এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

শনিবার, ২৬ এপ্রিল, ২০২৫

পেহেলগাঁও এর যে স্থানে জঙ্গি আক্রমণ হলো সেখানে কোনো নেট ওয়ার্ক নেই,বিদ্যুৎ নেই,বসতি নেই।এই মাঠে শীতের সময় বরফ পরে।

 পেহেলগাঁও এর যে স্থানে জঙ্গি আক্রমণ হলো সেখানে কোনো নেট ওয়ার্ক নেই,বিদ্যুৎ নেই,বসতি নেই।এই মাঠে শীতের সময় বরফ পরে।জায়গাটি যেমন অপূর্ব সুন্দর ঠিক তেমন নির্জন।সাধারণত পেহেলগাঁও এ পর্যটক ঘুরতে এলে এই মাঠে অনেকেই আসেন আবার অনেকেই আসেন না।এই মাঠে পৌঁছতে হলে সকাল বেলায় আপনাকে ঘোড়ার পিঠে চড়ে আসতে হবে।বিকল্প কোনো রাস্তা নেই।পাহাড়ের উচু নিচু,জল, ঝর্ণা, বড় বড় পাইন গাছের মধ্যে দিয়ে আপনাকে পৌঁছতে হবে।অর্থাৎ গতকালের জঙ্গি হামলার পর সেনা কেউ হয় হ্যালিকম্পটার নয়তো ঘোড়া করে পৌঁছতে হয়েছে।কোনো কাঁচা বা পাকা রাস্তা নেই।পাহাড়ের খাড়া ঢাল বেয়ে উপরে উঠতে হয় এক পাহাড় থেকে আরেক পাহাড় তারপর পৌঁছতে হয় এই সুন্দর মাঠে।মুহত এই স্থানে নেই কোনো ঘর, বাড়ি,বাজার।সম্পূর্ণ নিরিবিলি পরিবেশ।স্থানীয় কিছু বাসিন্দা ঘোড়ার পিঠে করে কিছু খাদ্য সামগ্রী নিয়ে এই স্থানে দোকান দিয়েছে।তাও হাতে গোনা 

10/15 টি যার মধ্যে 4/5 টি ছাড়া বাকি দোকান বন্ধ থাকে।এই সব দোকানে আপনি চা,বিস্কুট, মোমো,চাউমিন,জল,কোল্ড ড্রিঙ্কস থেকে ছোটো খাটো কিছু খাবার জিনিস পাবেন।দোকানদার সকালে দোকান খুলে আবার বিবেক বিকেল দোকান বন্ধ করে পেহেলগাঁও এ নিচে নেমে আসে।

আমি আগেই বলেছি এই স্থানে ফোনে নেট ওয়ার্ক নেই, বিদ্যুৎ নেই,বসতি নেই।সুতরাং রাতে এই স্থান বা এই মাঠটি সম্পূর্ণ নির্জন বা অন্ধকার থাকে ।

এতো কিছু বলার একটাই কারণ এই স্থানটি শুধুমাত্র পর্যটকদের জন্য।জঙ্গিরা ধরে নিন পাকিস্থান থেকে এসেছে,ওদের পক্ষে এই স্থান, রাস্তা ঘাট চিনিয়ে দিতে হলে লোকাল লোক এর সাপোর্ট লাগবেই।গোটা জম্মু কাশ্মীরে সারা বছর রাস্তাঘাট থেকে গুরুত্বপুর্ন স্থানে সেনা বাহিনী, পুলিশ পাহারা দেয়।কাশ্মিরের অলিগলিতে সেনা বাহিনী থাকে।স্থানীয় পুলিশ সিভিল ড্রেসে পাবলিকপ্লেসে মিশে থাকে।ভারতীয় গোয়েন্দা বাহিনীর একটা বিশাল ফাঁক হয়ে গেলো গত কালের জঙ্গি হামলার।জঙ্গিরা তো ধরা পরবেই আজ হোক বা কাল।শুধু জঙ্গিরা কেন তাদের যারা সাহায্য করেছে তারাও ধরা পরবে।স্থানীয় লোক ছাড়া এই ফাঁকা স্থানে জঙ্গি হামলা হলো কারণ তারা তাদের নোংরা বর্বরোচিত হামলা করে পালিয়ে যেতে অনেকটাই সময় পাবে।কাশ্মীরের অন্য স্থানে আক্রমণ করলে ওরা বেছে বেছে হিন্দুদের মারতে পারতো না।ওদের উদ্দেশ্য একটাই ছিল হিন্দুদের হত্যা করা।ওদের উদ্দেশ্য যদি অন্য কিছু থাকতো তাহলে ওরা ধরনের আক্রমণ করত,এতে সাধারণ কাশ্মীরি থেকে হিন্দু মুসলিম অনেকেই মারা যেতো কিন্তু ওরা তা করেনি।এবার আসি জঙ্গিদের কে সাহায্য করলো  সেই প্রসঙ্গে,আমার ধারণা স্থানীয় ঘোড়া ছুটিয়ে যারা নিয়ে যায় টুরিস্টদের তাদের মধ্যে কেউ জড়িত থাকতে পারে।কারণ তারা বন্দুক সঙ্গে নিয়ে গেছে।যাত্রীদের ব্যাগ থেকে সারা বডি যেখানে চেকিং হয় সেখানে বন্দুক নিয়ে যাওয়া সম্ভব না।হাজার হাজার ঘোড়া গোটা এলাকায়।জঙ্গিরা আগে থেকেই কোনো কোনো ঘোড়ার পিঠে বন্ধুক লুকিয়ে গেছে এবং ওদের সাহায্য করেছে স্থানীয় লোক অথবা ঘোড়ার চালক (এটা আমার ধারণা মাত্র) স্থানীয় কিছু বড়লোক ঘোড়া কিনে আর কিছু স্থানীয় গরীব মানুষ 300/400 টাকার বিনিময়ে ঘোড়ার মালিকদের থেকে ঘোড়া সারা দিনের জন্য ভাড়া নেয়।সব খুঁজে বের হবে আগামীদিনে। 

বর্তমানে জঙ্গিরা ভারতকে আক্রমণ করেছে।ওরা যে উদ্দেশ্য নিয়ে আক্রমণ করেছে সেটা সফল।ওরা হিন্দুদের মেরে গোটা দেশে বুঝিয়ে দিলো।ওরা জানে হিন্দুদের মারলে গোটা দেশে হিন্দু মুসলিম ডাঙ্গা লেগে যাবে।হিন্দু মুসলিম ভুলে সবাইকে একটাই কথা বলবো সবাই শান্ত থাকুন।গুজবে কান দিবেন না।অল্প জেনে বা সত্যি মিথ্যে না জেনে ভুলভাল পোস্ট করবেন না।এই একটি দেশের অভ্যন্তরীন বিপর্যয় ।।

নিহত সকল পর্যটকদের আত্মার শান্তি কামনা করি এবং পরিবারের সকল সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই ।।

জয় হিন্দ ।। 

(সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত প্রকাশ করলাম,কারণ এতগুলো প্রাণ চলে গেলো,গতকাল থেকে ছটফট করছি,চোখের সামনে সব কেমন যেন শূন্য হয়ে যাচ্ছে,আমার নিজের অভিজ্ঞতা ও কল্পনা থেকে লিখেছি দুই এক কথা।কেউ ব্যক্তিগত ভাবে নিবেন না।সকলে ভালো ও সুস্থ থাকুন।সবাই মিলেমিশে থাকুন।গুজবে কান দিবেন না, জাত ধর্ম রাজনীতি নিয়ে আমার পোস্টে কমেন্ট করবেন না)


Collected from Facebook 

সংগৃহীত

ভারতে বর্ণপ্রথার এক করুণ চিত্র ফুটে উঠেছে ১৯৪৭ সালে মার্গারেট-বোর্ক হোয়াইটের তোলা এই ছবিতে। এখানে দেখা যাচ্ছে একজন উঁচু বর্ণের জমিদার বেশ নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে ও কোনো রকম শারীরিক স্পর্শ যাতে না হয় তা নিশ্চিত করে পাতায় মুড়িয়ে মজুরি দিচ্ছেন তার জন্য কাজ করা নিম্ন বর্ণের শ্রমিকদের বেতন দিচ্ছেন। 

 ভারতে বর্ণপ্রথার এক করুণ চিত্র ফুটে উঠেছে ১৯৪৭ সালে মার্গারেট-বোর্ক হোয়াইটের তোলা এই ছবিতে। এখানে দেখা যাচ্ছে একজন উঁচু বর্ণের জমিদার বেশ নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে ও কোনো রকম শারীরিক স্পর্শ যাতে না হয় তা নিশ্চিত করে পাতায় মুড়িয়ে মজুরি দিচ্ছেন তার জন্য কাজ করা নিম্ন বর্ণের শ্রমিকদের বেতন দিচ্ছেন। 


ভারতের বর্ণপ্রথা একটি সামাজিক স্তরবিন্যাস পদ্ধতি, যা সমাজকে বিভিন্ন শ্রেণিতে বিভক্ত করে। এই প্রথা মূলত দুটি ধারণার ওপর ভিত্তি করে গঠিত: 'বর্ণ' ও 'জাতি'।

বর্ণ ও জাতি: পার্থক্য ও সংজ্ঞা

• বর্ণ: 'বর্ণ' শব্দের আক্ষরিক অর্থ 'প্রকার', 'শ্রেণি' বা 'রঙ'। প্রাচীন ভারতে সমাজকে চারটি প্রধান বর্ণে বিভক্ত করা হয়েছিল:

• ব্রাহ্মণ: পুরোহিত ও শিক্ষাবিদ

• ক্ষত্রিয়: যোদ্ধা ও শাসক

• বৈশ্য: ব্যবসায়ী ও কৃষক

• শূদ্র: শ্রমিক ও সেবক

• জাতি: 'জাতি' শব্দের অর্থ 'জন্ম'। এটি সমাজের আরও সূক্ষ্ম বিভাজন নির্দেশ করে, যেখানে পেশা, অঞ্চল ও অন্যান্য সামাজিক বিষয়ের ভিত্তিতে হাজারো উপগোষ্ঠী রয়েছে।

বর্ণপ্রথার বৈশিষ্ট্য

বর্ণপ্রথার প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলোর মধ্যে রয়েছে:

• জন্মগত সদস্যপদ: একজন ব্যক্তি যে বর্ণে জন্মগ্রহণ করেন, সাধারণত সেই বর্ণের সদস্যপদ বহন করেন।

• এন্ডোগ্যামি: প্রত্যেক বর্ণের মধ্যে বিবাহ সম্পন্ন হয়; অন্য বর্ণের সঙ্গে বিবাহ সাধারণত নিষিদ্ধ।

• পেশাগত নির্ধারণ: প্রত্যেক বর্ণের নির্দিষ্ট পেশা বা কাজ নির্ধারিত থাকে, যা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে চলে আসে।

• সামাজিক পৃথকীকরণ: বিভিন্ন বর্ণের মধ্যে খাদ্য গ্রহণ, সামাজিক মেলামেশা ও বসবাসের ক্ষেত্রে পৃথকীকরণ বজায় থাকে।

বর্ণপ্রথার উদ্ভব

ঐতিহাসিকদের মতে, আর্যদের ভারতে আগমনের পর ঋগ্বৈদিক যুগে বর্ণপ্রথার সূচনা হয়। প্রথমে এই প্রথা পেশা ও কর্মের ভিত্তিতে ছিল, কিন্তু সময়ের সাথে সাথে এটি জন্মভিত্তিক হয়ে ওঠে।

আধুনিক ভারতে বর্ণপ্রথা

ভারতীয় সংবিধান বর্ণভিত্তিক বৈষম্য নিষিদ্ধ করেছে। তবে, সমাজে এখনও বর্ণপ্রথার প্রভাব দেখা যায়। সরকার তফসিলি জাতি ও উপজাতির জন্য সংরক্ষণ নীতি গ্রহণ করেছে, যাতে তাদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নতি নিশ্চিত হয়।

বর্ণপ্রথা ভারতের সমাজে গভীর প্রোথিত একটি প্রথা, যা সময়ের সাথে সাথে পরিবর্তিত হয়েছে, তবে এর প্রভাব এখনও বিদ্যমান।


#সংগৃহীত

গল্পের নাম : খেলাঘরে তুমি আমি  পর্ব--1

 শ্যা'লিকার লাল টকটকে ব্লা*উজটা খুলতে খুলতে তাকে জিজ্ঞেস করলাম : 

---তোমার আমাকে মেনে নিতে কোনো আপত্তি নেই তো? 


পারমিতা আমার প্রশ্নের কোনো উত্তর না দিয়ে চুপ করে বসে রইলো,ওরদিকে তাকিয়ে দেখি লজ্জায় মুখটা লাল হয়ে আছে।


---কী হলো,কোনো কথা বলছো না কেনো?


---দুলাভাই আরেকটু সময় দিন আমায়,আমার ভালো লাগছে না কিছুই। 


পারমিতার মুখ থেকে কথাটা শুনে আর এক মূহুর্ত দেরি করলাম না আমি,ব্লা*উজের ফি*তাগুলো বাঁধতে বাঁধতে বললাম 


---তোমার ইচ্ছের বিরুদ্ধে আমি ভুলেও স্পর্শ করবো না তোমায়,এইটুকু বিশ্বাস রাখতে পারো।


--আমি জানতাম আপনি আমার মনের অবস্থাটা ঠিক বুঝবেন দুলাভাই।


---তুমি কি এখনো আমায় দুলাভাই বলেই ডাকবে?দেখো আমি সবকিছু মানতে রাজি,এটা কিন্তু একদম মানবো না।


---দুলাভাই ডাকবো না তো কি ডাকবো,অভ্যাস হয়ে গেছে যে। 


---এই অভ্যাসটাকেই পরিবর্তন করতে হবে,আমি আমি এখন আর তোমার দুলাভাই নই,তা তুমি আমার শ্যা*লিকা।আল্লাহপাকের ইচ্ছেতে আমাদের ভেতরে একটা সম্পর্ক তৈরী হয়েছে।তাই এখন থেকে আমরা দুজন স্বামী স্ত্রী!


---আচ্ছা,আপুর ম*রে যাওয়াটাও কি আল্লাহপাকের ইচ্ছেতে হয়েছে দুলাভাই...সরি অর্ণব...

একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে পারমিতা আমায় প্রশ্ন করে। 


---হয়তো তাই। 


---আপু বেঁচে থাকলে আজকের এই দিনটা দেখতে হতো না,আমি কি পারবো ওর মতো সমস্ত দ্বায়িত্ব পালন করতে? 


---আমি মিথিলার সাথে বিয়ের দিন থেকে তোমায় দেখে আসছি,তোমায় চিনেছি।সেই কারনে আমার যথেষ্ট ভরসা আছে,তুমি নিশ্চয়ই পারবে।


আমি পারমিতাকে আরোও কিছু বলতে যাবো ঠিক তখন একটা শব্দ আমাদের ভেতরে ছেদ সৃষ্টি করে।হ্যাঁ,আমার আর মিথিলার ছেলে সন্তান রিসালাত ঘুম থেকে জেগেই কেঁদে উঠলো।আমাদের ফুলসজ্জার খাট থেকে খানিকটা দূরেই দোলনায় ওকে শুইয়ে রাখা হয়েছিলো।রিসালাতের জন্মের সময়ে ওর মা মিথিলা অর্থাৎ আমার প্রথম পক্ষের স্ত্রী মা রা যায়।এরপর আমার আর মিথিলার পরিবার রিসালাতের দ্বায়িত্ব ওর খালার কাঁধে তুলে দেয়।সেই সূত্রে আজ পারমিতা আমার সদ্য বিবাহিতা স্ত্রী।আমরা পরস্পর বৈবাহিক বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছি।আমি খাট থেকে নামতে যাবো ঠিক তখন পারমিতা আমায় থামিয়ে দিলো।


---অর্নব আপনি বসুন,আমি দেখছি। 


এই বলে পারমিতা গিয়ে রিসালাতকে কোলে তুলে নিলো।পারমিতার কোলের ছোঁয়া পেয়ে আমার ছেলে মূহুর্তেই কান্না ভুলে হাত পা ছোড়াছুড়ির খেলায় মেতে উঠলো।এই দৃশ্য দেখার থেকে আনন্দের আর কি হতে পারে।পারমিতাকে বিয়ে করা নিয়ে আমার মনের ভেতরে আপত্তি থাকলেও আজ মনে হচ্ছে আমি বাবা মায়ের কথা শুনে ভুল করিনি।বিশেষ করে আমার বাবার,উনিই বেশী এই বিয়েটা জোরাজুরি করেছেন আমায়।


আমি আর পারমিতা রিসালাতকে মাঝখানে নিয়ে শুয়ে পড়লাম।


---বাহহহ,পারমিতা।ছেলে তো দেখছি এই কয়দিনে ভালোই চিনে ফেলেছে তোমায়,কোন মন্ত্রে বশ করলে বলো? 


--মায়েদের মন্ত্র দিয়ে বশ করতে হয় না জনাব।তাছাড়া আমার মনে হয় না,মিথিলা আপু ওকে যতোটা মায়ের আদর ভালোবাসা দিতো,আমি তার সিকিভাগও দিতে পারবো।


---আমার তো মনে হয় একটু বেশিই পারবে,আর শুধু ছেলেকে নিয়ে চিন্তা করলে হবে,তার বাবাকে নিয়েও একটু চিন্তা করো। 

এই বলে আমি একটা হাসি দিলাম।


পরেরদিন সকালবেলা।

ঘুম থেকে জেগে দেখতে পাই পারমিতা নেই আমার পাশে।আমার পাশে রিসালাত অঘোরে ঘুমুচ্ছে।পারমিতাকে দুবার ডাক দিলাম,কোনো সাড়াশব্দ এলো না।বোধহয় কিচেনে আছে,তাই আমার শব্দ ওর কানে পৌঁছায়নি।বিছানা থেকে উঠে রুম থেকে বেরিয়ে যাবো ঠিক তখন পারমিতার ফোনটা বেজে ওঠে।আমি প্রথমবার কলটা ইগনোর করি,কিন্তু নম্বরটা থেকে কনটিনিউয়াসলি কল এসেই যাচ্ছিলো।তাই বাধ্য হয়ে রিসিভ করলাম,ঠিক তখন ওপাশ থেকে একটা রুক্ষ কন্ঠস্বর ভেসে আসে। 


---কি ব্যপার পারমিতা?তোমার কথায় আমি তোমার বোনকে অপারেশনের নাম করে মে*রে ফেললাম।এতো বড়ো একটা রিস্ক নিলাম শুধু তোমার জন্যে,সেই তুমি টাকা নিয়ে ঘোরাচ্ছো আমায়...এর ফল কি হতে পারে জানো তুমি? 


লোকটার কথা শুনে আমার পুরো শরীরটা এক ঝটকায় কেঁপে উঠলো,হাত থেকে ফোনটা মেঝেতে পড়ে গড়াগড়ি খেতে লাগলো... 


চলবে...  


গল্পের নাম : খেলাঘরে তুমি আমি

 পর্ব--1


(খেলা ঘরে তুমি আমি)


নেক্সট পার্ট সবার আগে আইডিতে পোস্ট করা হবে, নীল লেখার চাপ দিয়ে সবাই আইডি ফলো করুন facebook.com/thearal0

মাতৃত্ব ও সংগ্রামের প্রতিচ্ছবি: এক মায়ের অদম্য লড়াই!

 মাতৃত্ব ও সংগ্রামের প্রতিচ্ছবি: এক মায়ের অদম্য লড়াই!


পাঁচ মাসের শিশুকে বুকে বেঁধে রিকশা চালাচ্ছেন আসামের এক মা। এই মা সারা দেশের মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছে।

এই দৃশ্য শুধু একজন মায়ের লড়াইয়ের নয়, বরং তা কর্মজীবী নারীদের অবিরাম সংগ্রামের প্রতিচ্ছবি। কঠোর বাস্তবতার সঙ্গে লড়াই করেও তিনি সন্তানের ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার সংকল্পে অবিচল।


একজন মা, যিনি শুধু নিজের সন্তানের মুখে খাবার তুলে দিতে চান, জীবনযুদ্ধে নামছেন প্রতিদিন। সমাজের নিয়মকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে, কষ্ট আর ঘাম দিয়ে গড়ে তুলছেন একটুকরো ভবিষ্যৎ।

এই মায়ের গল্পটা কি শুধু তার একার? না, এটা লাখ লাখ নারীর গল্প।

যারা ঘরের ভেতরে আর বাইরে—দু’জায়গাতেই লড়ছেন।


মা হওয়া কোনো বাধা নয়, বরং এটাই তার সবচেয়ে বড় শক্তি।

এই দৃশ্য আমাদের মনে করিয়ে দেয়, একজন নারী চাইলে সব পারে—সে মা, সে কর্মী, সে যোদ্ধা।


আমরা অনেক সময় এমন নারীদের কষ্ট দেখি, কিন্তু তার পেছনের সাহসটা দেখি না। তারা চুপ করে থাকেন, কিন্তু তাদের সংগ্রাম চিৎকার করে বলে—"আমি থামবো না!"

যখন পৃথিবীর মানুষের গড় আয়ু ছিল ৪০-৪৫ বছর, পঞ্চাশের উপরে বেঁচে থাকা ছিল একটা বিরল ঘটনা।  তখন চেঙ্গিস খান সিংহাসনে বসেছিলেন ৫১ বছর বয়সে।    

 যখন পৃথিবীর মানুষের গড় আয়ু ছিল ৪০-৪৫ বছর, পঞ্চাশের উপরে বেঁচে থাকা ছিল একটা বিরল ঘটনা। 

তখন চেঙ্গিস খান সিংহাসনে বসেছিলেন ৫১ বছর বয়সে।    


সিংহাসনে আরোহনের মাত্র বিশ বছরের মধ্যে  তিনি ভূ-লোকের যত অঞ্চল জয় করেছিলেন, যত সাম্রাজ্যকে পদানত করেছিলেন,  যত রাজা-মহারাজাদের নাকে খদ খাইয়েছিলেন  তার আগে-পরে  আর কেউ তা পারেনি। 


আলেক্সান্ডার,  সিজার কিংবা নেপোলিয়নদের মত দিগ্বিজয়ীরা যৌবনে যত অঞ্চলে পা রাখতে পারেননি চেঙ্গিস তার চেয়ে ঢের ঢের বেশি অঞ্চল জয় করে নিয়েছিলেন বার্ধক্যে। 


একজন দুর্ধর্ষ বিজেতা, দুর্দান্ত সংগঠক, দুর্বিনীত যোদ্ধা অথচ তিনি জানতেন না যে দুনিয়াতে 'লিখনপদ্ধতি' নামে একটি ব্যাপার আছে। তার সময়ে যাবতীয় রাজকীয় তথ্য ,  ফরমান এবং নির্দেশনা প্রথমে প্রবাদাকারে দূতকে মুখস্ত করানো হত। তারপর মৌখিকভাবে তা যথাস্থানে পৌঁছে দেয়া হত।

'লেখা'র বয়স তখন প্রায় ৪৫০০ বছর হয়ে গেছে। চীন অভিযানে বেরিয়ে চেঙ্গিস খান  প্রথম জানতে পারেন দুনিয়াতে 'লিখনপদ্ধতি' নামে একটা ব্যাপার আছে। জানার সাথে সাথে তিনি তার পুত্র এবং আমত্যবর্গকে এ পদ্ধতিটি আয়ত্ত করার জন্য আদেশ দেন। তার যাবতীয় বাণী, আইন, বিধি ইত্যাদি লিখে রাখার জন্যও তাদের নির্দেশনা দিয়ে দেন।। এ বিধানগুলো চিরকাল মানুষ সভয়ে পালন করবে  এই ছিল তার বিশ্বাস।


অনেকে চেঙ্গিস খানের নামের শেষে 'খান' শব্দটি দেখে তাকে ইসলাম ধর্মের অনুসারী ভেবে থাকেন কিন্তু তিনি মোটেই তা ছিলেন না। তিনি ছিলেন নীল আকাশের পূজারী। আকাশকেই তিনি তার প্রভু মনে করতেন। বিপদে তিনি আকাশের কাছেই মাথা নুয়াতেন। আবার কারো কারো মনে তিনি ছিলেন অগ্নি পুজারী!


বংশধর রেখে যাওয়ার ক্ষেত্রেও এ লোকটি বিরল মাইলফলক রেখে গেছেন। তার পুরুষ বংশধরের সংখ্যা প্রায় ১ কোটি ৬০ লক্ষের উপরে। সন্তানদেরকে যদি ধন সম্পদের সাথে তুলনা করা হয় তাহলে নিশ্চয় চেঙ্গিস খানের চেয়ে ধনী বাবা পৃথিবীতে খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়ে যাবে।


চেঙ্গিস খানের ৫ জন স্ত্রী এবং অর্ধ সহস্রাধিক উপপত্নী ছিল। তবে এদের মধ্যে তিনি তার প্রথম স্ত্রী বোর্তের আশপাশে কাউকে আসতে দেননি। বিয়ের কিছুদিন পরেই বোর্তে অপহরিত হয়েছিল। অবধারিতভাবে তার শ্লীলতাহানিও করা হয়েছিল।  চেঙ্গিসখান সেখান থেকে বোর্তে কে উদ্ধার করেছিলেন এবং স্ত্রীর মর্যাদায় পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। অপহরণের কিছুদিন পরে বোর্তে সন্তানসম্ভাবা হলেও চেঙ্গিস খান সে সন্তানকে নিজের সন্তান হিসেবে গ্রহণ করেন। 


 অসংখ্য সন্তানের পিতা হওয়া সত্ত্বেও শুধু বোর্তের গর্ভে জন্ম নেওয়া চার ছেলেকেই উত্তরাধিকারী হিসাবে মনোনীত করেছিলেন তিনি। 


তার সমাধি গোপন রাখার জন্য মৃত্যুর আগে তিনি সৈন্যদের নির্দেশ দিয়ে গিয়েছিলেন।  বলা হয়ে  থাকে তার সমাধিকে নিচিহ্ন করার জন্য সমাহিত অঞ্চলের উপর দিয়ে এক হাজার ঘোড়া ছুটিয়ে নেয়া হয়েছিল।


#life #dhwonidiary #motivation 

সংগৃহিত

একজন ধনী ব্যবসায়ী, দামি গাড়ি চেপে রাস্তায় যাচ্ছিলেন

 ❣️💕 একজন ধনী ব্যবসায়ী, দামি গাড়ি চেপে রাস্তায় যাচ্ছিলেন। হঠাৎ চোখে পড়ে ফুটপাতের এক কোণে, ইটের ওপর মাথা রেখে গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন এক ব্যক্তি। প্রচণ্ড রোদ, ধুলাবালি, গাড়ির আওয়াজ—তবুও ঘুম কেমন করে আসে লোকটার ?


জানালা নামিয়ে তিনি এগিয়ে গেলেন, ডাকলেন, —এই যে শুনছেন ?


ধড়মড় করে উঠে লোকটি বলে, — অ্যা... কি হয়েছে স্যার ?


—এই গরমে, এই জায়গায় ঘুমোচ্ছেন কেন ? ঘর নেই ?


লোকটি হেসে বলে, — ঘর আছে স্যার, গ্রামে। ভোরে উঠে শহরে পেন বিক্রি করতে আসি। বিকেলে ফিরে যাই। ঘুম পেয়েছিল তাই একটু চোখ লেগে গিয়েছিল।


ব্যবসায়ী জানতে চাইলেন, —আজ কেমন বিক্রি হলো?


—দেড়শো টাকা। সন্ধ্যায় আবার এক গ্যারাজে কাজ করি, কিছু টাকা আসে। সংসার চলে যায় কোনোভাবে। তবে মেয়েটা কয়েকদিন ধরে অসুস্থ, জ্বর যাচ্ছে না।


ভদ্রলোক পকেট থেকে পাঁচশো টাকা বের করে বললেন, —এই নাও, মেয়ের জন্য কিছু ফল কিনে নিও।


লোকটি টাকা নিতে অস্বীকার করে বললো, —আমার কাছে টাকা আছে স্যার। এমনি এমনি নেবো না। আপনি বরং আমার কাছ থেকে একটা পেন কিনুন। এই পেনে খুব সুন্দর গন্ধ আছে।


ব্যবসায়ী মুগ্ধ হয়ে কিছুক্ষণ ভেবে বললেন, —তুমি সৎ মানুষ। আমি তোমাকে ৫০ হাজার টাকা দিতে চাই, এমনি নয়। আমার হোলসেল কাপড়ের দোকান থেকে কাপড় নিয়ে বিক্রি করো। যদি মন দিয়ে কাজ করো, তিন মাস পর আবার দেবো ৫০ হাজার। তখন নিজে দোকান দিতে পারবে।


লোকটি বিস্মিত হয়ে বললো, —আপনি তো আমাকে চেনেন না, তবুও এত টাকা?


ভদ্রলোক হাসলেন, —এই সামান্য টাকা আমার কিছু যায় আসে না। কিন্তু তোমার জীবনে যদি এই সামান্য দিয়েই পরিবর্তন আসে, তবেই তো এর মূল্য।


...কয়েক বছর কেটে গেছে...


সেই পেনওয়ালা এখন সফল ব্যবসায়ী। শহরে তিনটি দোকান, ফ্ল্যাট, গাড়ি সবই আছে। একদিন হঠাৎ ডাক্তারের চেম্বারে দেখা হলো সেই উপকারী ভদ্রলোকের সঙ্গে।


—এই যে ভাই! তুমি এখানে ?


—স্যার, চেকআপে এসেছি। সুগার-প্রেশার ধরেছে। ঘুম হয় না মোটেও।


ভদ্রলোক মুচকি হেসে বললেন, —সেদিন তো রাস্তায় দেড়শো টাকা নিয়েও নিশ্চিন্তে ঘুমোচ্ছিলে! আজ এত কিছু নিয়েও ঘুম আসছে না ?


পেনওয়ালার চোখে ক্লান্তি। —সত্যি স্যার, আগে হারানোর ভয় ছিল দেড়শো টাকা হারানোর। এখন কোটিপতি হয়েও স্ট্যাটাস হারানোর ভয়। আগে এক বউ আর এক মেয়ে ছিল। এখন অনেক আত্মীয়, বন্ধুবান্ধব। সবাইকে খুশি রাখতে হয়। আগে ডাল-ভাতে চলত, এখন বাসমতি চাল, মাছ, মাংস চাই। আগে ছোট জিনিসে খুশি হতো সবাই, এখন হাজারে একও খুশি হয় না। এত চাহিদা, এত চিন্তা—ঘুম আসে কীভাবে ?


ভদ্রলোক শান্ত গলায় বললেন, —আমি তো এই সমস্যায় বহুদিন ভুগেছি। একদিন আমার গুরুদেব বললেন, "একজন সৎ, গরিব অথচ নিশ্চিন্ত মানুষকে সাহায্য করো, দেখবে শান্তি পাবে। ঘুম আসবে। সুস্থ থাকবে।"


পেনওয়ালার চোখে বিস্ময়: —তাহলে স্যার, সেই কারণেই আপনি আমাকে সাহায্য করেছিলেন ?


ভদ্রলোক শুধু একটু হেসে চুপ করে রইলেন ।

আর পেন ওয়ালা দ্রুত গাড়ি নিয়ে বের হয়ে পড়ল,,,,, তার চোখ এখন শুধু ফুটপাতের দিকে। ❣️💕💞

চট্টগ্রাম জেলার ১০৬টি দর্শনীয় স্থানঃ 

 চট্টগ্রাম জেলার ১০৬টি দর্শনীয় স্থানঃ 🔵


১. পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত

২. ফয়েজ লেক

৩. মহামায়া লেক

৪. চন্দ্ৰনাথ পাহাড় ও মন্দির

৫.  বাঁশবাড়িয়া সমুদ্র সৈকত

৬. গুলিয়াখালী সমুদ্র সৈকত

৭. কুমিরা ঘাট

৮. ভাটিয়ারী লেক

৯. বাঁশখালী সমুদ্র সৈকত

১০. সোনাইছড়ি ট্রেইল

১১. সুপ্তধারা ঋণী

১২. নাপিত্তাছড়া ঝর্ণা

১৩. লালদীঘি

১৪. খেজুরতলা বীচ

১৫. আকিলপুর সী-বিচ

১৬. খৈয়াছড়া ঝর্ণা

১৭. ঝরঝরি ঝর্ণা

১৮. কমলদহ ঝর্ণা

১৯. সোনাইছড়া ঝর্ণা

২০. বোয়ালিয়া ঝর্ণা

২১. বাওয়াছড়া লেক

২২. হরিণমারা হাঁটুভাঙ্গা ট্রেইল

২৩. হাজারিখিল অভয়ারণ্য

২৪. বাঁশখালী ইকোপার্ক

২৫. কালুরঘাট ব্রিজ

২৬. চট্টগ্রাম ওয়ার সিমেট্রি

২৭. বেলগাঁও চা বাগান

২৮. সহস্র ধারা ঝর্ণা

২৯. চট্টগ্রাম ডিসি পার্ক

৩০. জাম্বুরী পার্ক

৩১. ডিসি হিল / নজরুল স্কয়ার

৩২. সিআরবি পাহাড়

৩৩. ছাগল কান্দা পাহাড়

৩৪. চেরাগি পাহাড়

৩৫. চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানা

৩৬. হযরত বায়েজিদ বোস্তামী (রঃ) মাজার

৩৭. হযরত শাহ আমানত (রঃ) মাজার

৩৮. চালন্দা গিরিপথ

৩৯. বোটানিক্যাল গার্ডেন এবং ইকোপার্ক, সীতাকুণ্ড

৪০. আন্দরকিল্লা শাহী মসজিদ

৪১. জাতিতাত্ত্বিক জাদুঘর

৪২. পারকি সমুদ্র সৈকত

৪৩. শেখ রাসেল এভিয়ারি ইকো পার্ক

৪৪. বুদবুদির ছড়া

৪৫. মুহুরী প্রজেক্ট

৪৬. সন্দ্বীপ

৪৭. কল্পলোক বীচ

৪৮. বাড়বকুণ্ড

৪৯. নেভাল একাডেমি এবং নেভাল এরিয়া

৫০. চেরাগি পাহাড় মোড় (স্মৃতি মিনার)

৫১. কালুরঘাট বেতার

৫২. পার্কির চর 

৫৩. বৌদ্ধ তীর্থ স্থান চক্রশালা, পটিয়া

৫৪. বাটালী হিল

৫৫. কর্ণফুলী টি গার্ডেন

৫৬. মিনি বাংলাদেশ এবং স্বাধীনতা কমপ্লেক্সে

৫৭. মহামুনি বৌদ্ধ বিহার

৫৮. রাঙ্গুনিয়া কোদালা চা বাগান

৫৯. বাটারফ্লাই পার্ক

৬০. অভয়মিত্র ঘাট

৬১. ফিশারি ঘাট

৬২. কর্ণফুলী টানেল

৬৩. খানখানাবাদ সমুদ্র সৈকত, বাঁশখালী

৬৪. খিরাম সংরক্ষিত বনাঞ্চল, ফটিকছড়ি

৬৫. লোহাগাড়া বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য 

৬৬. চুনতি বন্যপ্রাণ অভয়ারণ্য

৬৭. বারৈয়াঢালা জাতীয় উদ্যান

৬৮. বেলগাঁও চা বাগান, পুকুরিয়া, বাশখালী 

৬৯. বিপ্লব উদ্যান, শহর

৭০. খেজুরতলা পর্যটন কেন্দ্র

৭১. বাশখালি চা বাগান

৭২. আশুনিয়া চা বাগান

৭৩. চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

৭৪. ভুজপুর সংরক্ষিত বনাঞ্চল

৭৫. কর্ণফুলী নদী

৭৬. চট্টগ্রাম বন্দর

৭৭. চারুলতা পার্ক, শহর

৭৮. রানী রাসমনি ঘাট

৭৯. হামিদ চর

৮০. আরসি নগর ফিউচার পার্ক

৮১. শেখ রাসেল শিশু পার্ক

৮২. রেলওয়ে জাদুঘর

৮৩. জিয়া স্মৃতি জাদুঘর

৮৪. কর্ণফুলী নতুন ব্রীজ

৮৫. জাতিসংঘ পার্ক

৮৬. ঠাণ্ডাছড়ি পিকনিক স্পট

৮৭. আগ্রাবাদ কর্ণফুলী শিশু পার্ক

৮৮. ভাটিয়ারী গলফ ও কান্ট্রি ক্লাব

৮৯. কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র

৯০. কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার

৯১. গুপ্ত জমিদার বাড়ি

৯২. চাকমা রাজবাড়ি

৯৩. প্রসন্ন কুমার জমিদার বাড়ি

৯৪. পরৈকোড়া জমিদার বাড়ি

৯৫. ভুজপুর জমিদার বাড়ি

৯৬. সত্য সাহার জমিদার বাড়ি

৯৭. চট্টগ্রাম তোরণ

৯৮. মাইজ ভান্ডার দরবার শরীফ

৯৯. শমসের গাজীর কেল্লা

১০০. আমানত শাহ দরগাহ

১০১. ভুজপুর রাবার ড্যাম

১০২. হারুয়ালছড়ি রাবার ড্যাম

১০৩. দাঁতমারা রাবার বাগান বা সেলফি রোড

১০৪. বাগানবাজার রাবার বাগান

১০৫. হালদা নদী

১০৬. বায়েজিদ লিংক রোড


কতগুলো জায়গা ঘুরে দেখেছেন?


ক্রেডিট:স্বপ্ন ছুঁই-Travel's (CSCT)

নাগিন_কন্যা

 মানুষের গর্ভে সাপের বাচ্চা জন্ম গ্রহন করতে পারে! এত অবিশ্বাস্য কথা। কিন্তু এই কথাটাই পুরো গ্রামে বলে বেড়াচ্ছে দাই রহিমের মা। তার ভাষ্যমতে গভীর রাতে ওকে ডাকতে আসে রাইমার শাশুড়ি। রাইমা পোয়াতি , ছটফট করছে। দ্রুত বুড়ি দাই রাইমার শাশুড়ির সাথে তাদের বাড়ি যায়। রাইমার কাছে যেতেই বুঝতে পারেন সন্তান প্রস্রোবের সময় হয়ে এসেছে। প্রয়োজনীয় সব কিছুর ব্যবস্থা করতে ছুটে যান রাইমার শাশুড়ি। রাইমার পাশে তখন শুধু দাই। ঘরে দুটো হারিকেন আর একটা কুপি জ্বলছে। 


রাইমা প্রস্রোবের ব্যথায় গোঁঙাচ্ছে। বুড়ি দাই ওকে শান্ত করার চেষ্টা করছেন। এমন সময় বুঝে গেলেন চরম মুহূর্ত উপস্থিত। এখন বাচ্চাটার মাথা টেনে বের করতে হবে। প্রথমে একটা মানুষের বাচ্চার মতোই মাথা বেরিয়ে এলো। দাই রহিমের মা , ওটা ধরতে গিয়েই বুঝলেন ওটা মুহূর্তেই বদলে পিচ্ছিল হয়ে গেল। কেমন সরু চ্যাপ্টা মাথা। ওটাকে ধরে টান দিতেই কুণ্ডলী পাকানো একটা সাপ বেরিয়ে এলো রহিমার মায়ের হাতে। নিশ্চুপ হয়ে গেল মুহূর্তেই রাইমার গোঙানি। ভয়ে চিৎকার করে সাপটা ঘরের এক কোণে ফেলে দিয়েই অজ্ঞান হয়ে গেলেন তিনি। 


এরপর যখন জ্ঞান ফিরলো তখন দেখলেন একটা বাচ্চা শিশুকে কোলে নিয়ে রাইমার শাশুড়ি মাটিতে বসে কাঁদছে। রহিমের মা ভয়ে ভয়ে উঠে বাচ্চাটার কাছে গেল। কই সাপ , একটা ফুটফুটে দেখতে মেয়ে। এমন সুন্দর নীল চোখ! কেমন ড্যাবড্যাব চোখে তাকিয়ে আছে। বুড়ির স্পষ্ট  মনে আছে রাইমার জরায়ু থেকে একটা সাপ বের করেছে সে। কিন্তু এখন দেখছে বাচ্চা একটা মেয়ে। তাহলে রাইমা যাকে জন্ম দিয়েছে , ওটা কী একটা ইচ্ছাদারি নাগিন ! 


রাইমার দিকে তাকাতেই বুঝতে পারলেন সন্তান জন্ম দিতে গিয়ে মারা গেছে মেয়েটা। রাইমার শাশুড়ি কেঁদে কেঁদে বিলাপ বকছেন , কাল নাগিনী মাইয়া জন্ম নিছে। পেটে আওয়ার লগে লগে বাপরে খাইছে , এখন জন্মানোর সময় মারে খাইলো। এখন খালি আমারে খাওয়া বাকি আছে। এইটারে নিয়া আমি কী করমু!


বুড়ি দাই উত্তেজিত হয়ে বলল , এই মাইয়ারে এখনই মাইরা ফেল , আমি নিজ চোখে দেখছি এই মাইয়া একটা নাগিন। 


যত যাই হোক এই বাচ্ছাটাই এখন রাইমার শাশুড়ির একমাত্র বেঁচে থাকার সম্ভল। দাইয়ের কথা শুনে তিনি ক্ষেপে উঠলেন।


 চুপ কর নেমখহারামি। কী কস এইগুলা আমার নাতনিরে? 

 

যা  সত্যি তাই কই। 


এরমধ্যেই গ্রামের অনেক লোক আশা শুরু করে দিয়েছে রাইমার লাশ দেখতে। বুড়ি দাই সবার কাছে বলে বেড়াচ্ছে তিনি নিজের হাতে রাইমার গর্ভ থেকে সাপ বের করেছেন। ঐ বাচ্চা একটা ইচ্ছাদারি নাগিন। গ্রামের সবাই বুঝতে পারলো বুড়ির মাথা এলোমেলো হয়ে গেছে। ওর এখন অবসর নেওয়া দরকার , নতুন দাই লাগবে আরেকটা। বলে কী বুড়ি! ইচ্ছাদারি নাগি! এত স্রেফ রূপ কথায় হয়। 


রাইমার স্বামী রাইমার গর্ভে বাচ্চা আসার এক মাস পরেই সাপের কামড়ে মারা গিয়েছিল। মাছ ধরতে গিয়েছিল সেদিন দুপুরে। বাড়িতে এসেই ছটফট করতে থাকে। বলে গোখরা নাকি কামড়েছে। ওঝা ডাকা হলো , কিছুই করতে পারলো না । মারা গেল হাসেম। এরপর থেকে রাইমা আর তার শাশুড়ি মিলেই সংসার করছে। 


একমাত্র সন্তানকে হারানোর পর এবার হাসেমের মা তার ছেলের বউকে হারিয়ে একেবারে দিশেহারা হয়ে গেলেন। তার নাতনির জন্য একই সাথে ঘৃণা আর ভালোবাসা দুইই কাজ করতে লাগলো। 


সেই দিনের এক সপ্তাহ পর এক সন্ধ্যায় ছুটতে ছুটতে রহিম গ্রামের ওঝার বাড়িতে হাজির হলো। জানালেন তার মাকে সাপে কেটেছে। একজন নাকি সাপটা দেখেছে , কালাচ। হন্তদন্ত হয়ে ছুটে গেল ওঝা। পুরোনো দাই হওয়ায় গ্রামের সবারই পরিচিত রহিমের মা। নানান ঔষধ , কবিরাজি করেও বাঁচানো গেল না রহিমের মাকে। রহিম আর্তনাদ করে কেঁদে ওঠে , আগেই কইছিলাম নাগ-নাগিন নিয়া এত উল্টাপাল্টা কথা কয়া বন্ধ কর , একটা বাচ্চা মাইয়ারে নিয়া কুৎসা রটাইও না, কেডা শুনে কার কথা , সত্যি কারের নাগিনই আমার মারে মারতে ঐ সাপ পাঠাইছে!


গ্রামের সবাই আতঙ্কের মধ্যে পড়লো। এই ওয়ালিপুর গ্রামেতো এত সাপের উপদ্রব ছিল না। গত এক বছরে রহিমের মাকে নিয়ে ৮ জন মারা গেল বিষধর সাপের কামড়ে। 


হাসেমের মা হামিদাবাণু তার নাতিনকে নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়ে গেলেন। দুই দিন ধরে ছাগলের দুধ খাওয়ানোর চেষ্টা করেছেন কিন্তু কিছুতেই তা খেতে চায় না । দুই গ্রাম খুঁজেও সদ্য সন্তান জন্ম দিয়েছে এমন কোনো মেয়েকে রাজি করাতে পারলেন না তার নাতনিকে বুকের দুধ খাওয়ানোর জন্য। অনেকেরই ধারণা এই মেয়ে অপয়া।  এমন হতে থাকলে তো না খেয়েই মরবে বাচ্চাটা। 


গভীর রাত। ঘরের চৌকিতে নাতনিকে নিয়ে শুয়ে আছেন হাসেমের মা। ঘুমিয়ে আছে দুজনেই। হঠাৎ ঘুমের ভেতরেই টের পেলেন তার পুরো শরীর জুড়ে পিচ্ছিল কী একটা যেন বেয়ে বেড়াচ্ছে। তার বুকের উপর থেকে কাপড় সরিয়ে বয়স্ক স্তনে চিকন জিহ্বা ছোয়াচ্ছে ওটা। এক মুহূর্তেই ঘুম ছুটে গেল বুড়ির। স্পষ্ট অনুভব করতে পারলো একটা সাপ উঠেছে তার শরীর , স্তন চুষছে। বুড়ি সচেতন হয়ে গিয়েছে এরমধ্যেই , লাফালেই কামড়ে দেবে ওটা। ধীরে ধীরে চোখ খুললো , ঘরে হারিকেন জ্বলছে। আরে সাপ কই , তার নাতনি বুকের সাথে লেপ্টে আছে। বুড়ি ব্লাউজ পরে না। তার নগ্ন স্তনে মুখ দিয়ে চুষছে শিশুটি। 


বুড়ির বুক ফেটে কান্না আসতে চাইলো । আহা! দুঃখী বাচ্চা । না খেতে পেয়েই মারা যাবে বুঝি শেষ পর্যন্ত। মা পায়নি তাই মায়ের বুকের দুধের জন্য এত উন্মুখ হয়ে আছে। বুড়ি শরীরে কেমন এক অদ্ভুত শিহরণ অনুভব করলেন। স্তনের টান অনুভব করলেন। এবং বুঝতে পারলেন তার নাতনি শুধু শুধু ওটায় মুখ দিয়ে চুষছে না। সত্যি সত্যিই দুধ পাচ্ছে। 


হাসেমের মায়ের জীবনে এরচেয়ে আশ্চর্যের ঘটনা আর ঘটেনি। এটা যে স্বাভাবিক কোনো কিছু না তা তিনি ভালো করেই বুঝতে পারলেন। পরমুহূর্তে করুণাময়ের কথা স্মরণ করে আনন্দে দুচোখ পানিতে ভরে উঠলো। করুণাময় এতটা নিষ্ঠুর হতে পারেন না , তিনি এই বাচ্চাটার কষ্ট সহ্য করতে পারেনি। তাই এই গায়েবি খাবারের ব্যবস্থা করে দিয়েছে বাচ্চাটার। কৃতজ্ঞতা আর তৃপ্তিতে মন ভরে উঠলো তার। 


হাসেমের মা তার নাতনির নাম দিলেন চন্দ্র। নিজের জীবনের সব ভালোবাসা উজাড় করে পেলে-পুষে বড় করতে লাগলেন নাতনিকে। আশেপাশের মানুষেরা এত রূপবতী কোনো বাচ্চাকে এর আগে দেখেনি । কী সুন্দর , চোখ , নাক , মুখ। চাইলেও ঘৃণা করা যায় না। আস্তে আস্তে তাই প্ৰতিবেশীরাও স্বাভাবিক হতে থাকে তাদের সাথে। চন্দ্রকে সবাই ভালোবাসতে শুরু করে। কয়েক ঘরের মেয়েরা শুধু বুড়ির আড়ালে চন্দ্রকে বলতো  কাল নাগিনী। 


চন্দ্রের বয়স বাড়ার সাথে সাথে গ্রামে সাপের উপদ্রব ভয়ানক হারে বাড়তে লাগলো। প্রায় প্রতি মাসেই কেউ না কেউ মারা যাচ্ছে সাপের কামড়ে। গ্রাম থেকে উপজেলা হাসপাতালও অনেক দূরে , তাছাড়া ডাক্তারি বিদ্যায় তাদের বিশ্বাস নেই। ওঝার উপরও ভয়ানক ক্ষেপে আছে সবাই। কিসের ওঝা , একজনেরও বিষ ছাড়াতে পারে না! টাকা খরচ করে দূর গ্রাম থেকে বড় মাপের ওঝা গ্রামে এনে থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা করলো এবার গ্রামের সবাই। 


এই ওঝাও সাপে কাটা লোকদের তেমন কোনো মঙ্গল করতে পারলেন না। গ্রামের সবাই কাঁচি , দা , কুড়াল নিয়ে তিন বেলা ঝোপ ঝাড় , গর্ত খুঁজে সাপের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করলো। মারা পড়লো শয়ে শয়ে সাপ। কিন্তু এতে যেন আরো বাড়লো সাপের সংখ্যা।  সাপের কামড়ে মরার সংখ্যাও বাড়ছে। 


দেখতে দেখতে চন্দ্রের ৮ বছর বয়স হয়ে এলো। চন্দ্র খুবই অবাক হয় তার আশেপাশের সব মানুষের সাপ নিয়ে আতংক দেখে। সাপ তার খুব ভালো লাগে। দাদি যদিও সব সময় সাবধান করে দেয়। কিন্তু চন্দ্রের মানুষের সাথে খেলাধুলা করতে ভালো লাগে না। এক অদ্ভুত ধরণের শব্দ করতে পারে সে পা দিয়ে। এটা সে কী করে শিখেছে নিজেই জানে না। কিন্তু চুপিসারে নির্জন ঝোপের আড়ালে গিয়ে পা দিয়ে এই শব্দটা করলেই অনেক গুলো সাপ বেরিয়ে আসে। তাদের সাথে খেলেই সময় কাটে চন্দ্রের। নানান রকম , নানান রঙের সাপ। কোনো মানুষ আশেপাশে আসলেই কী করে যেন বুঝে যায় সাপ গুলো। দ্রুত ঝোপের আড়ালে চলে যায়। 


চন্দ্র খুবই আনন্দ পায় এটা ভেবে যে সে যেই ঘরে ঘুমোয় সেই ঘরের খাটের নিচের একটা গর্তে একটা বড় সাপ থাকে কিন্তু তার দাদি এখনো টের পায়নি। ওটার খুব বুদ্ধি। দাদি ঘুমিয়ে পড়লেই চুপি চুপি খাট বেয়ে চন্দ্রের শরীরে উঠে আসে ওটা। ওটার সঙ্গে খেলা করতে করতে ঘুমিয়ে পড়ে সে। ..........................

.

.

 . . . চলবে . . .

.

.

#নাগিন_কন্যা 


১ম পর্ব 


লেখা : #Masud_Rana


[ এটি ২০২১ সালে লেখা ৮ পর্বের একটি ধারাবাহিক গল্প। গল্পটির বাকি পর্বগুলোর লিংক কমেন্টে দেয়া হলো। ভৌতিক, পিশাচ, সর্পজগতের এই গল্পে আপনাকে স্বাগতম। ]

পুকুরের_প্রেত

 এত রাতে পুকুরে কে গোসল করে? চৌকিদার মোতালেব টর্চ বন্ধ করে ঝোপের আড়ালে আড়ালে পুকুরের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। আকাশে পূর্ণ চাঁদ। সেই আলোতে মনে হচ্ছে পুকুরের মাঝখানে একটা নারী মূর্তিই। টর্চ জ্বালালে অবশ্য মুখটা স্পষ্ট দেখা যাবে। কিন্তু এলাকার কোনো মেয়ে যদি হয়ে থাকে ওটা , তাহলে গোসল করার সময় মোতালেব তার দিকে আলো ফেলে দেখছিল এমন অভিযোগ তুললে একটা ভয়ঙ্কর কেলেঙ্কারি ঘটে যাবে। তাই ঝোপের আড়ালে লুকিয়ে লুকিয়েই সামনে বাড়তে লাগলো মোতালেব।  অবশ্য স্থানীয় কোনো মেয়ের এই পুকুরে রাত ২ টায় এসে গোসল করার কোনো মানেই খুঁজে পেল না সে। এই পুকুরটা নিয়ে এমনিতেও গ্রামে অনেক লোককথা আছে। কিছুটা ভয়ও করছে তার।


পুকুরের একেবারে পাশের ঝোপের আড়ালে এসে লুকলো মোতালেব। ঝোপের সামনের কিছুটা অংশ সরিয়ে পুকুরের মাঝের মূর্তিটা চেনার চেষ্টা করছে। হ্যা , মুখ না দেখা গেলেও বোঝাই যাচ্ছে ওটা একটা মেয়ে। হঠাৎ কী হলো , পুরো শরীর সামনের দিকে ঝুঁকে পড়লো মোতালেবের। পায়ে কিসের টানও লাগলো সাথে সাথেই। নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উপুড় হয়ে পড়ে গেল মোতালেব। গড়াতে গড়াতে একেবারে পুকুরের কিনারে এসে পড়লো। তার পড়ে যাওয়া দেখেই যেন পুকুরের মাঝখান থেকে মিষ্টি মেয়েলি কণ্ঠের খিলখিল হাসির শব্দ ভেসে আসলো তার কানে ।  


মোতালেব ঘাবড়ে গেছে । টর্চটা পুকুরের পানিতে ডুবে গেছে। ওটার আশা নেই। চাঁদের আলোয় অবশ্য দেখতে সমস্যা হচ্ছে না কিছু। সোজা হয়ে দাঁড়ালো মোতালেব। পুকুরের দিকে লক্ষ করে খেঁকিয়ে উঠলো সে : 


কেগো এতো রাইতে গোসল করে? 


আবার সেই খিলখিল হাসির শব্দ। শব্দটা এতই মিষ্টি যে রাতের নির্জনতা মোতালেবের মনে ভয় সঞ্চয় না করে  উল্টো, কৌতূহল দিয়ে ভরে তোলে তার মন। 


ঐতো মেয়েটা ধীরে ধীরে সাঁতরে এইদিকেই আসছে।  পুকুরের একেবারে কিনারের দিকে কোমর সমান পানি। সেইখানেই এসে দাড়ালো মেয়েটা। মুখে মিষ্টি হাসি। বিস্মিত দৃষ্টিতে তীব্র জোৎস্নার আলোতে অপরূপ সুন্দর মুখায়বের দিকে চেয়ে রইলো মোতালেব। জলপরী! কখন যে মেয়েটার এই মায়া রূপে সম্মোহিত হয়ে গিয়েছে সে টেরই পায়নি। মেয়েটা এবার বাঁশির মতো সুরেলা কণ্ঠে বলল :


আমারে চিনো নাই মোতালেব ? কাবিলের বউ। কী যে গরম পড়ছে আইজ তাই নাইতে আইলাম। 


চিনেছে এমন ভাবে মাথা ঝাঁকালো মোতালেব। অথচ কাবিল নামের কাউকেই সে চেনে না। আবার সেই মেয়েটি বলল:


তুমিও দেখি ঘামতাছ মোতালেব! আসো পুকুরে , এক সাথে স্নান দেই ।


পানির সাথে শাড়ি কাপড় শরীরে লেপ্টে থাকায় এমনিতেও মোতালেব মেয়েটার দিক থেকে চোখ সরাতে পারছিল না। এবার মেয়েটা আঁচল খুলে কোমর সমান পানিতে ফেলে দিতেই তার অবস্থা আরও খারাপ হয়ে এলো। মেয়েটা ধীরে ধীরে পিছিয়ে যাচ্ছে পুকুরের দিকে , মোতালেব পুকুরের পানিতে পা ভিজিয়ে ধীরে ধীরে সামনে এগিয়ে যাচ্ছে। মেয়েটা আবার সেই সুরেলা কণ্ঠের খিলখিল হাসির শব্দ করে ঘুরে একেবারে পুকুরের মাঝখানে চলে গেল। আচ্ছন্নের মতো সাঁতরে মোতালেবও পিছু নিল মেয়েটার। 


মেয়েটা তার দিকে পিঠ দিয়ে ভেসে আছে পানিতে। নগ্ন পিঠের থেকে তিন হাত পেছনে মোতালেব। হঠাৎ মেয়েটার চেহারা কেমন যেন বদলে গেল। শাড়ি কাপড়ের বদলে পরনে সালোয়ার-কামিজ , পূর্ণ যুবতী মেয়েটা সেই সাথে একটা কিশোরী মেয়েতে রূপান্তরিত হলো। গায়ের রং পেছন থেকে দেখেও বোঝা যাচ্ছে শ্যামলা। এতক্ষণে হুস ফিরলো মোতালেবের। নিজেকে এই অবস্থায় পুকুরের মাঝে দেখে ঘাবড়ে গেল সে। কী হচ্ছে! মেয়েটা ধীরে ধীরে তার দিকে ঘুরলো। 


মৃত মানুষের দৃষ্টি চোখে , মুখ রক্তশূন্য ফ্যাকাশে , চোখের মণি সহ সাদা অংশ পুরোটাই লাল , এগিয়ে আসছে তার দিকে। মেয়েটা হা করতেই কালো কুচকুচে জিহ্বা বেরিয়ে পড়লো। ভয়ে চিৎকার দিতে গিয়ে মোতালেব অনুভব করলো তার কন্ঠ দিয়ে কোনো শব্দ বেরোচ্ছে না। মেয়েটার পুরো শরীরে এবার পোকা কিলবিল করতে দেখলো সে। পঁচা মাংসের গন্ধ! 


দম আটকেই মরে যেত মোতালেব। হঠাৎ অনুভব করলো শিকড় বা লতার মতো কিছু পেঁচিয়ে ধরেছে ওর পা। আস্তে আস্তে কোমর পর্যন্ত পেঁচিয়ে ধরলো ওটা ওকে। মেয়েটা এবার তার মুখোমুখি এসে পড়েছে , পানিতে ভাসছে। কী ভয়ংকর চেহারা! এই মেয়েটাকে মোতালেব চেনে , কিন্তু এরতো এখন এখানে থাকার কথা না। ভয়ংকর এক শব্দহীন হিংস্র হাসি ফুটে উঠলো মেয়েটার মুখায়বে। সাথে সাথেই কোমরে একটা টান অনুভব করলো মোতালেব । কিছু একটা তাকে পানির নিচে টেনে নিয়ে যাচ্ছে। মেয়েটার খিলখিল শব্দ তার কানে বাজছে। লতাটা তার গলা পেঁচিয়ে ধরেছে। দম বন্ধ হয়ে আসছে তার।


পরদিন সকালে পানি আনতে গিয়ে মাদবর বাড়ির বউই প্রথমে মোতালেবের লাশটা পুকুরে ভাসতে দেখে। চিৎকার করতে করতে ছুটে পালায় সে হাঁড়ি ফেলে। লোক জড়ো হয় , পুলিশ আসে। কেউ মৃত্যুর সঠিক কারণ কিনারা করতে পারে না। তদন্তের জন্য মোতালেবের লাশ শহরে নিয়ে যায় পুলিশ। 


পরদিন সেই গ্রামেরই একটু চায়ের দোকানে কয়েকজন মধ্য-বয়স্ক লোকের আড্ডা বসেছে। আলোচ্য বিষয় মোতালেবের মৃত্যু। 


শুনছো নি মিয়া , মাতবর বাড়ির পুকুরে তো আবার 'দেও ' ফিরা আইছে! 


'দেও'! তোমার কী মনে হয় মোতালেবরে 'দেও' মারছে ?


তো  আর কী ? মনে নাই ৩ বছর আগে হোসেনের মাইয়া গোসল করতে গিয়া নিখোঁজ হইয়া গেল ? আর ২ দিন পর ঐ পুকুর থিকাই ওর লাশ ভাইসা উঠলো? মোতালেবতো সাঁতার জানে , পুকুরে ডুইবা মরবো কে?  'দেও' ছাড়া আর কার কাম? 


তাইতো! এই দুইটা খুনই তাইলে ঐ 'দেও' এর কাজ! 


ওগো কাজইতো এইডা। পুকুরে থাকে। একলা মানুষ পাইলেই নানান মানুষের ছুরুত ধইরা পানিতে নামান। নামলেই কাম সাবার। পানির তলে নিয়া গলা টিপ্পা মাইরা ফেলে। 


হ। আমরা ছোটবেলায় কত শুনছি এইসবের কথা! কিন্তু আমার বয়সকালে এই প্রথমবার দুইটারে মরতে দেখলাম 'দেও' এর হাতে।  


এক মাস পর :


সি.এন.জি এসে দাড়ালো মিঞাপুর গ্রামের অনতিদূরে উপজেলার সামনে। আর ভেতরে সি.এন.জি যেতে পারবে না তাই গাড়ি থেকে নেমে পড়লেন পেসেঞ্জার লোকটা। আশেপাশের কয়েকটা দোকানদার, ক্রেতা আর পথচারী কৌতূহলী হয়ে লোকটার দিকে তাকালো। গেরুয়া লুঙ্গি আর পাঞ্জাবি পরা ৩০-৩২ বছরের লোকটা। চুল-দাড়ি বড়বড় , মুছ ছাটা। গলায় একটা গেরুয়া গামছা। পায়ে চটি। ভাড়া মিটিয়ে দিয়ে একটা চায়ের দোকানের সামনে গিয়ে মিঞাপুর গ্রামের ঠিকানা জানতে চাইলেন আগন্তুক। সবাই পশ্চিম দিকে ধান ক্ষেতের মাঝখানের আইলটা দেখিয়ে দিল। 


ধীরে ধীরে পশ্চিম দিকে হাঁটা ধরলেন তিনি। ৩ ফুট প্রস্থের লম্বা আইল। দুইপাশে ধানক্ষেত। দিনটাকে সুন্দর বলা যায় না। কড়া রোদ , সামান্য বাতাসও নেই, ভ্যাপসা গরম। পথিকের নাম রশিদ। পেশায় তন্ত্র সাধক। জ্বীন , ভুত , প্রেতাত্মা , পিশাচ নিয়েই তার কারবার। এমনিতে একটি সরকারি কলেজে অনার্স শেষ করেছেন তিনি। শখের বসেই এই পেশায় আসেন এক তান্ত্রিক ওস্তাদকে ধরে। নানান অলৌকিকতার অস্তিত্ব সামনে থেকে দেখে এই পেশাটাকে ধীরে ধীরে নেশায় নিয়ে এসেছেন তিনি। ওস্তাদ জালালুদ্দিন মাতব্বরের কাছেই অধিক তন্ত্র-মন্ত্র , পিশাচ দূরীকরণের উপায় শিক্ষা লাভ করেছেন। তার কথায়ই মিঞাপুর গ্রামে আসতে হয়েছে রশিদকে। 


এই গ্রামে নাকি একটা পুকুরে 'দেও' অর্থাৎ পুকুরের পিশাচ আছে। এই পর্যন্ত তিনটা খুন করেছে ওটা। প্রায় ৩ বছর আগে ১৫ বছরের এক কিশোরী গোসল করতে এসে নিখোঁজ হওয়ার ২ দিন পর পুকুরে ওর লাশ দেখতে পাওয়া যায়। বাকি ২টা খুন হয়েছে গত এক মাসে। মিঞাপুর গ্রামের চকিদার মোতালেবের লাশ পাওয়া যায় পুকুরে ভাসমান এক সকালে। যেদিন লাশ পাওয়া যায় তার আগের রাতেও নাকি সবাই তাকে সুস্থ অবস্থায়ই ডিউটি করতে দেখেছে। এর পনেরো দিন পরেই মাতবর বাড়ির ছোট ছেলে বউয়ের নিষেধ না মেনে সকালে দাঁত মাজতে পুকুরে গেলে আর ফিরে আসেনি। অনেক খুঁজেও ওর লাশ পাওয়া যায়নি ঐদিন। কিন্তু দুই দিন পর ঠিকই লাশটা ভাসতে দেখা যায় ঐ পুকুরে। 


এরপর থেকে একা কিংবা দল বেঁধে কেউই যায় না ঐ পুকুরে। অথচ আশেপাশের ১৫ ঘরকে ঐ পুকুরের পানি আশ্রয় করে চলতে হয়। একটা মাত্র টিউবওয়েল আছে এখন। তাই রশিদের এই গ্রামে আগমন। পুকুর থেকে 'দেও' তাড়িয়ে পুকুরটাকে অভিশাপ মুক্ত করতে হবে। .......

.

.

 . . . চলবে . . .

.

.

#পুকুরের_প্রেত 


১ম পর্ব 


লেখা : #Masud_Rana


[ এটি ২০২১ সালে লেখা এবং ফেসবুকে প্রকাশিত একটি ৮ পর্বের ধারাবাহিক ভৌতিক গল্প। গল্পের বাকি পর্বের লিংক কমেন্টে দিয়ে দেয়া হলো। আমার সব লেখা গল্পের লিংক এই পেজের পিনপোস্টে দেয়া আছে। ধন্যবাদ। ]

Nano Urea কী?

 বর্তমান বিশ্ব কৃষিতে প্রযুক্তির ব্যবহার দিন দিন বাড়ছে। তারই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশেও এসেছে একটি আধুনিক সার প্রযুক্তি — যার নাম Nano Urea। এটি শুধু কৃষকের খরচ কমাবে না, বরং দেশের খাদ্য উৎপাদন, পরিবেশ রক্ষা এবং মাটির স্বাস্থ্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।


Nano Urea কী?


Nano Urea হচ্ছে একধরনের তরল ইউরিয়া সার, যা ন্যানো প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি করা হয়। এতে ইউরিয়ার কণাগুলো অতিক্ষুদ্র আকারে থাকে (প্রায় ৩০-৫০ ন্যানোমিটার), ফলে গাছ সহজে এটি শোষণ করতে পারে। সাধারণ granular ইউরিয়া যখন গাছে প্রয়োগ করা হয়, তখন তার প্রায় ৬০-৭০ শতাংশই অপচয় হয় — যা মাটি ও পানির জন্য ক্ষতিকর। কিন্তু Nano Urea ব্যবহার করলে গাছের শোষণ হার বেড়ে যায় ৮০-৯০ শতাংশ পর্যন্ত।


বাংলাদেশে Nano Urea-এর আবির্ভাব


Nano Urea প্রযুক্তির পথিকৃৎ হিসেবে কাজ করছেন যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. জাভেদ হোসেন খান। তিনি ও তাঁর দল ভারতের IFFCO-এর উদ্ভাবিত প্রযুক্তি পর্যালোচনা করে বাংলাদেশের জন্য উপযোগী করে এই সার তৈরি করেছেন।


এই সার বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে একাধিক আন্তর্জাতিক মানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে এবং এখন বাংলাদেশে পরীক্ষামূলকভাবে চাষিদের জমিতে প্রয়োগ করা হচ্ছে।


Nano Urea ব্যবহারে খরচ কমার বাস্তব উদাহরণ


বাংলাদেশে ইউরিয়া সারের দাম এখন অনেক বেশি — প্রতি বস্তা প্রায় ৪,২০০ টাকা। গড়ে এক বিঘা জমির জন্য ১ থেকে ২ কেজি ইউরিয়া লাগে। কিন্তু Nano Urea ব্যবহার করলে এক বিঘা জমিতে খরচ হয় মাত্র ২৩০ টাকা, যা প্রায় ৫০% পর্যন্ত খরচ কমিয়ে দেয়।


এখানে শুধু খরচ কমছে না, বরং ফলনও কমছে না। বরং অনেক কৃষক জানিয়েছেন, Nano Urea ব্যবহার করার পর গাছের বৃদ্ধি ভালো হয়েছে, শিকড় মজবুত হয়েছে, এবং পোকামাকড়ও তুলনামূলক কম হয়েছে।


মাটির স্বাস্থ্য ও পরিবেশগত উপকারিতা


সাধারণ ইউরিয়া মাটিতে পড়ে গিয়ে নাইট্রোজেন গ্যাসে পরিণত হয় এবং বাতাসে মিশে যায়, ফলে পরিবেশে গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন বাড়ে। অন্যদিকে, Nano Urea সরাসরি গাছের পাতায় স্প্রে করা হয় এবং তা দ্রুত শোষিত হয়। এতে গ্যাস নির্গমন হয় না এবং মাটির স্বাস্থ্য নষ্ট হয় না।


এছাড়া অতিরিক্ত ইউরিয়ার কারণে মাটির অম্লতা বেড়ে যায়, যা মাইক্রোঅর্গানিজম বা উপকারী জীবাণুগুলোর ক্ষতি করে। Nano Urea এই সমস্যা থেকে মুক্তি দেয়।


Nano Urea ব্যবহারের সুবিধাসমূহ সংক্ষেপে:

 1. ইউরিয়া সারের খরচ ৪০-৫০% পর্যন্ত কমে যাবে।

 2. গাছ দ্রুত পুষ্টি শোষণ করতে পারবে।

 3. মাটির উর্বরতা দীর্ঘদিন বজায় থাকবে।

 4. পরিবেশ দূষণ কমবে, গ্রিনহাউস গ্যাস কম নির্গত হবে।

 5. গাছের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়বে।

 6. ফলন ভালো হবে এবং কোয়ালিটিও উন্নত হবে।


চ্যালেঞ্জ ও করণীয়


Nano Urea প্রযুক্তি এখনো অনেক কৃষকের কাছে নতুন। অনেকেই এই নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার সম্পর্কে জানেন না বা বিশ্বাস করতে চান না। তাই সরকার, কৃষি অফিস ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বয়ে প্রশিক্ষণ, সচেতনতা এবং মাঠপর্যায়ে কাজ জরুরি।


এছাড়া Nano Urea বাজারে সহজলভ্য করতে সরকারি সাবসিডি, ট্রায়াল প্রকল্প এবং স্থানীয় উৎপাদনের উদ্যোগ নেওয়া দরকার।


উপসংহার:


Nano Urea শুধু একটি সার নয় — এটি ভবিষ্যতের কৃষির চাবিকাঠি। বাংলাদেশে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে, কৃষকের জীবনমান উন্নত করতে এবং পরিবেশ রক্ষা করতে Nano Urea এর বিকল্প নেই। এখন প্রয়োজন, এই প্রযুক্তিকে গণমানুষের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়া এবং নীতিনির্ধারকদের কার্যকর ভূমিকা।


✍️ Ariful Islam Adil

বিপদের সময় এই দোয়াটি পড়ুন,অলৈকিক সাহায্য আসবেই,,,,,, ফেইসবুক থেকে নেওয়া

 🌊 তিন অন্ধকারের বুক চিরে অলৌকিক মুক্তির মহাকাব্য: ইউনুস (আ.)-এর গল্প ​আপনি কি কখনো এমন ঘোর অন্ধকারে পড়েছেন, যেখানে পালানোর কোনো পথ নেই? যে...