চলতি পথে...
"তুমি সুতোয় বেঁধেছো শাপলার ফুল, নাকি তোমার মন..."
চলচ্চিত্র পরিচালক, ঔপন্যাসিক ও ভাষা সংগ্রামী জহির রায়হানের কালজয়ী উপন্যাস 'হাজার বছর ধরে' এর এই পঙক্তিটি যেন লোকমুখে আজও ফিরে আসে। যেখানে 'টুনি' চরিত্রটির মাধ্যমে গ্ৰামীণ জীবনের রূপ, সৌন্দর্য, সরলতা, আনন্দ-বেদনা প্রকাশ করতে শাপলা ফুলের উপমা ব্যবহার করা হয়েছে। হ্যাঁ, সুজলা-সুফলা-শস্য-শ্যামলা এই বাংলাদেশের খাল, বিল, হাওড়, জলাশয়, দিঘি, পুকুরের সৌন্দর্য বাড়িয়ে দেয় যে জলজ উদ্ভিদটি- তার নাম 'শাপলা।' শাপলা ফুলের স্নিগ্ধ রূপ ও অপরূপ সৌন্দর্য যেন প্রকৃতির এক অনবদ্য দান। শাপলা ফুল দেখতে সাদা, লাল ও নীল রঙের হয়। এর মধ্যে সাদা শাপলা আমাদের জাতীয় ফুল। তবে আজ বলছি "লাল শাপলা" এর কথা। Nymphaeaceae পরিবারভুক্ত লাল শাপলা'র উদ্ভিদতাত্তিক নাম Nymphaea rubra Roxb. ইংরেজি নাম Red Water Lily. লাল শাপলা এর পাপড়িগুলো উজ্জ্বল বা গাঢ় লাল বা কখনো পোলাপী এবং পাতা লালচে সবুজ বা সবুজ রঙের হয়ে থাকে। এর ফুল শরৎ ও বর্ষাকালে দেশের বিভিন্ন পুকুর, বিল, জলাশয়ে দেখতে পাওয়া যায়। রাঙা লাল শাপলা ফুটলে চারপাশের পরিবেশ রঙিন হয়ে ওঠে, তখন মনে হয় কেউ লাল গালিচা বিছিয়ে দিয়েছে। যেন প্রকৃতির বুকে ফুটে ওঠা রঙিন হাসি ও প্রাণের স্পন্দন। এটি বাড়ি বা বাগানের সৌন্দর্য বাড়িয়ে তুলতে টবেও চাষ করা যায়। লাল শাপলা ফুলের ছবিটি রাজধানীর আগারগাঁওয়ে চলমান জাতীয় বৃক্ষ মেলা থেকে তোলা।
ছবি: খোন্দকার এরফান আলী
(০৩ আগষ্ট, ২০২৬)
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন