এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

শুক্রবার, ১০ জানুয়ারি, ২০২৫

প্রতিনিয়ত এই পৃথিবী আমাকে মনে করিয়ে দেয়  আমাকে কঠিন হতে হবে। 

 প্রতিনিয়ত এই পৃথিবী আমাকে মনে করিয়ে দেয় 

আমাকে কঠিন হতে হবে। 

আমি কঠিন হয়ে গেছি প্রচন্ড,

প্রকৃতি আমাকে তা বুঝিয়েও দেয়। 


আমি বুঝতে শিখেছি মানুষ মূলত এক। 

জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত,জীবনের পথ এ পথে 

চলতে চলতে অনেকেই সঙ্গী হবে, 

যার সঙ্গ দেবার সময় শেষ,তিনি চলে যাবে। 

চলে যেতে হয়, চলে যেতে দিতে হয়! তবেই তো মুক্তি!

 আমি জেনে গেছি মানুষ মূলত একা।


শিমুল তুলোর মতো নরম এক মনকে আমি ভেঙেচুড়ে কংক্রিট করে ফেলেছি। 

আমি সবাইকে বুঝিয়ে গেছি,মানুষ মূলত একা। 

মনে হয়েছে,এ আমার দায়িত্ব। 

ভালোবাসি বলেই সেই দায়িত্ব মাথা পেতে নিয়েছি।

 আসির আরমানের বলা সে কথাটা আমার কানে বাজে, 

"একা বেঁচে থাকতে শেখো প্রিয়।"


আমি জেনে গেছি, দিনশেষে মানুষ মূলত একা। 

আগে, পিছে কিংবা সাথে কেউ নেই। কেউ থাকে না।


 আমি জন্মেছিলাম আমার মায়ের কোলে, 

শিমুল তুলোর মতো নরম মনে। 

এই পৃথিবী আমাকে প্রতিবার বুঝিয়ে দিয়েছে কঠিন হতে হবে। কঠিন হতে হয়। 

অস্তিত্বের লড়াইয়ে টিকে থাকতে হলে কঠিন তোমাকে হতেই হবে।


এই পৃথিবীর সবাই আগলে রাখবার জন্যে জন্মায় না।

 কেউ কেউ কঠিন বাস্তবকে বুঝিয়ে যাবার জন্যেও জন্মায়। আমার কোমল কবিতারা হারিয়ে গেছে।

 সেখানে আজ কেবল বিধ্বংসী,ক্ষতবিক্ষত লাশের ছড়াছড়ি। 

এই পৃথিবীতে কত কোমল কবিতা চাপা পড়ে মরে গেছে কংক্রিটের আড়ালে,তার হিসেব আমার সৃষ্টিকর্তাই রাখুক। ভালোবাসুক।

সঙ্গীতের জগতে কতকগুলি বাদ্যযন্ত্র রয়েছে, যা শুধু শৈল্পিক পরিবেশ তৈরি করে না, বরং তার মাধুর্য ও বৈচিত্র্যে মনকে ভরিয়ে তোলে,,,,,,,,,,,, তথ্যসূত্র : উইকিপিডিয়া।

 সঙ্গীতের জগতে কতকগুলি বাদ্যযন্ত্র রয়েছে, যা শুধু শৈল্পিক পরিবেশ তৈরি করে না, বরং তার মাধুর্য ও বৈচিত্র্যে মনকে ভরিয়ে তোলে। হারমোনিয়াম, একটি অতি পরিচিত এবং জনপ্রিয় বাদ্যযন্ত্র, যার মৃদু শব্দের মধ্য দিয়ে সঙ্গীতের আঙ্গিকে এক নতুন রূপ আসে।হারমোনিয়াম সংগীতসাধক সবার কাছেই অত্যন্ত প্রিয় একটি বাদ্যযন্ত্র। মূলত সংগীত শিক্ষার্থীরা প্রাথমিক তালিমের সময় এই যন্ত্র ব্যবহার করে থাকে। এ বাদ্যযন্ত্রটি "ক্যাবিনেট অর্গ্যান" নামেও পরিচিত। প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের সঙ্গীতশিল্পের এক বিস্ময়কর মিলনমেলা হিসেবে হারমোনিয়াম আজ সঙ্গীতপ্রেমীদের প্রিয় যন্ত্র। হারমোনিয়াম একটি বিদেশী বাদ্যযন্ত্র, যার উদ্ভব পাশ্চাত্যে হলেও এটি পরবর্তীতে প্রাচ্যে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। 


হারমোনিয়ামের উৎপত্তি পাশ্চাত্যে হলেও, এটি ভারতের সঙ্গীত জগতে একটি বিশেষ স্থান দখল করেছে। ১৮৪২ সালে প্যারিসে 'আলেকজান্ডার ডেবিয়ান' নামক একজন ফরাসি উদ্ভাবক প্রথম হারমোনিয়াম আবিষ্কার করেন। মূলত এটি ছিল একটি কিবোর্ড চালিত যন্ত্র, যা রিড বা বাঁশির মাধ্যমে সুর সৃষ্টি করত। প্রথমে পাশ্চাত্যে ব্যাপক জনপ্রিয় হলেও, ভারতীয় উপমহাদেশে এই বাদ্যযন্ত্রটি প্রবর্তিত হয় খ্রিষ্টান মিশনারীদের মাধ্যমে। ১৮৬০ সালে 'দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুর' কলকাতায় সখের থিয়েটারে এর ব্যবহার শুরু করেন, এবং সেখান থেকেই হারমোনিয়ামের জনপ্রিয়তা ধীরে ধীরে সারা ভারতবর্ষে ছড়িয়ে পড়ে।


হারমোনিয়াম একটি বিশেষ ধরনের যন্ত্র, যা দেখতে বাক্সের মতো এবং এর মধ্যে ধাতব রিডগুলি রিডবোর্ডে সাজানো থাকে। রিডগুলো সপ্তক অনুযায়ী অবস্থান করা থাকে, যেখানে সাদা পর্দা সাধারণত শুদ্ধ স্বর এবং কালো পর্দা কোমল স্বরের নির্দেশক। যন্ত্রটি বাজানোর জন্য হাতচালিত বা পাম্প চালিত বেলো ব্যবহার করা হয়, যা বাতাস রিডগুলির মধ্যে প্রবাহিত করে এবং সেগুলি কম্পিত হয়ে সঙ্গীতের শব্দ তৈরি করে। হারমোনিয়ামের দুটি প্রধান ধরন রয়েছে—টেবিল হারমোনিয়াম ও বক্স হারমোনিয়াম। টেবিল হারমোনিয়ামটি বড় আকারের, যার রিড সংখ্যা সাড়ে তিন থেকে পাঁচ অক্টেভ পর্যন্ত হতে পারে, এবং এটি সাধারণত কোরাস গানে বা নাট্যগীতির আবহ সঙ্গীতে ব্যবহৃত হয়। অপরদিকে, বক্স হারমোনিয়ামটি ছোট আকারের, যা কণ্ঠসঙ্গীত বা মাহফিলাদিতে ব্যবহৃত হয়। এটি সাধারণত "সি থেকে সি" তিন অক্টেভ বিশিষ্ট হয় এবং দুটি উপধারায় বিভক্ত—সিঙ্গেল রীড হারমোনিয়াম, যা এক সারি রিড নিয়ে শাস্ত্রীয় সঙ্গীতে ব্যবহৃত হয়, এবং ডাবল রীড হারমোনিয়াম, যা দুটি সারি রিড নিয়ে কণ্ঠ সঙ্গীতে ব্যবহৃত হয়।


প্রথম দিকে হারমোনিয়াম ছিল ডায়াটোনিক স্কেলে তৈরি, যার ফলে বিভিন্ন সুরে সঙ্গীত পরিবেশন করা ছিল কিছুটা কঠিন। তবে, পরবর্তীতে এটি 'ইকুয়ালিটি টেম্পারড স্কেল'-এ রূপান্তরিত হয়, যা সঙ্গীত পরিবেশনকে আরও সহজ এবং সুবিধাজনক করে তোলে। এই পরিবর্তনের ফলে হারমোনিয়াম ভারতের সঙ্গীত জগতে আরো জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। বিশেষত শাস্ত্রীয় সঙ্গীত, ভজন, কীর্তন এবং নানা ধরনের সঙ্গীত অনুষ্ঠানে এটি অপরিহার্য বাদ্যযন্ত্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়।


সঙ্গীতে হারমোনিয়ামের ভূমিকা অপরিসীম। এটি একদিকে যেমন কণ্ঠসঙ্গীতের সঙ্গী, তেমনি বিভিন্ন শাস্ত্রীয় সঙ্গীতেও একটি সহায়ক বাদ্যযন্ত্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়। যদিও কিছু বিশিষ্ট সঙ্গীতজ্ঞ, যেমন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, হারমোনিয়ামের ব্যবহার সমর্থন করতেন না, তবুও এটি সঙ্গীতপ্রেমীদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। ১৯৪০ সালে অল ইন্ডিয়া রেডিওতে হারমোনিয়াম ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি হলেও, এর জনপ্রিয়তা কমে যায়নি। বরং, নতুন নতুন প্রযুক্তির মাধ্যমে হারমোনিয়াম এর উন্নতি ঘটেছে এবং এটি ভারতীয় সঙ্গীতের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।


হারমোনিয়াম শুধুমাত্র একটি বাদ্যযন্ত্রই নয়, এটি  সঙ্গীত সংস্কৃতির এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। এটি প্রাথমিকভাবে ধর্মপ্রচারক এবং ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে ভারতে আসলেও, শীঘ্রই এটি সাধারণ সঙ্গীত শিল্পীদের হাতেও চলে আসে। বর্তমানে, সঙ্গীত শিক্ষায় এটি একটি সহায়ক যন্ত্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়, কারণ এটি সুর সৃষ্টি এবং সুরের অভ্যস্ততার জন্য খুবই সহায়ক। বিশেষ করে, শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য এটি একটি অপরিহার্য উপকরণ।


হারমোনিয়াম, একটি বিদেশী বাদ্যযন্ত্র হিসেবে পৃথিবীতে পা রাখলেও, আজ তা সঙ্গীত জগতে এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর সুরেলা ধ্বনি এবং সহজ ব্যবহার সঙ্গীত পরিবেশনকে সহজ ও সুন্দর করে তোলে। ভারতীয় সঙ্গীতের চিরায়ত সৌন্দর্য রক্ষা করতে হারমোনিয়াম একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে, যা শাস্ত্রীয় সঙ্গীত, ভজন, কীর্তন এবং অন্যান্য সঙ্গীত অনুষ্ঠানগুলির অপরিহার্য অংশ হয়ে উঠেছে। তাতে কোনো সন্দেহ নেই যে, হারমোনিয়াম সঙ্গীত জগতের এক অমূল্য রত্ন, যা যুগে যুগে সঙ্গীতপ্রেমীদের হৃদয়ে বাস করতে থাকবে।


তথ্যসূত্র : উইকিপিডিয়া।।

হাসান বসরীকে জিজ্ঞেস করা হল,আপনার  ধার্মিকতার গোপন সূত্র কি?

 হাসান বসরীকে জিজ্ঞেস করা হল,আপনার 

ধার্মিকতার গোপন সূত্র কি?

তিনি বললেনঃ আমি চারটি ব্যপার অনুধাবন করেছি সেগুলো হলঃ


১। আমি জানি, আমার রিজিক আর কাউকেই দেয়া হবে না। এজন্য আমার হৃদয় তৃপ্ত হয়ে গেছে।


২। আমি জানি, আমার করণীয় (ইবাদত) আর কেউ করে দিতে পারবে না। তাই আমি নিজেই সেগুলো করা শুরু করেছি।


৩। আমি জানি, আল্লাহ আমাকে দেখছেন। এজন্য আমি গুণাহ করতে লজ্জিত বোধ করি।


৪। আমি জানি, মৃত্যূ আমার জন্য অপেক্ষা করছে। এজন্য আমি আল্লাহর সাথে দেখা করার জন্য নিজেকে তৈরী করতে শুরু করেছি।


আল্লাহ্ আমাদের বোঝার এবং আমল করার তাওফিক দান করুন। আমীন!

অনুপ্রেরণার_গল্প

 #অনুপ্রেরণার_গল্প 

একদিন একটা গরীব ছেলে রাস্তায় হাঁটছিলো। সে তার লেখাপড়ার খরচ জোগাড় করার জন্য ঘরে ঘরে গিয়ে বিভিন্ন জিনিস বিক্রি করতো । ছেলেটার গায়ে ছিলো একটা জীর্ন মলিন পোষাক। সে ভীষণ ক্ষুধার্ত ছিলো। সে ভাবলো যে পরে যে বাড়ীতে যাবে , সেখানে

গিয়ে সে কিছু খাবার চাইবে। কিন্তু সে যখন একটা বাড়ীতে গেল

খাবারের আশা নিয়ে, সে ঘর থেকে একজন সুন্দরী মহিলা বেরিয়ে এলেন । সে খাবারের কথা বলতে ভয় পেলো। সে খাবারের কথা না বলে শুধু এক গ্লাস জল চাইলো । মহিলা ছেলেটার অবস্থা দেখে বুঝলেন যে সে ক্ষুধার্থ । তাই তিনি ছেলেটাকে একটা বড় গ্লাস

দুধ এনে দিলেন । ছেলেটা আস্তে আস্তে দুধটুকু খেয়ে বলল" আপনাকে আমার কত টাকা দিতে হবে এই দুধের জন্য?" মহিলা বলল "তোমাকে কোন কিছুই দিতে হবে না । ছেলেটা বলল "আমার মা আমাকে বলেছেন কখনো করুণার দান না নিতে । তাহলে আমি

আপনাকে মনের অন্ত:স্থল থেকে ধন্যবাদ দিচ্ছি ।" ছেলেটার নাম

ছিলো স্যাম কেইলি । স্যাম যখন দুধ খেয়ে ঐ বাড়ি থেকে বের হয়ে এল, তখন সে শারীরিকভাবে কিছুটা শক্তি অনুভব করলো । স্যাম এর বিধাতার উপর ছিলো অগাধ বিশ্বাস । তাছাড়া সে কখনো কিছু

ভুলতো না ।

.

অনেক বছর পর ঐ মহিলা মারাত্মকভাবে অসুস্থ হয়ে পরলো ।

স্থানীয় ডাক্তাররা তাকে সুস্থ করতে চেষ্টা করেও ব্যার্থ হল । তখন

তাকে পাঠানো হলো একটা বড় শহরের নামকরা হাসপাতালে ।

যেখানে দুলর্ভ ও মারাত্মক রোগ নিয়ে গবেষণা ও চিকিৎসা করা হয় ।

ডা: স্যামকেইলি কে এই মহিলার দায়িত্ব দেওয়া হলো । যখন ডাঃ

স্যাম কেইলি শুনলেন যে মহিলা কোন শহর থেকে এসেছেন , তার

চোখের দৃষ্টিতে অদ্ভুত একটা আলো যেন জ্বলে উঠলো । তিনি

তাড়াতাড়ি ঐ মহিলাকে দেখতে গেলেন । ডাক্তারের এপ্রোন পরে

তিনি মহিলার রুমে ঢুকলেন এবং প্রথম দেখাতেই তিনি মহিলাকে

চিনতে পারলেন । তিনি মনে মনে সিদ্ধান্ত নিলেন যে , যেভাবেই

হোক তিনি মহিলাকে বাঁচাবেনই । ঐ দিন থেকে তিনি ঐ রোগীর

আলাদাভাবে যত্ন নেওয়া শুরু করলেন । অনেক চেষ্টার পর মহিলাকে বাঁচানো সম্ভব হলো । ডাঃ স্যাম কেইলি হাসপাতালের

একাউন্টেন্টকে ঐ মহিলার চিকিৎসার বিল দিতে বললেন, কারণ

তার সাইনছাড়া ঐ বিল কার্যকর হবে না । ডাঃ স্যাম কেইলি ঐ বিলের কোণায় কি যেনো লিখলেন এবং তারপর সেটা ঐ মহিলার কাছে পাঠিয়ে দিলেন । মহিলা ভীষণ ভয় পাচ্ছিলেন বিলটা খুলতে। কারণ তিনি জানেন যে এতো দিনে যে পরিমাণ বিল এসেছে তা তিনি

সারা জীবনেও জীবনেও শোধ করতে পারবেন না ।

.

অবশেষে তিনি বিলটা খুললেন এবং বিলের পাশ দিয়ে লেখা কিছু কথা তার দৃষ্টি আকর্ষণ করলো । তিনি পড়তে লাগলেন "আপনার চিকিৎসার খরচ হলো পুরো এক গ্লাস দুধ।" এবং বিলের নিচের সাইন করা ছিলো ডাঃ স্যাম কেইলির নাম। মানুষকে সাহায্য করুন , যতটা

আপনার পক্ষে সম্ভব । হয়তো এই অল্প সাহায্যের ফল হিসেবে আপনি এমন কিছু পাবেন যা কখনো আপনি চিন্তাই করেননি।


#শিক্ষনীয় #অনুপ্রেরণা 


গল্পের ভান্ডার - Golper Vandar

প্রসঙ্গ তদবির : বাংলাদেশে সবচেয়ে বড় মহামারী এক  রোগের নাম " তদবির " অথই নূরুল আমিন 

 প্রসঙ্গ তদবির : বাংলাদেশে সবচেয়ে বড় মহামারী এক  রোগের নাম " তদবির "


অথই নূরুল আমিন 


বাংলাদেশের অধঃপতনের প্রধান যেসকল কারণ আছে তার মধ‍্যে অন‍্যতম কারণ হল তদবির। এই তদবির বাণিজ্য এই জাতির এত বড় ক্ষতি করেছে।

 যা আরো পঞ্চাশ বছর লিখেও শেষ করা যাবে না।

তদবির হলো একটি জাতি নষ্ট হবার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার। যখন কোন দেশের উচ্চ মহলে কোন জাতি নিলজ্জ হয়, লোভী হয়, চোর হয়, তখনই সেই দেশে তদবির নামের এই  ভয়ংকর থেকে ভয়ংকর এই তদবির শব্দটার  জন্ম হয়।


তদবির শব্দটা হলো সবচেয়ে ঘৃণিত একটি শব্দ। 

যা থেকে একটি জাতির গোটা একটি সমাজ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। কথা থাকে যে, এই তদবির কিন্তু নব্বই ভাগেই হয়, উচ্চ শিক্ষিত লোকদের মাঝ থেকে প্রথমত : যেখানে স‍্যার স‍্যার আর স‍্যার শব্দের উচ্চারণ হয় প্রতি ঘন্টায় তিনশ ষাট কিলো বেগে  এবং যার কোন বিরাম হয় না।

এখানে কিন্তু প্রথমত উভয়ই নিলজ্জ। যেখান থেকে তদবির শুরু হয়, যেমন তদবিরের ধরন হল।  যেজন প্রথমত তদবির নিয়ে আসে,  দ্বিতীয়ত যার কাছে তদবির আসে এবং যেজন তদবির শুনে।

বাংলাদেশে বিশেষ করে সরকারি সকল টেন্ডারে,  বাংলাদেশের সকল সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে,  বাংলাদেশে সকল জনপ্রতিনিধি নির্বাচনে,এমনকি  বাংলাদেশে সকল বিধবা ভাতা,বয়স্ক ভাতাসহ বিবিধ বিষয়ে শতভাগ তদবির চলে। 

তদবির আর তদবির। এ যেন চরম এক নিলজ্জ জাতিতে আমরা পরিণত হয়েছি।  কি অবাক বিষয়। রাষ্ট্রপতির ভবনে প্রধানমন্ত্রীর ভবনে পর্যন্ত তদবিরের মাধ‍্যমে নিয়োগ হয়ে যায় শতভাগ। বর্তমানে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে উপদেষ্টা পরিচালক বিচারপতিসহ প্রায় সকল নিয়োগ তদবিরের মাধ‍্যমে চলছে।

বাংলাদেশের সরকারি মেথরের চাকরি থেকে রাষ্ট্রপতি পর্যন্ত এখানে সবার ক্ষেত্রে এই তদবির শতভাগ প্রযোজ‍্য হয়েছে বিধায় সকল ক্ষেত্রে শতভাগ অযোগ্য লোকেরা,  দেশের মন্ত্রী হয়,এমপি হয়,সচিব থেকে পিয়ন পর্যন্ত সবাই অযোগ্য। হায়রে বাংলাদেশ। 

তদবির আছে বিধায় সকল অযোগ্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রাষ্ট্রীয় কাজের ঠিকাদারি পায়, যোগ্যরা সব অনাহারী।  যার ফলে সমগ্র মানুষ কিছুদিন পর পর সরকারকে ঘৃণা করা শুরু করে। তখন  সরকারের মুর্খ মন্ত্রী - এমপি গুলো জনগণকে উল্টা দেশ বিরোধী রাষ্ট্র, বিরোধী,সমাজ বিরোধীসহ ইত্যাদি উপাধি উল্লেখ করে গালি গালাজ শুরু করে দেয়। একটা সরকার জানতেই চায় না। তাদের দোষ গুলো কি? তাদের ভুলগুলো কি? 


বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর টেন্ডার গুলো পর্যন্ত রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তদবিরের মাধ‍্যমে পেয়ে যায়। বাংলাদেশের মত দেশে একজন রাষ্ট্রপতি পর্যন্ত তদবিরের মাধ‍্যমে রাষ্ট্রপতি হয়ে যান।

এমনকি সেনাপ্রধান,  নৌবাহিনীর প্রধান, বিমানবাহিনীর প্রধান পর্যন্ত তদবিরের মাধ‍্যমে হয়ে যান।  বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি তদবিরের হয়ে যান।


যার ফলে আজকে দেশের সকল শাখায় এক চরম অশান্তি বিরাজ করছে  চরমে। আমাদের এই দেশে আজকে বড় বড় পদাধিকারীরা আসলেই কেউ গুণে,  এবং মানে কেউ বড় নেই।  সবাই অযোগ্যতার প্রমাণ বহন করে চলছেন। এ যেন দিনের আলোর মত পরিস্কার। এ যেন জী হুজুর হ‍্যাঁ হুজুরের এক দেশে পরিণত হয়েছে। কেউ যেন কিছু জানে না। কেউ যেন কিছুই বুঝে না।

তদবিরের মত একটি শব্দের মাজে আজকে সবাই জিম্মি। যতদিন পর্যন্ত দেশে তদবির চলবে,  ততদিন পর্যন্ত দেশের না হবে কোন উন্নয়ন,  না আসবে কোন শান্তি।  তদবির মানে চিনি ছাড়া লবন দিয়ে পায়েস পাকানোর সমান। তদবির নামের শব্দটাকে চিরদিনের জন‍্য ঘৃণা করা শিখতে হবে সবার। তবেই আমাদের দেশ হবে সমৃদ্ধিশালী। 


অথই নূরুল আমিন

কবি কলামিস্ট ও রাষ্ট্র বিজ্ঞানী 

৮. ১. ২০২৫

ইউটিউবের রান্নার চ‍্যানেলগুলো ব‍্যান করে দেওয়া দরকার,,,,,,,,,,মধ্যবয়সী বাঙালীর সংগৃহীত মনের কথা

 ইউটিউবের রান্নার চ‍্যানেলগুলো ব‍্যান করে দেওয়া দরকার। ভয়ংকর সব রান্নার সন্ধান পাওয়া যায় ওখানে । আর গিন্নিরা সবাই এক এক জন বিজ্ঞানী । নিত‍্য নতুন এক্সপেরিমেন্টে তাঁদের অসীম আগ্রহ । আমরা সাধারণ নিরীহ ভোজনরসিক বাঙালি হলাম গিনিপিগ। সয়াবিন দিয়ে নিরামিষ মাংস, ডিম ছাড়া অমলেট বা তেল ছাড়া ভাজা কি আদৌ সুস্বাদু হওয়া সম্ভব ?


