এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

মঙ্গলবার, ১৪ জানুয়ারি, ২০২৫

যেখানে একবার পড়ে গেলে আর রেহাই নেই! 

 🤯😯 যেখানে একবার পড়ে গেলে আর রেহাই নেই! 


পৃথিবীর সবচেয়ে গভীর এবং বড় প্রাকৃতিক কূপটির নাম শিয়াওজাই টিয়ানকাং। এটি চীনের কেন্দ্রস্থল পেনজি এলাকায় অবস্থিত। এই বিস্ময়কর ও লোমহর্ষক কূপটি সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক এবং এর গভীরতা ৬৬২ মিটার!  প্রস্থ ৫৩৭ মিটার! ভাবা যায়?  তবে সবচেয়ে বেশি অবাক করার বিষয়টি হলো এর অভ্যন্তরে জীবনের উত্থাণ।


জিওলজিস্টদেরকে শত শত বছর ধরে হতবাক করেছে শিয়াওজাই টিয়ানকাংয়ের রহস্য কারণ এটি পানির প্রবাহ দ্বারা প্রভাবিত 🌊। মূলত এটি তৈরি হয়েছে একটি বিশালাকার গুহার উপরে, দীর্ঘদিন ধরে নরম পাথরের উপর পানির প্রবাহ হওয়ার কারণে, যার নিচে একটি ৮.৫ কিলোমিটার দীর্ঘ ভূগর্ভস্থ নদী রয়েছে এবং যা একটি অসাধারণ জলপ্রপাতের দিকে প্রবাহিত হয়। এর বিশাল আকার এটিকে পৃথিবীর সবচেয়ে গভীর গর্তের খেতাব এনে দিয়েছে!


এখানে পড়ে গেলে কী হবে? 

সোজা ভাষায় মৃত্যু। কারণ এর গভীরতাই শুধু ৬৭৩ মিটার, এত উঁচু থেকে পড়লে আপনার টার্মিনাল বেগ অনেক বেশি হয়ে যাবে। তাছাড়া গর্তটির ভিতরে সুষম বক্রতা নেই, বিভিন্ন পয়েন্টে রয়েছে উঁচু-নিচু পাথরের খাঁজ। উচ্চবেগে সেগুলোতে আঘাত লাগলে, মানুষের একটা হাড়ও অক্ষত থাকবে না। শেষ প্রান্তে হোলটির ব্যাস প্রায় ৫২৬ মিটার এবং এটি কর্দমাক্ত পাথুরে ঘন জঙ্গল ঘেরা একটি পরিবেশে উন্মুক্ত হয়েছে । বাই চান্স আপনি এই উচ্চ লাফটির দ্বারা সৃষ্ট বলকে সহ্য করে, কোনভাবে এই হোলটিকে অতিক্রম করলেন কিন্তু নিচের এই পরিবেশে কোন সেফটি ছাড়া টিকে থাকা প্রায় অসম্ভব! 


টিয়ানকাং শুধুমাত্র পৃথিবীর ভূতাত্ত্বিক ইতিহাসের একটি দুর্দান্ত উদাহরণ নয়, বরং জীববৈচিত্র্যের একটি অনন্য কেন্দ্রীয় স্থান 🌳🌲। এখানে এমন অনেক উদ্ভিদ ও প্রাণী পাওয়া যায় যা পৃথিবীর অন্য কোথাও দেখা যায় না। গর্তের বিচ্ছিন্ন পরিবেশ জীববৈচিত্র্যের বিকাশ ও অভিযোজনের একটি প্রাকৃতিক সমাবেশ তৈরি করেছে। এটি দেখায় যে কঠিন ও ভিন্ন পরিবেশেও জীব কীভাবে টিকে থাকতে পারে এবং বিবর্তিত হতে পারে, যা প্রাচীন জীবের উত্থানের সময়কার অভিযোজন ও বৈচিত্র্যের কথা মনে করিয়ে দেয়।


এটি প্রায় ১,৩০০ প্রজাতির গাছপালা এবং বন্য প্রাণীর আশ্রয়স্থল। এর ভূগর্ভস্থ বনে ঘোরাফেরা করা সবচেয়ে আকর্ষণীয় বাসিন্দাদের মধ্যে কুয়াশা চিতাবাঘ  বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, স্থানীয় লোকেরা এটিকে প্রাচীনকাল থেকেই দেখে আসছে। এভাবে, এই গর্তটি হয়ে উঠেছে এক প্রকৃতির বিস্ময় এবং জীবনের সম্ভাবনার প্রতীক।


~ জাওয়াদ ওসমান, Scienspectra

ছেলেবেলায় আমি তো একটু দুষ্টু ছিলুম। সবাই বলত, ভীষণ দুষ্টু। একদণ্ড স্থির হয়ে বসতে জানে না। আমার মা বলতেন, ‘ওইটাকে নিয়েই হয়েছে আমার ভীষণ জ্বালা। সারাদিন আমার এতটুকু শান্তি নেই।’

 ছেলেবেলায় আমি তো একটু দুষ্টু ছিলুম। সবাই বলত, ভীষণ দুষ্টু। একদণ্ড স্থির হয়ে বসতে জানে না। আমার মা বলতেন, ‘ওইটাকে নিয়েই হয়েছে আমার ভীষণ জ্বালা। সারাদিন আমার এতটুকু শান্তি নেই।’

আমি লক্ষ্মী হওয়ার চেষ্টা যে করতুম না তা নয়। বইপত্র নিয়ে বসতুম। দু-এক পাতা হাতের লেখা করতে না করতেই মাথাটা কেমন হয়ে যেত। নীল আকাশে নিলুর ঘুড়ি লাট খাচ্ছে, পাশের মাঠে প্রতাপ আর গোপাল ডাংগুলি খেলছে। মাথার আর কী দোষ!

আমরা তখন খুব একটা পুরোনো বাড়িতে থাকতুম। বাড়িটার দুটো মহল ছিল বারমহল আর অন্দরমহল। অনেক ঘর। চওড়া, টানা-টানা বারান্দা। তিনতলার ছাতটা ছিল বিশাল বড়। ইচ্ছে করলে ফুটবল খেলা যেত। সেখানে পাশাপাশিদুটো ঘর ছিল। কেউ একটু নির্জনে থাকতে চাইলে থাকতে পারত। একটা ঘরে থাকত আমার দিদির যত খেলনা—বড় পুতুল, ছোট পুতুল। দিদির বন্ধুরা বিকেলে এসে খেলা করত। আমি মাঝে মাঝে এসে দুষ্টুমি করতুম। দিদি তখন তার বন্ধুদের বলত, ‘দ্যাখ, ভাই কী বানর ছেলে!’ দিদি আমাকে বানর বললে আমার খুব ভালো লাগত। আমি দুষ্টুমি করলে দিদিরও খুব ভালো লাগত মনে হয়। মাঝে মাঝে প্রবল লড়াই হত। তখন দিদি বলত, ‘দেখবি, যখন কোথাও চলে যাব তখন বুঝবি ঠেলা। কে তোকে গরমের ছুটিতে আচার তৈরি করে খাওয়ায় দেখব।’

রোজ রাত্তিরে বাড়িতে একটা কুরুক্ষেত্র কাণ্ড হবেই হবে। বাবা অফিস থেকে এসে আমাকে পড়াতে বসবেন। সারাদিনের লাফালাফিতে ঘুমে আমার চোখ দুলে আসবে। জানা জিনিসও ভুল করব। বাবা পরপর যোগ করতে দেবেন। একটাও ঠিক হবে না। ‘উইক’ বানানটা ভুল হবেই হবে। দুর্বলটা সপ্তাহ হবে, সপ্তাহটা দুর্বল। বাবা মাকে ডেকে বলবেন, ‘সারাটা দুপুর তুমি করো কী? ছেলেটাকে একটু দেখতে পারো না!’

মা তখন ফিরিস্তি দেবেন ছেলে এই করেছে, ওই করেছে। বাবা গম্ভীর মুখে উঠে গিয়ে লম্বা বারান্দায় পায়চারি করবেন আর আক্ষেপ করবেন, ‘নাঃ, হল না, কিছুই হল না। ফেলিওর, ফেলিওর।’ রাতে খেতে বসে বলবেন, ‘কালিয়া, পোলাও খেয়ে কী হবে, ছেলেটাই যার মানুষ হল না!’

এত কাণ্ডতেও আমার কিছু হবে না। ঘুমিয়ে পড়ব। একসময় দিদি এসে আস্তে আস্তে ডাকবে, ‘চল, খাবি চল। কাল থেকে একটু ভালো করে পড়বি। তোকে বকলে আমার খারাপ লাগে।’

কোনও-কোনওদিন দিদি আমাকে খাইয়ে দেয়।

এইভাবেই চলতে চলতে গরমের ছুটি পড়ে গেল। একদিন দুপুরবেলা সবাই ঘুমোচ্ছে। আমিও মায়ের পাশে শুয়েছিলুম। দিদি কয়েকদিনের জন্য মামার বাড়ি গেছে। শুয়ে থাকতে থাকতে উঠে পড়লুম। ঘুমিয়ে সময় নষ্ট করা উচিত নয়। মা যে-ঘরে, তার পাশের ঘরে একটা টেনিস বল নিয়ে কেরামতি করছি। এখন থেকে প্র্যাকটিস না করলে, বড় হয়ে পেলের মতো খেলোয়াড় হব কী করে! বাবাই তো বলেছেন, ‘সাধনাতেই সিদ্ধি।’

প্রথমে সাবধানেই সবকিছু করছিলুম, হঠাৎ ভীষণ উত্তেজিত হয়ে মারলুম এক শট। বাবার বইয়ের আলমারির সব কাচ ভেঙে চুরমার! পাশের ঘর থেকে মা দৌড়ে এলেন। ধড়াধ্বাম। মারাটাই আমাকে উচিত ছিল; কিন্তু বাবা বলেছেন, ‘একদম গায়ে হাত তুলবে না। ভয় ভেঙে যাবে। অন্য শাস্তি দেবে।’

মা আমাকে টানতে টানতে ছাদের ঘরে নিয়ে গিয়ে বন্দি করে দিলেন, ‘থাকো এইখানে, বাবা এলে তোমার বিচার হবে। বড্ড বেড়েছ তুমি। নির্জলা উপবাস।’

চারপাশে খাঁ-খাঁ করছে রোদ। দুপুরের নীল আকাশে গোটাকতক চিল উড়ছে। জানলার ধারে বসে আছি মনখারাপ করে। বাবাকে আমি ভীষণ ভালোবাসি। আলমারির সব কাচ চুর হয়ে গেল। খুব অন্যায় হল। কবে যে আমি মানুষ হব! এইসব ভাবছি। ভীষণ গরম। একটুও হাওয়া নেই। গাছের একটা পাতাও নড়ছে না। শেষকালে মনে হয় ঘুমিয়ে পড়েছিলুম। গায়ে কেউ হাত রাখল। ধড়মড় করে উঠে বসলুম। সামনেই দাঁড়িয়ে আছেন বাবা। আকাশে তখনও শেষবেলার রোদ। ভয়ে কুঁকড়ে গেলুম। বাবার মুখের দিকে তাকালুম, হাসছেন। স্বপ্ন দেখছি না তো! দরজার দিকে তাকালুম। হাটখোলা। তখন আমি অবাক হয়ে জিগ্যেস করলুম, ‘বাবা! আজ আপনি এত তাড়াতাড়ি এলেন?’

কোনও উত্তর নেই। বাবা হাসছেন। কেবল হাসছেন।

আমি বললুম, ‘বাবা, আমি সব কাচ ভেঙে ফেলেছি। আমি খুব অন্যায় করেছি বাবা।’

বাবা তবু হাসছেন। মুখে এতটুকু রাগ নেই। আমি তখন প্রণাম করার জন্য বাবার পা স্পর্শ করতে গেলুম, দেখি কেউ কোথাও নেই। ঘর ফাঁকা। দরজাটা হাটখোলা। খুব জোর হাওয়া ছেড়েছে গ্রীষ্মের বিকেলের।

আমি ভয়ে কেমন যেন হয়ে গেলুম! স্বপ্ন দেখেছি। নিশ্চয় স্বপ্ন। সাহস একটু ফিরে পেতেই এক ছুটে নীচে। দেখি মা রান্নাঘরে ঘুগনি তৈরি করছেন। আমাকে দেখে অবাক, কী করে এলি, কে তোকে দরজা খুলে দিল?’

বাবা ঘুগনি খেতে ভালোবাসেন, মা সেই জন্যই করছেন। কাচ ভাঙা নিয়ে ভীষণ কাণ্ডটা হয়ে যাওয়ার পরেই ঘুগনি এসে অবস্থাটাকে সামাল দেবে।

মাকে আমি সব কথা বললুম।

‘তোর বাবা এসেছে? কোথায়?

‘দরজা তো বাবাই খুলে দিলেন।’

সদরের দরজা আমি খুলে না দিলে আসবে কী করে?

গোটা বাড়িটা সার্চ করা হল। বাবার পড়ার ঘর, শোওয়ার ঘর, ঠাকুরঘর, বাথরুম। আলনাটা দেখা হল। সেখানে বাবার অফিসের জামাকাপড় ছাড়া নেই। বাড়িতে ফিরে যা পরবেন, সেইগুলোই গুছোনো রয়েছে।

আমরা তখন পাশের বাড়িতে গিয়ে বাবার অফিসে ফোন করলুম। অফিসের বড়কর্তার সঙ্গে মা কথা বললেন। জানা গেল। বাবা অনেক আগেই সাইটে গেছেন। সাইট মানে উলুবেড়িয়ায়। সেখানে কোম্পানির নতুন ফ্যাকট্রি তৈরি হচ্ছে।

মা খুব অনুরোধ করলেন, ‘আপনি নিজে একটু খবর নিন। মনে হচ্ছে, একটা কিছু হয়েছে।’ ফোন নম্বরটা তাঁকে দেওয়া হল। টেলিফোনটাকে ঘিরে আমরা বসে আছি। বসেই আছি। ওদিকে মায়ের ঘুগনি পুড়ে ছাই। এক ঘণ্টা পরে ফোন বাজল।

কনস্ট্রাকশন সাইটে একটা লোহার বিম ক্রেন ছিঁড়ে বাবার মাথায় পড়ে গেছে। তখন বেলা ঠিক সাড়ে চারটে। আমি এমন বোকা ছিলুম, সেই খরবটা পেয়েই আমি নাকি মাকে বলেছিলুম, ‘জানো, আমি কাচ ভেঙেছি বলে বাবা একটুও রাগ করেননি। শুধু হাসছিলেন।’

তখন আমার বয়েস ছিল আট। আজ নব্বই। আমি আর কোনওদিন কিছু ভাঙিনি। না কাচ, না সম্পর্ক, না পরিবার, না জীবন। বাবার সেই হাসি-হাসি মুখের হাসি যাতে কখনও না মিলিয়ে যায়, সেই চেষ্টা আমি করেছি।

✍️ সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়ের লোটাকম্বল অন্যতম শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি । অবশ্যই সংগ্রহে রাখুন এই বই ।

আমাজন লিংক : https://amzn.to/3FsbTsy

অবশ্যই সংগ্রহে রাখুন সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়ের শ্রীকৃষ্ণের শেষ কটি দিন । বইটি ২০১৮ সালে সাহিত্য একাডেমি পুরস্কারপ্রাপ্ত ।

আমাজন লিংক : https://amzn.to/3Q1bceQ

সাহিত্যিক সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়ের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি "সঞ্জীবের সেরা ১০১" । অবশ্যই সংগ্রহে রাখুন এই বই ।

আমাজন লিংক : https://amzn.to/3Qvfixp

সাহিত্যিক সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়ের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি "ভ্রমণ সমগ্র" । অবশ্যই সংগ্রহে রাখুন এই বই ।

আমাজন লিংক : https://amzn.to/407ClkQ

সাহিত্যিক সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়ের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি "হারিয়ে যাওয়া লেখা" । অবশ্যই সংগ্রহে রাখুন এই বই ।

আমাজন লিংক : https://amzn.to/3FsX8pp


আশির দশক ছিল বাংলা ছায়াছবির গানে রাজকীয় সময়

 আশির দশক ছিল বাংলা ছায়াছবির গানে রাজকীয় সময়। আর ডি বর্মণ আর বাপ্পি লাহিড়ীর যুগ। টলিউডে বাপ্পি লাহিড়ীর সবথেকে সুপারহিট ছবি ঐ সময় অঞ্জন চৌধুরীর কাহিনি চিত্রনাট্য সংলাপে 'গুরুদক্ষিণা'। বম্বের অনুসরণ করেই টালিগঞ্জে এসেছিল গোল্ডেন ডিস্ক রিলিজ অনুষ্ঠান। সর্বাধিক ক্যাসেট বিক্রির নিরিখে সুপারহিট গান গুলিকে ও তাঁর নির্মাতাদের গোল্ডেন ডিস্ক সম্মান দেওয়া হত। 


'বিধাতা দিয়েছে স্বর তুমি দিলে সুর

স্নেহভরা মমতায় বাধা হল দূর,

সবাকার পদরেণু মাথায় নিলাম,

এ আমার গুরু দক্ষিণা

গুরুকে জানাই প্রণাম' 


কিশোর কুমারের এই গান তখন সবার মুখে মুখে। কিন্তু  ছবির গানের সাফল্য কিশোর কুমার দেখে যেতে পারেননি। ১৯৮৭ সালেই প্রয়াত হন তিনি। তবে কিশোরের অকাল মৃত্যুতে যেন ভবেশ কুণ্ডুর গানের এমন কথা 'এ আমার গুরুদক্ষিণা,গুরুকে জানাই প্রণাম আরো বেশি প্রভাব ফেলল শ্রোতাদের মনে। 


তাপস পাল-শতাব্দী রায় জুটির মেগা হিট যেমন এ ছবি তেমন কালী বন্দ্যোপাধ্যায়ের কামব্যাক সুপারহিট ছিল 'গুরুদক্ষিণা'। তারপর থেকে অঞ্জন চৌধুরী ক্যাম্পেই কালী বন্দ্যোপাধ্যায়ের একের পর এক ছবি রিলিজ হতে থাকে। 'বিধিলিপি' থেকে 'ছোট বউ'।


গুরুদক্ষিণার গোল্ডেন ডিস্ক রিলিজের অনুষ্ঠান হয়েছিল সেন্ট পলস ক্যাথিড্রালের মাঠে। গাঁথানি মিউজিক কোম্পানির কর্ণধার শশীকান্ত গাঁথানি এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিলেন। তাই লেখা ছিল 'Welcome to Gathani'। এইসময় এইচএমভি-কে কিছুটা হলেও পিছনে ফেলে দিয়েছিল গাঁথানি রেকর্ডস। সুরকার বাপ্পি লাহিড়ীর সাথে বম্বে থেকে হাজির হন তাঁর বাবা-মা অপরেশ লাহিড়ী ও বাঁশরী লাহিড়ী। যাঁরা ছিলেন পঞ্চাশের দশকের বিখ্যাত সঙ্গীত তারকা দম্পতি। ছবির প্রযোজক আর গীতিকার দুজনেই এক লোক ভবেশ কুণ্ডু। ভিলেন রোলেও তিনিই। 


--- সংগ্রহীত

১৯৮৪ সালে কোনো এক প্রেমিকের তার প্রিয়তমাকে ইদের শুভেচ্ছা জানিয়ে লেখা চিঠি ও সাথে প্রিয়তমাকে দেয়া কথা রক্ষার প্রতিশ্রুতি

 ১৯৮৪ সালে কোনো এক প্রেমিকের তার প্রিয়তমাকে ইদের শুভেচ্ছা জানিয়ে লেখা চিঠি ও সাথে প্রিয়তমাকে দেয়া কথা রক্ষার প্রতিশ্রুতি


!


বি: দ্র: গত বছর জনাব নাছির আহমেদ নামক এক ব্যক্তির মন্তব্যের মাধ্যমে জানতে পারি চিঠির লেখক ও প্রাপকের প্রেমকাহিনি পূর্ণতা পেয়েছিল। প্রেরক তার প্রতিশ্রুতি রেখেছিলেন, এবং বর্তমানে তারা সুখী দম্পতি হিসেবে জীবন কাটাচ্ছেন।


#bdcs #1980s #loveletter #letter #itihaserkhojegiridhar #giridhardey #ইতিহাসেরখোঁজেগিরিধর #বাংলাদেশের_দুষ্প্রাপ্য_ছবি_সমগ্র

বিদ্রোহী কবির উপহার দেওয়া পেনসিলই আমার জীবনের সেরা পুরস্কার - পিকে ব্যানার্জী

 ♦️বিদ্রোহী কবির উপহার দেওয়া পেনসিলই আমার জীবনের সেরা পুরস্কার - পিকে ব্যানার্জী ♦️ 

বয়স আশি পেরিয়ে গিয়েছে তাঁর। অসুস্থতার কারণে বন্ধ হাঁটাচলা। ভরসা একমাত্র হুইল চেয়ার। কিন্তু উত্তরবঙ্গের প্রসঙ্গ উঠলেই বদলে যায় অভিব্যক্তি। তিনি, প্রদীপকুমার বন্দ্যোপাধ্যায় আনন্দবাজারকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে শোনালেন তাঁর শৈশবের অজানা কাহিনি।বয়স আশি পেরিয়ে গিয়েছে তাঁর। অসুস্থতার কারণে বন্ধ হাঁটাচলা। ভরসা একমাত্র হুইল চেয়ার। কিন্তু উত্তরবঙ্গের প্রসঙ্গ উঠলেই বদলে যায় অভিব্যক্তি। তিনি, প্রদীপকুমার বন্দ্যোপাধ্যায় আনন্দবাজারকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে শোনালেন তাঁর শৈশবের অজানা কাহিনি।


প্রশ্ন: আপনার জন্ম তো জলপাইগুড়ি জেলার ময়নাগুড়িতে। যদিও শৈশবে উত্তরবঙ্গ ছেড়ে জামশেদপুর চলে গিয়েছিলেন। উত্তরবঙ্গের কোনও স্মৃতি মনে আছে?


প্রদীপ কুমার বন্দ্যোপাধ্যায় (পিকে): অবশ্যই। উত্তরবঙ্গ নিয়ে আমি ভীষণই আবেগপ্রবণ। বাবা জামশেদপুরে চাকরি পাওয়ায় আমাদের উত্তরবঙ্গ ছেড়ে চলে যেতে হয়েছিল। তখন আমার বয়স ছিল নয় বা দশ বছর। বয়স ৮০ পেরিয়ে গেলেও উত্তরবঙ্গের সমস্ত স্মৃতিই উজ্জ্বল।


প্র: কী রকম?


পিকে: আমাদের গ্রামটা ছিল লাটাগুড়ি জঙ্গলের লাগোয়া। ফলে লেপার্ডের খুব উৎপাত ছিল। আমার বাবার দু’টো পোষ্য ছিল। পাহাড়ি কুকুর। যত দূর মনে পড়ে একটার নাম ছিল বেবি। অন্যটার নাম ভুলে গিয়েছি। ওদের চিতাবাঘ তুলে নিয়ে গিয়েছিল বাড়ির বারান্দা থেকে।


প্র: সেকি! কী ভাবে?


পিকে: সেই সময় উত্তরবঙ্গের বাড়িগুলোর অধিকাংশই কাঠের ছিল। প্রচুর বৃষ্টি হত বলে কাঠের গুঁড়ির উপর বাড়িগুলো তৈরি করা হত মাটি থেকে পাঁচ-ছয় ফুট উঁচুতে। আমাদের একতলাটা ছিল কলকাতার দোতলা বাড়ির সমান। সেই বাড়ির বারান্দায় রাতে দুই পোষ্যকে বেঁধে রাখতেন বাবা। কারণ, কুকুরের মাংস লেপার্ডের অত্যন্ত প্রিয় ছিল। বাবার ভয় ছিল, বেঁধে না রাখলে ওরা জঙ্গলে চলে যাবে। আর লেপার্ড ওদের মেরে ফেলবে। কিন্তু যেখানে বাঘের ভয়, সেখানে সন্ধে হয়। বারান্দায় আমাদের কুকুর দু’টোকে খেতে দেওয়া হয়েছিল। এমন সময় অতর্কিতে আক্রমণ করে চিতাবাঘ। ওরা প্রচণ্ড চিৎকার করেছিল। কিন্তু আমাদের বাড়ির সকলে ভেবেছিল, বেঁধে রাখা হয়েছে বলে হয়তো চিৎকার করছে। তাই আর কেউ বাইরে যায়নি। খানিক্ষণ পরে চিৎকার থেমে গেল। পরের দিন সকালে উঠে বাবা দেখলেন, কুকুর দু’টো নেই। বারান্দার মেঝেতে রক্তের দাগ। খুব কষ্ট হয়েছিল আমার। বাবার মতো কড়া মানুষও কেঁদে ফেলেছিলেন।


প্র: জঙ্গলের পাশে থাকতে ভয় করত না?


পিকে: একেবারে ভয় করত না বলব না। উত্তরবঙ্গে মাঝেমধ্যেই প্রবল ঝড় হত। সেই সময় জঙ্গলের মধ্যে থেকে অদ্ভুত অদ্ভুত সমস্ত শব্দ ভেসে আসত। আমি তাতে খুব ভয় পেতাম। তবে বর্ষার সময় খুব আনন্দ হত।


প্র: কেন?


পিকে: বর্ষার সময় উত্তরবঙ্গের রূপটাই বদলে যায়। গাছের পাতায় বৃষ্টি পড়ার শব্দ ও নানা রকমের পাখি, ঝিঁঝিঁ পোকার ডাক শুনতে ঘুমিয়ে পড়তাম। আমি পড়তাম জলপাইগুড়ি জিলা স্কুলে। বর্ষার সময় আমাদের স্কুলে ছুটি দেওয়া হতো। সেই দিনগুলো আর আমার জীবনে কখনও ফিরে আসেনি।


প্র: ফুটবল শিক্ষার শুরু কি ময়নাগুড়িতেই?


পিকে: হ্যাঁ। বাবা-ই আমার প্রথম কোচ। তাঁর পা ধরেই ফুটবলের শিক্ষা শুরু। আমি তখন ছয়। বাবা আমার জন্য একটা এক নম্বর ফুটবল কিনে এনেছিলেন। বছর দু’য়েক পরে ময়নাগুড়ি থেকে জলপাইগুড়ি চলে যাওয়ার পরে খেলা শিখিয়েছেন মোজাম্মেলদা, টি মল্লিক, মন্টু মল্লিকের মতো কলকাতায় খেলে যাওয়া ফুটবলাররা। তবে ফুটবলার হওয়ার স্বপ্নটা দেখতে শুরু করি জামশেদপুরে যাওয়ার পরে। শুধু ফুটবল নয়, মাছ ধরতেও শিখিয়ে ছিলেন বাবা। জলপাইগুড়ি চলে আসার পরে বাবা তিস্তায় মাছ ধরতে যেতেন। সঙ্গে যেতাম আমি। বাবার ছিল হুইল লাগানো ছিপ। আমার ছিল সাধারণ ছিপ। বাবা ধরতেন বড় বড় মাছ। আমি ধরতাম পুঁটি, খলসে ও ট্যাংরা জাতীয় মাছ।


প্র: বাবার কাছে কখনও বকুনি খেয়েছেন?


পিকে: ওরে বাবা, খাইনি আবার! আমার বাবা ছিলেন ভয়ঙ্কর রাগি। ছয় বছর বয়সে বাবার হাতে খাওয়া চড় এখনও ভুলিনি।


প্র: কী করেছিলেন?


পিকে: আমার তখন বছর ছ’য়েক বয়স। ময়নাগুড়ির পাঠ চুকিয়ে জলপাইগুড়ি শহরে চলে এসেছি। বাবা খুব ভাল অভিনয় করতেন বলে, দারুণ জনপ্রিয় ছিলেন। একবার বাবা একটি নতুন সিগারেটের প্যাকেট এনেছিলেন। বাবার ডাক নাম ছিল হাবু। দেখলাম সবাই তাঁকে বলছেন, ‘‘হাবু আমাকে একটা।’’ আর বাবা প্যাকেট থেকে সিগারেট বের করে দিচ্ছেন। আমিও বললাম, ‘‘বাবা আমাকে একটা।’’ ব্যস, প্রচণ্ড রেগে আমার গালে একটা চড় মারলেন। এত জোর ছিল সেই চড়ে যে, আমি ছিটকে পড়ে গিয়েছিলাম তিন-চার হাত দূরে। আমার মুখও বেঁকে গিয়েছিল। এখনও সেই ঘটনা মনে পড়লে কেঁপে উঠি। আরেক বার প্রচণ্ড মার খেয়েছিলাম গাছে ওঠার জন্য। পিঁপড়ের ডিম খাওয়ার জন্য ভাল্লুক গাছে উঠে বসে থাকত। তাই বাবা বারবার বারণ করতেন গাছে উঠতে। কিন্তু আমি শুনতাম না। বাবাকে লুকিয়ে প্রায়ই গাছে উঠে পড়তাম। যেদিন ধরা পড়তাম, প্রচণ্ড মার খেতাম।


প্র: এত প্রিয় উত্তরবঙ্গ ছেড়ে তা হলে জামশেদপুর চলে গিয়েছিলেন কেন?


পিকে: জামশেদপুরে আমাদের এক আত্মীয় থাকতেন। তিনিই বাবার চাকরির ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন। তাই আমরাও যেতে বাধ্য হয়েছিলাম।


প্র: কষ্ট হয়নি?


পিকে: প্রচণ্ড কেঁদেছিলাম জলপাইগুড়ি ছাড়ার সময়।


প্র: প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পরে তো ফিরে যেতে পারতেন উত্তরবঙ্গে?


পিকে: তা সম্ভব ছিল না। কারণ, ময়নাগুড়ি ও জলপাইগুড়িতে আমরা যে বাড়িতে থাকতাম, তা বাবা বিক্রি করে দিয়েছিলেন জামশেদপুর যাওয়ার সময়। তবে পরবর্তীকালে বহুবার সেই বাড়ি দু’টো দেখতে গিয়েছিলাম।


প্র: কী রকম অনুভূতি হয়েছিল?


পিকে: ব্যাখ্যা সম্ভব নয়। ভাল লাগা ও যন্ত্রণা মিলিয়ে আশ্চর্য একটা অনুভূতি হয়েছিল।


প্র: উত্তরবঙ্গের সেরা স্মৃতি কী?


পিকে: কাজি নজরুল ইসলামের দেওয়ার পেনসিল উপহার।


প্র: বিস্তারিত যদি বলেন?


পিকে: আমরা তখন ময়নাগুড়িতে থাকতাম। ক্লাস থ্রিতে পড়ি। আমাদের স্কুলে এসেছিলেন বিদ্রোহী কবি। আমি একা ছবি এঁকে উপহার দিয়েছিলাম ওঁকে। দারুণ পছন্দ হয়েছিল ওঁর ছবিটা। খুশি হয়ে আমাকে একটি পেনসিল উপহার দিয়েছিলেন। আমার জীবনের সেরা পুরস্কার।


প্র: ফিফার বিচারে বিংশ শতাব্দীর সেরা ভারতীয় ফুটবলারের খেতাব। পদ্মশ্রীর চেয়েও সেরা?


পিকে: অবশ্যই। কাজি নজরুল ইসলাম নিজের হাতে পুরস্কার দিচ্ছেন, তার চেয়ে কোনও পুরস্কারই মূল্যবান নয়।


প্র: এ বার একটু অন্য প্রসঙ্গে আসি। সামনেই বিশ্বকাপ ফুটবল। কে চ্যাম্পিয়ন হতে পারে বলে মনে করেন?


পিকে: ব্রাজিল চ্যাম্পিয়ন হলে বেশি খুশি হব। তবে মনে হয় না ওরা পারবে। এই বিশ্বকাপে জার্মানির চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। ওদের দলটা অনেক বেশি গোছানো।


প্র: লিয়োনেল মেসি না ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো— কে সেরা?


পিকে: দু’জনেই দুর্দান্ত ফুটবলার। মেসির শিল্প বিস্মিত করে। রোনাল্ডোর পরিশ্রম ও হার না মানা মানসিকতা আমাকে মুগ্ধ করে।


আনন্দবাজার পত্রিকা 


=============

৭৩ এ তখন তিনি ইস্টবেঙ্গলের কোচ, মাঠের অনুশীলনের সময় খেয়াল করলেন টিমের অন্যতম স্তম্ভ সুভাষ ভৌমিক প্রয়োজনের তুলনায় কম পুষ্টিকর খাবার খাচ্ছেন, এটার সমাধান করতে পিকে স্ত্রী আরতিকে অনুরোধ করলেন তাঁর দুই মেয়ের টিফিনের বরাদ্দ কমিয়ে সেখান থেকে কিছুটা অংশ সুভাষের জন্য রাখতে!

বাহাত্তরে ইস্টবেঙ্গল ক্লাবে যোগ দিয়ে দুরন্ত খেলছেন গৌতম সরকার। পিকে একদিন খেলাচ্ছলে তাঁর বাড়িতে খাওয়ার ইচ্ছে প্রকাশ করলেন, গৌতমের বাড়িতে খেতে গিয়ে পিকে বুঝলেন খাবারের বিশেষ আয়োজনের জন্য পাড়া প্রতিবেশীদের কাছে সাহায্য চাইতে হয়েছে গৌতমকে। অশ্রুসজল চোখে গৌতমকে কাছে ডেকে বলেছিলেন : " চল আজকের দিনটা আমরা গুরু শিষ্য দুজনেই আজীবন মনে রেখে দিই। আর এটাই তোকে মাঠে সর্বদা তাড়া করে বেড়াক যে, তুই প্রতিজ্ঞা করবি যে এর পরের খেলাটা মাঠে এমন খেলব যে সেই খেলার জোরে প্রচুর রোজগারের টাকায় প্রদীপদাকে একদিন ফাইভ স্টার হোটেলে নেমন্তন্ন করে ডিনার খাওয়াব." একথা শুনে পিকের সাথে গৌতম ও তাঁর বাড়ির অন্যান্য সদস্যরাও তখন কাঁদছেন।

পিকে ছিলেন ভারতের অলিম্পিক ফুটবল দলের অধিনায়ক, ৬২ র এশিয়াড জয়ী দলের অন্যতম সদস্য এবং শেষবারের মত দেশকে এশিয়াড পদক এনে দেওয়া কোচ। এছাড়া কলকাতার ক্লাব ফুটবলের সফলতম প্রশিক্ষক তো বটেই যাঁর গোটা জীবনটা ই একটা মোটিভেশন, ডিসিপ্লিন এবং ম্যানেজমেন্ট দিয়ে মোড়া। গৌতম ভট্টাচার্য এবং সুপ্রিয় মুখোপাধ্যায়ের সম্পাদনায় বইটি এক অনন্য মাত্রায় উন্নীত হয়েছে।

প্রকাশের পরেই অতিক্রম করেছে দুটি সংস্করণ। পিকে ব্যানার্জি কে নিয়ে লেখা বই "গুরু"। 


আমাজন লিংক : https://amzn.to/3W8hsFv


আমাদের মাধ্যমেও বইটি পেতে পারেন সহজেই , সঙ্গে ছাড় তো থাকবেই। 9831930921 নম্বরে হোয়াটসআপ করে আজই আপনার কপিটি অর্ডার দিন।

ধনী,,,,,,লেখায় : সুমিতা দাশগুপ্ত

 ~ধনী~


"হ্যালো,হোটেল রিসেপসান থেকে বলছি। স্যার,  একটি স্থানীয় মাছধরা জেলে, অনেকক্ষণ ধরে এসে বসে আছে, আপনাদের সঙ্গে দেখা করতে চায়। বলছে কী নাকি খুব একটা জরুরি দরকার।"

"আমাদের সঙ্গে আবার কিসের দরকার! না, না আমাদের কারো সঙ্গে কোনও দরকার নেই। বলুন এই ভরদুপুরে আমরা কারও সঙ্গে দেখা করবো না।"

"না স্যার, দুপুরে নয়, ওরা প্রায় সেই সকাল সাড়ে দশটা থেকেই এসে বসে আছে। প্রথমে তো ভাগিয়েই দিয়ে দিয়েছিলাম, কিন্তু ওরা নাছোড়বান্দা।"

"বসে আছে মানে? না না আমরা কারুর সঙ্গে দেখা করবো না। আমাদের মনমেজাজ ঠিক নেই। "

"বলেছি স্যার সব বলেছি। 

কতোবার  তো একই কথা বললাম।  কতবার বোঝালাম, স্যার,  ম্যামের মনখারাপ, ওঁরা কারো সঙ্গে দেখা করবেন না। ডাইনিংরুমে খেতেও নামছেন না, রুম সার্ভিস, ঘরে গিয়ে লাঞ্চ, ডিনার ব্রেকফাস্ট সব কিছু পৌঁছে দিয়ে আসছে, আর তাঁরা কিনা  তোমার কথায়, দোতলা থেকে একতলায় নেমে রিসেপসানে আসবেন তোমাদের সঙ্গে দেখা করতে! তবুও স্যার, ওরা কিছুতেই কিছু মানতেই চালছে  না। গোঁ ধরে বসে আছে। কেবলই বলে চলেছে, কী নাকি খুব জরুরি একটা দরকার।  

 ছেঁড়া ফতুয়া আর ময়লা ধুতি পরা একটা লোক যদি, বৌ, বাচ্চা সমেত, আমাদের এই ঝাঁ চকচকে  রিসেপসানের মেঝেতে বসে থাকে, তা হলে আমাদের কী  অবস্থা হয় ভাবুন তো । আমাদের রেপুটেশানের তো বারোটা বেজে যাবে।"

"তা বসে থাকতে দিচ্ছেনই বা কেন! ভাগিয়ে দিন। আপনাদের দারোয়ান নেই?"

"হ্যাঁ স্যার, তাই করেছি। যেতে কী চায়। এই ঠা ঠা রোদ্দুরেও রাস্তার ওপারে, পাঁচিলের এক পাশে বসেই আছে। বলছে খুব দরকার, দেখা না করে নাকি নড়বেই না। আরও বলছে, পাঁচ মিনিটের বেশি সময় নেবে না। তাতে যদি সারারাতও রাস্তায় বসে থাকতে হয়, তাই থাকবে। ব্যাপারটা একটু যদি বোঝার চেষ্টা করেন স্যার। সম্ভব হলে একবার কথা বলে ব্যাপারটা যদি মিটিয়ে নেওয়া যায়...।"

" বুঝেছি, বুঝেছি। আরে বাবা, গতকাল সমুদ্রে স্নান করতে গিয়ে আর একটু হলে যে দুর্ঘটনাটা  ঘটে যেতে পারতো, মানে আপনাদের ম্যাডাম আর একটু হলেই, মানে ওই নুলিয়াটারই জন্যেই বেঁচে ফিরেছেন আর কী। তা সেটা তো আর অস্বীকার করছি না!  কালই তো ওকে, টাকাপয়সা  দিয়ে খুশি করে দিতে চেয়েছিলাম, ইয়ে মানে যতটা সম্ভব আর কী! বলতে গেলে সাধাসাধিও করা হলো, তখন তো নিল না কিছুতেই। উল্টে বড়ো বড়ো জ্ঞানের কথা বললো।  মানুষের প্রাণ ঈশ্বরের দান, রাখলে নাকি তিনিই রাখেন। ও তো নিমিত্ত মাত্র! প্রাণ বাঁচানো নাকি পুণ্যের কাজ! তা আজ আবার কী হলো!  আফশোষ হয়েছে বুঝি! তা বেশ তো, ডেকে আনো ওকে, দেখি কত টাকায় রফা হয়!"


 হোটেলের লোক রাস্তার ওপার থেকে ওদের ডেকে আনতে  গেছে। হুঁহ্ মহান হওয়া যেন অতোই সোজা! অবশ্য কিছু টাকা দিয়ে দিতে পারলে ভালোই হয়, ঋণের বোঝাটা একটু হ্ হালকা হয় যদি, আফটার অল তার স্ত্রীর প্রাণটা তো বাঁচিয়েছে।  যদিও  সেভাবে ভেবে দেখলে ক'টা টাকায় প্রাণের মূল্য হয় না, তবুও  অত ভাবলে কি আর চলে!"

কালকের সেই  নুলিয়াটা, তার স্ত্রী  তাদের বাচ্চা ছেলেটাকে নিয়ে এসে  দাঁড়িয়েছে। 

" শুনলাম সকাল থেকেই বসে আছো। তা কী কী বলবে বলো।"

 "ম্যাডাম কোথায় ?"

"আবার ম্যাডামকে কী দরকার, যা বলার আমাকেই বলো না! "

"না স্যার, ওঁকেও দরকার।"

মেজাজটা ক্রমশ চড়ছে।  তাঁর স্ত্রীর প্রাণটা বাঁচিয়েছে বলে মাথাটা কিনে নিয়েছে যেন! হঠাৎ সচেতন হলেন, নাঃ এভাবে ভাবাটাও ঠিক না। দেখাই যাক না কী বলে। মোটাসোটা, দাঁও মারতে এসেছে সে বিষয়ে এখন আর কোনও সন্দেহই নেই, তবে আবার ম্যাডামকে  কেন! প্যাঁচ কষছে সে তো বোঝাই যাচ্ছে। তার স্ত্রীর মনটা আবার বড্ড নরম। বড়ো কোনোও প্রতিশ্রুতি দিয়ে না বসে। নাঃ মাথাটা ঠান্ডা রাখা দরকার। একটা রফা তো করতেই হবে। 


     মোবাইলে স্ত্রীকে, ডেকে পাঠালেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই নেমে এলেন তিনি। মুখটা একেবারে শুকিয়ে গেছে। হবেই তো কাল যা  মানসিক ধকল গেছে, প্রাণটা কোনওমতে বেঁচেছে তাই না কতো! সেই মুহূর্তগুলো মনে আনতে চান না মোটেও তবুও যতোই জোর করে সরাতে চান, কিছুতেই যেন সরে না, তার উপরে  দিদিশ্বাশুড়ির দেওয়া পাঁচভরির সোনার চেনটাও গেছে। কলকাতায় তো আর সাহস করে পরা হয় না, ভেবেছিলেন বেড়াতে এসেই না হয় ক'টা দিন একটু গলায় ঝোলাবেন। সমুদ্রের স্নানের সময় খুলে রেখে যেতে ভুলে গেছিলেন। সেটা গলাতেই ছিলো। আসলে হঠাৎ ঢেউয়ের টানে যে এভাবে ভেসে যাবেন তা কি ভেবেছিলেন! প্রাণে বাঁচার ধস্তাধস্তির সময় কখন যে খুলে পড়ে গেছে, নাকি ওই জল খেয়ে অজ্ঞান হয়ে পড়ে থাকার সময়ে যখন পেটে চাপ দিয়ে জল বের করছিল  লোকটা, তখন ও-ই  টেনে  নিল!  তাই মনে হয় কোনো বখশিশ নিতে চায় নি! আর ভাবতে পারেন না। শরীরটা যেন আর চলে না, কোনওমতে নীচে রিসেপশনে এসে দাঁড়ালেন। 

"এবার তাড়াতাড়ি বলো তো কি বলার আছে। আমাদের শরীর, মন কোনটাই ভালো নেই।"

 এবার নুলিয়ার বৌটি সামনে এগিয়ে এলো , তারপর  কোল আঁচলের খুঁটে বাঁধা একটা ময়লা কাগজের ঠোঙা বের করে তার হাতে দিয়ে, নিজস্ব ভাষায় বললে, 

"দেখে নাও, তোমার জিনিস ঠিক আছে কিনা।" 

 মোড়কটি খুলতেই ঝিকিয়ে উঠলো সেই পাঁচভরির হার। হতভম্ব হয়ে সবাই চেয়ে রইলো, মলিনবেশী শীর্ণকায়া  দরিদ্র সেই মহিলাটির মুখের দিকে। 

"কোথায় পেলে," 


স্খলিতকন্ঠের কথাগুলো যেন ভেসে এলো কোন সুদূর হতে। 


"আজ সকালে আমরা, হাঁড়ি নিয়ে ঢেউয়ে ভেসে আসা মাছ ধরছিলাম, আমাদের ছেলেটা তীরের কাছাকাছি দাঁড়িয়ে ঝিনুক তুলছিলো। হারটা বালির মধ্যে গেঁথে গিয়েছিল তো, সামান্য একটু অংশ বের হয়ে ছিল,তখনই ওর নজরে পড়ে। বালি খুঁড়ে বের করে আমাকে দেখায়। আমি দেখেই চিনতে পেরেছিলাম। কাল তোমার গলায় ছিলো তো, আর তোমরা যে এই হোটেলে উঠেছো, সেটাও কাল তোমাদের এখানে পৌঁছে দেবার সময়  দেখে গেছিলাম। ভাগ্যিস! যাক্ যার জিনিস, তাকে ফিরিয়ে দিতে পেরে বাঁচলাম।  বড্ডো দুশ্চিন্তায় ছিলাম। আসি তাহলে!"


পড়ন্ত সূর্যকে পিছনে ফেলে ওরা তিনজন হেঁটে  ফিরে যাচ্ছিলো। ওদের ছায়াগুলো দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হচ্ছে। হোটেলের সিঁড়িতে হতভম্ব হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষগুলো নিশ্চুপে শুধু চেয়েছিল সেইদিকে। কারুর মুখে কথা সরছে না। তারা শুধু দেখছিল  তিনটি প্রকৃত ধনী মানুষ, এগিয়ে যাচ্ছে। পিছনে পড়ে থাকছে তাদের দীর্ঘ ছায়া। 

লেখায় : সুমিতা দাশগুপ্ত

 কবি বন্দে আলী মিয়া।

 কবি বন্দে আলী মিয়া।


"বর্ষার  জল  সরিয়া  গিয়াছে  জাগিয়া  উঠেছে  চর

গাঙ  শালিখেরা  গর্ত  খুঁড়িয়া  বাঁধিতেছে  সবে  ঘর৷


গহীন  নদীর  ঐ পাড়  দিয়া  আঁখি  যায়  যত  দূরে

আকাশের মেঘ  অতিথি  যেনোগো  তাহার  আঙিনা জুড়ে ....".


 এক নবীন  কবির  কবিতা" ময়নামতির চর" ৷

 তিনি দুরুদুরু  বুকে  পাঠিয়েছেন আর  এক  কবির  কাছে৷নবীন কবি বন্দে আলী মিয়া। আর অন্য কবির নাম রবীন্দ্র নাথ ঠাকুর।


আষাঢ়ের  জলভরা  মেঘের  দুপুর৷সামনে  শান্তিনিকেতনের  ভূবনডাঙার  খোলা মাঠে  বৃষ্টির খেলা  দেখতে  দেখতে  "ময়নামতির  চর"  পড়ছেন  কবিদের যিনি   কূলগুরু৷  বারবার কবিতাটি পড়েও যেনো পড়া হয়না ...এমনই মনোমুগ্ধকর!  এক  সময়  কলম টেনে  নেন  তিনি....৷নবীন  কবির প্রতি  তাঁর   আবেগ  তিনি  গোপন  রাখতে  না  পেরে চিঠি   লিখতে  শুরু  করেন—


 "...পদ্মাতীরের পাড়াগাঁয়ের এমন নিকট স্পর্শ  বাংলা  ভাষায়  আর  কোনো  কবিতায়  পেয়েছি  বলে   আমার   মনে  পড়ছে না৷বাংলা সাহিত্যে  তুমি আপন বিশেষ  স্থানটি  অধিকার  করতে  পেরেছ..."


নবীন  কবি   'বন্দে  আলী মিয়া পাবনার  রাধানগর  গ্রামে১৯॰৬ সালে  জন্ম৷  'দুখু'  কবির  মতই  অল্প বয়সে  বাবার  মৃত্যু৷ মা  গ্রামের  'মজুমদার  একাডেমি'তে ছেলেকে  ভর্তি  করিয়ে  দেন৷

এরপর  সম্পূর্ণ  নিজের  চেষ্টায়    তিনি  লেখাপড়া  চালিয়ে  যান৷  ১৯৩০ সালে  ২৫বছর  বয়সে কলকাতার  একটি  বিদ্যালয়ে  চাকরিও  যোগাড়  করে  নেন৷

এই সব  গুরুগম্ভীর  কথা,   পড়ে  জেনেছি  -অনেক  পরে৷ 


রবীন্দ্রনাথের  প্রিয়  কবিতাটি আমার  নিজের ছোটো দাদারও অনেক  ভালো লাগতো ৷ দরজা  ছিলনা  আমাদের   চিলেকোঠার  ঘরে৷খোলা ছাদের পাঁচিলের  ঐধারে  সারি সারি  গাছ-গাছালি৷সেখান  থেকে  ছুটে  আসত  দামাল  হাওয়া৷ সু এবং  উচ্চ স্বরে  এই কবিতাসহ  আরো অনেক কবিতা  দাদা পড়ত-পাঠ্যছিল  যে৷


 পাঠ্য নয়,তবু শুনতে  শুনতে   আমারও  মুখস্থ  হয়ে  যেতো  এক  সময়৷বড় ভাইবোনদের  জামা-কাপড়-জুতোর মতন একদিন    বইগুলোও আমরা   পেতাম  দু'এক  বছরের  ব্যবধানে৷    তার  অনেক  আগেই  অবশ্য  পড়া  হয়ে  যেতো  তাদের  ক্লাসের  বাংলা বইএর  গল্প  কবিতা৷ 


আমাদের   বাড়িময়  ছিল আম-জাম,কাঁঠাল- ডুমুর,কদম - লেবু আরও  নানান  গাছের ছড়াছড়ি৷যে  যার  মতন  দাঁড়িয়ে  থাকত৷   সকাল  সকাল  ঘুমানোর  জন্যে  ভোর ভোর  ঘুম  ভেঙে  যেতো৷কাঠ কয়লা  দিয়ে দাঁত  মাজতাম  আর   মুখ  ধুতাম  পুকুরের  জলে ৷


অত  ভোর-  তখনও পুকুরের  জলের  সর  ভাঙেনি৷ উত্তর কোণের ডুমুর গাছের পাতারা   ছায়া নামতো সেই জলে৷ ভয় আর ভাবহীনতায়  দেখতাম  দোয়েল আর কুবো পাখির আলসেমি..৷একটু  পরেই  বারান্দায়  পড়তে  বসেই প্রথমেই   মুখস্থ যত কবিতার  মহলা দিতাম -বারবার৷সু উচ্চ স্বরেই৷


আক্ষরিক  অর্থেই  খুব সকাল অর্থাৎ জীবনেরও সেই প্রথম লগনে যে সব কবিতা পড়েছি, সেখানে রবি বা দুখু কবির কবিতা থেকে অন্যদের কবিতার স্মৃতি অধিক স্পষ্ট৷ মাটির কাছাকাছি সে সব কবিতা,সবুজের গন্ধমাখা৷হৃদয়ের বড় আপন...


আমাদের  ছোটগাঁয়ে, ছোটছোট ঘর,

থাকি সেথা সবে মিলে নাহি কেহ পর৷ 

..........

আমগাছ জামগাছ,বাঁশঝাড় যেনো

মিলেমিশে আছে তারা, আত্মীয় হেনো৷


পাঠ্যের সাথে প্রকৃতির ,আরও ভাল করে বললে জীবনের প্রতিটি বিষয়ের সাথে এমন মিল থাকায় কবিতাগুলো আজও প্রায় কন্ঠস্থ৷আর  সেই কবিদের মধ্যে অন্যতম  'বন্দে  আলী  মিয়া'৷


পদ্মাচরের দৃশ্যকাব্য 'ময়নামতীর চর'৷

রং তুলি  দিয়ে যেমন  ছবি আঁকা হয়,কবি তাঁর এই  প্রথম কাব্যগ্রন্থটিকে  শুধু কলম দিয়েই  ছবির  আঁকার  সেই অসাধ্যকে সাধ্য করে তুলেছেন৷ বাস্তব  জীবনের  কাব্য ধর্মের   সে  এক মনোগ্রাহী মেল-বন্ধন ৷কবিতা,অথচ  বুঝবার  জন্যে  ব্যাখ্যা-টীকা-টিপ্পুনি-শব্দার্থ সব কিছুই অপ্রয়োজন৷চারপাশে তাকাও  আর  কবিতার  বাহার দেখো...


কবিতার উপকরণ  যৎসামান্য,গাঁয়ের আলাভোলা  সহজ-সরল  নির্দোষ এক জীবনের  জলছবি!  মাঠের পাশে  একা দাঁড়িয়ে থাকা প্রাচীন বটগাছ, শালিখের  গর্ত করা,পায়ে চলার  মেঠো পথ৷ নিরিবিলি- নিঝুমতায়  কবির কেটেছে সকাল-সন্ধ্যা-দুপুর ৷  আলো দিয়ে বায়ু দিয়ে বাঁচানো  প্রাণ,   আর  জল  ভরা  দিঘির সাহচর্যে..তারই প্রতিফলন  কবিতাগুচ্ছে৷  যা  মনকে  স্নিগ্ধ  করতে  বাধ্য-সকল  হিংসার  বিরুদ্ধে  প্রদীপ  জ্বেলে৷গুরুর  আর্শীবাদ  মিথ্যে  হয়নি৷ বাংলা  সাহিত্যে  তাঁর  স্থান  বিশেষ  জায়গাটি  কেউ  নিতে  পারেননি৷


শিশু মনে  সেই যে   স্নিগ্ধতার  আনন্দ জেগেছিল  তাঁর কবিতায়, তার অভিঘাত  ছিল  গোপন৷  যার  জন্যে  সারা  জীবনে  আধুনিক  কবিতা আর  পড়তেই  ইচ্ছে  করল না -বুঝতেও  পারলাম না!


বর্ষাকে  কবি  ভালবাসতেন৷ এমনই এক  আষাঢ়ে  চলে  গিয়েছিলেন  তিনি৷  নতুন দিনের  কবিদের  প্রতি তাঁর  বিশ্বাস ছিল—


"তোমরা  লিখিও  নতুন  কাব্য 

ওগো  আগামী  দিনের  কবি,

তোমাদের  লেখায়  ফুটে  ওঠে  যেনো  

এই  গ্রাম  বাংলার  ছবি৷"

নতুন  কবিদের  কবিতায়  গ্রাম  বাংলার   দর্পন  কতটা  স্পষ্ট  জানা নেই৷ কিন্তু -


এক  অখ্যাত    গ্রামের  বালিকা৷  আপনার  কবিতা  পড়েছিল  একদিন৷  যে  কবিতার  প্রতিটা  শব্দে  গ্রাম-বাংলার  ছবি  তুলে  ধরা৷আপনার  অনেক  কবিতা  আজও  তার  মুখস্থ৷একজন  গুনমুগ্ধ  পাঠিকা  আপনাকে  স্মরন  করছে৷


নিশ্চয়  আগামীর  কোনো  বালিকাও  একই  রকম  ভালোবেসে  পড়বে  আপনার  কবিতা৷


সৌজন্যে: তপতি বসু/ বাংলাদেশের দুষ্প্রাপ্য ছবি সমগ্র



রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা। রবীন্দ্রসংগীতের জগতে এক অনন্য নাম। ১৯৫৭ সালে আজকের দিনে জন্মগ্রহণ করেন রংপুর, বাংলাদেশে।

 রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা। রবীন্দ্রসংগীতের জগতে এক অনন্য নাম। ১৯৫৭ সালে আজকের দিনে জন্মগ্রহণ করেন রংপুর, বাংলাদেশে।


তাঁর গান যেমন আমাদের মুগ্ধ করে, তেমনই তাঁর জীবন ও দর্শন আমাদের গভীরভাবে ভাবতে বাধ্য করে। এই মুগ্ধতা কোনো ক্ষণিক উচ্ছ্বাস নয়; বরং এটি বোধের গভীরে এক অন্তর্লীন অনুভূতি। তাঁর গান শুনলেই বোঝা যায়, তিনি কোথায় আলাদা, কোথায় অনন্য।


শুধু গভীর সাধনা বা বিরল গানগুলোকে নতুন করে পরিবেশন করাই নয়, এই সময়ের বিকৃত চটকদার পরিবেশনের বিপরীতে দাঁড়িয়ে রবীন্দ্রনাথের গানের শুদ্ধতাকে আগলে রাখা এবং সেই সঙ্গে রবীন্দ্রদর্শনকে বিশ্বমঞ্চে প্রচার করা—এ যেন এক বিস্ময়ের অধ্যায়।


রবীন্দ্রসংগীত তাঁর কাছে কখনোই কোনো প্রদর্শনীর বিষয় নয়। এটি তাঁর অন্তরের সাধনা, "তাঁর যাত্রাপথের আনন্দগান।" শান্তিনিকেতনের আচার্যদের সান্নিধ্যে তাঁর এই যাত্রা শুরু হয়েছিল কৈশোরে।

গুরু শ্রীমতী কণিকা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তত্ত্বাবধানে যে পথচলা শুরু, আজও তিনি সেই গুরুপরম্পরাকে বহন করছেন। ১৯৯২ সালে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন "সুরের ধারা," যা তাঁর নিবিড় পরিচর্যায় আজ মহীরুহে পরিণত। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত ও নৃত্যকলা বিভাগের অধ্যাপক এবং Chairperson হিসেবে তাঁর ভূমিকা অগ্রগণ্য।


২০১৯ সালে তিনি Asian University of Women থেকে সম্মানসূচক Doctor of Arts ডিগ্রি অর্জন করেন, যা তাঁর শিল্পীজীবনের এক উল্লেখযোগ্য স্বীকৃতি। ২০২১ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। তাঁর গবেষণাপত্রের শিরোনাম ছিল: "রবীন্দ্রসংগীতের দুই পর্ব: নদীতীরে এবং শুষ্ক মাটিতে।"


রবীন্দ্রনাথের জন্ম সার্ধশতবর্ষে তিনি সম্পূর্ণ "শ্রুতি গীতবিতান" সংকলনের কাজ সম্পন্ন করেন। এটি শুধু একটি সংকলন নয়, এটি তাঁর অক্লান্ত পরিশ্রমের উদাহরণ। বন্যা সারা পৃথিবীজুড়ে রবীন্দ্রনাথের গান প্রচার করেছেন। ভারত, বাংলাদেশ, যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশে তাঁর অনুষ্ঠান হয়েছে। এমনকি জার্মানির ডয়চে ভেলেতে রবীন্দ্রসংগীত রেকর্ড করাও একটি তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা।


