এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

বুধবার, ১৫ জানুয়ারি, ২০২৫

বিয়ের আগে কিভাবে পাত্রীর খোজ নিবেন,,,,, ফেইসবুক থেকে নেওয়া

 ১. এলাকার মুরব্বিদের কাছে খোঁজ নিবেন। মেয়ের খারাপ অতীত থাকলেও তারা মিথ্যা বলবে না।


২. বিয়ের পূর্বে ফেসবুক আইডি নিবেন এবং ভালো করে ঘাঁটাঘাঁটি করবেন। যদি দেখেন আইডি নতুন খোলা তাহলে রিজেক্ট করবেন।


৩. নারীবাদী বিষয়ক এবং কোরআন হাদিস নিয়ে প্রশ্ন করবেন।


৪. ভার্সিটির মেয়ে যদি বলে অতীত একবারে ক্লীন তাহলে ওইটা প্রথমেই বাদ কেননা এটা অসম্ভব।


৫. মেয়ের পূর্বের রিলেশন থাকলেও কতটা গভীর ছিলো তা আগে জানবেন, মানসিক ভাবে বেশি গভীর হলে বিয়ের পরেও আপনার প্রতি মন থাকবে না আর শারীরিক সম্পর্ক থাকলে আরো আগেই বাদ। আমাদের মেয়েরা এগুলা লুকায়, আপনি কৌশলে চালাকি প্রশ্ন না করলে ধরতে পারবেন না।


৬. ভার্সিটির হোস্টেলের মেয়ে বিয়ে করলে রুমমেট দের থেকে খোঁজ নিলে প্লাস পয়েন্ট।


৮. অতীত জিজ্ঞেস করা হারাম, এই ধরনের হাদিস শোনাইলে রিজেক্ট করবেন।


৯. ভার্সিটির সদ্য হেদায়েত প্রাপ্ত মেয়ে কিছুতেই বিয়ে করবেন না।


১০. ফেসবুকে বেশি বেশি ইসলামী পোস্ট করা মেয়েদের থেকে এড়িয়ে চলবেন।


১১. মেয়ের বান্ধবীদের থেকে খোঁজ নিবেন না তাহলে আরো সুন্দর করে অতীত লুকাবে, শত্রুর থেকে ও নিবেন না।


১২. আকিদ্বা, ঈমান, পুরুষের একাধিক বিয়ের সম্মতি সম্পর্কে তার মতামত জেনে নিবেন।


১৩. আরেকটা হচ্ছে যে প্রতিষ্ঠানে পড়ালেখা করছে ওইখানের জুনিয়র সিনিয়রদের কাছে জিজ্ঞেস করবেন? এখানেই ৮০% তথ্য পাবেন। (টপিক গুলো অভিজ্ঞতা থেকে বললাম, কারো পছন্দ না হলে এড়িয়ে চলুন)


আপনি সৎ থাকলে আপনি অবশ্যই ভালো পাবেন। নিজে অসৎ থেকে সৎ খুঁজলে আপনার থেকেও অসৎ জুটবে।


সোর্স- পোস্ট এডা যে লিখছে তারে আমিও খুঁজতেছি 🐸


আমাদের বেরইল (দক্ষিণ পাড়া) জামে মসজিদে আগামী ১৮ জানুয়ারি ২০২৫ (শনিবার) ইসলামী ওয়াজ মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।

 প্রিয় ভাই,

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ।

আমাদের বেরইল (দক্ষিণ পাড়া) জামে মসজিদে আগামী ১৮ জানুয়ারি ২০২৫ (শনিবার) ইসলামী ওয়াজ মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।

প্রধান মেহমান: প্রখ্যাত আলেম ও ইসলামি চিন্তাবিদ, মাওলানা মাহমুদুল হাসান ফেরদাউস। (কুয়াকাটা) খতিব,ঝিলপাড় জামে মসজিদ,মুগদা ঢাকা।

বিশেষ আলোচক: মাওলানা মুফতী আব্বাস আলী। (বেরইল) ইমাম ও খতিব, হাজীগঞ্জ পৌরসভা মসজিদ চাঁদপুর।

আপনাকে এবং আপনার পরিবার কে মাহফিলে উপস্থিত থাকার জন্য আন্তরিক আমন্ত্রণ জানাচ্ছি। এই মাহফিল আমাদের ঈমানকে মজবুত এবং জীবনের সঠিক পথ নির্ধারণে সহায়তা করবে ইনশাআল্লাহ।


ওয়াসসালাম,

সভাপতি:  

বেরইল (দক্ষিণ পাড়া) জামে মসজিদ

মোবাইল-০১৯১৮৬৪২৫৫২

এগ্টভেড মেয়ে (১৩৯০–১৩৭০ খ্রিষ্টপূর্ব) ছিলেন নর্ডিক ব্রোঞ্জ যুগের একজন কিশোরী, যার ভালোভাবে সংরক্ষিত দেহাবশেষ ১৯২১ সালে ডেনমার্কের এগ্টভেডের বাইরে আবিষ্কৃত হয়

 এগ্টভেড মেয়ে (১৩৯০–১৩৭০ খ্রিষ্টপূর্ব) ছিলেন নর্ডিক ব্রোঞ্জ যুগের একজন কিশোরী, যার ভালোভাবে সংরক্ষিত দেহাবশেষ ১৯২১ সালে ডেনমার্কের এগ্টভেডের বাইরে আবিষ্কৃত হয়


। মৃত্যুকালে তার বয়স ছিল ১৬ থেকে ১৮ বছরের মধ্যে। তিনি ছিলেন স্লিম, উচ্চতা ছিল ১.৬ মিটার, তার ছোট, সোনালি চুল ছিল এবং নখগুলো ভালোভাবে ছাঁটা ছিল।ডেনড্রোক্রোনোলজি পদ্ধতিতে তার কবরের সময়কাল নির্ধারণ করা হয়েছে ১৩৭০ খ্রিষ্টপূর্ব।তার কফিনের ভেতরে মেয়েটি একটি বলদ-চর্মে মোড়ানো ছিল। তিনি একটি ঢিলা, ছোট হাতাওয়ালা টিউনিক পরেছিলেন যা কনুই পর্যন্ত আসত। তার কোমর খালি ছিল এবং তিনি একটি ছোট দড়ির স্কার্ট পরতেন। তার হাতে ব্রোঞ্জের বালা ছিল এবং তিনি একটি বড় সর্পিল নকশাযুক্ত ডিস্কসহ একটি উল দিয়ে তৈরি বেল্ট পরতেন। তার পায়ের কাছে একটি ৫ থেকে ৬ বছরের শিশুর দাহ করা দেহাবশেষ পাওয়া গেছে। তার মাথার পাশে একটি ছোট বার্চ বাক্স পাওয়া গেছে, যাতে একটি সুচ, ব্রোঞ্জের পিন এবং একটি চুল বাঁধার জাল ছিল।কফিন বন্ধ করার আগে তাকে একটি কম্বল এবং বলদ-চর্ম দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছিল। তার কবরের উপর ফোটা ইয়েরো ফুল (যা গ্রীষ্মকালের কবর নির্দেশ করে) এবং গম, মধু, বগ-মার্টল এবং কাউবেরি দিয়ে তৈরি একটি বালতির বিয়ার রাখা হয়েছিল। তার বিশেষ পোশাক, যা ১৯২০-এর দশকে আবিষ্কারের সময় আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল, এখন উত্তর ইউরোপে ব্রোঞ্জ যুগের সময়কালীন সাধারণ শৈলীর সেরা সংরক্ষিত উদাহরণ বলে জানা যায়। এগ্টভেড মেয়ের পোশাকের ভালো সংরক্ষণের কারণ ছিল স্থানীয় মাটির অম্লীয় পিটের অবস্থা, যা এই অঞ্চলে সাধারণ একটি অবস্থা। 

#ইতিহাসের_গল্প


সকাল ৭টার সংবাদ তারিখ ১৫-০১-২০২৫ খ্রি:।

 সকাল ৭টার সংবাদ

তারিখ ১৫-০১-২০২৫ খ্রি:।


আজকের সংবাদ শিরোনাম:


সমালোচনার মুখে যুক্তরাজ্যের আর্থিক দুর্নীতি বিষয়ক মন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করলেন টিউলিপ সিদ্দিক। 


চুরি যাওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে অন্তর্বর্তী সরকার।


বিদেশী বিনিয়োগ আকর্ষণে দেশের সকল বিনিয়োগ সংস্থাকে এক ছাতার নিচে আনার নির্দেশ প্রধান উপদেষ্টার।


প্রথম ধাপে আজ প্রধান উপদেষ্টার কাছে সংস্কার প্রস্তাব জমা দেবে চারটি সংস্কার কমিশন।


জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার আপিলের শুনানি শেষ - আজ রায় ঘোষণা।


এ বছরের জুলাই-আগস্টের মধ্যেই জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের আহ্বান বিএনপি’র।


দক্ষিণ আফ্রিকার এক স্বর্ণখনি থেকে ৩৬টি মৃতদেহ ও ৮২ জনকে জীবিত উদ্ধার।


রাজকোটে তৃতীয় ও শেষ একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ম্যাচে আজ মুখোমুখি হবে স্বাগতিক ভারত ও আয়ারল্যান্ড নারীদল।

মঙ্গলবার, ১৪ জানুয়ারি, ২০২৫

প্রবীর মিত্র স্মরণে: ঋত্বিক ঘটকের 'তিতাস একটি নদীর নাম'  ( ১৯৭৩) 🖼️

 প্রবীর মিত্র স্মরণে: ঋত্বিক ঘটকের 'তিতাস একটি নদীর নাম'  ( ১৯৭৩) 🖼️


ঋত্বিক চাইছিলেন ‘পদ্মা নদীর মাঝি’ নিয়ে ছবি করতে বাংলাদেশে এসে। চিত্রনাট্যও তৈরি ছিল। সে সময়ের তরুণ মুক্তিযোদ্ধা হাবিবুর রহমান খান যিনি ঋত্বিকের অনুগত একজন অনুরাগী, তিনিও চাইছিলেন তাঁর প্রযোজনায় ঋত্বিক বাংলাদেশে একটি ছবি করুন। তাঁর একটাই শর্ত, ছবির সকল অভিনয় শিল্পী ও কলাকুশলী হবেন বাংলাদেশের। ঋত্বিক সে শর্ত মেনে ঢাকা আসেন ‘পদ্মা নদীর মাঝি’ করার পরিকল্পনা নিয়ে। পরে ঘটনাচক্রে তাঁর হাতে পরে অদ্বৈত মল্লবর্মনের ২৯৫৬ সালে প্রকাশিত উপন্যাদ ‘তিতাস একটি নদীর নাম’। উপন্যাসটি তাঁকে এতটাই অভিভূত করে, তিনি তাৎক্ষণিকভাবে তাঁর পরিকল্পনা পরিবর্তন করে রাতারাতি তিতাসের চিত্রনাট্য রচনা করে ফেলেন। ঋত্বিকের কথায়, ‘পদ্মা ছেড়ে আমি তিতাসে চলে গেলাম’। তিতাস একটি নদীর নাম তৈরি হয় ১৯৭২ এর মার্চ থেকে ১৯৭৩ এর জুন পর্যন্ত সময়ে। ছবিটি বাংলাদেশে মুক্তি পায় ১৯৭৩ সালের ২৭ জুলাই এবং কলকাতায় মুক্তি পায় ১৯৯১ সালের ১১ মে তারিখে।


সিনেমাটি নদী তীরবাসী কিছু মানুষের সুখ-দুঃখ, উত্থান-পতনের রূপময় আলেখ্য। তিতাসের ওপর নির্ভরশীল মালো সমাজের সমস্ত দ্বন্দ্বের রূপায়ণ। সিনেমাটির নিয়ন্ত্রণী শক্তি রক্ত-মাংসের চরিত্রের মতো পরিবর্তিত হয়, কখনো প্রাণদাত্রী কলস্বিনী, সংবরিত স্রোত-উদাসিনী। এই নদীর ওপর মালো সমাজের জীবন-মরণ বাঁধা ছিল। ফলে নদী যখন শুকিয়ে গেল, তখন মালোদের যৌথ জীবনও ভেঙে গেল। অবশ্য সিনেমাটি শেষ হয়েছে নতুন জীবনের ইঙ্গিত দিয়ে।


 তিতাস একটি নদীর নাম চলচ্চিত্রটি বহুবিধ অর্থজ্ঞাপক বিশাল পরিসরে নির্মিত। উপন্যাসের ব্যপকতা পুরো এক সিনেমায় ধারণ করা সম্ভব না হলেও ঋত্বিক তার কাজের নিপুণতার পরিচয় দিয়েছেন। ঋত্বিক নৃতাত্বিক দৃষ্টিকোণ থেকে মানব সভ্যতার বিবর্তনের সমাজপাঠ হিসেবে উপস্থাপন করেছেন এ চলচ্চিত্রকে। একটি সমাজে সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক আগ্রাসন চালিয়ে সাম্রাজ্যবাদ কায়েমের যে বিশ্বজনীন অশুভ তৎপরতা, তা একটি ছোট্ট কৌমের ধীরে ধীরে ক্ষয়ে যাওয়ার মধ্য দিয়ে ঔপন্যাসিক এবং চলচ্চিত্রকার দুজনেই যুগপৎ তুলে ধরেছেন।


এই সিনেমা তৈরিতে খরচ হয়েছে তখনকার সময়ের ৮ লাখ টাকার কিছু বেশি। তবে তখন বাংলাদেশে একটি সিনেমা তৈরিতে খরচ হতো এক বা সোয়া লাখ টাকায়। পরবর্তীতে সিনেমাটি কাল্ট ক্লাসিকের মর্যাদা পায়।


 এতে অভিনয় করেছেন- কবরী, প্রবীর মিত্র, রোজী সামাদ, খলিল, আবুল খায়ের, গোলাম মুস্তাফা, ঋত্বিক ঘটকসহ অসংখ্য কিংবদন্তী অভিনেতা ও অভিনেত্রী। রাজার ঝি চরিত্রে কবরীর অভিনয় বহুল প্রশংসিত হয়।

কিংবদন্তি সুরকার ও সংগীত শিল্পী শ্যামল মিত্রের জন্মদিনে তাঁকে সশ্রদ্ধ প্রণাম জানাই 🙏🌹🙏🌹 (১৪ জানুয়ারি ১৯২৯) ♦️ইংরেজিতে যাকে বলে “লাভার বয় সং তা বাংলায় যদি কেউ কখনও গেয়ে  থাকে তবে সেই শিল্পীটি শ্যামল মিত্র

 🌹কিংবদন্তি সুরকার ও সংগীত শিল্পী শ্যামল মিত্রের জন্মদিনে তাঁকে সশ্রদ্ধ প্রণাম জানাই 🙏🌹🙏🌹 (১৪ জানুয়ারি ১৯২৯)


♦️ইংরেজিতে যাকে বলে “লাভার বয় সং তা বাংলায় যদি কেউ কখনও গেয়ে 

থাকে তবে সেই শিল্পীটি শ্যামল মিত্র। 'লাভ সং" বা প্রেমের গানের সঙ্গে লাভার বয় সং-এর চমৎকার দুরত্ব আছে এবং দুটিকে কোনো মতে গুলিয়ে ফেলা যায় না। 

ন্যাট কিং কোল, ফ্ল্যাঙ্ক সিনট্রা বা জিম রিভজ যা গাইতেন তাকে লাভ সং বলা হয়, কিন্তু ক্লিফ রিচার্ড, প্যাট বুন, এঙ্গেলবার্ট হাম্পারডিষ্ক বা কেরিয়ারের একেবারে প্রথম দিকে, 'লাভিং ইউ' পর্যাযের এলভিস প্রেসলি?

 উচ্ছল প্রথম যৌবন, খেয়ালখুশিতে ভরা, উষ্ণ প্রেমের মিঠে-নোনতা ওই গান কখনও প্রিয়ার কণ্ঠ জড়িয়ে গাওয়া হয়, কখনও প্রিয়াকে বিব্রত, রক্তিমাভা করার জন্য দুনিয়াকে শুনিয়ে । 

হিন্দিতে এরকম কিছু গান গেয়েছিলেন কিশোরকুমার, আরে “ও! ও! 

বার্নাডিন” জাতীয় গানের নকলে হেমন্তকুমার। 

কিন্তু বাংলা গানে এই চলনের একমাত্র ধারক ও বাহক ছিলেন শ্যামল মিত্র। 

➤রূপকথা

শ্যামলের আরও বড়ো কৃতিত্ব যে কিশোর বা হেমস্তরমতো বিদেশি ছাদে এই গান তাঁকে গাইতে হয়নি, বাংলা ভাষার জন্য লাভ বয় সং তিনি নিজেই উদ্ভাবন করেছিলেন। 

বাংলা ছায়াছবিতে প্রেমের গানে 

ক্ষেত্রে যে-চাহিদা ও মর্যাদা ছিল হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের ঠিক সেই চাহিদা ও মর্যাদা ওই বিশেষ ধরনের প্রেমের গানে তৈরি করে নিয়েছিলেন শ্যামল মিত্র। 

➤রূপকথা

কিন্তু এটাই তাঁর একমাত্র গুরুত্ব ছিল না। 

১৯৫৬-৫৭ থেকে ১৯৬৪-৬৫ অবধি নন-ফিল্মিক বাংলা গানে শ্যামল 

মিত্রর জনপ্রিয়তা হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের 

সমতুল্য ছিল। 

➤রূপকথা

সেই সময়ে অত্যন্ত ভালো গাওয়া ছাড়া হেমন্তবাবুর একটা বাড়তি গ্ল্যামার ছিল বোম্বাই ফিল্মের সঙ্গে সংযোগ, যা শ্যামল মিত্রর ছিল না। অথচ “সেদিনের সোনাঝরা সন্ধ্যা” 

“সারা বেলা আজি কে ডাকে', "গানে ভুবন ভরিয়ে দেবে ভেবেছিল একটি 

পাখি”, “আমার স্বপ্নে দেখা রাজকন্যা থাকে” “কার মনদ্রির বাজে রিনি ঝিনি 

ঝিনি', তুমি আর আমি শুধু জীবনের খেলাঘর”, “দোলে দোদুল দোলে 

দোলনায়” “ডেকো না মোরে, ডেকো না গো আর" ইত্যাদি অসংখ্য ফিল্ম ও বেসিক রেকর্ডের গান যে কী ভীষণ জনপ্রিয় ছিল এক সময় তা বলে বোঝানো অসম্ভব। 

➤রূপকথা

পঞ্চাশের দশকে যখন শ্যামল জনপ্রিয়তার তুঙ্গে তখন 

জলসা আলো করার মতো এক অসাধারণ রম্য, রোমান্টিক চেহারাও ছিল ওর। টিকলো নাক, কোঁকড়া চুল, আয়ত ভাসা-ভাসা চোখ ও আকর্ষণীয় 

মাজা গায়ের রঙের সঙ্গে ওঁর ব্যক্তিগত সম্মোহন কাজ করত একটা গম্ভীর 

আনুনাসিক কণ্ঠধ্বনিতে। যে-ধবনি তাঁর গানেরও মহৎ সম্পদ ছিল। শুনলেই 

মনে হত ভদ্রলোক বোধহয় নস্যি নেন। তা তিনি নিতেন কি নিতেন না জানা 

না থাকলেও এইটুকু সারাক্ষণ টের পেতাম যে ওঁর ওই নেজাল টোনে জাদু 

আছে। আমাদের পুরোনো ক্রিক রো পাড়ায় ভানু বোসের বিখ্যাত জলসায় 

শ্যামল ছিলেন স্টার আ্যট্রাকশন নাম্বার ওয়ান। অত্যত্ত রক্ষণশীল বাড়ির 

সুন্দরী মেয়েরাও সারারাত শাল মুড়ি দিয়ে জলসা শুনত শ্যামলকে শুনবে ও 

দেখবে বলে। তাঁর কালো হিন্দুস্থান ফোর্টিনটা পারতপক্ষে ঘেরাও হয়ে যেত ফ্যানদের দ্বারা। আমি নিজেও একবার, মনে আছে, হ্যারিসন রোডের এক প্যান্ট পরা বয়সে নির্নিমেষ দাঁড়িয়েছিলাম বহুক্ষণ। কিছুমাত্র অত্যুক্তি না করে আজ বলতে পারি (এবং বিন্দুমাত্র ন্যাকামির প্রশ্রয় না দিয়েই) যে, শ্যামল মিত্রর মধ্যে কোথায় যেন একটা কৃষ্ণ-কৃষ্ণ ব্যাপার ছিল যা ঠিক সেইভাবে স্বয়ং উত্তমকুমারের মধ্যেও ছিল কি না সন্দেহ। ষাটের দশকের এক সময় একটা মোটর গাড়ির অ্যাক্সিডেন্টের পর ওঁর শরীর বেশ ভেঙে যায়। এরপর পূর্বের সেই সুন্দর চেহারা পুনরুদ্ধারের জন্য তিনি নিজেও যে বিশেষ চেষ্টা 

করেননি তার জন্য ওর অগণিত নারী ও পুরুষ ভক্তের মতো আমারও কিছু অনুযোগ থেকে গেছে। 

➤রূপকথা

আসলে হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের মতো শ্যামল মিত্রর বিপুল সাফল্যের সেতু ওর সহজ ও সরল অ্যাপ্রোচ। সুর নিয়ে অনাবশ্যক প্যাচ পয়জারে বিশ্বাস ছিল না শ্যামলের, তিনি ওর রোমান্টিক কণ্ঠের রোমান্টিকতা যতখানি সম্ভব বাঁচিয়ে রেখে আলতো করে সুর দিয়ে বাণীকে স্পর্শ করতেন। কিন্তু ওঁর গলা ছিল খোলা, যেটা হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ও উল্লেখ করেছেন, এবং ক্লিফ রিচার্ড, টোনি ব্রেন্ট জাতীয় লাভার বয় সং-স্টারদের মতো তিনি ক্রুনিং বা শিল্পিত চাপা ধ্বনির চর্চা করতেন না। সুরের ধ্বনির রেশ অনেকক্ষণ ধরে রাখতে পারতেন যদিও তা অনুপ জালোটার মতো কালোয়াতি ঢঙে করতেন না। 

গানের প্রথম স্বর থেকে শেষ স্বর অবধি শ্যামল থাকতেন আপসহীনভাবে রোমান্টিক। 


ওঁর গলার খাদের আওয়াজটা ছিল চমৎকার, ওপরের সপ্তকে প্রবেশ ঘটত আনুনাসিক ধ্বনির এবং দুইয়ে মিলে '“প্যাথস" বা বিষাদ সৃষ্টির সুন্দর ব্যবস্থা হত। প্রেমিকের গানকে এত সরল ভাবে তিনি বরাবর গেয়ে গেছেন যে আজ তাঁর চলে যাওয়াকে এক প্রেমিকের প্রস্থান বলে মনে হচ্ছে। ➤রূপকথা

জীবন ও গান উভয় ক্ষেত্রেই শ্যামল ছিলেন প্রেমিক। রবীন্দ্রসংগীতও 

এত দরদ দিয়ে গাইতেন যে ঠিক সেই মুহূর্তে ভাবা যেত না যে তিনি প্রধানত 

একজন আধুনিক গাইয়ে। আর আধুনিক গাইয়ে বলে যে তাঁর গানের তালিম 

কিছু কম ছিল তাও মোটেই নয়। ছিল যে না, তার প্রমাণ ওর তৈরি বহু 

গানের সুর এবং গাওয়া বেশ কিছু গান। “অমানুষ” ছবিতে কিশোরকুমারের 

গলায় যে একটি গান তিনি দুর্মূল্য সাফল্যে বসিয়েছিলেন—'কী আশায় বাঁধি 

খেলাঘর'—তা সর্বকালের একটি শ্রেষ্ঠ বাংলা আধুনিক গান হিসেবে স্বীকৃত 

হবে। শ্যামল সরল, রসালো, মন ভরানো সুর সেসব। তবে আপাতদৃষ্টে যত 

সরল তত সরল আদৌ নয়। সেসব সুর তালিমের ফসলও নয়, এক চমৎকার 

ব্যক্তিত্বের আন্তরিকতার ফসল। 

➤রূপকথা

বহু সার্থক শিল্পী আছেন যাঁরা শিল্পী না হলেও সুরকার, গীতিকার, সমালোচক, রসজ্ঞ, এমনকি ডাক্তার-বৈদ্য, ইঞ্জিনিয়র 

হতে পারতেন। কিন্তু শ্যামল মিত্রর পথ মনে হয় ছিল দুটো—রোমান্টিক 

গায়ক কিংবা রোমান্টিক নায়ক। তিনি একই সঙ্গে দুটোই হতে চেয়েছিলেন। 

➤রূপকথা

প্লেবয় ইমেজের ছবিতে উত্তমকুমার শ্যামল মিত্রকে কণ্ঠ হিসেবে নিয়ে দারুণ 

ফল পেয়েছিলেন। হালকা মিষ্টি ছবির ক্ষেত্রে “দেয়া-নেযা” একটি ক্লাসিক। 

কিন্তু উত্তমকুমারই শ্যামলের একমাত্র ঠোঁট নন। পঞ্চাশের দশকের শেষাংশ 

ও ষাটের দশকের একটা বড়ো অংশ জুড়ে গোটা বাঙালি যুব সম্প্রদায়ই ছিল 

শ্যামলের “লিপ” । শ্যামলের গান গেয়ে মেয়েদের মন জয় করা খুব সহজ ও 

করণীয় কাজ ছিল তখন। পরে বাংলা আধুনিকের অধঃপতনের সঙ্গে সঙ্গে 

আরও অনেকের মতো শ্যামলের যুগও শেষ হয়ে যায়। ফের এতদিন পর 

যখন সেই পুরানো গানের নতুন জোয়ার এল, ঠিক তখনই প্রেমিকের 

অভিমান নিয়ে এক ও অদ্ধিতীয় শ্যামল মিত্র চলে গেলেন। মৃত্যুর দিন কুড়ি 

আগে গলফ গ্রিনে এক জলসায় যখন বসলেন তাঁর ভাঙা শরীর দেখে আমার 

চোখে জল আসছিল। যখন পূর্বের সেসব গান গাইছেন আমি মনে মনে তখন 

একটা দশ বছরের বালক হয়ে গেছি আর শুনছি এমন এক লোকের গান যার 

বুকপকেট থেকে ফাউন্টেন পেন পড়ে গেলে অন্তত তিরিশটি বালিকা, যুবতী, মহিলা গিয়ে তা তুলে দেবে তার হাতে।


— লেখক শঙ্করলাল ভট্টাচার্য 


@রূপকথা @রূপকথা

জীবনানন্দ দাশ তাঁর ডায়েরিতে লিখেছেন :

 জীবনানন্দ দাশ তাঁর ডায়েরিতে লিখেছেন :


'যখন আমি আমার পরিত্যক্ত ছোট্ট মেয়েটির কথা ভাবি, উদলা টুরটুর করে হাঁটছে এবং সকলের দিকে তাকাচ্ছে, যেখানে সব্বাই সহানুভূতিহীন, আমার চোখের জল বাঁধ মানে না'।


কবিতায় লিখছেন :


'আমার এ ছোটো মেয়ে - সব শেষ মেয়ে এই

শুয়ে আছে বিছানার পাশে...

ভুলে যাই ওর কথা - আমার প্রথম মেয়ে সেই

মেঘ দিয়ে ভেসে আসে যেন

বলে এসে : 'বাবা, তুমি ভালো আছো? ভালো আছো? ভালবাসো'?

হাতখানা ধরি তার : ধোঁয়া শুধু

কাপড়ের মতো সাদা মুখখানা কেন!

তবু তারে চাই আমি - তারে শুধু - পৃথিবীতে আর কিছু নয়...'


চিদানন্দ দাশগুপ্তকে চিঠিতে দুঃখ করে সন্তানের পরীক্ষায় ব্যর্থতার কথা জানাচ্ছেন। নিজের সন্তান কুশ্রী  হওয়ার জন্য নিজের চেহারাকে দায়ী করছেন।


মেয়ে মঞ্জুশ্রী (১৯৩১-৫৫) যেন কক্ষপথ হারা কোনও গ্রহ। জীবনটাকে কোনওদিনই জুতসই করে বুনতে পারলেন না। ট্রেন থেকে নামার সময় ভুলে গিয়ে বাবার অনেকগুলো খাতা হারিয়ে ফেললেন, অনেক খাতা বন্ধুবান্ধবদের দিয়ে আর ফেরত নিলেন না। 


আবার বাবাকে নিয়ে পি.এইচ.ডিও শুরু করলেন।থিসিসটা পড়তে পড়তে বুকে পাথর চেপে বসে। দুয়ারে দুয়ারে ঘুরে মৃত বাবার সম্পর্কে সাক্ষাৎকার সংগ্রহ করছেন। বাবার মতো কোনও চাকরিই টিকিয়ে রাখতেন পারতেন না। জার্মানির বন শহর থেকে কাশ্মীর-পাঞ্জাব কোথাও থিতু হতে পারেননি। সাউথ পয়েন্ট স্কুল থেকে বাংলা একাডেমি থেকে রবীন্দ্র ভারতী কোথায় না চাকরি করেছেন! ব্যক্তিগত জীবনে অনেকের সঙ্গে সম্পর্ক থাকলেও, এমনকি বিয়ে করলেও, কোথাও স্থায়ীভাবে নোঙর ফেলতে পারেন নি। কবিতা লিখতেন যে মেয়েটি!


বাউলমনে মঞ্জুশ্রী যেদিন মারা গেলেন, শুনেছি সামান্য টাকার জন্য তাঁকে দাহ করা যাচ্ছিল না। শ্রদ্ধেয় সুমিতা চক্রবর্তীর সহযোগিতায় তা শেষ অবধি সম্পন্ন হয়। হ্যাঁ, জীবনানন্দ দাশের মেয়ের এই করুণ পরিণতি। ছেলে তো আগেই কোনও মানসিক কেন্দ্র হয়ে পিজি হাসপাতালে রোগভোগে মারা গেছেন। কবির বড়ো আদরের মেয়ে ছিল মঞ্জু। ডায়েরির পাতায় পাতায় তার সাক্ষ্য। 


কে একটি ছোট মেয়ে 'বাবা' 'বাবা' বলে ডাকে...মঞ্জুর মতো শোনায়।

সাদা চাদরের মতো বাতাসেরে জড়াল সে একবার...

 বই পড়ার সুন্দর দুটা পদ্ধতি আছে।  প্রথমটি হল সাথে একটা নোট খাতা রাখা এবং দ্বিতীয়টি হল শুধু মাত্র রিডিং না পড়ে  প্রত্যেকটি লাইনে লাইনে লেখকের সাথে যুক্তি তর্ক করে যাবেন। 

 বই পড়ার সুন্দর দুটা পদ্ধতি আছে।  প্রথমটি হল সাথে একটা নোট খাতা রাখা এবং দ্বিতীয়টি হল শুধু মাত্র রিডিং না পড়ে  প্রত্যেকটি লাইনে লাইনে লেখকের সাথে যুক্তি তর্ক করে যাবেন। 


প্রথম পদ্ধতিটা আমি শিখেছি লেখক আহমদ ছফা'র কাছ থেকে। ছাত্রাবস্থায় তিনি  অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাকের কাছ থেকে রোজ একটি করে বই নিয়ে পুরো বইএর সারমর্ম একটা নোট খাতায় নিজের মত করে লিখে রাখতেন। 


এই নোট করে রাখার প্র্যাকটিসটা হুমায়ূন আহমেদের ভেতরেও পেয়েছি যদিও তার  স্মৃতি শক্তি অনেক প্রখর ছিল।  জীবনের শেষের দিকে এসে  স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে শৈশবের সাত বছর বয়সে লুকিয়ে প্রথম বই পড়ার কথা লিখতে গিয়ে তিনি সেই বইএর ভেতরের গল্পটাও লিখে ফেলেছেন ! 


বই পড়ার দ্বিতীয় পদ্ধতিটা আমি শিখেছি, ভারতীয় যুক্তিবাদী লেখক প্রবীর ঘোষের কাছ থেকে। তিনি একটি প্রবন্ধে লিখেছেন, আপনি যদি লেখক যাই লিখেন কোন রকমের চিন্তা ভাবনা না করে সবই বিশ্বাস করতে শুরু করেন তাহলে তার দশটা সত্য কথার সাথে দু একটা মিথ্যা কথাকেও বিশ্বাস করতে শুরু করবেন। এই দুটা মিথ্যা কথা আপনার জীবনে অনেক ভয়ংকর হবে ! কেননা দশটা সত্য কথার সাথে একটা মিত্থা কথা মিশে গেলে সেটাকে আলাদা করা অনেক কঠিন হয়ে যায়।  


খাতায় নোট করবার ব্যাপারে আমি বেশ কিপটে। খুব সামান্যই লিখে রাখি।  কিন্তু বিশ্বাস করুন, যখন আমি ক্লান্ত হয়ে পড়ি এই নোট খাতাটা খুলে পড়তে শুরু করি এবং যেখান থেকে আমি দৌড়ানোটা থামিয়েছিলাম সেখান থেকেই আবার দৌড়াতে শুরু করি।  


এ পি জে আবদুল কালামের ' টার্নিং পয়েন্টস' পুরো গ্রন্থটা পড়ে আমি শুধু মাত্র সেখান থেকে একটা লাইন আমার নোট খাতায় টুকে রেখেছি। আমি জানি যেদিন আমি মেঝেতে চিত হয়ে মাথার নিচে হাত দিয়ে কাত হয়ে শুয়ে থাকব সেদিন এই লাইনটাই আমাকে মায়ের মত পিঠ চাপড়ে ভরসা দেবে। লাইনটা হল-'' আমি পেশা হিসেবে গবেষণা এবং শিক্ষকতাকে বেছে নিয়েছি কেননা আমি পুনরাবৃত্তি ভালোবাসি'' 


কিছু কিছু শব্দ আছে নিঃশব্দের মত। আমার কাছে পুনরাবৃত্তি শব্দটাকে সেরকম মনে হয়েছে। আমরা বেশিরভাগ মানুষ সফল হইনা কেননা আমরা পুনরাবৃত্তি পছন্দ করি না। একটা কাজে বাঁধা পেলে সেটা বার বার পুনরাবৃত্তি করার ধৈর্যটা আমাদের থাকে না। 


আইরিশ লেখক জর্জ বার্নার্ডশ তার একটা নাটকের সংলাপে লিখেছেন '' আমি যেদিন থেকে বুঝেছি কোন একটা কাজ দশবার করার পর আমি একবার সফল হই সেদিন থেকে আমি প্রত্যেকটি কাজ দশবার করে করা শুরু করেছি'' 


একটা জিনিস ' জানা' এবং একটা জিনিস ' পারা'র ভেতরে পার্থক্য কিন্তু অনেক। মনে করুন আপনি ড্রাইভিং শেখার জন্য আমার কাছে এসেছেন এবং আমি আপনাকে একটা গাড়ি দেখিয়ে বললাম - এটা হল গাড়ির স্কেলেটর, এখানে চাপ দিলেই গাড়ি চলতে শুরু করবে এবং এই যে ব্রেকে চাপ দিলেই গাড়ি থেমে যাবে। এই যে এখানে চাপ দিলেই হর্ন বাজবে, আর সামনের এটা ডানে ঘুরালে ডানে আর বামে ঘুরালে গাড়ি বা দিকে যাবে। 


আপনি সব কিছু জেনেও কেন গাড়িটা চালাতে পারছেন না জানেন ? পার্থক্যটা হল প্র্যাকটিস ! আপনাকে এই প্র্যাকটিসটা শুরু করতে হবে। 

  

যখন পিপাসা থাকে না তখন একটা পানির বোতলে চোখ গেলে আমরা শুধু বোতলটাই দেখি আর যখন পিপাসা থাকে তখন দেখি বোতলে পানি আছে কিনা !  যখন আলো থাকে তখন মোমটা ড্রয়ারের তলায় অবহেলায় পড়ে থাকে  কিন্তু যখন অন্ধকার হয় - সে যত আড়ালেই থাকুক না কেন সবাই তাকে খুঁজে বের করবেই।  আপনাকে সেই সময়টার জন্য অপেক্ষা করতে হবে। উঁচু পাহাড়ে উঠার নিয়মটা খুব সহজ- সেটা হল ভুলেও নিচের দিকে তাকানো যাবে না।


©Zunayed evan

মির্জা গালিব ---❤️ মোঘল রাজদরবারের উর্দূ কবি ---🌺 ২৭ ডিসেম্বর ১৭৯৭ – ১৫ ফেব্রুয়ারি ১৮৬৯ --

 পৃথিবীতে পোশাকবিহীন এসেছিলে,হে গালিব,একটি কাফনের জন্য এত লম্বা সফর করলে। ---🌹


ব্রিটিশ শাসনের শুরুর দিকের একজন উর্দু এবং ফার্সি ভাষার কবি । সাহিত্যে তার অনন্য অবদানের জন্য তাকে দাবির-উল-মালিক ও নাজিম-উদ-দৌলা উপাধি দেওয়া হয়। তার সময়কালে ভারতবর্ষে মোঘল সাম্রাজ্য তার ঔজ্জ্বল্য হারায় এবং শেষে ১৮৫৭ সালের সিপাহীবিদ্রোহ এর মধ্য দিয়ে ব্রিটিশরা পুরোপুরিভাবে মোঘলদের ক্ষমতাচ্যুত করে সিংহাসন দখল করে,তিনি তার লেখায় এ ঘটনা বর্ণনা করেছেন।


মহাবিদ্রোহের সময়কার তার লেখা সেই দিনলিপির নাম দাস্তাম্বু। তিনি জীবনকালে বেশ কয়েকটি গজল রচনা করেছিলেন যা পরবর্তীতে বিভিন্ন জন বিভিন্ন আঙ্গিকে বিভিন্নভাবে বর্ণনা করেছেন ও গেয়েছেন। তাকে মোঘল সম্রাজ্যের সর্বশেষ কবি হিসেবে ও দক্ষিণ এশিয়ায় তাকে উর্দু ভাষার সবচেয়ে প্রভাবশালী কবি বলে মনে করা হয়। আজ শুধু ভারত বা পাকিস্তানে নয় সারা বিশ্বেই গালিবের জনপ্রিয়তা রয়েছে।


গালিব কখনো তার জীবিকার জন্য কাজ করেননি। সারা জীবনই তিনি হয় রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় অথবা ধার কর্য করে নতুবা কোনো বন্ধু উদারতায় জীবন যাপন করেন। তার খ্যাতি আসে তার মৃত্যুর পর। তিনি তার নিজের সম্পর্কে মন্তব্য করেছিলেন যে,তিনি বেঁচে থাকতে তার গুণকে কেউ স্বীকৃতি না দিলেও,পরবর্তী প্রজন্ম তাকে স্বীকৃতি দিবে। ইতিহাস এর সত্যতা প্রমাণ করেছে। উর্দূ কবিদের মধ্যে তাকে নিয়েই সবচেয়ে বেশি লেখা হয়েছে।


মির্জা গালিব ---❤️

মোঘল রাজদরবারের উর্দূ কবি ---🌺

২৭ ডিসেম্বর ১৭৯৭ – ১৫ ফেব্রুয়ারি ১৮৬৯ ---🏵️

তোমাদের ভালবাসা .... ফিরায়ে এনেছে মোরে

 ॥ তোমাদের ভালবাসা .... ফিরায়ে এনেছে মোরে ॥


চল্লিশের দশকের গল্প। এক অশান্ত সময়ের ক্যানভাসে রঙের ছোঁয়া দিচ্ছে বাংলা। দেশ তখনও স্বাধীনতার অপেক্ষায়। সমাজ আর রাজনীতির জোয়ার এসে মিশেছে বাংলার জনজীবনে। এমনই এক উত্তাল সময়ে, নৈহাটির এক তরুণ ছেলের জীবনে বয়ে চলেছে সাংস্কৃতিক পরিবর্তনের হাওয়া। ছেলেটি নিজেও আইপিটিএ-র সদস্য। নৈহাটির বাড়িটা যেন আইপিটিএ-র কর্মীদের এক ছোটো আস্তানা হয়ে উঠেছিল। প্রায়ই সেখানে ভিড় জমান সংস্কৃতি জগতের মানুষজন। আলোচনা, গান, আর শিল্পের মধ্য দিয়ে রাতগুলো জমে উঠত।


এরকমই এক রাত। খাওয়া-দাওয়া শেষ, বাড়ির সবাই ঘুমিয়ে পড়েছে। রাত গভীর। হঠাৎ এক অতিথির ঘুম ভেঙে গেল। চোখেমুখে অস্থিরতা। তিনি ছুটে এলেন সেই তরুণ ছেলেটির কাছে। ব্যাপার কী? উত্তরে বললেন, “একটা নতুন গান মাথায় এসেছে। ঘুমের মধ্যেই একটা সুর মনে হয়েছে। একবার শোনাবি?”


এবার শুরু হল গানের খেলা। রাতের নৈঃশব্দ্যকে সঙ্গী করে দু’জনে মিলে তৈরি হতে লাগল নতুন এক গান। সেই গানই পরবর্তীকালে পরিচিত হয়েছিল ‘গাঁয়ের বধূ’ নামে। যার মস্তিষ্কে সুরের জন্ম, তিনি ছিলেন সলিল চৌধুরী। আর যার আতিথ্যে সেই সৃষ্টির শুরু, তিনি নৈহাটির তরুণ—শ্যামল মিত্র।


রাতটা যেন সঙ্গীতের এক অনন্য যাত্রার সূচনা। শব্দ আর সুর মিলে সেই রাতে বুনেছিল এক ইতিহাস।


শ্যামল মিত্রের জীবন যেন এক রঙিন গল্পের জাদুঘর। তাঁর শৈশবের বাড়ির উঠোনেই ছিল এক সমৃদ্ধ সংস্কৃতির বাতাবরণ। বাবা, ডাঃ সাধন কুমার মিত্র, শুধু নৈহাটির নয়, গোটা অঞ্চলের মানুষজনের কাছে ছিলেন একজন কিংবদন্তি চিকিৎসক। এমনকি তাঁর নাম শুনলে কপালে হাত ঠেকাতেন অনেকেই। বিধানচন্দ্র রায়ের মতো ব্যক্তিত্বের ছাত্র তিনি। এই পরিবারের উত্তরাধিকারী শ্যামলের জন্য বাবা যে স্বপ্ন বুনেছিলেন, তা ছিল চিকিৎসা জগতে সুনামের এক উজ্জ্বল অধ্যায় যোগ করা। কিন্তু শ্যামল? তাঁর মন পড়ে থাকত সুরের জগতে। গান ধরলে তিনি যেন নিজেকেই হারিয়ে ফেলতেন সাত সুরের কোনো এক অলৌকিক গোলকধাঁধায়।


বাবা একদিন ভেবে বসলেন, গান-বাজনা করে ছেলের কী হবে? পড়াশোনায় মন দিলে তো সহজেই বাবার আসনটি নিতে পারত! শ্যামল কিন্তু সেই পথে হাঁটলেন না। তাঁর আত্মা আটকে ছিল সুরের সঙ্গেই। বাবার আপত্তির মুখে শেষমেশ তাঁকে ছাড়তে হল বাড়ি। সাধন মিত্র পরে রাগ কমিয়ে ছেলেকে ক্ষমা করলেও, শ্যামল তখন সুরের জগতে নিজের নতুন জায়গা খুঁজে নেওয়ার পথে অনেকটা এগিয়ে গেছেন।


কলকাতায় এসে সুধীরলাল চক্রবর্তীর কাছে গান শিখতে শুরু করলেন। গুরু শিষ্যের সম্পর্ক ধীরে ধীরে পরিণত হল এক গভীর বন্ধনে। গুরুদেবের সুরের প্রতি নিবেদন শ্যামলের মনে এক অনন্য প্রভাব ফেলেছিল। ১৯৪৯ সাল। বহু চেষ্টার পর এল সেই কাঙ্ক্ষিত সুযোগ। ‘সুনন্দার বিয়ে’ সিনেমায় প্রথমবার প্লে-ব্যাকের ডাক পেলেন তিনি। রিহার্সাল চমৎকার হল, কিন্তু রেকর্ডিংয়ের দিন মঞ্চে প্রবেশ করতেই দেখা গেল এক নাটক।


গায়িকা সুপ্রীতি ঘোষ সন্দেহের দৃষ্টিতে তাকালেন শ্যামলের দিকে। তাঁর মুখ থেকে মদের গন্ধ বেরোচ্ছে! গায়িকার স্পষ্ট প্রশ্ন, "নেশা করে গাইতে এসেছেন?" শ্যামল তখন বেশ বিচলিত। সুধীরলাল চক্রবর্তীর কথামতো একটু মদ খেয়েছিলেন, কারণ গুরু বলেছিলেন এতে গান ভালো হবে! অদ্ভুত হলেও, সেই রেকর্ডিং পরবর্তী সময়ে বাংলা সিনেমার গান জগতের এক অধ্যায় হয়ে রইল। শ্যামল মিত্রের সুরেলা যাত্রা শুরু হয়েছিল এই ঘটনা দিয়েই।


শ্যামল মিত্রের গান ছিল শুধু রেডিও বা রেকর্ডের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, তা পৌঁছে গিয়েছিল শহরের প্রতিটি রক থেকে প্রেমিক-প্রেমিকার হৃদয়ের কোণে। তাঁর কণ্ঠে প্রেম যেন এক নতুন ভাষা পেয়েছিল। আর ‘দেয়ানেয়া’র মুক্তির পর শ্যামল মিত্র যেন এক ভিন্ন দুনিয়ার বাসিন্দা হয়ে উঠলেন। তাঁর গান, সুর, আর গায়কীর জাদু ছড়িয়ে পড়ল সর্বত্র।


তখন বাংলা গানের স্বর্ণযুগ। মান্না দে, হেমন্ত মুখোপাধ্যায়, সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়, কিশোর কুমার— প্রতিটি নামই একেকটি আলোকিত অধ্যায়। এই দিগ্বিজয়ী তালিকায় শ্যামল মিত্র ছিলেন এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। তাঁদের একমাত্র যোগসূত্র ছিল গান। একবার মান্না দে’র সঙ্গে ‘রাজবংশ’ সিনেমার একটি গানের সুর নিয়ে আলোচনা চলছিল। সুরটা কোনোভাবেই মান্না দে’র মনঃপূত হচ্ছিল না। তর্কবিতর্ক এতটাই বেড়ে গেল যে শ্যামল রেগে বলেই ফেললেন, “এভাবেই গানটা করুন, নয়তো আর গাইতে হবে না!” শ্যামলের এই দৃঢ়তায় থেমে গেলেন মান্না দে। আর সেই সুরেই গানটি গাওয়া হল, যা পরে এক অমূল্য রত্ন হয়ে উঠল বাংলা গানের ভাণ্ডারে—


“মহুয়াতে হয়না নেশা

হায় কাকে বলি

অন্য নেশায় মাতাল আমি

এ কি জ্বালায় জ্বলি...”


“এ তো পুতুল খেলা নয়

এ তো পুতুল খেলা নয়,

এ হল রাজা-মন্ত্রী-ঘোড়া নিয়ে

দু-পক্ষের দাবা খেলা..”


১৯৬৯ সাল। শ্যামল মিত্রের জীবনে নেমে এল এক অন্ধকার অধ্যায়। একটি ভয়াবহ দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হলেন তিনি। হাসপাতালের শয্যা, তারপরে বাড়ির চার দেয়ালের মধ্যে বন্দি জীবন— সবকিছু যেন থমকে গিয়েছিল। কিন্তু তাঁকে ভেঙে পড়তে দেননি তাঁর সহশিল্পীরা এবং বাংলার আপামর শ্রোতারা। প্রত্যেকে বিশ্বাস করতেন, শ্যামল মিত্র এত সহজে থেমে যাবেন না।


আর সত্যিই, শ্যামল ফিরে এলেন। তাঁর প্রতিটি গানের মতোই তাঁর প্রত্যাবর্তন ছিল হৃদয়গ্রাহী। গীতিকার গৌরীপ্রসন্ন মজুমদারের লেখা সেই গান যেন তাঁর ফিরে আসারই এক কাব্যময় ঘোষণা—


“তোমাদের ভালোবাসা

মরণের পার থেকে

ফিরায়ে এনেছে মোরে।


তোমরা আমার গান

কতখানি ভালোবাসো

বুঝেছি নতুন করে....”


গানটি মুক্তির পর আবারও ভক্তদের হৃদয়ে ঝড় উঠল। শ্যামল মিত্রকে ভালোবেসে তাঁরা যেভাবে আগলে রেখেছিলেন, সেই ভালোবাসাই তাঁকে ফিরিয়ে এনেছিল।


শুধু এক শিল্পী নয়, শ্যামল মিত্র হয়ে উঠেছিলেন বাংলার সংস্কৃতির এক অংশ। প্রেমের পাখি হয়ে, কিংবদন্তি হয়ে তিনি আজও রয়েছেন শ্রোতাদের মনে, যেখানে তাঁর সুর চিরকাল বয়ে চলবে।

______________________________

©️ কিছু কথা ॥ কিছু সুর 

তথ্য সংগ্রহ: আনন্দবাজার পত্রিকা (শঙ্করলাল ভট্টাচার্য), সৈকত মিত্র, প্রহর (অরিত্র সোম), জি ২৪ ঘন্টা

নারী স্বাস্থ্য সচেতনতা: মহিলা প্রজননতন্ত্রের রহস্য উদঘাটন

 নারী স্বাস্থ্য সচেতনতা: মহিলা প্রজননতন্ত্রের রহস্য উদঘাটন 🌺 আমাদের শরীরের প্রতিটি অংশই অবিশ্বাস্যভাবে সুনির্দিষ্ট এবং জটিল, বিশেষ করে যখন ...