জেলার অন্তর্গত একটি উপজেলা। আয়তনে এটি খাগড়াছড়ি জেলার সবচেয়ে বড় উপজেলা।


দীঘিনালা উপজেলার মোট আয়তন ৬৯৪.১২ বর্গ কিলোমিটার।এটি আয়তনের দিক থেকে খাগড়াছড়ি জেলার সবচেয়ে বড় উপজেলা।খাগড়াছড়ি জেলার সর্ব-উত্তরে ও সর্ব-পূর্বে ২৩°০৪´ থেকে ২৩°৪৪´ উত্তর অক্ষাংশ এবং ৯১°৫৬´ থেকে ৯২°১১´ পূর্ব দ্রাঘিমাংশ জুড়ে দীঘিনালা উপজেলার অবস্থান।খাগড়াছড়ি জেলা সদর থেকে এ উপজেলার দূরত্ব প্রায় ২১ কিলোমিটার।এ উপজেলার উত্তরে ভারতের ত্রিপুরা, দক্ষিণে রাঙ্গামাটি জেলার লংগদু উপজেলা; পূর্বে রাঙ্গামাটি জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলা, পশ্চিমে খাগড়াছড়ি সদর উপজেলা, পানছড়ি উপজেলা ও ভারতের ত্রিপুরা।

প্রশাসনিক এলাকা:

১৯১৬ সালে দীঘিনালা থানা প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ১৯৮৩ সালে প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণের ফলে উপজেলায় রূপান্তরিত হয়।এ উপজেলায় বর্তমানে ৫টি ইউনিয়ন রয়েছে। সম্পূর্ণ উপজেলার প্রশাসনিক কার্যক্রম দীঘিনালা থানার আওতাধীন।


দর্শনীয় স্থান::

সম্পাদনা

তকবাক হাকর

তুষার ফ্রুটস ভ্যালি

তৈদুছড়া ঝর্ণা

তৈছামা ঝর্ণা

দীঘিনালা ঝুলন্ত ব্রীজ

দিঘীনালা বনবিহার


নামকরনের ইতিহাস :

দীঘিনালার বড় আদামে প্রায় দুই একরের মতো জায়গাজুড়ে অবস্থিত গোবিন্দ মাণিক্যের দীঘি। গাছপালা শোভিত স্বচ্ছ পানির এই দীঘির সঙ্গে জড়িয়ে অহিংস নীতিতে বিশ্বাসী ত্রিপুরার মহারাজা গোবিন্দ মাণিক্যের স্মৃতি। নিজ রাজ্য ছেড়ে দীঘিনালায় স্বেচ্ছা নির্বাসন বেছে নিয়েছিলেন তিনি। তখন এ অঞ্চলের নাম ছিল রিয়াংদেশ। এলাকার বাসিন্দারা গোবিন্দ মাণিক্যের স্মৃতি অক্ষয় করে রাখতে খনন করেন এই দীঘি। দীঘির কারণে এই অঞ্চলের নাম বদলে রাখা হয় দীঘিনালা।[৪][৫]দীঘির তীরে নেই কোন নামফলক। পুররঞ্জন প্রসাদ চক্রবর্তীর ত্রিপুরা রাজমালা, প্রভাংশু ত্রিপুরার ত্রিপুরা জাতির মাণিক্য উপাখ্যান এবং হিস্ট্রি অব হিন্দুস্তান গ্রন্থের তথ্যসূত্র অনুযায়ী, মহারাজা গোবিন্দ মাণিক্য ছিলেন ত্রিপুরার ১৮৪তম রাজা। তিনি রাজর্ষি খেতাব পেয়েছিলেন। ১৬৬০ খ্রিষ্টাব্দেখ্রিষ্টাব্দে ত্রিপুরার সিংহাসনে আরোহণ করেন তিনি। এ সময় রাজ্যের ভুবনেশ্বরী মন্দিরে পূজার নামে ব্যাপক বলিদান প্রচলন ছিল। মহারাজা গোবিন্দ মাণিক্য রাজ্যভার গ্রহণের পর এক আদেশে বলিদান প্রথা বন্ধ করে দেন। তখন তার বৈমাত্রেয় ছোট ভাই নক্ষত্র নারায়ণ ও রাজ পুরোহিত রঘুপতি চোন্তাই বলিদান বন্ধের রাজ আদেশের বিরুদ্ধে প্রজাদের মধ্যে প্রচার চালাতে থাকেন। রাজ আদেশের বিরুদ্ধাচরণ করার অপরাধে রাজ পুরোহিত রঘুপতি চোন্তাইকে ত্রিপুরা রাজ্য থেকে নির্বাসন ও বৈমাত্রেয় ছোট ভাই নক্ষত্র নারায়ণকে বঙ্গদেশের রাষ্ট্রদূত নিযুক্ত করেন গোবিন্দ মাণিক্য। নক্ষত্র নারায়ণ বঙ্গদেশে গিয়ে অভ্যুত্থানের মাধ্যমে বড় ভাই গোবিন্দ মাণিক্যকে হটিয়ে ত্রিপুরা রাজ্যের সিংহাসন দখলের ষড়যন্ত্র করেন। মহারাজা গোবিন্দ মাণিক্য এই ষড়যন্ত্রের কথা জানতে পেরে বৈমাত্রেয় ভাই নক্ষত্র নারায়ণকে রাজ্যভার দিয়ে ত্রিপুরা রাজ্যের রিয়াংদেশে (বর্তমানে খাগড়াছড়ির দীঘিনালার মাইনী নদীর তীরে) স্বেচ্ছা নির্বাসনে আসেন। মহারাজা গোবিন্দ মাণিক্য রিয়াংদেশে নির্বাসন জীবন কাটাচ্ছেন জেনে রিয়াংবাসীরা মহারাজার সামনে উপস্থিত হয়ে তার বৈমাত্রেয় ভাই নক্ষত্র নারায়ণের বিরুদ্ধে অস্ত্রধারণের অভিপ্রায় জানান। তখন মহারাজা তাদের জানিয়েছিলেন, তিনি স্বেচ্ছায় নক্ষত্র নারায়ণের হাতে ত্রিপুরা রাজ্যের শাসনভার তুলে দিয়ে নির্বাসনে এসেছেন। তিনি তার আনুগত্যের নিদর্শন প্রকাশের জন্য রিয়াংবাসীকে দীঘি খনন করতে বলেন। তখন মহারাজার নির্দেশ মেনে রিয়াংবাসীরা ১২টি দীঘি খনন করেন। তার মধ্যে দীঘিনালার এ দীঘিটি অন্যতম।


জনসংখ্যার উপাত্ত

২০১১ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী দীঘিনালা উপজেলার জনসংখ্যা ১,০৭,৩৬৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৫৫,০৯২ জন এবং মহিলা ৫২,২৭১ জন।] মোট জনসংখ্যার ৩১.৭৩% মুসলিম, ৯.১৭% হিন্দু, ৫৭.৯৮% বৌদ্ধ এবং ১.১২% খ্রিস্টান ও অন্যান্য ধর্মাবলম্বী রয়েছে। এ উপজেলায় চাকমা, ত্রিপুরা, মারমা প্রভৃতি জনগোষ্ঠীর বসবাস রয়েছে।

শিক্ষা:

দীঘিনালা উপজেলার সাক্ষরতার হার ৪৭.৫০%।] এ উপজেলায় ১টি কলেজ, ১০টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ২টি দাখিল মাদ্রাসা, ৭টি নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও ৫৬টি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে।


তথ্যসুত্র: উইকিপিডিয়া

.

.

.

.

.

.

.

.

.

.

.

 

 

 

 

 

ঢাকাই মসলিন বুনতে দরকার ফুটি কার্পাস গাছ, কোথায় পাওয়া যাবে এ গাছ? কার কাছে আছে এর নমুনা?

 ঢাকাই মসলিন বুনতে দরকার ফুটি কার্পাস গাছ, কোথায় পাওয়া যাবে এ গাছ? কার কাছে আছে এর নমুনা?


বাংলাদেশে বিভিন্ন সময় চেষ্টা হয়েছে ঢাকাই মসলিনকে পুনরায় জীবিত করে তোলার, তবে নমুনা না পাওয়া, ফুটি কার্পাসের সন্ধান না পাওয়া বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে 'বেঙ্গল মসলিন' প্রজেক্ট দলটি ঢাকাই মসলিন নিয়ে কাজ করতে থাকে। ক্যারোলাস লিনিয়াসের লেখা ‘স্পিসিস প্লান্টারাম’ আর মসলিন নিয়ে আবদুল করিমের প্রামাণ্য বই ‘ঢাকাই মসলিন’ এর উপর ভিত্তি করে ফুটি কার্পাস খোঁজ শুরু করে দলটি।


প্রথমেই শুরু হয় ফুটি কার্পাসের খোঁজ। পুরোনো দলিলপত্র ঘেঁটে দেখা যায়, বাংলার প্রাচীন ফুটি কার্পাসের বৈজ্ঞানিক নাম Gossypium arboreum var. neglecta, যা বিশ্বের ৯০ শতাংশ তুলার যোগান দিয়ে থাকা Gossypium hirsutum থেকে আলাদা। ফলে বাণিজ্যিকভাবে ফুটি কার্পাসকে আবার জাগিয়ে তোলার কাজ বেশ চ্যালেঞ্জিং।


বাংলাদেশ তো বটেই দুর্লভ ফুটি কার্পাস বীজের সংগ্রহ নেই কারো কাছেই, তবে ‘ব্রিটেনের রয়্যাল বোটানিক্যাল গার্ডেনস, কিউ’ এর কাছে ফুটি কার্পাসের সংরক্ষিত শুকনো পাতার খোঁজ পাওয়া যায়। সেখান থেকে সংগ্রহ করা হয় ফুটি কার্পাস গাছের ডিএনএ বা জীবনসূত্র।


প্রথমেই ফুটি কার্পাসের বৈজ্ঞানিক উপায়ে আঁকা যত ছবি আছে সেখান থেকে একটি আঁকিয়ে নেওয়া হয় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের এক শিক্ষার্থীকে দিয়ে। এরপর শুরু হয় ছবির সাথে মিল আছে এমন গাছ খোঁজা, ২০১৭ সালে এ বিষয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম ফেসবুক পোস্টও দেন এই গাছের ব্যাপারে। শেষ পর্যন্ত গাজীপুর, রাঙামাটি থেকে শুরু করে বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে একই রকম দেখতে প্রায় ৩৮টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়।


ডিএনএর ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া গেলে, বাংলাদেশে মেঘনার অববাহিকায় খোঁজ চালানো শুরু হয়। মেঘনা গত দুইশো বছরে গতিপথ বদলেছে অনেক, তাই স্যাটেলাইট ইমেজ বিশ্লেষণ করে গতিপথের পাশে ১২কিমি এলাকায় খোঁজ চালানো হয়। ফুটি কার্পাসের পাতা ও গাছের ছবি নিয়ে সাম্ভাব্য সব গাছের সাথে মিল খোঁজা হয়। মিল খুঁজে পাওয়া মাত্রই তাদের জেনেটিক সিকোয়েন্সিং করে মূল ফুটি কার্পাসের সাথে মেলানো হয়, শেষপর্যন্ত একটি বন্য কার্পাস গাছের সাথে ৭০ শতাংশ মিল পাওয়া যায়। বীজ সংগ্রহ করে মেঘনার পলিসমৃদ্ধ এলাকায় এই কার্পাসের বীজ বুনে পরীক্ষা শুরু হয় ২০১৫ সালে।


গাজীপুরের কাপাসিয়া এলাকার যে কার্পাসকে ডিএনএ সিকোয়েন্সের তথ্যের ভিত্তিতে ফুটি কার্পাস বলে শনাক্ত করা হয়। সেই ফুটি কার্পাস গাছের জাতটিকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মাঠে চাষ করা হয়। প্রথম ফসল থেকে যথেষ্ট ফুটি কার্পাসের তুলা সংগ্রহ করা যায়নি, যেখান থেকে সম্পূর্ণ একটি মসলিন বোনা যাবে। তাই ভারতীয় কার্পাস চাষিদের কাছ থেকে নমুনা সংগ্রহ করে একটি ‘হাইব্রীড’ মসলিনের সুতা তৈরি করা হয়। 


ছবি: ফুটি কার্পাসের পাতা এবং ফুল, ইমেজ সোর্স: দৃক।


তথ্যসূত্র: 

ক। ঢাকাই মসলিন; ড. আবদুল করিম

খ। বাংলাপিডিয়া 

গ। রোর বাংলা, শাহ মো. মিনহাজুল আবেদীন।



মটরশুটি থেকে বড় আবিষ্কার করেছিলেন জোহান মেনডেল

 মটরশুটি থেকে বড় আবিষ্কার করেছিলেন জোহান মেনডেল

জোহান গ্রেগর মেন্ডেল-এর জন্ম ১৮২২ সালের ২২ জুলাই, তদানীন্তন হ্যাবসবার্গ সাম্রাজ্যে। পৈতৃক নাম ইয়োহান, বংশীয় নাম মেন্ডেল। ‘গ্রেগর’ শব্দটা যুক্ত হয়েছে অগাস্টিনীয় আশ্রমে যোগদান করার পর। বাবা অ্যান্টন মেন্ডেল ছিলেন কৃষক; ভূস্বামীর অধীনে কাজ করতেন।

তবে নিজস্ব জমিজমা এবং সম্পত্তির বিচারে তিনি হতদরিদ্র ছিলেন বলা যাবে না। মেন্ডেল পরিবার যেখানে থাকত সেখানে কাজের পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা ছিল। ফলে ছেলে একটু পরিণত হয়ে পৈতৃক কাজ-কর্মে লেগে যাবে—এমনটাই ইচ্ছা ছিল জোহানের বাবা-মায়ের। কিন্তু প্রবল ইচ্ছাশক্তির জোরে তিনি সকল বাধা পাশ কাটিয়ে স্থানীয় একটি স্কুলে ভর্তি হয়ে যান।

স্কুলে ভর্তি হওয়ার পর পরই তাঁর বোধভাষ্যি শিক্ষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। এরূপ ধীসম্পন্ন একটা ছেলে গ্রামের সাদামাটা এক স্কুলে পড়ে মেধার অপচয় করবে—এমনটা চিন্তা করে শিক্ষকেরা তাঁকে ভালো একটি স্কুলে পড়ার সুযোগ সৃষ্টি করে দেন। সেখানে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপ্ত করে পরের বছর উচ্চবিদ্যালয়ে প্রবেশ করেন তিনি।

ছেলেকে দিয়ে যে খামার দেখাশোনার কাজ হবে না সেটা বুঝতে পেরে বাবা-মাও ছেলেকে পড়ালেখা চালিয়ে যাবার জন্য আর্থিক ও মানসিক—উভয় প্রকার সহায়তা দিয়ে গেছেন।

কিন্তু খারাপ আবহাওয়ার কারণে ফসল ফলাতে ব্যর্থ হওয়ায় একটা সময় তাঁর বাবার পক্ষ থেকে আসা অর্থ সহযোগিতাও বন্ধ হয়ে যায়। ফলে বাধ্য হয়ে মেন্ডেলকে শিক্ষকতার পেশা বেছে নিতে হয়। পড়াশোনা এবং গৃহশিক্ষকের কাজ করে নিজের পড়ার খরচ জোগানো—এভাবেই চলছিল মেন্ডেলের জীবন। ১৮৪০ সালে তিনি যখন বিদ্যালয়ের পাঠ সম্পন্ন করেন তখন তাঁর বয়স আঠারো বছর। বিদ্যালয়ের পাঠ সমাপ্ত করে উচ্চশিক্ষার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে হত।

তবে সে সময় বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার যোগ্যতা অর্জন করার জন্য অতিরিক্ত দুই বছর দর্শন পাঠ বাধ্যতামূলক ছিল। দর্শনশাস্ত্র পড়ানোর জন্য ছিল আলাদা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এরকমই একটি প্রতিষ্ঠান থেকে তিনি দর্শনশাস্ত্রের অধ্যয়ন সম্পন্ন করেন। তবে এর মধ্যবর্তী সময়টা মেন্ডেল-এর জন্য খুব একটা স্বস্তিদায়ক ছিল না।

একেতো আর্থিক সমস্যা, অপরদিকে মানসিক অসুস্থতা। মেন্ডেলের একটা বড় সমস্যা ছিল যে তিনি মানসিক চাপ একদমই নিতে পারতেন না। ফলে আর্থিক বা অন্য কোনো চাপা উত্তেজনা তাঁর স্নায়ুর ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলত। এই মানসিক অস্থিরতা তাঁকে আমৃত্যু পীড়া দিয়ে গেছে। তাঁর জীবনচরিত পাঠ করলে বিষয়টা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। এরই মধ্যে তাঁদের পৈতৃক সম্পত্তি বোনদের মধ্যে ভাগাভাগি হয়ে যায়। মেন্ডেল স্ব-ইচ্ছায় খামারবাড়ির কর্তৃত্ব ছেড়ে দেয়ায় সেটার দায়িত্বভার গিয়ে পড়ে তাঁর বড় বোনের স্বামীর ওপর। মেন্ডেল-এর আর্থিক সমস্যা তখন তুঙ্গে। এমতাবস্থায় ছোট বোন তাঁর দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন। ভগিনীর এই সাহায্যের কথা তিনি মৃত্যুর আগে পর্যন্ত কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করেছেন এবং মঠাধ্যক্ষের দায়িত্ব বুঝে নেয়ার পর ভাগিনেয়দের লেখাপড়ার সকল খরচ নিজে একা বহন করেছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি পদার্থবিজ্ঞান, দর্শনশাস্ত্র, নীতিশাস্ত্র ও গণিত বিষয়ে অধ্যয়ন করেন, যদিও আর্থিক ও মানসিক অস্থিতিশীলতার কারণে শেষ অব্দি তা সুসম্পন্ন করতে পারেননি। ১৮৪৩ সালে তিনি ব্রুনোর সেইন্ট টমাস আশ্রমে চাকরির জন্য আবেদন করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের এক হিতাকাঙ্ক্ষী শিক্ষকের সহায়তায় খুব সহজেই তিনি আশ্রমের চাকরিটা পেয়েও যান। অনিন্দ্য কিছু গুণাবলির জন্য তিনি সকলের প্রিয়পাত্র ছিলেন। বিভিন্ন বিষয়ে অগ্রাধিকারপ্রাপ্তিতে তাঁর এই গুণগুলো বিশেষ সহায়ক ভূমিকা পালন করত। উদাহরণস্বরূপ সেইন্ট টমাস আশ্রমের সেই চাকরির প্রসঙ্গটাই তুলে ধরা যায়। ব্রুনোর সেইন্ট টমাস ছিল তৎকালে বিখ্যাত একটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান। বহু প্রতিযোগীর সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে সেখানে সুযোগ করে নেয়াটা কঠিন এক কাজ ছিল। তাছাড়া আশ্রমের আনুষ্ঠানিক কর্তৃত্বপ্রসূত ভাষা ছিল চেক। এদিকে মেন্ডেল অভ্যস্ত ছিলেন জার্মান ভাষায়। এই সকল অভাব থাকা সত্ত্বেও মেন্ডেলকে বাছাই করা হয়েছিল শুধুমাত্র তাঁর পরিপাটি চিন্তাভাবনা, পরিশীলিত আচার-আচরণ ও মেধার কারণে। আশ্রমে গিয়ে মেন্ডেল তার কাঙ্ক্ষিত পরিবেশটাই পেয়েছিলেন। সহকর্মীরা সকলেই ছিলেন আন্তরিক, মঠাধ্যক্ষ ছিলেন একজন বিনয়ী মানষ।

