চাকরি ছাড়া বা রিজাইন দেওয়া ক্যারিয়ারের একটি স্বাভাবিক অংশ হলেও, এটি বেশ মানসিক চাপের এবং গুরুত্বপূর্ণ একটি সিদ্ধান্ত। রাগের মাথায় বা হুট করে নেওয়া পদত্যাগের সিদ্ধান্ত আপনার ভবিষ্যতের ক্যারিয়ারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। আপনি যদি নতুন সুযোগের খোঁজে বর্তমান চাকরিটি ছাড়ার কথা ভেবে থাকেন, তবে সম্পর্ক নষ্ট না করে কীভাবে পেশাদারিত্বের সাথে বিদায় নেবেন, তা জানা অত্যন্ত জরুরি।
চলুন জেনে নিই রিজাইন দেওয়ার আগে বা চাকরি ছাড়ার সময় কোন ১৫টি বিষয় আপনার অবশ্যই মাথায় রাখা উচিত।
________________________________________________
১. নোটিশ পিরিয়ড সম্পর্কে নিশ্চিত হোন রিজাইন দেওয়ার আগে আপনার নিয়োগপত্র (Appointment Letter) বা কোম্পানির এইচআর পলিসি ভালোভাবে পড়ে দেখুন। আপনার পদের জন্য নোটিশ পিরিয়ড কতদিনের (সাধারণত ১ থেকে ৩ মাস হয়ে থাকে) তা জেনে নিন এবং সেই অনুযায়ী পরিকল্পনা করুন।
২. পরবর্তী পরিকল্পনা বা চাকরি চূড়ান্ত করুন হাতে নতুন কোনো জবের অফার লেটার না পাওয়া পর্যন্ত বর্তমান চাকরিতে ইস্তফা না দেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। যদি পড়াশোনা বা অন্য কোনো কারণে ছাড়তে হয়, তবে পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে তা আগেই নির্ধারণ করে রাখুন।
৩. পর্যাপ্ত আর্থিক ব্যাকআপ রাখুন যদি হাতে নতুন চাকরি না নিয়েই রিজাইন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন, তবে অন্তত আগামী ৩ থেকে ৬ মাস চলার মতো পর্যাপ্ত আর্থিক সঞ্চয় (Emergency Fund) আপনার কাছে আছে কিনা তা নিশ্চিত করুন।
৪. পেশাদার পদত্যাগপত্র (Resignation Letter) লিখুন পদত্যাগপত্রটি হতে হবে সংক্ষিপ্ত, মার্জিত এবং পেশাদার। এখানে শুধু পদত্যাগের তারিখ এবং সুযোগ দেওয়ার জন্য কোম্পানিকে ধন্যবাদ জানাবেন। কোনোভাবেই ক্ষোভ, অভিমান বা নেতিবাচক কথা উল্লেখ করবেন না।
৫. সবার আগে ম্যানেজার বা বসকে জানান আপনার সহকর্মীদের জানার আগে আপনার সরাসরি সুপারভাইজার বা বসকে বিষয়টি জানানো উচিত। একটি মিটিং সেট করে সামনাসামনি বা ভিডিও কলে তাকে আগে আপনার সিদ্ধান্তটি সম্মানের সাথে জানান।
৬. সম্পর্ক নষ্ট করবেন না (Don't Burn Bridges) অফিসে কারও সাথে খারাপ সম্পর্ক থাকলেও শেষ বেলায় তা প্রকাশ করবেন না। কর্পোরেট দুনিয়া খুবই ছোট, ভবিষ্যতে কখন কার সাথে কাজ করতে হয় বা কার রেফারেন্স প্রয়োজন হয়, তা আগে থেকে বলা যায় না।
৭. কাজের সুষ্ঠু হ্যান্ডওভার প্ল্যান তৈরি করুন আপনার অবর্তমানে কে আপনার কাজগুলো সামলাবেন, তার একটি তালিকা করুন। আপনার অসমাপ্ত কাজগুলো কীভাবে শেষ হবে এবং ফাইলগুলো কোথায় আছে, তার একটি সুন্দর হ্যান্ডওভার ডকুমেন্ট তৈরি করে বুঝিয়ে দিন।
৮. অফিসের ডিভাইস থেকে ব্যক্তিগত তথ্য মুছে ফেলুন অফিসের ল্যাপটপ বা কম্পিউটারে থাকা আপনার ব্যক্তিগত ইমেইল, ছবি, পাসওয়ার্ড বা অন্য যেকোনো ব্যক্তিগত ডেটা রিজাইন দেওয়ার আগেই মুছে ফেলুন বা নিজের কাছে ব্যাকআপ নিয়ে নিন।
৯. আর্থিক পাওনাদি সম্পর্কে জেনে নিন আপনার প্রভিডেন্ট ফান্ড (PF), গ্র্যাচুইটি, অবিক্রীত ছুটির টাকা (Leave Encashment) বা অন্য কোনো আর্থিক বেনিফিট কীভাবে এবং কবে পাবেন, সে বিষয়ে এইচআর (HR) ডিপার্টমেন্টের সাথে আগেই বিস্তারিত কথা বলে নিন।
১০. কাউন্টার-অফারের জন্য প্রস্তুত থাকুন আপনি ভালো কর্মী হলে কোম্পানি আপনাকে ধরে রাখার জন্য বেতন বা পদোন্নতির প্রস্তাব (Counter-offer) দিতে পারে। আপনি সেই অফার গ্রহণ করবেন কি না, তার মানসিক প্রস্তুতি আগে থেকেই নিয়ে রাখুন।
১১. নোটিশ পিরিয়ডে কাজে অবহেলা করবেন না অনেকেই নোটিশ পিরিয়ডে কাজে চরম অবহেলা করেন। এটি চরম অপেশাদারিত্ব। শেষ দিন পর্যন্ত নিজের দায়িত্বগুলো সততা এবং নিষ্ঠার সাথে পালন করুন।
১২. এক্সিট ইন্টারভিউর (Exit Interview) প্রস্তুতি এইচআর থেকে এক্সিট ইন্টারভিউ নেওয়া হলে সেখানে গঠনমূলক মতামত দিন। অকারণে বস বা কোম্পানির নামে অতিরিক্ত বদনাম করা থেকে বিরত থাকুন।
১৩. রিলিজ লেটার ও এক্সপেরিয়েন্স সার্টিফিকেট বুঝে নিন কোম্পানি ছাড়ার শেষ দিনে বা পলিসি অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আপনার রিলিজ লেটার, ক্লিয়ারেন্স এবং অভিজ্ঞতার সনদপত্র (Experience Letter) বুঝে নেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করুন।
১৪. গোপনীয়তা বজায় রাখুন অফিসিয়ালি আপনার পদত্যাগের বিষয়টি ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত পুরো অফিসে এটি নিয়ে গুজব ছড়ানো থেকে বিরত থাকুন।
১৫. সুন্দরভাবে বিদায় নিন শেষ দিনে সহকর্মীদের একটি সুন্দর ফেয়ারওয়েল ইমেইল দিন। নিজের কন্টাক্ট ইনফরমেশন বা লিংকডইন (LinkedIn) আইডি শেয়ার করুন যাতে তারা ভবিষ্যতে আপনার সাথে যোগাযোগ রাখতে পারে।
________________________________________
#Resignation #CareerAdvice #JobChange #CorporateLife #CareerTips
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন