চলতি পথে ...(পর্ব:১১৬)
'ট্যাঁপা দোপাটি, তুমি দোপাটি
তোফা খোপাটি, বা:!
বাঁকানো শুঁটি, বিনুনি দু'টি
না হয়, ঝুঁটি... হা:!'
ছন্দের জাদুকর কবি সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের কবিতায় যে ফুলটির সৌন্দর্য প্রকাশ পেয়েছে, সেটি আমাদের সকলের চেনা একটি জনপ্রিয় ফুল। ফুলটির গড়ন ও বিন্যাসকে কবি শিশুর মাথার সুন্দর খোঁপা বা বিনুনির সঙ্গে তুলনা করেছেন। শুধু কবিতাই নয়, বিখ্যাত একটি আধুনিক বাংলা গানেও প্রিয়ার রূপের সাথে ফুলটির রঙের চমৎকার তুলনা করা হয়েছে। যেমন -
'তোমার নীল দোপাটি চোখ
শ্বেত দোপাটি হাসি,
আর খোপাটিতে লাল দোপাটি
দেখতে ভালবাসি....।'
হ্যাঁ, বলছি "দোপাটি" ফুলের কথা। Balsaminaceae পরিবারভুক্ত দোপাটি ফুলের উদ্ভিদতত্তিক নাম Impatiens balsamina L.ইংরেজি নাম Garden Balsam, Rose Balsam (প্রজাতিভেদ উদ্ভিদতাত্তিক ও ইংরেজি নাম ভিন্ন হতে পারে)। এটি রসালো ও নরম কান্ডযুক্ত একবর্ষজীবী তৃণজাতীয় উদ্ভিদ। খাঁজকাটা সবুজ পাতার মাঝখানে পেয়ালা আকৃতির ফুলগুলো খাড়া, মাংসল সবুজ কান্ডের গায়ে ঘনিষ্ঠভাবে জড়ানো থাকে। আর পাপড়ি সাধারণত বাইরের দিকে খোলা থাকে। ফুল সাধারণত লাল, কমলা, সাদা, গোলাপী, বেগুনি বা মিশ্র রঙ এর হয়ে থাকে। এর আদি নিবাস ভারত হলেও বর্তমানে বাংলাদেশসহ চীন, মালয়েশিয়া ও দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার বিস্তৃর্ণ অংশজুড়ে এ ফুলের চাষ হচ্ছে। পার্ক, ছাদের টবে ও বাগানের সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে এই ফুলটি অনন্য। এছাড়াও বিভিন্ন পুজোতেও ফুলটি ব্যবহৃত হয়ে থাকে। রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাব চত্বর থেকে চমৎকার এই দোপাটি ফুলের ছবিগুলো তোলা হয়েছে।
ছবি: খোন্দকার এরফান আলী
(২২ আগষ্ট, ২০২৬)
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন