এই মহীয়সী মাকে নতমস্তকে প্রণাম জানাচ্ছি..
উল্লেখ্য, গোপালগঞ্জের মেয়ে রেখা রানী ওঝা, জীবনে বিয়ে করেননি' সারাজীবনের সঞ্চয় দিয়ে করেছেন স্কুল! গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ার কলাবাড়ী ইউনিয়নের বুরুয়া গ্রামে দরিদ্র পরিবারের মেয়েদের জন্য জীবনের সব সঞ্চয় দিয়ে নিজের নামে স্কুলটি প্রতিষ্ঠা করেছেন রেখা রানী ওঝা।
স্কুলটিতে বর্তমানে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত মেয়েরা পড়ছে। স্কুলে একটি হোস্টেলও করে দিয়েছেন রেখা রানী, যাতে মেয়েদের দূর থেকে আসতে কষ্ট না হয়। রেখা রানী জানান, শুরুতে বাড়ি বাড়ি গিয়ে স্কুলের জন্য ছাত্রী খুঁজে বের করার কাজও করেছেন তিনি। রেখা রানী সরকারি হাসপাতালের নার্স ছিলেন। অবসরে যাওয়ার পর পেনশনের টাকা দিয়ে জমি কিনে স্কুলটি প্রতিষ্ঠা করেন।
১৯৮৩ সালে রেখা সিনিয়র স্টাফ নার্স হিসেবে যোগ দেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। রাজধানীর মিরপুরে ঢাকা ডেন্টাল কলেজ হাসপাতাল থেকে অবসরে যান ২০১১ সালে।
রেখা রানীর সংগ্রামঃ রেখা রানীর জন্ম ১৯৪৮ সালে। পড়াশোনা বন্ধ করে বাবা বিয়ে দিতে চেয়েছেন বহুবার। তবে ছোটবেলা থেকেই রেখার জেদের কাছে হার মেনেছেন বাবা। কখনো বাড়ি থেকে পালিয়ে কোনো আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে, আবার কখনো কখনো কোনো আত্মীয়ের সহায়তায় রেখা পড়াশোনা চালিয়ে গেছেন। ঢাকার নার্সিং ইনস্টিটিউট থেকে পড়াশোনা করে এটাকেই পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছেন। কাজ করেছেন বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে। স্কুলের লাইব্রেরির এক কোণেই থাকেন রেখা রানী সরকার। ঢাকায় এলে থাকেন এক ভাইয়ের বাসায়। মোবাইলে কথা হলো রেখা রানী ওঝার সঙ্গে। তাঁর স্কুল এবং জীবনের গল্প শুনতে চাইলে বললেন, ‘আমার জীবনের যে গল্প, তা শুনলে শুধু মোবাইলের টাকা ফুরাবে, গল্প শেষ হবে না।
রেখা রানী জানান, নিজের খরচ চালানোর জন্য যাত্রাপালায় অভিনয় করেছেন একসময়। ওষুধের দোকান চালিয়েছেন। এ জীবনে অনেক ছেলেমেয়েকে পড়াশোনা করার জন্য সহায়তা করেছেন। তাঁদের অনেকেই এখন সমাজে প্রতিষ্ঠিত। বললেন, তিনি এত দূর আসতে কারও কাছে হাত পাতেননি। তবে এখন আর পারছেন না। ক্যানসারসহ স্বাস্থ্যগত নানা জটিলতা দেখা দিয়েছে। স্কুলটি চালাতে কষ্ট হচ্ছে। শিক্ষকদের বেতন দিতে পারছেন না বলে শিক্ষকেরা চাকরি ছেড়ে চলে যাচ্ছেন। যদিও শিক্ষকেরা এমপিওভুক্ত না হওয়া পর্যন্ত বিনা বেতনেই পড়াবেন এমন শর্তেই যোগ দিয়েছেন।
স্কুলটিতে মেয়েদের পড়ার জন্য ভর্তির সময় যে যা দেয়, তাই নেন রেখা রানী। পরীক্ষার সময় সরকারি নিবন্ধনের খরচ ছাড়া মেয়েদের কাছ থেকে বেতন নেন না। বললেন, এরা দরিদ্র পরিবারের মেয়ে। বাবা–মা একটু সুযোগ পেলেই ধরে ধরে বিয়ে দিয়ে দেন। তাই যেভাবেই হোক মেয়েদের স্কুলে ধরে রাখার চেষ্টা করে যাচ্ছেন রেখা রানী।
আমার এই পোষ্টের মাধ্যমে আমি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এবং শিক্ষামন্ত্রী মহোদয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। দ্রুত এই স্কুলটিকে এমপিও ভুক্ত করার জোর দাবি জানাচ্ছি। রেখা রানীর এই অদম্য ইচ্ছা শক্তি ও কঠোর পরিশ্রম যেন বৃথা না যায়।
পোস্টটি প্রচুর শেয়ার করুন, যার যার ওয়াল থেকে পোস্ট করুন এবং ভাইরাল করুন.....
(গৌতম হালদার প্রান্ত দাদার ফেসবুক থেকে সংগৃহিত)
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন