চলতি পথে ...
বিখ্যাত ফিলিপিনো কবি ও কথাসাহিত্যিক এডিথ টিয়েম্পো (Edith L. Tiempo) তাঁর বিখ্যাত ‘Bonsai’ কবিতায় বনসাই শিল্পের মতো বিশাল ভালোবাসা ও জীবনের গভীর অনুভূতিগুলোকে একটি ক্ষুদ্র পাত্রে বা হাতের তালুতে ছোট করে ধারণ করার রূপক ব্যবহার করেছেন। অষ্ট্রিয়ার বিখ্যাত বনসাই শিল্পী ওয়াল্টার পল (Walter Pall) বলেছেন, “সবচেয়ে আনন্দের মুহূর্তগুলো তখনই আসে, যখন বহু বছর ধরে একটি কুৎসিত গাছের দিকে তাকিয়ে মৃদু হাসার পর, একদিন গাছটি আপনার দিকে ফিরে হাসে।" হ্যাঁ, প্রকৃতি ও মানুষের ধৈর্যের এক অপূর্ব জীবন্ত শিল্পের নাম 'বনসাই।' বনসাই শব্দের 'বন' অংশের অর্থ থালা বা আঁধার এবং 'সাই' অর্থ বৃক্ষ। বনসাই মূলত চীন ও জাপানে উদ্ভাবিত এক ধরনের কলা ও বিজ্ঞানের সমন্বিত ফসল। এটিকে একটি নান্দনিক শিল্পকর্মও বলা যায়। একটি ছোট থালা বা পাত্রে বিশেষ কৌশলে পূর্ণাঙ্গ বিশাল গাছের রূপ ফুটিয়ে তোলার নাম বনসাই। এ ক্ষেত্রে একটি বড় কাষ্ঠল গাছকে ছোট থালা বা পাত্রে রেখে বিশেষ উপায়ে খর্বাকৃতি করে নান্দনিক সৌন্দর্য ফুটিয়ে তোলা হয়। যেখানে একটি ছোট পাত্র বা টবের মধ্যে শতবর্ষী বিশাল বনের বা গাছের অনুভূতি পাওয়া যায়। বনসাইয়ের গাছের শিকড়ের বিন্যাস, বাঁকানো কান্ড ও ডালপালার শৈল্পিক রূপ সকলকেই মুগ্ধ করে। বট, পাকুর, পাইন, অশ্বথ, শেওড়া, তেঁতুল, নীম, শিমুল, পলাশ, আম, সফেদা, ডালিম, গন্ধরাজ, কামিনী, চাম্পা, এডেনিয়াম, অগ্নিশ্বর, জাকারান্ডা, মালপিজিয়া বা যেকোন কাষ্ঠল উদ্ভিদ দিয়ে বনসাই করা যায়। প্রকৃতির ছোঁয়ায় ঘর ও বাগানের নান্দনিকতা বাড়াতে এই বনসাই অনন্য। রাজধানীর আগারগাঁওয়ে জাতীয় বৃক্ষ মেলা থেকে বনসাই এর ছবিগুলো ধারণকৃত।
ছবি: খোন্দকার এরফান আলী
(০২ আগষ্ট, ২০২৬)
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন