এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

শনিবার, ২৬ এপ্রিল, ২০২৫

একজন ধনী ব্যবসায়ী, দামি গাড়ি চেপে রাস্তায় যাচ্ছিলেন

 ❣️💕 একজন ধনী ব্যবসায়ী, দামি গাড়ি চেপে রাস্তায় যাচ্ছিলেন। হঠাৎ চোখে পড়ে ফুটপাতের এক কোণে, ইটের ওপর মাথা রেখে গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন এক ব্যক্তি। প্রচণ্ড রোদ, ধুলাবালি, গাড়ির আওয়াজ—তবুও ঘুম কেমন করে আসে লোকটার ?


জানালা নামিয়ে তিনি এগিয়ে গেলেন, ডাকলেন, —এই যে শুনছেন ?


ধড়মড় করে উঠে লোকটি বলে, — অ্যা... কি হয়েছে স্যার ?


—এই গরমে, এই জায়গায় ঘুমোচ্ছেন কেন ? ঘর নেই ?


লোকটি হেসে বলে, — ঘর আছে স্যার, গ্রামে। ভোরে উঠে শহরে পেন বিক্রি করতে আসি। বিকেলে ফিরে যাই। ঘুম পেয়েছিল তাই একটু চোখ লেগে গিয়েছিল।


ব্যবসায়ী জানতে চাইলেন, —আজ কেমন বিক্রি হলো?


—দেড়শো টাকা। সন্ধ্যায় আবার এক গ্যারাজে কাজ করি, কিছু টাকা আসে। সংসার চলে যায় কোনোভাবে। তবে মেয়েটা কয়েকদিন ধরে অসুস্থ, জ্বর যাচ্ছে না।


ভদ্রলোক পকেট থেকে পাঁচশো টাকা বের করে বললেন, —এই নাও, মেয়ের জন্য কিছু ফল কিনে নিও।


লোকটি টাকা নিতে অস্বীকার করে বললো, —আমার কাছে টাকা আছে স্যার। এমনি এমনি নেবো না। আপনি বরং আমার কাছ থেকে একটা পেন কিনুন। এই পেনে খুব সুন্দর গন্ধ আছে।


ব্যবসায়ী মুগ্ধ হয়ে কিছুক্ষণ ভেবে বললেন, —তুমি সৎ মানুষ। আমি তোমাকে ৫০ হাজার টাকা দিতে চাই, এমনি নয়। আমার হোলসেল কাপড়ের দোকান থেকে কাপড় নিয়ে বিক্রি করো। যদি মন দিয়ে কাজ করো, তিন মাস পর আবার দেবো ৫০ হাজার। তখন নিজে দোকান দিতে পারবে।


লোকটি বিস্মিত হয়ে বললো, —আপনি তো আমাকে চেনেন না, তবুও এত টাকা?


ভদ্রলোক হাসলেন, —এই সামান্য টাকা আমার কিছু যায় আসে না। কিন্তু তোমার জীবনে যদি এই সামান্য দিয়েই পরিবর্তন আসে, তবেই তো এর মূল্য।


...কয়েক বছর কেটে গেছে...


সেই পেনওয়ালা এখন সফল ব্যবসায়ী। শহরে তিনটি দোকান, ফ্ল্যাট, গাড়ি সবই আছে। একদিন হঠাৎ ডাক্তারের চেম্বারে দেখা হলো সেই উপকারী ভদ্রলোকের সঙ্গে।


—এই যে ভাই! তুমি এখানে ?


—স্যার, চেকআপে এসেছি। সুগার-প্রেশার ধরেছে। ঘুম হয় না মোটেও।


ভদ্রলোক মুচকি হেসে বললেন, —সেদিন তো রাস্তায় দেড়শো টাকা নিয়েও নিশ্চিন্তে ঘুমোচ্ছিলে! আজ এত কিছু নিয়েও ঘুম আসছে না ?


পেনওয়ালার চোখে ক্লান্তি। —সত্যি স্যার, আগে হারানোর ভয় ছিল দেড়শো টাকা হারানোর। এখন কোটিপতি হয়েও স্ট্যাটাস হারানোর ভয়। আগে এক বউ আর এক মেয়ে ছিল। এখন অনেক আত্মীয়, বন্ধুবান্ধব। সবাইকে খুশি রাখতে হয়। আগে ডাল-ভাতে চলত, এখন বাসমতি চাল, মাছ, মাংস চাই। আগে ছোট জিনিসে খুশি হতো সবাই, এখন হাজারে একও খুশি হয় না। এত চাহিদা, এত চিন্তা—ঘুম আসে কীভাবে ?


ভদ্রলোক শান্ত গলায় বললেন, —আমি তো এই সমস্যায় বহুদিন ভুগেছি। একদিন আমার গুরুদেব বললেন, "একজন সৎ, গরিব অথচ নিশ্চিন্ত মানুষকে সাহায্য করো, দেখবে শান্তি পাবে। ঘুম আসবে। সুস্থ থাকবে।"


পেনওয়ালার চোখে বিস্ময়: —তাহলে স্যার, সেই কারণেই আপনি আমাকে সাহায্য করেছিলেন ?


ভদ্রলোক শুধু একটু হেসে চুপ করে রইলেন ।

আর পেন ওয়ালা দ্রুত গাড়ি নিয়ে বের হয়ে পড়ল,,,,, তার চোখ এখন শুধু ফুটপাতের দিকে। ❣️💕💞

চট্টগ্রাম জেলার ১০৬টি দর্শনীয় স্থানঃ 

 চট্টগ্রাম জেলার ১০৬টি দর্শনীয় স্থানঃ 🔵


১. পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত

২. ফয়েজ লেক

৩. মহামায়া লেক

৪. চন্দ্ৰনাথ পাহাড় ও মন্দির

৫.  বাঁশবাড়িয়া সমুদ্র সৈকত

৬. গুলিয়াখালী সমুদ্র সৈকত

৭. কুমিরা ঘাট

৮. ভাটিয়ারী লেক

৯. বাঁশখালী সমুদ্র সৈকত

১০. সোনাইছড়ি ট্রেইল

১১. সুপ্তধারা ঋণী

১২. নাপিত্তাছড়া ঝর্ণা

১৩. লালদীঘি

১৪. খেজুরতলা বীচ

১৫. আকিলপুর সী-বিচ

১৬. খৈয়াছড়া ঝর্ণা

১৭. ঝরঝরি ঝর্ণা

১৮. কমলদহ ঝর্ণা

১৯. সোনাইছড়া ঝর্ণা

২০. বোয়ালিয়া ঝর্ণা

২১. বাওয়াছড়া লেক

২২. হরিণমারা হাঁটুভাঙ্গা ট্রেইল

২৩. হাজারিখিল অভয়ারণ্য

২৪. বাঁশখালী ইকোপার্ক

২৫. কালুরঘাট ব্রিজ

২৬. চট্টগ্রাম ওয়ার সিমেট্রি

২৭. বেলগাঁও চা বাগান

২৮. সহস্র ধারা ঝর্ণা

২৯. চট্টগ্রাম ডিসি পার্ক

৩০. জাম্বুরী পার্ক

৩১. ডিসি হিল / নজরুল স্কয়ার

৩২. সিআরবি পাহাড়

৩৩. ছাগল কান্দা পাহাড়

৩৪. চেরাগি পাহাড়

৩৫. চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানা

৩৬. হযরত বায়েজিদ বোস্তামী (রঃ) মাজার

৩৭. হযরত শাহ আমানত (রঃ) মাজার

৩৮. চালন্দা গিরিপথ

৩৯. বোটানিক্যাল গার্ডেন এবং ইকোপার্ক, সীতাকুণ্ড

৪০. আন্দরকিল্লা শাহী মসজিদ

৪১. জাতিতাত্ত্বিক জাদুঘর

৪২. পারকি সমুদ্র সৈকত

৪৩. শেখ রাসেল এভিয়ারি ইকো পার্ক

৪৪. বুদবুদির ছড়া

৪৫. মুহুরী প্রজেক্ট

৪৬. সন্দ্বীপ

৪৭. কল্পলোক বীচ

৪৮. বাড়বকুণ্ড

৪৯. নেভাল একাডেমি এবং নেভাল এরিয়া

৫০. চেরাগি পাহাড় মোড় (স্মৃতি মিনার)

৫১. কালুরঘাট বেতার

৫২. পার্কির চর 

৫৩. বৌদ্ধ তীর্থ স্থান চক্রশালা, পটিয়া

৫৪. বাটালী হিল

৫৫. কর্ণফুলী টি গার্ডেন

৫৬. মিনি বাংলাদেশ এবং স্বাধীনতা কমপ্লেক্সে

৫৭. মহামুনি বৌদ্ধ বিহার

৫৮. রাঙ্গুনিয়া কোদালা চা বাগান

৫৯. বাটারফ্লাই পার্ক

৬০. অভয়মিত্র ঘাট

৬১. ফিশারি ঘাট

৬২. কর্ণফুলী টানেল

৬৩. খানখানাবাদ সমুদ্র সৈকত, বাঁশখালী

৬৪. খিরাম সংরক্ষিত বনাঞ্চল, ফটিকছড়ি

৬৫. লোহাগাড়া বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য 

৬৬. চুনতি বন্যপ্রাণ অভয়ারণ্য

৬৭. বারৈয়াঢালা জাতীয় উদ্যান

৬৮. বেলগাঁও চা বাগান, পুকুরিয়া, বাশখালী 

৬৯. বিপ্লব উদ্যান, শহর

৭০. খেজুরতলা পর্যটন কেন্দ্র

৭১. বাশখালি চা বাগান

৭২. আশুনিয়া চা বাগান

৭৩. চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

৭৪. ভুজপুর সংরক্ষিত বনাঞ্চল

৭৫. কর্ণফুলী নদী

৭৬. চট্টগ্রাম বন্দর

৭৭. চারুলতা পার্ক, শহর

৭৮. রানী রাসমনি ঘাট

৭৯. হামিদ চর

৮০. আরসি নগর ফিউচার পার্ক

৮১. শেখ রাসেল শিশু পার্ক

৮২. রেলওয়ে জাদুঘর

৮৩. জিয়া স্মৃতি জাদুঘর

৮৪. কর্ণফুলী নতুন ব্রীজ

৮৫. জাতিসংঘ পার্ক

৮৬. ঠাণ্ডাছড়ি পিকনিক স্পট

৮৭. আগ্রাবাদ কর্ণফুলী শিশু পার্ক

৮৮. ভাটিয়ারী গলফ ও কান্ট্রি ক্লাব

৮৯. কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র

৯০. কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার

৯১. গুপ্ত জমিদার বাড়ি

৯২. চাকমা রাজবাড়ি

৯৩. প্রসন্ন কুমার জমিদার বাড়ি

৯৪. পরৈকোড়া জমিদার বাড়ি

৯৫. ভুজপুর জমিদার বাড়ি

৯৬. সত্য সাহার জমিদার বাড়ি

৯৭. চট্টগ্রাম তোরণ

৯৮. মাইজ ভান্ডার দরবার শরীফ

৯৯. শমসের গাজীর কেল্লা

১০০. আমানত শাহ দরগাহ

১০১. ভুজপুর রাবার ড্যাম

১০২. হারুয়ালছড়ি রাবার ড্যাম

১০৩. দাঁতমারা রাবার বাগান বা সেলফি রোড

১০৪. বাগানবাজার রাবার বাগান

১০৫. হালদা নদী

১০৬. বায়েজিদ লিংক রোড


কতগুলো জায়গা ঘুরে দেখেছেন?


ক্রেডিট:স্বপ্ন ছুঁই-Travel's (CSCT)

নাগিন_কন্যা

 মানুষের গর্ভে সাপের বাচ্চা জন্ম গ্রহন করতে পারে! এত অবিশ্বাস্য কথা। কিন্তু এই কথাটাই পুরো গ্রামে বলে বেড়াচ্ছে দাই রহিমের মা। তার ভাষ্যমতে গভীর রাতে ওকে ডাকতে আসে রাইমার শাশুড়ি। রাইমা পোয়াতি , ছটফট করছে। দ্রুত বুড়ি দাই রাইমার শাশুড়ির সাথে তাদের বাড়ি যায়। রাইমার কাছে যেতেই বুঝতে পারেন সন্তান প্রস্রোবের সময় হয়ে এসেছে। প্রয়োজনীয় সব কিছুর ব্যবস্থা করতে ছুটে যান রাইমার শাশুড়ি। রাইমার পাশে তখন শুধু দাই। ঘরে দুটো হারিকেন আর একটা কুপি জ্বলছে। 


রাইমা প্রস্রোবের ব্যথায় গোঁঙাচ্ছে। বুড়ি দাই ওকে শান্ত করার চেষ্টা করছেন। এমন সময় বুঝে গেলেন চরম মুহূর্ত উপস্থিত। এখন বাচ্চাটার মাথা টেনে বের করতে হবে। প্রথমে একটা মানুষের বাচ্চার মতোই মাথা বেরিয়ে এলো। দাই রহিমের মা , ওটা ধরতে গিয়েই বুঝলেন ওটা মুহূর্তেই বদলে পিচ্ছিল হয়ে গেল। কেমন সরু চ্যাপ্টা মাথা। ওটাকে ধরে টান দিতেই কুণ্ডলী পাকানো একটা সাপ বেরিয়ে এলো রহিমার মায়ের হাতে। নিশ্চুপ হয়ে গেল মুহূর্তেই রাইমার গোঙানি। ভয়ে চিৎকার করে সাপটা ঘরের এক কোণে ফেলে দিয়েই অজ্ঞান হয়ে গেলেন তিনি। 


এরপর যখন জ্ঞান ফিরলো তখন দেখলেন একটা বাচ্চা শিশুকে কোলে নিয়ে রাইমার শাশুড়ি মাটিতে বসে কাঁদছে। রহিমের মা ভয়ে ভয়ে উঠে বাচ্চাটার কাছে গেল। কই সাপ , একটা ফুটফুটে দেখতে মেয়ে। এমন সুন্দর নীল চোখ! কেমন ড্যাবড্যাব চোখে তাকিয়ে আছে। বুড়ির স্পষ্ট  মনে আছে রাইমার জরায়ু থেকে একটা সাপ বের করেছে সে। কিন্তু এখন দেখছে বাচ্চা একটা মেয়ে। তাহলে রাইমা যাকে জন্ম দিয়েছে , ওটা কী একটা ইচ্ছাদারি নাগিন ! 


রাইমার দিকে তাকাতেই বুঝতে পারলেন সন্তান জন্ম দিতে গিয়ে মারা গেছে মেয়েটা। রাইমার শাশুড়ি কেঁদে কেঁদে বিলাপ বকছেন , কাল নাগিনী মাইয়া জন্ম নিছে। পেটে আওয়ার লগে লগে বাপরে খাইছে , এখন জন্মানোর সময় মারে খাইলো। এখন খালি আমারে খাওয়া বাকি আছে। এইটারে নিয়া আমি কী করমু!


বুড়ি দাই উত্তেজিত হয়ে বলল , এই মাইয়ারে এখনই মাইরা ফেল , আমি নিজ চোখে দেখছি এই মাইয়া একটা নাগিন। 


যত যাই হোক এই বাচ্ছাটাই এখন রাইমার শাশুড়ির একমাত্র বেঁচে থাকার সম্ভল। দাইয়ের কথা শুনে তিনি ক্ষেপে উঠলেন।


 চুপ কর নেমখহারামি। কী কস এইগুলা আমার নাতনিরে? 

 

যা  সত্যি তাই কই। 


এরমধ্যেই গ্রামের অনেক লোক আশা শুরু করে দিয়েছে রাইমার লাশ দেখতে। বুড়ি দাই সবার কাছে বলে বেড়াচ্ছে তিনি নিজের হাতে রাইমার গর্ভ থেকে সাপ বের করেছেন। ঐ বাচ্চা একটা ইচ্ছাদারি নাগিন। গ্রামের সবাই বুঝতে পারলো বুড়ির মাথা এলোমেলো হয়ে গেছে। ওর এখন অবসর নেওয়া দরকার , নতুন দাই লাগবে আরেকটা। বলে কী বুড়ি! ইচ্ছাদারি নাগি! এত স্রেফ রূপ কথায় হয়। 


রাইমার স্বামী রাইমার গর্ভে বাচ্চা আসার এক মাস পরেই সাপের কামড়ে মারা গিয়েছিল। মাছ ধরতে গিয়েছিল সেদিন দুপুরে। বাড়িতে এসেই ছটফট করতে থাকে। বলে গোখরা নাকি কামড়েছে। ওঝা ডাকা হলো , কিছুই করতে পারলো না । মারা গেল হাসেম। এরপর থেকে রাইমা আর তার শাশুড়ি মিলেই সংসার করছে। 


একমাত্র সন্তানকে হারানোর পর এবার হাসেমের মা তার ছেলের বউকে হারিয়ে একেবারে দিশেহারা হয়ে গেলেন। তার নাতনির জন্য একই সাথে ঘৃণা আর ভালোবাসা দুইই কাজ করতে লাগলো। 


সেই দিনের এক সপ্তাহ পর এক সন্ধ্যায় ছুটতে ছুটতে রহিম গ্রামের ওঝার বাড়িতে হাজির হলো। জানালেন তার মাকে সাপে কেটেছে। একজন নাকি সাপটা দেখেছে , কালাচ। হন্তদন্ত হয়ে ছুটে গেল ওঝা। পুরোনো দাই হওয়ায় গ্রামের সবারই পরিচিত রহিমের মা। নানান ঔষধ , কবিরাজি করেও বাঁচানো গেল না রহিমের মাকে। রহিম আর্তনাদ করে কেঁদে ওঠে , আগেই কইছিলাম নাগ-নাগিন নিয়া এত উল্টাপাল্টা কথা কয়া বন্ধ কর , একটা বাচ্চা মাইয়ারে নিয়া কুৎসা রটাইও না, কেডা শুনে কার কথা , সত্যি কারের নাগিনই আমার মারে মারতে ঐ সাপ পাঠাইছে!


গ্রামের সবাই আতঙ্কের মধ্যে পড়লো। এই ওয়ালিপুর গ্রামেতো এত সাপের উপদ্রব ছিল না। গত এক বছরে রহিমের মাকে নিয়ে ৮ জন মারা গেল বিষধর সাপের কামড়ে। 


হাসেমের মা হামিদাবাণু তার নাতিনকে নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়ে গেলেন। দুই দিন ধরে ছাগলের দুধ খাওয়ানোর চেষ্টা করেছেন কিন্তু কিছুতেই তা খেতে চায় না । দুই গ্রাম খুঁজেও সদ্য সন্তান জন্ম দিয়েছে এমন কোনো মেয়েকে রাজি করাতে পারলেন না তার নাতনিকে বুকের দুধ খাওয়ানোর জন্য। অনেকেরই ধারণা এই মেয়ে অপয়া।  এমন হতে থাকলে তো না খেয়েই মরবে বাচ্চাটা। 


গভীর রাত। ঘরের চৌকিতে নাতনিকে নিয়ে শুয়ে আছেন হাসেমের মা। ঘুমিয়ে আছে দুজনেই। হঠাৎ ঘুমের ভেতরেই টের পেলেন তার পুরো শরীর জুড়ে পিচ্ছিল কী একটা যেন বেয়ে বেড়াচ্ছে। তার বুকের উপর থেকে কাপড় সরিয়ে বয়স্ক স্তনে চিকন জিহ্বা ছোয়াচ্ছে ওটা। এক মুহূর্তেই ঘুম ছুটে গেল বুড়ির। স্পষ্ট অনুভব করতে পারলো একটা সাপ উঠেছে তার শরীর , স্তন চুষছে। বুড়ি সচেতন হয়ে গিয়েছে এরমধ্যেই , লাফালেই কামড়ে দেবে ওটা। ধীরে ধীরে চোখ খুললো , ঘরে হারিকেন জ্বলছে। আরে সাপ কই , তার নাতনি বুকের সাথে লেপ্টে আছে। বুড়ি ব্লাউজ পরে না। তার নগ্ন স্তনে মুখ দিয়ে চুষছে শিশুটি। 


বুড়ির বুক ফেটে কান্না আসতে চাইলো । আহা! দুঃখী বাচ্চা । না খেতে পেয়েই মারা যাবে বুঝি শেষ পর্যন্ত। মা পায়নি তাই মায়ের বুকের দুধের জন্য এত উন্মুখ হয়ে আছে। বুড়ি শরীরে কেমন এক অদ্ভুত শিহরণ অনুভব করলেন। স্তনের টান অনুভব করলেন। এবং বুঝতে পারলেন তার নাতনি শুধু শুধু ওটায় মুখ দিয়ে চুষছে না। সত্যি সত্যিই দুধ পাচ্ছে। 


হাসেমের মায়ের জীবনে এরচেয়ে আশ্চর্যের ঘটনা আর ঘটেনি। এটা যে স্বাভাবিক কোনো কিছু না তা তিনি ভালো করেই বুঝতে পারলেন। পরমুহূর্তে করুণাময়ের কথা স্মরণ করে আনন্দে দুচোখ পানিতে ভরে উঠলো। করুণাময় এতটা নিষ্ঠুর হতে পারেন না , তিনি এই বাচ্চাটার কষ্ট সহ্য করতে পারেনি। তাই এই গায়েবি খাবারের ব্যবস্থা করে দিয়েছে বাচ্চাটার। কৃতজ্ঞতা আর তৃপ্তিতে মন ভরে উঠলো তার। 


হাসেমের মা তার নাতনির নাম দিলেন চন্দ্র। নিজের জীবনের সব ভালোবাসা উজাড় করে পেলে-পুষে বড় করতে লাগলেন নাতনিকে। আশেপাশের মানুষেরা এত রূপবতী কোনো বাচ্চাকে এর আগে দেখেনি । কী সুন্দর , চোখ , নাক , মুখ। চাইলেও ঘৃণা করা যায় না। আস্তে আস্তে তাই প্ৰতিবেশীরাও স্বাভাবিক হতে থাকে তাদের সাথে। চন্দ্রকে সবাই ভালোবাসতে শুরু করে। কয়েক ঘরের মেয়েরা শুধু বুড়ির আড়ালে চন্দ্রকে বলতো  কাল নাগিনী। 


চন্দ্রের বয়স বাড়ার সাথে সাথে গ্রামে সাপের উপদ্রব ভয়ানক হারে বাড়তে লাগলো। প্রায় প্রতি মাসেই কেউ না কেউ মারা যাচ্ছে সাপের কামড়ে। গ্রাম থেকে উপজেলা হাসপাতালও অনেক দূরে , তাছাড়া ডাক্তারি বিদ্যায় তাদের বিশ্বাস নেই। ওঝার উপরও ভয়ানক ক্ষেপে আছে সবাই। কিসের ওঝা , একজনেরও বিষ ছাড়াতে পারে না! টাকা খরচ করে দূর গ্রাম থেকে বড় মাপের ওঝা গ্রামে এনে থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা করলো এবার গ্রামের সবাই। 


এই ওঝাও সাপে কাটা লোকদের তেমন কোনো মঙ্গল করতে পারলেন না। গ্রামের সবাই কাঁচি , দা , কুড়াল নিয়ে তিন বেলা ঝোপ ঝাড় , গর্ত খুঁজে সাপের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করলো। মারা পড়লো শয়ে শয়ে সাপ। কিন্তু এতে যেন আরো বাড়লো সাপের সংখ্যা।  সাপের কামড়ে মরার সংখ্যাও বাড়ছে। 


দেখতে দেখতে চন্দ্রের ৮ বছর বয়স হয়ে এলো। চন্দ্র খুবই অবাক হয় তার আশেপাশের সব মানুষের সাপ নিয়ে আতংক দেখে। সাপ তার খুব ভালো লাগে। দাদি যদিও সব সময় সাবধান করে দেয়। কিন্তু চন্দ্রের মানুষের সাথে খেলাধুলা করতে ভালো লাগে না। এক অদ্ভুত ধরণের শব্দ করতে পারে সে পা দিয়ে। এটা সে কী করে শিখেছে নিজেই জানে না। কিন্তু চুপিসারে নির্জন ঝোপের আড়ালে গিয়ে পা দিয়ে এই শব্দটা করলেই অনেক গুলো সাপ বেরিয়ে আসে। তাদের সাথে খেলেই সময় কাটে চন্দ্রের। নানান রকম , নানান রঙের সাপ। কোনো মানুষ আশেপাশে আসলেই কী করে যেন বুঝে যায় সাপ গুলো। দ্রুত ঝোপের আড়ালে চলে যায়। 


চন্দ্র খুবই আনন্দ পায় এটা ভেবে যে সে যেই ঘরে ঘুমোয় সেই ঘরের খাটের নিচের একটা গর্তে একটা বড় সাপ থাকে কিন্তু তার দাদি এখনো টের পায়নি। ওটার খুব বুদ্ধি। দাদি ঘুমিয়ে পড়লেই চুপি চুপি খাট বেয়ে চন্দ্রের শরীরে উঠে আসে ওটা। ওটার সঙ্গে খেলা করতে করতে ঘুমিয়ে পড়ে সে। ..........................

.

.

 . . . চলবে . . .

.

.

#নাগিন_কন্যা 


১ম পর্ব 


লেখা : #Masud_Rana


[ এটি ২০২১ সালে লেখা ৮ পর্বের একটি ধারাবাহিক গল্প। গল্পটির বাকি পর্বগুলোর লিংক কমেন্টে দেয়া হলো। ভৌতিক, পিশাচ, সর্পজগতের এই গল্পে আপনাকে স্বাগতম। ]

পুকুরের_প্রেত

 এত রাতে পুকুরে কে গোসল করে? চৌকিদার মোতালেব টর্চ বন্ধ করে ঝোপের আড়ালে আড়ালে পুকুরের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। আকাশে পূর্ণ চাঁদ। সেই আলোতে মনে হচ্ছে পুকুরের মাঝখানে একটা নারী মূর্তিই। টর্চ জ্বালালে অবশ্য মুখটা স্পষ্ট দেখা যাবে। কিন্তু এলাকার কোনো মেয়ে যদি হয়ে থাকে ওটা , তাহলে গোসল করার সময় মোতালেব তার দিকে আলো ফেলে দেখছিল এমন অভিযোগ তুললে একটা ভয়ঙ্কর কেলেঙ্কারি ঘটে যাবে। তাই ঝোপের আড়ালে লুকিয়ে লুকিয়েই সামনে বাড়তে লাগলো মোতালেব।  অবশ্য স্থানীয় কোনো মেয়ের এই পুকুরে রাত ২ টায় এসে গোসল করার কোনো মানেই খুঁজে পেল না সে। এই পুকুরটা নিয়ে এমনিতেও গ্রামে অনেক লোককথা আছে। কিছুটা ভয়ও করছে তার।


পুকুরের একেবারে পাশের ঝোপের আড়ালে এসে লুকলো মোতালেব। ঝোপের সামনের কিছুটা অংশ সরিয়ে পুকুরের মাঝের মূর্তিটা চেনার চেষ্টা করছে। হ্যা , মুখ না দেখা গেলেও বোঝাই যাচ্ছে ওটা একটা মেয়ে। হঠাৎ কী হলো , পুরো শরীর সামনের দিকে ঝুঁকে পড়লো মোতালেবের। পায়ে কিসের টানও লাগলো সাথে সাথেই। নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উপুড় হয়ে পড়ে গেল মোতালেব। গড়াতে গড়াতে একেবারে পুকুরের কিনারে এসে পড়লো। তার পড়ে যাওয়া দেখেই যেন পুকুরের মাঝখান থেকে মিষ্টি মেয়েলি কণ্ঠের খিলখিল হাসির শব্দ ভেসে আসলো তার কানে ।  


মোতালেব ঘাবড়ে গেছে । টর্চটা পুকুরের পানিতে ডুবে গেছে। ওটার আশা নেই। চাঁদের আলোয় অবশ্য দেখতে সমস্যা হচ্ছে না কিছু। সোজা হয়ে দাঁড়ালো মোতালেব। পুকুরের দিকে লক্ষ করে খেঁকিয়ে উঠলো সে : 


কেগো এতো রাইতে গোসল করে? 


আবার সেই খিলখিল হাসির শব্দ। শব্দটা এতই মিষ্টি যে রাতের নির্জনতা মোতালেবের মনে ভয় সঞ্চয় না করে  উল্টো, কৌতূহল দিয়ে ভরে তোলে তার মন। 


ঐতো মেয়েটা ধীরে ধীরে সাঁতরে এইদিকেই আসছে।  পুকুরের একেবারে কিনারের দিকে কোমর সমান পানি। সেইখানেই এসে দাড়ালো মেয়েটা। মুখে মিষ্টি হাসি। বিস্মিত দৃষ্টিতে তীব্র জোৎস্নার আলোতে অপরূপ সুন্দর মুখায়বের দিকে চেয়ে রইলো মোতালেব। জলপরী! কখন যে মেয়েটার এই মায়া রূপে সম্মোহিত হয়ে গিয়েছে সে টেরই পায়নি। মেয়েটা এবার বাঁশির মতো সুরেলা কণ্ঠে বলল :


আমারে চিনো নাই মোতালেব ? কাবিলের বউ। কী যে গরম পড়ছে আইজ তাই নাইতে আইলাম। 


চিনেছে এমন ভাবে মাথা ঝাঁকালো মোতালেব। অথচ কাবিল নামের কাউকেই সে চেনে না। আবার সেই মেয়েটি বলল:


তুমিও দেখি ঘামতাছ মোতালেব! আসো পুকুরে , এক সাথে স্নান দেই ।


পানির সাথে শাড়ি কাপড় শরীরে লেপ্টে থাকায় এমনিতেও মোতালেব মেয়েটার দিক থেকে চোখ সরাতে পারছিল না। এবার মেয়েটা আঁচল খুলে কোমর সমান পানিতে ফেলে দিতেই তার অবস্থা আরও খারাপ হয়ে এলো। মেয়েটা ধীরে ধীরে পিছিয়ে যাচ্ছে পুকুরের দিকে , মোতালেব পুকুরের পানিতে পা ভিজিয়ে ধীরে ধীরে সামনে এগিয়ে যাচ্ছে। মেয়েটা আবার সেই সুরেলা কণ্ঠের খিলখিল হাসির শব্দ করে ঘুরে একেবারে পুকুরের মাঝখানে চলে গেল। আচ্ছন্নের মতো সাঁতরে মোতালেবও পিছু নিল মেয়েটার। 


মেয়েটা তার দিকে পিঠ দিয়ে ভেসে আছে পানিতে। নগ্ন পিঠের থেকে তিন হাত পেছনে মোতালেব। হঠাৎ মেয়েটার চেহারা কেমন যেন বদলে গেল। শাড়ি কাপড়ের বদলে পরনে সালোয়ার-কামিজ , পূর্ণ যুবতী মেয়েটা সেই সাথে একটা কিশোরী মেয়েতে রূপান্তরিত হলো। গায়ের রং পেছন থেকে দেখেও বোঝা যাচ্ছে শ্যামলা। এতক্ষণে হুস ফিরলো মোতালেবের। নিজেকে এই অবস্থায় পুকুরের মাঝে দেখে ঘাবড়ে গেল সে। কী হচ্ছে! মেয়েটা ধীরে ধীরে তার দিকে ঘুরলো। 


মৃত মানুষের দৃষ্টি চোখে , মুখ রক্তশূন্য ফ্যাকাশে , চোখের মণি সহ সাদা অংশ পুরোটাই লাল , এগিয়ে আসছে তার দিকে। মেয়েটা হা করতেই কালো কুচকুচে জিহ্বা বেরিয়ে পড়লো। ভয়ে চিৎকার দিতে গিয়ে মোতালেব অনুভব করলো তার কন্ঠ দিয়ে কোনো শব্দ বেরোচ্ছে না। মেয়েটার পুরো শরীরে এবার পোকা কিলবিল করতে দেখলো সে। পঁচা মাংসের গন্ধ! 


দম আটকেই মরে যেত মোতালেব। হঠাৎ অনুভব করলো শিকড় বা লতার মতো কিছু পেঁচিয়ে ধরেছে ওর পা। আস্তে আস্তে কোমর পর্যন্ত পেঁচিয়ে ধরলো ওটা ওকে। মেয়েটা এবার তার মুখোমুখি এসে পড়েছে , পানিতে ভাসছে। কী ভয়ংকর চেহারা! এই মেয়েটাকে মোতালেব চেনে , কিন্তু এরতো এখন এখানে থাকার কথা না। ভয়ংকর এক শব্দহীন হিংস্র হাসি ফুটে উঠলো মেয়েটার মুখায়বে। সাথে সাথেই কোমরে একটা টান অনুভব করলো মোতালেব । কিছু একটা তাকে পানির নিচে টেনে নিয়ে যাচ্ছে। মেয়েটার খিলখিল শব্দ তার কানে বাজছে। লতাটা তার গলা পেঁচিয়ে ধরেছে। দম বন্ধ হয়ে আসছে তার।


পরদিন সকালে পানি আনতে গিয়ে মাদবর বাড়ির বউই প্রথমে মোতালেবের লাশটা পুকুরে ভাসতে দেখে। চিৎকার করতে করতে ছুটে পালায় সে হাঁড়ি ফেলে। লোক জড়ো হয় , পুলিশ আসে। কেউ মৃত্যুর সঠিক কারণ কিনারা করতে পারে না। তদন্তের জন্য মোতালেবের লাশ শহরে নিয়ে যায় পুলিশ। 


পরদিন সেই গ্রামেরই একটু চায়ের দোকানে কয়েকজন মধ্য-বয়স্ক লোকের আড্ডা বসেছে। আলোচ্য বিষয় মোতালেবের মৃত্যু। 


শুনছো নি মিয়া , মাতবর বাড়ির পুকুরে তো আবার 'দেও ' ফিরা আইছে! 


'দেও'! তোমার কী মনে হয় মোতালেবরে 'দেও' মারছে ?


তো  আর কী ? মনে নাই ৩ বছর আগে হোসেনের মাইয়া গোসল করতে গিয়া নিখোঁজ হইয়া গেল ? আর ২ দিন পর ঐ পুকুর থিকাই ওর লাশ ভাইসা উঠলো? মোতালেবতো সাঁতার জানে , পুকুরে ডুইবা মরবো কে?  'দেও' ছাড়া আর কার কাম? 


তাইতো! এই দুইটা খুনই তাইলে ঐ 'দেও' এর কাজ! 


ওগো কাজইতো এইডা। পুকুরে থাকে। একলা মানুষ পাইলেই নানান মানুষের ছুরুত ধইরা পানিতে নামান। নামলেই কাম সাবার। পানির তলে নিয়া গলা টিপ্পা মাইরা ফেলে। 


হ। আমরা ছোটবেলায় কত শুনছি এইসবের কথা! কিন্তু আমার বয়সকালে এই প্রথমবার দুইটারে মরতে দেখলাম 'দেও' এর হাতে।  


এক মাস পর :


সি.এন.জি এসে দাড়ালো মিঞাপুর গ্রামের অনতিদূরে উপজেলার সামনে। আর ভেতরে সি.এন.জি যেতে পারবে না তাই গাড়ি থেকে নেমে পড়লেন পেসেঞ্জার লোকটা। আশেপাশের কয়েকটা দোকানদার, ক্রেতা আর পথচারী কৌতূহলী হয়ে লোকটার দিকে তাকালো। গেরুয়া লুঙ্গি আর পাঞ্জাবি পরা ৩০-৩২ বছরের লোকটা। চুল-দাড়ি বড়বড় , মুছ ছাটা। গলায় একটা গেরুয়া গামছা। পায়ে চটি। ভাড়া মিটিয়ে দিয়ে একটা চায়ের দোকানের সামনে গিয়ে মিঞাপুর গ্রামের ঠিকানা জানতে চাইলেন আগন্তুক। সবাই পশ্চিম দিকে ধান ক্ষেতের মাঝখানের আইলটা দেখিয়ে দিল। 


ধীরে ধীরে পশ্চিম দিকে হাঁটা ধরলেন তিনি। ৩ ফুট প্রস্থের লম্বা আইল। দুইপাশে ধানক্ষেত। দিনটাকে সুন্দর বলা যায় না। কড়া রোদ , সামান্য বাতাসও নেই, ভ্যাপসা গরম। পথিকের নাম রশিদ। পেশায় তন্ত্র সাধক। জ্বীন , ভুত , প্রেতাত্মা , পিশাচ নিয়েই তার কারবার। এমনিতে একটি সরকারি কলেজে অনার্স শেষ করেছেন তিনি। শখের বসেই এই পেশায় আসেন এক তান্ত্রিক ওস্তাদকে ধরে। নানান অলৌকিকতার অস্তিত্ব সামনে থেকে দেখে এই পেশাটাকে ধীরে ধীরে নেশায় নিয়ে এসেছেন তিনি। ওস্তাদ জালালুদ্দিন মাতব্বরের কাছেই অধিক তন্ত্র-মন্ত্র , পিশাচ দূরীকরণের উপায় শিক্ষা লাভ করেছেন। তার কথায়ই মিঞাপুর গ্রামে আসতে হয়েছে রশিদকে। 


এই গ্রামে নাকি একটা পুকুরে 'দেও' অর্থাৎ পুকুরের পিশাচ আছে। এই পর্যন্ত তিনটা খুন করেছে ওটা। প্রায় ৩ বছর আগে ১৫ বছরের এক কিশোরী গোসল করতে এসে নিখোঁজ হওয়ার ২ দিন পর পুকুরে ওর লাশ দেখতে পাওয়া যায়। বাকি ২টা খুন হয়েছে গত এক মাসে। মিঞাপুর গ্রামের চকিদার মোতালেবের লাশ পাওয়া যায় পুকুরে ভাসমান এক সকালে। যেদিন লাশ পাওয়া যায় তার আগের রাতেও নাকি সবাই তাকে সুস্থ অবস্থায়ই ডিউটি করতে দেখেছে। এর পনেরো দিন পরেই মাতবর বাড়ির ছোট ছেলে বউয়ের নিষেধ না মেনে সকালে দাঁত মাজতে পুকুরে গেলে আর ফিরে আসেনি। অনেক খুঁজেও ওর লাশ পাওয়া যায়নি ঐদিন। কিন্তু দুই দিন পর ঠিকই লাশটা ভাসতে দেখা যায় ঐ পুকুরে। 


এরপর থেকে একা কিংবা দল বেঁধে কেউই যায় না ঐ পুকুরে। অথচ আশেপাশের ১৫ ঘরকে ঐ পুকুরের পানি আশ্রয় করে চলতে হয়। একটা মাত্র টিউবওয়েল আছে এখন। তাই রশিদের এই গ্রামে আগমন। পুকুর থেকে 'দেও' তাড়িয়ে পুকুরটাকে অভিশাপ মুক্ত করতে হবে। .......

.

.

 . . . চলবে . . .

.

.

#পুকুরের_প্রেত 


১ম পর্ব 


লেখা : #Masud_Rana


[ এটি ২০২১ সালে লেখা এবং ফেসবুকে প্রকাশিত একটি ৮ পর্বের ধারাবাহিক ভৌতিক গল্প। গল্পের বাকি পর্বের লিংক কমেন্টে দিয়ে দেয়া হলো। আমার সব লেখা গল্পের লিংক এই পেজের পিনপোস্টে দেয়া আছে। ধন্যবাদ। ]

Nano Urea কী?

 বর্তমান বিশ্ব কৃষিতে প্রযুক্তির ব্যবহার দিন দিন বাড়ছে। তারই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশেও এসেছে একটি আধুনিক সার প্রযুক্তি — যার নাম Nano Urea। এটি শুধু কৃষকের খরচ কমাবে না, বরং দেশের খাদ্য উৎপাদন, পরিবেশ রক্ষা এবং মাটির স্বাস্থ্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।


Nano Urea কী?


Nano Urea হচ্ছে একধরনের তরল ইউরিয়া সার, যা ন্যানো প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি করা হয়। এতে ইউরিয়ার কণাগুলো অতিক্ষুদ্র আকারে থাকে (প্রায় ৩০-৫০ ন্যানোমিটার), ফলে গাছ সহজে এটি শোষণ করতে পারে। সাধারণ granular ইউরিয়া যখন গাছে প্রয়োগ করা হয়, তখন তার প্রায় ৬০-৭০ শতাংশই অপচয় হয় — যা মাটি ও পানির জন্য ক্ষতিকর। কিন্তু Nano Urea ব্যবহার করলে গাছের শোষণ হার বেড়ে যায় ৮০-৯০ শতাংশ পর্যন্ত।


বাংলাদেশে Nano Urea-এর আবির্ভাব


Nano Urea প্রযুক্তির পথিকৃৎ হিসেবে কাজ করছেন যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. জাভেদ হোসেন খান। তিনি ও তাঁর দল ভারতের IFFCO-এর উদ্ভাবিত প্রযুক্তি পর্যালোচনা করে বাংলাদেশের জন্য উপযোগী করে এই সার তৈরি করেছেন।


এই সার বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে একাধিক আন্তর্জাতিক মানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে এবং এখন বাংলাদেশে পরীক্ষামূলকভাবে চাষিদের জমিতে প্রয়োগ করা হচ্ছে।


Nano Urea ব্যবহারে খরচ কমার বাস্তব উদাহরণ


বাংলাদেশে ইউরিয়া সারের দাম এখন অনেক বেশি — প্রতি বস্তা প্রায় ৪,২০০ টাকা। গড়ে এক বিঘা জমির জন্য ১ থেকে ২ কেজি ইউরিয়া লাগে। কিন্তু Nano Urea ব্যবহার করলে এক বিঘা জমিতে খরচ হয় মাত্র ২৩০ টাকা, যা প্রায় ৫০% পর্যন্ত খরচ কমিয়ে দেয়।


এখানে শুধু খরচ কমছে না, বরং ফলনও কমছে না। বরং অনেক কৃষক জানিয়েছেন, Nano Urea ব্যবহার করার পর গাছের বৃদ্ধি ভালো হয়েছে, শিকড় মজবুত হয়েছে, এবং পোকামাকড়ও তুলনামূলক কম হয়েছে।


মাটির স্বাস্থ্য ও পরিবেশগত উপকারিতা


সাধারণ ইউরিয়া মাটিতে পড়ে গিয়ে নাইট্রোজেন গ্যাসে পরিণত হয় এবং বাতাসে মিশে যায়, ফলে পরিবেশে গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন বাড়ে। অন্যদিকে, Nano Urea সরাসরি গাছের পাতায় স্প্রে করা হয় এবং তা দ্রুত শোষিত হয়। এতে গ্যাস নির্গমন হয় না এবং মাটির স্বাস্থ্য নষ্ট হয় না।


এছাড়া অতিরিক্ত ইউরিয়ার কারণে মাটির অম্লতা বেড়ে যায়, যা মাইক্রোঅর্গানিজম বা উপকারী জীবাণুগুলোর ক্ষতি করে। Nano Urea এই সমস্যা থেকে মুক্তি দেয়।


Nano Urea ব্যবহারের সুবিধাসমূহ সংক্ষেপে:

 1. ইউরিয়া সারের খরচ ৪০-৫০% পর্যন্ত কমে যাবে।

 2. গাছ দ্রুত পুষ্টি শোষণ করতে পারবে।

 3. মাটির উর্বরতা দীর্ঘদিন বজায় থাকবে।

 4. পরিবেশ দূষণ কমবে, গ্রিনহাউস গ্যাস কম নির্গত হবে।

 5. গাছের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়বে।

 6. ফলন ভালো হবে এবং কোয়ালিটিও উন্নত হবে।


চ্যালেঞ্জ ও করণীয়


Nano Urea প্রযুক্তি এখনো অনেক কৃষকের কাছে নতুন। অনেকেই এই নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার সম্পর্কে জানেন না বা বিশ্বাস করতে চান না। তাই সরকার, কৃষি অফিস ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বয়ে প্রশিক্ষণ, সচেতনতা এবং মাঠপর্যায়ে কাজ জরুরি।


এছাড়া Nano Urea বাজারে সহজলভ্য করতে সরকারি সাবসিডি, ট্রায়াল প্রকল্প এবং স্থানীয় উৎপাদনের উদ্যোগ নেওয়া দরকার।


উপসংহার:


Nano Urea শুধু একটি সার নয় — এটি ভবিষ্যতের কৃষির চাবিকাঠি। বাংলাদেশে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে, কৃষকের জীবনমান উন্নত করতে এবং পরিবেশ রক্ষা করতে Nano Urea এর বিকল্প নেই। এখন প্রয়োজন, এই প্রযুক্তিকে গণমানুষের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়া এবং নীতিনির্ধারকদের কার্যকর ভূমিকা।


✍️ Ariful Islam Adil

ঘরে বসে শুরু করুন বিশুদ্ধ পানির ব্যবসা – মাসে আয় ১ থেকে ২ লাখ টাকা

 অবশ্যই! নিচে "ঘরে বসে শুরু করুন বিশুদ্ধ পানির ব্যবসা – মাসে আয় ১ থেকে ২ লাখ টাকা" শিরোনামে একটি পূর্ণাঙ্গ আর্টিকেল দিলাম:


---


ঘরে বসে শুরু করুন বিশুদ্ধ পানির ব্যবসা – মাসে আয় ১ থেকে ২ লাখ টাকা


বর্তমান যুগে বিশুদ্ধ পানির চাহিদা প্রতিনিয়ত বাড়ছে। শহর হোক কিংবা গ্রাম – সবাই এখন নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত পানি চায়। আর এই চাহিদার সুযোগ নিয়ে আপনি ঘরে বসেই শুরু করতে পারেন একটি লাভজনক ব্যবসা – বিশুদ্ধ পানির ব্যবসা। ছোট পরিসরে শুরু করেও আপনি মাসে ১ থেকে ২ লাখ টাকা আয় করতে পারেন।


---


কেন এই ব্যবসা লাভজনক?


পানি জীবনের অপরিহার্য উপাদান – প্রতিদিনকার চাহিদা


নগর ও গ্রাম দুই জায়গাতেই বিশুদ্ধ পানির সংকট


স্কুল, অফিস, দোকান, বাসাবাড়ি – সবাই পানির ক্রেতা


প্রাথমিক বিনিয়োগ তুলনামূলকভাবে কম


একবার ব্যবসা দাঁড় করাতে পারলে নিয়মিত ইনকাম নিশ্চিত


---


কীভাবে শুরু করবেন বিশুদ্ধ পানির ব্যবসা?


১. ব্যবসার ধরণ নির্ধারণ করুন:


জার পানি সাপ্লাই ব্যবসা (20 লিটার বোতল)


ঘরের ফিল্টার পানি বিক্রি (Jar Filling Station)


পাউচ বা ছোট বোতল পানি সরবরাহ (ব্যবসা-বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান লক্ষ্য করে)


---


২. প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও ইনভেস্টমেন্ট:


মোট আনুমানিক প্রাথমিক খরচ: ১.৫ – ৩ লাখ টাকা


---


৩. লাইসেন্স ও অনুমোদন:


ট্রেড লাইসেন্স (স্থানীয় পৌরসভা/ইউনিয়ন পরিষদ থেকে)


BSTI অনুমোদন (বড় পরিসরে গেলে)


স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অনুমোদন (কিছু এলাকায় প্রয়োজন হতে পারে)


---


ব্যবসার পরিচালনা কৌশল:


১. পানি বিশুদ্ধকরণ ও প্যাকেজিং:


দিনে ২০০–৫০০ লিটার পানি বিশুদ্ধ করে জারে ভর্তি করুন


স্টিকার ও ব্র্যান্ডিং করে বিক্রি করুন


২. হোম ডেলিভারি ও অর্ডার সিস্টেম:


বাসা, দোকান, অফিসে হোম ডেলিভারি


ফোন/হোয়াটসঅ্যাপ/ফেসবুক পেজে অর্ডার নিন


৩. বিক্রয় মূল্য ও লাভ:


দিনে ৫০–১০০ জার বিক্রি করলেই মাসে ১–২ লাখ টাকা পর্যন্ত আয় সম্ভব।


---


মার্কেটিং ও প্রসার:


ফেসবুক পেজ/লোকাল মার্কেটিং


হোম ডেলিভারির সুবিধা দিন


রেফারেল ও ডিসকাউন্ট অফার চালু করুন


প্যাকেজ সাবস্ক্রিপশন চালু করুন (মাসিক পানি ডেলিভারি)


---


কিছু বাস্তবিক পরামর্শ:


পানি বিশুদ্ধ করার গুণমান বজায় রাখুন


পানির টেস্ট রিপোর্ট রাখলে গ্রাহকের আস্থা বাড়বে


নিয়মিত জার ধোয়া ও পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করুন


গ্রাহকের প্রতিক্রিয়া গুরুত্ব সহকারে নিন


---


শেষ কথা:


স্বল্প বিনিয়োগে লাভজনক এবং সমাজে উপকার করা এমন একটি ব্যবসা শুরু করতে চাইলে, বিশুদ্ধ পানির ব্যবসা আপনার জন্য সেরা একটি সুযোগ হতে পারে। এটি শুধু আয়ের মাধ্যম নয়, বরং জনসেবাও বটে। এখনই শুরু করুন এবং গড়ে তুলুন আপনার সফলতা ও আস্থার একটি ব্র্যান্ড।


---


আপনি চাইলে এই আর্টিকেলটি পিডিএফ, ফেসবুক পোস্ট, বা YouTube ভিডিও স্ক্রিপ্ট আকারে তৈরি করে দিতে পারি। প্রয়োজন হলে জানাবেন!


#uttararealestate #property #Uttarkhan #flats #realestate #househunting #BMW #Dhaka #house #land forsake land forsake land 

দেশেই তৈরি হচ্ছে ন্যানো সার

 এক বিঘা জমি চাষে ৪২০০ টাকার ইউরিয়া দরকার হয়। ৯০ টাকা প্রতি বস্তা দরে তা বিদেশ থেকে আমদানি করে সরকার। সেখানে ন্যানো ইউরিয়া ব্যবহারে খরচ হবে মাত্র ২৩০ টাকা। তৈরি হবে দেশেই।


কোনো বস্তুকে ক্ষুদ্র আকারে তৈরি করাকে বলে ন্যানো প্রযুক্তি। ইউরিয়া সারের অণুগুলোকে অতি ক্ষুদ্র আকারে তৈরি করলে সেটি হয় ন্যানো ইউরিয়া। গাছের পাতার ছোট ছোট ছিদ্রকে বলে স্টোমাটা। এই ছিদ্র দিয়ে ন্যানো ইউরিয়া দ্রুত ঢুকতে পারে। পরিমাণ কম, কাজ বেশি।


সাধারণ ইউরিয়ার ৩০-৭০% বৃষ্টির পানিতে ধুয়ে যায়। বাষ্পীভূত হয়েও নষ্ট হয় ব্যপক। কিন্তু ন্যানো ইউরিয়ায় এই সমস্যাটি নেই। গাছে দ্রুত নাইট্রোজেন সরবরাহেও ন্যানো ইউরিয়া এগিয়ে।


ন্যানো ইউরিয়া নিয়ে এর আগেও বহু কাজ হয়েছে। কিন্তু প্রচলিত হয়নি তেমন। সম্প্রতি বাংলাদেশি প্রযুক্তি ব্যবহার করে দেশে বসেই ন্যানো ইউরিয়া তৈরি করেছেন যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. জাভেদ হোসেন খান। সাত বছর গবেষণার ফল এই সার। উল্লেখ্য, তিনি ন্যানো ইউরিয়ার উদ্ভাবক নন।


ইতোমধ্যেই ড. জাভেদের প্রশংসায় পঞ্চমুখ যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন জৈব সার কোম্পানি। একসাথে কাজ করতে চান তারা। 'কোলা বায়ো' নামের একটা প্রতিষ্ঠানের সাথে চুক্তিও সাক্ষর করেছেন ড. জাভেদ। আগামী পাঁচ বছর যৌথভাবে রিসার্চ ও ডেভলপমেন্ট (R&D) চালাবেন তাঁরা। ব্যাখ্যা: বিজ্ঞানপ্রিয়।


#nanotechnology 

©bigyanpriyo

বানী চিরন্তনী ফেইসবুক থেকে নেওয়া

 কাজ শেষে একদিন একজন শ্রমিক পাহাড়ি রাস্তা ধরে সাইকেলে বাড়ি ফিরছিলেন। হঠাৎ দূরে একটি লাল রঙের গাড়িকে থেমে থাকতে দেখে তিনি এগিয়ে গেলেন। সেখানে একজন বৃদ্ধা ভদ্রমহিলা দাঁড়িয়ে আছেন—হতাশ চোখে চারপাশের গাড়িগুলোর দিকে তাকাচ্ছেন। কেউ থামে না, কেউ সাহায্যের হাত বাড়ায় না।😥


লোকটি সাইকেল থেকে নেমে বিনয়ের সাথে জিজ্ঞেস করলেন, “ম্যাডাম, আমি কি আপনাকে কোনোভাবে সাহায্য করতে পারি?”

ময়লা পোশাক আর পরিশ্রমে জীর্ণ শরীর দেখে মহিলার চোখে একধরনের শঙ্কা ফুটে উঠল। কিন্তু লোকটি বুঝতে পেরে বললেন, “আপনি গাড়ির ভেতরে গিয়ে বসুন, বাইরে অনেক ঠান্ডা। আমি চেষ্টা করি টায়ারটা ঠিক করতে।”


ভদ্রমহিলা গাড়ির ভেতরে গিয়ে অপেক্ষা করতে থাকলেন আর জানালার ফাঁক দিয়ে দেখলেন কী নিঃস্বার্থভাবে লোকটা কাজ করছে।

এরপর লোকটি অনেক পরিশ্রম করে টায়ারটি সারাতে সক্ষম হয়। ইতিমধ্যে ভদ্রমহিলা টের পেলেন লোকটি ভালো একজন মানুষ। বুঝতে পারলেন, তিনি যদি না থাকতো তবে পাহাড়ি এই অন্ধকার রাস্তায় তিনি হয়তো বড় কোনো বিপদের সম্মুখীন হতো।


তাই কাজ শেষ হওয়ার পর তিনি লোকটিকে ১০০০ টাকার একটি নোট হাতে দিয়ে বললেন, তুমি আজ আমার জন্য যা করলে তার কোনো মূল্য হয় না তবুও রাখো এটা তোমার ন্যায্য পাওনা। তখন লোকটি মৃদু হেসে ভদ্রমহিলাকে বললেন আমি কাউকে সাহায্য করার বিনিময়ে টাকা নিতে পারব না ম্যাডাম।


আপনি যদি সত্যিই আমাকে সাহায্য করতে চান তবে পরের বার কাউকে সাহায্য করার সময় আমার নামটা মনে করবেন। এই বলে সাইকেল চালিয়ে বিদায় নিলেন। ভদ্রমহিলা ও গাড়ি নিয়ে রওনা দিলেন। খানিকবাদে একটি রেস্তোরাঁয় খাবেন বলে থামলেন।


সেখানে দেখতে পেলেন এক গর্ভবতী মেয়ে সবাইকে খাবার পরিবেশন করছে, আচমকা সেই মেয়েটির হাত থেকে একটি কাঁচের পাত্র পড়ে গেল। ম্যানেজার দৌড়ে এসে ভীষণ বকাবকি করল মেয়েটিকে, এবং জানালো এ টাকা তার মাইনে থেকে কেটে নেওয়া হবে। তখন বয়স্ক ভদ্রমহিলা মনে মনে ভাবলেন….


কতটা টাকার দরকার হলে এই গর্ভবতী মহিলাকে এই অবস্থাতেও রেস্টুরেন্টে চাকরি করতে হয়। তাই তিনি যখন খাবার খেয়ে বিদায় নিলেন, তখন যাওয়ার আগে মেয়েটিকে ডেকে 5 হাজার টাকা গুজে দিলেন, আর মনে মনে লোকটির বলা কথাটি ভাবলেন…..


এতগুলো টাকা টিপস হিসেবে পেয়ে মেয়েটি তড়িঘড়ি করে বাড়িতে ফিরলো ও দেখলো তার স্বামী তখন রাতের খাবার তৈরি করতে ব্যস্ত। মেয়েটি ঢুকেই স্বামীর হাতে ৫০০০ টাকা দিয়ে সমস্ত ঘটনা তাকে জানানোর পর হঠাৎ তার স্বামী বলে উঠলো, আচ্ছা ভদ্রমহিলার গাড়ির রংটা কি লাল ছিল? স্বামীর প্রশ্নে মেয়েটি অবাক হয়ে জিজ্ঞাসা করল হ্যাঁ কিন্তু তুমি কি করে জানলে?


লোকটি তখন মৃদু হেসে উপরের দিকে তাকিয়ে সৃষ্টিকর্তাকে একটা ধন্যবাদ দিয়ে তার স্ত্রীকে বলল.. আসলে কি জানো! কে ভালো কাজ করছে, আর কে খারাপ কাজ করছে, সৃষ্টিকর্তা সব দেখেন।

 মানুষ তার ভালো কাজের ফল ঠিক, কোন না কোন ভাবে এই পৃথিবীতেই ফেরত পেয়ে যায়।🙂

⛔তিস্তার চর⛔ (✍️গল্পটি পাঠিয়েছেন রংপুরের, গঙ্গাচড়া উপজেলা থেকে মোঃ রাগিব হাসান তাছিন✍️) সময়টা ২০১৭ সাল। আমার বয়স তখন ১৬। আমরা থাকি মহিপুরে, তিস্তা ব্রিজের পাশেই। সেসময় ব্রিজের নির্মাণ শেষ, কিন্তু উদ্বোধন হয়নি। নদী তখন একেবারে শুকনো—নিচে পানি নেই, কেবল বিস্তীর্ণ ধূসর চর আর চরজমি। শুষ্ক মৌসুমে সেই চড়ে রসুন, পেঁয়াজ আর আলুর চাষ করি আমরা—আমি আর আমার পরিবার। আমি একজন কৃষক পরিবারের সন্তান, মাটির ঘ্রাণ আমার রক্তে। রসুন তুলার পর কয়দিন তা রোদে শুকানোর দরকার হয়, আর তাই আমরা নদীর চড়ে ধাপরি বানিয়ে রাতে পাহারা দিই। প্রথম রাতে চাচা একা ছিলেন সেখানে। পরদিন সকালে তার চোখ লাল, মুখ থমথমে—কিছু একটা যেন গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে তাকে। কিন্তু তখনও কিছু বলেননি আমাকে। আমি বুঝিনি, আমি কোন বিভীষিকার দিকে এগিয়ে যাচ্ছি। চাচা পরদিন জানালেন যা হয়েছিল—রাত দেড়টার দিকে, চারদিক যখন নিঃশব্দ আর কুয়াশায় মোড়া, তখন হঠাৎ ধাপরির চারপাশে ঠাণ্ডা বাতাস বয়ে যেতে থাকে। তারপর... কানে আসে একটি শিশুর কান্না। না, দূর থেকে নয়—ঠিক যেন ধাপরির ভেতরেই কেউ কাঁদছে! সেই কান্না করুণ, গলা ধরে আসে এমনভাবে বিলাপ করে। বুকের ভেতর হিমস্রোত বইয়ে দেয় সে আওয়াজ। চাচা মাথার নিচে রাখা লাইট জ্বালাতে গিয়ে দেখেন—বাতি চলে গেছে। চারদিক অন্ধকার। এমন সময়—ধুপ! ধুপ! ধুপ! করে লোহার পেটানোর শব্দ আসে—প্রচণ্ড জোরে, যেন কেউ কামারশালায় হাতুড়ি চালাচ্ছে! শব্দটা আসে ধাপরির একেবারে মাথার উপর থেকে! চাচা কোনোদিকে না তাকিয়ে শুধু ফিসফিস করে আয়াতুল কুরসি পড়তে থাকেন—জীবন নিয়ে বাঁচার শেষ চেষ্টায়। আমার কিছু না জানিয়ে চাচা আমাকে সাথে করে নিয়ে গেলেন। আমি ভাবলাম, মজা করতে যাচ্ছি। কে জানতো, সেই রাতে আমার বিশ্বাসটাই পাল্টে যাবে। রাত বাড়তে থাকে। প্রথমে চারপাশ নিঃস্তব্ধ। আমরা ঘুমিয়ে পড়ি। হঠাৎ আমার ঘুম ভাঙে—একটি শিশু কাঁদছে! এবার আমি নিজে শুনি। আমার পুরো শরীর হিম হয়ে যায়। চোখ খুলতেই দেখি চাচা উঠে বসে আছেন, ঠোঁটে আয়াত চালু, চোখ স্থির। “এইটা কি...?” আমি জিজ্ঞেস করতেই, চাচা হাত দিয়ে চুপ করালেন। তারপর—ধুপ! ধুপ! ধুপ! করে সেই লোহার শব্দ আবার! এবার এতটা জোরে যে ধাপরির বাঁশ কেঁপে ওঠে। বাইরে বের হয়ে দেখি—চারদিক অন্ধকার, কিন্তু সেই শব্দ ঠিক আমাদের ধাপরির উপরেই এক শুকনো বাঁশের মাথা থেকে আসছে! আমি আকাশের দিকে তাকাই—কিছুই দেখা যায় না, কিন্তু শব্দটা মাথার উপর! ঠিক তখনই চাচার চোখ বড় হয়ে ওঠে। আমি তার দৃষ্টির দিকে তাকাই—ব্রিজের নিচে কিছু একটা নড়ছে। একটা লোক। সাদা জামা পরে। তার হাতে একটা শিশু। গলা চেপে ধরেছে শিশুটার। সে কাঁদছে, চিৎকার করছে। কিন্তু লোকটার মুখ স্পষ্ট নয়—মাথা সামান্য নিচু, চোখ একেবারে অন্ধকার। শরীর নিঃস্তব্ধ, কিন্তু তার হাতের চাপ শিশুটার গলায় বাড়তে থাকে! আমার চিৎকার করে ওঠার কথা—কিন্তু গলা শুকিয়ে যায়। তারপর হঠাৎ নদীর শুকনো মাঝখান থেকে এক অদ্ভুত আলো—সোনালী রঙের, ধীরে ধীরে ভেসে উঠছে যেন একটা নৌকা! কিন্তু নদী তো শুকনো! সেখানে পানি নেই! তবুও আলো কাঁপে, যেন নৌকাটা ধীরে ধীরে ভেসে যাচ্ছে। চাচা আমাকে টেনে ধাপরির ভেতরে নেন। দরজা আটকে দোয়া পড়তে থাকি দুজনে। তবুও ধুপ! ধুপ! শব্দটা যেন ধাপরির ভেতরেই ঢুকে আসে। শিশুর কান্না এবার স্পষ্টতর—ঠিক কানের পাশে। আমরা হাঁপাতে হাঁপাতে তিলাওয়াত পড়ছি, তবুও সেই শব্দ থামে না। ঠিক ৩টা ৩০ মিনিটের সময়—এক ঝটকায় চারপাশ কেঁপে উঠে এক প্রবল ঝড়ো হাওয়া বয়ে যায়, আর তারপর—সব কিছু নিস্তব্ধ। কোনো শব্দ নেই। বাতাস নেই। শুধু বুকের ভেতরে ধড়ফড়। আমি আর কখনো চড়ে রাত কাটাইনি। এখনও চোখ বন্ধ করলে সেই শিশুর কান্না শুনি, সেই সাদা ছায়ার মুখ মনে পড়ে—যার চোখ ছিল না, কিন্তু তাকিয়ে ছিল যেন আমার আত্মার গভীরে। ওটা কে ছিল? আমি জানি না। জানার সাহসও আর কখনো হয় না। শুধু জানি—তিস্তার চরের রাত এখনো জেগে থাকে, কারও অপেক্ষায়।

 ⛔তিস্তার চর⛔

(✍️গল্পটি পাঠিয়েছেন রংপুরের, গঙ্গাচড়া উপজেলা থেকে  মোঃ রাগিব হাসান তাছিন✍️)


সময়টা ২০১৭ সাল। আমার বয়স তখন ১৬। আমরা থাকি মহিপুরে, তিস্তা ব্রিজের পাশেই। সেসময় ব্রিজের নির্মাণ শেষ, কিন্তু উদ্বোধন হয়নি। নদী তখন একেবারে শুকনো—নিচে পানি নেই, কেবল বিস্তীর্ণ ধূসর চর আর চরজমি। শুষ্ক মৌসুমে সেই চড়ে রসুন, পেঁয়াজ আর আলুর চাষ করি আমরা—আমি আর আমার পরিবার। আমি একজন কৃষক পরিবারের সন্তান, মাটির ঘ্রাণ আমার রক্তে।


রসুন তুলার পর কয়দিন তা রোদে শুকানোর দরকার হয়, আর তাই আমরা নদীর চড়ে ধাপরি বানিয়ে রাতে পাহারা দিই। প্রথম রাতে চাচা একা ছিলেন সেখানে। পরদিন সকালে তার চোখ লাল, মুখ থমথমে—কিছু একটা যেন গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে তাকে। কিন্তু তখনও কিছু বলেননি আমাকে।


আমি বুঝিনি, আমি কোন বিভীষিকার দিকে এগিয়ে যাচ্ছি।


চাচা পরদিন জানালেন যা হয়েছিল—রাত দেড়টার দিকে, চারদিক যখন নিঃশব্দ আর কুয়াশায় মোড়া, তখন হঠাৎ ধাপরির চারপাশে ঠাণ্ডা বাতাস বয়ে যেতে থাকে। তারপর... কানে আসে একটি শিশুর কান্না। না, দূর থেকে নয়—ঠিক যেন ধাপরির ভেতরেই কেউ কাঁদছে! সেই কান্না করুণ, গলা ধরে আসে এমনভাবে বিলাপ করে। বুকের ভেতর হিমস্রোত বইয়ে দেয় সে আওয়াজ।


চাচা মাথার নিচে রাখা লাইট জ্বালাতে গিয়ে দেখেন—বাতি চলে গেছে। চারদিক অন্ধকার। এমন সময়—ধুপ! ধুপ! ধুপ! করে লোহার পেটানোর শব্দ আসে—প্রচণ্ড জোরে, যেন কেউ কামারশালায় হাতুড়ি চালাচ্ছে! শব্দটা আসে ধাপরির একেবারে মাথার উপর থেকে!


চাচা কোনোদিকে না তাকিয়ে শুধু ফিসফিস করে আয়াতুল কুরসি পড়তে থাকেন—জীবন নিয়ে বাঁচার শেষ চেষ্টায়।


আমার কিছু না জানিয়ে চাচা আমাকে সাথে করে নিয়ে গেলেন। আমি ভাবলাম, মজা করতে যাচ্ছি। কে জানতো, সেই রাতে আমার বিশ্বাসটাই পাল্টে যাবে।


রাত বাড়তে থাকে। প্রথমে চারপাশ নিঃস্তব্ধ। আমরা ঘুমিয়ে পড়ি। হঠাৎ আমার ঘুম ভাঙে—একটি শিশু কাঁদছে! এবার আমি নিজে শুনি। আমার পুরো শরীর হিম হয়ে যায়। চোখ খুলতেই দেখি চাচা উঠে বসে আছেন, ঠোঁটে আয়াত চালু, চোখ স্থির।


“এইটা কি...?” আমি জিজ্ঞেস করতেই, চাচা হাত দিয়ে চুপ করালেন।


তারপর—ধুপ! ধুপ! ধুপ! করে সেই লোহার শব্দ আবার! এবার এতটা জোরে যে ধাপরির বাঁশ কেঁপে ওঠে। বাইরে বের হয়ে দেখি—চারদিক অন্ধকার, কিন্তু সেই শব্দ ঠিক আমাদের ধাপরির উপরেই এক শুকনো বাঁশের মাথা থেকে আসছে!

আমি আকাশের দিকে তাকাই—কিছুই দেখা যায় না, কিন্তু শব্দটা মাথার উপর!


ঠিক তখনই চাচার চোখ বড় হয়ে ওঠে। আমি তার দৃষ্টির দিকে তাকাই—ব্রিজের নিচে কিছু একটা নড়ছে।


একটা লোক। সাদা জামা পরে। তার হাতে একটা শিশু। গলা চেপে ধরেছে শিশুটার। সে কাঁদছে, চিৎকার করছে। কিন্তু লোকটার মুখ স্পষ্ট নয়—মাথা সামান্য নিচু, চোখ একেবারে অন্ধকার। শরীর নিঃস্তব্ধ, কিন্তু তার হাতের চাপ শিশুটার গলায় বাড়তে থাকে!


আমার চিৎকার করে ওঠার কথা—কিন্তু গলা শুকিয়ে যায়।


তারপর হঠাৎ নদীর শুকনো মাঝখান থেকে এক অদ্ভুত আলো—সোনালী রঙের, ধীরে ধীরে ভেসে উঠছে যেন একটা নৌকা! কিন্তু নদী তো শুকনো! সেখানে পানি নেই! তবুও আলো কাঁপে, যেন নৌকাটা ধীরে ধীরে ভেসে যাচ্ছে।


চাচা আমাকে টেনে ধাপরির ভেতরে নেন। দরজা আটকে দোয়া পড়তে থাকি দুজনে। তবুও ধুপ! ধুপ! শব্দটা যেন ধাপরির ভেতরেই ঢুকে আসে। শিশুর কান্না এবার স্পষ্টতর—ঠিক কানের পাশে।


আমরা হাঁপাতে হাঁপাতে তিলাওয়াত পড়ছি, তবুও সেই শব্দ থামে না।


ঠিক ৩টা ৩০ মিনিটের সময়—এক ঝটকায় চারপাশ কেঁপে উঠে এক প্রবল ঝড়ো হাওয়া বয়ে যায়, আর তারপর—সব কিছু নিস্তব্ধ।


কোনো শব্দ নেই। বাতাস নেই। শুধু বুকের ভেতরে ধড়ফড়।


আমি আর কখনো চড়ে রাত কাটাইনি।


এখনও চোখ বন্ধ করলে সেই শিশুর কান্না শুনি, সেই সাদা ছায়ার মুখ মনে পড়ে—যার চোখ ছিল না, কিন্তু তাকিয়ে ছিল যেন আমার আত্মার গভীরে।


ওটা কে ছিল?


আমি জানি না। জানার সাহসও আর কখনো হয় না।


শুধু জানি—তিস্তার চরের রাত এখনো জেগে থাকে, কারও অপেক্ষায়।

ছবি ও লেখা দ্যা ওয়াল নিউজ থেকে সংগৃহীত

 কল্পনা পেশায় ছিলেন পরিচালক। ভূপেনের গান মুগ্ধ করেছিল তাঁকে। সেখান থেকেই প্রেমে পড়া। গায়কের বয়স তখন ৮৩। চূড়ান্ত অসুস্থ হয়ে এলেন মুম্বইয়ে।


যদি পাওয়া যায় সেই সম্পর্কের নামকরণ কী হয়? ভূপেন হাজারিকা আর কল্পনা লাজমির সম্পর্ক হয়তো অনেকটা সেরকম। কল্পনা জীবিত থাকলে ২৫-এ তাঁর বয়স হত ৭১। ভূপেন হাজারিকার সঙ্গে তাঁর ছিল প্রায় ৩০ বছরের ফারাক। অথচ প্রথম দিন থেকেই মানুষটির প্রতি অনুরক্ত ছিলেন কল্পনা!


কল্পনা পেশায় ছিলেন পরিচালক। ভূপেনের গান মুগ্ধ করেছিল তাঁকে। সেখান থেকেই প্রেমে পড়া। গায়কের বয়স তখন ৮৩। চূড়ান্ত অসুস্থ হয়ে এলেন মুম্বইয়ে। স্ত্রী প্রিয়ম্বদা পটেলের সঙ্গে ভূপেনের সম্পর্কের অবনতি ততদিনে ঘটেছে। নিজের সব সঞ্চয় বাজি রেখে গায়ককে মুম্বইয়ের হাসপাতালে ভর্তি করান কল্পনা। তিলতিল করে জমানো সব কিছু খরচ করতে একটুও ভাবেননি তিনি। অথচ ভাগ্যের কী পরিহাস! ভূপেনকে ফেরাতে পারেননি কল্পনা। কিছু বছর পর তিনি যখন অসুস্থ হন, হাতে নেই কানাকড়িও। প্রথম দিকে কিছু বন্ধু এগিয়ে আসে। পরে হাত ছাড়ে তাঁরাও। হাসপাতালে কষ্টে-যন্ত্রণায় মাত্র ৬৪ বছরেই মারা যান কল্পনা।


মাত্র ১৭ বছর বয়সে গায়কের সঙ্গে দেখা হয় কল্পনার। সে সময় গায়কের বয়স ৪৬ বছর। প্রথম দেখাতেই ভালবাসা। ফোনে চলত কথা। ঠিক দুই বছর ডকু ছবি বানানোর অজুহাতে কলকাতায় চলে আসেন কল্পনা। একসঙ্গে থাকতে শুরু করেন গায়কের সঙ্গে। গায়কের মা যদিও এই সম্পর্কের কথা মেনে নেননি। বোঝানোর চেষ্টা করেছিলেন একাধিকবার। মেয়ে শোনেননি।ি


কল্পনার মা ললিতাদেবী একবার সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, "আমরা খুব অবাক হয়েছিলাম। ওর বাবা ওকে মিস করত। কল্পনা কলকাতায়। আমরা ওকে আনতে যাই। ও তখন মাত্র ১৯। ও আসেনি। ভূপেনদা ওর বাবার বয়সী ছিলেন।"


কী ছিল তাঁদের মধ্যে? শারীরিক কামনা? উত্তর, না! যা ছিল তা হয়তো নিজেও জানতেন না কল্পনা! প্রেম, ভালবাসার ঊর্ধ্বে উঠে এ সম্পর্ক দাঁড়িয়ে ছিল আস্থা ও বিশ্বাসের উপর। একবার এক সাক্ষাৎকারে কল্পনা বলেছিলেন, "জানি না আমাদের মধ্যে কী আছে, তবে ভূপেন আমার জীবনটা কেমন যেন বদলে দিয়েছে। আমি জানি কোনও সম্পর্কেই এভাবে নিজেকে উজাড় করে দেওয়া ঠিক নয়। কিন্তু ও আমার জন্ম-জন্মান্তের সঙ্গী।" কল্পনা জানতেন, ভূপেনের হাতে বেশি সময় নেই। বিয়ে-সন্তান-সম্পত্তির প্রত্যাশী ছিলেন না তিনি। আক্ষেপ ছিল একটাই, 'ইশ যদি আরও কিছু বছর মানুষটাকে পেতাম'।


নিজের কথা না ভেবে যখন কার্যত বাড়ি-ঘর বেচে ভূপেনের চিকিৎসা করাচ্ছেন কল্পনা তাঁকে সাবধান করেন শুভান্যুধায়ীরা। তিনি বলেছিলেন, "কী হয়েছে পয়সা নেই তো? মরে যাব... আবার ওর সঙ্গে দেখা হবে আমার।"


লতা মঙ্গেশকর ও ভূপেন হাজারিকার বন্ধুত্ব নিয়ে একসময় প্রবল চর্চা হয়েছে। এমনকি প্রিয়ম্বদাও এ নিয়ে মন্তব্য করতে ছাড়েননি। লতাকে নিয়ে তাঁর ও প্রিয়ম্বদার মধ্যে টানাপড়েনের ছবি ফুটে উঠেছিল ভূপেন হাজারিকার আত্মজীবনী 'আমি এক যাযাবর'-এ। ২০১২ সালে ভূপেনবাবুর মৃত্যুর বর্ষপূর্তিতে প্রিয়ম্বদা সরাসরি দাবি করেন, লতাজি কলকাতায় এলে ভূপেনবাবুকে আর কাছে পাওয়া যেত না। না, হিংসে-রাগ নয়। বরং সেই সময়ও কল্পনা দাঁড়িয়েছিলেন ভূপেনের পাশেই।


যাযাবরের সঙ্গে দিনযাপনের ইচ্ছে ছিল কল্পনার। প্রতি মুহূর্তে তাঁকে পাশে চেয়েছিলেন তিনি। অন্যদিকে ভূপেন হাজারিকা কোনওদিনই বিয়ে করতে চাননি কল্পনাকে। লিভ-ইন সঙ্গী তকমাতেই সন্তুষ্ট ছিলেন কল্পনা। ২০১১ সালে মারা যান 'ব্রহ্মপুত্রের পাখি'। পাখির অমোঘ আকর্ষণে তাঁর মৃত্যুর মাত্র ৭ বছরের মাথায় প্রয়াত হন কল্পনাও! কিডনি ক্যানসারে কার্যত বিনা চিকিৎসায় চলে যান তিনি।


ছবি ও লেখা দ্যা ওয়াল নিউজ থেকে সংগৃহীত 🙏 

#highlight #photochallenge @highlight

বিপদের সময় এই দোয়াটি পড়ুন,অলৈকিক সাহায্য আসবেই,,,,,, ফেইসবুক থেকে নেওয়া

 🌊 তিন অন্ধকারের বুক চিরে অলৌকিক মুক্তির মহাকাব্য: ইউনুস (আ.)-এর গল্প ​আপনি কি কখনো এমন ঘোর অন্ধকারে পড়েছেন, যেখানে পালানোর কোনো পথ নেই? যে...