এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

সোমবার, ১৩ জানুয়ারি, ২০২৫

কুষ্টিয়ার গগন হরকরাঃ স্মরণীয় বরণীয় ----------------------------

 কুষ্টিয়ার গগন হরকরাঃ স্মরণীয় বরণীয়

---------------------------------------------------

কুষ্টিয়ার অমূল্য এক রতনের নাম গগন হরকরা। ডাকঘরের সামান্য কর্মচারি হয়েও দৃষ্টি কাড়তে পেরেছিলেন কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের।


শুধু দৃষ্টি আকর্ষণই নয়, প্রভাবিতও করেছিলেন কবিগুরুকে। সান্নিধ্য পেয়েছিলেন মহামতি লালন সাঁইজির। 


গগন হরকরা কার কাছ থেকে কিভাবে গানের দীক্ষা নিয়েছিলেন তা জানা সম্ভব হয়নি, তবে গগন লালনের গানের খুব ভক্ত ছিলেন। লালনও গগনের গান এবং গগনের সান্নিধ্য খুব পছন্দ করতেন।


কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর গগনের কাছে গগন ও লালনের গান শুনতেন। গগনের গান ‘আমি কোথায় পাব তারের’ সুরে প্রভাবিত হয়ে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত 'আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালবাসি' লিখেছিলেন।


রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তার 'ডাকঘর' নাটকটি যে গগন হরকরার জীবন থেকে প্রভাবিত হয়ে লিখেছিলেন নাটকের গগেন্দ্রনাথ ঠাকুর চরিত্রটিই তা প্রমান করে। গগন হরকরা আনুমানিক ১৮৪৫ খ্রিষ্টাব্দে শিলাইদহের কসবা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।


তার পিতা-মাতা সম্বন্ধে তেমন কোনো তথ্য জানা সম্ভব হয়নি তবে তার একটি ছেলের নাম কিরণ চন্দ্র ছিল বলে জানা যায়। 


গগন প্রথমে কৃষি কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন পাশাপাশি তৎকালীন শিলাইদহের ডাক ঘরের ডাক হরকরা’র চাকুরি করতেন। মৃত্যুর তারিখ অজ্ঞাত।


তথ্যসূত্রঃ 'জানা অজানা'

২৭ এপ্রিল ২০১৫


( কুষ্টিয়ায় স্থাপনকৃত গগন হরকরার ভাস্কর্য )


Cltd.


 খুব রক্ষণশীল পরিবারের মেয়ে। কিন্তু বিয়ে করেছিলেন পালিয়ে,,,,,,, ২০১৫ সালে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ৬৫ বছর বয়সে ঢাকুরিয়ার বাড়িতে তাঁর মৃত্যু হয়।  আজ জন্মদিনে সাহিত্যিক সুচিত্রা ভট্টাচার্যকে জানাই শ্রদ্ধা।

 খুব রক্ষণশীল পরিবারের মেয়ে। কিন্তু বিয়ে করেছিলেন পালিয়ে। বয়স তখন মাত্র সতেরো। কলেজের ফার্স্ট ইয়ার। মেয়ের দুঃসাহস বাবা মানলেন না। বাড়ি থেকে একপ্রকার বের করে দিলেন। সদ্যবিবাহিত দুই তরুণ তরুণী উঠলেন নাজিরবাগানে একটা এক কামরার ঘরে। শুরু হল দারিদ্রের সাথে লড়াই।

একটা অদ্ভুত স্বভাব ছিল তাঁর। বিয়ের পর থেকেই কিছু বান্ধবীর সাথে গিয়ে প্রত্যেক দিন শ্মশানে বসে থাকতেন। জীবন মৃত্যুকে দেখতেন কাছ থেকে। কিছুদিনের মধ্যেই কেমিস্ট্রি নিয়ে লেডি ব্রেবোর্ন ভর্তি হলেন। কিন্তু মাতৃত্ব সামলাতে গিয়ে কলেজ ছাড়তে হল। পরে যোগমায়া দেবী কলেজে ভর্তি হলেন বাংলা নিয়ে। ১৯৭৯ সালে উত্তীর্ণ হলেন ডব্লিউবিসিএস পরীক্ষায়। যোগ দেন ‘ওজন ও পরিমাপ’ দপ্তরে। লেখালিখির শখ তাঁর ছোট থেকেই। ইউনাইটেড মিশনারি গার্লস হাইস্কুলের স্কুল ম্যাগাজিনে বেরোয় তাঁর প্রথম লেখা। ছড়া, ‘চড়ুই’। তার দু’টো লাইন...‘‘কিচিরমিচির তোমার ডাকে মুগ্ধ হয়ে থাকি,/বড় ভাল লাগে আমার তোমাদের এই দল।’’

সাহিত্যিক বিমল কর এক বার ‘গল্পপত্র’ পত্রিকায় তাঁর লেখা দেখে বলেছিলেন, ‘‘তোমার কলমের জোর আছে। নিজের চেনা জগৎটা নিয়ে লেখো।" তিনি পরে বলেছিলেন ওটাই তাঁর জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিল | জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে তিনি লিখতেন। চাকরি সূত্রে পরিচয় হয়েছিল অ্যাংলো ইন্ডিয়ান, চিনা, তিব্বতী মেয়েদের সঙ্গে। কাছ থেকে দেখেছিলেন তাদের জীবনযুদ্ধের গল্প। সেই অভিজ্ঞতা থেকে লিখেছিলেন ‘আমি রাইকিশোরী’। তাঁর প্রত্যেকটা লেখার মধ্যে জড়িয়ে আছে বাস্তবের কোন অভিজ্ঞতা।