শতাধিক সুবিধাবঞ্চিত শিশুকে তিনি "Music for Development" প্রকল্পের মাধ্যমে সমাজের মূলস্রোতে ফিরিয়ে এনেছেন। তাঁর এই উদ্যোগ কেবল গানের চর্চাই নয়, এটি জীবনের প্রতি তাঁর গভীর মানবতাবোধের প্রতিফলন।


রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা তাঁর শিল্পীজীবনে অসংখ্য সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান "স্বাধীনতা পদক," পশ্চিমবঙ্গ সরকারের "বঙ্গভূষণ," "রবীন্দ্র পুরস্কার," এবং ভারত সরকারের "পদ্মশ্রী।"


তাঁর জীবন যেন এক বহমান স্রোত। প্রতিযোগিতার এই যুগেও তিনি থেকে গেছেন সমালোচনার ঊর্ধ্বে, নিজের দর্শন আর আদর্শের প্রতি অটল। বন্যার জীবন ও শিল্প আমাদের শেখায়, লক্ষ্য কখনো গন্তব্যে পৌঁছানো নয়। বরং তিনি রেখে যান এমন পায়ের ছাপ, যা দেখে আগামী প্রজন্ম এগিয়ে যাবে।

_________________________________

পৃথিবীর সবচেয়ে বিষধর সাপের কামড়ে হাতি মারা যায়, কিন্তু একটা প্রাণী মরে না। 🍁

 পৃথিবীর সবচেয়ে বিষধর সাপের কামড়ে হাতি মারা যায়, কিন্তু একটা প্রাণী মরে না। 🍁


প্রাণীটির নাম ঘোড়া। সাপের কামড়ে কোনদিন ঘোড়া মরে না। তিনদিন অসুস্থ থাকে। তারপর সুস্থ হয়ে যায়। আর এই ঘোড়া থেকে আসে দুনিয়ার সব সাপের বিষের প্রতিষেধক anti venom


কোনএকটি সাপ, ধরেন কিং কোবরা’র anti venom তৈরি করতে হলে যা করা লাগে তা হল, ওই সাপের বিষ ঘোড়ার শরীরে ঢুকিয়ে দিতে হয়। একগাঁদি পরিমাণ ঢুকালেও সমস্যা নেই। ঘোড়ার কিছু হবে না। কিছু হবে না বলতে, ঘোড়া মরবে না।


ঘোড়া তিনদিন অসুস্থ থাকবে। এরপর সুস্থ হয়ে যাবে। এই তিনদিনে ঘোড়ার রক্তে ওই সাপের বিষের anti venom তৈরি হয়ে গেছে।


এবার ঘোড়ার শরীর থেকে কিছু পরিমাণ রক্ত নিয়ে তার লাল অংশ আলাদা করা হয়। সাদা অংশ অর্থাৎ ম্যাট্রিক্স থেকে অ্যান্টি ভেনাম আলাদা করা হয়। এরপর তা প্রক্রিয়াজাত করে বাজারে পাঠানো হয়।


মানুষ’কে সাপে কামড়া’লে ডাইরেক্ট ইনজেকশন দিয়ে পুশ করা হয়।


খোদ ইন্ডিয়াতে গাদা গাদা অ্যান্টি ভেনাম প্রস্তুতকারক কোম্পানি আছে। পালের পর পাল ঘোড়া তাদের মূল সম্বল। ঘোড়া না থাকলে সাপের কামড় খেয়ে মানুষের আর বাঁচা লাগত না। এক ছোবলে ডাইরেক্ট উপরে।


فَبِأَىِّ ءَالَآءِ رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ


"অতএব, তোমরা উভয়ে তোমাদের পালনকর্তার কোন কোন অনুগ্রহকে অস্বীকার করবে?" 💚


(সূরাহ আর-রহমান,আয়াত-১৩)

সংগৃহীত

এত অপমান এত দুঃখও কবি নীরবে মুখ বুজে সহ্য করেছেন। রবীন্দ্রনাথের "দেনাপাওনা " গল্পের সেই করুণ কাহিনি অনেকের মনে আছে নিশ্চয়?

 এত অপমান এত দুঃখও কবি নীরবে মুখ বুজে সহ্য করেছেন।

রবীন্দ্রনাথের "দেনাপাওনা " গল্পের সেই করুণ কাহিনি অনেকের মনে আছে নিশ্চয়?

শুধু বরপণের টাকা শোধ করতে পারেননি বলে রামসুন্দর মিত্র মেয়ে নিরুপমাকে জীবনে নিজের বাড়িতে আনতে পারলেন না।

মেয়ে আর ঘরে এল না।

মেয়ের মরা খবর একদিন বাবার কাছে এল!

"দেনাপাওনা" - র গল্প যে কবির জীবনেও একদিন অনেকটাই মিলে যাবে কবি কি সেদিন ভেবেছিলেন?

কবির জ্যেষ্ঠকন্যার নাম ছিল মাধুরীলতা।

কবির সব থেকে আদরের মেয়ে "বেলা"।

কিন্তু বড়ই দুঃখের বিষয় কবি একান্ত নিরুপায় হয়ে বেলার বাল্যবিবাহ দিয়েছিলেন।

বিয়ে হয়েছিল কবি বিহারীলাল চক্রবর্তীর ছেলে শরৎকুমারের সঙ্গে।

কবিকে এই বিয়েতে মোটা টাকা বরপণও দিতে হয়েছিল।

কবি সারাজীবন এই কাজের জন্য নিজেকে ক্ষমা করতে পারেননি।

জীবনে অনেক কিছুই আমাদের নিজের হাতে থাকে না।

এরপরে কবি নিজের পয়সা খরচ করে জামাইকে বিলেতে পড়তে পাঠান।

এরপরেও কবির কাছ থেকে নানা উপায়ে শরৎকুমার টাকা চাইতে লাগল।

এ কাজে এবার সে স্ত্রী বেলাকেও সঙ্গী করল।

যে বেলা বাবার এত আদরের ছিল সেই বেলার কিভাবে এত পরিবর্তন হয়ে গেল কবি ভেবে পেলেন না!

বেলার শ্বশুর বাড়িতে গেলে জামাই কবিকে নানাভাবে অপমান করতো।

এবার শরৎকুমারের নতুন আবদার তাকে একটা মোটরগাড়ি কিনে দিতে হবে।

কবির তখন দারুণ অর্থকষ্ট চলছে। কোথায় পাবেন এত টাকা?

এরপর একদিন খবর এল যে বেলার টি বি হয়েছে।

কবি শোনামাত্র শান্তিনিকেতন থেকে কলকাতায় এলেন।

কবি রোজ মেয়েকে দেখতে যেতেন।

কেউ কবির সঙ্গে কথা বলত না।

মোটরগাড়ি পায়নি বলে,জামাইয়ের মেজাজ গরম।

রবীন্দ্রনাথ হয়'ত এসে বেলার কাছে এসে বসেছেন এমন সময় জামাই শরৎকুমার ঘরে ঢুকল।

সামনে রাখা টেবিলের ওপর পা তুলে বসল।

কবির সামনে ঘরের মধ্যে সিগারেটের রিং ছাড়তে ছাড়তে পায়চারি করতে লাগল।

কবির সঙ্গে কেউ কথা বলতো না।

কবি শুধু নিথর হয়ে বসে থাকতেন।

মেয়ে না? রক্তের টান।

তারপর কিছুক্ষণ পর " আসছি মা"

বলে আস্তে আস্তে মাথা নিচু করে ঘর থেকে বেরিয়ে যেতেন।

মাত্র বত্রিশ বছরে বেলা চলে গেল কবির বুক খালি করে।

হয়'ত বাতাস সেদিন কাঁদতে কাঁদতে গাইছিল ..

"এই করেছ ভালো, নিঠুর, এই করেছো ভাল।

এমনি করে হৃদয়ে মোর তীব্র দহন জ্বালো। "

★প্রশান্তকুমার পালের "রবিজীবনী " ও আরো কিছু বই পড়ার স্মৃতি এবং "দেনাপাওনা" গল্পটির সঙ্গে কল্পনা মিশিয়ে লিখলাম এই লেখা।

লেখায় একটু স্বাধীনতা নিয়েছি, তথ্যের প্রতি বিশ্বস্ত থেকে।


কলমে পীযূষ দত্ত

নড়াইল জেলার  লোহাগড়ার ইতনার পরীর খাটের ইতিহাস ---

 নড়াইল জেলার  লোহাগড়ার ইতনার পরীর খাটের ইতিহাস --- পরীর খাটটি বাংলাদেশের জাদুঘরে দেখে থাকলেও ইতিহাস আমরা অনেকেই জানি না। নাটোরের মহারানী ভব...