এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

সোমবার, ৬ মে, ২০২৪

ফসলের বৃদ্ধি, রোগবালাই দমনে খুবই কার্যকর ও জনপ্রিয় কিছু উপকরণঃ 

 ফসলের বৃদ্ধি, রোগবালাই দমনে খুবই কার্যকর ও জনপ্রিয় কিছু উপকরণঃ 

১) সাফ ছত্রাকনাশক-ম্যানকোজেব ৬৩%+কার্বন্ডাজিম ১২% ডব্লিউপি-১০০ গ্রাম

২) কাকা- কীটপতঙ্গ এবং রোগের বিরুদ্ধে লড়াই করতে সহায়তা করে, উদ্ভিদ বৃদ্ধিতে সাহায্য করে-৫০ মিলি

৩) সুপার সোনাটা- অত্যন্ত কার্যকরী প্রাকৃতিক অ্যামিনো অ্যাসিড এবং ভিটামিনের সংমিশ্রণ-৫০ মিলি

৪) মোবোমিন-সবজি ও ফলের বাম্পার ফলনের নিউট্রিশন সাপোর্ট-১০০ গ্রাম


সারাদেশে কুরিয়ারে আমাদের পণ্য পাঠানো হয়। অগ্রিম মূ্ল্য পরিশোধ করে অর্ডার কনফার্ম করতে হবে। কন্ডিশনে নিতে হলে অর্ধেক মূল্য অগ্রিম পরিশোধ করতে হবে। আমাদের সাথে যোগাযোগ করার একমাত্র নাম্বার 01779529512(কল, হোয়াটসএপ, ইমো)


কৃষিবিদ মোঃ জিয়াউল হুদা

মানিকগঞ্জ, ঢাকা

ফেসবুক পেজ: Advanced Agriculture

ইউটিউব: KBD ENGR ZIAUL HUDA

মোবাইল: 01779529512

Email: advancedagriculturebd@gmail.com


Advanced Agriculture এর পক্ষ থেকে সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা। আপনার মাঠকৃষি ও ছাদকৃষির জন্য আমাদের কৃষি পণ্যসমূহঃ

১) সীডলিং ট্রে - (১২০ গ্রাম-৭২/১০৫/১২৮ সেল)

২) ট্রান্সপ্লান্টিং/জার্মিনেটিং/হাইড্রোপনিক ট্রে – ৫৮ সেঃমিঃ * ২৮ সেঃমি * ৩ সেঃমি, ৪৭৫ গ্রাম

৩) মালচিং ফিল্ম- ২৫ মাইক্রন, ৪ ফুট প্রশস্থ-৫০০মিঃ, ৩ ফুট প্রশস্থ-৬০০ মিটার

৪) কোকোপিট ব্লক-৪.৫ কেজি

৫) লুস কোকোপিট

৬) কোকো গ্রোয়িং স্টিক ২৪/৩২/৩৮ ইঞ্চি 

৭) কোকো ওয়াল হ্যাঙ্গিং বাস্কেট 

৮) হাড়ের গুড়া/শিংকুচি

৯) ভার্মিকম্পোস্ট 

১০) মাচার জাল (৮ হাত*৫৫ হাত-১২ ইঞ্চি গ্যাপ)

১১) কাটিং এইড রুট হরমোন- শিকড় গজানোর জাদুকরী হরমোন

১২) হিউমিনল গোল্ড অরগানিক পিজিআর (PGR)

১৩) লিবিনল- বৃদ্ধিকারক জৈব নিয়ন্ত্রক

১৪) ফ্ল্যাশ (Flash)-উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন অনুখাদ্য সমাহার

১৫) মাইটেন্ড ইমপ্রোভ- মাকড়নাশক

১৬) ট্রাপ- সাদামাছি, থ্রিপস ও শোষক পোকা দমনের জন্য 

১৭) প্রহরী প্লাস- বেগুনের ডগা ও ফল ছিদ্রকারী লেদাপোকা দমনকারী

১৮) শিল্ড- বেগুনের ডগা ও ফল ছিদ্রকারী লেদাপোকা দমনকারী

১৯) ট্রিগার২-স্প্রে কনসেন্ট্রেটর

২০) নিউবুন (ফ্রুট স্পেশাল)-ফল গাছের জন্য বিশেষ নিউট্রিশন সাপোর্ট

২১) বুস্টার১-লাউ জাতীয় ফসলের স্ত্রী ফুল বৃদ্ধি করে ফলন বাড়ায়

২২) বুস্টার২-বেগুন, মরিচ, টমেটো সহ ফল গাছে অধিক পরিমানে ফুল আনে

২৩) বুস্টার৩-শসা ও তরমুজে স্ত্রী ফুল বৃদ্ধি করে ফলন বাড়ায়

২৪) বুস্টার৪-পটল ও কাকরোলের পরাগায়নে সহায়তা করে

২৫) বাম্পার-ফুল ও ফল ঝরে পড়া প্রতিরোধ করে

২৬) প্যানথার টিভি-ফসলের ছত্রাকজনিত পচন প্রতিরোধ করে

২৭) প্যানথার পিএফ- ফসলের ব্যাকড়েরিয়াল উইল্টিংজনিত ঢলে পড়া প্রতিরোধ করে

২৮) সুধা জার্মিনেইড- বীজ সতেজীকরণ ও শোধনের জৈব সমাধান

২৯) থান্ডারস- ব্লাস্ট ও অন্যান্য ছত্রাকঘটিত রোগ দমনে কার্যকরী জৈব সমাধান 

৩০) সাফ ছত্রাকনাশক

৩১) ওয়েস্ট ডিকম্পোজার 

৩২) কাকা- কীটপতঙ্গ এবং রোগের বিরুদ্ধে লড়াই করতে সহায়তা করে, উদ্ভিদ বৃদ্ধিতে সাহায্য করর

৩৩) সুপার সোনাটা- অত্যন্ত কার্যকরী প্রাকৃতিক অ্যামিনো অ্যাসিড এবং ভিটামিনের সংমিশ্রণ

৩৪) মোবোমিন-সবজি ও ফলের বাম্পার ফলনের নিউট্রিশন সাপোর্ট

৩৫) কেমাইট-জৈব মাকড়নাশক

৩৬) বায়োক্লিন- সবজি ও ফলের ছাতরা পোকা বা মিলিবাগ ও সাদামাছি পোকা দমন করে

৩৭) বায়োট্রিন-থ্রিপস, জাব পোকা, পাতা সুড়ঙ্গকারী পোকা, ধানের কারেন্ট পোকা দমন করে

৩৮) বায়োশিল্ড-জৈব ছত্রাকনাশক

৩৯) বায়ো-চমক-ধানের মাজরা পোকা ও বাদামী গাছ ফড়িং, বেগুনের ডগা ও ফল ছিদ্রকারী পোকা দমনে কার্যকরী

৪০) বায়ো-এনভির - মোজাইক ভাইরাস, ইয়েলো ভেইন মোজাইক ভাইরাস, লিফ কার্ল ভাইরাস, পিভিওয়াই ভাইরাস দমনে কার্যকরী

৪১) বায়ো-এলিন-জৈব ব্যাকটেরিয়ানাশক

৪২) বায়ো-ভাইরন-জৈব ভাইরাসনাশক

৪৩) বায়োবিটিকে- ছিদ্রকারী পোকা দমনের কীটনাশক

৪৪) বায়োডার্মা পাউডার/সলিড (ট্রাইকোডার্মা হারজিয়ানাম)

৪৫) কিউ-ফেরো/বিএসএফবি/স্পোডো-লিউর ফেরোমন টোপ

৪৬) বলবান-পিজিআর

৪৭) চিলেটেড জিংক

৪৮) সলবোর বোরন

৪৯) হলুদ/নীল/সাদা স্টিকি ট্র্যাপ

৫০) ম্যাঙ্গো/ব্যানানা ফ্রুট ব্যাগ

৫১) সবজি, তরমুজ ও পেঁপেঁর হাইব্রিড বীজ


সারাদেশে কুরিয়ারে আমাদের পণ্য পাঠানো হয়। অগ্রিম মূ্ল্য পরিশোধ করে অর্ডার কনফার্ম করতে হবে। কন্ডিশনে নিতে হলে অর্ধেক মূল্য অগ্রিম পরিশোধ করতে হবে। আমাদের সাথে যোগাযোগ করার একমাত্র নাম্বার 01779529512(কল, হোয়াটসএপ, ইমো)


কৃষিবিদ মোঃ জিয়াউল হুদা

মানিকগঞ্জ, ঢাকা

ফেসবুক পেজ: Advanced Agriculture

ইউটিউব: KBD ENGR ZIAUL HUDA

মোবাইল: 01779529512

Email: advancedagriculturebd@gmail.com

এই মানুষটাকে চিনেন? পৃথিবীর সবচেয়ে উচ্চতম স্থানের নাম হলো মাউন্ট এভারেস্ট এবং সবচেয়ে গভীরতম স্থান হলো প্রশান্ত মহাসাগরের মারিয়ানা ট্রেন্স

 এই মানুষটাকে চিনেন?


পৃথিবীর সবচেয়ে উচ্চতম স্থানের নাম হলো মাউন্ট এভারেস্ট এবং সবচেয়ে গভীরতম স্থান হলো প্রশান্ত মহাসাগরের মারিয়ানা ট্রেন্স


। দুইটা যায়গায় যাওয়া প্রথম মানুষ তিনি... !


তিনি ভিক্টর ভাসকেভো... যার পায়ের নখ থেকে মাথার চুল পর্যন্ত এডভেঞ্চারের নেশা।


এক্স মার্কিন নেভিয়ান ভিক্টর পৃথিবীর মহাসমুদ্রের সবচেয়ে গভীরতম ৫ স্থানে অভিযান করেছেন ,যেখানে সলো অভিযান ছিলো দুইটি।


পৃথিবীর ৭ মহাদেশের ৭টি সর্বোচ্চ চুড়ায় পা রেখেছেন তিনি! এমনকি লাস্ট ইয়ারে তিনি মহাকাশ ভ্রমনের অভিজ্ঞতা নিয়ে এসেছেন!


শুধু তাই নয়, উত্তর মেরু আর দক্ষিন মেরুর শেষ বিন্দুতে স্কি করে এসেছেন তিনি।


এই মানুষটা তার জীবদ্দশায় এমন এমন অভিযান করেছেন যে রিস্ক ফেক্টর বিবেচনা করলে বেচে থাকাটা মহা বিস্ময়! কিন্তু রাখে আল্লাহ মারে কে!


টাইটানিক সিনেমার পরিচালক জেমস ক্যামেরন ৩২ বার ডুবন্ত টাইটানিক দেখতে বার বার অতল সমুদ্রে অভিযান করেছেন! টাইটানিক তো মাত্র ১২০০০ ফুট নিচে , তিনি প্রথম একা মানুষ হিসেবে পৃথিবীর গভীরতম স্থান মারিয়ানা ট্রেন্সের গভীরে সফল অভিযান করেছিলেন! সমুদ্রের ৩৫০০০ হাজার ফুটে নিচে ছোট্ট একটা সামবেরিন নিয়ে ল্যান্ড করিয়েছিলেন পৃথিবীর সবচেয়ে গভীরতম যায়গায়।


যেখানে পানির চাপ ছিলো প্রতি বর্গ ইঞ্চিতে ১৬০০০ পাউন্ডের বেশি! দুর্ঘটনা ঘটলে পানির প্রেসারে চেপ্টা হয়ে মৃত্যু বরন করতে হতো। তবুও এডভেঞ্চার নামক নেশাটা তাকে দমিয়ে রাখতে পারেনি। সফল ভাবে বেচে ফিরেছিলেন তিনি....


মানুষের এই অদম্য এডভেঞ্চারাস একটিভিটি পৃথিবীর মানচিত্র পাল্টে দিয়েছিলো একসময়। অনেক কিছুই আমরা উপভোগ করছি যা মানুষের মৃত্যুর মুখোমুখি হয়ে অর্জন করতে হয়েছে।


মৃত্যু বরন করা টাইটানের ৫ অভিযাত্রীর জন্য শ্রদ্ধা... ভালোবাসা।


এডভেঞ্চার বেচে থাকুক মানুষের রক্ত কনিকায়....

সংগৃহীত 

ছোটগল্প  সন্দেহ ফেইসবুক থেকে নেওয়া  

 ছোটগল্প 

সন্দেহ 


ঢালু পথটা এঁকেবেঁকে শেষ হয়ে যে ঝোপঝাড় ঘেরা বাঁশবনে গিয়ে মিশেছে তার একেবারে শেষ মাথাতেই কুতুব আলীর একহারা মাটির ঘর। এদিকটাতে লোক সমাগম বিশেষ একটা নেই। বাঁশ বাগানটার খারাপ একটা গল্প আছে। এখানে নাকি দুষ্ট জীনের আনাগোনা আছে। লোকে এই পথ তাই বেশি একটা মাড়ায় না। নেহায়েত প্রয়োজন না পড়লে রাত বিরেতে তো একেবারেই না। তবে কুতুব আলীর ঘরে দিনে দুপুরে যেসব গল্প গাঁথা চলে তাতে তার বাড়ির চারধারে লোকজনের বিশেষ একটা আকাল পরে না। প্রায় সারা দিনই তার ঘরের আশেপাশে উৎসুক দর্শকের ভীড় বাট্টা লেগেই থাকে।

কুতুব আলী পেশায় ভ্যান চালক। বয়স চল্লিশের বেশি নয়। গাট্টাগোট্টা শরীর। শরীরের সাথে মানানসই একটা যথেষ্ট মোটা মাথা। গলার স্বর রীতিমতো বাঁজখাই। চেঁচালে আশেপাশে গরু ছাগলও ঘাস খাওয়া বন্ধ করে ভয়ার্ত দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে। বিরাট মুখে কুতকুতে ছোট ছোট দুইটা চোখ। চোখ দুটো ভয়ানক অনুসন্ধানী। সেই অনুসন্ধানী চোখে সে সারাক্ষণই তার বউএর চলন বলনের খুঁত খুঁজে বেড়ায়। কাজের প্রয়োজনে যতোটুকু সময় ঘরের বাইরে থাকতে হয়, তার বেশি এতোটুকু সময়ও সে বাইরে কাটায় না। সোজা ঘরে চলে আসে। ঘরে সুন্দরী তরুণী বউ। একা একা ভুতুড়ে পরিবেশে বেশিক্ষণ থাকলে জিন ভূতের আছর পরাও অস্বাভাবিক কিছু নয়। মানুষের তো আছেই।

স্ত্রী কমলা, কুতুব আলীর সম্পূর্ণ বিপরীত স্বভাবের মানুষ। সে ঘরে আছে কী নেই লোকে তা জানতেও পারে না। ছায়ার মতো নিঃশব্দে পা টিপে টিপে চলাচল করে। দিন রাত কখনোই তার গলার স্বর কেউ শুনতেও পায় না। আকার আকৃতিতেও সে একেবারে ছোট খাট। কুতুব আলীর পাশে দাঁড়ালে তাকে একরকম খুঁজেই পাওয়া যায় না। তবে ছোটখাট হলেও তার মুখের গড়নটি ভারী সুন্দর। মায়াকাড়া মুখে বড় বড় দুটো কথা বলা চোখ।

লোকে এই দুজনের অসম জোড়া নিয়ে কম হাসাহাসি করে না। তাদের এই জোড়কে অনেকে উপমা হিসেবেও ব্যবহার করে। কখনো কোনো ব্যাপারে একটার সাথে আরেকটা বেমানান কিছু মনে হলেই সবাই হেসে বলে,

‘আরে এইডা তো কুতুব-কমলা’র জোড় হইছে!’

কুতুব আলী বউকে ভয়ানক সন্দেহ করে। তার মনে ঘোর বদ্ধমূল ধারণা একেবারে বাসা বেঁধে বসেছে যে, কমলার নিশ্চয়ই কারো সাথে ইটিসপিটিস আছে। একে তো সে সারাদিন ঘরে থাকে না, তার উপরে সে তার বউকে রাখে একরকম দৌঁড়ের উপর। মেয়েমানুষকে মাথায় তুললে পরে মাশুল চুকাতে হয়। তাই সবসময় টাইটে রাখতে হয়। কিন্তু এতো হম্বি তম্বি সত্তেও বউ মুখ খোলে না। এই ব্যাপারটা কুতুব আলীর কাছে মোটেও স্বাভাবিক মনে হয় না। মেয়ে মানুষের তো এমনিতে এতো মুখ বন্ধ রাখার কথা নয়! বউ ভেতরে ভেতরে নতুন নাগর জুটিয়েছে কী না কে জানে!

অনেক ভাবনা চিন্তা করে কুতুব আলী এক ফন্দি এঁটেছে। বউ যদি ভেতরে ভেতরে দুই নম্বরী কিছু করেও থাকে, লোকলজ্জার ভয়ে তো আর স্বামীর ঘর ছাড়তে পারবে না। তাই স্বামীর ঘর ছাড়ার ভয় দেখিয়েই তাকে সোজা রাখতে হবে। এভারেই এক ঢিলে দুই পাখি মারা যাবে।

সেদিনও যথারীতি সে দুপুরের পরে পরেই খেপ শেষ করে বাসায় চলে এসেছে। কমলা তখন সবেমাত্র রান্না বান্না শেষ করে গোসলে ঢুকেছে। এতো দেরি করে গোসলে যাওয়া নিয়েও কুতুব আলীর জোর সন্দেহ লাগে। করে তো মোটে দুজন মানুষের রান্না। এতো সময় লাগে কেন? ঘরে কেউ আসে নাকি তার অনুপস্থিতিতে?

ঘরে ঢুকেই কুতুব আলী জোরে জোরে চেঁচাতে লাগলো,

‘কমলা...ও নবাবের বিটি কমলা! সারাদিন বাদে এতোক্ষণে তোর সময় হইছে গা ধোয়ার! এত্ত বেলা অব্দি বইয়া বইয়া কোন নাঙ্গরের লগে সোহাগ করতাছিলি? তোর শয়তানী বুঝি না আমি! তুই আইজই বেবাক কথা আমারে খুইলা কবি নাইলে...নাইলে আমি তোরে তালাক দিমু।‘

কমলা উঠোনের টিউবওয়েলের ঘের দেওয়া আবরণে সবে গোসল করার জন্য শাড়ি জামা আলগা করছে। স্বামীর পায়ের আওয়াজ শুনেই সে সচকিত হয়ে উঠেছিল। তাড়াতাড়ি গায়ে পানি ঢালতে যাবে, এমন সময় এই অনাহুত বাক্যবাণ। আজ স্বামীর মুখে তালাকের কথা শুনে কমলার মুখে আর রা সরলো না। এমনিতে যা বলে বলুক, এই ‘তালাক’ শব্দ তার স্বামী কখনো মুখে আনে না। আজ এটা সে কী বললো!

কমলা আসলে পেরে উঠে না। তার শরীরে কেমন যেন কুলোয় না। ছোটখাট শরীরে সে ঠিক দৌঁড় ঝাপ করে কাজ কর্ম করতে পারে না। ছোটবেলা থেকেই দূর্বল ধাঁচ তার, বড় কোনো অসুখ বিসুখ না থাকলেও শরীর খুব একটা সুস্থ নীরোগ নয়। কেমন যেন আলস্য জড়িয়ে আসে সবসময়।

কুতুব আলী বেরিয়ে যাওয়ার পরে সে কিছুক্ষণ পরে পরে ঘুমায়। মাথা কেমন যেন ঘুরতে থাকে সবসময়। স্বামীর ভয়ে এমনিতেই সে সারাদিন তটস্থ থাকে। রাতেও যে আরাম করে একটু ঘুমাবে তার উপায় নাই। যখন তখন ঘুমের মধ্যেই স্বামী আওয়াজ দেয়। কাঁচা ঘুম ভাঙ্গিয়ে স্বামীর প্রয়োজন মেটাতে হয়। সকালে উঠে আর সে সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারে না। আজ তিন বছর হলো তার বিয়ে হয়েছে। বিয়ের পরে থেকেই এই ঘটনা চলে আসছে।

কমলা শাড়ি কাপড় গুছিয়ে নিয়ে গোসল না সেরেই কলপাড় থেকে বের হয়ে আসে। কুতুব আলীর মুখের দিকে তাকিয়ে তার গলা শুকিয়ে গেল। সে যেন আজ মহা উৎসাহে ঝগড়ায় নেমেছে। চোখে মুখে ঝগড়ার আনন্দ যেন ঠিকরে বেরুচ্ছে। কমলার শুকনো মুখ দেখে সে আরো উদ্দীপনার সাথে শুরু করলো,

‘কী রে! মুখে রা নাই যে! সারাদিনে দুইপদ রান্না কইরা গোসল করার সময় পাস না! প্রতিদিন আমি যখন আসি, তখনি তোর গোসল করার চিন্তা মাথায় আসে! ঠিক কইরা ক, এর আসল কারন কী?’

কমলা চুপ। কথা বাড়িয়ে লাভ নেই কোনো। স্বামী বলতেই চায়, শুনতে নয়।

‘তুই যদি আমারে ঠিক ঠিক ভাঙ্গাইয়া না কস, রোজ রোজ তোর দেরি কেন হয়...তাইলে আমি তোরে এক তালাক...দুই তালাক...তিন তালাক...বাইন তালাক দিয়া দিমু। এই আমার শেষ কথা!’

কমলার অন্তরাত্মা শুকিয়ে যায়। স্বামী আজ এ কোন আগুন নিয়ে খেলতে শুরু করলো?

খেতে বসেও সেই খ্যাঁচখ্যাঁচানি।

‘এইটার মইধ্যে নুন কম কেন...ভাত কেন জাউ...তরকারীর আলু কেন গইলা গেছে...’ কুতুব আলী বিরামহীন মুখের মেশিন চালিয়ে যেতে থাকে।

পরেরদিন কমলা আর গড়িমসি করে না। শরীরের আলস্যকে টেনে সরিয়ে রেখে সে তাড়াতাড়ি সব কাজ শেষ করে নেয়। দুপুর গড়ানোর আগেই তার রান্নাবান্না, গোসল সব সারা হয়। ঘরের মধ্যে পাটি পেতে ভাত তরকারী থালা বাসন সুন্দর মতো গুছিয়ে নিয়ে সে বসে বসে ঝিমায়। কুতুব আলীর খাওয়া না হলে সে খায় না কখনো। ঝিমুনি গাঢ় হতেই আবার সে সোজা হয়ে বসে। ঘুমিয়ে পরা যাবে না মোটেও।

বাইরে উঠোনে এসে তার মনে হয়, লাউ গাছের ডগাটা বড় হয়েছে। একটু মাচান দেওয়া দরকার। ভর দুপুর। মাথায় আধহাত ঘোমটা টেনে কমলা বাঁশঝাড়ে ঢোকে কঞ্চি জোগাড় করতে। চিকন চিকন ক’টা কঞ্চি খুঁজে বের করে। হাত দিয়ে মটকিয়ে ভাঙতে চায়। ভাঙতে পারে না।

দূরে বাঁশঝাড়ের এক কোনায় বসে মন্টু পাগলা দাঁত দিয়ে কঞ্চি কাটছিল। মাথার চুল উশকো খুশকো, পরনে আধ ময়লা লুঙ্গি...ছেড়া শার্ট। মুখ দেখে মনে হয় প্রচণ্ড খিদে পেয়েছে। হাতে একটা ছোট দা। সব সময় হাতে রেখে দেয়। এমনিতে মন্টু মিয়া বেজায় শান্ত, সাত চড়ে রা করে না। গ্রামের ছোট ছোট বাচ্চারা কতো ঢিল পাটকেল ছুড়ে। মন্টু মিয়া কিচ্ছুটি বলে না। মাঝে মাঝে হঠাৎ হঠাৎ কাউকে কাউকে দেখে সে দা নিয়ে তেড়ে আসে। এছাড়া তার মধ্যে পাগলামীর আর কোনো লক্ষণ নেই।

তার তিনকূলে কেউ নেই। একমাত্র ছোট বোনের হঠাৎ ম্যালেরিয়া জ্বরে মৃত্যু হয়। বোনটি ছিল তার বড় আদরের। বোনের মৃত্যুর পরে থেকেই সে এমন আউলা হয়ে দিন কাটায়। কেউ দুটো খেতে দিলে খায়, নয়তো উপোস দেয়।

কমলা টানাটানি করেও যখন কঞ্চি কাটতে পারছিলো না, তখনই হঠাৎ মণ্টু মিয়া এসে সামনে দাঁড়ায়। হাতে উঁচিয়ে রাখা দা। এই বেশে তাকে দেখে কমলার প্রায় ভিমড়ি খাওয়ার জোগাড় হয়। চোখ উল্টানি দিয়ে সে পড়েই যেতো। মণ্টু মিয়া কমলাকে লক্ষ্য না করেই ফটফট করে কঞ্চিগুলো কেটে মাটিতে ফেলে রাখে। সেটা দেখে কমলা একটু আশ্বস্ত হয়। হঠাৎ পেছন থেকে হুঙ্কার শুনে কমলা আর মণ্টু মিয়া দুজনেই একসাথে মাথা ঘুরিয়ে পেছনে তাকায়।

‘ও আইচ্ছা! শেষমেষ কাউরে না পাইয়া এই পাগলা রে নাগর বানাইছোস! ছ্যা ছ্যা ছ্যা...শয়তান মা...তর পেটে পেটে এই হারামি! আইজ তরে আমি এখখুনি তালাক দিতাছি ...’

কমলা গিয়ে কুতুব আলীর পা জড়িয়ে ধরে। কুতুব আলী এক ঝটকায় পা সরিয়ে নিতে নিতে বলে,

নষ্টা মা..., তোরে আমি আইজ থেইকা হারাম কইরা দিলাম। তুই আর আমার ঘরে আইবার পারবি না। এই দিলাম তোরে আমি তালাক। এক তালাক......’

শুনতে শুনতে মাথা ঘুরে কমলা মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। এদিকে হৈ-হট্টগোলে আশেপাশের সবাই ছুটে এসে নিজের কানে শুনে যায় কুতুব আলী কমলাকে গুনে গুনে তিন তালাক দিয়েছে।

কমলাকে পাড়া প্রতিবেশিরা নিয়ে এসে নিজেদের ঘরে আশ্রয় দেয়। মাথায় পানি ঢেলে তার চেতনা ফিরিয়ে আনা হয়। সে ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে আছে। চেতনা ফিরতেই প্রথমেই তার মনে পড়েছে, স্বামী তাকে তালাক দিয়েছে। সে এখন আর তার স্বামীর ঘরে যেতে পারবে না। সে একা না, অনেকেই এর সাক্ষী। কমলার বাবা-মা কেউ নেই। এক ভাই আছে। বোনকে বিয়ে দিয়ে সে তার দায়িত্ব শেষ করেছে। তিন বছর তার সাথে কমলার কোনো যোগাযোগ নেই। ভাইয়ের বউ তার প্রাক্তন স্বামীর চেয়ে কিছু কম মুখরা নয়। সেখানে ফিরে যাবার কথা কমলা ভাবতেও পারে না। তাহলে সে কই যাবে?

গ্রামে প্রতিবেশির বাড়িতেই জরুরি সভা বসে। মসজিদের ইমাম সাহেবও আসেন। কুতুব আলীকে খবর দিয়ে আনা হয়েছে। সে ঘাড় গোঁজ করে বসেছিল। কয়েকদফা সে আপত্তি উঠাতে চেয়েছিল যে, সে তালাক দেয় নাই...দিতে চেয়েছিল কেবল। তার আপত্তি ধোপে টেকেনি। অনেকেই তার তালাক ঘোষণার সাক্ষী। মণ্টু মিয়াকেও ধরে আনা হয়েছে। সে তো রাজ সাক্ষী। কুতুব আলীর গরম কিছুটা ঠান্ডা হয়েছে। সে বুঝতে পেরেছে মাথা গরম করে কাজটা সে ঠিক করে নাই। তবুও গায়ের জোরে সে বলে ওঠে,

‘মোলবি সাব, হিল্লা বিয়া পড়াইয়া দেন। আমার বউ আমি কাল বাড়িত নিয়া যামু।‘

গ্রামের ইমাম হলেও ইমাম সাহেব ধর্মীয় পড়াশুনা ভালোই জানতেন। তিনি মাথা নেড়ে বললেন,

‘শোনো কুতুব আলী, ধর্ম নিয়া খেল তামাশা করবা না। তুমি যা করছো তা বড়োই নিন্দনীয়। এখন আরেকখান ভুল কাজ করবার যাইতাছো। তোমার বউ যদি আরেকবার বিয়া করতে রাজি থাকে, তারে বিয়া দেওন হইবো। কিন্তু জোর কইরা সেই বিয়া ভাঙ্গান যাইবো না। যার লগে বিয়া হইবো হেই যদি আবার তারে তালাক দেয় কেবলমাত্র তাইলেই আবার তারে তুমি বিয়া করবার পারবা। বুঝলা কিছু?’

কুতুব আলী ইমাম সাহেবের কথা শুনে বেকুব হয়ে বসে থাকে। এই টা ইমাম সাহেব কী বলেন? তার বউ আর তার ঘর করবে না? সে করলো টা কী?

কমলার কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করা হয়, সে আবার বিয়ে করবে কী না। কমলার চোখ বেয়ে পানি গড়াতে থাকে। এই দুঃসময়ে মায়ের কথা খুব মনে পড়ে তার। সে যদি আজ তার মায়ের সাথে থাকতে পারতো!

তার মৌনতাকে সম্মতি বলে ধরে নেওয়া হয়। তবু অভিভাবক হিসেবে তার ভাইয়ের একটা সম্মতির প্রয়োজন আছে। সেটা নিয়ে নিতে হবে। কমলাকে জিজ্ঞেস করা হয় সে কাউকে বিয়ে করতে চায় কী না।

মাথা হেঁট হয়ে আসে কমলার। এমন দিনও তাকে দেখতে হলো!

একসময় অনেক কষ্টে হেঁট মাথাকে উঁচু করে সে সোজা হয়ে বসে। মাথার ঘোমটা ঈষৎ সরিয়ে সে দূরে বসিয়ে থাকা মণ্টু মিয়াকে দেখিয়ে দিয়ে বলে, মণ্টু মিয়া রাজি থাকলে সে তাকে বিয়ে করবে।

কুতুব আলী বাকরুদ্ধ হয়ে বসে থাকে। তার মাথার ভেতরটা ভনভন করে ঘুরতে থাকে।

মণ্টু মিয়ার সাথে দু’দিন বাদেই কমলার বিয়ে হয়ে যায়।

কমলার ভাই এসে তার সম্মতি জানিয়ে যায়। সকালে এসে দুপুরের আগেই সে চলে যায়। বোনের এই ভাগ্য বিপর্যয়ে একটিবারের জন্যও তার মুখ দিয়ে কোনো সান্তনার কথা আসে না। শক্ত মুখ করে এসে শক্ত মুখেই সে ফিরে যায়। বোন নদীতে পরলো নাকি সমূদ্রে সেটা দেখা আর তার দায়িত্ব নয়।

কুতুব আলীর মহা দূর্দশার দিন শুরু হয়। তার রান্না বাড়ি করে দেবার কেউ নেই, ঘর দোর আগলে রাখার কেউ নেই। তার নিত্য প্রয়োজন মেটানোর কেউ নেই...সর্বোপরি তার আগুনের হল্কার মতো রাগ ঠান্ডা করার মতো কোনো পানির পাত্র নেই। কমলা ছিল তার পানির পাত্র। সে যতো আগুন ছাড়তো, কমলা ততো তাতে পানি ঢালতো।

এদিকে মন্টু মিয়া এখন পুরোপুরি সুস্থ-স্বাভাবিক মানুষ। সে এখন নিয়মিত গোসল করে, পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকে। টুকটাক বর্গার কাজ করে আয় রোজগারও করে ইদানিং। তাছাড়া কমলা ফুলঝাড়ু, বাঁশের জিনিসপাতি বানাতে পারে। সেগুলো সে হাটবারে শহরে বেচতে যায়। দুজন মানুষের পেট ভালোই চলে যায়।

কুতুব আলী তার সন্দেহের বিষ মণ্টু মিয়ার মনে ঢোকাতে চায়। একবার যদি ঢুকিয়ে দেওয়া যায়, তবেই কেল্লা ফতে। মাঝে মাঝে সে মণ্টু মিয়াকে কান ভাঙানি দেয়,

‘কমলার কইলাম স্বভাব চরিত্র ভালা না। দেইখা শুইনা না রাখলে একদিন দেখবা পক্ষী উড়াল দিছে!’

মণ্টু মিয়া কিছু বলে না। চুপচাপ শোনে। একদিন কুতুব আলীকে এগিয়ে আসতে দেখে সে আস্তে করে কোমড়ের কোচড় থেকে তার দা টাকে বের করে আনে। অনেকদিন এটাকে সে ঢুকিয়ে রেখেছিল। তারপরে সোজা কুতুব আলীর সামনে বের করে রক্তচক্ষু নিয়ে বলে,

‘আরেকবার যদি এইদিকে তোরে দেখছি...তাইলে এইটা দেখছস? এক কোপে কল্লা কাইটা ...’

কুতুব আলী সেই যে দৌঁড় লাগায় ভুলেও আর কোনোদিন ওমুখো হয় না।


(ছবি- ইন্টারনেট)


ফাহ্‌মিদা_বারী

ফেইসবুক থেকে নেওয়া 

প্রয়োজনীয় কিছু টিপস:-

 🙅‍♀️🙅‍♀️প্রয়োজনীয় কিছু টিপস:-✌️✌️


১: কড়া রোদে কয়েক ঘন্টা বালিশ দিয়ে রাখুন এতে বালিশে ছাড়পোকা হবেনা বালিশের তুলা গুলোও ভালো থাকবে


২: রুমের ভেতর এলোভেরা মানিপ্লান্ট কয়েন প্লান্ট বা আপনার পছন্দ মতো যেকোন ইনডোর প্লান্ট রাখতে পারেন এতেও রোম কিছুটা হলেও শীতল থাকবে


৩:থেকে যাওয়া অবশিষ্ট পাউরুটির টুকরো গুলো রোদে শুকিয়ে বা চুলায় অল্প আচে টেলে গুড়া করে ব্রেড ক্রাম তৈরি করে নিতে পারেন 


৪: কাশ্মীরি আমের আচার তৈরির জন্য আম গুলো টুকরো করে ঘন্টা খানিক চুনের পানিতে ভিজিয়ে রাখলে আচার গুলো কচকচে হয় চিনিতে দিলে গলে যায়না 


৫: মেলামাইনের বোল বাটির হলদেটে দাগ তুলতে ভিনেগারের সাথে বেকিং সোডা ও ডিটারজেন্ট পাউডার মিশিয়ে মেজে নিলে হলদেটে দাগ চলে যায় 


৬: দা-বটি ধারালো করতে বালি নিয়ে সিরিঞ্জ পেপার দিয়ে ঘষে নিন 


৭: ফ্লাক্সের ভেতর পরিষ্কার করাটা খুব ঝুকিপূর্ণ একটু অসাবধান হলেই ফেটে যায়  তাই ফ্লাক্স পরিষ্কার করতে কখনো শক্ত কাঠি দিয়ে ভেতরটা পরিষ্কার করা যাবেনা 


৮: ফ্লাক্সের ভেতর ডিটারজেন্ট পাউডার ও হালকা গরম পানি দিয়ে  ১০ মি: ঢাকনা দিয়ে রেখে দিতে হবে ১০মি: পর খবরের কাগজ /খাতার পৃষ্ঠা টুকরো করে ফ্লাক্সের ভেতরে দিয়ে ঝাকিয়ে নিন তারপর স্বাভাবিক নিয়মে ধুয়ে  নিন 


৯: যতোটা সম্ভব ঘরে অতিরিক্ত লাইট নিভিয়ে রাখুন এতে ঘর ঠান্ডা থাকবে 


১০:জানালার পর্দা গুলো হালকা ভিজিয়ে  জানালায় লাগিয়ে রাখুন তারপর একটি বোল/বালতিতে বরফের টুকরো রেখে বৈদ্যুতিক পাখা /ফ্যান চালিয়ে দিন ঘর শীতল হয়ে যাবে



ভূমি “পর্চা”, “দাগ”, “খতি বিষয়ক নিম্নের তথ্যাবলী প্রত্যেকেরই জানা উচিত

 ভূমি “পর্চা”, “দাগ”, “খতি বিষয়ক নিম্নের তথ্যাবলী প্রত্যেকেরই জানা উচিত!য়ান”, “মৌজা”, “জমা খারিজ”, “নামজারি”, “তফসিল” ইত্যাদি বিষয়ের ডেফিনেশন এবং জেনে নিন ভূমি বিষয়ক জরুরী সব তথ্য।


১!“নামজারী” বা মিউটেশন কাকে বলে?

ক্রয়সূত্রে/উত্তরাধিকার সূত্রে অথবা যেকোন সূত্রে জমির নতুন মালিক হলে নতুন মালিকের নাম সরকারি খতিয়ানভুক্ত করার প্রক্রিয়াকে নামজারী বলা হয়।


২!“জমা খারিজ”কাকে বলে?

যৌথ জমা বিভক্ত করে আলাদা করে নতুন খতিয়ান সৃষ্টি করাকে জমা খারিজ বলে। অন্য কথায় মূল খতিয়ান থেকে কিছু জমির অংশ নিয়ে নতুন জোত বা খতিয়ান সৃষ্টি করাকে জমা খারিজ বলে।


৩!“খতিয়ান” কাকে বলে?

ভূমি জরিপকালে ভূমি মালিকের মালিকানা নিয়ে যে বিবরণ প্রস্তুত করা হয় তাকে “খতিয়ান” বলে।

খতিয়ান প্রস্তত করা হয় মৌজা ভিত্তিক। আমাদের দেশে CS, RS, SA এবং সিটি জরিপ সম্পন্ন হয়েছে। এসব জরিপকালে ভূমি মালিকের তথ্য প্রস্তত করা হয়েছে তাকে “খতিয়ান” বলে। যেমন CS খতিয়ান, RS খতিয়ান…

ভূমি জরিপ: CS, RS, PS, BS কি?


৪!ভূমি বা Land কাকে বলে?

“ভূমি কাকে বলে?”- এর আইনী সংজ্ঞা রয়েছে। The State Acquisition and Tenancy Act, 1950- এর ২(১৬)- ধারা মতে, “ভূমি (land) বলতে আবাদি, অনাবাদি অথবা বছরের যেকোন সময় পানিতে ভরা থাকে এবং ভূমি হতে প্রাপ্ত সুফল, ঘরবাড়ি বা দালান কোঠা বা মাটির সঙ্গে সংযুক্ত অন্যান্য দ্রব্য অথবা স্হায়ীভাবে সংযুক্ত দ্রব্য এর অন্তর্ভুক্ত বুঝাবে।”


৫! ভূমি জরিপ/রেকর্ড কাকে বলে? ভূমি জরিপ হচ্ছে ভূমির মালিকানা সম্বলিত ইতিহাসের সরেজমিন ইতিবৃত্ত।

আইনী সংজ্ঞা হচ্ছে, The Survey Act, 1875 এবং সংশ্লিষ্ট বিধিমালা অনুযায়ী সরকারের জরিপ বিভাগ সরেজমিন জরিপ করে ভূমির মালিকানার যে বিবরণ

এবং নকশা তৈরী করে তাই রেকর্ড বা জরিপ। অর্থাৎ রেকর্ড বা জরিপ হচ্ছে মালিকানার বিরবণ এবং নকশার সমন্বয়। একটি ভূমির মালিক কে এবং তার সীমানা কতটুকু এটা ভূমি জরিপের মাধ্যমে নকশা/ম্যাপ নির্ণয় করা হয়। এই নকশা এবং ম্যাপ অনুসারে মালিকানা সম্পর্কিত তখ্য যেমন ভূমিটি কোন মৌজায় অবস্থিত, এর খতিয়ান নাম্বার, ভূমির দাগ নাম্বার, মালিক ও দখলদারের বিবরণ ইত্যাদি প্রকাশিত হয় যাকে খতিয়ান বলে। রেকর্ড বা জরিপ

প্রচলিতভাবে খতিয়ান বা স্বত্ত্বলিপি বা Record of Rights (RoR) নামেও পরিচিত। রেকর্ড বা জরিপের ভিত্তিতে ভূমি মালিকানা সম্বলিত বিবরণ খতিয়ান হিসেবে পরিচিত। যেমন CS খতিয়ান, RS খতিয়ান, ইত্যাদি। আমাদের দেশে পরিচালিত ভূমি জরিপ বা রেকর্ড গুলো হচ্ছে;

1. CS -Cadastral Survey

2. SA- State Acquisition Survey (1956)

3. RS -Revitionel Survey

4. PS – Pakistan Survey

5. BS- Bangladesh Survey (1990)


ক) সি.এস. জরিপ/রেকর্ড (Cadastral Survey)

“সিএস” হলো Cadastral Survey (CS) এর সংক্ষিপ্ত রূপ। একে ভারত উপমহাদেশের প্রথম জরিপ বলা হয় যা ১৮৮৯ সাল হতে ১৯৪০ সালের মধ্যে পরিচালিত হয়। এই জরিপে বঙ্গীয় প্রজাতন্ত্র আইনের দশম অধ্যায়ের বিধান মতে দেশের সমস্ত জমির বিস্তারিত নকশা প্রস্তুত করার এবং প্রত্যেক মালিকের জন্য দাগ নম্বর উল্লেখপুর্বক খতিয়ান প্রস্তুত করার বিধান করা হয়। প্রথম জরিপ হলেও এই জরিপ প্রায় নির্ভূল হিসেবে গ্রহণযোগ্য। মামলার বা ভূমির জটিলতা নিরসনের ক্ষেত্রে এই জরিপকে বেস হিসেবে অনেক সময় গণ্য করা হয়।

খ) এস.এ. জরিপ (State Acquisition Survey)

১৯৫০ সালে জমিদারী অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন পাশ হওয়ার পর সরকার ১৯৫৬ সালে সমগ্র পূর্ববঙ্গ প্রদেশে জমিদারী অধিগ্রহনের সিদ্ধান্ত নেয় এরং রায়েতের সাথে সরকারের সরাসরি সম্পর্ক স্থাপনের লক্ষ্যে জমিদারদের প্রদেয় ক্ষতিপুরণ নির্ধারন এবং রায়তের খাজনা নির্ধারনের জন্য এই জরিপ ছিল।

জরুরী তাগিদে জমিদারগন হইতে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে এই জরিপ বা খাতিয়ান প্রণয়ন কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছিল।

গ) আর.এস. জরিপ ( Revisional Survey)

সি. এস. জরিপ সম্পন্ন হওয়ার সুদীর্ঘ ৫০ বছর পর এই জরিপ পরিচালিত হয়। জমি, মলিক এবং দখলদার ইত্যাদি হালনাগাদ করার নিমিত্তে এ জরিপ সম্পন্ন করা হয়। পূর্বেও ভুল ত্রুটি সংশোধনক্রমে আ. এস জরিপ এতই শুদ্ধ হয় যে এখনো জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের ক্ষেত্রে আর, এস জরিপের উপর নির্ভর করা হয়। এর খতিয়ান ও ম্যাপের উপর মানুষ এখনো অবিচল আস্থা পোষন করে।

ঘ) সিটি জরিপ (City Survey)

সিটি জরিপ এর আর এক নাম ঢাকা মহানগর জরিপ। আর.এস. জরিপ এর পর বাংলাদেশ সরকার কর্তিক অনুমতি ক্রমে এ জরিপ ১৯৯৯ থেকে ২০০০ সালের মধ্যে সম্পন্ন করা হয়। এ যবত কালে সর্বশেষ ও আধুনিক জরিপ এটি। এ জরিপের পরচা কম্পিউটার প্রিন্ট এ পকাশিত হয়।


৬!“পর্চা” কাকে বলে?

ভূমি জরিপকালে চূড়ান্ত খতিয়ান প্রস্তত করার পূর্বে ভূমি মালিকদের নিকট খসড়া খতিয়ানের যে অনুলিপি ভুমি মালিকদের প্রদান করা করা হ তাকে “মাঠ পর্চা” বলে। এই মাঠ পর্চা রেভিনিউ/রাজস্ব অফিসার কর্তৃক তসদিব বা সত্যায়ন হওয়ার পর যদি কারো কোন আপত্তি থাকে তাহলে তা শোনানির পর খতিয়ান চুড়ান্তভাবে প্রকাশ করা হয়। আর চুড়ান্ত খতিয়ানের অনুলিপিকে “পর্চা” বলে।


৭!“মৌজা” কাকে বলে?

যখন CS জরিপ করা হয় তখন থানা ভিত্তিক এক বা একাধিক গ্রাম, ইউনিয়ন, পাড়া, মহল্লা অালাদা করে বিভিন্ন এককে ভাগ করে ক্রমিক নাম্বার দিয়ে চিহ্তি করা হয়েছে। আর বিভক্তকৃত এই প্রত্যেকটি একককে মৌজা বলে।

৮!“তফসিল” কাকে বলে?

জমির পরিচয় বহন করে এমন বিস্তারিত বিবরণকে “তফসিল” বলে। তফসিলে, মৌজার নাম, নাম্বার, খতিয়ার নাম্বার, দাগ নাম্বার, জমির চৌহদ্দি, জমির পরিমাণ সহ ইত্যাদি তথ্য সন্নিবেশ থাকে।


৯!“দাগ” নাম্বার কাকে বলে? যখন জরিপ ম্যাপ প্রস্তুত করা হয় তখন মৌজা নক্সায় ভূমির সীমানা চিহ্নিত বা সনাক্ত করার লক্ষ্যে প্রত্যেকটি ভূমি খন্ডকে আলাদা আলাদ নাম্বার দেয়া হয়। আর এই নাম্বারকে দাগ নাম্বার বলে। একেক দাগ নাম্বারে বিভিন্ন পরিমাণ ভূমি থাকতে পারে। মূলত, দাগ নাম্বার অনুসারে একটি মৌজার অধীনে ভূমি মালিকের সীমানা খূটিঁ বা আইল দিয়ে সরেজমিন প্রর্দশন করা হয়।


১০!“ছুটা দাগ” কাকে বলে?

ভূমি জরিপকালে প্রাথমিক অবস্থায় নকশা প্রস্তুত অথবা সংশোধনের সময় নকশার প্রতিটি ভূমি এককে যে নাম্বার দেওয়া হয় সে সময় যদি কোন নাম্বার ভুলে বাদ পড়ে তাকে ছুটা দাগ বলে। আবার প্রাথমিক পর্যায়ে যদি দুটি দাগ একত্রিত করে নকশা পুন: সংশোধন করা হয় তখন যে দাগ নাম্বার বাদ যায় তাকেও ছুটা দাগ বলে।


১১!“খানাপুরি” কাকে বলে? জরিপের সময় মৌজা নক্সা প্রস্তুত করার পর খতিয়ান প্রস্তুতকালে খতিয়ান ফর্মের প্রত্যেকটি কলাম জরিপ কর্মচারী কর্তৃক পূরন করার প্রক্রিয়াকে খানাপুরি বলে।


১২!“আমিন” কাকে বলে?

ভূমি জরিপের মাধ্যমে নক্সা ও খতিয়ান প্রস্তত ও ভূমি জরিপ কাজে নিযুক্ত কর্মচারীকে আমিন বলে।


১৩!“কিস্তোয়ার” কাকে বলে?

ভূমি জরিপ কালে চতুর্ভুজ ও মোরব্বা প্রস্তত করার পর সিকমি লাইনে চেইন চালিয়ে সঠিকভাবে খন্ড খন্ড ভুমির বাস্তব ভৌগলিক চিত্র অঙ্কনের মাধ্যমে নকশা প্রস্তুতের পদ্ধতিকে কিস্তোয়ার বলে।


১৪!“খাজনা” ককে বলে?

সরকার বার্ষিক ভিত্তিতে যে প্রজার নিকট থেকে ভূমি ব্যবহারের জন্য যে কর আদায় করে তাকে খাজনা বলে।


১৫!“দাখিলা” কাকে বলে?

ভূমি কর/খাজনা আদায় করে যে নির্দিষ্ট ফর্মে ( ফর্ম নং১০৭৭) ভূমি কর/খাজনা আদায়ের প্রমান পত্র বা রশিদ দেওয়া হয় তাকে দাখিলা বলা হয়।


১৬!"DCR কাকে বলে?

ভূমি কর ব্যতিত আন্যান্য সরকারি পাওনা আদায় করার পর যে নির্ধারিত ফর্মে (ফর্ম নং ২২২) রশিদ দেওয়া হয় তাকে DCR বলে।


১৭!“কবুলিয়ত” কাকে বলে?

সরকার কর্তৃক কৃষককে জমি বন্দোবস্ত দেওয়ার প্রস্তাব প্রজা কর্তৃক গ্রহণ করে খাজনা প্রদানের যে অঙ্গিকার পত্র দেওয়া হয় তাকে কবুলিয়ত বলে।


১৮!“নাল জমি” কাকে বলে?

২/৩ ফসলি সমতল ভূমিকে নাল জমি বলা হয়।


১৯!“খাস জমি” কাকে বলে?

সরকারের ভূমি মন্ত্রনালয়ের আওতাধিন যে জমি সরকারের পক্ষে কালেক্টর বা ডিসি তত্ত্বাবধান করেন এমন জমিকে খাস জমি বলে।


২০!“চান্দিনা ভিটি” কাকে বলে?

হাট বাজারের স্থায়ী বা অস্থায়ী অকৃষি জমির যে অংশ প্রজার প্রতি বরাদ্ধদ দেওয়া হয় তাকে চান্দিনা ভিটি বলে।


২১!“ওয়াকফ” কাকে বলে?

ইসলামি বিধান অনুযায়ী কোন ভূমি তার মালিক কর্তৃক ধর্মীয় ও সমাজ কল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠানের ব্যয় ভার বহন করার উদ্দেশ্যে কোন দান করাকে ওয়াকফ বলে।


২২!“মোতওয়াল্লী” কাকে বলে?

যিনি ওয়াকফ সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা ও তত্ত্বাবধান করেন তাকে মোতওয়াল্লী বলে। ওয়াকফ প্রশাসকের অনুমতি ব্যতিত মোতওয়াল্লী ওয়াকফ সম্পত্তি হস্তান্তর করতে পারে না।


২৩!“দেবোত্তর” সম্পত্তি কাকে বলে?

হিন্দুধর্ম মতে, ধর্মীয় কাজের জন্য উৎসর্গকৃত ভূমিকে দেবোত্তর সম্পত্তি বলে।


২৪!“ফরায়েজ” কাকে বলে?

ইসলামি বিধান মোতাবেক মৃত ব্যক্তির সম্পত্তি বন্টন করার নিয়ম ও প্রক্রিয়াকে ফরায়েজ বলে।


২৫!“ওয়ারিশ” কাকে বলে?

ওয়ারিশ অর্থ উত্তরাধিকারী । ধর্মীয় বিধানের অনুয়ায়ী কোন ব্যক্তি উইল না করে মৃত্যু বরন করলে তার স্ত্রী, সন্তান বা নিকট আত্মীয়দের মধ্যে যারা তার রেখে যাওয়া সম্পত্তিতে মালিক হওয়ার যোগ্যতাসম্পন্ন এমন ব্যক্তি বা ব্যক্তিগণকে ওয়ারিশ বলে।

২৬! “সিকস্তি” কাকে বলে?

নদী ভাঙ্গনের ফলে যে জমি নদী গর্ভে বিলিন হয়ে যায় তাকে সিকস্তি বলে। সিকস্তি জমি যদি ৩০ বছরের মধ্যে স্বস্থানে পয়ন্তি হয় তাহলে সিকস্তি হওয়ার প্রাক্কালে যিনি ভূমি মালিক ছিলেন তিনি বা তাহার উত্তরাধিকারগন উক্ত জমির মালিকানা শর্ত সাপেক্ষ্যে প্রাপ্য হবেন।


২৭!“পয়ন্তি” কাকে বলে?

নদী গর্ভ থেকে পলি মাটির চর পড়ে জমির সৃষ্টি হওয়াকে পয়ন্তি বলে।


২৮!“দলিল” কাকে বলে?

যে কোন লিখিত বিবরণ আইনগত সাক্ষ্য হিসাবে গ্রহণযোগ্য তাকে দলিল বলা হয়। তবে রেজিস্ট্রেশন আইনের বিধান মোতাবেক জমি ক্রেতা এবং বিক্রেতা সম্পত্তি হস্তান্তর করার জন্য যে চুক্তিপত্র সম্পাদন ও রেজিস্ট্রি করেন সাধারন ভাবে তাকে দলিল বলে।


ভূমির পরিমাপঃ


ডেসিমেল বা শতাংশ বা শতকঃ

***************************

১ শতাংশ = ৪৩৫.৬০ বর্গফুট

১ শতাংশ =১০০০ বর্গ লিঙ্ক

১ শতাংশ = ৪৮.৪০ বর্গগজ

৫ শতাংশ = ৩ কাঠা = ২১৭৮ বর্গফুট

১০ শতাংশ = ৬ কাঠা = ৪৩৫৬ বর্গফুট

১০০ শতাংশ = ১ একর =৪৩৫৬০বর্গফুট


কাঠা পরিমাপঃ

****************

১ কাঠা = ৭২০ বর্গফুট/৭২১.৪৬ বর্গফুট

১ কাঠা = ৮০ বর্গগজ/৮০.১৬ বর্গগজ

১ কাঠা = ১.৬৫ শতাংশ

২০ কাঠা = ১ বিঘা

৬০.৫ কাঠা =১ একর


একরের পরিমাপঃ

******************

১ একর = ১০০ শতক

১ একর = ৪৩,৫৬০ বর্গফুট

১ একর = ১,০০,০০০ বর্গ লিঙ্ক

১ একর = ৪,৮৪০ বর্গগজ

১ একর = ৬০.৫ কাঠা

১ একর = ৩ বিঘা ৮ ছটাক

১ একর = ১০ বর্গ চেইন = ১,০০,০০০ বর্গ লিঙ্ক

১ একর = ৪,০৪৭ বর্গমিটার

১ শতক = ০.৫ গন্ডা বা ৪৩৫.৬০ বর্গফুট


বিঘা পরিমাপঃ

*************

১ বিঘা = ১৪,৪০০ বর্গফুট /১৪৫২০বর্গফুট

১ বিঘা = ৩৩,০০০ বর্গলিঙ্ক

১ বিঘা = ৩৩ শতাংশ

১ বিঘা = ১৬০০ বর্গগজ/১৬১৩ বর্গগজ

১ বিঘা = ২০ কাঠা

৩ বিঘা ৮ ছটাক = ১.০০ একর


লিঙ্ক পরিমাপঃ

****************

১লিঙ্ক = ৭.৯ ইঞ্চি /৭.৯২ ইঞ্চি

১লিঙ্ক =০.৬৬ ফুট

১০০ লিঙ্ক = ৬৬ ফুট

১০০ লিঙ্ক = ১ গান্টার শিকল

১০০০ বর্গ লিঙ্ক = ১ শতক

১,০০,০০০ বর্গ লিঙ্ক = ১ একর


কানি একর শতকে ভূমির পরিমাপঃ

*******************************

১ কানি = ২০ গন্ডা

১ গন্ডা = ২ শতক

১ শতক =২ কড়া

১ কড়া = ৩ কন্ট ১ কন্ট = ২০ তিল


ফুট এর হিসাবঃ

*****************

১ কানি = ১৭২৮০ বগফুট

১ গন্ডা = ৮৬৪ বফু

১ শতক= ৪৩৫.৬০ বফু

১ কড়া = ২১৭.৮ বফু

১ কন্ট = ৭২ বফু

১ তিল= ৩.৬ বফু


বর্গগজ/বর্গফুট অনুযায়ী শতাংশ ও একরের পরিমাণঃ

*********************************

৪৮৪০ বর্গগজ = ১ একর

৪৩৫৬০ বর্গফুট= ১ একর

১৬১৩ বর্গগজ= ১ বিঘা

১৪৫২০বর্গফুট = ১ বিঘা

৪৮.৪০ বর্গগজ = ০১ শতাংশ

৪৩৫.৬০ বর্গফুট= ০১ শতাংশ

৮০.১৬ বর্গগজ= ১ কাঠা

৭২১.৪৬ বর্গফুট = ১ কাঠা

৫.০১ বর্গগজ = ১ ছটাক

২০ বর্গহাত = ১ ছটাকা

১৮ ইঞ্চি ফুট= ১ হাত (প্রামাণ সাই)

শেয়ার করে টাইমলাইনে রেখে দিন।

আমাদের বাসা-বাড়ির ভোল্টেজ 220 ভোল্ট কিন্তু আমেরিকায় 110 ভোল্ট কেন?

 আমাদের বাসা-বাড়ির ভোল্টেজ 220 ভোল্ট কিন্তু আমেরিকায় 110 ভোল্ট কেন?


তাহলে কারা প্রযুক্তিগত দিক থেকে বুদ্ধিমান ও এগিয়ে আছে? চলুন আজকে এই মজাদার আলোচনাটা জমিয়ে তুলি। 


প্রত্যেকের মানুষের একটা ধৈর্যের সীমা থাকে। এই সীমা অতিক্রম করলেই সে আক্রমনাত্নক হয়ে উঠবে সেটাই স্বাভাবিক। তাই তার ধৈর্য এর সীমা বুঝে তার সাথে সেইভাবে আচরণ করাটাই হবে বুদ্ধিমান ও ম্যাচিউর পার্সন এর পরিচয়। একইভাবে বিভিন্ন দেশের ম্যানুফেকচাররা তাদের ডিভাইসগুলো ভোল্ট রেটিং নানাভাবে নির্ধারণ করে থাকে। যেমন আমেরিকার নিজস্ব ব্যবহারের জন্য বেশিরভাগ কোম্পানির প্রস্তুতকৃত ডিভাইস এর রেটিং 110 ভোল্ট। তাই ডিভাইস এর সীমা বুঝে সেইভাবে সাপ্লাই দেয়া হয়। নাইলে সীমার বাইরে গেলে সে প্রতিবাদ করতে চাইবে।


এছাড়াও কম ভোল্টেজ এ সাপ্লাই এর একটা সুবিধা হল বিপদের আশংকা কমানো। যেমন 


বাংলাদেশের 220 ভোল্ট (rms) এর পিক ভেল্যু হচ্ছে


 = 220 x 1.4142 = 311 volt 


অর্থাৎ বাংলাদেশের একজন মানুষ শক খাবে 311 volt এ 


অন্যদিকে আমেরিকার 110 Volt (rms) এর পিক ভেলু 


= 110 x 1.4142 = 155 Volt 


অর্থাৎ একজন আমেরিকার মানুষ মূলত শক খাবে 155 Volt এ। অর্থাৎ বাংলাদেশের মানুষটির বিপদের আশংকা অনেক বেশি।


তাই কিছু সংখ্যক দেশ কম ভোল্ট সাপ্লাই করে। 


এবার তাইলে প্রশ্ন আসাই স্বাভাবিক তাইলে 220 এ সাপ্লাই করে কি কোন লাভ নেই?


নিশ্চয় আছে। এটাতে একটা প্রধান লাভ হল লস ও অযাচিত তাপমাত্রা কমানো। ভোল্ট তুলনামূলক বেশি বলে কারেন্ট ড্র হবে কম। আর কম কারেন্ট ড্র বলতেই i^2R বা লস কম হবে। আর লস কম হওয়া মানেই ডিভাইস এ অযাচিত তাপমাত্রা সৃষ্টি না হওয়া। 


সবশেষে বলা যায়, ব্যক্তির নিরাপত্তা, ডিভাইস রেটিং, সিস্টেম লস এর কথা বিবেচনায় রেখেই সাপ্লাই ভোল্ট নির্ধারিত হয়।


ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং মানেই বাস্তবের রসাত্নক আলোচনার সাথে তুলনা করে পড়া। আর এতে খুব সহজে বুঝা যায় এবং মনেও থাকে। কেমন হবে যদি এরকম গল্পে গল্পে ইলেকট্রিক্যাল এর ৫টি ইবুক পাওয়া যায়? 


নবীন যারা তারা ভাবছেন ভাইবা কিভাবে ফেস করবেন? কিভাবে প্রিপারেশন নিবেন? শুধুমাত্র পরীক্ষার্থীই নয় কর্মরত ভাইদেরও অনেক সময় কাজের সুবিধার জন্য থিওরি রিভাইস করা লাগে!


নবীন ও অভিজ্ঞ ভাইদের কথা চিন্তা করে আমার লিখা 8টি ই-বুকঃ


📘Ebook1: ইলেকট্রিক্যাল যখন এ বি সি এর মত সহজ


📘Ebook2: সাবস্টেশন এবং সুইচগিয়ারের ময়নাতদন্ত


📘Ebook3: ইন্ডাস্ট্রিয়াল জটিল টপিকের সরল আলোচনা


📘Ebook4: পাওয়ার সিস্টেম নিয়ে আড্ডা


📘Ebook5: চা এর আড্ডায় পি এল সি


📘Ebook6: ট্রান্সফরমার মহাশয়ের খুটিনাটি


📘Ebook7: ডিসি সার্কিট নিয়ে মজার বই


📘Ebook8: ইলেকট্রনিক্স এত মধুর কেন?


সামান্য শুভেচ্ছামূল্যের বিনিময়ে ই-বুকগুলো (সফটকপি) ইনবক্সে নক দিন অথবা what's app +8801741994646

আসুন কিছু আদব-লেহাজ শিখি..... 

 আসুন কিছু আদব-লেহাজ শিখি..... 


একত্রে বসে খাওয়ার কিছু আদব লেহাজ: 


১. যে পাত্র থেকে সবাই খাবার নিচ্ছে (খিচুড়ি বা মুড়ি মাখা), তার উপর ঝুঁকে খাবার নেওয়া যাবে না, মুখ থাকবে মুখের জায়গায় - হাতে খাবার নিয়ে হাতটাকে মুখের কাছে নিতে হবে।  


২. হাতে থেকে যাওয়া অতিরিক্ত খাবার যা একেবারে মুখে ঢুকানো যায়নি তা ঝাড়া মেরে প্লেটে ফেলে দেওয়া যাবে না,  হাতে ধরে রাখতে হবে তারপর মুখের খাবার শেষ হলে বাকিটুকু মুখে দিতে হবে। 


৩. হাতে নেওয়া সমস্ত খাবার মুখে দিয়েছেন, এখন হাত কোথায় রাখবেন? অনেকে মুখে খাবার খাচ্ছেন আর খালি হাতটা সম্মিলিত খাবারের পাত্রে রেখে দিচ্ছেন,  এটা করা যাবে না। হাত নিজের কাছে রাখতে হবে। 


৪. কিছুক্ষণ পরপর সকলের অনুমতি না নিয়ে নিজের ইচ্ছেতেই "ভালো করে মিশানো" র অজুহাতে খাবার উলট পালট করা যাবে না। 


৫. সকলের অনুমতি না নিয়ে নিজের পছন্দমতো এডিশনাল ফুড (মুড়ি মাখার ক্ষেত্রে বুন্দিয়া বা পুদিনা পাতা,  খিচুড়ির ক্ষেত্রে লাউয়ের ঝোল)  ফট করে পাত্রে ঢেলে দেওয়া যাবে না। 


৬. আপনি যেদিক দিয়ে খাচ্ছেন সেদিকে যা আছে তাই খাবেন,  আরেকজনের দিক থেকে বারবার পিয়াজুর পার্ট বা মাংসের টুকরো নিবেন না। 


৭. সবাই যে আইটেম খাচ্ছে সেটাই খেতে হবে।  সবাই যখন করলা ভাজি খাচ্ছে তখন আপনি "করলা ভাজি খাই না" বলে তড়িঘড়ি করে রোস্টের বড় পিচটা নিয়ে নিবেন - এটা ঠিক হবে না।  অপেক্ষা করুন - করলা ভাজি দিয়ে সবার খাওয়া শেষ হোক। 


৮. হোস্ট  একজনকে খাবার সার্ভ করছে,  তাকে সিরিয়ালি তা করতে দিন।  মাঝখান থেকে সিরিয়াল ব্রেক করে আপনার দিকে ডাকবেন না তাকে। 


৯. নিজের খাবারের দিকে তাকিয়ে থাকুন, অন্যদের পাতের দিকে ঘনঘন তাকাবেন না। 


১০. যে হাতে খাবার খাচ্ছেন - ঐ হাতে চামচ, প্লেট, গ্লাস ইত্যাদি ধরবেন না। 


১১. খাওয়ার সময় ঢেঁকুর পারবেন না,  কোঁৎ কোঁৎ শব্দ করবেন না। 


১২. হুট করে নিজের পাতের খাবার আরেকজনের পাতে দিয়ে দিবেন না।  আপনি সিদ্ধ ডিম না খেয়ে একটা মাংসের পিচ বেশি খাবেন বা জিলিপি না খেয়ে আলুর চপ খাবেন বাড়তি তাই বলে জিলিপি বা সেদ্ধ ডিম পাশেরজনের পাতে দিয়ে দিবেন না - আপনার মতো সেইম চিন্তা তারও থাকতে পারে। 


১৩. যতটুকু খেতে পারবেন ততটুকুই পাতে নিবেন।  খাবারের দখল নেওয়ার অপচেষ্টা চালাবেন না। মুখে অল্প করে খাবার নিবেন,  খাবার মুখে ঢোকানোর পর দুই গাল যাতে দৃষ্টিকটু ভাবে  ফুলে না যায় সেদিকে খেয়াল রাখবেন।  


১৪. খাবারের শেষে দই বা ডাল আছে কিনা জিজ্ঞেস করবেন না; সেটা নাই ধরে খাওয়া চালাতে থাকবেন। 


১৫. হোস্ট আপনার সামনে টিস্যু রাখবে কিন্তু তাই বলে সেটা অযথা অপচয় করবেন না।  পর্যাপ্ত পানি দিয়ে হাত ধুয়ে তারপর রুমাল বা টিস্যু দিয়ে ভেজা হাতটা মুছবেন। 


১৬. নির্দিষ্ট কোন খাবার বেশি ভালো লেগেছে এটা বলবেন না,  হোস্ট সবগুলো আইটেমই যথেষ্ট মমতা সহকারে রান্না করেছেন আপনাদের জন্য - এটা মাথায়  রাখবেন।  


১৭. খাবার মুখে নিয়ে চপ চপ করবেন না,  খাইতে খাইতে নাকে সর্দি আসলে সেটা আস্তে করে মুছে নিবেন - উখ্খু উখ্খু শব্দ করে সেটাকে পেটে ঢুকানোর চেষ্টা করবেন না। মুখে কাকড় বা কাটা পড়লে মুখের খাবারটুকু বের করে সকলের সামনে ফেলে দিবেন না,  সকলের আড়ালে কোথাও ফেলুন। 


১৮. কোন একটা আইটেম নেওয়ার জন্য যদি আপনি প্রথমে উদ্যোগ নেন তাহলে চেষ্টা করবেন আশেপাশে দুএকজনকে আগে  দিয়ে পরে নিজে নিতে।  নিজে বড়ো পিসটা নিয়ে পাশেরজনের দিকে বাটি ঠেলে দিবেন না। নেওয়ার সময় চামচ দিয়ে সবগুলো পিস ঘাটাঘাটি করবেন না,  চোখের আন্দাজে আগে সিলেক্ট করে তারপর সেটা চামচে তুলবেন। 


১৯. দূরে থাকা কোন খাবার নেওয়ার জন্য বাটি নিজের দিকে দেওয়ার জন্য আরেকজনকে বলবেন না, সেটা উনার জন্য পরিশ্রমের। আপনার প্লেট বাটির কাছে এগিয়ে নিয়ে তারপর প্লেটে নিজে নেন বা কাউকে দিতে বলেন। 


২০. নিজে ডিমের কুসুম না খেয়ে রেখে দিয়ে পাশেরজনকে কুসুমের পুষ্টিগুণ বুঝাতে যাবেন না। 


২১. সালাদের বাটি থেকে বেছে বেছে শুধু টমেটো নিবেন না।  টমেটো,  শসা,  মূলা আনুপাতিক হারে নিবেন। 


২২. শুধুমাত্র আপনাকে একা  কাঁচামরিচ বা লবন এনে দেওয়ার জন্য কাউকে অনুরোধ করবেন না।  


২৩. হোস্ট পোলাওয়ের বাটি আনার সাথে সাথেই জিজ্ঞেস করে বসবেন না - সাদা ভাত আছে  কিনা? 


২৪. মজলিশে যিনি সবচেয়ে আস্তে খান তার সাথে তাল মিলিয়ে খাওয়ার চেষ্টা করুন,  এতে করে সবাই সমানভাবে খাওয়ার অংশ পাবে।  


২৫. সকলের সাথে একসাথে খাওয়া শেষ  করুন। 


২৬. গলা পর্যন্ত খেয়ে হোস্টের মুখে " কিছুই তো খাইলেন না " শোনার জন্য  " বেশি খায়ালছি " বলে ঢং করবেন না।  আপনি যে বেশি খায়ালছেন এটা সবাই এতোক্ষণে ভালোই বুঝে গেছে! 


আজ এ পর্যন্তই । 


এর বাইরে আরো পয়েন্ট থাকলে কমেন্টে যোগ করুন।  


থিউরি বুঝতে সমস্যা হলে - বাসায় দাওয়াত দিন,  হাতে কলমে শিখুন!

স্যারের মেসেজ ০৬/০৫/২০২৪

 ধানের বীজ বিক্রি করার চেষ্টা করুন,,,,


সুপারভাইজার ভাইগণ আপনারা সবার সাথে কথা বলুন,,,,,


অনেকে বলছে এখন কীটনাশকের সিজেন না ধানের বীজ এবং জৈব সার বিক্রি করার চেষ্টা করেন,,,,,


কিছু কিছু সার আছে যেগুলো সব সময় চলে,,,,

আমাদের কক্সবাজার চিটাগং টাংগাইল নোয়াখালী এই বেল্টের জন্য লোক লাগবে আপনাদের পরিচিত লোক থাকলে আমাদের সাথে যোগাযোগ করেন।

07/05/2024.....
ধানের বীজের ডেলিভারি নিয়ে আপনাদের কোনো টেনশন নাই , জালাল ভাই আমাদের সর্বোচ্চ ডেলিভারি সাপোর্ট দিবেন তাই যে প্রোডাক্ট গুলো Stock Available আছে আমরা বেশি বেশি DO করবো ইনশাআল্লাহ্ কারণ এই প্রোডাক্টটা সিজনাল একটা নির্দিষ্ট সময়ের পর কিন্তু আর চাহিদা থাকবে না ।
"ধন্যবাদ সবাইকে"
.........
৮/৫/২০২৫
রাসেল মাহমুদ স্যার,,,,,
সকালের অবগতির জন্য জানাচ্ছি যে যেদিন আপনি ডিউটি করবেন সেদিন কোনভাবেই আপনার মোবাইল নষ্ট আপনার মোবাইলের সমস্যা আপনার মোবাইলে নেট নাই অতএব মোবাইল সংক্রান্ত কোনো সমস্যায় কোম্পানি গ্রহণ করবে না সুতরাং আগে থেকেই সতর্ক থাকুন মোবাইল চার্জ করুন ঠিকমতো যত্নে রাখুন সাড়ে আটটার পর পর মার্কেটে যান পাঁচটার পর মার্কেট থেকে বের হন রোড প্লান অনুযায়ী মার্কেটে কাজ করার চেষ্টা করুন প্রতিদিন
,,,,,,,,
মনিরুল ইসলাম স্যার

ভাই আপনাদেরকে বলা আছে যেখানেই থাকেন যে কাজই করেন না কেন নোট ঠিকমতো দিবেন এক দোকানে যদি এক ঘন্টা থাকেন তিনটা চারটা নোট দিবেন ভালোমতো গুছিয়ে লিখে দিবেন কি করছেন সেই দোকানে। 
তারপরও যদি কারো নোট নিয়ে কোন ধরনের সমস্যা হয় সেটার দায়ভার আপনাকে একা নিতে হবে। 
প্রতিদিন ৩০ টা করে নোট দিতে হবে এটা অনেক আগে থেকেই বলা আছে যদি কোন কারণে কম হয় কেন কম হয়েছে সেদিনের হিসাব আপনাকে দিতে হবে কি কারণে দিতে পারেন নাই। 
সবকিছু পরিষ্কার করে বলা আছে এরপরে কোন ধরনের ভেজাল যদি আপনাদেরকে নিয়ে হয় সেটার দায়ভার আপনারাই নিবেন।


মানসিক ভাবে ভালো থাকার উপায়

 **মানসিক ভাবে ভালো থাকার উপায়**

    গরু আমাদের দুধ দেয় না, আমরা কেড়ে নি। গাধাও মোট বয় না, ধোপারা এককালে জোর করে কাজটি করাতো। হিসেব মত সিংহীও দুধ দেয়, সিংহও ওজন বইতে সক্ষম। কিন্তু সিংহকে দিয়ে ওসব করানো মানুষের ক্ষমতার বাইরে।


ওই জন্য একটু বোকা আর ভালো মানুষদের গরু কিংবা গাধার সাথে তুলনা করা হয়। এই দুটো প্রাণীর নামে কোনো মানুষকে ডাকা মানে সেটা অপমান করা। কিন্তু কাউকে সিংহ বললে সে উল্টে গর্ববোধ করবে। সেই সিংহ, যে আজ অবধি মানুষের উপকার করল না, যার সামনে মানুষ গেলে মুহূর্তের মধ্যে পরপারে চলে যাবে, সেই সিংহ হচ্ছে মানুষের চোখে রাজা। উপকারী গাধা হচ্ছে হাসির বস্তু।


অতিরিক্ত ভালো হওয়ার সমস্যাই এটা। অতিরিক্ত ভালো মানুষরা কারোর কাছে গুরুত্ব পায় না। তুমি নিঃস্বার্থভাবে ত্যাগ করতে থাকো, ভালো মনে কারোর ক্রমাগত উপকার করতে থাকো, আঘাতের পর আঘাত সহ্য করেও হাসিমুখে কাউকে ভালোবাসতে থাকো, তুমি তার চোখে 'গাধা' ছাড়া আর কিছুই হবে না। যদি মনে করো সে একদিন এগুলোর মূল্য বুঝবে, তাহলে তুমি সত্যিই গাধা। কারুর কাছে নিজের দাম পেতে গেলে একবার অন্তত সিংহের মত হতেই হয় ।


মৃত্যুর পরও ব্যাংকে আপনার টাকা রয়ে যায়। দান করবেন বলে কথা দিয়েও হয়তো কয়েকজনকে দেন নাই অথচ আমরা আমাদের জীবদ্দশায় খরচ করার জন্য প্রয়োজনীয় টাকা পাই না। 


নিরেট সত্যটি হচ্ছে-অধিক ধনবান হওয়ার চেয়ে দীর্ঘ জীবন লাভ করা বেশি জরুরি। তাই অধিক ধনবান হওয়ার জন্য অবিরাম শ্রম না দিয়ে দীর্ঘ এবং সুস্থ্য জীবন যাপন করার চেষ্টা করা উচিত এবং নিজেকে সেভাবে গড়া উচিত।

      আমাদের জীবনের নানা ঘটনাতেই এই সত্যটি মর্মে মর্মে উপলব্ধি করা যায় :

           দামি এবং অনেক সুবিধা সম্পন্ন একটি মোবাইল ফোনের ৭০% অব্যবহৃতই থেকে যায়।

মাদক ব্যাবসা করতো বা করে বা ভালো হয়ে গিয়েছে এমন  বন্ধু বা পরিচিত কাউকে কখন ও বিশ্বাস করবেন না । এরা বেইমানী করবেই কারনে অকারনে ।

একটি মূল্যবান এবং দ্রুতগতি গাড়ির ৭০% গতির কোনো দরকারই হয় না।


প্রাসাদতুল্য মহামূল্যবান অট্টালিকার ৭০% অংশে কেউ বসবাস করে না।

     কারো কারো এক আলমারি কাপড়-চোপড়ের বেশির ভাগ কোনদিনই পরা হয়ে উঠে না।

      সারা জীবনের পরিশ্রমলব্ধ অর্থের ৭০% আসলে অপরের জন্যই। আপনার জমানো অর্থ যাদের জন্য রেখে যাবেন, বছরে একবারও আপনার জন্য প্রার্থনা করার সময় তাদের হবে না। এমনকি বেঁচে থাকতেই আপনার অর্থের প্রাচুর্যে বেড়ে ওঠা মানুষগুলো আপনাকে বৃদ্ধাশ্রমে ছুড়ে আসতে পারে। তাই বেঁচে থাকতেই ১০০% এর সুরক্ষা এবং পূর্ণ সদ্ব্যবহার করাই শ্রেয়।


করণীয় কী ?

১) অসুস্থ না হলেও মেডিকেল চেকআপ করুন।

২) অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা করবেন না।

৩) মানুষকে ক্ষমা করে দিন।

৪) রাগ পুষে রাখবেন না। মনে রাখবেন কেউ-ই রগচটা মানুষকে পছন্দ করে না। আড়ালে-আবডালে পাগলা বলে ডাকে।

৫) পিপাসার্ত না হলেও জল পান করুন।

৬) সিদ্ধান্তটি সঠিক জেনেও কখনো কখনো ছাড় দিতে হয়।

৭) যতই বয়স হোক না আর ব্যস্ত থাকুন না কেন, জীবনসঙ্গীকে মাঝে মাঝে নিরিবিলি কোথাও নিয়ে হাত ধরে হাঁটুন, হোটেলে খাওয়াতে না পারলে বাদাম বা ঝালমুড়ি খান। আর তাকে বুঝতে দিন, সেই আপনার সবচেয়ে আপন। কারণ, আপনার সবরকম দুঃসময়ে সেই পাশে থাকে বা থাকবে।

৮) ক্ষমতাধর হলেও বিনয়ী হোন।

৯) আর্থিক সঙ্গতি থাকলে আর সুযোগ পেলেই পরিবার পরিজন নিয়ে নিজের দেশ এমনকি ভিন্নদেশকে দেখতে বেড়িয়ে পড়ুন। দান করুন ।

১০) ধনী না হলেও তৃপ্ত থাকুন।

১১) মাঝে মাঝে ভোরের সূর্যোদয় ,রাতের চাঁদ এবং সমুদ্র দেখতে ভুল করবেন না। বৃষ্টির জলে বছরে একবার হলেও ভিজবেন। আর দিনে ১০ মিনিট হলেও শরীরে রোদ লাগাবেন।

১২) মহাব্যস্ত থাকলেও নিয়মিত ব্যায়াম করুন আর ৩০ মিনিট হাঁটুন। আর মহান সৃষ্টিকর্তাকে নিয়মিত  স্মরণ করুন। মিথ্যা ত্যাগ করুন ।

১৩.সর্বদা হাসিখুশি থাকুন। সুযোগ পেলেই কৌতুক পড়বেন। পরিবারের সবার সঙ্গে মজার ঘটনাগুলো শেয়ার করবেন। মাঝে মাঝে প্রাণবন্ত ভাবে  হাসবেন।

১৪) সবার সাথে মিশবেন ছোটো বড় ভাববেন না।

--------------


আমাদের আরো পোস্ট পেতে পেজটিতে ফলো দিয়ে সাথে থাকুন

যেভাবে কুশারী থেকে ঠাকুর হলেন...সাজেদ রহমান ফেইসবুক থেকে নেওয়া

 রবীন্দ্রনাথ 

যেভাবে কুশারী থেকে ঠাকুর হলেন...


পশ্চিম বাংলার বর্ধমান জেলার কুশ গ্রাম থেকে কুশারী বংশের উদ্ভব। রাজা বল্লাল সেনের সময় গ্রামটি ছিল সমৃদ্ধশালী। এই গ্রামেই কুশারী পরিবারের বাস। কুশারীরা মুলত ব্রাক্ষণ ছিলেন। ক্রমে ক্রমে বংশ বৃদ্ধি পেতে থাকে তাদের, এরপর তারা ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে বাঁকুড়া জেলার সোনামুখীতে, যশোরের অধুনা পিঠাভোগে, ঢাকার কয়কীর্তনে, যশোরের ঘাটভোগ-দামুড়হুদা গ্রামে। তবে রবীন্দ্রনাথের পূর্ব পুরুষরা পিঠাভোগের কুশারী। খ্রিষ্টীয় অষ্টম থেকে একাদশ শতকের মধ্যে আদিশুরের রাজস্বকারে বৌদ্ধ প্রভাবাচ্ছন্ন বঙ্গদেশের হিন্দু ধর্মের ফিরিয়ে আনতে এ প্রধান্য বিস্তারের অভিপ্রায়ে কণ্যাকুঞ্জ থেকে যে পঞ্চ ব্রাক্ষণ্যের আবির্ভার ঘটে তাদের মধ্যে শাল্ল্যি গোত্রীয় ক্ষিতিশ ছিলেন অন্যতম। পিঠাভোগের কুশারীরা ও শাল্ল্যি গোত্রীয় ক্ষিতিশের বংশজাত ব্রাক্ষণের ধারাবাহিক উত্তর পুরুষ। কথিত আছে ভট্টনারায়ণের পুত্র দ্বীননাথ শাল্ল্যি গোত্রীয় শ্রেণির ব্রাক্ষণ মহারাজ ক্ষিতিশের অনুগ্রহে বর্ধমান জেলার ‘কুশ’ গ্রামে দান স্বত্ব লাভ করে কুশারী গোত্রভুক্ত হন।(বঙ্গের জাতীয় ইতিহাস, ব্রাক্ষণ কান্ড, পৃষ্ঠা ১২১)। সেখান থেকে রবি ঠাকুরের পূর্ব উপাধি কুশারী হয়।(রবীন্দ্র জীবনী ১ম খন্ড, প্রভাত কুমার মুখোপাধ্যায়) কালক্রমে যশোর অধুনা খুলনার রুপসা উপজেলার পিঠাভোগ গ্রামে আবাসভূমি গড়ে উঠে।


রবি ঠাকুরের দক্ষিণ ডিহির মাতৃকুলের রায় চৌধুরী বংশের সাথে কবির আদি পুরুষ পিঠাভোগের কুশারী বংশের আত্মীয়তার সম্পর্ক গড়ে উঠে।


.....জগন্নাথ কুশারীর পরবর্তী বংশধর পঞ্চানন কুশারী মত পার্থক্যের কারণে দক্ষিণ ডিহি ত্যাগ করে কলকাতার গঙ্গাতীরে কালিঘাটের গোবিন্দপুর গ্রামে বসতি স্থাপন করেন। পিঠাভোগ থেকে আসা পঞ্চানন কুশারীকে স্থানীয়রা ভক্তিতে গ্রহণ করেন। ইংরেজরা তখন আজকের কলকাতার শহরের গোড়াপত্তন করছিলেন। স্থানীয়রা তাদের মুখপাত্র হিসাবে পঞ্চানন কুশারীকে ইংরেজদের সাথে প্রয়োজনীয় যোগাযোগ রাখতে অনুরোধ করে। কুশারীরা ছিল ব্রাক্ষণ। স্থানীয় রুচিবান মানুষেরা ব্রাক্ষণ পঞ্চাননকে সম্মান করে ‘ঠাকুর’ বলে ডাকতো। এই ভাবেই পিঠাভোগের কুশারী কলকাতায় ঠাকুর হিসাবে পরিচিত পান। ঠাকুর হওয়ার পিছনে আরও কাজ করে ওই সময় ভাগীরথী নদীতে ইংরেজদের বাণিজ্য তরী ভীড়তো। সেই বাণিজ্য তরীর মালামাল উঠানো এবং নামানোর ঠিকাদার এবং খাদ্য সামগ্রী সরবরাহের ব্যবসা করতেন পঞ্চানন কুশারী। এ কাজে নিয়জিত শ্রমিকেরা কুশারীকে শ্রদ্ধা ভরে ঠাকুর মহাশয় বলে ডাকতো। জাহাজের ক্যাপ্টেনদের কাছেও তিনি ঠাকুর বলে পরিচিত পেয়ে যান। তাদের কাগজপত্রে TAGORE লেখা হতো। এখান থেকেই ঠাকুর উপাধির প্রচলন।....যাইহোক দীর্ঘকাল ইংরেজদের সঙ্গে মেলামেশার ফলে ‘টেগোর’ উচ্চারণটি স্থানী রুপ লাভ করে। বিশ শতকে এসে সব টেগোরই ইংরেজি বাংলা উভয় ভাষাই ঠাকুর হলেন। ব্যতিক্রম শুধু রবীন্দ্রনাথ। তিনি বাংলা ভাষায় ঠাকুর কিন্তু ইংরেজি ভাষায় এখনো টেগোর।


সাজেদ রহমান ফেইসবুক থেকে নেওয়া 

মুখের দুর্গন্ধে ব্যবহৃত গুরুত্বপূর্ণ হোমিও ঔষধ সমূহ 

 🌿 মুখের দুর্গন্ধে ব্যবহৃত গুরুত্বপূর্ণ হোমিও ঔষধ সমূহ 🌿 ━━━━━━━━━━━━━━━ 🌿 ১️⃣ Mercurius Solubilis 👉 মুখে অতিরিক্ত লালা 👉 মাড়ি ফোলা ও ...