কথায় বলে তেলেজলে বাঙালি আর সেই তেলকে এঁরা সতীন মনে করেন। তেল যেন আমাদের স্বর্গযাত্রার পথ মসৃণ করার জন‍্য বসে আছে। শীতকালে বাজারে নধর বেগুন উঠেছে।এই সময় গরম বেগুন ভাজা অমৃতের থেকে কম কিছু নয়। কড়াই ভর্তি তেলে বেগুনেরা সাঁতার কাটছে, ওপরটা সাদা থেকে বাদামি হয়ে চকলেট রঙা হয়ে উঠছে - এই দৃশ‍্যের তুলনা হয় ? এরপর কড়া থেকে প্লেটে, আলতো করে দু আঙুলে ভাঙবেন - সোনালি তেল উথলে উঠবে। সুখ তো একেই বলে।


এই স্বর্গীয় খাদ‍্যের সর্বনাশ করতে এসেছে এয়ার ফ্রায়ার নামের একটি বিজাতীয় যন্ত্র। এতে নাকি নামমাত্র তেলে ভাজা হবে। হ‍্যাঁ, হবে, আমার হাড় ভাজাভাজা হবে। স্বাস্হ‍্যসম্মত ব্রয়লার খেতে খেতে পাঁঠার মাংসের স্বাদ মনে নেই আর। পাঁঠার দোকান এড়িয়ে চলি, মনটা হুহু করে ওঠে। পুরোনো সেই দিনের কথা - চর্বিসমেত পিস আলুর সঙ্গে জড়াজড়ি করে ভাসছে, ওপরে হাল্কা তেলের পর্দা - স্বর্গ যদি কোথাও থাকে - সে তো এখানেই। অতিথি আসার সুবাদে বহুদিন পর মাংস হল। খেয়ে ঠিক সুখ হল না। উনি সগর্বে বললেন, প্রায় তেল ছাড়া রান্না করেছি। শুনে গা জ্বলে গেল।মাংস ছাড়া করলেই পারতে। আরো স্বাস্হ‍্যসম্মত হত । আমার নাকি বয়সের সঙ্গে সঙ্গে নোলা বাড়ছে। তার পর থেকে আজ ১৩১ দিন হল, পাঁঠারা বাড়ির চৌকাঠ ডিঙোতে পারে নি।


মাছ খেয়েও কি সুখ আছে ? তারাও তো নামমাত্র তেলস্পর্শে ভাজা হয়ে ঝোলে ঠাঁই পাচ্ছে।কেমন যেন রসকষবিহীন জিরো ফিগারের বিদেশিনীদের মত দেখতে। জিভে সেই পেলব স্পর্শ পাচ্ছি কই ? আর লুচি খাওয়া তো প্রায় ছেড়েই দিয়েছি। কি একটা বিদেশি তেলে ভেজে সফল ভাবে ওটায় আতঙ্ক সৃষ্টি করা হয়েছে।


পাতে এখন প্রচুর ঘাসপাতা। জীবন না হলেও থালা বর্ণময়। হতাশ হয়ে ভাবি - এই সব খেতেই কি পূর্বপুরুষরা গাছ থেকে নেমে এসেছিলেন ? আজও তো লেজ ঝুলিয়ে ওখানে থাকলেই হত ?


তবে দেওয়ালে পিঠ ঠেকে গেলে ঘুরে দাঁড়াতেই হয়। ফোঁস করেছি একবার । শত চেষ্টাতেও গ্রিন টী বাড়িতে ঢুকতে দিই নি এখনো। লড়ে যাব শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে। পাশে থাকবেন।


(মধ্যবয়সী বাঙালীর সংগৃহীত মনের কথা)

ফিরে দেখা: সুপ্রিয়া দেবী              ✍️ রুদ্রাণী ভট্টাচার্য

 ফিরে দেখা: সুপ্রিয়া দেবী


             ✍️ রুদ্রাণী ভট্টাচার্য


বছরখানেক আগের ঘটনা হলেও এখনও প্রতিটা মুহূর্ত স্পষ্ট মনে আছে৷ সাংবাদিকের জীবনেও এমন বিরল ক্ষণ খুব বেশিবার আসে না তো! সুপ্রিয়া দেবীর সঙ্গে প্রথমবার কথা হয়েছিল ফোনে — তাঁর সঙ্গে কথা বলতে চাই, তাঁর জীবনের কথা শুনতে চাই বলায় খানিক আশ্চর্যই হয়েছেন৷ ফোনের ও প্রান্ত থেকেও স্পষ্ট কানে লেগেছে সেই বিস্ময়, ‘‘আমার সঙ্গে কথা বলবে? কী নিয়ে কথা বলবে বলো তো? আচ্ছা, এসো তা হলে একদিন৷ আসার আগে একটা ফোন করে দিও, কেমন? ভুলে যাই আজকাল সব কিছু তো!’’ বার দুই অ্যাপয়েন্টমেন্ট বাতিল হয়েছে, কখনও শরীর খারাপ, কখনও স্মৃতি সঙ্গ দেয়নি বলে মনেই করতে পারেননি যে আগে ফোন করে সময় চেয়ে রাখা ছিল৷ শেষমেশ নভেম্বরের এক অপরাহ্নে সুপ্রিয়া দেবীর মুখোমুখি বসার সুযোগ পেয়েছিলাম৷ ওয়াকার নিয়ে হাঁটেন তখন, এক কালের অতুল রূপ-সৌন্দর্যের ছায়ামাত্র আছে কেবল৷ পায়ে পায়ে ঘুরছে প্রিয়তম পোষ্য পাগটি৷ এক কালের স্টাইল আইকনের গায়ে যেমন-তেমন করে জড়ানো একটা শাল, ঢিলেঢালা রাতপোশাক পরা৷ সোফায় বসলেন টানটান হয়ে৷ গল্পের ঝাঁপি খুলল৷ মাঝেমধ্যেই ভুলে যাচ্ছেন, কথার খেই হারিয়ে যাচ্ছে৷ আর থেকে থেকেই বসার ঘরের দেওয়ালে টাঙানো উত্তম কুমারের সঙ্গে ছবিটির দিকে হাত তুলে বলে উঠছেন, ‘‘ওই যে উনি, উত্তম কুমার৷ উনি আমার দ্বিতীয় স্বামী ছিলেন৷ এই ছবিটি আমাদের বিয়ের দিনে তোলা৷ আমাদের ময়রা স্ট্রিটের বাড়িতে৷ আমার বাবা এসেছিলেন সেদিন, বড়োগিন্নিও ছিলেন...৷’’


সুপ্রিয়া দেবীর বাবা ছিলেন অ্যাডভোকেট৷ বিখ্যাত সাহিত্যিক বনফুল ছিলেন তাঁর জামাইবাবু৷ বাকি সব ভাই-বোনেদেরই বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি ছিল, কেবল এই ছোট কন্যেটিকে বাবা নিজের কাছে রেখে পড়াশোনা শিখিয়েছেন৷ গোগ্রাসে গল্পের বই গিলতেন৷ উত্তম কুমারকে সাম্প্রতিক সাহিত্য সম্পর্কে সচেতন করে তোলার দায়িত্বটাও ন্যস্ত ছিল তাঁর কাঁধেই৷ জন্ম আর বড়ো হওয়া বর্মায়, তাই আর পাঁচজন বাঙালি মেয়ের মতো ন্যাকামো তাঁর ধাতে ছিল না৷ খুব ডাকাবুকো ছিলেন৷ নিজেই বলছিলেন, ‘‘যখন প্রথমবার বর্মা থেকে আসার কথা হচ্ছে, বাবাকে সবাই বলেছিলেন, ‘এতগুলো মেয়েকে নিয়ে যাচ্ছেন, পথে না বিপদ হয়।’ বাবা সবাইকে ছেড়ে আমায় ডেকে বলেছিলেন, ‘ও বেণু, পায়ে হেঁটে যেতে হবে ভারতে, পারবি তো?’ আমি বলেছিলাম, ‘কেন পারব না?’ দিদিরা গোরুর গাড়িতে, আমি আর বাবা টানা তিনমাস হেঁটেছি। দিদিরা নামতে চাইলে বাবা বারণ করতেন। ওরা যখন বলত, ‘কেন, বেণু তো যাচ্ছে, আমরা কেন যাব না?’ বাবা বলতেন, ‘ও পারবে, ওর খুব মনের জোর, এ সব তোমাদের কাজ নয়!’ তখন আমার খুব আনন্দ হত। অভিনেত্রী চন্দ্রাবতী দেবী আমাদের বাড়ির কাছেই থাকতেন৷ উনি যখন আমায় দেখে পছন্দ করলেন ‘নাগপাশ’ ছবির জন্য, তখন বাবার অনুমতি নিতে এসেছিলেন পরিচালক নীরেন লাহিড়িকে সঙ্গে নিয়ে। বাবা বলেছিলেন, ‘কী রে, পারবি তো? তুই পারলে আমার আপত্তি নেই কোনও।’ আমিও মোটেই ঘাবড়ে যাইনি, বরং মনে হয়েছিল নিজের পায়ে দাঁড়ানোর এটাই সুযোগ। তবে সেই সঙ্গে আমার বুদ্ধিটাও ছিল, জানো। না হলে পারতাম না।’’ সদ্য কিশোরী শ্যালিকার ফিল্মে অভিনয় নিয়ে খুব আপত্তি ছিল বড়ো জামাইবাবুর, শ্বশুরবাড়িতে তিনি জানিয়েও দিয়েছিলেন সে কথা। ‘‘কিন্তু আমি সে সবও শুনিনি। উলটে সোজা বড়দির বাড়িতে গিয়ে বলেছিলাম, ‘সিনেমা যদি এতই খারাপ হবে, তা হলে আপনি কেন তপন সিংহবাবুকে ছবি তৈরির জন্য গল্প দেন? টাকা কেবল আপনাদেরই দরকার, আমার লাগে না?’ স্পর্ধা দেখে তো বড়দি আমায় মারতে উঠেছিলেন প্রায়, রেগে যাচ্ছেতাই বলেছিলেন। কিন্তু জানো তো, মেয়েরা নিজেরা রোজগার না করলে তাদের পায়ের তলার মাটি কোনওদিন শক্ত হয় না।’’


প্রশ্ন করেছিলাম, আপনার সাজগোজ দেখে তো এক কালে মহিলারা অনুপ্রেরণা পেতেন, ওভাবেই কাজল পরতেন, বুফোঁ করে চুল বাঁধতেন... কেমন লাগত? সপাটে উত্তর দিয়েছিলেন, ‘‘সাজগোজ নিয়ে অত চিন্তাভাবনা আমি কখনওই করিনি ভাই, আমাদের বাড়িতে পড়াশোনার চল ছিল৷ সাজ নিয়ে কেউ মাথাব্যথা করত না৷ তবে হ্যাঁ, উত্তম চাইতেন মেয়েরা সব সময় সেজেগুজে থাকুক, বেনারসি শাড়ি-গা ভরা গয়না পরুক৷ আমিও তাই করতাম৷ এখন মানুষটাই নেই, আমারও সাজগোজের ইচ্ছে হয় না!’’ প্রায় ঘণ্টাখানেকের আলাপচারিতায় একবারও সামান্যতম আক্ষেপ শুনিনি তাঁর গলায়৷ বরং শেষের দিকে এসে যে কথাটা বলেছিলেন সেটা মনে থেকে যাবে সারা জীবন৷ ‘‘জানো, যখন অভিনয় করতে এসেছি, তখন লোকে আমায় জিগ্যেস করত, ‘সুচিত্রা-উত্তমের জায়গাটা আপনি কীভাবে দখল করবেন?’ আমি একটাই কথা বলতাম, ‘ওঁদের জায়গা আমি নিতে যাবই বা কেন? আমার মতো নিজের একটা জায়গা করব।’ উত্তমের সঙ্গে আমার মেলামেশা নিয়েও তো কত ঝঞ্ঝাট হয়েছিল, আমি কিন্তু কাউকে একটাও উচ্চনীচ কথা বলিনি কোনওদিন। আজও বলি না। অহেতুক ঝামেলায় জড়িয়ে কী লাভ?’’ এই জন্যই সুপ্রিয়া দেবী ভিড়ের মাঝেও অনন্যা হয়ে থেকে যাবেন৷

বুঝিয়ে বলা কঠিন, তাই চুপ থাকি

 “বুঝিয়ে বলা কঠিন, তাই চুপ থাকি”


জীবনে এমন অনেক সময় আসে, যখন মনের কথা প্রকাশ করা কঠিন হয়ে পড়ে। হয়তো কিছু অনুভূতি এতটাই গভীর যে সেগুলো শব্দে প্রকাশ করা যায় না। কিংবা কিছু অভিজ্ঞতা এতটাই জটিল যে বোঝানোর জন্য যতই চেষ্টা করা হোক, শুনতে পাওয়া মানুষটি হয়তো বুঝবে না। তখন আমরা চুপ করে থাকি।


“চুপ থাকা” কোনো দুর্বলতা নয়, বরং এটি আত্মনিয়ন্ত্রণের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। কখনো কখনো চুপ থাকার মধ্যে লুকিয়ে থাকে অগণিত শব্দ, মনের গভীর বেদনা কিংবা অজস্র অপ্রকাশিত গল্প। আমরা হয়তো জানি, কেউ যদি আমাদের কথা বুঝতে না পারে, তবে সেসব বলারও কোনো মানে নেই। বরং চুপ থাকা আমাদের মানসিক শান্তি বজায় রাখে।


তবে চুপ থাকার মানে এই নয় যে, আমরা দুর্বল বা আত্মবিশ্বাসহীন। বরং এটি আমাদের অভিজ্ঞতা ও প্রজ্ঞার প্রতিফলন। কিছু অনুভূতি শুধুই অনুভবের জন্য, বোঝানোর জন্য নয়। কিছু কথা প্রকাশ না করলেই তা আরও বেশি অর্থবহ হয়ে থাকে।


তবুও, চুপ থাকা সবসময় সঠিক সমাধান নয়। যদি কোনো সম্পর্ক কিংবা পরিস্থিতিতে ভুল বোঝাবুঝি বাড়তে থাকে, তাহলে সেটা স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করা জরুরি। কারণ, অনেক সময় চুপ থাকাও ভুল বোঝার জন্ম দেয়।


তাই, কখন কথা বলতে হবে আর কখন চুপ থাকতে হবে, সেটি বুঝতে শিখুন। কারণ, শব্দের মতোই নীরবতাও একধরনের ভাষা—যা কেবল বোঝার ক্ষমতা থাকা মানুষের জন্য।


🫢🤫😐😔


গল্পের ভান্ডার - Golper Vandar

জীবনের প্রতিটি অধ্যায়ে সমস্যা থাকবে, থাকবে দুশ্চিন্তা

 "জীবনের প্রতিটি অধ্যায়ে সমস্যা থাকবে, থাকবে দুশ্চিন্তা।"

এই পৃথিবীতে এমন কোনো মানুষ নেই যার জীবনে কোনো সমস্যা নেই। আমরা প্রত্যেকেই আমাদের নিজস্ব লড়াইয়ে প্রতিনিয়ত ব্যস্ত। কিন্তু জীবনের সবচেয়ে বড় সত্য হলো—এই লড়াই আমাদের আরও শক্তিশালী করে।


মানুষের অন্তরে যত নেতিবাচক প্রবণতা রয়েছে, তা জয় করার জন্য প্রতিনিয়ত নিজেকে গড়ে তুলতে হয়। জীবনের পথে হাজারো বাধা আসবেই, কিন্তু সেগুলোর মোকাবিলা করতে হলে প্রয়োজন ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি এবং অবিচল মনোভাব।


যারা হতাশার মাঝেও আশা খুঁজে পায়, যারা নিজেদের দুর্বলতাকে শক্তিতে পরিণত করতে জানে, তারাই জীবনের প্রতিটি চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে পারে। আর এই মানসিক শক্তি ও ইতিবাচকতার ফলেই আসে সত্যিকারের সফলতা।


তাই, যদি কখনো মনে হয় জীবন খুব কঠিন, যদি মনে হয় দুশ্চিন্তার পাহাড় জমে উঠছে—তখন নিজেকে স্মরণ করিয়ে দিন, "আমি পারব। আমার ভেতরের শক্তি অদম্য।"


সফলতা কেবল তাদেরই ধরা দেয়, যারা সাহস নিয়ে সবকিছু মোকাবিলা করতে প্রস্তুত। আজ লড়াই করুন, কাল জয়ের গল্প লিখুন।

বাঁচুন বিশ্বাস নিয়ে, এগিয়ে চলুন সাহস নিয়ে।

©

স্বাধীন ভারতে বাংলার ইতিহাসে একমাত্র রঞ্জিজয়ী অধিনায়ক হয়ে রয়ে গেলেন।

 স্বাধীন ভারতে বাংলার ইতিহাসে একমাত্র রঞ্জিজয়ী অধিনায়ক হয়ে রয়ে গেলেন। এখনও পর্যন্ত।তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় দুর্ভাগ্য যখন তিনি উইকেটের পিছনে গ্লাভস হাতে দাঁড়াতেন তখন তাঁর হয়ে গলা ফাটানোর জন্য কোনও জাতীয় নির্বাচকের নাম সম্বরণ ব্যানার্জি ছিল না। যদি সৈয়দ কিরমানিকে বাদ রাখা যায় সংশয়াতীত ভাবে সেই সময় দেশের সেরা উইকেটরক্ষক বাংলার সম্বরণ ব্যানার্জি। একজন দক্ষ উইকেটরক্ষকের যেসব গুণ থাকার কথা সব ছিল তাঁর 

 মনঃসংযোগ, ফিটনেস, ‘বল সেন্স’ ও অনুমানক্ষমতা। সম্বরণ ব্যানার্জির মধ্যে এই চারটি গুণের প্রতিটিই ছিল।  ধারাবাহিকতাই  ছিল তাঁর আসল অস্ত্র। 

১৯৮১ সালে ভারতীয় দলে প্রায় সুযোগ পেয়ে গিয়েছিলেন। সেই সময়ে উইকেটের পিছনে সেরা ছিলেন সম্বরণ। কিন্তু জাতীয় দলের দরজা খোলেনি। দাত্তু ফাডকরদের নির্বাচক কমিটির কাছে উপেক্ষাই পেয়েছেন। অথচ সম্বরণ ব্যানার্জির পরিবর্তে সুযোগ পেয়েছেন অযোগ্য কিছু উইকেটরক্ষক। 


 জাতীয় দলে না খেলার যন্ত্রনা সম্বরণ ব্যানার্জি পুষিয়ে নিয়েছিলেন পূর্বাঞ্চল থেকে জাতীয় নির্বাচক হওয়ার পরে। যে কায়দায় সৌরভ গাঙ্গুলি কে ভারতীয় দলে ঢুকিয়েছেন সেই ইতিহাস সর্বজনবিদিত। গুণ্ডাপা বিশ্বনাথ হেসেছিলেন যখন সম্বরণ সৌরভকে ১৯৯৬ ইংল্যান্ডগামী দলে ঢোকাতে অলরাউন্ডারের তাস বের করেন। পূর্বাঞ্চল থেকে কাকে না তিনি সুযোগ করে দিয়েছেন। সৌরভ থেকে সাবা করিম,প্রশান্ত বৈদ্য,উৎপল চ্যাটার্জি। দেবাশিস মোহান্তি জীবনে ভারতীয় দলে সুযোগ পেতেন না যদি সম্বরণ বন্দ্যোপাধ্যায় জাতীয় নির্বচক না হতেন। নিশ্চিত ভাবে একটা সময় গিয়েছে যখন বাংলা তথা পূর্বাঞ্চলের প্রতিশ্রুতিবান ক্রিকেটারের নাম শুনলে জাতীয় নির্বাচকরা আড়ালে আবডালে হাসাহাসি করতেন।

যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও বাংলার অনেক ক্রিকেটারের জন্য কোনওদিন জাতীয় দলের দরজা খোলেনি।


 সম্বরণ ব্যানার্জি একমাত্র নির্বাচক যিনি সংশয়াতীত ভাবে পূর্বাঞ্চলের প্রতিনিধিত্ব করা শ্রেষ্ঠ জাতীয় নির্বাচক যাঁকে যোগ্য মনে করেছেন তাঁকে ভারতীয় দলে খেলার সুযোগ করে দিয়েছেন। অবশ্য সৌরভ গাঙ্গুলি যেমন সম্বরণ ব্যানার্জির সৌজন্যে ভারতীয় দলে ঢুকে নিজের যোগ্যতায় অধিনায়ক হয়েছেন। একদিনের ক্রিকেটে বিশ্বের  অন্যতম সেরা ওপেনার ছিলেন। টেস্ট ক্রিকেট খেলেছেন দাপটে। কিন্তু সৌরভের উত্তরসূরী হিসেবে সেভাবে কেউ উঠতে পারলেন না। মনোজ তিওয়ারির মধ্যে যথেষ্ট সম্ভাবনা ছিল একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচে ভারতের হয়ে সেঞ্চুরি করেও ভবিষ্যতে সুযোগ পাননি। যেমন উৎপল চ্যাটার্জি যেকোনও দিনে বেঙ্কটাপতি রাজুর চেয়ে একশো গুণ ভাল স্পিনার কিন্তু তাঁর হয়ে কোনও আজাহারউদ্দিন ছিলেন না। ঋদ্ধিমান ঢাকা পড়লেন মহেন্দ্র সিং ধোনির ছায়ায়। সেভাবে সুযোগ পেলেন না যেটুকু পেয়েছেন প্রমাণ করে দিয়েছেন তিনি ছিলেন বিশ্বসেরা উইকেটরক্ষক।


১৯৮৯/৯০ মরশুমে যেবার বাংলা শেষ রঞ্জি ট্রফি জিতেছিল সেই দলের অধিনায়ক সম্বরণ ব্যানার্জি ।

স্বাধীনতার ৪৩ বছর পর বাংলার প্রথম ও একমাত্র রঞ্জি ট্রফি জয়ে ম্যাচ জেতানো অপরাজিত ৫২রানের ইনিংস খেলেছিলেন অরুণলাল।  এখনকার ডার্কওয়াথ-লুইস সিস্টেম যেমন অনেকের মাথায় ঢোকেনা,তেমন 'কোশেন্ট'-এর বৃষ্টিবিঘ্নিত রঞ্জি ট্রফির ফাইনালে বাংলা হারিয়ে দিয়েছিল তখনকার ক্রিকেটে পাওয়ার হাউজ দিল্লিকে৷ ফাইনালে দিল্লির ২৭৮ রানের জবাবে বাংলার স্কোর ছিল ৪ উইকেটে ২১৬, অরুণলাল অপরাজিত ৫২ ৷ সেই সময় ভারতীয় দলের অন্যতম সেরা পেসার মনোজ প্রভাকর,কীর্তি আজাদ,অতুল ওয়ালসন সমৃদ্ধ দিল্লিকে হারিয়ে বাংলাকে দীর্ঘদিন পর রঞ্জি জয়ের মধুর স্বাদ পাইয়ে দিয়েছিলেন সম্বরন বন্দ্যোপাধ্যায়,অরুণ লাল,অশোক মালত্রোহা,সৌরভ গাঙ্গুলি,দত্তাত্রেয় মুখোপাধ্যায়,রাজীব শেঠ,উৎপল চ্যাটার্জি,শরদিন্দু মুখার্জি৷ ক্রিকেটার সম্বরণ ব্যানার্জি চমৎকার ক্রিকেট বিশ্লেষক। আসলে ক্রিকেট খেলাটা তিনি খুব ভাল বোঝেন। সমসাময়িক সময়ের ভারতীয় কিংবা বাংলা দলের কেন জাতীয় স্তরের প্রতিশ্রুতিবান সব খেলোয়াড়ের খবর তাঁর নখদর্পণে।

ক্রিকেট তাঁর জীবনের সব কিছু হলেও কলকাতার প্রাণের জিনিস ফুটবল। ছোটবেলায় ইস্টবেঙ্গলের ম্যাচ দেখার জন্য কত বার মাঠে ছুটে গিয়েছেন ।উত্তর কলকাতা টানত নাটকের জন্য। শোভাবাজারের রংমহলে বহু বার গিয়েছেন নাটক দেখার নেশায়। সম্বরণের কলমে অতীত থেকে বর্তমান দিনের ক্রিকেট, ক্রিকেটারদের কথা উঠে আসে। কিন্তু বাংলার রঞ্জি জয়ী অধিনায়ক,এক সময়ে সফল জাতীয় নির্বাচক, দেশের অন্যতম সেরা উইকেটরক্ষক সম্বরণ ব্যানার্জির কথা কিন্তু কারও কলমে উঠে আসতে দেখা যায় না! নাকি আমাদের দেখার ভুল!

কলমে ✍🏻 অরুণাভ সেন।।

© ধ্রুবতারাদের খোঁজে


#SambaranBanerjee

#nationalselector

#RanjiTrophy 

#EdenGardens

#Bengal

#BengalCricketTeam

#BCCI

#SouravGanguly 

#IndianCricketTeam

#dhrubotaraderkhonje

নড়াইল জেলার  লোহাগড়ার ইতনার পরীর খাটের ইতিহাস ---

 নড়াইল জেলার  লোহাগড়ার ইতনার পরীর খাটের ইতিহাস --- পরীর খাটটি বাংলাদেশের জাদুঘরে দেখে থাকলেও ইতিহাস আমরা অনেকেই জানি না। নাটোরের মহারানী ভব...