★★৪ টি মায়াজমের তুলনা দেওয়া হলো--★★
(১. সোরিক ২. সিফিলিটিক ৩. সাইকোটিক, ৪. টিউবারকুলার)
------------------------------------------------------
★ আকৃতি: ★
১. সোরিক- কার্যগত পরিবর্তন।
২. সিফিলিটিক- ক্ষত সৃষ্টি, ধ্বংস ও পরিবর্তন হয়।
৩. সাইকোটিক- অস্বাভাবিক বৃদ্ধি। স্থানিক পরিবর্তন।
৪. টিউবারকুলার- ধ্বংসাত্মক ও কার্যগত পরিবর্তন।
★গোসল: ★
১. সোরিক- গোসল করতে চায় না।
২. সিফিলিটিক- সামান্য গরম পানি দিয়ে গোসল করে।
৩. সাইকোটিক- গোসল করতে ভালবাসে।
৪. টিউবারকুলার- গোসল করতে চায় কিন্তু গোসলে বৃদ্ধি হয়।
★যেরূপ খাদ্য:★
১. সোরিক- গরম খাদ্য পছন্দ।
২. সিফিলিটিক- ঠান্ডা খাদ্য পছন্দ।
৩. সাইকোটিক- অল্প গরম খাদ্য পছন্দ।
৪. টিউবারকুলার- গরম ও শীতল খাদ্য পছন্দ করে।
★ক্ষমা:★
১. সোরিক- সহজেই ক্ষমা করতে পারে।
২. সিফিলিটিক- ক্ষমা চাইলেও ক্ষমা করতে পারে না।
৩. সাইকোটিক- ক্ষমা করতে ইতস্ততবোধ করে ও শর্তারোপ করে।
৪. টিউবারকুলার- ক্ষমা করে।
★বৃদ্ধি:★
১. সোরিক- দিন বা রাত যে কোন সময় বাড়ে।
২. সিফিলিটিক- সূর্যাস্ত থেকে সূর্যোদয় পর্যন্ত বাড়ে।
৩. সাইকোটিক- রাত ৩টা বা বেলা ৩টায় বাড়ে অথবা রাত ৩টা হতে বেলা ৩টা পর্যন্ত বাড়ে।
৪. টিউবারকুলার- বর্ষাকালে ও ঝড় বৃষ্টির দিনে, রাত্রিকালে, অন্ধকারে বাড়ে।
★দুধ:★
১. সোরিক- দুধসহ্য হয় না।
২. সিফিলিটিক- দুধ ও মাখন ভালোবাসে।
৩. সাইকোটিক- মশলাযুক্ত খাদ্য বা মাখন সহ্য হয় না।
৪. টিউবারকুলার- ঠান্ডা দুধ পছন্দ করে।
★কান্না:★
১. সোরিক- ক্ষণে হাসি, ক্ষণে কান্না।
২. সিফিলিটিক- সর্বদা ঘ্যান ঘ্যানে কান্না বা নিশ্চুপ পড়ে থাকে।
৩. সাইকোটিক- ঘ্যান ঘ্যানে স্বভাব।
৪. টিউবারকুলার- শিশু নিদ্রাকালে চিৎকার করে কেঁদে ওঠে।
★ স্মৃতি-শক্তি:★
১. সোরিক- স্মৃতিশক্তি প্রখর।
২. সিফিলিটিক- স্মরণশক্তি ভীষণ দুর্বল।
৩. সাইকোটিক- স্মরণশক্তির অভাব।
৪. টিউবারকুলার- স্মৃতিশক্তি কমে আসে।
★নখ:★
১. সোরিক- নখের কোন উল্লেখযোগ্য লক্ষণ নেই। তবে নখে ময়লা থাকে।
২. সিফিলিটিক- নখ কাগজের মতো পাতলা, সহজেই ভেঙ্গে যায়।
৩. সাইকোটিক- নখ অসম, ফাঁটা ও বিবর্ণ। নখকুনি সুচ ফোঁটা ব্যথা, অঙ্গুলহাড়া
৪. টিউবারকুলার- নখভঙ্গুর, ফাঁটা ও কোকড়ান, নখের বিভিন্ন স্থানে সাদা সাদা দাগ।
★ চর্ম:★
১. সোরিক- ত্বক অপরিচ্ছন্ন, শুষ্ক, খসখসে, উদ্ভেদপূর্ণ বা উদ্ভেদশূন্য, জ্বালা। মাছের আঁশের মত উদ্ভেদ এবং বার বার চর্মরোগ প্রবণতা। চুলকানি।
২. সিফিলিটিক- ত্বকের যাবতীয় ক্ষত। ফোঁড়া ইত্যাদি ঘা সহজে সারে না। গ্রন্থিবৃদ্ধি ও প্রদাহযুক্ত। তাম্র বর্ণের যাবতীয় চর্মপীড়া। ক্ষতপ্রবণতা।
৩. সাইকোটিক- বিসর্পজাতীয় চর্মপীড়া। আঁচিল, টিউমার।
৪. টিউবারকুলার- চর্ম তৈলাক্ত, কাল দাগ পরে, গ্লান্ডের বৃদ্ধি, দাদ। মশা, মাছি বা ছাড়পোকার কামড়ে স্থানটি পেকে ওঠে। পুঁজযুক্ত উদ্ভেদ।
★. পার্শ্ব:★
১. সোরিক- শরীরের যে কোন দিকে আক্রমণ করে।
২. সিফিলিটিক- ডানদিকে আক্রমণ করে।
৩. সাইকোটিক- বামদিকে আক্রমণ করে।
৪. টিউবারকুলার- সর্বত্র আক্রমণ করে।
★হিসাব: ★
১. সোরিক- হিসাব করার সময় খেয়াল করে না ঠিক হলো কি ভুল হলো। আলস্যে ও দ্রুত শেষ করার প্রচেষ্টা।
২. সিফিলিটিক- চিন্তাশক্তির অক্ষমতার জন্য হিসাব-নিকাশে অক্ষম।
৩. সাইকোটিক- বারবার মিলিয়ে দেখে ভুল হলো কিনা।
৪. টিউবারকুলার- মাঝে মাঝে খুবই ভাল হিসাব করে আবার কখনও চিন্তাশক্তির অক্ষমতার জন্য হিসাব-নিকাশে অক্ষমতা দেখায়।
★ভয়: ★
১. সোরিক- নানা ভয় উৎকণ্ঠা আশঙ্কা ও হতাশা। রোগাক্রান্ত হলে মৃত্যু ভয়।
২. সিফিলিটিক- কুকুরের।
৩. সাইকোটিক- অন্ধকারের।
৪. টিউবারকুলার- ভয় বিশেষত কুকুর বা অন্য জন্তুর।
★.হত্যা: ★
১. সোরিক- রোগমুক্তি সম্বন্ধে আশাহীন।
২. সিফিলিটিক- আত্মবিতৃষ্ণায় আত্মহত্যার ইচ্ছা। খুন করতেও দ্বিধা করে না।
৩. সাইকোটিক- অনুতাপে আত্মহত্যার ইচ্ছা।
৪. টিউবারকুলার- আশাপূর্ণ ও নির্ভীক বা গর্বিত।
১৫. ক্ষুধা:
১. সোরিক- পেট ভর্তি থাকা সত্তে¡ও বার বার খাবার ইচ্ছা। খাওয়া সত্তে¡ও পেট খালি খালি মনে হয়।
২. সিফিলিটিক- খিদে কম বা বেশি কোনটাই সুস্পষ্ট নয়,
৩. সাইকোটিক- ক্ষুধামন্দা।
৪. টিউবারকুলার- বেশ ক্ষুধা বা রাক্ষুসে ক্ষুধা।
★লিঙ্গ:★
১. সোরিক- স্বপ্নদোষ। জননতন্ত্রের দুর্বলতা।
২. সিফিলিটিক- লিঙ্গমুন্ডেশক্ত বা নরম ক্ষত। সঙ্গমে অক্ষমতা।
৩. সাইকোটিক- জননযন্ত্রের আঁচিল, দুর্গন্ধযুক্ত স্রাব, গনোরিয়া, আকারগত পরিবর্তন।
৪. টিউবারকুলার- অবৈধ উপায়ে শুক্রক্ষয়ের প্রবণতা, প্রস্রাব করার সময় ক্ষয়।
★ শিশু:★
১. সোরিক- শিশু চর্মরোগসহ জন্ম হয়। জন্মের পর প্রস্রাব পায়খানা বন্ধ হয়।
২. সিফিলিটিক- ক্ষতসহ জন্ম। নাভি থেকে রক্ত পড়া বন্ধ হয় না। চোখে ক্ষত।
৩. সাইকোটিক- যে কোন প্রকারের অসম বৃদ্ধিসহ জন্ম। বৃদ্ধি জনিত বিকলাঙ্গ শিশু।
৪. টিউবারকুলার- শিশুর জন্মকালে বংশগত ক্ষয়রোগের ইতিহাস থাকে।
★ক্রিয়াস্থল:★
১. সোরিক- সোরার ক্রিয়া চিন্তা ধারার উপর (বায়ু)।
২. সিফিলিটিক- সিফিলিসের ক্রিয়া যকৃতের উপর (পিত্ত)।
৩. সাইকোটিক- সাইকোসিসের ক্রিয়া অন্ত্র ও সন্ধি পথে (কফ)
৪. টিউবারকুলার- টিউবারকুলোসিসের ক্রিয়া ফুসফুস, সেরাস মেমব্রেন, গ্রন্থি, অন্ত্র, হাড়।
★ দেখতে:★
১. সোরিক- মুখমন্ডলের বিবর্ণতা ও চক্ষুদ্বয়ের উজ্জ্বলতার অভাব, মুখমন্ডলের লাবণ্যহীনতা
২. সিফিলিটিক- বিকলাঙ্গ, আবার অনেকের দেহ শুকিয়ে যায়।
৩. সাইকোটিক- রক্তস্বল্পতার কারণে মুখমন্ডল মলিন ও ফ্যাকাসে দেখায়।
৪. টিউবারকুলার- যথেষ্ট খাবার গ্রহণের পরেও কোন কারণ ছাড়াই শীর্ণতা।
★ মন: ★
১. সোরিক- মন চঞ্চল ও পরিবর্তনশীল। সহজেই হাঁসে, কাঁদে, উত্তেজিত ও অবসন্ন হয় কখনও কামভাব আবার পরক্ষণেই বৈরাগ্য।
২. সিফিলিটিক- মুর্খতা, অজ্ঞতা, বোকামি, একগুয়েমি ও নৈরাশ্য। সব সময় তিক্ততা, অতৃপ্তি। বুদ্ধির খর্বতা।
৩. সাইকোটিক- সন্ধিগ্ধমনা, সঙ্কোচপরায়ণ। গোপনপ্রিয়, মিথ্যাবাদী, আত্মবিশ্বাস বা অপরের প্রতি বিশ্বাসের অভাব। সন্দেহবশে রাতে উঠে দরজার খিল পরীক্ষা করে।
৪. টিউবারকুলার- নিত্যনতুন অভিরুচি, যেন কিছুতেই শান্তি নাই।