সাহিত্যের বাইরেও একটা জগত ছিল তাঁর। ভালোবাসতেন গীতা দত্তের গান। গন্ধরাজ, জুঁই ফুল। আর সমুদ্র। রান্নার হাতটিও ছিল চমৎকার। মটন, চিংড়ি, বিরিয়ানি, রাবড়ি, চাইনিজ সব রান্নাতেই ছিলেন সিদ্ধহস্ত। অভিনয়ও করতেন। গীতা দে'র পরিচালনায় অভিনয় করেছিলেন শাহজাহান নাটকে - পেয়ারি বাঈয়ের চরিত্রে। এর পর থেকে গীতা দে বলতেন, ‘‘ও আমার ছাত্রী।’’

লিখেছিলেন ২৪ টি উপন্যাস ও দুশোর উপর ছোটগল্প। গ্রন্থগুলোর মধ্যে রয়েছে- ‘কাঁচের দেয়াল’, ‘কাছের মানুষ’, ‘দহন’, ‘হেমন্তের পাখি’, ‘নীলঘূর্ণি’, ‘অলীক সুখ’, ‘ভাঙনকালে’, ‘তিনকন্যা’, ‘এখন হৃদয়’, ‘অন্য বসন্ত’, ‘ভালো মেয়ে খারাপ মেয়ে’, ‘পালাবার পথ নেই’, ‘অচিন পাখি’, ‘জোনাথনের বাড়ির ভূত’, ‘মেঘ পাহাড়’, ‘প্রেম-অপ্রেম’, ‘অর্ধেক আকাশ’, ‘গভীর অসুখ’, ‘চার দেয়াল’, ‘১০১ প্রেমের গল্প’, ‘কেরালায় কিস্তিমাত’, ‘পরবাস’, ‘ঝাও ঝিয়েন হত্যারহস্য’, ‘জলছবি’, ‘আয়নামহল’, ‘একা’, ‘শেষবেলায়’। মিতিনমাসি তাঁর সৃষ্ট গোয়েন্দাচরিত্র। একসময় লেখালিখির জন্যে নিজের চাকরি ছেড়ে দিয়েছিলেন তিনি। বিভিন্ন ভাষায় অনুবাদ করা হয়েছে তাঁর লেখা।


২০১৫ সালে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ৬৫ বছর বয়সে ঢাকুরিয়ার বাড়িতে তাঁর মৃত্যু হয়। 


আজ জন্মদিনে সাহিত্যিক সুচিত্রা ভট্টাচার্যকে জানাই শ্রদ্ধা।



নবনীতা দেবসেন গোখলে মেমোরিয়াল গার্লস, লেডি ব্রেবোর্ন, প্রেসিডেন্সি কলেজে পড়াশোনা করেছেন। স্নাতকের পর যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়

 নবনীতা দেবসেন গোখলে মেমোরিয়াল গার্লস, লেডি ব্রেবোর্ন, প্রেসিডেন্সি কলেজে পড়াশোনা করেছেন। স্নাতকের পর যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়। 


বুদ্ধদেব বসুর প্রচেষ্টায় যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে তুলনামূলক সাহিত্য বিভাগ প্রতিষ্ঠিত হয়। বিভাগটি শুরু হয় পাঁচজন ছাত্র নিয়ে। একমাত্র ছাত্রী নবনীতা দেবসেন।


এর পর বিদেশে হার্ভার্ড, ইন্ডিয়ানা (ব্লুমিংটন) ও কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা করেছেন। পোস্ট ডক্টরেট করেন বার্কলে থেকে। লেখাপড়া শেষ করে ফিরে আসেন দেশের মাটিতে।


 ১৯৭৫-২০০২ যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও কিছুকাল বিভাগীয় প্রধান ছিলেন। তাঁকে তুলনামূলক সাহিত্যের প্রতিষ্ঠান মানা হয়। 


যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিজিটিং প্রফেসর ছিলেন।



রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রসবোধ ছিল অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও মার্জিত

 রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রসবোধ ছিল অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও মার্জিত। তিনি হাস্যকৌতুক অত্যন্ত পছন্দ করতেন এবং ব্যক্তিগত জীবনে কথোপকথনের মাধ্যমে প্রায়ই তাঁর রসবোধের পরিচয় দিতেন। এখানে তাঁর জীবনের কিছু মজার ঘটনা উল্লেখ করা হলো:


শান্তিনিকেতনে একদিন একটি গুরুত্বপূর্ণ সভা অনুষ্ঠিত হচ্ছিল। সভাকক্ষে উপস্থিত কেউ কেউ ঘরটির সৌন্দর্য ও জাঁকজমক নিয়ে আলোচনা করছিলেন। রবীন্দ্রনাথ তখন মুচকি হেসে বললেন, "এ ঘরটিতে একটা বাঁ-দোর আছে।" সবাই হতবাক হয়ে তাঁর দিকে তাকিয়ে রইলেন। কবি তখন হেসে বললেন, "বাঁদর নয়, বলেছি বাঁ-দোর! দেখছ না, ঘরটির ডান দিকে একটি দরজা আছে, আবার বাঁ দিকেও একটি দরজা আছে!"


একবার রবীন্দ্রনাথ অসুস্থ অবস্থায় ছিলেন। তাঁর ভক্ত সৌমেন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁকে উৎসাহ দিয়ে বললেন, "আমরা আপনার শতবার্ষিকী উদযাপন করব।" রবীন্দ্রনাথ মৃদু হাসতে হাসতে উত্তর দিলেন, "শতবার্ষিকী? সেটা তো মাত্র পঁচিশ টাকা! এতে আমার কোনো মোহ নেই।" সবাই বিস্মিত হয়ে কারণ জানতে চাইলে তিনি ব্যাখ্যা করলেন, "শতবার্ষিকী মানে শত বার সিকি। আর শত সিকি মানে পঁচিশ টাকা—তাই তো?"


কলকাতার জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়িতে একবার বিখ্যাত সংগীতশিল্পী গোপেশ্বর বন্দ্যোপাধ্যায়ের গান পরিবেশিত হচ্ছিল। রবীন্দ্রনাথও শ্রোতার আসনে উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান শেষে শ্রোতারা রবীন্দ্রনাথকে গান গাওয়ার অনুরোধ জানালেন। রবীন্দ্রনাথ হাসতে হাসতে বললেন, "গোপেশ্বরের পর এবার কি দাড়িশ্বরের পালা?"

চাঁদে প্রায় এক মিলিয়ন টন হিলিয়াম-৩ আইসোটোপ পাওয়া গেছে যা দিয়ে পৃথিবীর শক্তির চাহিদা ১ হাজার বছর পর্যন্ত চালানো যাবে

 চাঁদে প্রায় এক মিলিয়ন টন হিলিয়াম-৩ আইসোটোপ পাওয়া গেছে যা দিয়ে পৃথিবীর শক্তির চাহিদা ১ হাজার বছর পর্যন্ত চালানো যাবে!


চাঁদ নিয়ে বিজ্ঞানীদের আগ্রহ কখনই কমেনি। সম্প্রতি চাঁদের মাটিতে এক বিরল পদার্থ খুঁজে পাওয়া গেছে যার নাম হিলিয়াম-৩। এই পদার্থটি পৃথিবীতে খুব কম পরিমাণে থাকলেও চাঁদে রয়েছে এর বিশাল মজুদ। হিলিয়াম-৩ পারমাণবিক ফিউশন পদ্ধতিতে শক্তি উৎপাদনে ব্যবহার করা যাবে। কোনো প্রকার কার্বন ডাই-অক্সাইড তৈরি ছাড়াই এ শক্তি উৎপাদন সম্ভব হবে এবং কোনো দীর্ঘমেয়াদি রেডিওঅ্যাকটিভ বর্জ্যও থাকবে না।


চাঁদে প্রায় এক মিলিয়ন টন হিলিয়াম-৩ থাকতে পারে, যা পৃথিবীর শক্তির চাহিদা হাজার বছর পর্যন্ত চালিয়ে নিতে সক্ষম। এই বিশাল পরিমাণ শক্তির সম্ভাবনা দেখে চীন চাঁদ থেকে হিলিয়াম-৩ সংগ্রহের জন্য একটি বড় পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে। তারা চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে একটি গবেষণা কেন্দ্র স্থাপন করতে চায় যেখানে তারা এই শক্তি উৎস সংগ্রহ করতে পারবে।


চীন ২০৩৫ সালের মধ্যে রাশিয়ার সঙ্গে যৌথভাবে এই গবেষণা কেন্দ্র তৈরি করার পরিকল্পনা করেছে, যা প্রায় ১৮ বিলিয়ন ডলার খরচে বাস্তবায়িত হতে পারে। তবে বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, এক বছরেই এই প্রকল্প হতে লাভ আসতে পারে। তবে এই খনিজ সংগ্রহের জন্য অনেক চ্যালেঞ্জ রয়েছে যেমন চাঁদের ধূলিকণা, রেডিয়েশন এবং খনির যন্ত্রপাতির স্থিতিশীলতা। তবে, চাঁদের সম্পদ নিয়ে আন্তর্জাতিক চুক্তি এবং নৈতিক প্রশ্ন রয়েছে। চাঁদ আন্তর্জাতিক সম্পদ- এর মালিকানা, ব্যবহার এবং এর উপকারের বণ্টন নিয়ে বৈশ্বিক আলোচনা প্রয়োজন।


চীন চাঁদ থেকে হিলিয়াম-৩ পৃথিবীতে নিয়ে আসার পরিকল্পনা করছে আর এই প্রকল্প সফল হলে, চীন শক্তির বিশ্ব বাজারে একটি বড় অবস্থান প্রতিষ্ঠা করতে পারবে।



হাওড়ায় এক বধূ এসেছিলেন যাঁর বাপের বাড়ি যশোরের পাঁজিয়া গ্ৰামে।

 হাওড়ায় এক বধূ এসেছিলেন যাঁর বাপের বাড়ি যশোরের পাঁজিয়া গ্ৰামে। ছেলে - মেয়ের বিয়ে হবে ,মেয়েরা স্বামীর ঘর করতে শ্বশুরবাড়ি যাবে চিরাচরিত এই রীতি বঙ্গ সংস্কৃতির অঙ্গ। অচিরেই হাওড়ায় আসা বউটি খুব খাতির- যত্ন পেতে লাগলেন যখন তিনি জানালেন  চিত্রতারকা ধীরাজ ভট্টাচার্য তাদের গাঁয়ের মানুষ। পাড়ার অন্য বউরা তাঁর কাছে জানতে চায় ও টুলুর মা তুমি ধীরাজ ভট্টাচার্য কে দেখেছো? বধূ হাসতে হাসতে বলে কেন দেখবো না,কতবার দেখেছি, আমাদের গ্ৰামের ছেলে তো। 

(ধ্রুবতারাদের খোঁজে ) 


একটা সময় নায়ক ধীরাজ ভট্টাচার্যের বিস্ময়কর জনপ্রিয়তা ছিল মেয়ে মহলে। তাঁর চেহারার বর্ণনা দিতে গিয়ে বলতেন আহা যেন স্বয়ং কন্দর্প। যশোরের পাঁজিয়ায় ধীরাজ ভট্টাচার্যের সাধারণ একটা বাড়ি, কিন্তু এই সাধারণ ঘরের ছেলেটি শুধু সিনেয়ায় নয় সাহিত্যেও অসাধারণ হয়ে উঠেছিলেন। প্রতিবছর দুর্গাপুজোর সময় ধীরাজ কলকাতা থেকে তাঁর গাঁয়ের বাড়িতে যেতেন। গ্ৰাম জুড়ে পুজোর কদিন শুধু উৎসবের আমেজ। প্রতিদিন স্টেজ বেঁধে অভিনয় হবে। গৃহবধূরা সন্ধ্যার আগেই রান্না শেষ করে নেবেন। এই গ্ৰামের ছেলে ধীরাজ যে বহু বাঙালির হৃদয়ে বসত করে আছে সে অভিনয় করবে। অভিনেতা ধীরাজ ভট্টাচার্যের জীবনে সাহিত্যের ব্যাধি প্রবেশ করে। রসিক মানুষ,সাহিত্যেই যখন এলেন এত দেরিতে কেন? অনুজপ্রতিম সাহিত্যিকের প্রশ্নের জবাবে জানালেন রসকস যা ছিল টালিগঞ্জ সব নিঙড়ে বের করে নিয়েছে। ধীরাজ ভট্টাচার্য বাংলা সাহিত্যের সব্যসাচী লেখক প্রেমেন্দ্র মিত্রের বাড়ির সাহিত্যের আড্ডায় যেতেন শুধু নয় রসিয়ে রসিয়ে গল্প বলতেন।‌। প্রেমেন্দ্র সবার প্রিয় প্রেমেনদা। সেই সময়ে সিনেমা বা সাহিত্য  যারা উজ্জ্বল করেছেন অথবা উজ্জ্বল হয়েছেন তাদের সবাই প্রেমেন্দ্র মিত্রের বাড়ির আড্ডায় উপস্থিত হয়েছেন। ওই আড্ডার সঙ্গদোষে অভিনেতা ধীরাজ একদিন সাহিত্যিক হলেন।

(ধ্রুবতারাদের খোঁজে) 


যখন তাঁর লেখা ' যখন পুলিস ছিলাম ' দেশ পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হচ্ছে বাঙালি পাঠক চমকে উঠলেন, এ কি! এ যে সেই সিনেমার ধীরাজ ভট্টাচার্য। তবু পাঠক দেখলেন জীবন সায়াহ্নে সিনেমার এক প্রবীণ অভিনেতা কি অপরূপ ভঙ্গিতে লিখেছেন। লিখেছেন ' যখন নায়ক ছিলাম '। অভিনেতা ধীরাজ সিনেমার পর্দায় প্রেমিকের চরিত্রে দিব্যি অভিনয় করেছেন আবার খলনায়কও হয়েছেন। বহুমুখী অভিনেতা,সুদর্শন চেহারা,একমাথা ঘন কোঁকড়ানো চুল,চাওনিতে মাদকতা। ইন্টারমিডিয়েট পাশ করে ম্যাডান কোম্পানির নির্বাক ছবি ' সতীলক্ষ্মী'তে সুযোগ পেলেন। পিতৃদেব শিক্ষক মানুষ ছেলের অভিনয় মোটেও ভালচোখে নিলেন না। ধীরাজকে পুলিসের চাকরিতে যোগ দিতে হল। প্রথম পোস্টিং চট্টগ্রাম। তবে বেশিদিন চাকরি করতে পারলেন না। অন্য চাকরি খুঁজছেন,মনের মত কাজ না পেয়ে আবার সিনেমার জগৎকে বেছে নিতে হয়। নির্বাক ছবির পরে সবাক যুগে ধীরাজের প্রথম ছবি 'কৃষ্ণকান্তের উইল'। একবার দু্ঃখ করে বলেছিলেন  তারা যখন অভিনয় করেছেন তখন সিনেমা, অভিনেতা এসব মানুষ খুব ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখত না।অভিনয় করেন বলে কেউ বাড়ি ভাড়া দিতে চাইত না,পাড়ায় ঢুকলে অন্য বাড়ির জানালা বন্ধ হয়ে যেত।


অভিনেতা ধীরাজ,  শৈলজানন্দ মুখোপাধ্যায় এর ছবি 'শহর থেকে দূরে ', 'মানে না মানা' ছবিতে রোমান্টিক নায়ক,প্রেমেন্দ্র মিত্রের ছবি 'নতুন খবর'এ  যশুরে ভাষার সংলাপে কামাল করেছেন। এরপর ' কালো ছায়া' ছবিতে খলনায়কের ভূমিকায় অভিনয়। ক্রমেই মরণের পরে,হানাবাড়ি,ডাকিনীর চর,রাত একটা, ধূমকেতু,এই সব ছিল তাঁর অভিনীত ছবি। ' আদর্শ হিন্দু হোটেল' নাটকে হাজারি ঠাকুরের চরিত্রে অসাধারণ অভিনয় করেছেন।  'বসুশ্রী'তে  দেখেছেন সত্যজিৎ রায়ের 'পথের পাঁচালী ' । অদ্ভুত ভাল লেগেছিল। উচ্ছ্বসিত হয়ে বাড়িতে অনুজ সাংবাদিক কে জরুরী তলব। বললেন এমন মরা ব্যাঙ,জলের ওপর পোকা -মাকড়ের খেলা,কাশবন,অনেক দূরে হারিয়ে যাওয়া রেলের লাইন সবকিছু যেন জীবন্ত।তার চেয়েও জীবন্ত ছবির মানুষগুলো। এতকাল সিনেমার পর্দায় সাজা -মানুষ দেখে এসেছি,নিজেও যা করেছি সব সাজা- মানুষ। এই 'পথের-পাঁচালী' ছবিটা দেখিয়ে দিল আমরা কত ব্যাক ডেটেড। 

(ধ্রুবতারাদের খোঁজে) 


একসময় লিভারের সিরোসিস ধরল ধীরাজকে। বিছানায় শুয়ে আছেন,হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রীটের বাড়িতে। কোথায় সেই কাঁচা সোনার মত রঙ। চামড়ার মধ্যে দিয়ে ঢাকা একটা কঙ্কাল, চুলগুলো রুক্ষ। একজন দুধ নিয়ে এসেছেন তাঁকে খাওয়ার অনুরোধ করছেন। ছেলেবেলার মত ধীরাজ বলছেন " এতটা আমি খেতে পারব না"। লোকটি বলছেন " মা বলেছেন খেতে"।  ও মা বলেছেন বাধ্য ছেলের মত ধীরাজ দুধগুলো চুমুক দিয়ে শেষ করলেন। চমৎকার এক দৃশ্য, অনাস্বাদিত প্রশাস্তি । মা- ছেলের এমন অনির্বচনীয় ভালবাসা বাঙলার ঘরে- ঘরে। জানালেন প্রতিদিন মা তাঁকে তিন সের দুধ খাওয়ান। খেতে হয়, কারণ মায়ের কষ্ট ছেলে হয়ে দেখতে পাবেন না। সেদিনও ছিল তাঁর বেঁচে থাকার উদগ্ৰ ইচ্ছে। মনে মনে বিশ্বাস করতেন তিনি আবার সুস্থ্য হবেন। বই লিখবেন, অভিনয় করবেন। বলেছিলেন সারাজীবন শুধু বঞ্চনা পেয়েছেন। অভিনেতা হিসেবে প্রশংসিত হওয়ার পরিবর্তে নিষ্ঠুর ভাবে সমালোচনা সহ্য করেছেন অনেক নিন্দুকের। আর লেখা! সে তো রটে গিয়েছিল কেউ নিশ্চিত লিখে দিয়েছে। নিন্দুকের তীর ছিল প্রেমেন্দ্র মিত্রের দিকে।  সেদিন বাংলা সাহিত্যের প্রথিতযশা সাহিত্যিক শংকরের সামনে চোখে জল ধীরাজের। বলেছিলেন ভাই সব সহ্য করতে পারি, কিন্তু বঞ্চনা বড় কষ্ট পেলাম। ১৯৫৯ এর মার্চের এক দিনলিপি। না এরপর পৃথিবীতে আর বেশিদিন লেখক, অভিনেতা ধীরাজ থাকেন নি। সব বঞ্চনা,সব নিন্দার উর্ধ্বে উঠে তিনি পাড়ি দিলেন তারাদের দেশে । সেখানেই ভাল থাকুন তিনি।

কলমে ✍🏻 অরুণাভ সেন।।

© ধ্রুবতারাদের খোঁজে


#DhirajBhattacharya

#Actor

#Author

#PatherPanchali 

#SatyajitRay 

#Tribute

#dhrubotaraderkhonje 

#Jessore

#harishchatterjeestreet 


পুস্তক ঋণ ও কৃতজ্ঞতা স্বীকার, চরণ ছুঁয়ে যাই,শংকর স্মৃতির সরণিতে বাংলা চলচ্চিত্রের অর্ধ শতাব্দী, সাতরঙ, রবি বসু

সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং ৫০ টি কমন চাকরির প্রশ্ন.........

 সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং ৫০ টি কমন চাকরির প্রশ্ন.........


১।প্রশ্নঃ প্রথম শ্রেনী ইটের ওজন কত ?

উওরঃ ৮.২৫ পাউন্ড বা ৪.১২ সের আথবা ৩.৭১ কেজি ।


২।প্রশ্নঃ প্রথম শ্রেনী একটি ইট কতটুকু পানি শোষণ করতে পারে ?

উওরঃ নিজের ওজনের ১/৫ থেকে ১/৬ অংশ পরিমাণ পানি শোষণ করতে পারে ?


৩।প্রশ্নঃ কাজের পৃর্বে ইট কত ঘণ্টা ভিজিয়ে রাখতে হয় ?উওরঃ ১২ ঘন্টা ( ২৪ ঘণ্টা হলে ভালো হয়।) ।


৪।প্রশ্নঃ ১০০০ টি ইট তৈরি করতে কি পরিমাণ কাঁদা মাটির দরকার হয় ?

উওরঃ প্রায় ১০০ ঘনফুট বা cft ।


৫।প্রশ্নঃ ব্রিক ওয়াল গাঁথুনিতে কি পরিমাণ পানি লাগে ?

উওরঃ ১০ ইঞ্চির ক্ষেত্রে প্রতি ঘনফুটের জন্য ১২ লিটার পানি দরকার এবং ৫ ইঞ্চির ক্ষেত্রে প্রতি বর্গফুটের জন্য ৪ লিটার পানি দরকার ।


৬।প্রশ্নঃ প্রথম শ্রেনী ইটের ফিল্ড টেস্ট কিভাবে করা যাই?

প্রথম শ্রেনী ইটের ফিল্ড টেস্টর নাম T টেস্ট অথৎ ২টি ইটকে T আকারে করে ৫/৬ ফিট উপর থেকে ফেললে ভাঙেবে না ।


৭।প্রশ্নঃ 100 cft ও 100sft ইটের গাঁথুনির জন্য কি পরিমাণ লেবারের দরকার হয় ?


৮।প্রশ্নঃ ইট পোড়ানো হয় কেন ?

উওরঃ ইট পোড়ানোর ফলে ইহা শক্ত হয়, সহজে ভাঙ্গেনা এবং পানিতে গলেনা ও লালচে রঙ সৃষ্টি করে ।


৯।প্রশ্নঃ ১০০ ফুট এইজিং এর জন্য কত গুলো ইট লাগবে ?

উত্তরঃ ২৫০ হতে ২৭০ টি ।


১০।প্রশ্নঃ ১০০ ফুট সলিং এর জন্য কত গুলো ইট প্রয়োজন ?

উওরঃ ৩০০ থেকে ৩৩৬ টি ইট ।


১১।প্রশ্নঃ ১০০ বর্গফুট হেরিং বোন বন্ডের জন্য কত গুলো ইট লাগবে ?

উওরঃ ৫০০ হতে ৫৫০ টি ইট লাগবে ।


১২।প্রশ্নঃ ১০০ sft ৫ ইঞ্চি ওয়ালের জন্য কত গুলো ইট লাগবে ?

উওরঃ ৪৮০ থেকে ৫০০ টি ইট লাগবে 


১৩। প্রশ্নঃ ১০০ cft ১০ ইঞ্চি ওয়ালের জন্য কত গুলো ইট লাগবে ?

উওরঃ ১০৮০ টি ইট লাগবে ।


১৪। প্রশ্নঃ ১০০ cft খোয়া তৈরিতে কত গুলো ইট লাগবে ?

উওরঃ ১০৫০ টি ইট লাগবে ।


১৫। প্রশ্নঃ কিং ক্লোজার কি ?

উওরঃ তিন পোয়া ইট ক্লোজার হিসাবে ব্যাবহার হয়, এই ক্লোজারকে কিং ক্লোজার বলে বা রাজা ক্লোজার বলে । ইহার সাইজ প্রায় (৭" X ৪.৫" X ২.৭ ৫") হয়ে থাকে ।


১৬। প্রশ্নঃ কুইন ক্লোজার কি ?

উওরঃ একটি ইটকে যদি লম্বালম্বি ভাবে ভাগ করি তবে তাকে কুইন ক্লোজার বলে। ইহার সাইজ প্রায় ( ৯.৫" x ২.২৫" x ২.৭৫) হয়ে থাকে ।


১৭। প্রশ্নঃ ফ্রগ মার্গ কি ?

উওরঃ ইটের এক পিটে প্রস্তুত কারকের নাম লেখা থাকে তাকে, ফ্রগ মার্গ বলে । ইহা Bonding Key হিসাবে কাজ করে।


১৮। প্রশ্নঃ মোজানাইন ফ্লোর কাকে বলে ?

উওরঃ যে কোন দুটি তালার মধ্য যদি একট অংশিক বাড়ির তলা হয়ে থাকে , তাকে মোজানাইন ফ্লোর বলে ।


১৯। প্রশ্নঃ জলছাদে ব্যাবহত ম্যাটেরিয়ার গুলোর নাম ও অনুপাত কত ? উওরঃ জলছাদে ব্যাবহত ম্যাটেরিয়ার গুলোর নাম হল Slaked line, Surki, Khoa, Molasses, Tamarine, ( এখন ব্যবহার করা হয় না ) ও Gray Cement । জলছাদে ম্যাটেরিয়াল ব্যাবহারে অনুপাত ২:২:৭ । এখানে ২ ভাগ সুরকির সাথে ২ ভাগ চুন ও ৭ ভাগ খোয়া মিশাতে হয়।


২০। প্রশ্নঃ জলছাদ ও প্যারাপেট ওয়ালের সংযোগ স্থলের বাঁকা অংশকে কি বলে?

উওরঃ ঘুন্ডী বলে ।


২১। প্রশ্নঃ একটি গাছের বয়স কিভাবে বুঝা যাবে ?

উওরঃকাঠের ক্রস সেকশনের রিং গণনা করে, গাছের বয়স বুঝা যাবে ।


২২। প্রশ্নঃ চৌকাঠের Groove সাইজ কত ?

উওরঃ ১.৫"x১/২ " ।


২৩। প্রশ্নঃ একটি Door frame ( With 7" ) এ কয়টি Clamp লাগবে ?

উওরঃ এক সাইটে ৪ টি । তাহলে দুই সাইটে (২ х ৪) = ৮ টি Clamp লাগবে।


২৪। প্রশ্নঃ একটি Door frame ( With 11" ) এ কয়টি Clamp লাগবে ?

উওরঃ এক সাইটে ৮ টি । তাহলে দুই সাইটে (২ х ৮) = ১৬ টি Clamp লাগবে।


২৫। প্রশ্নঃ Door সাইজ ও চৌকাঠের সাইজ সাধারণ কত হয়?

উওরঃআপনার জন্য প্রশ্ন নিচে কমেন্ট উওর দিন।


সকাল ৭টার সংবাদ তারিখ ১৩-০১-২০২৫ খ্রি:।

 সকাল ৭টার সংবাদ

তারিখ ১৩-০১-২০২৫ খ্রি:।


আজকের সংবাদ শিরোনাম:


দেশের আগামী নির্বাচন হবে এযাবৎ সেরা নির্বাচন এবং গণতন্ত্রের জন্য ঐতিহাসিক দৃষ্টান্ত - বললেন প্রধান উপদেষ্টা।


লন্ডনে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার উন্নতি – পরিবর্তন আনা হয়েছে চিকিৎসায়।


বিজিবি এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের শক্ত অবস্থানের কারণে সীমান্তে বেড়া নির্মাণ বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছে ভারত - জানালেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা।


বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে চলতি বছরের হজ চুক্তি স্বাক্ষরিত –এজেন্সি প্রতি কোটা সর্বনিম্ন এক হাজার।


ক্ষমতার অপব্যবহার ও অনিয়ম করে পূর্বাচলে প্লট বরাদ্দ নেওয়ায় শেখ হসিনা, শেখ রেহানা ও সায়মা ওয়াজেদ পুতুলসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা।


যুক্তরাজ্যের সিটি মিনিস্টার টিউলিপ সিদ্দিককে বরখাস্ত করতে প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের প্রতি দেশটির প্রধান বিরোধী দল কনজারভেটিভ পার্টির প্রধানের আহ্বান।


রিয়াদে সিরিয়া নিয়ে আলোচনায় দেশটির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার আহ্বান জানালেন মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের শীর্ষ কূটনীতিকরা।


সিলেটে বিপিএল টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ঢাকা ক্যাপিটালস্ ও সিলেট স্ট্রাইকার্স নিজ নিজ খেলায় জয়ী - আজ মুখোমুখি হবে চট্টগ্রাম কিংস- সিলেট স্ট্রাইকার্সের এবং রংপুর রাইডার্স- খুলনা টাইগার্সের।


যখন উমর ইবনে খাত্তাব (রা.)-এর উপর হত্যার চেষ্টা করা হলো এবং তিনি গুরুতর আহত হলেন, তখন তার ক্ষত চিকিৎসার জন্য দুধ পান করানো হয়

 যখন উমর ইবনে খাত্তাব (রা.)-এর উপর হত্যার চেষ্টা করা হলো এবং তিনি গুরুতর আহত হলেন, তখন তার ক্ষত চিকিৎসার জন্য দুধ পান করানো হয়। কিন্তু সেই দুধ তার ক্ষত থেকে বের হয়ে আসতে লাগল। এ অবস্থায় চিকিৎসক বললেন, “হে আমিরুল মুমিনিন! আপনার জীবনসীমা শেষ হয়ে আসছে। আপনি কোনো ইচ্ছা বা ওসিয়ত করে নিন।”


উমর (রা.) তার ছেলে আব্দুল্লাহকে ডেকে বললেন,

“হুযাইফা ইবনে ইয়ামানকে আমার কাছে নিয়ে আসো।”


হুযাইফা (রা.) ছিলেন সেই সাহাবি, যাকে রাসুলুল্লাহ (সা.) মুনাফিকদের নাম জানিয়েছিলেন। এই গোপন বিষয় কেবল আল্লাহ, রাসুলুল্লাহ (সা.), এবং হুযাইফা (রা.)-এর জানা ছিল।


যখন হুযাইফা (রা.) এলেন, তখন উমর (রা.) রক্তক্ষরণ সত্ত্বেও তাকে বললেন,

“হে হুযাইফা! আমি তোমাকে আল্লাহর কসম দিয়ে জিজ্ঞাসা করছি, রাসুলুল্লাহ (সা.) কি আমাকে মুনাফিকদের মধ্যে উল্লেখ করেছিলেন?”


হুযাইফা (রা.) চুপ করে থাকলেন এবং তার চোখ অশ্রুতে ভরে গেল। উমর (রা.) পুনরায় জোর দিয়ে বললেন,

“আল্লাহর কসম, আমাকে বলো, তিনি কি আমার নাম নিয়েছিলেন?”


হুযাইফা (রা.) কাঁদতে কাঁদতে বললেন,

“আমি এই গোপন বিষয় কাউকে জানাতে পারি না। তবে আমি আপনাকে নিশ্চিত করছি, রাসুলুল্লাহ (সা.) আপনার নাম মুনাফিকদের মধ্যে উল্লেখ করেননি।”


এ কথা শুনে উমর (রা.) তার ছেলে আব্দুল্লাহকে বললেন,

“এখন দুনিয়াতে আমার শুধু একটি ইচ্ছা বাকি আছে।”


আব্দুল্লাহ (রা.) জিজ্ঞাসা করলেন,

“তা কী, আব্বা জান?”


উমর (রা.) বললেন,

“আয়েশা (রা.)-এর কাছে যাও এবং তাকে বলো, উমর ইবনে খাত্তাব সালাম পাঠিয়েছেন। কিন্তু তাকে বলো না যে ‘আমিরুল মুমিনিন’ সালাম পাঠিয়েছেন, কারণ আজ আমি আর মুমিনদের আমির নই। তাকে বলো, উমর অনুরোধ করছেন যেন তাকে তার দুই সঙ্গীর (রাসুলুল্লাহ (সা.) এবং আবু বকর (রা.)) পাশে দাফনের অনুমতি দেওয়া হয়।”


আব্দুল্লাহ (রা.) গেলেন এবং আয়েশা (রা.)-এর কাছে অনুমতি চাইলেন। তখন আয়েশা (রা.) কাঁদছিলেন। কিন্তু তিনি বললেন,

“আমি এই জায়গাটি আমার জন্য রাখতে চেয়েছিলাম, কিন্তু আজ আমি এটি উমরের জন্য উৎসর্গ করছি।”


আব্দুল্লাহ (রা.) খুশি মনে ফিরে এসে সংবাদটি জানালেন। কিন্তু উমর (রা.) তখনও মাটিতে মুখ রেখে ছিলেন। আব্দুল্লাহ তার মুখ নিজের হাঁটুর ওপর রাখতে চেয়েছিলেন। কিন্তু উমর (রা.) বললেন,

“আমার মুখ মাটিতে থাকতে দাও, যাতে আমি আমার রবের সামনে বিনীতভাবে হাজির হতে পারি। উমরের জন্য আফসোস, যদি তার রব তাকে ক্ষমা না করেন।”


উমর (রা.) তার ওসিয়ত করলেন,

“যখন আমার জানাজা হবে, তখন হুযাইফার প্রতি নজর রাখো। যদি তিনি আমার জানাজায় অংশগ্রহণ করেন, তবে বুঝে নিও আল্লাহ আমাকে ক্ষমা করেছেন। এরপর আমাকে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কক্ষের দরজায় নিয়ে গিয়ে বলো, ‘হে মা! আপনার ছেলে উমর অনুমতি চাচ্ছে।’ যদি তিনি অনুমতি দেন, তাহলে আমাকে সেখানে দাফন করো। অন্যথায় আমাকে সাধারণ মুসলমানদের কবরস্থানে দাফন করো।”


অতঃপর যখন হুযাইফা (রা.) জানাজায় অংশগ্রহণ করলেন, তখন উমর (রা.)-কে আয়েশা (রা.)-এর কক্ষের দরজায় নিয়ে যাওয়া হলো এবং অনুমতি চাওয়া হলো। তিনি অনুমতি দিলেন। এভাবে উমর (রা.) তার দুই সঙ্গীর পাশে দাফন হলেন।


আল্লাহ উমর (রা.)-এর প্রতি দয়া করুন। যিনি জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত হয়েও আল্লাহর ভয়ে কাঁপতেন। কিন্তু আজ আমরা গাফলত ও নির্ভীকতায় জীবনযাপন করছি। আমরা আমাদের কাজের হিসাব করি না, আমাদের আখিরাতের কথাও ভাবি না।


اللهم احسن خاتمتنا ولا تقبض ارواحنا الا وانت راض عنا

হে আল্লাহ আমাদের শেষ পরিণতি টা সুন্দর করুন এবং আপনি আমাদের উপর সন্তুষ্ট না হয়ে আমাদের মৃত্যু দিয়েন না।

রবিবার, ১২ জানুয়ারি, ২০২৫

সকাল ৭টার সংবাদ তারিখ ১২-০১-২০২৫ খ্রি:।

 সকাল ৭টার সংবাদ

তারিখ ১২-০১-২০২৫ খ্রি:।


আজকের সংবাদ শিরোনাম:


আগামী নির্বাচনে প্রবাসীরা ভোট দিতে পারবেন - জানালেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার।


সড়কে ফিটনেসবিহীন যানবাহন চলাচল করলে বিআরটিএ-কে জবাব দিতে হবে - বললেন সড়ক পরিবহন ও সেতু উপদেষ্টা।


ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব শুরু - চলচ্চিত্র শিল্পকে সমৃদ্ধ করতে সরকার সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে - বললেন তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা।


ভারতীয় মিডিয়ায় বাংলাদেশ বিরোধী প্রচারণার বিরুদ্ধে প্রবাসী বাংলাদেশিদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানালেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা।


দেশের সংখ্যালঘুদের ওপর বেশিরভাগ হামলা রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত - পুলিশ প্রতিবেদনে প্রকাশ।


যুক্তরাষ্ট্রে ন্যাশনাল ‘ব্রেকফাস্ট প্রেয়ার’-এ ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমন্ত্রণ পেলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।


উত্তর গাজার জাবালিয়া এলাকায় ইসরাইলি বোমা হামলায় কমপক্ষে আট ব্যক্তির মৃত্যু।


সিলেটে বিপিএল টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে আজ মুখোমুখি হবে সিলেট স্ট্রাইকার্স-খুলনা টাইগার্সের এবং দুর্বার রাজশাহী-ঢাকা ক্যাপিটালসের।

হার্নিয়ার(Hernia) হোমিও ঔষধসমূহ

 🛑হার্নিয়ার(Hernia) হোমিও ঔষধসমূহ🛑 ♦️Lycopodium - ডান পাশে হার্নিয়া ।  - গ্যাস, অম্বল, পেট ফোলা ।  - ক্ষুধা কম আবার না খেতে পারলে শরীর কাঁ...