চলতি পথে ...
"ফুল ফুটিবার আগে বলে, 'আমি সুন্দর'। ফুটিবার পরে বলে, 'আমি সুন্দর ছিলাম না, আমি আরও সুন্দর হয়েছি।'"
হ্যাঁ, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ফুলের মাঝে ঠিকই খুঁজে পেয়েছেন প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য। প্রতিটি ফুল তার চোখজুড়ানো রূপ, রঙ আর গন্ধে পৃথিবীকেও করে তুলেছে প্রকৃতির স্বর্গ। প্রতিটি মানুষের কাছেই ফুল ধরা দেয় অন্য এক আবেগ ও ভালোবাসার প্রতীক হিসেবে। ধ্রুপদি সংস্কৃত ভাষার বিখ্যাত কবি কালিদাস বলেছেন, "ফুল শুধু গাছের শোভা বাড়ায় না, তা মানুষের মনকেও পবিত্র ও শান্ত করে তোলে।" বিখ্যাত অস্ট্রীয় স্নায়ুবিজ্ঞানী এবং মনস্তাত্ত্বিক সিগমুন্ড ফ্রয়েডও তাই বলেছেন, "ফুল দেখতে শান্তিদায়ক। তাদের কোনো আবেগ বা দ্বন্দ্ব নেই।" তেমনই মানুষের মনকে শান্ত করার মতো একটি ফুল "ঝুলন্ত হেলিকোনিয়া।" Heliconiaceae পরিবারভুক্ত এই ঝুলন্ত হেলিকোনিয়া এর উদ্ভিদতাত্তিক নাম Heliconia rostrata L. ইংরেজি নাম False Bird of Paradise, Hanging Lobster Claw. এটি লাল মঞ্জরীপত্র ও হলুদ ডগাযুক্ত আকর্ষণীয় ঝর্ণার মতো নেমে আসা পুষ্পবিন্যাসের জন্য পরিচিত। এর ফুল ও পুস্পবিন্যসগুলো মূলত লতা বা বাকা হয়ে নিচের দিকে লম্বালম্বিভাবে ঝুলে থাকে এবং এর দৈর্ঘ্য প্রায় ১ থেকে দেড় মিটার পর্যন্ত হতে পারে। ফুলগুলো দেখতে অনেকটা গলদা চিংড়ির ধারালো নখের মতো লাগে। এর পাতাগুলো সবুজ এবং দেখতে কলার পাতার মতো বড় হয়। দক্ষিণ আমেরিকার ক্রান্তীয় অঞ্চলের স্থানীয় এই উদ্ভিদটি তার চমৎকার সৌন্দর্যের জন্য এদেশেও সৌখিন প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছে বেশ জনপ্রিয়। ঝুলন্ত হেলিকোনিয়ার এই ছবিটি রাজধানীর চলমান জাতীয় বৃক্ষ মেলা থেকে তোলা।
ছবি: খোন্দকার এরফান আলী
(০৫ আগস্ট, ২০২৬)
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন