এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

শনিবার, ৯ মে, ২০২৬

সকাল ০৭টার বাংলা সংবাদ তারিখ:০৮-০৫-২০২৬ খ্রি:।

 সকাল ০৭টার বাংলা সংবাদ

তারিখ:০৮-০৫-২০২৬ খ্রি:।


আজকের শিরোনাম:


হাওর অঞ্চলে ভারী বর্ষণে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তায় দ্রুত পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।


প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির বৈঠকে বগুড়া সিটি কর্পোরেশনসহ পাঁচটি নতুন উপজেলা গঠনের প্রস্তাব অনুমোদন।


ঈদ-উল আজহা উপলক্ষে আগামী ২৫ থেকে ৩১শে মে পর্যন্ত সাত দিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা ।


আগামী ৭ই জুন বসবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশন।


সরকার গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ করতে চায় না, বরং একটি সুষ্ঠু ও স্বাধীন কাঠামোর মধ্যে আনতে চায় -বললেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী।


বিভিন্ন আয়োজনে দেশে আজ পালিত হচ্ছে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫তম জন্মবার্ষিকী। 


ইরানে আবারো গোলাগুলির ঘটনা - যুদ্ধ বিরতি লঙ্ঘনের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ তেহরান ও ওয়াশিংটনের।


মিরপুরে দুই ম্যাচ টেস্ট সিরিজের প্রথমটিতে আজ সফরকারী পাকিস্তানের মুখোমুখি হচ্ছে বাংলাদেশ।

রাত ৮টা ৩০ মিনিটের সংবাদ তারিখ ০৭-০৫-২০২৬

 রাত ৮টা ৩০ মিনিটের সংবাদ

তারিখ ০৭-০৫-২০২৬


আজকের সংবাদ শিরোনাম


দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান কঠোর --- টিআইবি’র নির্বাহী পরিচালকের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে বললেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।


প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির বৈঠকে বগুড়া সিটি কর্পোরেশনসহ পাঁচটি নতুন উপজেলা গঠনের প্রস্তাব অনুমোদন।


আগামী ৭ই জুন বসবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশন।


পুলিশের ওপর জনগণের আস্থা তৈরি হওয়ায় পর্যায়ক্রমে মাঠ থেকে সেনাবাহিনী সরিয়ে নেওয়া হবে --- জানালেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।  


সরকার গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ করতে চায় না, বরং একটি সুষ্ঠু ও স্বাধীন কাঠামোর মধ্যে আনতে চায় --- বললেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী।


দেশে একদিনে হামের উপসর্গ নিয়ে আরো ১২ শিশুর মৃত্যু।


দেশে নানা আয়োজনে আগামীকাল পালিত হবে বিশ্ব কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫তম জন্মবার্ষিকী।


যুক্তরাজ্য জুড়ে ভোটাররা আজ স্থানীয় নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন।


এবং আগামীকাল মিরপুরে স্বাগতিক বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে দুই ম্যাচ টেস্ট সিরিজের প্রথমটি শুরু হবে।

সকাল ০৭টার বাংলা সংবাদ তারিখ:০৭-০৫-২০২৬ খ্রি:।

 সকাল ০৭টার বাংলা সংবাদ

তারিখ:০৭-০৫-২০২৬ খ্রি:।


আজকের শিরোনাম:


রাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সম্পদ হলো জনগণের বিশ্বাস, তাই দেশ ও জনগণের কল্যানে নির্ভয়ে নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে ডিসি ও বিভাগীয় কমিশনারদের প্রতি আহ্বান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের।


চারদিনব্যাপী জেলা প্রশাসক সম্মেলন শেষ হলো গতকাল - অন্তর্বর্তী সরকারের সময় করা সকল মামলা যাচাই-বাছাই করে আগামী এক মাসের মধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠাতে জেলা প্রশাসকদের নির্দেশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর।


গুজব ও অপতথ্য প্রতিরোধে সরকার একটি সমন্বিত উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে -ডিসি সস্মেলনে বললেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী।


বায়ু দূষণ রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নজরদারি বাড়াতে জেলা প্রশাসকদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে -ব্রিফিংয়ে বললেন পরিবেশ মন্ত্রী।


দেশে ১৫ লাখ ডোজ হামের টিকা এসেছে, ভবিষ্যতে টিকার আর কোনো সংকট হবে না - জানালেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী।


ইরানের সঙ্গে দ্রুতই একটি চুক্তি সম্ভব বলে মন্তব্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের।

রাত ০৮:৩০ মিনিটের বাংলা সংবাদ তারিখ: ০৬-০৫-২০২৬ খ্রি.

 রাত ০৮:৩০ মিনিটের বাংলা সংবাদ

তারিখ: ০৬-০৫-২০২৬ খ্রি.


আজকের শিরোনাম: 


চারদিনব্যাপী জেলা প্রশাসক সম্মেলন  শেষ হলো আজ - অন্তর্বর্তী সরকারের সময় করা সকল মামলা যাচাই-বাছাই করে আগামী এক মাসের মধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠাতে জেলা প্রশাসকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে - জানালেন  স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।


গুজব ও অপতথ্য প্রতিরোধে সরকার একটি সমন্বিত উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে - ডিসি সস্মেলনে বললেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী।


বায়ু দূষণ রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নজরদারি বাড়াতে জেলা প্রশাসকদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে  - ব্রিফিংয়ে  বললেন পরিবেশ মন্ত্রী।


দেশে ১৫ লাখ ডোজ হামের টিকা এসেছে, ভবিষ্যতে টিকার আর কোনো সংকট হবে না  - জানালেন স্বাস্থ্য  ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী ।


পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় উপসাগরীয় অঞ্চলে চলমান যুদ্ধ অবসানে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের খুব কাছাকাছি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান।


ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা দ্বীপে সড়ক দূর্ঘটনায় কমপক্ষে ১৬ জন নিহত।


আগামীকাল ঢাকা ও এর আশপাশের বিভিন্ন মাঠে অনুষ্ঠিত হবে ঢাকা প্রিমিয়ার লীগ ক্রিকেটের বেশ কয়েকটি খেলা।

মাসনা, সুলাসা, রুবা' حامدا ومصليا أما بعد শরীআতের সকল বিষয় সুস্পষ্ট বর্ণিত ও নির্ধারিত।  বিবাহ ও একাধিক বিবাহের বিধানও নির্ধারিত।

 মাসনা, সুলাসা, রুবা'


حامدا ومصليا أما بعد

শরীআতের সকল বিষয় সুস্পষ্ট বর্ণিত ও নির্ধারিত।  বিবাহ ও একাধিক বিবাহের বিধানও নির্ধারিত। এই অবধারিত বিধান নিয়ে বাড়াবাড়ি করা এবং এর স্তরকে উপরে উঠানো বা নিচে নামানো এমনকি ফকীহ ও মুজতাহিদগণের মতামত উপেক্ষা করে নিজের মত ব্যাখ্যা করা সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শরীআত বিরোধী কাজ। 


এ ব্যাপারে কুরআন সুন্নাহ ও মুজতাহিদ ইমামগণের মতামতের আলোকে আলোকপাত করা হলো:-


আল্লাহ তা'আলা বলেন-

تلك حدود الله فلا 

تعتدوها ومن يتعد حدود الله فاولئك هم 


এইসব আল্লাহ্ র সীমারেখা। তোমরা তা লংঘন কর না। যারা এইসব সীমারেখা লংঘন করে তারাই জালিম। (আল বাকারা ২২৯)


তিনি অন্যত্র বলেন-


‎ولا تعتدوا ان الله لا يحب المعتدي


কিন্তু সীমালংঘন কর না। নিশ্চয়ই আল্লাহ্ সীমলংঘন-কারিগণকে ভালবাসেন না। (আল বাকারা ১৯০)


🔹একাধিক বিবাহের বৈধতা নিয়ে কারো কোন আপত্তি নেই বরং একাধিক বিবাবহকে অবৈধ মনে করাই কুফর।


মূলতঃ বিতর্কটা হচ্ছে শরীয়তে একাধিক বিবাহের স্তর, গুরুত্ব এবং এর সার্বজনীনতা নিয়ে। আমরা যখন মুজাকারা মুনাকাশা করবো তখন আমাদের উচিত হবে কোন কথার ভিত্তিতে আলোচনা চলছে তা লক্ষ রাখা। অন্যথায় অন্যের উপরে অন্যায় ভাবে দোষ চাপানো হবে......


🔹সম্প্রতি আমরা যা লক্ষ করছি, যারা একাধিক বিবাহ করেছেন এবং যারা এর সার্বজনীনতা দেওয়ার আন্দোলন করছেন তাদের বাড়াবাড়ি এমন চরমে পৌঁছেছে যে, যারা একাধিক বিবাহ করেনা বা করার পক্ষে না তাদেরকে নিয়ে নানা ধরণের বাজে ও অশালীন মন্তব্য করে।

 যেমন, তারা প্রকৃত শাইখ নয়, প্রকৃত আলেম নয়, তারা কা-পুরুষ, ভীতু ইত্যাদি।  

এগুলো সবই শরীয়তের দৃষ্টিতে চরম সীমালঙ্ঘন। আর আল্লাহ সীমালঙ্ঘনকারীকে পছন্দ করেন না। (আল কুরআন) 


আমাদের আলোচনা চলছিল শরীয়তে একাধিক বিবাহের অবস্থান কী? তা নিয়ে। 

 আমরা শক্তিশালী দলীল দ্বারা জানতে পারি যে, শরীয়তে একাধিক বিবাহের অবস্থান হলো, তা মুবাহ বা জায়েজ এবং এক বিবাহই সুন্নাত। 


🔹আমাদের আরেকটা আলোচনা ছিল যে, আল্লাহ তা'আলা একাধিক বিবাহের অনুমতি দিয়ে আবার সতর্ক করেছেন। যা অনুৎসাহের নামান্তর।

 মুফাসসির ও মুহাদ্দিসগণ এই ব্যাখ্যাই করেছেন।


🔹আমরা এটাই বলতে চাই যে, যার প্রয়োজন হয় সেএকাধিক বিবাহ করবে। যেহেতু আল্লাহ অনুমতি দিয়েছেন। যেমন অনেক ক্ষেত্রে আল্লাহ বলেছেন: "তোমরা খাও, পান করো কিন্তু অপচয় করো না" (আল কুরআন) 

এখন যার যেই পরিমান দরকার সে সেই পরিমান খাবে। 

এখানে বেশি খাওয়ায় সুপুরুষ আর কম খাওয়ায় কাপুরুষ হওয়ার দালালাত করেনা। 

বরং এখানে সতর্কীকরণনের বিষয়টা গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণীয় । আর তা হচ্ছে, তুমি খাও বা না খাও তাতে সমস্যা নেই কিন্তু 'অপচয়' করাই যাবেনা।

তদ্রুপ একাধিক বিবাহ করো বা না করো কোন সমস্যা নেই কিন্তু বেইনসাফি করাই যাবেনা। এখানেও নিষিদ্ধ বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। অর্থাৎ বেআদল বেইনসাফি। 


এখানে একাধিক স্ত্রী যারা গ্রহন করেনা বা করেনি তারা কোনভাবেই দুষি বা অন্যায়কারী নয়। যদিও তার সামর্থ থাকে। এমনকি কারো একাধিক স্ত্রীর প্রয়োজন হওয়ার পরেও সে তারা ইচ্ছা দমিয়ে রেখে সবর করে। সেও অপরাধী নয়। রবং সে সাওয়াবের অধীকারী হবে। 

তবে হ্যা গুনাহ থেকে বাঁচার এ ছাড়া আর কোন উপায় না পেলে তার জন্য একাধিক বিবাহ করতে পারে। তবে এমনটি দুর্লভ ব্যাপার। 


🔹শুধু ইমাম শাফেয়ী নন বরং সব ইমামই এই ব্যাপারে একমত যে একাধিক বিবাহ বৈধ। তবে এক বিবাহ সুন্নাত ও উত্তম। 

তাঁরা বিবাহ সংক্রান্ত আয়াত ও হাদিসকে এভাবে বুঝেছেন। যার অসংখ্য দলীল আছে। প্রমান লাগলে আবার দিতে পারবো ইনশাআল্লাহ। 


 কিন্তু আমরা ইজতেহাদের আহল না হয়েও নিজেদেরকে অনেক কিছু মনে করে একটু বেশি বুঝার চেষ্টা করছি! কেমন যেন নিজেরাই আলাদা মাজহাব তৈরি করতে চাই!


🔹এবার আসি গুনাহ সম্পর্কে 


গুনাহ বলতে আমরা যদি শুধু ব্যবিচারকে বুঝি তাহলে তা সঠিক নয়। ব্যবিচারের চেয়েও বড় গুনাহ আছে কিন্তু আমাদের এই বদ্ধমূল ধারণা তৈরি হয়েছে যে, ব্যবিচার ছাড়া আর কোন গুনাহ নেই। থাকলেও তেমন গুরুতর নয়। গুনাহের ব্যপকতাকে সংকীর্ণ করে আমরা মূলতঃ অন্য গুনাহকে শিথিল করছি বরং আড়াল করছি। 


🔹আচ্ছা ব্যবিচার নিয়েই বলি। 

ব্যবিচার থেকে বাঁচার কুরআন হাদিসের কী নির্দেশনা আছে? 

আল্লাহ তা'আলা বলছেন-

إن الصلاة تنهي عن الفحشاء والمنكر 

'নিশ্চয়ই নামাজই মানুষকে অশ্লীলতা (ব্যবিচার) থেকে ফেরাতে পারে।'

ব্যবিচার ও যাবতীয় গুনাহের ঢাল হলো তাকওয়া। আর তাকওয়া হাসিল হয় নামাজের মাধ্যমে এবং তাকওয়া হাসিলের জন্য সাদিকীন তথা আল্লাহ ওয়ালাদের সোহবতে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। 

ব্যবিচার থেকে বাঁচার জন্য আল্লাহ নজরের হেফাজত ও পর্দার বিধান দিয়েছেন। 

এখন আল্লাহ দেওয়া উপায়গুলো না খুঁজে শুধু বিবাহ করলেই কি ব্যবিচার থেকে বাঁচা সম্ভব? 


আল্লাহর দিকনির্দেশনার চেয়ে নিজেদের অভিজ্ঞতাকে বড়ো করে তোলা নির্ঘাত অন্যায়।

তাকওয়ার অন্যসব পন্থা অবলম্বন না করে 100টা বিয়ে করলেও ব্যবিচার থেকে বাঁচা সম্ভব নয়। 

কারন ব্যবিচারের সূচনা তো অন্তরে সৃষ্টি হয়। সেই অন্তরকে যদি শুদ্ধ না করা হয় তার ব্যবিচার চলমান থাকবে। 


🔹এটা বর্তমান সামাজিক ব্যধি যে, একটা সময় গিয়ে নিজের রুপসী ও গুণবতী স্ত্রীকে আর ভাল লাগেনা। সে স্থানে অন্যের স্ত্রী বা অন্য নারী যতই নিম্নমানের হোক তাকে ভাল লাগে! আর এটা সংক্রামক রোগের মত সবার মাঝে ছড়িয়ে পড়ছে। 

এই ব্যধি কি একাধিক বিবাহ না করার কারনে সৃষ্টি হচ্ছে? কস্মিনকালেও না। বরং এর প্রধান কারন হলো, নজরের হেফাজত না করা, আত্মার পরিশুদ্ধি না করা। 

আল্লাহ পাক নজরকে ব্যবিচারের প্রধান ও প্রথম কারন সাব্যস্ত করেছেন।


🔹অনেক বক্তা ও আলেম নাকি আপত্তি করেছেন যে, তারা কোনভাবেই জেনার গুনাহ থেকে বাঁচতে পারছেন না! এমনকি কোন বুজুর্গের সাথে ইসলাহী সম্পর্ক করেও কোন লাভ হচ্ছেনা!!


  আসলে কথা হলো,  সব বক্তা, মুহাদ্দিস, ইমাম, খতীব কি নজরের হেফাজ করে চলে? বরং এরা নারীদের সর্বাধিক লালসার শিকার! বাজার,রাস্তাঘাট, গাড়িঘোড়া মোবাইল কোথাও কি নজর হেফাজত হচ্ছে? 

অনেক বড়বড় বক্তা ও কথিত শাইখের সাথে চলে দেখেছি, নামাজের ইহতেমাম নেই, মুআমালা মুআশারার খবর নেই, তাকওয়ার বালাই নেই, আমল ও সুন্নাতের খবর নেই। এমন শাইখরা 100 বিয়ে করলে কি তারা ব্যবিচার থেকে বাঁচতে পারবে? যদিও কথাগুলো তিক্ত কিন্তু বাস্তব!

 

ভাইরাল বক্তাকে মহিলারা মাসআলা জিজ্ঞাসা করার সুরতে ফোন দিবে কিন্তু উদ্দেশ্য থাকে ভিন্ন। নূরানীর শিক্ষককে গার্ডিয়ান এই অজুহাত সেই অজুহাতে ফোন দিবে। দোকানদার কত সুন্দরী কাস্টমার দেখে। অনেকের সাথে মিষ্টি কথা হয়। আবার অনেকের সাথে যোগাযোগ ও হয় ধীরে ধীরে তা অন্যদিকে গড়ায়। সে ৪ বিয়ে করলেও এই মসীবতের সম্মুখীন হবে!

অনেক সময় দেখা যায় শারীরিক সক্ষমতা নেই তবুও একাধিক নারীতে আকৃষ্ট।  এগুলো কিসের কারনে? নিশ্চয় আল্লাহর দেওয়া পথ পরিহার করার কারনে। সুতরাং রোগের আসল কারন উদঘাটন না করে ওষুধ প্রয়োগ করলে রুগী সুস্থ হওয়ার পরিবর্তে মারা যাবে। 


🔹আসলে বেপর্দা বা বদ নজরের কারনে অন্য নারীতে আকৃষ্ট হওয়ার ফলে নিজের মাঝে সৃষ্টি হয় বৈরিতা। তৈরি হয় অশান্তি। তখন সে শান্তির খোজে আরেক নারী খোঁজে। আচ্ছা এই অবস্থায় কি সে তার ১ম স্ত্রীর প্রতি ইনসাফগার হতে পারবে?  নাকি যুলুমের মাত্র আরো বড়বে? কিভাবে আপনি আদল কায়েম করবেন? আমাদের দেশে ১০০% এর মধ্যে ৯০ জন একাধিক বিবাহকারী স্বামী পুরাতন স্ত্রীকে সীমাহীন যুলুম করে। তাকে কষ্ট দেয়। ঠিকমত কসামা বা বারি বন্টন করেনা।

কুরআন কি এর অনুমতি দেয়? 

শুধু স্টেইজে গলাবাজি করলেই  ইনসাফ প্রতিষ্ঠা হয়ে যায় না। 

তাছাড়া মানুষকে আকৃষ্ট করতে নিজের জীবনের বানানো গল্প বললে মানুষের বাহবা পাওয়া যাবে কিন্তু সেই সাথে এটাও মনে রাখতে হবে যে, আল্লাহ আগুনের কাঁচি দ্বারা জিহ্বা কাটবেন। এ থেকে বাঁচা যাবে না। (এটা কাউকে খাছ করে নয় বরং এমনটি হয়ে থাকে)


🔹এবার আসি ব্যবিচারের চেয়ে গুরুত্বর গুনাহ নিয়ে দুএকটি কথা:


আমরা সাধারণত চারিত্রবান বলি তাকে যে নারীঘটিত বিষয়ে জড়িত হয়না। 

অথচ তার নামাজ রোজা হজ যাকাত তথা দীনের কেন বালাই নেই। তবে কি ব্যবিচার থেকে বাঁচাই একমাত্র চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য? 

কুরআন হাদিসের আলোকে উলামায়ে কেরামের মত থেকে জানা যে, শুধুমাত্র ব্যাবিচারীকে দুশ্চরিত্র বলা হয়না বরং দুশ্চারিত্র হলো নামাজ সহ যাবতীয় ফারায়েজ রতককারী। কারন নামাজ ও অন্যান্য ফারায়েজ পরিত্যাগ করা এবং হারাম ও নিষিদ্ধ কাজ বর্জন না করার কারনেই ব্যবিচারের সৃষ্টি হয়। 

তাফসীরের কিতাবে আছে, আল্লাহ তা'আলা ইবরাহীম আ.কে বলেছেন, নামাজ ছেড়ে দেওয়ার জেনার চেয়ে বড় অপরাধ।

হাদিসে আছে 'গীবত জেনার চেয়ে ভয়ানক।'

এক হাদিসে আছে 'গান জেনার মন্ত্র'

এমন আরো অনেক গুনাহ আছে যার সম্পর্কে কুরআন হাদিস ব্যাবিচারের চেয়েও গুরুতর বলেছে। 


এখন যেসব লোক ব্যাবিচার সৃষ্টি হওয়ার সব রাস্তা খোলা রেখে শুধু বিবাহ দিয়ে গুনাহ থেকে বাঁচতে চায়, সে গ্লাস দিয়ে সমুদ্র সেচার চেষ্টা করলো। সে ১০০ বিয়ে করলেও গুনাহ থেকে বাঁচতে পারবেনা। 


কত বড় ভুল কথা যে আল্লাহ ওয়ালাদের সোহবতে থেকেও গুনাহ থেকে বাঁচতে পারেনা! আসলে সে সোহবত উঠায়নি, নিজেকে সেখানে নিমগ্ন করেনি। শাইখের হেদায়েত মত চলেনি। তাহলে তার ইসলাহ হবে কীভাবে? আল্লাহ ওয়ালাদের সোহবতে গিয়ে নিজেকে খাটি করা তো কুরআনের বিধান। এখানে কেন তার সংশোধন হবেনা। তাহলে নিশ্চয়ই তার কোন ঘাপলা আছে। 

অথবা সে يضل به كثيرا মিসদক। কিংবা فزادهم الله مرضا এর মিসদাক! 

নতুবা আল্লাহর দেওয়া সলিউশনে কেন কাজ হয়না এবং এর পরিবর্তে নিজের মত বাস্তবায়ন করতে হবে কেন?


আমি বহু মেধাবী আলেমদের দেখেছি বুজুর্গদের মজলিসে গিয়ে ছুটাছুটি করে, তাকাব্বুরী আর বেপরোয়া ভাব দেখিয়ে উঠে আসে। তার তো ইসলাহের ইচ্ছা নেই! তাহলে তার ইসলাহ হবে কীভাবে? সে গুনাহ ছাড়বে কীভাবে? বিয়ে তো গুনাহ ছাড়ার একটি ক্ষুদ্র মাধ্যম! আসল তো হলো তাকওয়া হাসিলের মেহনত করা!!

আহ এসব তরুণ আলেমরা কেন অন্ধ হয়ে আছে! 


🔹এবার ইমামগণের ইজমা এর আলোকে প্রমান করার চেষ্টা করবো, একাধিক স্ত্রী রাখা শুধুমাত্র বৈধ। তা উত্তম বা সুন্নাত নয়। বরং সুন্নাত হলো এক স্ত্রী রাখা।


1. ফিকহে হানাফীর নির্ভরযোগ্য কিতাব 


▪️হানাফি মাজহাবের ফকোয়ার নির্ভযোগ্য কিতাব 'ফতোয়ায়ে হিন্দিয়া'তে আছে-

যদি কোন পুরুষের একজন স্ত্রী থাকে এরপরও একাধিক স্ত্রী গ্রহন করতে চায় কিন্তু উভয়ের মাঝে ইনসাফ প্রতিষ্ঠা না হওয়ার আশঙ্কা করে তাহলে তার জন্য একাধিক বিবাহ হারাম। আর যদি ইসসাফ প্রতিষ্ঠায় আত্মবিশ্বাসী হয় তাহলে বৈধ। তবে (ইনসাফে আত্মবিশ্বাসী হলেও) একাধিক বিবাহ পরিহার করা এবং এক স্ত্রী গ্রহন করা উত্তম। এতে স্ত্রীকে দুঃখ ও কষ্ট না দেওয়ার কারনে সে সাওয়াবের অধিকারী হবে। (ফতোয়ায়ে হিন্দিয়া ১/৩৪১)


وجاء في الفتاوى الهندية: إذا كانت للرجل امرأة وأراد أن يتزوج عليها أخرى، وخاف أن لا يعدل بينهما لم يجز له ذلك، وإن كان لا يخاف جاز له، والامتناعُ أولى، ويُؤجر بترك إدخال الغم عليها


يُنْظَر: لجنة علماء برئاسة نظام الدين البلخي، الفتاوى الهندية، (1/ 341).


▪️হনাফি ফিকহের বড় ফকীক ইমাম ইবনে নুজাইম রহ. তদীয় কিতাব 'আন নাহরুল ফায়েক শরহু কানযিদ দাকায়েক' এ লেখেন- একাধিক বিবাহ পরিত্যাগ করার মাধ্যমে যদি স্ত্রীকে দুঃখ মুক্ত ও খুশি রাখা যায় তবে তা অতন্ত্য সাওয়াবের কাজ। স্ত্রীকে দুঃখিত না করা ইবাদত। সর্বপোরি এক স্ত্রী রাখাই উত্তম। ইমাম আবু হানিফা রহ. স্বাধীন ব্যক্তির জন্য এক বিবাহকেই উত্তম হিসেবে গ্রনহ করেছেন 

(আন নাহরুল ফায়েক শরহু কানযিদ দাকায়েক বৈরুত ২/১৯৭)


وقال سراج الدين ابن نُجيم رحمه الله «ت 1005هـ»: لو لم يزد على واحدة كي لا يدخل الغم على ضعيف القلب ورَقَّ عليها فهو مأجور، وتركُ إدخال الغم عليها يُعد من الطاعة، والأفضل الاكتفاء بواحدة


يُنْظَر: ابن نجيم، النهر الفائق شرح كنز الدقائق، تحقيق: أحمد عزو عناية، طبعة: دار الكتب العلمية- بيروت، ط1، 1422هـ، 2002م، (2/ 197).

2. ফিকহে শাফেয়ী 

ইমাম শাফেয়ী রহ. বলেন সুরা নিসা এর ৩ নং আয়াতের আলোকে আমি মনে করি এক বিবাহ করাই উত্তম (আল হাবী আল কাবীর ১১/৪৭১, আল বায়ান ১১/১৮৯)

উল্লেখ্য : শাফেয়ী মাজহাবের বড়ো বড়ো বিদ্বানগণ একই মত পোষণ করেছেন। সেগুলো আর উল্লেখ করলাম না। 

মনে রাখতে কোন ইমামের মাজহাব না মানার অর্থ এই নয় যে তার সব মত ভুল! বরং সকল আহলে হক ইমামের মতকে শ্রদ্ধা করতে হবে। কখনো দেখা যায় অন্য ইমাম মত হানাফী মাজহাবের সমাধান দেওয়া হচ্ছে। আবার ইমাম আবু হানীফা রহ. মত দ্বারা শাফেয়ী মাজহাবের সমাধান দেওয়া হচ্ছে।  এর নজীর ভারিভুরি আছে। 


‎قال الشافعي رحمه الله «ت 204هـ»: أُحب له أن يقتصر على واحدة وإن أبيح له أكثر؛ لقوله تعالى: ﴿ فَإِنْ خِفْتُمْ أَلَّا تَعْدِلُوا فَوَاحِدَةً ﴾ [النساء: 3]


‎يُنظَرُ: الماوردي، الحاوي الكبير في فقه مذهب الإمام الشافعي، (11/ 417)،والعمراني، البيان في مذهب الإمام 

‎الشافعي، (11/ 189).


3. হাম্বলী মাজহাবে ফকীহ মিরাদবী বলেন: মুস্তাহাব হলে একের অধিক বিবাহ না করা যদি তার দ্বার আব্রু রক্ষা হয় (এবং শুধুমাত্র বিলাসিতা না হয়) এটিই সঠিক মত (আল ইনসাফ বৈরুত ২০/২৫)


‎وقال المرداوي الحنبلي رحمه الله «ت 885هـ»: يستحب أن لا يزيد على واحدة إن حصل بها الإعفاف على الصحيح من المذهب


‎يُنظَرُ: المرداوي، الإنصاف في معرفة الراجح من الخلاف، (20/ 25)، وتصحيح الفروع، مطبوع مع كتاب الفروع، لابن مفلح، تحقيق: عبد الله بن عبد المحسن التركي، طبعة: مؤسسة الرسالة- بيروت، ط1، 1424هـ، 2003م، (9/ 90).


🔹 যারা একসাথে একাধিক স্ত্রী রাখা মুস্তাহাব বা সুন্নাত বলে তাদের মতামতের অবস্থা জেনে আসা যাক। 

কোন আহলে হক ইমাম এই মত পোষণ করেন না। এটি ফেরাকে বাতেলার জাহিরিয়াদের মত। 

তারা বলেন, একত্রে চার স্ত্রী রাখা সুন্নাত। 

তাদের দলীল: 

১- নবীজী সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর একাধিক স্ত্রী ছিল। তিনি একটাতে সীমাবদ্ধ ছিলেন না। তাঁর ওফাতের সময়ও নয়জন স্ত্রী ছিল। 


এই দলীলের খন্ডন: এর দ্বারা দলীর প্রদান করা ভুল। কারন, এটা নবীজীর বৈশিষ্ট্য। নবীজী বেইনসাফি ও যুলুম থেকে সম্পূর্ণ  মাসুম। কিন্তু উম্মত তা থেকে মুক্ত নয়। তার দ্বারা যুলুম হবেই।

২- তাদের দ্বিতীয় দলীল: 

নবীজী স. এর একটি হাদিস-

‎قول النبيِّ صلى الله عليه وسلم: «تَنَاكَحُوا تَكْثُرُوا»

'তোমরা বিবাহ করতে থাকো আর সন্তান জন্ম দিতে থাকো' মুসান্নাফে আব্দির (রাযযাক -১০৩৯১  , বাইহাকী-১৩৪৪৮, ইবনে মাজাহ-১৮৬৩) 


এই দলীলের খন্ডন:

উক্ত হাদিসের সব সনদই যঈফ/দূর্বল। বিবাহ আহকামের অন্তর্ভুক্ত। আর আহকাম যঈফ হাদিস দ্বারা সাবেত হয়না। 


এরপরও আমরা গোড়ামী ও অহংকার বশতঃ নিজেদের মত প্রতিষ্ঠায় লিপ্ত থাকবো? আকাবীর উলামায়ে কেরামের চেয়ে নিজেদেরকে বেশি পন্ডিত মনে করবো?

তাহলে আর বলার কিছু নেই। 


আমার এসব কথা একক কাউকে উদ্দেশ্য করে নয়। কারণ এখানে আমি সবচেয়ে দুষি , গুনাহগার ও অজ্ঞ। কেউ আমার কথায় কষ্ট পেলে ক্ষমা করবেন এবং ইসলাহ করবেন। আমি মাথা পেতে নেওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা করবো।  


وما توفيقي إلا بالله والسلام عليكم ورحمة الله 


إن أصبت فمن الله وإخطأت فمني ومن الشيطان 


وصلي الله وسلم علي النبي الكريم

চাচা মিসবাহ উদ্দিনের ফেইসবুক থেকে নেওয়া 

শুক্রবার, ৮ মে, ২০২৬

নারী স্বাস্থ্য সচেতনতা: মহিলা প্রজননতন্ত্রের রহস্য উদঘাটন

 নারী স্বাস্থ্য সচেতনতা: মহিলা প্রজননতন্ত্রের রহস্য উদঘাটন 🌺

আমাদের শরীরের প্রতিটি অংশই অবিশ্বাস্যভাবে সুনির্দিষ্ট এবং জটিল, বিশেষ করে যখন এটি প্রজনন স্বাস্থ্যের কথা বলে।

 আজকের এই পোস্টটি মহিলা প্রজননতন্ত্রের গঠন এবং এর বিভিন্ন অংশের কার্যকারিতা সম্পর্কে একটি প্রাথমিক ধারণা দিতে সাহায্য করবে। এটি কেবল একটি ছবি নয়, এটি একটি জ্ঞান অর্জনের যাত্রা। আসুন জেনে নেই এই গুরুত্বপূর্ণ 


অঙ্গগুলোর পরিচয়: ⬇️

1️⃣ জরায়ু (Uterus) 🏠: ভ্রূণ রোপন এবং গর্ভধারণের স্থান। এই জরায়ুর মাধ্যমেই জীবনের সূচনা হয়।

2️⃣ ডিম্বাশয় (Ovary) 🥚: ডিম্বাণু তৈরির কেন্দ্র এবং হরমোন উৎপাদনের স্থান। এটি নারী দেহের অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ।

3️⃣ ফলোপিয়ান টিউব (Fallopian Tube) 🛤️: ডিম্বাশয় থেকে জরায়ুতে ডিম্বাণু যাতায়াতের পথ। এই টিউবেই সাধারণত শুক্রাণু এবং ডিম্বাণুর মিলন ঘটে।

4️⃣ জরায়ুর গ্রীবা (Cervix) 🚪: জরায়ুর নিচের অংশ যা যোনিপথের সাথে সংযুক্ত থাকে।

5️⃣ যোনিপথ (Vaginal Canal) 🛤️: মাসিকের রক্ত প্রবাহ এবং প্রসবের পথ।

6️⃣ শারীরবৃত্তীয় নিঃসরণ (Physiological Secretion)


 💧: যোনিপথের সুস্থতা এবং পিচ্ছিলতা বজায় রাখার জন্য একটি স্বাভাবিক ও প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া।


🔬 প্রধান পর্যবেক্ষণ (Key Findings):

এই চিত্রে আমরা তন্তুযুক্ত টিস্যু (Fibrous Tissue) এবং ফলোপিয়ান টিউবের বিস্তারিত গঠন দেখতে পাচ্ছি, যা চিকিৎসার গবেষণার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

আপনার শরীরের প্রতিটি পরিবর্তনকে বুঝুন এবং সুস্থ থাকতে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করান। আপনার সচেতনতাই আপনার সুস্থতার মূল চাবিকাঠি। 🩺✨

এই পোস্টটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করে সচেতনতা বৃদ্ধি করুন। 🤝


ছবি সৌজন্যে: Jewel Jeni


#মহিলাপ্রজননতন্ত্র #নারীস্বাস্থ্য #স্বাস্থ্যসচেতনতা #গায়নিকোলজি #গবেষণা #শারীরবিদ্যা #শিক্ষামূলক #সচেতনহন #সুস্থথাকুন #FemaleReproductiveSystem #Gynecology #WomenHealth #Awareness

বৃহস্পতিবার, ৭ মে, ২০২৬

নড়াইল জেলার  লোহাগড়ার ইতনার পরীর খাটের ইতিহাস ---

 নড়াইল জেলার  লোহাগড়ার ইতনার পরীর খাটের ইতিহাস ---


পরীর খাটটি বাংলাদেশের জাদুঘরে দেখে থাকলেও ইতিহাস আমরা অনেকেই জানি না।


নাটোরের মহারানী ভবানী ও নড়াইলের জমিদার। তার নাতনির জন্য শুরু হল "পরীর খাট"তৈরির কাজ।একটানা কাজ করছে কাঠ মিস্ত্রি যে করেই হোক তৈরি করতেই হবেই পরীর খাট,কাজ শেষ হবার কোন লক্ষণ রানী ভবানী দেখতে পেল না,মনে হলো তাজমহল তৈরি হচ্ছে।শুধু টুকটাক হাতুড়ির শব্দ শোনা ছাড়া কিছুই নজরে এলো না।টানা আটটি বছর ধরে খাটের কাজ চললো ত্রিশজন মিস্ত্রি এই কাজ করলো।এক সময় রানীকে দেখানো হলো পরীর খাট।লক্ষণীয় হলো চারটি পরীর একই চেহারা,উচ্চতা,হাতের মাপ,পায়রে মাপ একই।

একটি কে সরিয়ে অন্যটি দেখলে একটাই মনে হবে।কি নিখুঁত কোকড়ানো চুলের বাহার,হাতের পিছনে পরীর পাখা,চোখের পাতা,হাতের নখ,

পায়ের নখ,হাতে গাদা ফুল,কাপড়ের ডিজাইন 

দেখলে মনে হবে বর্তমান সময়ের আধুনিক ডিজাইনাররা এই পোষাকের ডিজাইন করেছে,

একেবারেই আধুনিকতায় ভরপুর,অসাধারণ

এক শিল্পকর্ম এটি,খাটটি জুড়ে দিলে কোন জোড়া খুঁজে পাওয়া মুশকিল,চারটি পরী হলো খাটের পায়া রানী ভবানীর পছন্দ হলো।সে নাতনীকে খাটটি উপহার দিল। কিংবদন্তি আছে ঐ মিস্ত্রিদের নাকি হাত কেটে ফেলেছিল যাতে করে আর এই ধরনের খাট তৈরি করতে না পারে,এই ঘটনা কতটুকু সত্য জানি না,এর কোন সাক্ষী তো আর বেঁচে নেই!!!

এই খাটটি রানী ভবানীর ইচ্ছেতেই নাতির জন্য তৈরি করা হয়েছিল।রানী ভবানী চলে যায় দত্তক পুত্র রামকৃষ্ণের কাছে জমিদারি অর্পণ করে মুর্শিদাবাদ একমাত্র মেয়ের কাছে।ওয়ারেন হেস্টিংস জোর পূর্বক সকল সম্পদ জমিদারি কেড়ে নেন।


সুচতুর বুদ্ধিমান নড়াইলের জমিদার কালীশঙ্কর লর্ড কর্নওয়ালিসের চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত প্রবর্তিত হওয়ার ফলে নাটোরের বিশাল জমিদারি বাকী খাজনার দায়ে নিলামে বিক্রয় হতে থাকলে, কালীশঙ্কর সুকৌশলে নাটোরের বিশাল তালুক ও মহাল নিলামে ক্রয় করে পিতার ক্ষুদ্র জমিদারি বৃদ্ধি করেন।


এক বিশাল রাজবাড়ি নির্মাণ করেন।রানী ভবানীর সম্পত্তি নিলামে কিনতে কিনতে কোন এক সুযোগে এই পরীর খাটটি কালীশঙ্কর নড়াইল তার রাজবাড়িতে নিয়ে আসেন।

নড়াইলের কালীশঙ্করের জমিদারির প্রধান পন্ডিত ছিলেন শশিভূষন স্মৃতি রত্নের পুত্র বামন দাস বিদ্যাসাগর।আমি আগেই আপনাদের জানিয়েছিনড়াইলের জমিদারগন শিক্ষানুরাগী ছিলেন,সে কারনের তৎকলীন বামন দাস বিদ্যাসাগরের মতো জ্ঞানি ব্যক্তিকে প্রধান পন্ডিত করেছিলেন।ভারতবর্ষের জমিদারি যখন ব্রিটিশ সরকার বিলুপ্ত করে তখন এই 'পরীর খাট'নড়াইলের জমিদার কালীশঙ্কর নাকি তার প্রধান পণ্ডিত বামন দাস বিদ্যাসাগরকে দান করে ছিলেন।সেই দান করা খাটটি বামন দাস বিদ্যাসাগরের তৃতীয় পুত্র লক্ষী নারায়ণ ভট্টাচার্য নড়াইল জমিদার বাড়ি থেকে ইতনা নিয়ে আসে,ইতনা বামন দাস বিদ্যাসাগরের  নিজেদের বাড়ি বর্তমান ফাতেমা ম্যানসনে।কিন্তু দুঃখের বিষয় তারা খাটটি সেটিং করতে পারলেন না।এই সেটিংনা করার ব্যাপারটি এরকম যখন নাটোরের মহারানী ভবানীর ওখান থেকে খাটটি আনা হয় তখন এর প্রতিটি সংযোগ স্থলের নাট, বোল্ড সে কাঠের হোক আর লোহার হোক হারিয়ে যায়।সে কারনে নড়াইলের জমিদার এবং বামন দাস বিদ্যাসাগরের পুত্র লক্ষী নারায়ণ ভট্টাচার্য এই খাটে ঘুমাতে পারেননি।১৯৬০ খ্রিস্টাব্দে।

আশির দশকে এক সাংবাদিক নড়াইল ইতনা ঘুরতে এসে এই খাট দেখে তখন পত্রিকায় নিউজ করলে,,

সরকারি উচ্চ মহলের প্রচেষ্টায় খাটটি সংরক্ষণের জন্য বাংলাদেশের জাতীয় জাদুঘরে রাখা হয়। যা জনসাধারণের দেখার জন্য এখনো সেখানে সংরক্ষিত আছে--

লেখা চিত্রকর আজগর আলী সহযোগিতায়।

পায়ের গোড়ালি ব্যথার হোমিও ঔষধ

 🛑পায়ের গোড়ালি ব্যথার হোমিও ঔষধ 🛑


♦️Antim Crud

-গোড়ালিতে চাপ দিলে ব্যথা বেশি লাগে.

-পায়ের তলা শক্ত/মোটা (callosity, corn) থাকে.

-বেশি হাঁটা বা দাঁড়ালে ব্যথা বাড়ে.

-শক্ত মেঝেতে অস্বস্তি বাড়ে.

-সাথে হজমের সমস্যা (অরুচি, জিহ্বায় সাদা আবরণ) থাকে।

-এছাড়া রোগী শীতকাতর,ঠান্ডা পানিতে গোসলের ভয়, রোমান্টিক, চাঁদের আলোয় হাঁটতে ভালোবাসে।


♦️Ruta Graveolens

-লিগামেন্ট/টেন্ডনে টান ও ব্যথা.

-গোড়ালিতে চাপ দিলে তীব্র ব্যথা.

-হাঁটা বা দাঁড়ালে ব্যথা বাড়ে

-শক্ত মেঝেতে হাঁটলে কষ্ট বেশি।

পায়ের তলায় টান বা strain-এর অনুভূতি

অতিরিক্ত হাঁটা/দাঁড়িয়ে কাজ করার পর ব্যথা শুরু।

-মচকানো (sprain)

টেন্ডন/লিগামেন্ট ইনজুরি।

-

♦️ Rhus Tox

-সকালে ঘুম থেকে উঠে প্রথমে ব্যথা বেশি,

কিছুক্ষণ হাঁটাচলা করলে ধীরে ধীরে আরাম লাগে।

-ঠান্ডা বা ভেজা আবহাওয়ায় ব্যথা বাড়ে.

-শক্ত হয়ে থাকা (stiffness) অনুভূতি থাকে.

-বেশি বিশ্রামে থাকলে ব্যথা বাড়ে.


♦️Bryonia Alb


-সামান্য হাঁটা বা নড়াচড়াতেই ব্যথা তীব্র হয়ে যায়.

-পা স্থির রাখলে আরাম লাগে.

-ব্যথা শুকনো, টান টান বা ছিঁড়ে যাওয়ার মতো অনুভূতি.

-আক্রান্ত জায়গা নাড়াতে ইচ্ছে করে না.

-শরীর শুষ্ক লাগে, তৃষ্ণা বেশি.দীর্ঘক্ষণ পরপর অনেকখানি করে পানি পান করে। 

-কোষ্ঠকাঠিন্য, পায়খানা খুব কষা. 

-ঠান্ডা লাগলে বা নড়াচড়ায় সমস্যা বাড়ে.


♦️Calcarea Fluor

দীর্ঘদিনের হিল পেইন

শক্ত বা ক্যালসিয়াম জমাট ধরনের সমস্যা


 ♦️Calcarea Carb

-শরীরে ওজন বেশি, সহজে ক্লান্ত

পায়ে চাপ পড়লে ব্যথা বাড়ে.

-বেশি ঘাম (বিশেষ করে মাথা/পা)

দীর্ঘদিনের heel pain.

-শীতকাতর,ডিম,লবণ প্রিয়। 

★ যাদের গঠন মোটাসোটা ও ধীরগতির, তাদের ক্ষেত্রে বেশি কাজে লাগে।


♦️Ledum Pal

-পায়ের গোড়ালিতে খোঁচা বা সূচ ফোটার মতো ব্যথা.

-ঠান্ডা দিলে আরাম লাগে.

-নিচ থেকে উপরের দিকে ব্যথা ছড়ায়.


♦️Arnica Montana

-আঘাত, চাপ বা বেশি হাঁটার পর ব্যথা শুরু.

জায়গাটা স্পর্শ করলে ব্যথা লাগে.তীব্র ব্যথা,রোগী যেখানে সেখানে ঘা লাগার ভয় পায় । 

“bruise” বা থেঁতলানো ব্যথার মতো অনুভূতি।

-গরম প্রয়োগে আরাম লাগে। 


♦️Phytolocca

-ব্যথা গভীর ও ছড়ানো ধরনের হয়

চাপ দিলে ব্যথা অন্য জায়গায় ছড়ায়.

-শরীরে গাঁট বা টিউমার টাইপ শক্ত ফোলা

-স্তনে গাঁট, ব্যথা (mastitis) থাকতে পারে।


🔴🔴এছাড়া প্রোপার কেস টেকিং এর ভিত্তিতে যেকোনো মেডিসিন আসতে পারে। 

❤️❤️সবাইকে শেয়ার করার অনুরোধ রইলো। 

স্পর্শ করলে ব্যথা ছড়ায়.

হোমিওপ্যাথির শত্রু ওষুধের সংক্ষিপ্ত তালিকা!

 🌿🔴 হোমিওপ্যাথির শত্রু ওষুধের সংক্ষিপ্ত তালিকা!

❌ কোন ওষুধ একসাথে বা আগে-পরে ব্যবহার করা বিপজ্জনক?

(ক্লাসিক্যাল সূত্র: Samuel Hahnemann, Kent, Boericke)

🔴 (A) ⚠️ TRUE INIMICAL – প্রকৃত শত্রু ওষুধ (২০টি)

👉 এই জোড়াগুলো সবচেয়ে বেশি সতর্কতার দাবি রাখে

১. এপিস মেলিফিকা ↔ রাস টক্স

২. অ্যালিয়াম সেপা ↔ অ্যালিয়াম স্যাটিভাম

৩. কস্টিকাম ↔ ফসফরাস

৪. ক্যামোমিলা ↔ জিঙ্কাম মেটালিকাম

৫. ইগ্নেশিয়া ↔ নাক্স ভোমিকা

৬. সেপিয়া ↔ ল্যাচেসিস

৭. মারকিউরিয়াস ↔ সিলিসিয়া

৮. বেলাডোনা ↔ ক্যামফোরা

৯. কফিয়া ↔ নাক্স ভোমিকা

১০. হেপার সালফ ↔ মারকিউরিয়াস

১১. নাইট্রিক অ্যাসিড ↔ ক্যালকেরিয়া কার্ব

১২. অ্যাসেটিক অ্যাসিড ↔ আর্নিকা

১৩. সালফার ↔ নাক্স ভোমিকা। ❌ “একসঙ্গে ব্যবহার করা যাবে না” — এমন কঠোর শত্রু সম্পর্ক নয়।

✅ কিন্তু অন্ধভাবে mix বা frequent repetition করা উচিত নয়।

১৪. সালফার ↔ সেপিয়া

১৫. পালসাটিলা ↔ সেপিয়া

১৬. ফসফরাস ↔ সেপিয়া

১৭. জিঙ্কাম ↔ ক্যামোমিলা

১৮. রাস টক্স ↔ এপিস (reverse)

১৯. সিলিসিয়া ↔ মারকিউরিয়াস (reverse)

২০. ল্যাচেসিস ↔ সেপিয়া (reverse)

🟠 (B) ⚡ ANTAGONISTIC – সতর্কতার সাথে ব্যবহারযোগ্য (২০টি)

👉 সবসময় শত্রু নয়, তবে একসাথে দিলে ফল খারাপ হতে পারে

১. ব্রায়োনিয়া ↔ রাস টক্স

২. কফিয়া ↔ ক্যামোমিলা

৩. চায়না ↔ ফেরাম

৪. ফেরাম ↔ চায়না

৫. হেপার ↔ সিলিসিয়া

৬. ন্যাট্রাম মিউর ↔ ইগ্নেশিয়া

৭. পেট্রোলিয়াম ↔ নাক্স ভোমিকা

৮. প্লাটিনা ↔ পালসাটিলা

৯. সারসাপারিলা ↔ মারকিউরিয়াস

১০. স্পঞ্জিয়া ↔ হেপার

১১. স্ট্যাফিসাগ্রিয়া ↔ মারকিউরিয়াস

১২. স্ট্রামোনিয়াম ↔ বেলাডোনা

১৩. সালফার ↔ মারকিউরিয়াস

১৪. ট্যারেন্টুলা ↔ পালসাটিলা

১৫. ভেরাট্রাম ↔ কফিয়া

১৬. অ্যান্টিম ক্রুড ↔ হেপার

১৭. ক্যালি বিচ ↔ পালসাটিলা

১৮. ডিজিটালিস ↔ চায়না

১৯. ওপিয়াম ↔ বেলাডোনা

২০. অ্যাকোনাইট ↔ কফিয়া

🔵 (C) 🛑 ANTIDOTE – ভুলে শত্রু ভাববেন না (২০টি)

👉 এগুলো একে অপরের প্রভাব কমায় (ইচ্ছাকৃতও ব্যবহার হয়)

১. ক্যামফোরা → বহু ওষুধ antidote

২. কফিয়া → নাক্স ভোমিকা antidote

৩. কফিয়া → ক্যামোমিলা antidote

৪. নাক্স ভোমিকা → ড্রাগ effect antidote

৫. পালসাটিলা → বহু remedy antidote

৬. সালফার → chronic antidote

৭. হেপার → মারকিউরিয়াস antidote

৮. বেলাডোনা → ওপিয়াম antidote

৯. অ্যাকোনাইট → শক antidote

১০. আর্নিকা → ট্রমা antidote

১১. কার্বো ভেজ → collapse antidote

১২. লেডাম → পাংচার antidote

১৩. হাইপেরিকাম → nerve injury antidote

১৪. ক্যালেন্ডুলা → wound antidote

১৫. আইপেক্যাক → বমি antidote

১৬. ক্যানথারিস → বার্ন antidote

১৭. গ্রাফাইটিস → skin antidote

১৮. সিলিসিয়া → foreign body বের করে

১৯. থুজা → ভ্যাকসিন effect antidote

২০. মেডোরিনাম → chronic miasm antidote

🟢 (D) 🌱 COMPLEMENTARY – শত্রু নয়, বরং সেরা সহযোগী (২০টি)

👉 একে অপরের কাজ সম্পূর্ণ করে

১. সালফার ↔ ক্যালকেরিয়া কার্ব

২. ক্যালকেরিয়া ↔ লাইকোপোডিয়াম

৩. সালফার ↔ লাইকোপোডিয়াম

৪. আর্সেনিকাম ↔ ফসফরাস

৫. বেলাডোনা ↔ ক্যালকেরিয়া

৬. ব্রায়োনিয়া ↔ অ্যালুমিনা

৭. নাক্স ভোমিকা ↔ সালফার

৮. পালসাটিলা ↔ সিলিসিয়া

৯. সেপিয়া ↔ ন্যাট্রাম মিউর

১০. ল্যাচেসিস ↔ সালফার

১১. হেপার ↔ সিলিসিয়া

১২. আর্নিকা ↔ রাস টক্স

১৩. অ্যাকোনাইট ↔ বেলাডোনা

১৪. ক্যামোমিলা ↔ ম্যাগ কার্ব

১৫. কফিয়া ↔ নাক্স

১৬. ফসফরাস ↔ আর্সেনিকাম

১৭. ন্যাট মিউর ↔ ইগ্নেশিয়া

১৮. ক্যালি কার্ব ↔ ন্যাট মিউর

১৯. সিলিসিয়া ↔ থুজা

২০. সালফার ↔ সেপিয়া

⚠️ 🚨 ক্লিনিক্যাল গোল্ডেন রুল

✔️ “শত্রু” মানেই সবসময় নিষিদ্ধ নয়

✔️ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ = সময় + কেস বিশ্লেষণ

✔️ High potency হলে বেশি সতর্কতা

✔️ Camphor / Coffee → remedy নষ্ট করতে পারে

📌 🔍 📢 বি. দ্রঃ

এই প্রতিবেদনটি শুধুমাত্র নবীন হোমিও চিকিৎসক বন্ধুদের জন্য। সম্পূর্ণ case taking ছাড়া ওষুধ নির্বাচন করবেন না। চিকিৎসা সংক্রান্ত প্রশ্ন থাকলে জানাতে পারেন। ত্রুটি থাকলে মার্জনীয়।

নারীর স্তন দেখতে ভালো লাগে? আমারো লাগতো, কিন্তু একদিন ....... ফেইসবুক থেকে নেওয়া,, তিনি ও নিয়েছেন ফেইসবুক থেকে

 নারীর স্তন দেখতে ভালো লাগে? আমারো লাগতো, কিন্তু একদিন .......


ছেলেবেলায়, আমি ভাবতাম—নারীর সৌন্দর্যের মধ্যে সবচেয়ে আকর্ষণীয় অংশ নাকি তার বুক।

পুরুষ হয়ে জন্মেছিলাম, কিন্তু মানুষ হতে শিখেছি এক মায়ের শুকনো বুকের দিকে তাকিয়ে...


(লেখাটি একজন পুরুষের দৃষ্টিকোণ থেকে লেখা। দেখুন তো আপনি এর সাথে নিজেকে মিলাতে পারেন কিনা)


সত্যিটা স্বীকার করতে আজ আর কোনো লজ্জা নেই—

বয়স যখন কম ছিল, আর দশটা ছেলের মতো আমার চোখও পাপমুক্ত ছিল না। নারীর সৌন্দর্যের কথা ভাবলেই চোখ আটকে যেত তার শরীরের ভাঁজে, বিশেষ করে বুকের দিকে।

বন্ধুমহলে আড্ডায় বলতাম, "নারীর আসল সৌন্দর্য নাকি ওখানেই!"

ছিঃ! আজ ভাবতেই ঘৃণায় শরীর শিউরে ওঠে। তখন বুঝতাম না, মাংসপিণ্ডের ওই আকার বা আকৃতির নিচে কী বিশাল এক মহাসমুদ্র লুকিয়ে থাকে। আমার দৃষ্টি তখন চামড়া ভেদ করে আত্মার নাগাল পেত না।


কিন্তু সৃষ্টিকর্তা হয়তো চেয়েছিলেন আমার এই "পুরুষত্ব"র অহংকার ভেঙে চুরমার করে দিতে। তাই আমাকে মুখোমুখি করেছিলেন এমন এক দৃশ্যের—যা দেখার পর আমি আর আগের আমি থাকিনি।


সময়টা চৈত্র মাসের কাঠফাটা দুপুর। গ্রামবাংলার আকাশ থেকে যেন আগুন ঝরছে। মাটি ফেটে চৌচির। ধুলোবালি ওড়া এক মেঠো পথ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলাম। তৃষ্ণায় আমার নিজেরই গলা শুকিয়ে কাঠ।

হঠাৎ পথের ধারে এক জরাজীর্ণ কুঁড়েঘরের দিকে চোখ গেল। চালের খড় উবে গেছে, বেড়া নড়বড় করছে। সেই ঘরের দাওয়ায় বসে ছিলেন এক মা।


বয়স কত হবে? পঁচিশ? ছাব্বিশ? কিন্তু অভাব আর দারিদ্র্য তার যৌবন শুষে নিয়ে মুখে এঁকে দিয়েছে পঞ্চাশ বছরের বার্ধক্য। গায়ের ব্লাউজটা শতছিন্ন, শাড়ির আঁচলটা খসে পড়েছে—কিন্তু সেদিকে তার কোনো খেয়াল নেই।

কারণ, তার কোলে শুয়ে আছে এক হাড়জিরজিরে শিশু।


আমি থমকে দাঁড়ালাম। দৃশ্যটা আমাকে নড়তে দিল না।

বাচ্চাটা কাঁদছে না। কান্নার শক্তিও হয়তো তার নেই। সে শুধু প্রাণপণ শক্তিতে মায়ের বুকটা কামড়ে ধরে চুষছে।

কিন্তু হায়! সেই বুকে কি এক ফোঁটা দুধ আছে?

মায়ের শরীর নিজেই তো এক কঙ্কাল। বুকের হাড়গুলো গোনা যাচ্ছে। চামড়ার নিচে শুধুই হাহাকার।

তবুও অবুঝ শিশুটি চুষেই যাচ্ছে... *চোঁক... চোঁক...*

এক অদ্ভুত করুণ শব্দ। যেন শুকনো নদী থেকে শেষ বিন্দু জলটুকু নিংড়ে নেওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা।


আমি স্পষ্ট দেখছিলাম—দুধ নয়, শিশুটি চুষছে মায়ের বুকের রক্ত, মায়ের কলিজার রস।

মায়ের চোখ দুটো একদম স্থির, পাথরের মতো। কিন্তু সেই পাথর চুইয়ে টপটপ করে জল গড়িয়ে পড়ছে।

ফোটা ফোটা চোখের জল গড়িয়ে পড়ছে বাচ্চাটার কপালে, গালে, ঠোঁটে।

বাচ্চাটা হয়তো সেই নোনা জলই চেটে খাচ্ছে।

হয়তো ভাবছে, এটাই দুধ। এটাই মায়ের ভালোবাসা।


আমার বুকের ভেতরটা দুমড়েমুচড়ে গেল। মনে হলো কেউ যেন হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে আমার এতদিনের সব নোংরা চিন্তা ভেঙে গুঁড়িয়ে দিচ্ছে।

মায়ের ওই নীরব চাহনি যেন আকাশ-বাতাস কাঁপিয়ে চিৎকার করে বলছিল—

"ওরে খোদা! আমার বুকের মাংস গলে রক্ত দে, তবুও আমার বাচ্চার পেটে দু’ফোটা আহার দে... আমি যে মা! আমি যে আর সহ্য করতে পারছি না!"


আমি সেদিন পালিয়ে এসেছিলাম। হ্যাঁ, আমি পালিয়েছিলাম কারণ সেই দৃশ্য সহ্য করার ক্ষমতা আমার ছিল না।

কিন্তু সেই রাতে আমি ঘুমাতে পারিনি। কানে শুধু বাজছিল সেই চোঁক চোঁক শব্দ আর চোখে ভাসছিল মায়ের সেই শুকনো বুক।


সেদিন বুঝেছিলাম, নারীর বুক কোনো ভোগের বস্তু নয়।

এটি কোনো কামনার উদ্যান নয়—এটি এক যুদ্ধক্ষেত্র।

যেখানে একজন নারী নিজের শরীরের সবটুকু নির্যাস দিয়ে তিলে তিলে বড় করে তোলে আগামীর পৃথিবী।

যেখানে ভালোবাসা মানে শুধু দেওয়া, বিনিময়ে কিছুই না চাওয়া।


আজ আমি বাবা হয়েছি।

যখন দেখি আমার সন্তান তার মায়ের বুকে নিশ্চিন্তে ঘুমায়, যখন দেখি ক্ষুধা পেলেই সে হামাগুড়ি দিয়ে মায়ের বুকের কাছে আশ্রয় খোঁজে—তখন আমার চোখে জল আসে।

মনে হয়, এই বুকের নামই "নিরাপত্তা"। এই বুকের নামই "পৃথিবীর শেষ আশ্রয়স্থল"।


হে পুরুষ!

আজ তোমাকে একটা অনুরোধ করি।

রাস্তায় ঘাটে কোনো নারীর দিকে তাকানোর আগে, তার শরীরের ভাঁজ খোঁজার আগে—একবার নিজের মায়ের কথা ভেবো।

মনে রেখো, তুমিও একদিন ওই বুকের রস খেয়েই মানুষ হয়েছ। ওই বুকটা শুধু মাংসের দলা নয়, ওটা তোমার প্রথম জান্নাত।


নারীর বুক দেখে উত্তেজনা নয়, বরং শ্রদ্ধায় মাথা নত করতে শেখো।

কারণ, কোনো কোনো নারী তার শুকনো বুক দিয়েও সন্তানকে বাঁচিয়ে রাখার যুদ্ধ করে যায়। তাদের শরীরের প্রতিটি ভাঁজে লুকিয়ে থাকে একেকটি ত্যাগের মহাকাব্য।


নারীর সৌন্দর্য তার কামনাসিক্ত শরীরে নয়,

নারীর সৌন্দর্য তার মমতায়, তার ত্যাগে, তার আঁচলের মায়ায়।

যেদিন এটা বুঝবে, সেদিন দেখবে—পৃথিবীর সব নারীকেই মায়ের মতো পবিত্র মনে হচ্ছে।


সেই অচেনা মায়ের শুকনো বুক আমাকে মানুষ বানিয়েছে।

দোয়া করি, পৃথিবীর কোনো মায়ের বুক যেন আর খালি না থাকে। সব শিশু যেন দুধের স্বাদ পায়, চোখের জলের স্বাদ নয়।


(লেখাটি পড়ে যদি আপনার হৃদয়ে বিন্দুমাত্র নাড়া দেয়, তবে শেয়ার করে অন্য ভাইদের দেখার সুযোগ করে দিন। হয়তো আপনার একটি শেয়ারে কোনো এক পুরুষের দৃষ্টি পরিবর্তন হবে, বেঁচে যাবে মাতৃত্বের সম্মান।)


লেখাটি ফেসবুক সংগৃহীতা

কশাইদের প্রতারণার শিকার ভোক্তাগণ,,,,,,,,,, ফেইসবুক থেকে নেওয়া

 আমাদের দেশে মাংসের দোকানগুলোতে গেলে দেখবেন কসাই মাংস কাটছে আর সেই মাংস থরথর করে নড়ছে। সাধারণ ক্রেতারা মনে করে, মাংস নড়ছে মানেই এটা একদম টাট...