এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

মঙ্গলবার, ২৮ জানুয়ারি, ২০২৫

সালমান শাহ্ অভিনীত সিনেমার নাম, পোস্টার ও মুক্তির তারিখ:-,,,,,, ফেইসবুক থেকে নেওয়া

 সালমান শাহ্ অভিনীত সিনেমার নাম, পোস্টার ও মুক্তির তারিখ:-

● কেয়ামত থেকে কেয়ামত – ১৯৯৩ সালের ২৫ মার্চ

● তুমি আমার – ১৯৯৪ সালের ২২ মে

● অন্তরে অন্তরে – ১৯৯৪ সালের ১০ জুন

● সুজন সখী – ১৯৯৪ সালের ১২ আগস্ট

● বিক্ষোভ – ১৯৯৪ সালের ৯ সেপ্টেম্বর

● স্নেহ – ১৯৯৪ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর

● প্রেমযুদ্ধ – ১৯৯৫ সালের ২৩ ডিসেম্বর

● কন্যাদান – ১৯৯৫ সালের ৩ মার্চ

● দেনমোহর – ১৯৯৫ সালের ৩ মার্চ

● স্বপ্নের ঠিকানা – ১৯৯৫ সালের ১১ মে

● আঞ্জুমান – ১৯৯৫ সালের ১৮ আগস্ট

● মহামিলন – ১৯৯৫ সালের ২২ সেপ্টেম্বর

● আশা ভালোবাসা – ১৯৯৫ সালের ১ ডিসেম্বর

● বিচার হবে- ১৯৯৬ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি

● এই ঘর এই সংসার – ১৯৯৬ সালের ৫ এপ্রিল

● প্রিয়জন – ১৯৯৬ সালের ১৪ জুন

● তোমাকে চাই – ১৯৯৬ সালের ২১ জুন

● স্বপ্নের পৃথিবী – ১৯৯৬ সালের ১২ জুলাই

● সত্যের মৃত্যু নেই – ১৯৯৬ সালের ৪ অক্টোবর

● জীবন সংসার – ১৯৯৬ সালের ১৮ অক্টোবর

● মায়ের অধিকার – ১৯৯৬ সালের ৬ ডিসেম্বর

● চাওয়া থেকে পাওয়া – ১৯৯৬ সালের ২০ ডিসেম্বর

● প্রেম পিয়াসী – ১৯৯৭ সালের ১৮ এপ্রিল

● স্বপ্নের নায়ক – ১৯৯৭ সালের ৪ জুলাই

● শুধু তুমি – ১৯৯৭ সালের ১৮ জুলাই

● আনন্দ অশ্রু – ১৯৯৭ সালের ১ আগস্ট

● বুকের ভেতর আগুন – ১৯৯৭ সালের ৫ সেপ্টেম্ব

তিনি ৮ টি নাটক এ অভিনয় করেছেন-

১. পাথর সময়

২. ইতিকথা

৩. আকাশ ছোঁয়া

৪. দোয়েল

৫. সব পাখি ঘরে ফেরে

৬. সৈকতে সারস

৭. নয়ন

৮. স্বপ্নের পৃথিবী।

মুঘোল আমলের এক করুণ প্রেমের কাহিনির স্মারক বাকরখানির উৎপত্তি।

 ‎মুঘোল আমলের এক করুণ প্রেমের কাহিনির স্মারক বাকরখানির উৎপত্তি। মুঘোল, ইংরেজ ও পাকিস্তান আমলে এর জৌলুস থাকলেও সময়ের সঙ্গে ফাস্টফুড ও আধুনিক খাবারের দাপটে এটি হারিয়ে যেতে বসেছে। পুরান ঢাকা, খিলগাঁও, সিপাহীবাগে এখনও বাকরখানির দোকান খুঁজে পাওয়া যায়। জিঞ্জিরার তন্দুরে তৈরি রুটিগুলো এই ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রেখেছে।

‎ঢাকার ঐতিহ্যবাহী শিরমাল, চা'পাতার মতো বাকরখানিও বিলুপ্তির পথে। তবে এর রোমাঞ্চকর অতীত এখনও আমাদের মনে ইতিহাসের গন্ধ ছড়ায়। বাকরখানি শুধু একটি খাবার নয়, এটি আমাদের অতীতের জীবন্ত সাক্ষী।

‎এবার আসি এর ইতিহাস কথনে, এ বিষয়ে জানা যায় কিংবদন্তির ঢাকা গ্রন্থের লেখক নাজির হোসেনের লেখনীতে। তিনি লিখেছেন বাকরখানি রুটির সাথে যার নাম ওতপ্রোত ভাবে জড়িত তিনি হলেন আগা বাকের ও আরামবাগের নর্তকী খনি বেগম।

‎আগা বাকের ছিলেন তুর্কিস্তানের মতান্তরে ইরানের অধিবাসী। তিনি শিয়া মুসলিম ছিলেন। ভাগ্যন্বেষণে তিনি ভারতবর্ষে আগমন করেন এবং মুর্শিদকুলী খার বিশেষ স্নেহ ও আশ্রয় লাভ করেন এবং নিজ দক্ষতায় তার সেনাবাহিনীর উচ্চপদে আসীন হন। তিনি চট্টগ্রামের ফৌজদার নিযুক্ত হয়েছিলেন। তার ছেলের নাম আগা সাদেক যার নামে পুরনো ঢাকাতে একটি সড়কের নামও রয়েছে। আর খনি বেগম সম্পর্কে বিশেষ কিছু জানা যায়নি। যতটুকু জানা গেছে তা হলো- তিনি আরামবাগের নর্তকী ছিলেন। এই খনি বেগমকে নিয়ে অনেক জলঘোলা ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়েছে তদসাথে প্রাণহানিও।

‎যাহোক, আগা বাকের ও খনি বেগম একে অপরকে গভীরভাবে ভালোবাসতেন । বাকেরের এই প্রেমের সম্পর্কে প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন উজিরেআলা জাহান্দর খার দুশ্চরিত্র পুত্র কোতোয়াল জয়নুল খাঁ। এসব ব্যাপারে মুর্শিদকুলী খাঁ কিছু জানতেন না। একদিন অপ্রত্যাশিতভাবে খনি বেগমের সতীত্ব নষ্ট করতে চেষ্টা করেন কোতোয়াল জয়নুল খাঁ। সংবাদ পেয়ে আগা বাকের বাঁধা দিলে  উভয়ের মাঝে যুদ্ধ বেঁধে যায়। যুদ্ধে হেরে জয়নুল খাঁ পালিয়ে যান। জয়নুলের বন্ধুগন এটাকে অন্যরূপ দিয়ে গুজব ছড়িয়ে দিল যে বাকের জয়নুলকে হত্যা করে মৃতদেহ গুম করে দিয়েছে। এ অভিযোগ নবাবের দরবারে গেলে ন‍্যয়পরায়ণ মুর্শিদকুলী খাঁ পূত্রবৎ বাকেরকে মৃত্যুদণ্ড দিয়ে বাঘের খাঁচায় ঢুকিয়ে দেন। দমবার পাত্র ছিলেন না বাকের। বাঘের সঙ্গে লড়াই করে বাঘটিকে হত্যা করে বিজয়ীর বেশে খাঁচা হতে বেরিয়ে আসেন। এদিকে জয়নুল সুযোগ বুঝে জোরপূর্বক খনি বেগমকে অপহরণ করে দক্ষিন পূর্ব বঙ্গের ভাটি অঞ্চলের এক গভীর অরণ্যে পালিয়ে যান। জয়নুল শত চেষ্টা করেও খনি বেগমকে বশে আনতে না পেরে তাকে চন্দ্রদ্বীপ রাজ্যে (বাকেরগঞ্জ/বরিশাল) বন্দী করে রাখেন। এ খবর আগা বাকেরের কানে পৌঁছালে তিনি সেনাপতি কালা গাজীকে নিয়ে ছুটে যান চন্দ্রদ্বীপ রাজ্যে। জয়নুলের পিতাও তার চরিত্রহীন ছেলের কার্যকলাপে অতিষ্ট হয়ে  ছেলেকে শিক্ষা দেয়ার জন্য তথায় হাজির হলেন এবং পুত্রকে বন্দী করে শাস্তিস্বরূপ নিজ তরবারি দিয়ে আঘাত করলেন। অসির আঘাতে মরণাপন্ন জয়নুল দেখল যে সে আর বাঁচবে না এবং খনিকেও পাবে না তাই সুযোগ বুঝে সে খনি বেগমের বুকে অসি বসিয়ে দিল প্রতিশোধস্বরূপ। এ আঘাতে খনি বেগম যখন মৃত্যু পথযাত্রী তথায় হাজির হন আগের বাকের। মৃত্যমুখী খনি বেগমকে বুকে তুলে নিয়ে অঝোর ধারায় কাঁদতে থাকেন বাকের। এক পর্যায়ে খনি বেগম মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খনির মৃত্যুতে প্রায় উন্মাদ হয়ে যান বাকের। রাজ্য ও মসনদের সকল আকর্ষন পরিত্যাগ করে সেই অঞ্চলেই থেকে যান তিনি। শুরু হয় তার জীবনের নতুন অধ্যায়। পরবর্তীতে বুজুর্গ উমেদপুরের জমিদারি লাভ করার পর সেলিমাবাদ ও চন্দ্রদ্বীপ পরগনা দখল করে নেন। বহু দ্বীপ নিয়ে গঠিত বাখলা চন্দ্রদ্বীপের জমিদারি লাভ করেন আগা বাকের। পরবর্তীতে ১৭৯৭ সালে ইংরেজ সরকার যখন পৃথক জেলা গঠন করেন তখন এই জনপ্রিয় ব্যাক্তির নামটিকে অস্বীকার না করে তার নামেই নামকরণ করা হয় বাকেরগঞ্জ জেলা। এরপর মুর্শিদ কুলী খাঁর আদেশে আগা বাকের এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে বিয়ে করেন। সে ঘরে জন্ম লাভ করে আগা সাদেক ও মির্জা মাহদী নামে দুই পুত্র। 

‎আগা বাকের নবাব সিরাজউদ্দোলার দুর্দিনে তার পাশেই ছিলেন। নবাব বিরোধী শিবির রাজবল্লভ ও ঘসেটি বেগমের বিরুদ্ধেও তিনি ভীষণ সরব ছিলেন। কিন্তু দুর্ভাগ‍্যজনকভাবে ঢাকার নায়েব নাজিম হোসেন উদ্দিন খানের হত্যার প্রতিশোধ হিসেবে আগা বাকের নিহত হন। রাজবল্লভ তার দেহ টুকরো টুকরো করে ফেলেন। বাকেরের এই খণ্ডিত দেহ পরে আগা সাদেক ময়দানে সমাহিত করা হয়।

‎আগা বাকের অন্য নারীকে বিয়ে করলেও তার মন থেকে খনি বেগমের স্মৃতি মুছে যায়নি। তার প্রমাণ- বিশেষভাবে তৈরি তার প্রিয় খাদ্য তথা রুটির নাম তার প্রেম কাহিনীর উপর ভিত্তি করেই নামকরণ করা হয়েছিল "বাকর-খনি" রুটি যা কিছুটা অপভ্রংশ হয়ে হয়েছে বাকরখানি রুটি। এটি টিকে আছে শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে। পুরনো ঢাকার আদি খাবারগুলোর মধ্যে এটি একটি অন্যতম খাবার। বাকরখানি পুরান ঢাকাবাসীর সকালের নাস্তা হিসেবে প্রচলিত ছিল আদিতে। 

‎বাকরখানি মূলতঃ আদি ঢাকা তথা পুরনো ঢাকাবাসীর একটি ঐতিহ্যবাহী খাবার। পরবর্তীতে এটি বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়েছে। সকাল ও বিকেলের নাস্তায় এটি একসময় পুরনো ঢাকাবাসীর কাছে তুমুল জনপ্রিয় ছিল। এখনও পুরান ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় বাকরখানি রুটির পুরনো দোকান ও তন্দুর সগৌরবে টিকে আছে।

‎সৌজন্যে: বাংলাদেশের দুষ্প্রাপ্য ছবি সমগ্র

ভালোবাসার_শীতলতা #লেখক_তৌফিক ফেইসবুক থেকে নেওয়া

 নিজের বাবা কে যদি দুটো ভালো কাপড় দিতে না পারো, তবে কখনো আমার জন্য কিচ্ছু এনো না, আবিদ।


হাসিমুখে শ্বশুরকে শীতের কাপড় এগিয়ে দিতে গিয়ে শ্বশুরের উপরোক্ত কথা শুনে থমকে যায় আবিদ। নিমিষেই মুখ থেকে হাসিটা উধাও হয়ে যায়।


আবিদের শ্বশুর, রাহাত সাহেব, আবারও বলে উঠেন,


"আমি না হয় আমার কন্যাকে জন্ম দিয়েছি বলে, তার টান আমার ওপর সবচেয়ে বেশি। কিন্তু তোমার বাবা তো তোমায় জন্ম দিয়েছে। কই, তার ওপর তো তোমার কোনো টান দেখিনা! কারণে-অকারণে আমাকে এটা-ওটা কিনে দাও। বলি, তোমার পিতাকে কিছু কিনে দিয়েছো?"


আবিদ মুখটা কালো করে পাশে দাঁড়িয়ে থাকা তার স্ত্রী শাম্মির দিকে তাকায়। স্বামীর কালো মুখ দেখে দ্রুত শাম্মি ওর বাবাকে বলে ওঠে,


"বাবা, তুমি এসব কী বলছো? আমার স্বামী তোমার সন্তানের মতোই... সে তোমাকে দুটো দিতেই পারে। এতে অন্যজনকে না দিলে তোমার কী? তাছাড়া আমার শ্বশুর কুঁড়ে লোক, ঘর ছেড়ে বের হন না, তাই তাকে কিনে দিতে হয় না। আর তুমি দশ বাজার ঘুরে বাজার করো, তোমার ভালো কাপড় না হলে হয় বলো?"


মেয়ের কথা শুনে রাহাত সাহেব রাগের চোটে ঠাস ঠাস করে কয়েকটা থাপ্পড় মেরে হুংকার ছেড়ে বলেন,


"শাম্মি, তুই এতটা নিচ! এতটা নিকৃষ্ট হয়েছিস! তোর মা তো এমন ছিল না। তুই এমন হলি কী করে! আরে, আমার জামাইয়ের কিছুর প্রয়োজন নেই। আল্লাহ দিলে আমার দুটো পুত্র সন্তান আছে, যাদের আমি মানুষ করতে পেরেছি। আমাকে একটা দিলে তার শ্বশুরকেও একটা দেয়। আমি খুশি হই এতে। কিন্তু তোর জামাই তো কাপুরুষ। নামের আগে ইঞ্জিনিয়ার বসালেও মনের মাঝে পশু ভাবটা আছে। সে শিক্ষিত হয়েছে, মানুষ হয়নি।"


আবিদ পুরোটা সময় ওর শ্বশুরের কথাগুলো শুনে গালে হাত দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা ওর স্ত্রী শাম্মির দিকে তাকিয়ে থাকে। শাম্মি চুপচাপ মাথা নিচু করে থাকে। তাছাড়া, কী বা করবে, আবিদের দিকে তাকানোর সাহসও তার নেই।


অনেকক্ষণ চুপ করে থাকার পর আবিদ বলে ওঠে,


"বাবা, আমাকেও দুটো থাপ্পড় দিন। দুটো থাপ্পড় আমারও প্রাপ্য।"


রাহাত সাহেব আবিদের কথায় পরপর কষে দুটো থাপ্পড় বসিয়ে দেন। পাথরের মতো শক্ত হাতের থাপ্পড় খেয়ে আবিদের চোখ-মুখে অন্ধকার নেমে আসে। খানিকক্ষণ সময় নিয়ে মুচকি হেসে আবিদ বলে,


"বাবা, আর্মিদের হাত এত শক্ত হয় জানা ছিল না।


আজ শুধু গালে পড়েছে। এরপর পিঠেও পড়বে। আমি ভাবতেই শিউরে উঠি। তুমি কেমন সন্তান, যে নিজের বাবাকে ভালো শীতের পোশাক না কিনে দিয়ে বউয়ের বাবা কে কাপড় দিতে এসেছো? তোমার বাবার অসহায় চাহনি আমি সেদিন দূর থেকে দেখেছিলাম। সামনে যাওয়ার সাহস হয়নি লজ্জায়। কারণ তখন আমার গায়ে ছিল তোমার দেওয়া আরেকটা শীতের পোশাক।"


আবিদ নিশ্চুপ। রাহাত সাহেব অগ্নি চোখে শাম্মির দিকে তাকিয়ে বলে,


"তোকে আর যেন এ বাড়িতে না দেখি। যতদিন না নিজের শ্বশুরকে বাবা মতো ভালোবাসতে পারবি, ততদিন এ বাড়িতে আসবি না। বেরিয়ে যা তোরা দুটো অমানুষের দল।"


আবিদ শাম্মির হাত ধরে টানতে টানতে বেরিয়ে আসে শ্বশুরবাড়ি থেকে। রাস্তায় কেউ কারো সাথে কথা না বললেও বাসায় আসতেই আবিদ ওর শাম্মিকে নিজের ঘরে টেনে নিয়ে গিয়ে বলে,


"শাম্মি, এসবের মানে কী! তোমার বাবা আমায় ভুল বুঝলো! আরে, আমি তো দুজনের জন্যই কাপড় কিনতে টাকা দিয়েছিলাম। তুমি কি আমার বাবাকে কিনে দাওনি?"


শাম্মি মুখটা নিচু করে ভয়ে ভয়ে বলে,


"আ...আসলে আবিদ..."


"বলো..."


"আসলে ভেবেছিলাম তোমার বাবার আছেই। তাই টাকা নষ্ট করিনি।"


আবিদ আর নিজের রাগটাকে নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে প্রচণ্ড জোরে জানালার থাই গ্লাসে ঘুষি মেরে হনহন করে বেরিয়ে যায় ঘর থেকে।


আজ অনেকদিন পর বাবার ঘরের সামনে এসে দাঁড়িয়েছে আবিদ। কমসে কম ছয় মাস তো হবেই। অফিসের কাজে এই ট্যুর, ওই ট্যুর করতে করতে বাসায় তেমন একটা আসেনি। আসলেও তখন ওর বাবা বাসায় থাকতো না। রাতেও তেমন দেখা হতো না ওদের। আর তাই আবিদ ওর স্ত্রীকে সব দায়িত্ব দিয়েছিল। তবে ভাবেনি শাম্মি এমন কিছু করবে।


আবিদ দরজায় নক করে,


"বাবা, আছো?"


ভেতর থেকে আবিদের বাবা আহমেদ সাহেব সাড়া দেন,


"হ্যাঁ, আছি। ভেতরে এসো, আবিদ।"


আবিদ মাথাটা নিচু করে ওর বাবার পাশে গিয়ে বসে। আহমেদ সাহেব বহুদিন পর ছেলেকে দেখে হাসি মুখে বলেন,


"বহুদিন পর তোমায় দেখলাম... আজকাল খুব ব্যস্ত হয়ে গিয়েছো?"


আবিদ ওর বাবার হাত দুটো নিজের হাতের মুঠোয় নিয়ে ছলছল চোখে বলে,


"বাবা, আসলে অফিসে কাজের চাপ ছিল খুব, তাছাড়া..."


আবিদকে বাকিটা বলতে না দিয়েই আহমেদ সাহেব বলে ওঠেন,


"থাক, আমি বুঝি। তা শ্বশুরবাড়ি থেকে চলে এলে যে? আর তোমার হাত কেটে গেলো কীভাবে?"


আবিদ মাথাটা নিচু করে বলে,


"আসলে বাবা..."


আহমেদ সাহেব চোখ দুটো বন্ধ করে নেন। মিনিট খানেক বন্ধ করে রাখার পর ধীরে ধীরে চোখ খুলে বলেন,


"বাইরে বেশ ঠান্ডা। তুমি বলেছিলে, আমার কিছু লাগলে বউমাকে বলতে। অনেকদিন হলো, বউমাকে শীতের পোশাক আর একটা জুতো কিনে দেওয়ার কথা বলেছিলাম। সে দেয়নি। তোমার কাছে কিছু টাকা থাকলে আমাকে দিয়ে যেও। বউমাকে বলতে আমার লজ্জা লাগে ভীষণ।"


আবিদ বলেন, "বউমাকে বলতে হবে না বাবা। আমি আছি। চলো বের হই।"


আহমেদ সাহেবকে নিয়ে আবিদ সারাদিন ঘোরাঘুরি করে এবং শীতের পোশাক কিনে দিয়ে বাসায় ফেরে রাতে। আজ আবিদ বেশ খুশি। বহুদিন পর বাবার মুখে হাসি দেখে।


রাত ১২টা। আবিদ নিজের ঘরে ঢুকতেই দেখে শাম্মি সেই আগের মতো স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। আবিদ কয়েক পলক শাম্মির দিকে তাকিয়ে বলে ওঠে,


"কি হলো, শাম্মি? এভাবে খাম্বার মতো দাঁড়িয়ে আছো কেন! কিছু হয়েছে?"


শাম্মি আবিদের কথা শুনে তড়িৎ গতিতে আবিদের পা দুটো জড়িয়ে ধরে হু হু করে কেঁদে ওঠে। শাম্মির এমন আচরণে আবিদ অবাক হয়ে বলে,


"এই, কি করছো! পা ছাড়ো।"


"না, তুমি আগে আমায় ক্ষমা করে দাও।"


আবিদ থমথমে কণ্ঠে বলে,


"সে তো তোমার বাবার হাতের দুটো থাপ্পড় খাওয়ার পরই হয়ে গেছে। এখন উঠে এসো, বউ।"


আবিদ শাম্মিকে পা থেকে টেনে তুলে নিজের বুকে জড়িয়ে নিয়ে আদুরে গলায় বলে,


"আচ্ছা শাম্মি, তুমি টাকাগুলো কী করেছো, বলো তো?"


শাম্মি আবিদকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে বলে,


"ওগুলো ড্রয়ারেই রেখে দিয়েছিলাম। ভেবেছিলাম, টাকা নষ্ট করে কী হবে! জমিয়ে রাখি।"


"তাহলে নিজের বাবারটা কিনে কেন নষ্ট করেছিলে! ওটাও জমিয়ে রাখতে পারতে।"


শাম্মি নিশ্চুপ। আবিদ শাম্মিকে আরও শক্ত করে নিজের বুকে টেনে নিয়ে বলে,


"এমন স্বভাবের হইয়ো না, শাম্মি। তোমার পেটের মাঝেও ধীরে ধীরে বড় হচ্ছে আমাদের অনাগত সন্তান।"


"আমি ভুল করেছি, আবিদ।"


"হুম, প্রথম ভুল। ক্ষমা করাই যায়। তবে পরের বার আর করোনা প্লিজ।"


"প্রমিজ, আর করবো না।"


আবিদ  পরম মমতায়  শাম্মির কপালে নিজের ঠোঁট ছুঁইয়ে  দেয় শিউরে উঠে শাম্মি শক্ত করে জরিয়ে ধরে আবিদ কে,,,,


কখনো কখনো গায়ে হাত দিয়ে বা চিৎকার করে কিছু হয়না।বুঝিয়ে বলতে হয় আশা করি তারা বুঝবে।


#ভালোবাসার_শীতলতা

#লেখক_তৌফিক

এক লাফেই পার হওয়া যায় যে নদীর, বলছি উত্তরের ইনার মঙ্গোলিয়া অঞ্চলে হুয়ালাই নদীর কথা। পৃথিবীর সবচেয়ে সরু নদী হিসেবে অফিসিয়াল স্বীকৃতি আছে যার

 এক লাফেই পার হওয়া যায় যে নদীর, বলছি উত্তরের ইনার মঙ্গোলিয়া অঞ্চলে হুয়ালাই নদীর কথা। পৃথিবীর সবচেয়ে সরু নদী হিসেবে অফিসিয়াল স্বীকৃতি আছে যার। এর গড় প্রস্থ ১৫ সেন্টিমিটার। সবচেয়ে সরু পয়েন্টটি মাত্র ৪ সেন্টিমিটার চওড়া। তবে লম্বায় গুনে গুনে ১৭ কিলোমিটার।


নদী হতে যেসব শর্ত মানতে হয়, সেগুলো মেনেই নদীর মর্যাদা পেয়েছে হুয়ালাই। এক লাফে পার হওয়া যায় বলে এটাকে খাটো করে দেখার জো নেই। কারণ চীনা বিশেষজ্ঞদের মতে, ১০ হাজার বছর ধরে হুয়ালাইতে পানির প্রবাহ একই রকম আছে। মাটির তলায় থাকা একটি স্রোত থেকেই এ নদীর উৎপত্তি। এরপর থেকে কখনই এর প্রবাহ বাধাপ্রাপ্ত হয়নি, নদী শুকিয়েও যায়নি। নদীর পানি এঁকে বেঁকে গিয়ে পড়েছে হেক্সিগট্যান গ্রাসল্যান্ড ন্যাচার রিজার্ভের দালাই নুর লেকে।


সারাবছরই হুয়ালাইতে স্রোত থাকে। গভীরতা গড়পড়তায় ৫০ সেন্টিমিটার হলেও এর পানি একদম স্বচ্ছ। যা দিয়ে আশপাশে সেচের কাজ তো হয়ই, বুনো প্রাণীরাও আসে এর স্রোত থেকে পান করতে।






বাঙালি scandal-কে খুব ভয় করে । ফেইসবুক থেকে নেওয়া

 বাঙালি scandal-কে খুব ভয় করে ।


লক্ষ্য করলে দেখবেন, বাঙালিরা সবচেয়ে বেশি রোম্যান্টিক। ঘন ঘন প্রেমে পড়ে। ঘন ঘন ছ্যাঁকা খায়। ছ্যাঁকা খেলেই বাঙালি ছেলেরা রবীন্দ্রনাথ আর বাঙালি মেয়েরা তসলিমা নাসরিন হয়ে যায় । 


ছেলেদের কলমে তখন কান্না, আর মেয়েরা হয়ে ওঠে মারাত্মক পুরুষবিদ্বেষী। অবশ্য ব্যতিক্রমও আছে । কিন্তু ওই যে বলে – exception is not the example !


বাঙালিরা আসলে ভীতু জাতি । বাঙালিরা ভীষণ ইমেজের পরোয়া করে। যেমন, সিগারেট খাওয়া ছবি পোস্ট করবো বাড়ির বড়োরা কি ভাববে – এদিকে দেখা যাচ্ছে বড়োদের থোড়াই কেয়ার করে !


প্রেমিকার হাত ধরে ঘুরবো কে কি ভাববে – যেন মনে হয় দু'জনে খোলা রাস্তায় সেক্স করছে। একজন বিয়ে করা মেয়ে বা বিয়ে করা ছেলের প্রেমে পড়বো – লোকজন ছিঃ ছিঃ করবে। আর কিছু হলেই খালি বলবে– আমাদের সংস্কৃতিতে এসব নেই !


কার মেয়ে কার সাথে প্রেম করে (মেয়েটা উচ্ছন্নে গেছে), কার ছেলে পাড়ার মোড়ে দাঁড়িয়ে সিগারেট খায় (বড়দের সামনে কিন্তু খাচ্ছে না আর সিগারেট একটি নিষিদ্ধ উপাদান নয়), কার বউ সারাদিন স্মার্ট ফোনে ব্যস্ত (ধরেই নেওয়া হলো কারো সাথে লটঘট চলছে), কে আজ একটু খোলামেলা পোশাকে বাইরে বেরোলো (মেয়েটা এক নম্বরের *****), বিবাহিত পুরুষ বা বিবাহিতা নারীর সাথে প্রেম (সংসার ভাঙছে) -ইত্যাদি বিষয়ে সবসময় কান খাড়া । 


‘আমাদের সময় এরকম ছিল না’ বলা লোকটিও দেখা যায় রাস্তায় হাঁটার সময় ছোট পোশাক পরা মেয়ে দেখে দিশা হারিয়ে ফেলে। 


রবীন্দ্রনাথ ও কাদম্বরীর প্রেমকে জোর করে অস্বীকার করে দেওর-বৌদির স্নেহ প্রমাণ করবে, আর নিজেদের হাজার হাজার ইচ্ছেকে দমন করে রাখবে শুধু কেচ্ছা হবে এই ভয়ে।


খুব কম পুরুষ কোনও লাস্যময়ী মেয়েকে দেখলে নির্লিপ্ত থাকে, খুব কম পুরুষ ভিড়ে কোনও মেয়ের খোলা পিঠে, খোলা হাতে, খোলা কাঁধে বা কায়দা করে খোলা ঊরুতে চোখ না দিয়ে পারে না, খুব কম পুরুষ বিয়ের এক দশক পরেও স্ত্রী'র প্রতি একটা বন্য উন্মাদনা অনুভব করে – কিন্তু কেউ মুখে স্বীকার করবে না। তাহলে এমন জিনিস করা কেন যা স্বীকার করা যায় না ? এহেন নারীর সংখ্যাও কম নয় ।


“তোমায় খুব ভাল লাগে” বলে কায়দা করে তার গায়ে হাত দেওয়ার চেষ্টা না করে কিংবা “তোমায় ভালোবাসি” এরকম মিথ্যে প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিছানায় শোয়ার ভান না করে সরাসরি বলতে শিখুন “আমার তোমার সাথে শুতে ইচ্ছে করছে”। সেটা অপরাধ নয়, পাপ নয়, অন্যায় নয়। 


শরীরের ইচ্ছে শরীরের চাহিদা শরীরের খিদেকে অস্বীকার না করে বরং সেটা মেনে নিন – বিকৃতি আসবে না।


আসলে আমরা জানিই না আমাদের সংস্কৃতি কাকে বলে। ভারতীয়দের এই সমস্যা আছে, বাঙালিদের আরও বেশি। পাশের বাড়িতে কি হচ্ছে আড়ি পেতে শোনা অথবা পর্দার আড়াল দিয়ে দেখা আমাদের অভ্যেস। আবার নিজের কিছু হলে আপ্রাণ ঢেকে রাখতে আমরা মরিয়া। কারণ লোকের কাছে মানহানী হওয়ার ভয়। 


আমরা কেমন যেন ভীতু, double standard ! যদি স্বীকার করতেই না পারলাম তাহলে কীসের সততা ? ধূমপান করা, মদ খাওয়া, রেড লাইট এরিয়াতে যাওয়া, সুন্দরী লাস্যময়ী কারো প্রেমে পড়া কিংবা সুপুরুষ কারো প্রেমে পড়া, হাত ধরে হাঁটা– যদি সাহস না থাকে তাহলে না করাই বাঞ্ছনীয় ।


আজকের টেক স্যাভি যুগে বাঙালি যেন ক্রমেই খোলসে ঢুকে যাচ্ছে । এখনো নাকি বাঙালিরা live in করতে গেলে ভয়ে কাঁপে, বান্ধবীকে বাড়ি নিয়ে আসার ভয়ে হিসি করে দেয় – আসলে সবেতেই কাজ করে পাপবোধ। সবেতেই ভাবে “খুব খারাপ কাজ করছি” – তবুও করে – আর যে কোনও বস্তুকেই রঙিন করে তোলার বদলে করে তোলে কলঙ্কিত। এটাই সমস্যা।


বুক চিতিয়ে কথা বলা, বুক চিতিয়ে দুঃসাহস দেখানো, বুক চিতিয়ে তথাকথিত scandalous হয়ে গর্বিত হওয়ার মতো বাঙালি দিনদিন কমে যাচ্ছে। বাঙালি দিনদিন ভীতু হচ্ছে, কাপুরুষ হচ্ছে, ভণ্ড হচ্ছে। এমন এক প্রেমিক জাতি বিপ্লবী জাতির এমন সঙ্কোচন – সত্যিই কষ্ট দেয় !


--সংগৃহিত

ছন্দে ছন্দে ৬৪ জেলার নাম.. ফেরদৌস আহমেদ ফেইসবুক থেকে নেওয়া

 ছন্দে সুরে বলছি আমি সকল জেলার নাম

তাল মেলাতে সবার আগে আসলো কুড়িগ্রাম। 


প্রধান জেলা ঢাকা থেকে একটুখানি দূর

এক জেলার নাম নরসিংদী আর একটা গাজীপুর । 


জয়পুরহাট ও লালমনিরহাট দুইটা জেলার নাম

রাজশাহীর নাম উজ্জ্বল করছে মিষ্টি স্বাদের আম। 


পাহাড় ঘেরা বান্দরবান ও সিলেট খাগড়াছড়ি

ময়মনসিংহের কিশোরগঞ্জে এই অধমের বাড়ি । 


নেত্রকোনা সুনামগঞ্জে আছে ধানের মাঠ

সুন্দর বনের কাছে আছে খুলনা বাগেরহাট । 


ভোলা এবং বরিশালে আছি অনেক নদী

পাবনায় আছে পাগলা গারদ বগুড়াতে দধি । 


পাশাপাশি দুইটা জেলা টাঙ্গাইল জামালপুর

আরো দুইটা জেলা হল কুষ্টিয়া যশোর । 


মনের মত একটা জেলা নাম তার মাগুরা

দন্তন্য তে নারায়ণগঞ্জ নাটোর ও নওগাঁ । 


দন্তন্য তে আরো চারটি জেলা বলতে পারি

নবাবগঞ্জ ও নোয়াখালী নড়াইল নীলফামারী ‌। 


গঞ্জ দিয়া মানিকগঞ্জ হয় আরো মুন্সিগঞ্জ

গোপালগঞ্জ হয় হবিগঞ্জ হয় আরো সিরাজগঞ্জ । 


চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও কিন্তু গঞ্জ দিয়া ভাই

এদের ছাড়া বাংলাদেশে আর কোন গঞ্জ নাই । 


রংপুর এবং রাঙ্গামাটির নামটা রঙে রাঙা

নামের জন্য আরও সুন্দর চাঁদপুর চুয়াডাঙ্গা ‌। 


কক্সবাজার নামের জেলা আছে সাগর পাড়ে

পঞ্চগড়টা পড়ছে বন্ধু দেশের এক কিনারে । 


ফেনী জেলার নামটা মাত্র দুইটা অক্ষর দিয়া

সবচেয়ে বেশি অক্ষর লাগে লিখতে বি-বাড়িয়া । 


ছয়টা অক্ষর লিখতে লাগে মৌলভীবাজার

এদিক থেকে শরীয়তপুর সমান তাহার । 


শেষের দিকে এসে দেখি বসছে পুরের মেলা

নামের শেষে পুর লাগানো অনেকগুলো জেলা । 


পুর দিয়ে ভাই শেরপুর আছে আছে পিরোজপুর

মেহেরপুর ও মাদারীপুর আরো দিনাজপুর। 


ফরিদপুর ও লক্ষিপুর এই দুই টা জেলার সাথে 

পুরের পালা শেষ করিয়া গেলাম বরগুনাতে । 


আসার পথে কুমিল্লা ও ঝালকাঠি সহ

ঘুরে এলাম রাজবাড়ী তার সঙ্গে ঝিনাইদহ ‌। 


গাইবান্ধার নাম বাদে থাকে আর মাত্র এক হালি

তাদের মধ্যে একটা জেলার নাম পটুয়াখালী । 


এখন শুধু বাকি আছে তিনটা জেলার নাম

এদের মধ্যে একটা জায়গা হইল চট্টগ্রাম ‌। 


সাতক্ষীরায় আর ঠাকুরগাঁয়ে হইল এই গান শেষ

এদের নিয়েই গড়া আমার সোনার বাংলাদেশ । 


ছন্দে ছন্দে ৬৪ জেলার নাম..

ফেরদৌস আহমেদ


সকাল ৭টার সংবাদ তারিখ ২৮-০১-২০২৫ খ্রি:।

 সকাল ৭টার সংবাদ

তারিখ ২৮-০১-২০২৫ খ্রি:।


আজকের সংবাদ শিরোনাম:


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্তি থাকছে না রাজধানীর সাতটি সরকারি কলেজের - সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধানে সকল পক্ষকে ধৈর্য্য ধরার আহ্বান স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার।


বাংলাদেশের সঙ্গে বিস্তৃত অংশীদারিত্ব ও সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষরে আগ্রহ প্রকাশ করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন।


ন্যূনতম সংস্কার শেষে জাতীয় নির্বাচনসহ ১০ দফায় ঐকমত্য বিএনপি ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের।


ন্যায়বিচারের স্বার্থে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠাবে ভারত - আশাবাদ আইসিটি চিফ প্রসিকিউটরের বিশেষ পরামর্শক টবি ক্যাডম্যানের।


যুক্তরাষ্ট্রের বিদেশী সহায়তা বন্ধে ট্রাম্পের সিদ্ধান্তে জাতিসংঘ মহাসচিবের উদ্বেগ।


মিরপুরে বিপিএল টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ফরচুন বরিশাল ও দুর্বার রাজশাহীর নিজ নিজ খেলায় জয়লাভ।

খান আব্দুল গাফফার খান  নামটা বর্তমানে খুব একটা পরিচিত নাম নয়।,,,, উৎপল কান্তি ধর utpal Kanti dhor ফেইসবুক থেকে নেওয়া

 # খান আব্দুল গাফফার খান 

নামটা বর্তমানে খুব একটা পরিচিত নাম নয়। 

৩১ শে আগস্ট, ১৯৩৪ বোলপুর স্টেশনে দাঁড়িয়ে ছিলেন রবীন্দ্রনাথ। সাত সকালে যাত্রীদের কৌতূহল ছিল গুরুদেব কি শান্তিনিকেতন ছেড়ে চলে যাচ্ছেন? কিন্তু তখন কলকাতা যাবার কোনও ট্রেন ছিল না। ট্রেন তো চলে গেলো। তাহলে? জানা গেল, তিনি একজন অতিথিকে রিসিভ করতে এসেছেন। 


কে সেই মান্যগণ্য অতিথি! যার জন্যে স্বয়ং গুরুদেব নিজে উপস্থিত স্টেশনে? 


বর্ধমানের দিক থেকে একটি ট্রেন এসে বোলপুরে থামল। দেখা গেল রেলগাড়ির একটি তৃতীয় শ্রেনির কামরা থেকে নামছেন এক দীর্ঘদেহী বলিষ্ঠ পাঠান যুবক। তাঁকে দেখা মাত্র রবীন্দ্রনাথ এগিয়ে গেলেন, ৪৪ বছর বয়স্ক যুবক নত হবার চেষ্টা করতেই ৭৩ বছরের কবিগুরু তাঁকে বুকে জড়িয়ে ধরলেন। 


খান যুবক না হলেও এমন কিছু মধ্যবয়স্ক নন তিনি। কবিপুত্র রথীন্দ্রনাথের চেয়েও দু বছরের ছোট। সেদিনের ওই মানুষটিই হলেন খান আব্দুল গাফফার খান। 


সর্বত্যাগী ফকির, খুব সাধারণ একজন মানুষ হিসেবে রয়ে গিয়েছেন ইতিহাসের পাতায়।

 

স্বাধীনতা আন্দোলনের সেই দিনগুলিতে ভারতের মানুষ তাঁকে চিনতেন ‘সীমান্ত গান্ধী’ হিসেবে। এই মানুষটি শান্তিনিকেতনের কথা শুনেছিলেন গান্ধিজির কাছে। শুনেছিলেন কবিগুরু বোলপুরের কাছে একটি গ্রামে গরীব মানুষের উন্নয়নের জন্যে একটি সংগঠন ও একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন। পেশোয়ার থেকে তাই বড়ো পুত্র আব্দুল গনিকে পাঠিয়েছিলেন শান্তিনিকেতনে লেখাপড়া শিখতে। পুত্রের মাধ্যমে তাঁর সাথে রবীন্দ্রনাথের যোগসূত্র। ১৯৩৪ সালে হাজারিবাগ জেল থেকে মুক্তি পেতেই তিনি বাংলায় আসতে চেয়েছেন। তাঁর আন্তরিক ইচ্ছে কবিগুরুর সাথে একটিবার দেখা করার। 


প্রথমে পাটনা গিয়েছিলেন বাবু রাজেন্দ্রপ্রসাদের কাছে। তখন তিনি স্বাধীনতা সংগ্রামী একজন কংগ্রেস কর্মী। পরবর্তীকালে রাষ্ট্রপতি হয়েছেন। পাটনা থেকে শান্তিনিকেতনে খবর পাঠালেন- খান আবদুল গাফফার খান দেখা করতে চান রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে। তাঁর আগ্রহ শ্রীনিকেতন সম্পর্কেও। 


স্টেশন থেকে কবিগুরু তাঁকে প্রথমে নিয়ে এলেন বিশ্বভারতীর লাইব্রেরী প্রাঙ্গণে। সেখানে সমবেত আশ্রমিক, ছাত্রছাত্রী ও অন্যান্যদের সামনে ‘অতিথি’র পরিচয় করিয়ে বললেন, খান সাহেবের শান্তিনিকেতন সফর আশ্রমবাসীদের জীবনে স্মরণীয় ঘটনা। তিনি যখন কারান্তারালে গিয়েছেন, পুত্রকে পাঠিয়েছেন এখানে লেখাপড়া শেখার জন্য। এতেই প্রমাণ মেলে বিশ্বভারতীর প্রতি তাঁর কতখানি আস্থা ও মমত্ববোধ আছে। তাঁর অনুভুতি আমাদের স্পর্শ করেছে। 


গাফফার খান একদিনের বেশি শান্তিনিকেতনে থাকতে পারেন নি। একদিনেই তিনি শান্তিনিকেতন-শ্রীনিকেতনের প্রতিটি বিভাগ ঘুরেছেন দেখেছেন, নিজের চোখে। পরের দিন শান্তিনিকেতন ত্যাগের আগে সকালে উদয়ন প্রাঙ্গণে কবি তাঁর সংবর্ধনার আয়োজন করেন। সেখানে বাংলা হরফে লেখা তাঁর ভাষণ কবি উর্দুতে পাঠ করেছিলেন। “থোরেসে অরসেকে লিয়ে অপ হামারে ইঁহা তসরিফ লায়ে হৈ ...।”


নিজের হাতে খসড়া করা সেই ভাষণে কবি বলেছিলেন, “অল্পক্ষণের জন্যে আপনি আমাদের মধ্যে এসেছেন। কিন্তু সেই সৌভাগ্যকে আমি অল্প বলে মনে করিনে। আমার নিবেদন এই যে, আমার এ কথাকে আপনি অত্যুক্তি বলে মনে করবেন না যে আপনার দর্শন আমাদের হৃদয়ের মধ্যে নতুন শাক্তি সঞ্চার করেছে। প্রেমের উপদেশ মুখে বলে ফল হয় না, যারা প্রেমিক তাদের সঙ্গই প্রেমের স্পর্শমান। তার স্পর্শে আমাদের অন্তরে যেটুকু ভালবাসা আছে তাঁর মুল্য বেড়ে যায়। 

অল্পক্ষণের জন্যে আপনাকে পেয়েছি কিন্তু এই ঘটনাকে ক্ষণের মাপ দিয়ে পরিমাপ কড়া যায় না। যে মহাপুরুষের হৃদয় সকল মানুষের জন্য, সকল দেশেই যাঁদের দেশ তাঁরা যে কালকে উপস্থিত মতো অধিকার করেন, তাঁকে অতিক্রম করেন, তাঁরা সকল কালের। এখানে আপনার ক্ষণিক উপস্থিতি আশ্রমের হৃদয়ে স্থায়ী হয়ে রইলো”। 


সংবর্ধনার উত্তরে গাফফার খান সেদিন বলেছিলেন, “গুরুদেব” তাঁকে যে আন্তরিক সংবর্ধনা জানিয়েছেন, তাতে তিনি অভিভুত। এখানে আশার আগে যা শুনেছিলেন, নিজের চোখে দেখে মনে হচ্ছে তাঁর চেয়েও মহৎ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। কবি এখনে যে আদর্শ অনুসরন করেছেন, তাঁর ভিত্তিতে ভারত উন্নতির পথ খুঁজে পাবে। ধর্মের অপবাখ্যার মধ্য দিয়েই সাম্প্রদায়িক মনোভাবের বিষবাষ্প ছড়িয়ে পড়ে, এর জন্যই ভারতের জনগণের আশা আকাঙ্ক্ষার পূর্ণতায় বাধা আসছে। 


গাফফার খান শান্তিনিকেতন থেকে চলে যাবার পর রবীন্দ্রনাথ একটি পত্রে তাঁর সম্পর্কে গান্ধিজিকে লিখেছিলেন- ‘এক অকপট সরলতার’ মানুষ। রবীন্দ্র প্রয়াণের খবর পেয়ে এই মানুষটি পেশোয়ার থেকে কবিপুত্র রথীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে জানিয়েছিলেন, 


 Peshaar 12th Aug. 1941

Dear Mr. Tagore,

 I am deeply grieved to hear of the sad demise of Gurudev. In him India has truly lost the greatest philosopher, poet and a nationalist. I heartily condole with you in your sad bereavement. May God bless his soul and give strength in your preasent trial. 

Yours sincerely, 

Abdul Ghaffar Khan


পঁইত্রিশ বছর পর গাফফার খান আবার শান্তিনিকেতন এসেছিলেন। তখন তাঁর বয়স ৭৯। ক্লান্তিময় বার্ধক্য জাঁকিয়ে বসেছে শরীরে। পাকিস্থান সৃষ্টির ১৭ বছরের মধ্যে ১৫ বছর কেটেছে তাঁর কারাগারে। তিনি ‘হিন্দু ও বিশ্বাসঘাতক’ এই ছিল তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ। অধিকাংশ সময় নির্জন কারাগার, নয়ত নজরবন্দি। ১৯৬৪ সালে স্বেছা নির্বাসন বেছে নিয়েছিলেন আফগানিস্থানের একটি ছোট গ্রাম জালালাবাদে।স্থির করেছিলেন সেখানেই বাকি জীবন কাটাবেন রবীন্দ্রনাথ ও গান্ধিজির জীবনদর্শন সম্বল করে। 


১৯৬৯ সালে গান্ধি জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন কমিটির সভাপতি জয়প্রকাশ নারায়ণ তাঁকে ভারতে আসার আমন্ত্রণ জানান।তিনি সে অনুরোধ অগ্রাহ্য করতে পারেন না। স্বাধীনতা প্রাপ্তির বাইশ বছর পর বিপর্যস্ত স্বপ্ন ও আদর্শ আর ভাঙা মন নিয়ে তিনি ভারতের মাটিতে পা রেখেছিলেন। দিল্লিতে নেহেরু কন্যা প্রিয় ইন্দুকে বলেছিলেন তাঁকে যেন শান্তিনিকেতন যাওয়ার সুযোগ করে দেওয়া হয়। 


শান্তিনিকেতন কেন?


মৃদু হেসে উত্তর দিয়েছিলেন, কেন জানো? ১৯৩৪ সালে প্রথম যখন যাই, গুরুদেবের কাছ থেকে স্নেহ ভালবাসা পাবার সৌভাগ্য হয়েছিল আমার। 


১৪ ডিসেম্বর, ১৯৬৯। আগের মতোই রেলের একটি তৃতীয় শ্রেনির কোচ মধ্যরাত্রে বোলপুর স্টেশনে এসেছিল তাঁকে নিয়ে। বাকি রাত সেটি সাইডিং-এ রেখে দেওয়া হয়। গাফফার খান সেখানেই ছিলেন। পরদিন ১৫ ডিসেম্বর সকাল আটটায় তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী অজয় মুখার্জি তাঁকে সেখান থেকে নিয়ে যান শান্তিনিকেতনে। তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় উদয়নের সেই ঘরে, যে ঘরে ৩৫ বছর আগে রবীন্দ্রসান্নিধ্যে কেটে ছিল তাঁর একটি দিন।

তারপর তাঁকে বিশ্বভারতীর আম্রকুঞ্জে চিরাচরিত ধারায় সংবর্ধনা দেওয়া হয়। 


উত্তরে সেদিনও বলেছিলেন, ৩৫ বছর আগে আমি যখন প্রথম এখানে এসেছিলাম গুরুদেবের যে স্নেহ, ভালবাসা পেয়েছি তা আমার অন্তরে আজও বিরাজমান।


তিনি আশ্রমিকদের হোস্টেল, কলাভবন, বিচিত্রা দেখেন। বিচিত্রায় একটি কাঠ খোদাই মানবমূর্তির সামনে দাঁড়ালে তাঁর চোখ থেকে জল গড়িয়ে নামে। বারবার চোখ কচলে মূর্তিটি পরখ করেন। এ মূর্তি যে গড়েছেন তাঁর পুত্র নন্দলাল শিষ্য আবদুল গনি। 


তিনি ঘুরলেন শ্রীনিকেতন। বহু মানুষ উপস্থিত হয়েছিলেন তাঁকে দেখতে। ছোট একটি বক্তৃতাও দেন। ফেরার পথে উপাচার্য কালিদাস ভট্টাচার্যর কাছে সাঁওতাল পল্লী দেখাবার অনুরোধ করলেন। 

তাঁকে নিয়ে যাওয়া হোল ভুবনডাঙ্গায়।


সাঁওতালদের সাথে গাফফার খান মিলিত হলেন। জানতে চাইলেন, স্বাধীনতার আগে যেমন আপনাদের দিন কাটত, তাঁর কি কোনও পরিবর্তন হয়েছে? স্বাধীনতা কি আপনাদের জীবনের স্বাদ বদলে দিতে পেরেছে? 


দোভাষীর মাধ্যমে তিনি যে জবাব পেয়েছিলেন তাতে তাঁর মুখের হাসি মিলিয়ে গিয়েছিলো। হায় গুরুদেব! হায় স্বাধীনতা! 


বুক ভরা আক্ষেপে শুধু এক টুকরো শান্তি ছিল তাঁর শান্তিনিকেতন সফর। ১৯৮৮-র ২০ জানুয়ারি তিনি প্রয়াত হন।


কৃতজ্ঞতা স্বীকার::white Politics

রুচির রঙ্গরস ফেইসবুক থেকে নেওয়া

 — এই বিট্টু, কোন কলেজে ভর্তি হলি?

— এই তো টেকনো ইন্ডিয়ায়।

— এহ, বেসরকারী কেন রে?

— আরে এইবার কলেজে ভর্তির ফর্ম ফিল আপটা কেমন যেন উল্টোপাল্টা টাইপের। তাই ভালো কলেজ পেলাম না। তাই বাধ্য হয়েই আর কি.. তুই কোন কলেজে পেলি?

— আমি তো সুরেন্দ্রনাথ কলেজে।

— বাঃ ভালোই। 

— ভালো আর কোথায়...তোর কলেজে কত্ত মেয়ে শালা। টেকনোতে হেব্বি হেব্বি মেয়ে পড়ে। আমি রুখা-সুখা থাকব।

— আহা চাপ নিস না। তোর লাইন আমি লাগিয়ে দেব। 

— এই নাহলে বন্ধু!! 


আহঃ, এটাই তো প্রেমে পড়ার বয়স। আঠেরো উনিশ বছর বয়স। নতুন কলেজ। চারদিকে প্রেম যেন উড়ে বেড়াচ্ছে। প্রেম আর পলিটিক্সে ঢোকার এই তো উত্তম বয়স। এই বয়সে কলেজে উঠে শুরু হয় ইউনিয়ন। আর ইউনিয়নের একটু বড় পদে গেলে নাকি মেয়েদের লাইন লেগে যায়। চলো ফিরে যাওয়া যাক ১১৬ বছর আগে। মেদনীপুরের কলেজিয়েট স্কুলের এক স্টুডেন্ট। সে রামকে যতটা না চেনে তার চেনে বেশি চেনে সত্যেন্দ্রনাথ বসুকে, ওর স্কুলের হেডমাস্টার। ছেলেটার জীবনে প্রেম এনেছিল ওই মাষ্টারমশাই, দেশপ্রেম। এখনকার ছেলেমেয়েরা প্রেম বলতে যা বোঝে তার চেয়ে অবশ্য অনেক বেশি কিছু। যাইহোক। ওর জীবনে প্রেম তো এলো। আর আগুন জ্বালিয়ে দিয়ে গেল ওর জীবনে। 

ইতিহাসের পাতায় সময়টা ১৯০৫ সাল, বাংলা মায়ের বুক চিরে দুভাগ করার জন্য ব্রিটিশ সরকার তখন প্রস্তুত। সারা বাংলায় চলছে বিপ্লব, বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলন। পূর্ববঙ্গ ও আসামের গভর্নর 'ফুলার' বিপ্লবী সন্দেহে সাধারণ ভারতবাসীর উপর অকথ্য নির্যাতন শুরু করেন। আর এদিকে  বাংলার গভর্নর 'ফ্রেজার' ও শোষণ আর অত্যাচারের দিক দিয়ে কোনো অংশে পিছিয়ে ছিলেন না। বিপ্লবী 'যুগান্তর দলের' সদস্যরা এই দুই গভর্নর কে হত্যা করার চেষ্টা করলেও ব্যর্থ হন। এবার তাদের লক্ষ্য হয়ে ওঠে কলকাতা প্রেসিডেন্সির ম্যাজিস্ট্রেট,  অত্যাচারী 'কিংসফোর্ড'। কিংসফোর্ড বিপ্লবীদের মূল লক্ষ্য  হয়ে উঠেছেন এই সংবাদ পেয়েই ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ তাকে তড়িঘড়ি মুজাফফরপুর বদলি করে দেয় কিন্তু বিপ্লবীরা তাদের সিদ্ধান্ত থেকে পিছুপা হননি।

৩০ শে এপ্রিল ১৯০৮ বিহারের মোজাফ্ফরপুরে রাত্রি আটটা ত্রিশ মিনিটে রাতের অন্ধকারে, এক হাতে বোমা এবং অন্য হাতে পিস্তল নিয়ে, ১৮ বছরের ছেলেটা কিংসফোর্ডকে হত্যা করার জন্য অপেক্ষা করছিল, সঙ্গে ছিল দীনেশ। যখন তারা দেখল কিংসফোর্ডের গাড়ি আসছে, তখন বোমা ছুঁড়ে মারল আর সঙ্গে সঙ্গেই সেই গাড়ি জ্বলে পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু দুঃখের বিষয় সেদিন সেই গাড়িতে কিংসফোর্ড ছিল না। সেইদিন সেই গাড়িতে ছিল, মিসেস কেনেডি ও তার কন্যা। ব্যস ইংরেজদের রাতের ঘুম উড়ে যায়। 

 সেই ছেলেটা আর দীনেশকে ধরার জন্য ইংরেজ সরকার একশত কুড়ি টাকা (বর্তমান মূল্যে প্রায় ১.২ কোটি) পুরস্কার ঘোষণা করে দেন। ছেলেটা এবং দীনেশ দুজনে আলাদা আলাদা রাস্তা অবলম্বন করলেন। কিন্তু তাঁরা দুজনেই ইংরেজদের কাছে ধরা পড়ে যান। ইংরেজদের হাতে পড়ার আগে দীনেশ পিস্তলের গুলিতে নিজেকে হত্যা করেন। তবুও ব্রিটিশ সরকারের হাতে ধরা দিলেন না। অন্য দিকে ছেলেটা ইংরেজদের কড়া পাহারা থাকা সত্ত্বেও পঁচিশ মাইল (প্রায় ৪০ কিমি) রাস্তা পায়ে হেঁটে ওয়াইনি রেল স্টেশনে এক চায়ের দোকানে জল খেতে ঢুকলে সেখানে তাকে দেখে ইংরেজদের সন্দেহ হয় এবং তাঁর দেহ তল্লাশি করে একটা পিস্তল ও ৩৭ রাউন্ড গুলি পায় এবং তাঁকে ইংরেজরা গ্রেফতার করে।

একটা কলেজের ফার্স্ট ইয়ারে পড়ার বয়সী ছেলের এতবড় সাহস!! আরেহ কোথায় সাহস দেখলেন? 

ধরা পড়ার পর বোমা নিক্ষেপের সমস্ত দায় নিজের ওপর নিয়ে নেয় ছেলেটা। অন্য কোন সহযোগীর নাম বা কোন গোপন তথ্য শত অত্যাচারেও প্রকাশ করেননি। মজফফরপুর আদালতে ছেলেটার বিচার কাজ শুরু হলো ০৮ জুন ১৯০৮। কিন্তু সারা পশ্চিমবাংলা থেকে কোন আইনজীবী মামলায় আসামী পক্ষের হয়ে কোন আইনজীবী আদালতে দাঁড়াতে সাহস পাননি। তখন পূর্ব বঙ্গ থেকে রংপুর বারের উকিল সতীশ চন্দ্র চক্রবর্তী, কুলকমল সেন ও নগেন্দ্রনাথ লাহিড়ী ছেলেটার পক্ষে মামলায় পরিচালনায় এগিয়ে আসেন।  ইতোমধ্যে বিচারকের অনুরোধে কালিদাস বসু নামে স্থানীয় এক আইনজীবী এগিয়ে আসেন আসামী পক্ষে। ৬ দিন চললো বিচার অনুষ্ঠান। বিচারের শুরুতেই ছেলেটা স্বীকার করে সবকিছু আর সব দোষ নিজের ঘাড়ে নেয়। ভারতীয় দণ্ডবিধি আইনের ৩০২ ধারা অনুযায়ী প্রানদণ্ডের রায় শোনার পরে দেখা যায় ছেলেটার মুখে হাসি।  বিচারক কর্নডফ তাকে প্রশ্ন করেন, তাকে যে ফাঁসিতে মরতে হবে সেটা সে বুঝেছে কিনা? উত্তরে ছেলেটা শুধু হাসে। ১৯০৮ সালের ১১ আগষ্ট। ভোর চারটে। একজন পুলিশ তাকে জিজ্ঞেস করে:

-এখন ভোর চারটে। আর কিছুক্ষণ পরেই আপনার ফাঁসি হবে। ভয় করছে না?

- আমি গীতা পড়েছি। তাই মৃত্যুকে আমি ভয় করি না।


একজন আঠারো বছর আট মাসের ছেলের বলা। খুব ঔদ্ধত্য তাই না? আরেহ ঔদ্ধত্য কোথায় দেখলেন! ফাঁসিতে তোলার আগে তাকে জিজ্ঞেস করা হয়, তোমার শেষ ইচ্ছে কী? তার উত্তর ছিল, "আমি ভালো বোমা বানাতে পারি, মৃত্যুর আগে সারা ভারতবাসীকে সেটা শিখিয়ে দিয়ে যেতে চাই।

বিপ্লবীরা কোন দলের না, কোন গোত্রের না, যেখানে স্বৈরাচার সেখানেই বিপ্লবীরা সোচ্চার! ক্ষুদিরাম, প্রীতিলতারা সব সময় ছিল, আছে। ওদের মেরে ফেললে বিপ্লব অবসম্ভবী! মৃত্যুঞ্জয়ীদের গুলি করে মারা যায় না তারা রক্তবীজের মত হাজার হাজার হয়ে ফিরে আসে।

.

.

. কলমে ✍️✍️✍️  সব্যসাচী 


সংগৃহীত


ছবি - 🖼️ অলোক ভট্টাচার্য।

সোমবার, ২৭ জানুয়ারি, ২০২৫

হিজাব কী? হিজাব শব্দটির বিবর্তিত অর্থ এখন এরকম— লজ্জাস্থান ঢেকে ও মুখ খোলা রেখে আরামদায়ক পোশাক-আশাক পরিধান করা

 যিনি নিকাব (বুরকা) পরেন, তিনি টেলিভিশনে অন্যকে কন্ঠ শোনাবেন কেন? যারা মুখ না দেখানোতে বিশ্বাস করেন, তারা কন্ঠ শোনানোতে বিশ্বাস করতে চান কেন? পরপুরুষ কন্ঠ শুনতে পারবে না— এটা ভুলে যেতে চায় কেন? চ্যানেল আই সঠিক কাজ করেছে। নিকাব আর হিজাব এক জিনিস নয়।


//


‘বুরকা’ ও ‘হিজাব’— এ দুটি বিষয়কে মুসলিমরা প্রায়ই গুলিয়ে ফেলে। ভাবে, হিজাব মানেই বুরকা। আসলে তা নয়। বুরকা হলো কোনো বিশেষ কারণে মাথা ও মুখ ঢেকে চলাফেরার পোশাক। বুরকার সাথে ইসলামের কোনো সম্পর্ক নেই। পৃথিবীতে ইসলাম আসার বহু আগে থেকেই বুরকা ছিলো। আরব পৌত্তলিকদের একটি অংশ বুরকা পরতো। বাইজেন্টিন নারীরাও বুরকা পরতো। সেদিক থেকে বুরকা মূলত অমুসলিমদের পোশাক। 


বুরকা প্রধানত পরা হতো— (ক) তীব্র রোদ ও বৈরি আবহাওয়া থেকে রক্ষা পেতে; (খ) গুপ্তচরবৃত্তি, চৌর্যবৃত্তি, ও চোরাকারবারের সহায়ক পরিধেয় হিশেবে; (গ) সম্মানজনক নয়, এমন পেশায় নিয়োজিত নারীদের রক্ষাকবচ হিশেবে; (ঘ) হারেমখানায় স্ত্রীর মর্যাদা পান নি, এমন নারী ও যৌনদাসীদের পরিচয় আড়ালকারক হিশেবে; এবং (ঙ) নেকাব দ্বারা চোখের সৌন্দর্য ফুটিয়ে তুলতে (কারণ আরব নারীদের চোখ সুন্দর ছিলো)।

 

তবে বুরকা শুধু মাথা বা মুখের হয় না। পায়েরও হয়। যেমন চীনা নারীরা পা দেখাতে চায় না। তাদের জন্য জুতা একপ্রকার বুরকা।


ইসলামের শুরুর দিকে ‘হিজাব’ বা ‘পর্দা’ বলতে আড়ালকারক চাদর ও দেয়াল বুঝাতো। তখন বহুকক্ষবিশিষ্ট ঘর-বাড়ি আরবে ছিলো না। মসজিদে এতেকাফের সময় চাদর টাঙ্গিয়ে যেভাবে আলাদা কক্ষ তৈরি করা হয়, সেভাবে হিজাব টাঙ্গিয়ে ঘরের ভেতর সাময়িক কক্ষ সৃষ্টি করা হতো। নবী যখন তাঁর ঘরে স্ত্রী-কন্যাদের নিয়ে একসাথে থাকতেন, তখন প্রায়ই সাহাবিরা গল্পগুজব করতে আসতো। দূর থেকে মেহমানরা দেখা-সাক্ষাৎ করতে আসতো। একটি ছোট ঘরে হুটহাট অপরিচিত মানুষজন আসায় নবী পরিবারের নারী সদস্যরা বিব্রত বোধ করতেন। এ জন্য হিজাব টাঙ্গিয়ে, অর্থাৎ ঘরের মাঝখানে চাদর-সদৃশ কাপড় টাঙ্গিয়ে, নারী সদস্যদের প্রাইভ্যাসি দেয়া হতো। 


কিন্তু নবীর ওফাতের পর হিজাব শব্দটিকে কোরানের বিভিন্ন আয়াতের সাথে মিশিয়ে এর অর্থ ও পরিধি বাড়ানো হয়েছে। বিকৃত করা হয়েছে আসল রূপ। খিমার, জিলবাব, প্রভৃতি বিষয়কে হিজাবের সাথে জুড়ে দেয়া হয়েছে। যে-আয়াতগুলো কেবল নবীর স্ত্রী-কন্যার জন্য প্রযোজ্য, সে-আয়াতগুলোকেও সাধারণ নারীদের ওপর চাপানো হয়েছে। এ কৃতিত্ব মতলববাজ ধর্মবণিকদের।


নবীর কোনো স্ত্রী ও কন্যা বুরকা পরতেন না। তাঁর স্ত্রী খাদিজা মুখ খোলা রেখে চলাফেরা করতেন। তিনি স্বাধীনভাবে ব্যবসা-বাণিজ্যও করতেন। নিয়মিত হাট-বাজারে যেতেন। ইসলামের নামে অতিরঞ্জিত কিছু পালন করা ইসলামসম্মত নয়। কোরানে কোথাও নারীদেরকে বুরকা পরতে নির্দেশ দেয়া হয় নি। বরং কিছু আয়াত পড়ে মনে হয়েছে, বুরকা একটি ইসলাম-বিরোধী পোশাক।


এই মুহুর্তে বিশ্বের অনেকগুলো দেশে বুরকা নিষিদ্ধ। কারণ আধুনিক রাষ্ট্রে বুরকা একটি গুরুতর নিরাপত্তা হুমকি। বুরকা নিষিদ্ধ মানেই হিজাব নিষিদ্ধ নয়। ফ্রান্স বুরকা নিষিদ্ধ করেছে, যেরকম নিষিদ্ধ করেছে মরক্কোসহ আরও অনেক মুসলিম দেশ, কিন্তু এ দেশগুলো হিজাব নিষিদ্ধ করে নি। কোথাও “অমুক দেশ হিজাব নিষিদ্ধ করেছে”— এমন শোরগোল শুনলে বুঝতে হবে, মতলববাজরা ভুল তথ্য প্রচার করছে। সঠিক তথ্য হবে— অমুক দেশ বুরকা নিষিদ্ধ করেছে। ইসলামে হিজাব আছে, বুরকা নেই। 


সম্প্রতি লক্ষ করেছি, বাংলাদেশ পুলিশ প্রায়ই বুরকা পরা ইয়াবা ও গাঁজা-ব্যবসায়ী আটক করছে। ছেলেরা বুরকা পরে মেয়ে সেজে মাদক ব্যবসা করছে। সেদিক থেকে দেখলে বুরকা শুধু ইসলামবিরোধী পোশাক নয়, এটি একটি জনবিরোধী পোশাকও বটে। 


কেউ বুরকা পরতে চাইলে পরুক, এতে আমার আপত্তি নেই। কিন্তু উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ চাহিবামাত্র তাকে নেকাব সরিয়ে মুখমণ্ডল প্রদর্শন করতে হবে। 'পরিচয় যাচাই' বা 'আইডি ভেরিফিকেশন' খুবই গুরুত্বপূর্ণ 'পাবলিক ইন্টারেস্ট'। আধুনিক রাষ্ট্রে মানুষের স্বাধীনতা অবাধ নয়। স্বাধীনতার সীমানা আছে। কারও ব্যক্তিগত ও ধর্মীয় স্বাধীনতা 'পাবলিক ইন্টারেস্ট'-এর সাথে সাংঘর্ষিক হতে পারবে না। পাবলিক সিকিউরিটি, রুল অব ল, ফেয়ারনেস অব জাস্টিস— এ বিষয়গুলো রাষ্ট্রব্যবস্থার খুব গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। এগুলোকে ফাঁকি দিতে ধর্মীয় স্বাধীনতার দোহাই দেয়া গ্রহণযোগ্য নয়।


বুরকা নারীর ব্যক্তিত্বকেও নষ্ট করে। বুরকা পরা নারীদের অনেকেই 'লো সেল্ফ-ইস্টিম' বা হীনম্মন্যতায় ভোগেন। তাদের সাহস, মনোবল, ও আত্মবিশ্বাস কম থাকে। এ জন্য নারীদের উচিত, যথাসম্ভব বুরকা পরিহার করা। বুরকা ইসলামের কোনো অংশ নয়। একটি বিশেষ মহল বুরকাকে ইসলামি পোশাক বলে প্রচার করছে। বুরকা পরার সাথে আল্লাহকে পাওয়ার, বা বেহেশতে যাওয়ার কোনো সম্পর্ক নেই। কাউকে বুরকা পরতে বাধ্য করা, বা সারাক্ষণ ধর্মের ভয়ে বুরকা পরা, এগুলো আল্লাহর পছন্দের কাজ নয়। নবীর জীবদ্দশায় মুসলিম নারীরা রঙিন ও জাঁকজমকপূর্ণ পোশাক পরতেন। 


হিজাব কী? হিজাব শব্দটির বিবর্তিত অর্থ এখন এরকম— লজ্জাস্থান ঢেকে ও মুখ খোলা রেখে আরামদায়ক পোশাক-আশাক পরিধান করা। শাড়ি, সালওয়ার-কামিজ, প্যান্ট, টি-শার্ট, চাদর, স্কার্ট, ব্লাউজ, এগুলো সবই হিজাব। হিজাব মানেই চোখ-মুখ ঢেকে ফেলা নয়। খিমার, জিলবাব, যিনাতাহুন্না, এসবের সাথে চোখ-মুখ ঢাকার কোনো সম্পর্ক নেই।


—মহিউদ্দিন মোহাম্মদ 

পৃষ্ঠা ২৪-২৭, বই: মূর্তিভাঙা প্রকল্প


নারী স্বাস্থ্য সচেতনতা: মহিলা প্রজননতন্ত্রের রহস্য উদঘাটন

 নারী স্বাস্থ্য সচেতনতা: মহিলা প্রজননতন্ত্রের রহস্য উদঘাটন 🌺 আমাদের শরীরের প্রতিটি অংশই অবিশ্বাস্যভাবে সুনির্দিষ্ট এবং জটিল, বিশেষ করে যখন ...