একটি সতর্কতামূলক পোস্ট!
টপিক : আদ দ্বীন হসপিটাল ( মগবাজার শাখা)
অনেকে বিভিন্ন গ্রুপে তাদের ব্যাপারে জানতে চান। আমি আজ আমার অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে চাচ্ছি। শুধু অভিজ্ঞতা না, আমার অভিযোগও।
গত ২৯সেপ্টেম্বর সকাল ৭টায় আমার প্রচন্ড ডেলিভারি পেইন নিয়ে আমি Ad Deen এ যাই।।
তাদের ব্যাপারে শুনেছিলাম তারা নরমাল ডেলিভারি ট্রাই করে মূলত সেজন্য যাওয়া। পরিবেশ ও ক্লিন + পুরুষ এলাউ করেনা। তাদের ডেলিভারি প্যাকেজ ছিলো ৪৫০০টাকা।(নরমাল)
তাও আমরা ভেবেছি আমরা গিয়ে একটা কেবিন নিবো। এরপর একটা ভালো সার্ভিস নিয়ে বাসায় ফিরবো।
আমরা যাওয়ার পর প্রথম রিসিট কাটা থেকে লাস্ট অব্ধি ১জন ব্যক্তি পাইনি যাদের ব্যবহার ভালো ছিলো।
ডাক্তারের চেয়ে সেখানে হিজিবিজি করছিলো স্টুডেন্টস। আর প্রত্যেক রুমেই সবাই রুগী দেখার চেয়ে গল্প করতে বেশি ব্যস্ত ছিলো। প্রচন্ড পেইন নিয়ে যাওয়ার পরেও তারা সেটা কানেই নিচ্ছিলোনা। যেখানে আমার পা ফেলাই তখন কঠিন সেখানে কোথাও এক ফোটা বসার উপায় ছিলোনা। না কোন কেবিন পাচ্ছিলাম। ওয়ার্ডেও সিট দিচ্ছিলোনা যতক্ষন তাদের সকল কাজ উদ্ধার হয়। একবার একেক ফ্লোরে পাঠানো হচ্ছিলো বিভিন্ন টেস্ট এর নামে।
সেখানে গিয়ে প্রথম আল্ট্রা সাউন্ড করতে দেখলাম, ডাক্তার রোগী শুইয়ে ফোনে কথা বলে যাচ্ছেন, এই সময় পেটে যে জেল টা ইউজ করা হয় সেটা অব্ধি রোগীকে মুছতে বলা হয়।।
আমার সাথে আমার মা ছিলেন হাজবেন্ড ছিলেন। পুরুষ যেহেতু এলাউ না।তাই হাজবেন্ড কে রাখা হয়নি। আমার মাকে ওয়ার্ডে আমার সাথে নেই, মা কেও রাখছিলোনা। আমি ব্যথায় কুকড়ে যাচ্ছিলাম তাও আমাকে বারবার এখান থেকে ওখানে পাঠাচ্ছিলো। যখন একটা বেড পেলাম তখন দুপুর ১টা। একজন আসে রোগীকে একটা কথা বলে, তো আরেকজন এসে আরেকটা বলে। একটা কাগজ নিয়ে এর কাছে গেলে বলে ওখানে যান এখানে কেনো?
ওখানে গেলে বলে ওখানে যান।
রোগী দেখা কালীন ( রোগী বিছানা থেকে উঠা পসিবল না এমন অবস্থা করে) তারা গায়েব হয়ে যায়।আরেকজন এসে রোগীকে রাগারাগি করে আপনি এখানে কেনো?
এভাবে দুপুর অব্ধি নানা কেচ্ছার পর, যখন আমার আরো পেইন বেড়ে যায়। তখন তারা জরায়ু মুখ ৪সেমি খুলেছে বলার পর,কিছুক্ষন যেতে না যেতেই ( জরায়ু মুখ ১০সেমি না খুলতেই) নিয়ে যাওয়া হয় ডেলিভারি রুমে। কয়েক মিনিটের মধ্যে জাস্ট আমার বাচ্চাকে টেনে টুনে নিয়ে আমার বুকে ফেলা হয় ৪-৫ জন মিলে।সাথে আমাকে ৫টা কাটা দেওয়া হয়।
বাকি টুকু কমেন্টে....
প্রতিটি সুইয়ের ফোড় সুতার টান আমি টের পাই। তাদের মধ্যে বিন্দুমাত্র রোগীর প্রতি কাজের প্রতি ধীর স্থিরতা ছিলোনা। একপ্রকার যেনো জোরজবরদস্তি।
আমার বাচ্চা হওয়ার কিছু সেকেন্ড পরেই কান্না করে। তাও বলা হয় বাচ্চা NICU তে নিয়ে যেতে হবে।
এদিকে না আমার বাসায় কাউকে জানানো হচ্ছিলো বাবু হইছে। ( এর মধ্যে তাদের নানা পরীক্ষা ১৫হাজার ডেলিভারি ৪৫০০ এছাড়া প্রত্যেক্টা সুতাও রোগীর ফ্যামিলিকে ৫০বারের বেশি পাঠিয়ে কিনে আনানো হয়।)
আমাকে আবার ওয়ার্ডে এনে রাখা হয়।আর বাবুকে NICU তে। বলা হয় NICU ভর্তি ২০হাজার করে এবং প্রত্যেক দিন ২০ হাজার করে দিতে হবে।।
আমরা সিদ্ধান্ত নেই আমরা অন্যে কোন হসপিটালে যাবো।
তারা আমাদের ছাড়ছিলোনা। না আমাদের কোন ডাক্তার এসে দেখছিলো।জাস্ট আমাকে ঘন্টার পর ঘন্টা ফেলে রাখছিলো। আমার তখনো পেইন যেনো কমেনি।এমন সেলাই দেওয়া হইছে যা প্রসব ব্যথার মতোই।
যাওয়ার কথা শুনে তারা আরো খারাপ বিহেভিয়ার শুরু করে। এটা ওটা বলে ঘুরাতে থাকে। তখন ও আমরা জানিনা আমার বাচ্চার আসলে কি হয়েছে।
এরপর লাস্ট যখন এসে পড়বো আমার হাটার অবস্থা ছিলোনা।তাই হুইল চেয়ার খোজা হয়।তারা সেটা দিতে রাজি হয়না।
তারপর একটা এম্বুলেন্স করে আমরা আরেকটা হসপিটাল শিফট করি, বাবুকে NICU আমাকেও ভর্তি দেওয়া হয়।
৩দিন পর বাসায় ফিরি। আজ ১সপ্তাহ পরেও আমি উঠে বসতে হাটতে পারছিনা।আমার এর আগের বাচ্চা নরমালে একটা ক্লিনিকে হয়েছিলো। ৫মিনিট পরেই আমি নরমাল লাইফে ফিরে এসেছি। আমার বাচ্চাকে ওরা অনেক ব্যথা দিয়েছে প্রসবের টাইমে। এখন আলহামদুলিল্লাহ আগের চেয়ে ভালো।তবে একটা হাত এখনো নাড়াতে পারছেনা বাবু।
এতো তিক্ত অভিজ্ঞতার পর আল্লাহর কাছেই নালিশ দিবো।আর অন্যদের বলবো এদের কাছে যাবেন না। যদি আপনাকে নরমাল ডেলিভারি তেও সিজারের পেইন ভোগ করা লাগে, বাচ্চা আর আপনার ক্ষতি+ ভোগান্তি হয়। কিংবা চটকদার বিজ্ঞাপন দেখায় যারা আমরা মাত্র ৪৫০০টাকায় যত্ন সহকারে নরমাল ডেলিভারি করাই।কিন্তু রোগীদের জীবন তেজপাতা করে দেয়।এদের বয়কট করুন।
৪৫০০ বলে কয়েক গুন বেশি টাকা কামানোর ধান্দা এদের।
আমি যদি ৩দিনে লাখ টাকা দিতেই হয় তাইলে আমি কেনো এমন সার্ভিস কেনো পাবো, নিজের বাচ্চার উপর কেনো টর্চার নিবো!
ল্যাবইড এ লাখ টাকা দিয়ে নরমাল করাতে যাওয়া উচিৎ, না হয় কোন ক্লিনিকে।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন