এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

মঙ্গলবার, ২৭ মে, ২০২৫

চিত্রনায়িকা শাবনুর +নাসরিনের মধ্যে কঠিন প্রেম ছিলো

 চিত্রনায়িকা শাবনুর +নাসরিনের মধ্যে কঠিন প্রেম ছিলো

নায়িকা শাবনুর আর নাসরিন প্রায় সেম সময়ে চলচ্চিত্রে আসেন। দুজনের বয়সও মোটামুটি সেম সেম, তারপর দুজনার চলাফেরা - কথা বলার বাচন ভঙ্গিও প্রায় একি মতো - দুজনে এক সাথে ছবি করছেন প্রায় ১০০ টির মতো-

সবই ভাগ্য - শাবনুর হয়ে গেলেন সুপারস্টার নায়িকা আর নাসরিন হলেন কমেডী কিং দিলদারের নায়িকা - যদিও দুজনার পথ আলাদা ছিলো কিন্তু যে ছবিতে দুজনে কাজ করেছেন - ব্যাস, দেখবেন স্যুটিং এর ফাঁকে ফাঁকে কি যেন ফুচুর ফুচুর করে দুজনে - আর দুজনের মাঝে মধ্যেই অট্ট হাসি শোনা যায় - দুজনেই প্রচুর আড্ডাবাজ - তারা স্যুটিং এর ফাঁকে ফাঁকে আড্ডা দিতে মজা পায়, কিন্তু আবার কাজের সময় সিরিয়াস। 

এদের দুজনার সম্পর্ক আপন বোনের মতো - কেউ কারো চেয়ে কম নন, যখন ক্যামেরার সামনে দুজনে মুখোমখি অভিনয় করে, তখন দেখবেন কেউ কাউকে ছাড় দেয় না, কারন দুজনেই অভিনয়ে সুপারস্টার - 

আসলে আমরা চলচ্চিত্রের মানুষেরা ভালো মন্দের বিচার করতে জানি না, শুধু জানি নিজের স্বার্থটা ঠিক আছে কি না, নাসরিন এর মতো একজন দক্ষ পার্দর্শী অভিনেত্রীকে নায়িকা হিসেবে ব্রেক কেউ দিলাম না, তার অপরাধ একটায় ঠোট কাটা - সব সত্য কথা মুখের উপরে ঝেড়ে দিবে - 

কিন্তু আমি চ্যালেন্জ করবো - নাচে, গানে, ফাইটিং এ, অভিনয়ে, চেহারায় - অল বিষয়ে পারফ্যাক্ট নাসরিন - চলচ্চিত্রের এমন কোন মায়ের লাল নায়িকা নাই যে নাসরিন এর সাথে কেউ টেক্কা দিবে - 

দুজন সিনিয়র নায়িকা ছিলো - অন্জনা, নতুন 

কিন্তু অন্জনা মারা গেছেন, নতুন এর বয়স হইছে। 

এখানে নাসরিন এর একটু ভুল ছিলো - তা বলবো না, কারন নাসরিন আমার বন্ধু মন খারাপ করবে - 

তা না হলে - বোম্বের মাধুরী দিক্ষিত হতে পারতো - যেমন করে সামান্য নাচের মেয়ে থেকে বোম্বের মতো ইন্ড্রাষ্টিতে মাধুরী সুপারস্টার নায়িকা হয়েছেন। আর সবচেয়ে বড় ব্যাপার হলো তাকে গাইড করার মতো কেউ ছিলো, সবাই ছোট ক্যারেক্ট শিল্পী মনে করে তাকে নিয়ে কেউ ভাবতেই চেষ্টা করেন নাই। 

তা না হলে - বাংলা চলচ্চিত্রে দুইজন সুপারস্টার নায়িকা থাকতো - একজন শাবনুর, আরেকজন নাসরিন 

আমার চলচ্চিত্রে এক দুজন বন্ধুর মধ্যে নাসরিন আমার সেরা বন্ধু - তার মন মানসিকতা অন্য দশ জনের চেয়ে একটু আলাদা - 

সেই সাথে বলবো - আমার কাছ থেকে দেখা চলচ্চিত্রে দু একজন নায়িকার মধ্যে - শাবনুরের তুলনা হয় না 

আমি দুজনের আগামী ভবিষ্যৎ মঙ্গল কামনা করছি - 

তাদের জীবন সুন্দর ও মধুময় যেন হয়। 

                          রবিউল ইসলাম রাজ 

                           চলচ্চিত্র পরিচালক 

                            01948-329383

একটি বিপজ্জনক ফোনালাপ*  (তখন ফোনকল ছিল এক মিনিটে 2 টাকা)!

 *একটি বিপজ্জনক ফোনালাপ*

 (তখন ফোনকল ছিল এক মিনিটে 2 টাকা)!

 কন্যা : হ্যালো , হ্যাঁ বাবা বলো ? 

গোপালবাবু : আমরা ভালো আছি, তোর মায়ের হাঁটু ব্যথা বেড়েছে, আর হ্যাঁ শোন কাজের মেয়ে টা আজ কাজে আসেনি, আমি তোর মায়ের ঘরদোর ওই ডান্ডা ন্যাতাটা দিয়ে মুছে দিয়েছি। তোরা সব ভালো তো ? ছাড়ছি তাহলে .......... কন্যা : আরে এখুনি কি ছাড়বে ? মা কে দাও। 

গোপালবাবু : আবার মা কেন ? এক্ষুনি একগাদা কথা বলবে । শোন মিনিটে দু টাকা! আমি রিটায়ার করেছি(পাশ থেকে মায়ের চেঁচিয়ে হাঁক, আমি কথা বলবো ; কিপটে বুড়ো একটা!) 

কন্যা : মা আমি ঘুরিয়ে ফোন করছি , তোমরা লাইন কেটে দাও। 

গোপালবাবু : অপচয় করিস না। আর ফোন করার দরকার নেই। আবার কাল করবি।

 (লাইন কেটে দেওয়া হল। মেয়ে ঘুরিয়ে ফোন করলো।)

 মা : হ্যালো , কে স্বাতী ?  শোন, তোর বাবার সাথে আর একসাথে সংসার করা যাচ্ছে না , ভীষন অত্যাচার করছে। 

কন্যা : সে কি ? কি করেছে ? 

মা : শোন সারাদিন খাইখাই করছে। সকালে চারবার চা খেয়েছে।সিগারেটের ধোয়ায় ঘরে কিচ্ছু দেখা যায় না। এই সবে আমাশা থেকে উঠলো। আমাকে বলছে মুড়িঘন্ট করে দিতে আর বোয়ালের ঝাল। পাঁচশো চুনো মাছ এনেছে। কে কাটবে বল !!! (কান্না) আমার হাঁটু ব্যথা। বলছে চুনো মাছের চচ্চড়ি করতে ? আমি আর ওর সাথে থাকবো না। আমাকে আলাদা করে দে। 

কন্যা : এসব রেঁধেছো নাকি ? কালকেও তো মেট্রোজিল খেয়েছে।

 মা : মুখ ফুটে চাইলো মানুষটা আর রাঁধবো না ? জানিস রাতে আমাকে ঘুমাতে দেয় না , সারারাত অত্যাচার করে। 

কন্যা : সে কি ? কি বলছো মা ? 

মা : ঠিকই বলছি। (কান্না ) সারারাত টিভি চালিয়ে এবিপি আনন্দে ভারত পাক যুদ্ধ দেখে। তারপর পাঁচশো কেজির মানুষ কি করে অপারেশন করে রোগা হচ্ছে তা দেখে। গাঁক গাঁক করে টিভি চলে। আমার ঘুম আসেনা। অত্যাচার নয় ? অথচ আমাকে দিদি নম্বর ওয়ান দেখতে দেয় না, তখন নিউজ শোনে। কন্যা : তো তুমি অন্য ঘরে শোও না কেন ? 

মা : তোর বাবা ভুতের ভয় পায়, আমাকে ছাড়া শুতে পারে না। তুই এসে এর একটা বিহিত করে যা। (ব্যাকগ্রাউন্ডে গোপালবাবুর আবৃত্তি শোনা যায়) "সাধাসিধে গোপালেরে হে মুটকি জননী, রেখেছো ক্রীতদাস করে,স্বামী তো ভাবোনি।" ওই দেখ, সারাদিন ছড়া কাটছে নয় গান করছে।লোকে পাগল বলে। কন্যা : আচ্ছা আমি কাল স্কুলফেরত যাবো। একটু মুড়িঘন্ট রেখো। 

মা : একপাতা সেফটিপিন আর শায়ার দড়ি আনবি। আর ন্যাপথলিন। কন্যা : আনবো মা । 

মা : এবার রাখি,তোর বাবাকে একটু কড়াইশুটির কচুরি করে দিই। সারাদিন খায় নি। রাখছি... 😀🥰"


লিখেছেন-- Swati Banerjee

সোমবার, ২৬ মে, ২০২৫

সতর্ক থাকুন! এই সাত ধরনের মানুষ আপনার জীবন ধ্বংস করে দিতে পারে

 সতর্ক থাকুন! এই সাত ধরনের মানুষ আপনার জীবন ধ্বংস করে দিতে পারে

(প্রতিটি পয়েন্টে বাস্তব জীবনের উদাহরণসহ ব্যাখ্যা)

➤➤➤ঔি


১. ঠেলাগাড়ি মানুষ (Wheelbarrow People)

এরা সেই মানুষ, যারা নিজের জীবনের সমস্যাগুলো নিজেরা সামলাতে চায় না। আপনি যতই সাহায্য করুন না কেন, সব ভারই যেন আপনাকেই বইতে হবে। তারা চায়—আপনি তাদের খাওয়ান, চলার পথ দেখান, আবার পেছন থেকে ঠেলেও নিয়ে যান।


উদাহরণ: ধরো তোমার এক বন্ধু আছে, প্রতিবার প্রজেক্ট শুরু হলে বলে, “তুই তো ভালো জানিস, তুই কর, আমি ফাইনাল প্রেজেন্টেশনে দাঁড়িয়ে থাকব।” সে ফল পেতে চায়, কিন্তু পরিশ্রম করতে চায় না।


শিক্ষা: যেসব সম্পর্ক শুধু একতরফা দায়িত্বের, সেগুলো সময়মতো চিনে সরে দাঁড়াও।


---


২. মশা মানুষ (Mosquito People)

এই মানুষরা আসে শুধু তোমার ভালোটা শুষে নিতে। যখন তোমার টাকা, সময়, যোগাযোগ, জনপ্রিয়তা বা সাফল্য দরকার হয়, তখন ওদের দেখা যায়। পরে সুযোগ পেলেই কটূক্তি করে, গুজব ছড়ায়।


উদাহরণ: ভাবো, কেউ তোমার কাছ থেকে রেফারেন্স চায় চাকরির জন্য। তুমি সাহায্য করো। পরে তাকে নিজের প্রয়োজনে ফোন দিলে বলে, “আসলে ব্যস্ত ছিলাম।” অথচ অন্যকে বলছে, “ও তো শুধু নিজ স্বার্থ দেখে!”


শিক্ষা: যাদের উপস্থিতি কেবল নিজের লাভের সময়েই দেখা যায়, তাদের এড়িয়ে চলাই বুদ্ধিমানের কাজ।


---


৩. বাঁধাই কাঠামো মানুষ (Scaffolding People)

তারা এক সময় সাহায্য করেছে, কিন্তু এখন চায় তুমি সব সিদ্ধান্তে তাদের অনুমোদন চাও। তারা তোমার সাফল্যে বাধা হয়ে দাঁড়ায়—মনে করে, তুমি চিরকাল তাদের ঋণী।


উদাহরণ: যেমন কোনো আত্মীয় তোমার পড়ালেখার খরচে একবার সাহায্য করেছিল। এখন যখন তুমি স্বাধীন হতে চাও, তখন বলে, “আমার মতামত ছাড়া কোনো সিদ্ধান্ত নেবে না।”


শিক্ষা: কৃতজ্ঞ হও, কিন্তু কারও ছায়ায় নিজেকে হারিয়ে ফেলো না।


---


৪. কুমির মানুষ (Crocodile People)

এই মানুষরা মিষ্টি ব্যবহার করে তোমার মন জয় করে, তারপর গোপন তথ্য জেনে রাখে। সুযোগ পেলেই সেই তথ্য দিয়ে তোমার ক্ষতি করে।


উদাহরণ: ধরো, তুমি কাউকে বলেছিলে—তোমার পরিবারে কিছু আর্থিক সমস্যা চলছে। পরে একদিন ওর সঙ্গে ঝামেলা হলে, সে এই কথাই অন্যদের সামনে এনে তোমাকে হেয় করে।


শিক্ষা: কারও মুখের মাধুর্যে বিভ্রান্ত হয়ো না, আগে যাচাই করো—সে মানুষ না মুখোশধারী।


---


৫. গিরগিটি মানুষ (Chameleon People)

এরা বাইরে থেকে বন্ধুর মতো—তোমার খোঁজও রাখে, পাশে হাঁটেও। কিন্তু আসলে তোমার প্রতিটি সাফল্য ওদের পুড়িয়ে দেয়। তোমার অর্জনে ওদের মুখ বন্ধ, কিন্তু তোমার সামান্য ভুল হলে ওদের মুখে ফেটে পড়ে উপহাস।


উদাহরণ: তুমি একটি প্রতিযোগিতায় পুরস্কার পেলে—ও মুখে বলে “ভালো হয়েছে”, কিন্তু ফেসবুকে তোমার ভুল বানান তুলে ধরে স্ট্যাটাস দেয়।


শিক্ষা: যে মানুষ তোমার আনন্দে মুখ গোমড়া করে, তাকে বন্ধু ভাবলে চলবে না।


---


৬. না-বলা মানুষ (Naysayer People)

তারা কখনোই তোমার স্বপ্নে বিশ্বাস রাখবে না। বরং তারা এতটাই নেতিবাচক যে, তুমি কিছু শুরু করার আগেই মনোবল হারিয়ে ফেলবে।


উদাহরণ: তুমি যদি বলো, “আমি ইউটিউব চ্যানেল খুলতে চাই”, ও বলবে, “ওসব কেউ দেখে না”, “তুই পারবি না”, “সার্চ রেজাল্টে আসবে না”—অথচ তারা নিজে কোনো চেষ্টা করে না।


শিক্ষা: নিজের স্বপ্নকে বাঁচাতে চাইলে, স্বপ্নহীনদের থেকে নিজেকে বাঁচাও।


Inner Soul ©


৭. আবর্জনা ঠেলা মানুষ (Garbage Pusher People)

তারা সবসময় নেতিবাচক খবর ছড়ায়—কখনো কিছু ভালো বলতে জানে না। তোমার আশেপাশের পরিবেশকে বিষাক্ত করে তোলে হতাশা আর ভয়ের গল্প ছড়িয়ে।


উদাহরণ: তুমি যদি একটা ভালো উদ্যোগের পরিকল্পনা করো, সে বলবে “বাজার খারাপ”, “সব জিনিস লস”, “এই দেশে কিছু হয় না”—এমন কথা শুনিয়ে চেষ্টার আগেই সাহস কেড়ে নেবে।


শিক্ষা: যাদের চিন্তায় কেবল অন্ধকার, তারা তোমার ভেতরের আলো নিভিয়ে দিতে পারে—তাদের এড়িয়ে চলাই শ্রেয়।


শেষ কথা:

জীবনের প্রতিটি ধাপে কার সঙ্গে পথ চলছো—এটাই ঠিক করে তুমি কত দূর যেতে পারবে। সম্পর্ক বেছে নাও মাথা ঠাণ্ডা রেখে, হৃদয় উষ্ণ রেখে। সবকিছুতে ভালোবাসা দিও, কিন্তু নিজেকে বিলিয়ে দিও না এমন কাউকে, যে তোমার ডানাকে কেটে নিজের ছায়া বাড়াতে চায়।


তাদের চিনে রাখো—আমার তালিকাতেও তারা ছিল, আজ তোমাকেও বললাম।

সাধারণ জনগণ কি শুধু তামাশাই দেখবে ও স্লেইভারি বরণ করবে?

 মিলিয়ে দেখুন........

নবাব সিরাজউদ্দৌলাকে যখন বন্দী করে টেনে হিচঁড়ে নিয়ে যাওয়া হয়, তখন অসংখ্য মানুষ হা করে নীরব দর্শকের মতো সেই দৃশ্য উপভোগ করেছিল। শুধু তাই নয়, পিঠে ছুরিকাঘাত করার পূর্বে নবাবকে কাঁটাওয়ালা সিংহাসনে বসিয়ে ও ছেঁড়া জুতা দিয়ে পিটিয়ে যখন অপমান করা হচ্ছিল, তখন হাজার হাজার মানুষ সেই তামাশা দেখে ব্যাপক বিনোদিত হয়েছিল! মাস সাইকোলজিটা একটু খেয়াল করে দেখুন, এই জাতি দুইশত বছরের গোলামি সাদরে গ্রহণ করেছিল ওভাবেই।


একটি মজার তথ্য দেই। লর্ড ক্লাইভ তার ব্যক্তিগত ডায়েরিতে লিখেছেন, নবাবকে যখন ধরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, তখন দাঁড়িয়ে থেকে যারা এসব প্রত্যক্ষ করেছিল তারা যদি একটি করেও ঢিল ছুঁড়ত তবে ইংরেজদের করুণ পরাজয় বরণ করতে হতো। আরো চমকপ্রদ তথ্য হচ্ছে, প্রায় ১০ হাজার অশ্বারোহী, ৩০ হাজার পদাতিক এবং অসংখ্য কামান, গোলাবারুদ সহ বিশাল সুসজ্জিত সৈন্যবাহিনী নিয়েই পলাশীর ময়দানে এসেছিলেন 

নবাব সিরাজউদ্দৌলা । কিন্তু তার বিপরীতে রবার্ট ক্লাইভের সৈন্যসংখ্যা ছিলো মাত্র ৩ হাজার, যার মধ্যে ৯ শত জনই ছিল হাতেপায়ে ধরে নিয়ে আসা সৌখিন ব্রিটিশ অফিসার যাদের অধিকাংশেরই তলোয়ার ধরার মতো সুপ্রশিক্ষণ ছিল না, এরা কোনোদিন যুদ্ধও করেনি।


এত কিছু জেনেও রবার্ট ক্লাইভ যুদ্ধে নেমেছিলেন এবং জিতবেন জেনেই নেমেছিলেন। কারণ, তিনি খুব ভালো করেই জানতেন একটি হীনমন্য ব্যক্তিস্বার্থলোভী দ্বিধাগ্রস্ত জাতিকে পরাস্ত করতে খুব বেশি আয়োজনের প্রয়োজন নেই, বড় সৈন্যবাহিনী এদের জন্য মশা মারতে কামান দাগার মতো। যাদেরকে সামান্য দাবার চালেই মাত করে দেয়া যায়, তাদের জন্য হাজার হাজার সৈন্যের জীবনের ঝুঁকি তিনি কেন নেবেন? এছাড়াও, মীরজাফরকে যখন নবাবীর টোপ গেলানো হয়, রবার্ট ক্লাইভ তখনই সিদ্ধান্ত নিয়ে নেন যে, সিরাজকে পরাজিত করার পর এই বদমাশটি সহ বাকিগুলোর পরিণতিও তাদের নবাবের মতোই হবে এবং হয়েছেও তাই। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, মীরজাফর, উমিচাঁদ, রায়বল্লভ, ঘষেটি বেগম সহ প্রত্যেকটি বেইমানের করুণ মৃত্যু হয়েছে।


রবার্ট ক্লাইভ মীরজাফরের বেঈমানির উপর ভরসা করে যুদ্ধ করতে আসেননি। তিনি যুদ্ধে নেমেছিলেন বাঙালির মানসিকতা নিখুঁতভাবে বিশ্লেষণের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ আন্দাজ করে। তিনি জানতন, যুদ্ধশেষে জনসম্মুখে নবাবকে হেনস্থা করলে এই জাতি বিনোদনে দাঁত কেলাবে কিংবা হা করে চেয়ে চেয়ে দেখবে। তাই বিনা দ্বিধায় সার্টিফিকেট দেয়াই যায়, বাঙালি জাতির মানসিকতা সবচেয়ে নিখুঁতভাবে মাপতে পারা ইতিহাসের প্রথম ব্যক্তিটির নাম রবার্ট ক্লাইভ!


সাধারণ জনগণ কি শুধু তামাশাই দেখবে ও স্লেইভারি বরণ করবে?

৪২ টি শিক্ষা রেজিনা ব্রেট, ৯০ বছর বয়সে লেখা

 

 ৪২টি শিক্ষা

(রেজিনা ব্রেট, ৯০ বছর বয়সে লেখা)


জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে পাওয়া এই মূল্যবান শিক্ষা গুলো এমন কিছু, যা আমাদের প্রত্যেকেরই অন্তত সপ্তাহে একবার পড়া উচিত।


১. জীবন সবসময় ন্যায্য হয় না, তবে তারপরও এটা সুন্দর।

২. যখন সিদ্ধান্ত নিতে পারো না, তখন ছোট একটা পদক্ষেপ নাও।

৩. জীবন খুব ছোট – তাই উপভোগ করো।

৪. অসুস্থ হলে তোমার চাকরি পাশে দাঁড়াবে না, পাশে থাকবে পরিবার আর বন্ধু।

৫. প্রতি মাসে ক্রেডিট কার্ডের দেনা শোধ করো।

৬. সব তর্কে জেতা জরুরি নয়। নিজের প্রতি সৎ থাকো।

৭. কারো সঙ্গে কাঁদো – একা কাঁদার চেয়ে তা বেশি প্রশান্তিদায়ক।

৮. প্রথম বেতন থেকেই অবসরকালীন সঞ্চয় শুরু করো।

৯. চকোলেটের প্রতি দুর্বলতা স্বাভাবিক – প্রতিরোধ করতে যেয়ো না।

১০. অতীতকে মেনে নাও, যাতে তা বর্তমানকে প্রভাবিত না করে।

১১. তোমার সন্তানদের সামনে কাঁদা ঠিক আছে।

১২. অন্যের জীবনের সঙ্গে নিজের তুলনা করো না – কারো পথচলা তুমি জানো না।

১৩. সম্পর্ক লুকিয়ে রাখতে হলে, সেটা ঠিক সম্পর্ক নয়।

১৪. গভীর শ্বাস নাও – এটা মনকে শান্ত করে।

১৫. অপ্রয়োজনীয় জিনিস ফেলে দাও – বাড়তি বোঝা জীবনকে ভারী করে।

১৬. যেটা তোমাকে ভাঙে না, সেটাই তোমাকে আরও শক্ত করে তোলে।

১৭. সুখী হতে কখনোই দেরি হয় না – এটা পুরোপুরি তোমার উপর নির্ভর করে।

১৮. যা ভালোবাসো, তার পেছনে লেগে থাকো – “না” শুনে থেমো না।

১৯. বিশেষ দিনের জন্য কিছু রেখে দিও না – আজই বিশেষ।

২০. বেশি প্রস্তুতি নাও, তারপর প্রবাহের সঙ্গে চলো।

২১. অদ্ভুত হও এখনই – বয়সের অপেক্ষা করো না।

২২. সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ 'মন' – সেখানেই সব শুরু।

২৩. তোমার সুখের দায়িত্ব একমাত্র তোমার।

২৪. প্রতিটা বিপর্যয়কে ভেবো – “৫ বছর পর এটা কি গুরুত্বপূর্ণ থাকবে?”

২৫. সবসময় জীবনকেই বেছে নাও।

২৬. ক্ষমা করো, তবে ভুলে যেও না।

২৭. অন্যরা তোমার সম্পর্কে কী ভাবে, সেটা তাদের ব্যাপার – তোমার নয়।

২৮. সময় অনেক কিছু সারিয়ে তোলে – সময়কে সময় দাও।

২৯. ভালো বা খারাপ – সব পরিস্থিতিই বদলাবে।

৩০. নিজেকে খুব বেশি গুরুত্ব দিও না – কেউ দেয় না।

৩১. অলৌকিকতার উপর বিশ্বাস রাখো।

৩২. জীবন হিসাব করে কাটিও না – প্রতিটা মুহূর্তে উপস্থিত থেকো।

৩৩. বেঁচে থেকে বার্ধক্যে পৌঁছানোই সৌভাগ্য।

৩৪. তোমার সন্তানের শৈশব একটাই – সেটা উপভোগ করো।

৩৫. জীবনের শেষে আসলে একটাই ব্যাপার গুরুত্বপূর্ণ – তুমি কতটা ভালোবেসেছিলে।

৩৬. প্রতিদিন বাইরে যাও – অলৌকিকতা চারদিকে ছড়িয়ে আছে।

৩৭. যদি সবাই তার সমস্যাগুলো এক জায়গায় রাখে, তাহলে তুমি তোমারটাই ফেরত নিতে চাইবে।

৩৮. হিংসা করে সময় নষ্ট করো না – যা আছে তাইকে গ্রহণ করো।

৩৯. সামনে আরও ভালো কিছু অপেক্ষা করছে।

৪০. যেমনই মনে হোক, উঠে দাঁড়াও, সাজো, এবং উপস্থিত থেকো।

৪১. কখনো কখনো পথ ছেড়ে দিতে জানতে হয়।

৪২. জীবন উপহারের মতো মোড়ানো না হলেও, এটা এখনো এক অনন্য উপহার।


এই উপদেশগুলো জীবনের পথে বারবার আলো দেখাবে – যতবার পড়বে, ততবার নতুন কিছু শিখবে।


join👉 আয়নামহল

হার্ট ব্লকেজ, কী? কারণ? সমাধানঃ হার্ট এর ওজন প্রায় 300 গ্রাম। 

 হার্ট ব্লকেজ, কী? কারণ? সমাধানঃ

হার্ট এর ওজন প্রায় 300 গ্রাম। 

✅ হার্টের কাজঃ

পুরো শরীরে ব্লাড পাম্প করা। হার্ট ১ মিনিটে প্রায় ৭২ বার পাম্প করে।

হার্ট, প্রতিদিন প্রায় ১ লক্ষ বার পাম্প করে থাকে।

হার্ট একবার পাম্প করলো মানে পুরো বডি তে ব্লাড পৌঁছে গেলো।

✅ হার্ট এর অসুখ কী :

হার্ট এর অসুখ মানে আর্টারি তে চর্বি জমে যাওয়া, কোলেষ্টেরোল জমে যাওয়া, ফ্যাট জমে  যাওয়া।

এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে ধীরে ধীরে হার্ট এর ব্লাড সাপ্লাই ক্ষমতা কমে যায়।

এটাকেই বলা হয় হার্টের অসুখ।

বর্তমানে হার্টের অসুখ টি বিশ্বের সব চেয়ে বড় অসুখ।

যেদিন হার্টের ব্লাড সাপ্লাই বন্ধ হয়ে যাবে সেদিন  হার্ট টাও বন্ধ হয়ে যাবে, মানে হার্ট এট্যাক হয়ে যাবে।

হার্ট এর আর্টারি গুলো 3-4 mm মোটা হয়।

✅ হার্ট এ ব্লকেজ হতে কত সময় লাগে?

বছরের পর বছর ধরে ধীরে ধীরে হার্ট ব্লকেজ তৈরী হয়।

মানুষ জন্মের পর পর ই ব্লকেজ তৈরী শুরু হয় না।

18-20 বছর বয়স থেকে এই ব্লকেজ তৈরী হতে শুরু করে।

70%, 80%, 90% ব্লকেজ তৈরী হতে কম করে 30-40 বছর সময় লাগে।

50% ব্লকেজ হয়ে গেলেও মানুষ কোনো কষ্ট অনুভব করে না।

কারণ ব্লাড সাপ্লাই এর জন্য আরও 50% বাকি থাকে।

✅ ব্লাড সাপ্লাই এর জন্য হার্ট এর প্রয়োজন 10%, 20%, 30% জায়গা।

10% প্রয়োজন যখন মানুষ বসে থাকে।

20% প্রয়োজন যখন হাঁটা চলা করে।

30% প্রয়োজন যখন মানুষ দৌড়ায়।

যেদিন মানুষের ব্লকেজ 70% এর বেশি হয়ে যায় সেদিন থেকে মানুষ হার্ট এর সমস্যা অনুভব করতে থাকে। সেদিন থেকে কষ্ট শুরু হয়ে যায়।

✅ যদি দৌড়ালে বুকে ব্যাথা অনুভব হয় তবে বুঝতে হবে ব্লকেজ 70% ক্রস করেছে।

যদি হাঁটতে গিয়ে ব্যাথা হয় তাহলে বুঝতে হবে ব্লকেজ 80%।

যদি সামান্য 10 ধাপ হাঁটলেই ব্যাথা হয় তবে বুঝতে হবে ব্লকেজ 90%।

✅ এখানে বোঝা গেলো হার্ট এর পেশেন্ট 70% ব্লকেজ না হওয়া পর্যন্ত কোনো সমস্যা সাধারণত বুঝতে পারে না।

✅ হাঁটতে গিয়ে ব্যাথা হলে এই পর্যায়কে বলা হয় "এনজাইনা।"

2%/year ব্লকেজ তৈরী হতে শুরু করে 20 বছর বয়সের পর থেকে।

*** লেখাটা পড়ে হার্ট এর অসুখ সম্পর্কে বুঝতে সময় লাগলো মাত্র কয়েক মিনিট, কিন্তু আপনি যদি কোন হাসপাতাল কিংবা ক্লিনিক যান তাহলে উনারা আপনাকে এতো বিস্তারিত বোঝাবে না, শুধু বলবে আপনার "করোনারী আর্টারি ডিজিজ "এ আক্রান্ত।

✅ আধুনিক উপায়ে ব্লকেজ পরীক্ষা, যেটা ও সঠিক নয়ঃ

আধুনিক যুগের ক্যার্ডিওলোজিস্ট রা ব্লকেজ এর পার্সেন্টেজ বোঝার জন্য তার ঢুকিয়ে এনজিওগ্রাফি করেন, যেটাতে রেজাল্ট আসে রাউন্ড ফিগার যেমন 70%, 80%, 90%।

আমাদের মতে যেটা সঠিক নয়। কারণ সঠিক হলে রাউন্ড ফিগার না হয়ে হতো 70.25%, 80.03%, 90.৮১%।

✅ হার্ট এট্যাক মানে কি?

70% ব্লকেজ এর পর ধীরে ধীরে ব্লকেজ বাড়তে থাকে। এই ব্লকেজ এর উপর একটা পর্দা থাকে এবং ব্লকেজ বাড়ার সাথে সাথে পর্দাটির উপরেও চাপ তৈরী হতে থাকে।

এই চাপ বাড়তে বাড়তে একদিন হঠাৎ পর্দাটা ছিঁড়ে যায়।

পর্দা ছিঁড়ার সাথে সাথে পর্দার নিচে থাকা কেমিক্যাল রক্তে গিয়ে মিশে যার ফলে রক্তের ঘনত্ব বেড়ে যায়।

রক্ত জমাট বেঁধে গেলে এটাকে বলা হয় "ক্লট"।

এটি আর্টারির রাস্তা পুরো পুরি ব্লক করে দেয়। ব্লক 100% হয়ে যায়, হার্ট এ রক্ত পৌঁছতে পারে না তখন এটাকেই বলা হয় "হার্ট অ্যাটাক"।

................................................

✅ হার্ট অ্যাটাক থেকে বাঁচার উপায়ঃ

ব্লকেজ 70%, 80%, 90% হয়ে গেলেও চেষ্টা করতে হবে ব্লকেজকে রুখে দেয়া।

ব্লকেজ না বাড়লে পর্দাটা ছিঁড়বে না, হার্ট অ্যাটাকও হবে না।

আরও ভালো হয় পর্দার নিচে জমে থাকা কিছু চর্বি যদি ধীরে ধীরে বের করে দেয়া যায়। সেজন্য নিয়মিত কমকরে হলেও ৪০ মিনিট হাঁটতে হবে। চর্বি জাতীয় খাদ্য বর্জন করতে হবে, ভাত, রুটি, মিষ্টি জাতীয় খাবার কমিয়ে দিতে হবে।

শরীরে ডায়াবেটিস ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।

✅ বুকে ব্যাথা অনুভব করলে ডাক্তারের পরামর্শ নিন। 

সংকলিত....

২১০ টাকায় স্টারলিংক: শুধু বড় অফিসের জন্য নয়, এখন সবার হাতের নাগালে!

🌏 ২১০ টাকায় স্টারলিংক: শুধু বড় অফিসের জন্য নয়, এখন সবার হাতের নাগালে!

অনেকে মনে করেন, স্টারলিংক ইন্টারনেট বুঝি শুধু সরকারি অফিস, বড় কোম্পানি বা সিনেমার শুটিংয়ের মতো বিশাল কাজে ব্যবহারের জন্য। বাস্তবে তা নয়। এখন সাধারণ মানুষ, দোকানদার এমনকি গ্রামের বাসিন্দারাও এই প্রযুক্তির সুবিধা নিতে পারেন — যদি সবাই মিলে উদ্যোগ নেওয়া যায়।

🎢কমিউনিটি ভিত্তিক সমাধান:

ধরুন, একটি এলাকায় ২০–২৫টি দোকান বা বাড়ি মিলে একজন উদ্যোক্তাকে সহায়তা করে স্টারলিংক সেটআপ করলেন।
তাহলে তিনি চাইলে মাসিক সাবস্ক্রিপশন ফি হিসেবে ১০০–২০০ টাকা করে প্রতি ইউজার থেকে নিতে পারেন।
এভাবে, রিকশাওয়ালাও সহজে ২০০ টাকায় মাসব্যাপী ওয়াইফাই ব্যবহার করতে পারবেন — দোকানপাট বা বাড়ির মতো করেই।

---

💰💰খরচের সহজ হিসাব:💰

খরচের ধরণ আনুমানিক মূল্য (টাকা)

একবারের সেটআপ ৪৭,০০০ – ৫১,০০০
মাসিক ইন্টারনেট ফি ৪,২০০ – ৬,০০০

যদি ২০ জন মিলে খরচ ভাগাভাগি করেন:

মোট মাসিক খরচ ধরা যাক = ৪,২০০ টাকা

প্রতি জনের খরচ = ৪,২০০ ÷ ২০ = মাত্র ২১০ টাকা!

---

✈🔍স্টারলিংক টু রাউটার কানেকশন পদ্ধতি:

১. স্টারলিংক ডিশ খোলা আকাশের নিচে এমন স্থানে বসাতে হবে, যেখান থেকে স্যাটেলাইট সিগন্যাল পেতে কোনো বাধা না থাকে।


২. এই ডিশ থেকে একটি তারের মাধ্যমে সংযোগ যাবে স্টারলিংকের পাওয়ার ব্রিক বা মডেমে।


3. এরপর এই মডেম সংযুক্ত থাকবে একটি Wi-Fi রাউটারের সঙ্গে।


4. রাউটারটি ৫০–২০০ মিটার পর্যন্ত ওয়াইফাই ছড়াতে পারে। চাইলে বড় রেঞ্জের রাউটার অথবা Wi-Fi এক্সটেন্ডার ব্যবহার করে পুরো পাড়া বা গ্রামজুড়ে সংযোগ ছড়িয়ে দেওয়া যাবে।


#Starlink_bypass Mode ব্যবহার করতে হবে, যা স্টারলিংক এ্যাপের ভিতর পাবেন সেটিং এ।

5. ইউটিউবে স্টারলিংকের সাথে মাইক্রোটিক রাউটের সেটআপ ভিডিও আছে। মিনি আইএসপি হিসাবেও চলাতে পারবেন গ্রামে।

---

✌কে কে উপকৃত হবেন?

যেসব এলাকায় এখনো ব্রডব্যান্ড পৌঁছায়নি

শহরের নতুন গড়ে ওঠা পাড়া বা প্রত্যন্ত গ্রাম

দোকানদার, রিকশাচালক ও সাধারণ জনগণ

উদ্যোক্তারা যারা কম খরচে ইন্টারনেট দিয়ে আয় করতে চান

---

👌যা মনে রাখা জরুরি👌:

ডিশ বসানোর জন্য খোলা আকাশের নিচে একটি নির্দিষ্ট জায়গা দরকার

নিয়মিত বিদ্যুৎ সরবরাহ থাকতে হবে

ইউজার সংখ্যা বেশি হলে স্পিড কিছুটা কমতে পারে, তবে সাধারণ ব্যবহারে সমস্যা হয় না

খরচ ভাগাভাগি করার নিয়ম আগেই স্পষ্ট করে নিতে হবে

---

শেষ কথা:

স্টারলিংক শুধু বড়লোকদের জন্য নয় — এটি আমাদের জন্যও।
যদি আমরা সবাই মিলে পরিকল্পনা করি, তাহলে এটি হতে পারে এক যুগান্তকারী কমিউনিটি উদ্যোগ, যা আমাদের গ্রামের মানুষ, দোকানদার, এমনকি রিকশাওয়ালাকেও ডিজিটাল বাংলাদেশের মূল স্রোতে যুক্ত করতে পারবে।

নিচের ছবিটি চ্যাটজিপিটি থেকে নেওয়া।
© লেখা ও সংকলনঃ হেমন্ত দেবনাথ


কুরবানীর জরুরি ৬৬ টি মাসয়ালা! ________________________

 কুরবানীর জরুরি ৬৬ টি মাসয়ালা!

________________________________________________


১.কার উপর কুরবানী ওয়াজিব? 

উঃ জিলহজ্জ মাসের ১০ সুবহে সাদিক থেকে১২ তারিখ 

সূর্যাস্ত পর্যন্ত কারো কাছে যদি নিছাব পরিমাণ সম্পদ থাকে ৭ঃ৫ সাড়ে সাত ভরি স্বর্ণ অথবা সাড়ে ৫২ ভরি রুপা থাকে তার উপর কুরবানী ওয়াজিব। 


২.নিছাবের মেয়াদ কত দিন?

উঃ ৩ দিন, জিলহজ্জ মাসের ১০,১১ এবং ১২ তারিখ সূর্যাস্ত পর্যন্ত। 


৩. তিন দিনের মধ্যে কোন দিন কুরবানী করা উত্তম? 

উঃ ১০ তারিখে প্রথম দিন।


৪.যদি নাবালক এর নিছাব পরিমাণ সম্পদ থাকে  তার উপর কুরবানী ওয়াজিব হবে কি ? 

উঃ না। 


৫.বালেক সুস্থ মস্তিষ্ক না নিছাব পরিমাণ সম্পদ আছে তার উপর কুরবানী ওয়াজিব হবে কি ? 

উঃ- না 


৬.যদি নাবালেক এর  নিছাব পরিমাণ সম্পদ থাকে এর পক্ষে থেকে কুরবানী দেওয়া কি? 

উঃ মুস্তাহাব, ওয়াজিব না। 


৭.দরিদ্র লোকের উপর কুরবানী কি ওয়াজিব? 

উঃ- না, তবে যদি কুরবানির নিয়তে পশু ক্রয় করে 

তখন সে পশু কুরবানী করা ওয়াজিব।


৮.কেউ যদি কুরবানির দিন গুলোতে কুরবানির দিতে না পারে তাহলে কি করবে, যদি সে নিছাব পরিমাণ সম্পদ আছে, কোন সমস্যায় দিতে পারে নি তাহলে কি করবে? 


উঃ-একটা ছাগল যে কুরবানী উপযুক্ত সে ছাগলের সমপরিমাণ টাকা সদকা করে দিবে ন এটা হলো যারা পশু ক্রয় করতে পারেনি তাদের জন্য। 

কিন্তু যারা পশু কিনেছেন কিন্তু তিন দিনের মাঝে কুরবানী দিতে পারেন নি  তাহলে তার জন্য করণীয় হলো সে পশু সদকা করে দেওয়া। 


আবার যদি কেউ তিন দিন পর জবাই করে ফেলে তাহলে সে ঐ পশুর গোশত ওজন করবে তারপর যদি ঐ পশুর ক্রয়ের  টাকা থেকে কম হয় তাহলে গোশত সহ 

যতো টাকার গোশত  কম হয়েছে  পুরো টাই সদকা করতে হবে। ধরনে আপনি ২০ হাজার দিয়ে কিনেছেন ওজন দিয়ে দেখলেন ১৮ হাজার টাকার গোশত হয়েছে 

গোশতের আরও ২ হাজার টাকা সদকা করতে হবে।  


৯.প্রথম দিন কখন থেকে কুরবানী করা যাবে?

উঃ যে এলাকায় জুমার নামাজ,এবং ঈদের নামাজ ওয়াজিব সে এলাকায় ঈদের নামাজের আগে কুরবানী করা জায়েজ নেই। তবে কোন প্রকার দুর্ঘটনা ঘটে গেলে 

যদি ঈদের নামাজ না পড়া যায় তাহলে করনীয় হলো সূর্য মধ্যে আকাশ অতিক্রম করার পর কুরবানী করা জায়েজ হবে।


১০.রাতে কুরবানী দিলে কি হবে?

উঃ ১০,১১ তারিখে রাতে দিলে হবে ১২ তারিখ রাতে দিলে হবে না।  


১১.কোন কোন পশু দিয়ে কুরবানী দেওয়া জায়েজ?

উঃ- গরু,উট,মহিষ,দুম্বা, ছাগল এবং ভেড়া। 


১২.পশু দের লিঙ্গ ভেদ করতে হবে কি?

উঃ- না, পুরুষও  মহিলা উভয় দিয়ে হবে।  


১৩.পশুর বয়স সীমা কত?

উঃ উট কম পক্ষে ৫ বছর,গরু মহিষ ২ বছর 

ভেড়া, দুম্বা  ছাগল ১ বছর। 

ভেড়া এবং দুম্বা ১ বছর হয়নি তবে বলিষ্ঠ মনে হয় 

যে এক বছর হয়েছে তাহলে এটা দিয়ে কুরবানী হবে। 

তবে ছাগল ১ বছরের নিচে কোন ভাবে হবে না।  


১৪.শরীক সর্বোচ্চ কত জন হওয়া যাবে?

উঃ উট,গরু,মহিষে  সর্বোচ্চ ৭ জন কমে হলে সমস্যা নেই তবে একা দেওয়া উত্তম  । ছাগল, দুম্বা, ভেড়া  তে একজন। 


১৫.গোশত ভাগে কম বেশি হলে? 

উঃ- কারো কুরবানী সহীহ হবে না। 


১৬. শরীকের মাঝে কেউ যদি গোশত খাওয়ার নিয়তে দেয় তাহলে? 


উঃ- কারো কুরবানী হবে না। 


১৭.কুরবানীর পশুতে আকিকা দেওয়া যাবে? 

উঃ- হ্যাঁ, তবে উট, গরু,এবং মহিষে। 


১৮. শরীক দার দের মাঝে যদি কারো অধিকাংশ বা পুরা টাকা হারাম হয় তাহলে কি কুরবানী হবে?


উঃ- না না না! কারো কুরবানী হবে না। 


১৯. গরু, মহিষ উট একা কুরবানী নিয়তে কিনার অন্য কাউকে কি শরীক করা যাবে?


উঃ- ধনী হলে পারবে অর্থাৎ যার উপর ওয়াজিব  , তবে গরিব ওয়াজিব না কুরবানী তার উপর। পশু কিনে ফেলছে কুরবানীর নিয়তে তাহলে শরীক করা যাবে না একাই দিতে হবে।  


২০.কোন ধরনের  পশু নির্বাচন করা উত্তম? 

উঃ- রিষ্ট পুষ্ট, তাজা পশু নির্বাচন করা সুন্নত।


২১.যে পশু তিন পায়ে ভর করে চলে এমন পশু ধারা কি কুরবানী হবে? 


উঃ- না


২২.রোগ্ন পশু দিয়ে কি কুরবানী হবে?

উঃ- না 


২৩.দাঁত ছাড়া পশু দিয়ে কি কুরবানী হবে?

উঃ একটা দাত  নেই এটা কোন ভাবেই হবে না ,অথবা কিছু আছে তবে ঘাস খেতে পারে না এমন পশু ধারা কুরবানী হবে না। 


২৪. শিং ছাড়া পশু দিয়ে কুরবানী হবে কি ?

উঃ জন্মগত যে পশুর শিং নেই সেটা ধারা হবে। 

তবে পরবর্তীতে যেটা ভেঙ্গে যায় আর তার ফলে মস্তিষ্কে ক্ষতি হয় এমন পশু ধারা হবে না। তবে অর্ধে হলেও হবে।  


২৫.লেজ কাটা, কান কাটা পশু দিয়ে কুরবানি হবে কি?

উঃ যদি পশুর লেজ বা কান অর্ধেক বা তার বেশি কাটা হয় তাহলে সে পশু ধারা কুরবানী হবে না। 

তবে অর্ধেকের কম হলে হবে।  


২৬.অন্ধ পশু ধারা কুরবানী করা যাবে কি?

উঃ- না তবে যে পশুর এক চোখ ও অন্ধ সেটা দিয়েও হবে না।  


 


২৭.কুরবানীর নিয়তে পশু ক্রয় করার পর  হারিয়ে গেলে দাতা কি করবে?


উঃ- ধনী হলে আরেক টা ক্রয় করবেন।

এবং গরিব ওয়াজিব নয় এমন ব্যক্তি ক্রয় করতে হবে না

তবে কিনার পরে যদি আবার প্রথম পশু ফিরে পাওয়া যায় তাহলে ধনী ব্যক্তি যেকোন একটা কুরবানী করলে হবে, তবে দুটা করা উত্তম একটা করলেও হবে। 


** আর গরিব ব্যক্তি যদি হয় তাহলে দুটাই দিতে হবে। 

দুটাই দেওয়া তখন ওয়াজিব।  


২৮.গর্ভবতী পশু  কুরবানী করা কি জায়েজ আছে?

উঃ- হ্যা জায়েজ। 


২৯.পশু জবাইয়ের পরে যদি বাচ্চা কে জীবিত পাওয়া যায় তাহলে কি করবে?

উঃ- বাচ্চা ও জবাই দিতে হবে। 


৩০.জবাইয়ের আগ মুহূর্তে যদি পশু প্রসব অবস্থায় উপনীত হয় তখন করনীয় কি?


উঃ- সে পশু জবাই করা জায়েজ আছে, তবে মাকরূহ!


৩১.পশু ক্রয় করার পর যদি এমন কোন দোষ দেখা যায় যে দোষ গুলো থাকিলে কুরবানী হয়  না তখন করনীয় কি?

উঃ-  এই পশু ধারা কুরবানী হবে না। 

তবে এখানে গরিব ব্যক্তির  জন্য জায়েজ আছে 

ধনী ব্যক্তির জন্য জায়েজ নয়।  


৩২.আপনি কোন পশু ক্রয় করার সময় জিজ্ঞেস করলেন বয়স কত সে বললো ২ বছর যদি সেটার আসলে বয়স ২ বছর না হয় তখন কি করনীয় বা কুরবানী কি হবে? 


উঃ- হ্যা হবে তবে যে বিক্রেতা মিথ্যা বলেছে তার গুনা হবে।  


৩৩.পশু কোথায় জবাই করা উত্তম? 

উঃ- যেখানে পরিবেশ দূষিত  হওয়ার আশংকা কম থাকে।


৩৪. পশু কে জবাই করা উত্তম? 

উত্তমঃ- নিজের পশু নিজে কুরবানী করা উত্তম। 


৩৫.বন্ধা পশু ধারা কুরবানী হবে কি?

উঃ- হ্যা হবে । 


৩৬.অনেক সময় হুজুর জবাই করার পর দেখা যায় সম্পূর্ণ হয় নি আবার অন্য জন তরবারি হাতে নিয়ে 

রগ বা শিরা কাটতে যায় এটা কি জায়েজ হবে?


উত্তরঃ- হ্যা জায়েজ আছে তবে উভয় ব্যক্তি বিসমিল্লাহি আল্লাহ আকবার না বললে কুরবানী হবে না।

একজন যদি না বলে সেক্ষেত্রে ও কুরবানী বাতিল হয়ে যাবে। 


৩৭. কুরবানীর পশু ধারা উপকৃত হওয়া যাবে কি? 

উঃ না এটা কোন ভাবে জায়েজ নেই।  


৩৮.কুরবানীর পশু ধারা যদি আপনি হাল চাষ করে ফেলেন সেক্ষেত্রে করনীয় কি?

উঃ অন্য পশু ধারা করলে যে পারিশ্রমিক আসত সে পরিমান টাকা সদকা করে দেওয়া।


৩৯.কুরবানির পশুর,দুধ পান করা  যাবে কি? 

উঃ- না 


৪০. যদি পশুর জবাইর আগে মন হয় দুধ দহন না করলে পশুর কষ্ট হবে  তাহলে করনীয় কি?


উঃ- সে দুধ দহন করে সদকা করে দিতে হবে. 

ভুলে খেয়ে ফেললেন তখন যে পরিমাণ পান করেছেন সে পরিমাণ অর্থ সদকা করতে হবে।  


৪১.পশু ক্রয় করার পর শরীক মারা গেল তখন কি করবে?


উঃ- তার ওয়ারিশ রা যদি বলে কুরবানী করেন তাহলে 

করতে পারবেন, আর যদি বলে না করতে পারবেন না তাহলে টাকা দিয়ে দিতে হবে। 

তবে চাইলে পরবর্তী আরেক জন শরীক করতে পারবেন।


৪২.জবাইয়ের আগে পশু বাচ্চা দিলে কি করবেন?


উঃ- ঐ বাচ্চা জীবিত  সদকা করে দিতে হবে।

সদকা না করলে পশুর সাথে জবাই করতে হবে।

এখানে জবাই করা  বাচ্চার গোশত সদকা করে দিতে হবে, আপনে খেতে পারবেন না।  


৪৩.মৃত্যু ব্যক্তির পক্ষ থেকে কি কুরবানী করা যাবে?


উঃ- হ্যা করা যাবে, তবে উসিয়ত করে গেলে গোশত সদকা করে দিতে হবে।  উছিয়ত না করলে আপনে খেতে পারবেন। 


৪৪.তিন দিনের বেশি কুরবানীর গোশত রাখা যাবে?

উঃ- হ্যা রাখা যাবে  যতো দিন ইচ্ছে!


৪৫.অনুমান করে বন্টন করা কি জায়েজ আছে?

উঃ- না, পূর্ণ ওজন করে ভাগ করতে হবে। 


৪৬. তিনের এক অংশ গরীব কে দেওয়া, যদি সেটা না দেই তাহলে কি কুরবানী হবে? (আমরা যেটা কে সমাজের গোশত বলি)

উঃ- হ্যা হবে তবে সেটা বড় কৃপ্রনতার পরিচয়।


৪৭.গোশত চর্বি বিক্রি করা যাবে কি?

উঃ- না। 


৪৮.জবাইকারী বা কসাই কে গোশত দিয়ে পারিশ্রমিক দেওয়া যাবে কি?


উঃ না টাকা দিতে হবে, তবে পরে হাদিয়া হিসেবে গোশত দিতে পারবেন আগে পারিশ্রমিক দিতে হবে।  


৪৯. জবাই করার অস্র কেমন হতে হবে?

উঃ দাড়ালো উত্তম। 


৫০. জবাইয়ের কত সময় পর চামড়া আলাদা করা যাবে?

উঃ- নিসতেজ হওয়ার পর পশু। 


৫১.এক পশু কে অন্য পশুর সামনে জবাই করা যাবে কি?


উঃ- যাবে তবে ঠিক না নবী কারীম সাঃ নিষেধ করেছেন?


৫২.কুরবানীর গোশত অন্য র্ধমের ব্যক্তি কে দেওয়া যাবে কি ?

উঃ- হ্যা তাতে কোন সমস্যা নেই।  


৫৩.পশু মারা গেলে অথবা ছিনতাই হয়ে গেলে কি করনীয়?

উঃ- ধনী হলে আরেক টা ক্রয় করবেন। 

গরিব হলে লাগবে না। 


৫৪.মুসাফির এর উপর কুরবানী করা কি ওয়াজিব?

উঃ না। 


৫৫.কুরবানী ওয়াজিব এমন ব্যক্তির পক্ষ থেকে কুরবানী করলে কি করনীয়? 


উঃ- ঐ ব্যক্তি থেকে অনুমতি নিতে হবে।  


৫৬.কুরবানী গোশত খাওয়া কি?

উঃ- মুস্তাহব, না খেলেও গুনা হবে না। তবে খাওয়া উত্তম। 


৫৭.কুরবানী ওয়াজিব এমন ব্যক্তি যদি ঋণ নিয়ে কুরবানী করে কুরবানী হবে কি?

উঃ হবে তবে সুদের উপর ঋণ নিয়ে করলে হবে না। 


৫৮.হাজীরা যদি মুসাফির থাকে তখন তাদের উপর কুরবানী কি ওয়াজিব?

উঃ- না। 


৫৯.পাগল পশু ধারা কুরবানী কি হবে?

উঃ- না। 


৬০.নবী কারীম সাঃ এর পক্ষ থেকে কুরবানী করা কি?

উঃ- উত্তম সামার্থ্যবান দের জন্য। 

এটার গোশত সবায় খেতে পারবে। 


৬১.খাসি কৃত পশু ধারা কুরবানী করা যাবে কি?

উঃ- হ্যা 


৬২.বিদেশে অবস্থানে  ব্যক্তির করনীয় কি?

উঃ- উনার পক্ষ থেকে দেশে কুরবানী দিলেও হবে


৬৩.পশুর চামড়া কি নিজে ব্যবহার করা যাবে?

উঃ- হ্যা,তবে বিক্রি করলে  টাকা সদকা করতে হবে। 


৬৪.জবাই কারী কে পারিশ্রমিক দিতে হবে কি?

উঃ  উত্তম হাদিয়া দেওয়া।  


৬৫.কুরবানীর দিনে মুরগী হাঁস জবাই করা যাবে কি?

উঃ- যাবে, তবে কুরবানী নিয়তে করা যাবে না। 


৬৬. জীবিত ব্যক্তির পক্ষ হতে কুরবানী করা যাবে কি?

উঃ- হ্যা যাবে।


আলহামদুলিল্লাহ এই হলো ৬৬ টি মাসায়ালা

আল্লাহ সকল কে সঠিক নিয়ম মেনে কুরবানী করার তৌফিক দান করুন আমিন।

প্রাণিসম্পদ থেকে নন-ক্যাডার ২ বছর, তারপর ক্যাডার

 যখন সরকারি চাকুরি (প্রাণিসম্পদে) করেও দিনে গড়ে ১২ ঘন্টা পড়তাম! (24 May 2019 অফিসে তোলা ছবি)


প্রাণিসম্পদ থেকে নন-ক্যাডার ২ বছর, তারপর ক্যাডার


এছাড়া জব+পড়ার পাশাপাশি প্রথম ব্যক্তি হিসেবে ৪৯৫ উপজেলা ভ্রমণ করেছি | একটা Subscribe করবেনঃ

https://www.youtube.com/@mahbuborrashid


আপনার মাথায় যদি ক্যাডার / ভালো সরকারি চাকুরির স্বপ্ন থাকে সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের আগে আপনি স্বস্তি পাবেন না! আপনি ক্যাডার হতে চান আবার ফেসবুকেও পড়ে থাকেন তাহলে ১০০% নিশ্চিত আপনি নিজেই নিজের সাথে প্রতারণা করতেছেন!


অনেকে বলে আমার ডাটা অন থাকে, আমি ফেসবুকে কিছুই করি না! বেশিরভাগ মানুষের ক্ষেত্রেই এটা সত্য তবে মোবাইল চুম্বকের মত আকর্ষণ করে | কোনো কারণ ছাড়াই বারবার স্ক্রল করতে ইচ্ছে করে, ইনবক্স চেক করতে ইচ্ছে করে | তাই পড়ার সময় মোবাইল হাতের সীমানায় তো দূরে থাক, চোখের সীমানায়ও রাখা যাবে না, না, না | নয়তো মোবাইল আপনাকে ডাকবে, আয় আমাকে দেখ, আরে কতোক্ষণ দেখোস না, দেখ দেখ..... আসলেই কিছু নেই তবু দেখতে ইচ্ছে করবে, এ এক অজানা টান!!


এমনটা আমাদেরও হতো, তবু যেকোনোভাবে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতাম | এডিকটেড হয়ে গ্রামের বাড়িতে এন্ড্রয়েড রেখে আসছি এমনটাও করছি | তা সম্ভব না হলে ফোন ড্রয়ারে তালা মেরে রাখুন বা lock my phone এপ ব্যবহার করতে পারেন | তাহলে যত ঘন্টার জন্য ফোন লক করবেন তার আগে ফোন খুলতে পারবেন না (কল/মেসেজ যাবে আসবে)


অনেকের অভিযোগ পড়তে ভালো লাগে না! এর সমাধান হলো "পড়াকে ভালোবাসা" (পড়া মানে নতুন কিছু জানা, পড়বেন মানেই নতুন কিছু জানবেন) পড়ার উদ্দেশ্য "জানা" জানলে শিখাও হলো, জবও হলো |


তাই যেকোনো উপায়ে মোবাইল আসক্তি ছাড়ুন, জীবনে মোবাইল ফেসবুক চালানোর অফুরান সময় পাবেন | ৩০ বছর এমনকি মৃত্যু পর্যন্ত আর্থিক নিশ্চিন্তে কাটাতে ৩ টা বছর কষ্ট করতেই হবে!


রুটিন করলে মানতে পারবেন না (আমি পারতাম না) সময় পেলেই পড়তাম এটাই রুটিন (ঘড়ি ধরে বা রুটিন করে নয়) সেটা গড়ে ১২ ঘণ্টা হতে পারে [সরকারি অফিসে কাজের কোনো চাপ নেই, কাজের ফাঁকে ফাঁকে পড়তাম] আপনি মোবাইল এডিকটেড হলে এভাবে "সময় পেলেই পড়বেন" এটা পারবেন না বরং আপনি ২৪ ঘন্টার মধ্যে কোন ৪/৬/৮ ঘন্টা পড়বেন জাস্ট ওটা ঠিক করেন |


পড়ার জন্য নির্দিষ্ট করা ঐ ৪/৬/৮ ঘন্টা ভুল করেও ফোন ধরা যাবে না, বাকি সময় ফেসবুকে ঢুকে বা কারো ইনবক্সে ঘুমিয়ে থাকুন 🛌


ফোন ধরার কুফল প্রতিবার পরীক্ষার রেজাল্ট দেয়ার পর কিছুটা অনুধাবন করা উচিত! বিসিএসের ক্ষেত্রে একটা প্রিলি ফেল করা মানে আপনার জীবন থেকে ১ বছর শেষ! এর সাথে পরিবার, বিয়ে, সন্তান অনেককিছুই জড়িত | আপনি হয়তো ভাবেন জব একদিন হবেই! (কয়েক বছর পর বা শেষ বয়সে) মনে রাখবেন প্রতি জুলাই মাসে সরকারি চাকুরির বেতন বাড়ে | আপনি যতো আগে ঢুকবেন অন্যদের থেকে বেতনে ততো এগিয়ে থাকবেন | যতো আগে জব হবে অত বেশি বছর চাকুরি করতে পারবেন, শেষ বয়সের দিকে অনেক বেশি বেতন, অনেক বেশি এককালীন & আমৃত্যু পেনশন পাবেন |


495 Upazilas 395 Pic (Click Mahbub Or Rashid)


https://www.facebook.com/100064278236575/posts/1069292655223332/?app=fbl


জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে কয়েকটা সরকারি চাকুরি & বিসিএস ক্যাডার হওয়ার অভিজ্ঞতা থেকে বিসিএসের পূর্ণাঙ্গ প্রস্তুতি তথা সরকারি চাকুরি পাওয়ার পূর্ণাঙ্গ গাইডলাইনের জন্য পড়তে পারেনঃ


এটা "৪১তম বিসিএস প্রিলি প্রস্তুতি" পোস্ট (আমার টাইমলাইনে ২০১৯ সালের পোস্ট) তখন আমি নিজেও ৪১তম বিসিএস প্রার্থী! তবে আমার পূর্ণ বিশ্বাস ছিলো ক্যাডার হবোই তাই এমন পোস্ট করার সাহস করি!! aLHaMDuLiLLaH ৪১তম বিসিএস থেকেই আমার প্রিয় ক্যাডার (শিক্ষা ক্যাডারে) "ঝালকাঠি সরকারি মহিলা কলেজ" যোগদান করি ২৮ এপ্রিল ২০২৪ |


এর আগে যখন সরকারি মাধ্যমিকে নন-ক্যাডার শিক্ষক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেয় আমি নিজেই প্রার্থী হয়েও পোস্ট করেছি "কীভাবে সরকারি মাধ্যমিকে চাকুরি পেতে হবে" & তা করে দেখিয়েছি (২ বছর ২ মাস ২০ দিন সরকারি হাইস্কুলে ছিলাম)


তার আগে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরে ছিলাম (অনার্স কমপ্লিটের ৬ মাসের মধ্যে সরকারি জবে যোগদান করি)


যাহোক প্রথমত বিশ্বাস করুন "আমি পারবোই" আসলে সরকারি চাকুরি পাওয়া কোনো ব্যাপারই না, শুধু বিশ্বাস & "সঠিক উপায়ে" "সামান্য" চেষ্টা দরকার |


সবকিছু মনে রাখতে হবে?

-  না | আমরা যখন কোনো বই পড়ি ৯০% ভুলে যাই, হয়তো ১০% মনে থাকে | এই ১০% ই আপনার সম্পদ | পরের বার শুধু দাগানো অংশ পড়লেই ২০%, ৩০% এভাবেই জ্ঞানভাণ্ডার বাড়তে থাকবে!


রুটিন করবেন কিনা?

- আপনি যদি সবসময় নির্দিষ্ট জায়গায়, নির্দিষ্ট কর্মে আবদ্ধ থাকেন তবে রুটিন করতে পারেন | আমি রুটিন করে পড়তে পারিনি, রুটিন করলে ২/৩ দিন পরেই রুটিন শেষ!! যতটুকু ফ্রি সময় পাবেন ততটুকু কাজে লাগাতে চেষ্টা করবেন, এটাই রুটিন!


সরকারি চাকুরির জন্য পড়বেন বাট কোনটা দিয়ে শুরু করবেন??

- আপনি যদি সত্যিই সরকারি জব চান তবে আপনাকে অন্তত ৫টা বই কিনতে হবে | বাংলা, ইংরেজি, গণিত, সাধারণ জ্ঞান একটা করে & জব সলুয়েশন | আগে সহজ (জিকে) দিয়েই শুরু করুন | ক্রমান্বয়ে বাকিগুলো পড়ুন | এক দিনে কখনো ২ সাবজেক্টের বেশি পড়বেন না (১টা পড়াই বেস্ট)


জব সলুয়েশন পড়া জরুরি কিনা?

- জব সলুয়েশনে আগের বিভিন্ন পরীক্ষার প্রশ্নের ব্যাখ্যাসহ সমাধান থাকে | আমি জব সলুয়েশন পড়িনি কারণ বিষয়ভিত্তিক বইগুলোর প্রতিটি অধ্যায় শেষেই বিগত প্রশ্ন থাকে | তবু সব প্রশ্ন একত্রে পেতে জব সলুয়েশন পড়তে পারেন (২/১ বছর পুরাতন হলেও চলবে)


সাজেশন দেয়ার কোনো যোগ্যতা আমার নেই তবু অনেকে বিসিএস প্রস্তুতি সম্পর্কে জানতে চান | যেহেতু ৪১ থেকে শিক্ষা ক্যডারে কর্মরত, ৪৩/৪৪ ভাইভার সুযোগ পেয়েও দেইনি (শিক্ষা ক্যাডার বেস্ট) সেহেতু কিছু লিখছি.... (এখনও বয়স আছে)


প্রথমত, জবের পড়া কি অসীম কিছু? নিশ্চয়ই না |

মনে করুন বাংলা গ্রামারে কয়টা অধ্যায়? ধরলাম ৩০টা | তো আপনি যদি ২ দিনেও মাত্র ১টা অধ্যায় পড়েন তাহলে ২ মাসে বই শেষ! (অবশ্যই মোবাইল দূরে রেখে পড়তে হবে) তেমনি গণিতে ৩০টা অধ্যায় ২ মাসেই তো শেষ হয়ে যায়, ইংরেজীও সেইম | তাহলে আপনি পড়াকে, সরকারি জব পাওয়াকে অসীম মনে করবেন কেনো? এর পরিধি একদম সামান্য | আসলে আমরা পড়ি না | পড়লে সরকারি জব কোনো ব্যাপারই না, খুব ইজি.....


হ্যাঁ, সাধারণ জ্ঞানের পড়া অনেক, তবে ভয় পাওয়ার কিছুই নেই | কারণ বিগত বিসিএস বা যেকোনো পরীক্ষার প্রশ্ন দেখুন ৮০-৯০% প্রশ্ন আসে স্থায়ী জিকে থেকে, সামান্য কিছু সাম্প্রতিক থাকে | অনুরোধ করবো এ সামান্য কিছুর জন্য অযথা সময় নষ্ট করবেন না | আপনার চাকুরির প্রধান পড়া গণিত, ইংরেজি, বাংলা | সাধারণ জ্ঞান পড়ুন বা না পড়ুন পরীক্ষায় সবার প্রাপ্ত নাম্বার কাছাকাছি থাকে | চাকুরি পাওয়া না পাওয়া নির্ভর করে গণিত ও ইংরেজির উপর | সাধারণ জ্ঞান যেগুলো "বারবার পরীক্ষায় আসে" সেগুলো মোটামুটি সব পারা উচিত, আর সাম্প্রতিক শুধু পরীক্ষার সময় পড়বেন (রিসেন্ট ভিউ পড়তাম আমি)


প্রিলির জন্য যাদের আগে থেকে ভালো প্রস্ততি আছে তাদের জন্য বিষয়টা সহজ (পড়তেও হয় না) একদম নতুনদের জন্য কঠিন | আমি প্রিলির জন্য প্রতি বিষয়ের অন্তত ৪/৫টা করে বই রিডিং পড়েছি (দাগিয়ে) সার্বিকভাবে যে বইগুলো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মনে হলো শুধু সেগুলোই উল্লেখ করলামঃ


® বাংলা লিটারেচার = ওরাকল গাইড (পাশাপাশি অগ্রদূত দেখতে পারেন) [টার্গেট ১৪/২০]


® বাংলা গ্রামার = নবম বোর্ড বই (পাশাপাশি ওরাকলেরই গ্রামার অংশ) [টার্গেট ৮/১৫]


® ইংরেজী গ্রামার = প্রফেসরস/মাস্টার (যেকোনো একটা হলেই চলবে) (টার্গেট ১০/২০)


® ইংরেজী লিটারেচার = শরীফ স্যারের হ্যান্ডবুক (পাশাপাশি জয়কলি) [টার্গেট ১০/১৫]


® বাংলাদেশ বিষয়াবলী = কনফিডেন্স (পাশাপাশি জুবায়েরস জিকে) [টার্গেট ২০/৩০]


® আন্তর্জাতিক = কনফিডেন্স (পাশাপাশি রিসেন্ট ভিউ) [টার্গেট ১২/২০]


® ভূগোল = নবম বোর্ড বই (পাশাপাশি জর্জ) [টার্গেট ৬/১০]


® বিজ্ঞান = নবম বোর্ড বই (পাশাপাশি জর্জ) [টার্গেট ৮/১৫]


® ICT = এইচএসসি আইসিটি বই (পাশাপাশি সেল্ফ সাজেশন) [টার্গেট ৮/১৫]


® গণিত = খায়রুলস বেসিক ম্যাথ (একটাতেই চলবে) [টার্গেট ১০/১৫]


® মানসিক = এসিউরেন্স রিটেন (একটা পড়লেই প্রিলি, রিটেন হয়ে যাবে) [টার্গেট ১১/১৫]


® সুশাসন = পৌরনীতি দ্বিতীয় পত্র বই (পাশাপাশি যেকোনো গাইড!) [টার্গেট ৩/১০]


® জিস্ট হিসেবে ইনসেপশন/এসিউরেন্স ডাইজেস্ট পড়তে পারেন


® মডেল টেস্ট করলেও অনেক উপকৃত হবেন | আমি ৫টা করেছিলাম (প্রফেসরস, কনফিডেন্স, জ্ঞানদ্বীপ, ওরাকল, অদিতি) মডেল টেস্ট বা যেকোনো mcq পড়ার আমার উদ্ভাবিত নিয়মঃ পড়ার সময় যে প্রশ্নগুলো আপনার চাকুরির আবেদনের বয়স শেষ না হওয়া পর্যন্ত পারবেন ১০০% নিশ্চিত সেগুলো ক্রস দিয়ে দিবেন, তাহলে পড়া অনেক কমে যাবে  | যতোবার পড়বেন এ নিয়ম ফলো করবেন & পড়া কমতে থাকবে |


এখানে ১২০ মার্কসের টার্গেট দেখানো হলো | আপনাকে সামর্থ্য অনুযায়ী সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিতে হবে | বই আমাদের সবার কাছেই আছে | কারো কাছে যদি অন্যান্য বই থাকে পড়তে পারেন তবে আর্থিক সমস্যা না থাকলে উপর্যুক্ত বইগুলোও কিনুন | বই কিনে কেউ দেউলিয়া হয় না, প্রতিটা বই থেকে কিছু না কিছু শিখার আছে | তবে বেশি বেশি বই পড়ার চেয়ে "বুঝে পড়া" এবং একই বই বারবার "রিভিশন" দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ | প্রথমবার পড়ার সময় অবশ্যই অবশ্যই অবশ্যই ২টা ম্যাপ রাখবেন & ভাববেন কি পড়তেছেন, বাস্তবতা মিলাবেন, গুরুত্বপূর্ণ লাইন অবশ্যই লাল দাগ করে যাবেন, রিভিশন দেয়ার সময় শুধু দাগাঙ্কিত অংশ পড়বেন (তখন না বুঝলে আবার পুরা প্যারা পড়বেন) মাসিক কারেন্ট এফেয়ার্সের পাশাপাশি দৈনিক পত্রিকা পড়ার চেষ্টা করবেন |


আপনি কোথায় কোন বিষয়ে অনার্স মাস্টার্স করেছেন সেটা কোনোভাবেই পরিবর্তন করতে পারবেন না! তাই অতীত বাদ দিন, পুরোপুরি বাদ (আমার HSC gpa 3.50) মনে রাখবেন কিছু এক্সটা মেধাবী ব্যতীত আমাদের সবার মেধা একই! একটু চেষ্টা করুন, আপনিও পারবেন | জেনারেল লাইনে পড়ুয়াদের সামনে বিসিএস ছাড়া তেমন কোনো পথ নেই (বিশেষত আমরা যারা ব্যাংকে পরীক্ষা দেই না) যদি ক্যাডার হতে চান তবে সারাক্ষণ মনে রাখবেন "আমাকে ক্যাডার হতে হবে, হতে হবে মানে হতেই হবে"


শুধু খাওয়া, পরা ঘুমানোর নাম জীবন নয়, জীবনে আরো অনেক কিছু আছে.... জীবন উপভোগের বিষয় | সরকারি জব হলে মেয়েদের একটা আত্মপরিচয় তৈরী হয়, সমাজে মূল্যায়িত হয়, নিজের ইচ্ছেমত টাকা খরচ করতে পারে | সৃষ্টিকর্তা ভাগ্য লিখে রাখছে ঠিক তবে নিশ্চয়ই সেটা দুভাবে পরিবর্তনযোগ্য (১) প্রচেষ্টা (২) দোয়া | তাই আপনার ভবিষ্যত জীবন কেমন হবে সেটা আপনার হাতেই..... আপনার জীবনকে সুন্দর করতে চাইলে আজই, ঠিক আজই সিরিয়াস হোন | কাল, পরশু করে করে সময় চলে যাবে |


মোটিভেশন দিতে যোগ্যতা লাগে, তার বিন্দুমাত্র আমার নেই | সত্যিকারার্থে মোটিভেশন মানুষের তেমন কাজে লাগে না | এই লেখা এখন পড়ছেন, আগামীকালই ভুলে যাবেন | তাই জীবনকে সুন্দর করতে হলে নিজের মোটিভেশন নিজেকেই তৈরী করতে হবে | পৃথিবীতে এমন কোনো কথা নেই যেটা দিয়ে কেউ আপনাকে বুঝাতে পারবে যদি আপনি নিজে না বুঝেন!! এখনি সিদ্ধান্ত নিন আপনার ভবিষ্যৎ জীবন কেমন হবে | মোটিভেশন নিন আপনার মা-বাবার চেহারা থেকে | একবার ভাবুন, আপনার একটা ভালো জব হলে তারা কতোটা খুশি হবেন | বাবার যতোই টাকা থাকুক নিজে ইনকাম করে বাবা মায়ের হাতে টাকা দিন | মেয়েরা নিজ ইনকামের টাকায় বাবাকে পাঞ্জাবী, মাকে শাড়ি কিনে দিন | এর থেকে বড় সুখ আর নাই | যতদিন ফেসবুক+বন্ধুবান্ধব এই ২টা ছাড়তে পারবেন না, ততদিন ভালো কিছু করতে পারবেন না | ফেসবুকে আসবেন শুধু খবরাখবর দেখার জন্য | চ্যাটিং নিষিদ্ধ! নিজে কিছু হবেন, দেখবেন ছেলেরা/মেয়েরা সিরিয়াল দিবে | যারা আলেম, ডাক্তার, প্রকৌশলী, বৈজ্ঞানিক কিছুই হতে পারিনি তারাও যখন নিজেরটা নিজে বুঝবেন "সমাজের জন্য কিছু করতে হলে নিজেকে কিছু হতেই হবে" এই ভাবনা যখন নিজে তৈরী করে নিতে পারবেন তখন আপনার মাথায় শুধু কাজ করবে পড়া, পড়া, পড়া! অথবা আমার মত ভ্রমণপাগল হলেও ভালো জবের (টাকা) বিকল্প নাই!


বয়স ৩২ হলে পিছনে তাকিয়ে দেখবেন চাকুরি না হওয়ার পিছনে সবচেয়ে বড় কারণ "মোবাইল" তাই

আপনার সফলতার পিছনে সবচেয়ে বড় বাধা মোবাইলটাকে যেকোনো মূল্যে, যেকোনো মূল্যে সরিয়ে দিন (দিনে ১ ঘন্টা বরাদ্দ রাখবেন) জানি মোবাইল সরিয়ে থাকতে পারবেন না | তাই লগইন করলেও টাইমলাইনে ২ মিনিট চোখ বুলিয়ে মেসেজগুলো দেখা শেষে "আমার সব পড়া রয়ে গেছে" ভেবে দ্রুত ডাটা অফ করে দিবেন | নামমাত্র প্রস্তুতি নিয়ে কোনো পরীক্ষায় টিকবেন না, ভালো প্রস্তুতি নিলে সব পরীক্ষায় টিকবেন |


বেসিক জ্ঞান অর্জনের পর মডেল টেস্ট সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ! বাসায় মডেল টেস্ট করবেন | ১টা ১টা প্রশ্ন পড়ে মনে মনে উত্তর বলে তারপর মিলাবেন | যেসব প্রশ্ন ১০০% পারবেন সেগুলো ক্রস করে দিবেন তাহলে পরীক্ষার ঘনিয়ে আসলে শুধু না পারা গুলো পড়া যাবে | বেশি বেশি মডেল টেস্ট না করলে পরীক্ষার হলে শুধু কনফিউশন সৃষ্টি হবে |


বিসিএস পরীক্ষার্থী? কাজের ফাঁকে ফাঁকে পড়া নয় বরং পড়ার ফাঁকে ফাঁকে শুধু জরুরী কাজ.............


সিদ্ধান্ত নিন কী করবেন? বিদেশ, ব্যবসা নাকি জব?

যদি জব করতে চান তবে সরকারি জব কেনো করবেন না? (যেহেতু সরকারি জব পাওয়া খুব সহজ) আপনি শূন্য থেকে হোন কিংবা হয়তো অল্পের জন্য জব হয় না | সব ঘাটতি পূরণে আমার লাইভ ক্লাস করতে পারেন | ইনশাআল্লাহ অনেক উপকৃত হবেন |


[সরকারি প্রাথমিক / সরকারি মাধ্যমিক (নন-ক্যাডার) / স্কুল নিবন্ধন / কলেজ নিবন্ধন ফুল সিলেবাস মাত্র ১ হাজার টাকায় ফেসবুক লাইভে পড়াই & নিয়মিত পরীক্ষা নেই (সিক্রেট গ্রুপে) একবার ভর্তি হলে চাকুরি না হওয়া পর্যন্ত ক্লাস করতে পারবেন | এড হতে নক দিবেন হোটসএপে 01872-665371 ]


প্রতি বছর প্রাথমিকের বিজ্ঞপ্তি দিলে নতুন ব্যাচ শুরু করি (গণিত, ইংরেজি, বাংলা, জিকে প্রাইমারি & বিসিএসের সব টপিকস ভেঙ্গে ভেঙ্গে বুঝিয়ে পড়াই, বিশেষত মনে রাখার টেকনিক শিখাই + নোট করাই) হয়ে যাওয়া সব ক্লাস+এক্সাম সিরিয়ালি রেকর্ড থাকে | সবগুলো ক্লাস করলে ইনশাআল্লাহ ভালো কিছু হবেই হবে |


সব কথার শেষ কথাঃ পড়ার জন্য দিনে ৪/৬/৮ ঘন্টা ফিক্সড করুন | বাকি ২০ ঘন্টা যা খুশি করবেন, ফেসবুকে বসে শুয়ে ঘুমিয়ে থাকবেন তবে ঐ ৪ ঘন্টা কোনোভাবেই মোবাইল ধরা যাবে না | তবেই সফল হবেন | 


দুইটা ম্যাপ কিনে আজই পড়াশোনা শুরু করুন... আর যে বই পড়বেন তার পৃষ্ঠা সংখ্যাকে ৩০ বা ৬০ দিয়ে ভাগ করে দিনে তত পৃষ্ঠা পড়তে হবে | নয়তো দিন মাস বছর যাব তবু বই শেষ হবে না.......


পোস্টে আপনার বন্ধুবান্ধবকে মেনশন করতে পারেন |

অভিজ্ঞতা শেয়ারের "প্রয়োজন" মনে করলে যেকোনো সময় নির্দ্বিধায় হোটসএপে  01872665371 মেসেজ করতে পারেন বা কল দিতে পারেন | আমি প্রথম ব্যক্তি হিসেবে দেশের ৬৪ জেলার পুরো ৪৯৫টি উপজেলাই এক্সপ্লোর করেছি! সারা বাংলাদেশের প্রতিটা উপজেলার ইতিহাস, ঐতিহ্য, জনজীবন সংক্রান্ত তথ্য পেতে (স্বল্প খরচে দেশের ৪৯৫ উপজেলা ও অন্তত ২০+ দেশ ভ্রমণ সংক্রান্ত ভ্লগ করবো) & সরকারি জব সংক্রান্ত আপডেট তথ্য পেতে মাহবুব অর রশিদ কে follow করতে পারেন!


উল্লেখ্য, একাডেমিক বা চাকুরির জন্য কখনো কোনো প্রাইভেট/ব্যাচ/কোচিং করিনি |


আচ্ছা আপনার উপজেলা কোনটি? নিচের লিংকের পোস্টে আমার তোলা আপনার জেলা+উপজেলার ছবি রয়েছে, ঐ ছবিতে রিপ্লাই করলে আপনার এলাকায় আপনার সাথে চা খাবো inshaAllah!

https://www.facebook.com/100064278236575/posts/1069292655223332/?app=fbl


আমার ইউটিউব চ্যানেলে শিক্ষামূলক & ভ্রমণের অনেক ভিডিও পাবেনঃ একটা Subscribe করবেন please!

https://www.youtube.com/@mahbuborrashid


#BCS #BCSBooks #bcspreparation


#BCS #bcspreparation #jobpreparation #facebook #phone #আসক্তি

রবিবার, ২৫ মে, ২০২৫

অরুণিকা লেখিকা_সামিয়া_বিনতে_হামিদ ||পর্ব-৪৩|| 

 #অরুণিকা

#লেখিকা_সামিয়া_বিনতে_হামিদ

||পর্ব-৪৩|| 

৭৩.

হলুদ শাড়ি আর ফুলের গহনার আবরণের ঢাকা পড়ে গেছে একটা বিধ্বস্ত মন। পিঁড়িতে পুতুলের মতো বসে আছে শতাব্দী। সবাই একে একে এসে তার গায়ে হলুদ লাগিয়ে দিচ্ছে, আর তার দেহটা যেন সেই হলুদের স্পর্শে শিউরে উঠছে। সে নিজেও জানে না সে কোন ভাবনায় ডুবে আছে। কিছু এলোমেলো আলোছায়া তার মস্তিষ্কে ঘুরপাক খাচ্ছে। সেই আলোছায়ার ভীড়ে ভেসে উঠছে প্রথম দেখা তাহমিদের সেই বিরক্তিমাখা মুখ, রোদে রাঙা হয়ে যাওয়া গাল, অসহায় চোখ, প্রশান্তির হাসি। এসব ভাবতে ভাবতেই তার চোখ দু'টি ছলছল করে উঠলো। এতোক্ষণ তার চোখ জোড়া পায়ের নখের দিকেই স্থির ছিল, এবার সে চোখ জোড়া উপরে তুলতেই সভার ভীড়ে সবুজ পাঞ্জাবি পরা সেই ছেলেকে দেখতে পেলো, যাকে সে এতোক্ষণ মনের আলোছায়ার ভীড়ে খুঁজছিল।

এদিকে তূর্য আর অরুণিকা শতাব্দীর সামনে এসে দাঁড়ালো। অরুণিকা হাঁটু গেড়ে বসে বলল,

"শতাব্দী দিদি, তুমি আমাদের ফেলে চলে যাবে?" 

অরুণিকার মুখে 'শতাব্দী দিদি' ডাকটা শুনে শতাব্দীর ভেতরটা আরো খালি হয়ে গেলো। শতাব্দী কাঁপা কন্ঠে বললো,

"ছোট সখী, এভাবে পর করে দিলে আমায়? আমাকে শতু আপু ডাকবে না?" 

অরুণিকা তূর্যের দিকে একবার তাকালো, তারপর বলল,

"আমি তো চেয়েছি তোমাকে আমার আপু করে নিয়ে যেতে। তুমিই তো দিদি হয়ে গেলে। কি হতো তাহমিদকে বিয়ে করলে? তুমি সবসময় আমার সাথেই থাকতে পারতে।" 

তূর্য অরুণিকার হাত ধরে ইশারায় তাকে চুপ থাকতে বললো। শতাব্দী মলিন হেসে বলল,

"আমার তো আপু হওয়ার যোগ্যতা ছিল না। ঈশ্বর এটাই চেয়েছিলেন। উনি আমাকে তোমার দিদি বানিয়েই পাঠিয়েছিলেন।" 

আহনাফ তূর্যের পাশে এসে দাঁড়িয়ে বলল,

"কংগ্রাচুলেশন। নতুন জীবন সুখের হোক।" 

শ্রীজা এসে অরুণিকার হাত ধরে বলল,

"দিদিকে হলুদ লাগিয়ে দাও।" 

অরুণিকা হলুদ লাগিয়ে দিয়ে শতাব্দীকে বলল,

"জানো, কাল আমি তাহমিদকে প্রথম কাঁদতে দেখেছি।" 

শতাব্দী চোখ বড় বড় করে অরুণিকার দিকে তাকালো। অরুণিকা আবার বলল,

"ও কারো সামনে কাঁদে না। ওয়াশরুমে গিয়ে কাঁদে। ওর চোখ অনেক লাল হয়ে যায়। সায়ন্তনী আপু মারা যাওয়ার পর আরাফ যেভাবে কাঁদতো, এখন ঠিক সেভাবেই তাহমিদ কাঁদে। আমি আগে কখনো তাহমিদকে কাঁদতে দেখি না। ও কেন কাঁদে জানো?" 

শতাব্দীর‍ গলায় কিছু একটা আটকে যাচ্ছিল। সে কোনো শব্দ বের কর‍তে পারছিলো না। তবুও অনেক কষ্টে অরুণিকার হাত ধরে কাঁপা কন্ঠে বলল,

"বলো না সখী। শুনতে পারবো না।" 

অরুণিকা আরো কিছু বলতে যাবে তখনই আহনাফ বলল,

"অরু, এদিকে আসো।" 

অরুণিকা নামতেই আহনাফ তার হাত ধরে অন্যদিকে নিয়ে গিয়ে বলল,

"শতাব্দীকে তাহমিদের ব্যাপারে কোনো কথা বলবে না!" 

"কেন?" 

"তুমি এসব বুঝবে না। এখন এসব বললে ঝামেলা হবে। তুমি কি চাও কোনো ঝামেলা হোক?" 

"না, আমি কেন চাইবো? আমি তো চাই, ওরা দু'জন...!" 

আহনাফ অরুণিকাকে থামিয়ে দিয়ে বলল,

"তোমাকে প্রেম গুরু হতে হবে না। তুমি বয়সে অনেক ছোট। আমাদের এসব বুঝার যথেষ্ট বয়স হয়েছে। যেখানে আমরা চুপ করে আছি, সেখানে তোমাকে বুঝতে হবে, এটা সম্ভব না, তাই আমরা চুপ করে আছি।" 

এদিকে ইমন আর মাওশিয়াত শতাব্দীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে একপাশে গিয়ে বসলো। ইভান মেহমানদের খাওয়া-দাওয়ার দেখাশুনায় মাস্টারমশাইকে সাহায্য করছে। আরাফ তাহমিদের পাশেই দাঁড়িয়ে আছে। তাহমিদ দূর থেকেই শতাব্দীর দিকে তাকিয়ে আছে। অনেকক্ষণ পর তূর্য এসে বলল,

"তুই শতাব্দীর সাথে কথা বলবি না?" 

তাহমিদ মাথা নেড়ে সামনে পা বাড়ালো। তাহমিদ কাছাকাছি যেতেই শতাব্দী পিঁড়ি থেকে উঠে দাঁড়ালো। তার মা কাছে আসতেই সে বলল,

"মা, স্নান করিয়ে দাও। গা জ্বলছে।" 

শতাব্দী ভেতরে চলে যেতেই তাহমিদ অন্যদিকে মুখ ঘুরিয়ে নিলো। শ্রীজা হঠাৎ কোথা থেকে এসে তাহমিদের হাতে একটুখানি হলুদ লাগিয়ে দিলো। তাহমিদ সাথে সাথেই চমকে উঠলো। শ্রীজা বলল,

"শুনেছি, কনের গায়ে লাগানো হলুদ তার বরের গায়েই লাগে। যদিও এটা কতোখানি সত্য তা আমি জানি না। কিন্তু যদি সত্য হয়, তাহলে দেখবে তুমিই আমার দাদা হবে।" 

তাহমিদ পকেট থেকে রোমাল বের করে হলুদগুলো মুছে নিলো। শ্রীজা তা দেখে বলল,

"দাদা, দিদি তোমাকে অনেক ভালোবাসে। তুমি দিদিকে নিয়ে পালিয়ে যাও। তোমরা তো দেশে চলে যাবে। ওখানে নিয়ে গেলে এরা আর দিদিকে খুঁজে পাবে না।" 

তাহমিদ কোনো উত্তর দিলো না। শ্রীজা মলিন হেসে বলল,

"দিদি ঠিকই বলেছে, তুমি তোমার কষ্ট লুকিয়ে রাখতে পারো না। তোমার চোখ দেখলেই সব বোঝা যায়।" 

তাহমিদ চোখ বড় বড় করে শ্রীজার দিকে তাকালো। শ্রীজা আবার বলল,

"সবার চোখেই হাসি। শুধু তোমার চোখে বিষন্নতা। কেন দাদা? তুমি কষ্ট পাচ্ছো, তাই তো!" 

"এমন কিছুই না।" 

তাহমিদ কথাটি বলেই সরে গেলো। তারপর আরাফের সামনে এসে বলল,

"আমি বাসায় যাচ্ছি।" 

আরাফও তাহমিদকে আটকাতে পারছিলো না। সে ইভানকে এসে বলল,

"আমি তাহমিদের সাথে বাসায় চলে যাচ্ছি।" 

এদিকে ইভান অতিথিদের সাথে কুশল বিনিময় করার সময় খেয়াল করল, একটা অর্ধ বয়ষ্ক লোক বাইরের চেয়ারে বসে খুব মনোযোগ দিয়ে ইমন আর মাওশিয়াতের দিকে তাকিয়ে আছে। ইভান কিছুটা সামনে এগুতেই সালেহ আলী তার সামনে এসে দাঁড়ালো। ইভান তাকে দেখেই বলল,

"কেমন আছেন, চাচা?" 

সালেহ আলী ব্যস্ত কন্ঠে বললেন,

"আমি তো ভালো আছি। তুমি এখানে কি করছো? তুমি আমাদের মেহমান। চলো, ওখানে বসো গিয়ে।" 

সালেহ আলী তাকে টেনে নিতেই সে পেছন ফিরে দেখলো, সেই লোকটি আর সেখানে নেই। ইভানের এবার সন্দেহ হলো। সে সালেহ আলীর সাথে কথা বলার মাঝেই মেসেজ করে বাকিদের বিষয়টা জানিয়ে দিলো। আরাফ ততোক্ষণে তাহমিদকে নিয়ে বাসায় পৌঁছে গেছে। সে দেখলো, ইভান গ্রুপে মেসেজ দিয়েছে,

"কেউ একজন আমাদের উপর নজর রাখছে। অরুণিকার উপর নজর রাখিস।" 

আরাফ মেসেজটি দেখেই তাহমিদকে বলে বাসা থেকে বের হতে যাবে তখনই তাহমিদ এসে দরজা ভালোভাবে আটকে দিলো। আরাফ ভ্রূ কুঁচকে বললো,

"সর। দরজা বন্ধ করে দিয়েছিস কেন? অরুকে আনতে যাবো।" 

তাহমিদ লাইট বন্ধ করে দিয়ে আরাফকে নিয়ে বারান্দায় এলো। আরাফ নিচে দাঁড়িয়ে থাকা গাড়িটি দেখে বলল,

"এই গাড়িটা এখানে!" 

"আমরা ওখান থেকে ফেরার সময় এই গাড়িটা আমাদের পিছু নিচ্ছিল। কিন্তু আমি এতোক্ষণ এটা স্বাভাবিক ভাবছিলাম। এখন ইভানের মেসেজ দেখে নিশ্চিত হয়েছি।" 

"কি করবো এখন!" 

"বাসা থেকে বের হতে হবে। ওরা জানে না আমরা ক'তলায় থাকি। কিন্তু এভাবে বের হলে তো চিনে ফেলবে।" 

"কিন্তু সালেহ আলী তো জানে, আমরা কোথায় থাকি, ক'তলায় থাকি। তাহলে আজই কেন আসলো? আর এভাবেই বা কেন পিছু নিলো?" 

হঠাৎ দরজায় বেল বেজে উঠলো। আরাফ আস্তে আস্তে দরজার সামনে গিয়ে পীপহোল দিয়ে দেখলো, একটা কালো কোট পরা লোক দাঁড়িয়ে আছে। তাহমিদ রান্নাঘর থেকে একটা ছুরি নিয়ে এলো। আরাফ ধীরে ধীরে তার রুমে চলে গেলো। রুমে গিয়ে আলমারির ভেতর থেকে একটা পিস্তল বের করে আনলো। তাহমিদ পিস্তলটি দেখে বলল,

"এটা কোথায় পেয়েছিস?" 

"ইভান দিয়েছিল। ওর এক বন্ধুর বাবার পিস্তল। উনি পুলিশে চাকরি করেন।" 

"এটা বেআইনী, আরাফ।" 

"আইন কানুন মেনে চলার সময় এই মুহূর্তে নেই। ইভান এটা সিকিউরিটির জন্য এনেছে। আর এই বিষয়ে আমি আর ও ছাড়া কেউই জানে না।" 

"আচ্ছা, এখানে কি বুলেট আছে?" 

"হ্যাঁ, চারটা আছে।" 

আরাফ পিস্তল নিয়ে দরজার কাছে আসতেই তাহমিদ বলল,

"আরাফ, আগে কখনো পিস্তল চালিয়েছিস?" 

"না।" 

"তাহলে, অভিজ্ঞতা ছাড়া বুলেটসহ পিস্তল হাতে নিয়েছিস কেন? কিভাবে চালাতে হয়, তা তো জানতে হবে।" 

"আরেহ, এটা তো সবাই জানে।" 

"না, ভাই। উল্টাপাল্টা কিছু হয়ে গেলে? দাঁড়া, এক কাজ করি, বিক্রম দাদাকে ফোন দেই।" 

"বিক্রম কে?" 

"অরুণিকার কেইসে যিনি আমাদের সাথে ছিলেন!" 

"তোর উনার সাথে যোগাযোগ আছে?" 

"হ্যাঁ, আছে।" 

"তাহলে, তাড়াতাড়ি ফোন দে।" 

তাহমিদ ফোন দিতেই বিক্রম ফোন রিসিভ করলো। তাহমিদ পুরো ঘটনা খুলে বলতেই তিনি তখনই তার টিম নিয়ে তাদের বাসার উদ্দেশ্যে রওনা দিলেন। এদিকে লোকটা কিছুক্ষণ পর পর বেল দিচ্ছিল। হুট করে সে কোথায় চলে যাচ্ছে, আবার পাঁচ মিনিট পর পর এসে বেল দিচ্ছে। আরাফ ইভানকে মেসেজ দিয়ে বলে দিলো, বাসায় না আসার জন্য। তাই মাওশিয়াত তার চাচ্চুকে গাড়ি পাঠাতে বললো। আর সেই গাড়ি নিয়ে তারা সোজা মাওশিয়াতের বড় চাচার বাসায় চলে গেলো। মাওশিয়াতের বড় চাচা সেনাবাহিনীতে চাকরি করেন। আর এই মুহূর্তে তার বাসাটাই সবার জন্য নিরাপদ। প্রায় দশ-পনেরো মিনিটের মধ্যে বিক্রম তাহমিদকে ফোন করলো। তাহমিদ বারান্দায় এসে দেখলো বিক্রম তার গাড়ি নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। আর আগের গাড়িটাও নেই। পুলিশের গাড়ি দেখে হয়তো সেই গাড়িটা চলে গেছে। এরপর বিক্রম তাদের ফ্লোরে এসে তাদের নিয়ে নিচে নামলো, আর তার গাড়িতে করেই তাহমিদ আর আরাফকে মাওশিয়াতের চাচার বাসায় নামিয়ে দিলো।

তারা সবাই গোল হয়ে একটা রুমে বসে আছে। অরুণিকা ঘুমিয়ে পড়েছে। মাওশিয়াত এসে বলল,

"অরুণিকাকে পাশের রুমে শুইয়ে দাও।" 

আরাফ জোর গলায় বলল,

"না। ও ওখানেই থাকুক।" 

"কি বলছো, আরাফ? ও এখন বড় হয়ে গেছে। বাসায় চাচীরা আছে। বড় চাচীই বললো ওকে নিয়ে আসতে।" 

এবার ইমন বলল,

"আরাফ যেতে দে ওকে। মাওশিয়াত থাকবে তো অরুণিকার সাথে।" 

আরাফ আরো জোর গলায় বলল,

"না, বললাম তো। ও এখানেই থাকবে। আমি আর আহনাফ নিচেই ঘুমাবো।" 

মাওশিয়াত বলল,

"না, নিচে কেন থাকবে? পাশে আরেকটা রুম আছে, ওখানে দু'টো বেড পাশাপাশি আছে। তোমরা দু'জন বরং অরুণিকাকে নিয়ে ওখানেই থাকো।" 

এরপর সবাই যার যার রুমে শুয়ে পড়লো। আহনাফ অরুণিকার হাত ধরে বসে আছে। তখন আরাফ বলল,

"আমাদের ওই বাসা ছাড়তে হবে।" 

আহনাফ বলল,

"হ্যাঁ, আর ভাবছি, আমরা অরুকে নিয়েই দেশে ফিরবো। এখানে তুই আর ইভান একা থাকবি। অরুকে কার ভরসায় রেখে যাবি? ওখানে আমরা সবাই থাকবো!" 

"আমি অরুকে কারো ভরসায় ছাড়তে চাচ্ছি না। ওর কিছু হয়ে গেলে?" 

"আমি আছি তো।" 

"আমি তোর উপর বিশ্বাস করতে পারবো না। অরু তোর কথা শুনবেও না। ও শুধু আমার কথায় শুনে।" 

"আচ্ছা, তাহলে ওরা যাক! আমি এখানেই থেকে যাই। তোরা বাইরে থাকলে আমি অরুকে দেখবো।" 

"হুম, সেটাই কর। আর আমাদের শুটিং শিখতে হবে। লাইসেন্স গান লাগবে।" 

এদিকে সকালে এই বিষয়ে কথাবার্তা হতেই তূর্য বলল,

"টুইংকেল না গেলে আমিও এখানে থাকবো।" 

আহনাফ ভ্রূ কুঁচকে বললো,

"ওর সাথে তোর কি!" 

"আমার ওকে ছাড়া ভালো লাগে না। ও আমার মন খারাপের বিনোদন।" 

ইমন বলল,

"আচ্ছা, তাহলে আমরা সবাই একসাথেই দেশে ফিরবো। আরো একবছর অপেক্ষা করি। এই মুহূর্তে আমাদের একসাথে থাকা দরকার। আলাদা হওয়া ঝুঁকিপূর্ণ।" 

ইভান বলল,

"তাহলে আমাদের দ্বিতীয় ধাপটাই আগে শুরু করা উচিত। আপতত বিজনেস দাঁড় করানো উচিত। আর কিছু ট্রেনিং দরকার। যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবেলা করার জন্য আমরা এখনো শক্ত হই নি। তাই এই এক বছরে আগে আমাদের নিজেদের রক্ষা করার মতো ক্ষমতা অর্জন করতে হবে। তা হোক আর্থিক, বা শারীরিক।" 

এদিকে রহমতুল্লাহর ফোনে কল এলো। কল রিসিভ করতেই ওপাশ থেকে একজন বলে উঠল,

"কি হলো এটা?" 

রহমতুল্লাহ কাঁপা কন্ঠে বললেন,

"পুরো পরিকল্পনায় নষ্ট হয়ে গেছে, জনাব।" 

"ওরা না ফিরলে আমাদের এতোদিনের পরিকল্পনা নষ্ট হয়ে যাবে।" 

"দেখুন জনাব। হঠাৎ করেই যে এমন কিছু হবে!" 

রহমতুল্লাহকে থামিয়ে লোকটা বলল,

"সব তোমার বোকামীর কারণে হয়েছে।" 

"আমি তো ভেবেছি, ওরা ভয় পেয়ে কলকাতা ছেড়ে দেশে ফিরবে।" 

"হ্যাঁ, কিন্তু এখন তো ওরা দেশেই ফিরবে না বলছে।" 

"কিন্তু জনাব, আপনি কিভাবে নিশ্চিত হয়েছেন যে ওরা দেশেই ফিরছে না?" 

"তুমি কি ভাবছো, ওদের সাথে আমি আমার লোক রাখি নি? ওই ছ'জনের প্রতি পদক্ষেপের খবর আমার কাছে আছে। আমার লোক সবসময় ওদের সাথেই থাকে। ওরা যে তোমার উপর সন্দেহ করে দেশে এসেছিল একমাসের জন্য এটাও আমার লোকেই বলেছে। ভাগ্যিস সব আগেই জানতে পেরেছি, নয়তো ওরা জেনে যেতো, তুমি আমার লোক। এখন ওরা তা-ই দেখেছে, যা আমি দেখিয়েছি। ওরা এখন মুরশিদ জুবাইয়েরকেই সন্দেহ করছে।" 

"কিন্তু জনাব, লোকটা কে যে আপনাকে এসব খবর দিচ্ছে!" 

"তোমার এসব না জানলেও চলবে। এখন যা করার, আগে ওদের পরিকল্পনা পরিবর্তন করো। ওদের দেশে আনার ব্যবস্থা করো। নয়তো সেই ছ'টা বুলেট তোমাকেই বিদ্ধ করবে।"

চলবে-

বিপদের সময় এই দোয়াটি পড়ুন,অলৈকিক সাহায্য আসবেই,,,,,, ফেইসবুক থেকে নেওয়া

 🌊 তিন অন্ধকারের বুক চিরে অলৌকিক মুক্তির মহাকাব্য: ইউনুস (আ.)-এর গল্প ​আপনি কি কখনো এমন ঘোর অন্ধকারে পড়েছেন, যেখানে পালানোর কোনো পথ নেই? যে...