ব্রুনোর অগাস্টিনীয় আশ্রমের মঠাধ্যক্ষ ছিলেন এফসি ন্যাপ। এই লোকটি মেন্ডেলের মাঝে এক অবিদিত প্রতিভা দেখতে পেয়েছিলেন। মেন্ডেলকে তিনি 'ন্যাচারাল সায়েন্স' পড়তে উৎসাহ দিতেন। আশ্রমে কর্মরত সকলেই ছিলেন উচ্চশিক্ষিত। সেখানে গ্রন্থাগার ছিল, ছিল পাঠোপযোগী পরিবেশ। তাছাড়া আশ্রমের অনেকেই ব্রুনোর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা করতেন। ন্যাপ নিজেও শিক্ষক ছিলেন। ফলে আশ্রমটি ছিল মেন্ডেলের জন্য এক উপযুক্ত স্থান। সেখানে মেন্ডেলের প্রথম কাজ ছিল হাসপাতালে গিয়ে মৃত্যুপথযাত্রী রোগীদের ধর্মীয় সান্ত্বনাবাণী পড়ে শোনানো এবং পাপস্বীকার শ্রবণ করা। শিগগিরই এই কাজের প্রতি মেন্ডেলের বিতৃষ্ণা চলে আসে। ন্যাপ-এর কাছে গিয়ে তিনি উক্ত কাজ থেকে তাঁকে অব্যাহতি দিতে অনুরোধ জানান। তাঁর মনোবাসনা ছিল শিক্ষকতা করার। তিনি নিজেই বলতেন—‘প্রাকৃতিক জ্ঞানের সমুদ্রে ডুবে থাকাই আমার সবচেয়ে পছন্দের কাজ।’ ন্যাপ সেটা ভালো করেই জানতেন।

স্থানীয় একটি স্কুলে ন্যাপ, মেন্ডেলের জন্য সুপারিশ করেন। তখন ইউরোপে মঠাধ্যক্ষদের ক্ষমতা ছিল রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের। তাঁরা রাষ্ট্র ও রাজনীতিতে ভালো প্রভাব রাখতে পারতেন। মেন্ডেলের ক্ষেত্রে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক হিসেবে যোগদানে প্রধান বাধা ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের অসমাপ্ত পাঠ। কিন্তু ন্যাপের সুপারিশে মেন্ডেলের একটা গতি হয়, যদিও বেতন অন্যদের অর্ধেক। পূর্ণ বেতনভুক্তির সুবিধা পেতে কয়েক স্তরের পরীক্ষায় অংশগ্রহণ ও উত্তীর্ণ হয়ে তবেই শিক্ষকদের খাতায় নাম লেখাতে হত। মেন্ডেল সেই রকম একটি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেও উত্তীর্ণ হতে পারেননি। ন্যাপ তাঁকে ‘ইউনিভার্সিটি অব ভিয়েনাতে প্রাকৃতিক ইতিহাসের ওপর পাঠ সম্পন্ন করে আসতে বললেন। যথারীতি ন্যাপের সুপারিশ এবং মেন্ডেলের ভিয়েনা বিশ্ববিদ্যালয়ে পদার্পণ। মেন্ডেল সেখানে দুই বছর অধ্যয়ন করেছেন। তাঁর পরবর্তী বৈজ্ঞানিক জীবনে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাব ছিল সবচেয়ে বেশি। এখানেই মেন্ডেল পরিচিত হয়েছেন তৎকালীন সেরা সব জীববিজ্ঞানী, পদার্থবিজ্ঞানীদের সাথে। এসব পরিচিতিই মূলত মেন্ডেলকে তাঁর জীবনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নির্ধারণ করতে সাহায্য করেছিল।

পদার্থবিজ্ঞানের বিখ্যাত ‘ডপলার ক্রিয়ার’ আবিষ্কর্তা ক্রিশ্চিয়ান ডপলার-এর সাথে তাঁর সাক্ষাৎ হয়েছিল এখানে। পদার্থবিজ্ঞান ও গণিত তাঁর পাঠ্যবিষয় ছিল। এখানে শেখা বা জানা বিষয়গুলোর একটা প্রভাব দেখা যায় তাঁর পরবর্তী বৈজ্ঞানিক গবেষণায়। প্রাকৃতিক ঘটনাবলীর ব্যাখ্যায় গণিতের প্রয়োজনীয়তা ও এর ব্যবহার সম্পর্কে জানতে পারেন পদার্থবিজ্ঞানীদের কাছ থেকে। বিশিষ্ট জীববিজ্ঞানী ফ্রাঞ্চ আংগার ছিলেন তাঁর শিক্ষক। উদ্ভিদের ক্রমবিকাশ, সংকরায়ণ ইত্যাদি ছিল আংগারের গবেষণার বিষয়। তখন মনে করা হতো যে একই প্রজাতির দুটি ভিন্নধর্মী উদ্ভিদের মধ্যে ক্রস ঘটানো হলে প্রথম প্রজন্মে সব সমধর্মী বৈশিষ্ট্য প্রকাশিত হয়। প্রথম প্রজন্মের উদ্ভিদগুলো নিয়ে পুনরায় ক্রস ঘটানো হলে দ্বিতীয় প্রজন্মে এসে মূল উদ্ভিদ প্রজাতির কিছু বৈশিষ্ট্য পুনর্ব্যক্ত হয়। এসব বৈশিষ্ট্য প্রকাশের জন্য কোনো গাণিতিক সংখ্যামান ব্যবহার করা হতো না। অপরদিকে মেন্ডেলের বংশগতিবিদ্যায় এই গাণিতিক সংখ্যায়ন বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। এরই মাঝে জ্যোতির্বিজ্ঞানী এল এল লিট্রোর প্রকৃতির জ্ঞান অন্বেষণে ‘সম্ভাব্যতার নীতি’র প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করেন। মেন্ডেল নিয়মিত এসব বিষয়ে খোঁজখবর রাখতেন এবং গুরুত্ব উপলব্ধি করার চেষ্টা করতেন।

১৮৫৩ সালে মেন্ডেল তাঁর নিজ কর্মস্থল ব্রুনোতে ফিরে আসেন। তবে এবারের মেন্ডেল চিন্তাভাবনা ও বৈজ্ঞানিক জ্ঞানে সমৃদ্ধ অন্য এক মেন্ডেল। ব্রুনোতে ফিরে তিনি পুনরায় আশ্রমের কাজে নিয়োজিত হন এবং একটি উচ্চবিদ্যালয়ে প্রাকৃতিক ইতিহাস ও পদার্থবিজ্ঞানের শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। পাশাপাশি শুরু করেন মটরশুঁটি নিয়ে তাঁর সেই ভুবনবিখ্যাত পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও গবেষণা- বংশগতি কী এবং প্রজন্মান্তরে কীভাবে তার প্রকাশ ঘটে। উত্তর অনুসন্ধান করতে গিয়ে আবিষ্কার করে বসেন শতাব্দীর অন্যতম চাঞ্চল্যকর ঘটনা—বংশপরম্পরায় মিল-অমিলের পরিসংখ্যান। এই বিষয়টিকেই আমরা এখন জেনেটিকস বলে জানি। চাঞ্চল্যকর ঘটনা বললেও তাঁর আয়ুষ্কালে আবিষ্কারটি কোনো প্রকার চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করতে পারেনি। ডারউইনের সমসাময়িক হলেও ডারউইনের মতো তিনি গণমাধ্যম ও জনসাধারণের ব্যাপক দৃষ্টি আকর্ষণ করতে ব্যর্থ হন। অনেকটা নীরবেই তাঁর কাজগুলো ধামাচাপা পড়ে যায় বিখ্যাতদের কাজের আড়ালে।

বংশগতি ছাড়াও মেন্ডেল বিজ্ঞানের অন্যান্য শাখায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। আবহবিদ্যা সে রকমই একটি শাখা। মৌমাছির কৃত্রিম প্রজননেও তিনি সফলতা অর্জন করেন। ১৮৬৮ সালে ন্যাপের মৃত্যুর পর আশ্রমের গুরুদায়িত্ব গিয়ে পড়ে মেন্ডেলের ওপর। মেন্ডেল আশ্রমের মঠাধ্যক্ষ নির্বাচিত হন। বলা হয় মঠাধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালনের আগে মিউনিখ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও বিশিষ্ট উদ্ভিদবিজ্ঞানী কার্ল ফন নেগেলির উপদেশে তিনি ভিন্ন একটি উদ্ভিদ নিয়ে কাজ করার চেষ্টা করে সফল হতে পারেননি। উদ্ভিদের হায়েরিশিয়াম প্রজাতি নিয়ে কাজ করছিলেন নেগেলি। কিন্তু ফুলটির কিছু অদ্ভুত বৈশিষ্ট্যের কারণে খুব একটা সুবিধা করে উঠতে পারছিলেন না তিনি। এরকমই একটা সময়ে মেন্ডেল তাঁর গবেষণাপত্রটি নেগেলির কাছে পাঠান। নেগেলি গবেষণাপত্রটির গুরুত্ব উপলব্ধি করতে না পারলেও মেন্ডেলের মেধা সম্পর্কে একটি ধারণা তিনি পেয়েছিলেন। নেগেলির পরামর্শটি মেন্ডেলের জন্য হিতে বিপরীত হয়। নতুন এই পরীক্ষা-নিরীক্ষা থেকে বিভ্রান্তিকর সব ফলাফল আসছিল, যা মেন্ডেলকে তাঁর প্রাক্তন গবেষণাফল সম্পর্কে কিছুটা সন্দিহান করে তোলে। একটা সময় পর মেন্ডেল গবেষণার প্রতি অনেকটাই বীতশ্রদ্ধ হয়ে পড়েন।

এরূপ এক পরিস্থিতির মধ্যেই তিনি মঠাধ্যক্ষ নির্বাচিত হন এবং উক্ত কাজে তৎপর হয়ে ওঠেন। মঠাধ্যক্ষ নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি গবেষণায় কতটা মনোনিবেশ করতে পেরেছিলেন সে বিষয়ে মতভেদ আছে। গবেষণাকার্যে নিয়োজিত থাকলেও তিনি যে আশ্রমের স্বার্থ সংরক্ষণের ব্যাপারে যথেষ্ট সজাগ ছিলেন সে বিষয়ে প্রমাণ পাওয়া যায়। ধর্মীয় নীতি সাপেক্ষে তিনি ছিলেন একজন সফল ধর্মযাজক, এবং বিজ্ঞানী হিসেবে ছিলেন একজন সফল জীববিজ্ঞানী। দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর ১৮৮৪ সালের ৪ জানুয়ারি সকালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। ফ্রাঞ্চ বারিনা নামে মেন্ডেলের এক সহকর্মী মেন্ডেলর মৃত্যু সময়কালীন কিছু কথা লিখে গিয়েছেন— ‘যদিও জীবনে আমাকে অনেক কষ্টকর মুহূর্তের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে, তবুও যেসব সুন্দর ও ভালো বিষয়গুলো আমার সাথে হয়েছে সেগুলোর জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতেই হবে। আমার বৈজ্ঞানিক কাজগুলো আমাকে অনেক বেশি সন্তুষ্টি এনে দিয়েছে এবং আমি মনে করি যে বিশ্ব একদিন ঠিকই আমার কাজের স্বীকৃতি দেবে।’

লেখক: চিকিৎসক ও বিজ্ঞান লেখক

Source: কালের কণ্ঠ

ডারউইনের জীবনের এই ১০ তথ্য কি জানতেন?,,,,,,,,

 ডারউইনের জীবনের এই ১০ তথ্য কি জানতেন?


চার্লস রবার্ট ডারউইনের সঙ্গে সবার আগে যে শব্দগুচ্ছ কানে বাজে, তা হল বিবর্তন তত্ত্ব। তবে, তার বিশ্ব ভ্রমণ নিয়েও নানা সময় নানা গল্প শোনা গেছে। এর বাইরেও বেশ ঘটনাবহুল জীবন কেটেছে ডারউইনের।


আসুন, তার জন্মদিনে মিলিয়ে নেই তার কোন কোন গল্প জানা আছে আগে থেকেই –


১. একই দিনে জন্মেছিলেন এব্রাহাম লিংকন ও চার্লস ডারউইন


এব্রাহাম লিংকন ও ডারউইন দুজনই ১৮০৯ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন। তবে তাদের কাজের ক্ষেত্র ছিল বেশ ভিন্ন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ষোড়শ প্রেসিডেন্টের জন্ম কেনটাকি অঙ্গরাজ্যে কাঠের গুড়ি দিয়ে তৈরি একটি ঘরে। আর একইসময় কেনটাকি থেকে কয়েক হাজার কিলোমিটার পূর্বে অবস্থিত ইংল্যান্ডের প্রাচীন শহর শ্রুজব্রি বা শ্রোউজব্রি শহরের এক ধনী পরিবারে জন্ম হয় ডারউইনের।


২. বিবর্তন তত্ত্ব প্রকাশে ২০ বছরের অপেক্ষা


রাজকীয় নৌবাহিনীর জাহাজ ‘এইচএমএস বিগল’-এ ডারউইনের পাঁচ বছরের সমুদ্রযাত্রা শেষ হয়েছিল ১৮৩৬ সালে। এ যাত্রা ডারউইনের অমূল্য গবেষণা অর্থাৎ বিবর্তনে প্রকৃতিক নির্বাচনের তত্ত্বে উদ্দীপক হিসেবে কাজ করে। তবে তার এ যুগান্তকারী ধারণা মানুষ ও ধর্মযাজকদের মধ্যে শঙ্কা বাড়িয়ে দেয়। আর ১৮৫৮ সালের আগ পর্যন্ত বিবর্তন নিয়ে কোনো তত্ত্ব জনসমক্ষে উপস্থাপন করেননি তিনি।


পরবর্তীতে, ব্রিটিশ প্রকৃতিবিদ আলফ্রেড রাসেল ওয়ালেসের সঙ্গে একটি যৌথ ঘোষণার মাধ্যমে নিজের তত্ত্ব নিয়ে সাধারণ মানুষের কাছে যান ডারউইন। এর ঠিক পরের বছরই নিজের মূল কাজ “প্রাকৃতিক নির্বাচনের মাধ্যমে বিভিন্ন প্রজাতির উৎপত্তি বা জীবের সংগ্রামের মাধ্যমে টিকে থাকা” নিয়ে তথ্য প্রকাশ করেন তিনি।


৩. দীর্ঘদিন অসুস্থতায় ভুগেছেন ডারউইন


বিশ্ব ভ্রমণের লম্বা সফর শেষে ফিরে আসার পর ক্লান্ত হয়ে পড়েন ডারউইন। এর পর থেকেই একজিমা, বমি ভাব, মাথাব্যথা ও হৃদজনিত রোগের মতো দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থতায় ভুগতে থাকেন তিনি।


এমন শারীরিক সমস্যা নিয়ে সারা জীবনই লড়াই করতে হয়েছে ডারউইনকে।


অনেকের ধারণা, ভ্রমণের সময় ডারউইন ‘চাগাস’ নামের এক পরজীবীবাহিত রোগে আক্রান্ত হন, যার ফলে তার হৃদযন্ত্রে সমস্যা দেখা দেয়। এমনকি শেষ পর্যন্ত এ রোগেই ডারউইনের মৃত্যু হয়েছিল।


৪. তালিকা বানিয়েছিলেন বিয়ের ভাল-মন্দ নিয়ে


এমনকি হৃদয় বা অনুভূতির বিষয়েও ডারউইনের যৌক্তিক মতবাদ রয়েছে। নিজের বিয়ের আগে অর্থাৎ ১৮৩৬ সালে বিয়ের ভাল-মন্দ দিক নিয়ে একটি তালিকা তৈরি করেছিলেন ডারউইন।


তালিকার ভাল দিকগুলোর মধ্যে ছিল– ‘বিয়ে’, ‘সন্তান,’ ‘নিত্যনতুন সঙ্গী (ও বৃদ্ধ বয়সে বন্ধু) ... বা কুকুরের চেয়ে ভাল কিছু’ ও ‘বাড়ির যত্ন নেওয়ার মতো কেউ’। আর মন্দ দিকের মধ্যে ছিল– ‘বিয়ে না করা’, ‘যেখানে সেখানে যাওয়ার স্বাধীনতা’, ‘ক্লাবে পটু পুরুষদের কথোপকথন’ ও ‘সময়ক্ষেপণ’।


ডারউইনের এই তালিকায় অবশ্য পারিবারিক বন্ধনের জন্য কাউকে বিয়ে করার কথা উল্লেখ না থাকলেও ১৮৩৯ সালে নিজের ফার্স্ট কাজিন এমা ওয়েজউডকে বিয়ে করেছিলেন ডারউইন।


৫. মেডিকেল স্কুল থেকে বেরিয়ে আসা


ডারউইনের বাবা একজন সফল ডাক্তার ছিলেন। ছেলেকেও নিজের মতো একজন সফল ডাক্তার বানাতে চেয়েছিলেন তিনি। ১৮২৫ সালের গ্রীষ্ম শেষে নিজ বাবার কাছে একজন শিক্ষানবিশ হিসাবে কাজ শুরু করেন ডারউইন। পরবর্তীতে, যুক্তরাজ্যের অন্যতম শীর্ষ ‘ইউনিভার্সিটি অফ এডিনবার্গ’-এর মেডিকেল স্কুলেও পড়তে গিয়েছিলেন তিনি।


তবে ডারউইন রক্তপাত ঘৃণা করতেন। এমনকি সে সময় মেডিকেল কলেজের বক্তৃতা শুনেও বিরক্ত হয়েছিলেন তিনি। এরই ধারাবাহিকতায়, নিজের বাবার স্বপ্নকে ধূলিসাৎ করে মেডিকাল স্কুল ছেড়ে দেন ডারউইন।


৬. ১৮ বছর ধরে ১০ পাউন্ডের নোটে ছিল ডারউইনের ছবি


২০০০ সালের শুরুতে ব্রিটিশ ১০ পাউন্ড নোটের পেছনে রাজকীয় জাহাজ ‘এইচএমএস বিগল’-এর একটি ছবি’সহ দাড়িওয়ালা ডারউইনের প্রতিকৃতি ছিল। সে নোটের পেছনে একটি ম্যাগনিফাইং লেন্স, ডারউইনের ভ্রমণে দেখা বিভিন্ন উদ্ভিদ ও প্রাণীও দেখা যেত।


তবে, ২০১৮ সালে এ ১০ পাউন্ডের নোট ছাপানো বন্ধ করে দেয় ‘ব্যাংক অফ ইংল্যান্ড’।


৭. ‘সারভাইভাল অফ দ্য ফিটেস্ট’ কথাটি তার নিজের নয়


বিবর্তনবাদের গুরুত্বপূর্ণ তত্ত্বটি ডারউইনের নিজের হলেও ‘সারভাইভাল অফ দ্য ফিটেস্ট’ শব্দটি আসলে প্রথম ব্যবহার করেছিলেন ইংরেজ দার্শনিক হার্বার্ট স্পেন্সার। ১৮৬৪ সালে প্রকাশিত বই ‘প্রিন্সিপালস অফ বায়োলজি’তে ডারউইনের জৈবিক ধারণার সঙ্গে নিজের অর্থনৈতিক ও সমাজতাত্ত্বিক তত্ত্বের যোগসূত্র খুঁজে বের করতে প্রথম এই ‘সারভাইভাল অফ দ্য ফিটেস্ট’ শব্দটি ব্যবহার করেন তিনি।


অন্যদিকে, ১৮৬৯ সালে নিজের বই ‘অরিজিন অফ দ্য স্পিশিজ’-এর পঞ্চম সংস্করণে প্রথমবারর মতো এই শব্দটির ব্যবহার করেন ডারউইন।


৮. সমাহিত হয়েছেন ওয়েস্টমিনস্টার অ্যাবিতে


ডারউইন ১৮৮২ সালের ১৯ এপ্রিল মারা যান। নিজের জীবনের শেষ ৪০ বছর কাটানো গ্রামে তাকে সমাহিত করার প্রস্তুতি শুরু করে ডারউইনের পরিবার।


তবে এর বিপরীতে, ডারউইনকে লন্ডনের ওয়েস্টমিনস্টার অ্যাবিতে সমাধিস্থ করার জন্য জোর প্রচার শুরু করেন তার বন্ধু ও সহকর্মীরা। সংবাদপত্র ও জনসাধারণের চাহিদার প্রেক্ষিতে ওয়েস্টমিনস্টারের তৎকালীন ডিন এই দাবি মেনে নেন। মৃত্যুর এক সপ্তাহ পর ইংল্যান্ডের সবচেয়ে শ্রদ্ধেয় গীর্জায় নিজের সহকর্মী বিজ্ঞানী জন হার্শেল ও আইজ্যাক নিউটনের পাশে সমাহিত করা হয় ডারউইনকে।


৯. ছিলেন ধর্মশাস্ত্রের ছাত্র


“আমি তখন বাইবেলের প্রতিটি শব্দের কঠোরতা ও আক্ষরিক সত্য নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করিনি,” পরবর্তী সময়ে লিখেছিলেন ডারউইন।


তবে বিশ্ব ভ্রমণ ও তিন সন্তানের মৃত্যুর পর ডারউইনের ধর্মীয় বিশ্বাস নড়বড়ে হতে শুরু করে। তিনি নিজেকে কখনোই নাস্তিক হিসেবে দাবি করেননি। এর পরিবর্তে, নিজেকে একজন অজ্ঞেয়বাদী হিসেবে উল্লেখ করেছেন তিনি।


অজ্ঞেয়বাদ হচ্ছে– এমন দার্শনিক চিন্তা বা ধারণা, যেখানে কোন ঈশ্বর বা পরমসত্ত্বা সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্ব বা নিরস্তিত্ব উভয়ই মানুষের অজানা ও এটি তাদের দ্বারা কখনও জানা সম্ভব হবে না।


১০. তার বইয়ের পূর্ণ নাম কী ছিল


সাধারণভাবে ‘দ্য অরিজিন অফ স্পিশিজ’ নামে বইটি পরিচিত হলেও ডারইউনের লেখা বইটির পূর্ণ নাম হচ্ছে - ‘অন দ্য অরিজিন অফ স্পিশিজ বাই মিনস অফ ন্যাচরাল সিলেকশন, অর দ্য প্রিজার্ভেশন অফ ফেভার্ড রেইসেস ইন দ্য স্ট্রাগল ফল লাইফ’।



বাঁশ সম্পর্কে কিছু তথ্যঃ

 বাঁশ সম্পর্কে কিছু তথ্যঃ


 1. দ্রুত বৃদ্ধি: বাঁশ বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল উদ্ভিদ।  এটি 24 ঘন্টায় 47.6 ইঞ্চি বৃদ্ধিতে রেকর্ড করা হয়েছে। কিছু প্রজাতি অনুকূল পরিস্থিতিতে প্রতিদিন এক মিটারেরও বেশি বৃদ্ধি হতেপারে। একটি নতুন বাঁশের অঙ্কুর এক বছরেরও কম সময়ে তার পূর্ণ উচ্চতায় পৌঁছে।


 2. অক্সিজেন রিলিজ: বাঁশের একটি গ্রোভ অন্য যে কোনো গাছের তুলনায় 35% বেশি অক্সিজেন নির্গত করে।


 3. কার্বন ডাই অক্সাইড শোষণ: বাঁশ প্রতি বছর হেক্টর প্রতি 17 টন হারে কার্বন ডাই অক্সাইড শোষণ করে।  এটি একটি মূল্যবান কার্বন সিঙ্ক হিসাবে কাজ করতে পারে।


 4. সারের প্রয়োজন নেই: বাঁশের বৃদ্ধির জন্য সারের প্রয়োজন হয় না।  এটি তার পাতা ফেলে দিয়ে স্ব-মালচিং করতে পারে এবং বৃদ্ধির জন্য পুষ্টি ব্যবহার করতে পারে।


5. প্রাকৃতিক এয়ার কন্ডিশনার: গ্রীষ্মে বাঁশ তার চারপাশের বাতাসকে 8 ডিগ্রি পর্যন্ত ঠান্ডা করে।


 6. খরা প্রতিরোধ: বাঁশ খরা-সহনশীল উদ্ভিদ।  তারা মরুভূমিতে বেড়ে উঠতে পারে।


 7. কাঠ প্রতিস্থাপন: বেশিরভাগ নরম কাঠের গাছের 20-30 বছরের তুলনায় বাঁশ 2-3 বছরে কাটা যায়।


 8. নির্মাণ সামগ্রী: বাঁশ অবিশ্বাস্যভাবে শক্তিশালী এবং বলিষ্ঠ। এটি কংক্রিটের ভারা, সেতু এবং ঘরবাড়ির কাঠামো  হিসাবে ব্যবহৃত হয়।


 9. মাটির স্থিতিশীলতা: বাঁশের ভূগর্ভস্থ শিকড় এবং রাইজোমের বিস্তৃত নেটওয়ার্ক রয়েছে যা মাটির ক্ষয় রোধ করে।


 10. আক্রমণাত্মকতা: কিছু প্রজাতির বাঁশ,তাদের বিস্তৃত রুট সিস্টেমের কারণে আক্রমণাত্মক হতে পারে, যা তাদের দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে দেয়।  যাইহোক, সব প্রজাতিই আক্রমণাত্মক নয় এবং সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে পরিবেশগত প্রভাব কমিয়ে আনা যায়।

কিছু ইংরেজি শিক্ষা

 As - কারন, যেহেতু

 Say- ধরা যাক

So - অতএব , সুতরাং

Who - কে, যে, কাকে

And - এবং ,ও

But - কিন্তু, তথাপি

That - যে , যা, যাতে, ফলে

Even - এমনকি

At first - প্রথমত

Often - প্রায়ই , মাঝে মাঝে

More - আরো , অধিকতর

Which - যেটি , যা

As if - যেন

Although - যদিও, যাতে , সত্বেও

While - যখন

Similarly - অনুরূপভাবে, একইভাবে

Therefore - অতএব , সুতরাং

So that - যাতে , যেন

First of all - প্রথমত

Rather - বরং, চেয়ে

Such as - তেমনই

However – যাইহোক

Indeed – প্রকৃতপক্ষে

Whereas – যেহেতু

Usually - সাধারনত

Only – শুধু, কেবল, একমাত্র

Firstly - প্রথমত

Finally - পরিশেষে

Moreover - তাছাড়া, অধিকন্তু, উপরন্তু

But also - এমনি , এটিও

As well as – এবং, ও, পাশাপাশি

Furthermore - অধিকন্তু

Regrettably - দুঃখজনকভাবে ।

in fact – আসলে

Hence - অত:পর/সুতরাং

Such as - যথা/যেমন

Notably – লক্ষণীয়ভাবে

Consequently – অতএব

On the whole – মোটামুটি

Either - দুয়ের যে কোন একটি

Neither - দুয়ের কোনটি নয়

In any event - যাহাই ঘটুক না কেন

Additionally - অতিরিক্ত আরো

In this regard – এ বিষয়ে

As a matter of fact -বাস্তবিকপক্ষে/

প্রকৃতপক্ষে

Including - সেই সঙ্গে

Nonetheless - তবু

Nevertheless - তথাপি , তবুও , তারপরও

Lest - পাছে ভয় হয়

Whether - কি ...না , যদি

Comparatively - অপেক্ষাকৃত

To be honest - সত্যি বলতে

Come what may - যাই ঘটুক না কেন

If you do care - যদি আপনি চান

Next to nothing - না বললেও চলে

As far as it goes - এ ব্যাপারে যতটুকু বলা যায় ।As far as I’m concerned - আমার জানা মতে ।

Why on earth - (বিরক্তি প্রকাশার্থে)- কেন যে?

On the other hand - অন্যদিকে ।

In this connection - এ বিষয়ে ।

In addition - অধিকন্তু, মোটের উপর

Infact - প্রকৃতপক্ষে

To be frank - খোলাখুলি ভাবে বলা যায় ।

Sincerely speaking - সত্যিকার ব্যাপার হলো ।

To sum up - সংক্ষেপে বলতে গেলে

Though - যদিও, সত্বেও

Incidentally - ঘটনাক্রমে

Then - তারপর ,তখন

Than - চেয়ে , থেকে

For a while - কিছুক্ষণের জন্য

In order to - উদ্দেশ্যে, জন্যে


টেকনাফ থেকে তেতুলিয়া, এখন ঘরে বসেই ইংরেজি বলা শিখছে সারা বাংলা। 

তেলাকুচার আত্মকথন,,,,,,,

 তেলাকুচার আত্মকথন

ঝোপঝাড়ে আদাড়ে-বাদাড়ে যেকোনো পরিস্থিতিতে  ও যেকোন স্থানেই কারো আদর যত্ন ছাড়া জন্মাতে ও বেড়ে উঠতে পারি আমি। আমার জাতভাই শশা ও কুমড়ার বাজারে বেশ কদর থাকলেও স্বাদে আমি কিছুটা তিতা হবার কারণে আমার ব্যাপারে মানুষের আগ্রহ বেশ কম। মানুষ আমার বেড়ে ওঠা লতানো ডালে পাকা ফল ঝুলে থাকতে দেখলে অনেকেই দাঁড়িয়ে পড়ে, দেখে ফের চলে যায়। 

তবু আমি অনেক বেশি সহ্যশীল। ক্ষরাতে আমি টিকে থাকতে পারি, মাটির খুব গভীর হতে খাবার ও পানি সংগ্রহ করতে পারি বলে মানুষের কদর কমে গেলেও এখনও বহাল তবিয়তে টিকে আছি। কমে যাওয়ার কথা বললাম এই কারণে; আমাকে নিয়ে কেউ চাষবাস না করলেও

ভারতীয় অনেক এলাকায় আমার ফলের তরকারি বেশ তারিয়ে তারিয়ে মসলা দিয়ে পাকানো হয় আর বাঙালি বাবুরা কোন ইদানিং সচ্ছলতার মুখ দেখার পর বিদেশী প্রসাধন নিয়ে ব্যস্ত হয়ে রূপচর্চায় আমার ব্যবহার ভুলে গেলেও সারা দুনিয়ার ভাজাভুজি খেয়ে পেট ফেপে যাওয়ার পর তবেই আমার দ্বারস্থ হয় পাতা চাইতে।

আমার কিন্তু কোনো কিছুতেই না নেই! রূপ সচেতন রমণ ও রমণীদের রূপচর্চায় শুধু শুধু দামি স্পর্ট রিমুভার ব্যবহার না করে আমার পাতার পেস্ট বানিয়ে মুখে লাগিয়ে বসে থাকলে মেছতা ও ব্রণের দাগ সেরে যাবে

যারা আবার ৪০ বছর পার হবার পর, হাটু চেপে ব্যাথায় কুচকানো মুখ সকলের নিকট লুকিয়ে ফেলার প্রচেষ্টায় প্রাণান্ত আমার মূল দিয়ে বানানো হালুয়া টনিক হিসেবে ব্যবহার করে দেখতে পারেন। আমার সর্বস্বের ভেষজ

গুনে গুণান্বিত সকল গোপন খবর একসময়

কবিরাজরা খুব ভালো করে জানতো।

ঔষধ এসে আমাদের কদর কমে গেলেও আমাকে মকধ্বজ হিসেবে এখনো গ্রহণ করে চলেছে ভারতে ইন্দোনেশিয়ার অনেক অঞ্চলের মানুষ।  অনেক অঞ্চলে আমাকে আবার সাজিয়ে-গুছিয়ে আবাদ করে থাকে লোকজন।

Scarlet gourd হিসেবে আমি ইংরেজিতে পরিচিত আর বাংলায় আমার  কয়েকটি নামঃ তেলাকুচা, কুদরি অথবা কুড়নী।

চুপেচাপে একটা কথা বলি, এখন কিন্তু আবার কিছু দোকান বিভিন্ন আমার নামের  বিভিন্ন পণ্যকে চটকদার নানারকম প্যাকেটে সাজিয়ে গুজিয়ে লোকজনের কাছে বিকোনোর চেষ্টা করছে। যদিও বাংলাদেশের কথা আমি বলতে পারছি না।

যারা ডায়েবিটিস বা বহুমুত্রের রোগী তারা কিন্তু আমাকে ঠিকই মনে মনে খুঁজে থাকেন কেননা আমার কিছু এনজাইম মানুষের শরীরের চিনি তথা শর্করার পরিমাণ শারীরবৃত্তিক উপায়ে কমিয়ে ফেলে।

আমরা সারা বছরই জন্মাতে পারি। আমাদের প্রধান শত্রু জলাবদ্ধতা। ফল প্রথমে শশার মতো সবুজ ও পরে পেকে লাল হলেও ফুল গুলো নিপাট সাদা। আমাদের বীজের বিস্তারণ হয় পাখির দ্বারা,তাছাড়া আমাদের মূল ও ডাল, সহজেই আমাদের বিস্তার ঘটাতে পারে। মূলতঃ গ্রীষ্ম ও বর্ষাকালে আমাদের ফলন সবচাইতে বেশি হয়। 

আমার ডালপালা লতানো, শশার মতোই আকর্ষি তথা টেন্ড্রিল দিয়ে বেয়ে বেয়ে বড় গাছের উপর চেপে বসতে পারি। আর গাছ মালিকের আমাদের দেখে যদি- মাথায় রক্ত চড়ে যায় তবে, আমার পাতা ও কচিডালের রস তাদের রক্ত-চাপ কমিয়ে ফেলতে সক্ষম! 

এখন সিদ্ধান্ত মানুষের,  অনেক আমাদের মত একজন

গায়ে পড়া পরোপকারীকে ধারে-কাছে রাখবে, নাকি ঝোপে-ঝাড়ে, বনে-বাদাড়ে সকলের অলক্ষ্যে চালিয়ে যাব আমাদের নিরব অভিযান, যখন চলছে অবিরাম কীটনাশক ও আগাছানাশক এর বিরক্তিকর পটকা-বাজি!


নারী স্বাস্থ্য সচেতনতা: মহিলা প্রজননতন্ত্রের রহস্য উদঘাটন

 নারী স্বাস্থ্য সচেতনতা: মহিলা প্রজননতন্ত্রের রহস্য উদঘাটন 🌺 আমাদের শরীরের প্রতিটি অংশই অবিশ্বাস্যভাবে সুনির্দিষ্ট এবং জটিল, বিশেষ করে যখন ...